দশমহাবিদ্যা তত্ত্ব

দশমহাবিদ্যা তত্ত্ব স্বয়ং মা রাজরাজেশ্বরী দেবীকে দর্শন করানো এবং মায়ের নাম প্রচার করা🙏

মা জয়দুর্গার ধ্যানমন্ত্র তো আমরা সকলেই জানি কিন্তু এই ধ্যানের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মায়ের সেই  পরমতত্ত্ব যা আজ আলোচনা করবো। ...
22/07/2026

মা জয়দুর্গার ধ্যানমন্ত্র তো আমরা সকলেই জানি কিন্তু এই ধ্যানের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মায়ের সেই পরমতত্ত্ব যা আজ আলোচনা করবো। মা জয়দুর্গার ধ্যানে আমরা দেখতে পাই -

ওঁ হ্রীং কালাভ্রাভাং কটাক্ষেররিকুলভয়দাং মৌলিবদ্ধেন্দুরেখাং শঙ্খং চক্রং কৃপাণং ত্রিশিখমপি করৈরুদ্বহন্তীং ত্রিনেত্রাম্। সিংহস্কন্ধাধিরূঢাং ত্রিভুবনমখিলং তেজসা পূরয়ন্তীং ধ্যায়েদ্দুর্গাং জয়াখ্যাং ত্রিদশপরিবৃতাং সেবিতাং সিদ্ধিকামৈঃ।।

এই ধ্যান আদতে কিন্তু কোনো সাধারণ ধ্যান নয় এটি একাধারে সাধকের অন্তর্দেহেরই চিত্র স্বরূপ বলা যেতে পারে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি মা জয়দুর্গার রূপ বর্ণন মনে হলেও সাধকের দৃষ্টিতে এই ধ্যানের রূপ অন্য। যোগশাস্ত্রে বলা হয়—“যদ পিণ্ডে তদ ব্রহ্মাণ্ডে”—অর্থাৎ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যা কিছু বিদ্যমান, তা আমাদের এই ক্ষুদ্র মানবদেহের ভেতরেও সূক্ষ্মরূপে বিদ্যমান। সাধক যখন স্থূল জগৎ আর চিন্তা হতে মুক্ত হয়ে হন, তখন তাঁর কাছে দেবীর এই ধ্যান হয়ে উঠে নিজ অন্তরের সেই পরমতত্ত্বে।

ধ্যানের প্রথমেই আমরা দেখতে পাই "কালাভ্রাভাং"—যা সাধারণ অর্থে সজল কৃষ্ণমেঘের মতো বর্ণ । কিন্তু সাধকের কাছে এর মানে অন্য। এই "কালাভ্রাভাং" নির্দেশ করে আমাদের মণিপুর চক্রকে।

আমাদের মেরুদণ্ডের নাভিপ্রদেশে অবস্থিত মণিপুর চক্র হলো প্রাগ্‌অগ্নির স্থান। এটি অগ্নিতত্ত্বের আধার।
সাধনায় যখন এই চক্রে পান ও অপান বায়ুর মিলন ঘটে, তখন সেখানকার অগ্নির প্রাথমিক রূপটি হয় প্রলয়কালীন ঘন, সজল নীল-কালো মেঘের মতো। যেমন তীব্রতম অগ্নির মূল উৎস থাকে গভীর নীলবর্ণ, ঠিক তেমনি শক্তি যখন নাভিপ্রদেশে প্রথম স্পন্দিত হতে শুরু করে, তখন সাধকের অন্তর্দৃষ্টিতে সেই তেজ নিবিড় নীল-কৃষ্ণ আভার মতো প্রতিভাত হয়।

এই চক্র হলো আমাদের অহং ও বাসনার প্রধান স্থান। এই চক্রে দেবীর জয়া রূপের প্রকাশ ঘটে।
জয়া অর্থ যিনি বিজয়িনী। যে পরমশক্তি আমাদের ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ভয়, কাম ও মোহ রূপি অসুরদের জয় করে সাধককে ঊর্ধ্বমার্গে পরিচালিত করেন।
এই নাভিচক্রেরই প্রজ্জ্বলিত এই সজল-মেঘবরণী শক্তির স্থান থেকেই দেবীর মূল তেজের স্ফুরণ ঘটে যা সমগ্র দেহ মধ্যকার ব্রহ্মাণ্ডকে প্লাবিত করে।

এরপর আমরা দেখতে পাই "কটাক্ষৈররিকুলভয়দাং" অর্থাৎ —ষড়রিপু বিনাশে যে শক্তি নাভিচক্রে কালাভ্র তমসাচ্ছন্ন তেজে বিরাজমান, তাঁর কটাক্ষ বা সামান্য অপাঙ্গ দৃষ্টিপাতে শত্রুকুল ভীত ও কম্পমান হয়।

আমরা জানি সাধনার মূল শত্রু হলো সাধকের অন্তরের ষড়রিপু যথা —কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য। এগুলো হলো সাধনার পথে আসা নানা প্রকার বাধা । শক্তি যখন মণিপুর চক্র অতিক্রম করে অনাহতের দিকে ধাবিত হয়, তখন দেবীর সেই শক্তির সামান্য রশ্মি দৃষ্টিপাত মাত্রই মনের ভিতরে থাকা অবিদ্যা এক নিমেষে ভস্মীভূত হয়ে যায়। সাধক তখন ভয়হীন এক পরম স্থিতি লাভ করেন।

নাভিচক্র থেকে নির্গত সেই পরমশক্তি যখন ঊর্ধ্বমুখী হয়ে সাধকের মস্তিষ্কের দিকে ধাবিত হয়, তখন প্রকাশিত হয় দেবীর "মৌলিবদ্ধেন্দুরেখাং"আর "ত্রিনেত্রাম্" রূপ।

মৌলিবদ্ধেন্দুরেখাং অর্থাৎ, সাধকের মস্তকস্থিত সহস্রার চক্র হলো ইড়া ও পিঙ্গলা নাড়ীর চরম মিলনস্থল আর সোমরসের আধার। দেবী যখন সহস্রারে পরম শিবের সাথে মিলিত হন, তখন সেখান থেকেই এক ধরনের শীতল চিদামৃত ক্ষরিত হয়।
তা দেবী নিজের মস্তকেই সেই চন্দ্রকলা রূপে ধারণ করে আছেন যা সাধকের চিত্তে শান্তি, বোধ্যজ্ঞান ও আনন্দ রস বর্ষণ করে। তাই তো তিনি মৌলিবদ্ধেন্দুরেখাং 😊।

দেবীর ডান চোখ হলো সূর্যরূপী পিঙ্গলা নাড়ী এবং বাম চোখ হলো চন্দ্ররূপী ইড়া নাড়ী আর তৃতীয় নয়ন হলো অগ্নিরূপী সুষুম্না নাড়ী। যখন সুষুম্নার দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং তৃতীয় নয়ন জাগ্রত হয়, তখন সাধক অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—ত্রিকালের পরম সত্যকে এক বিন্দুতে প্রত্যক্ষ করেন। তখন আর দ্বৈতভাব থাকে না তা বিলুপ্ত হয়ে অদ্বৈত প্রজ্ঞার উদয় হয়। তাই তো তিনি ত্রিনেত্রাম্।

মা জয়াদুর্গা চার হাতে আমরা দেখতে পাই চার অস্ত্র যথা - শঙ্খ, চক্র, কৃপাণ ও খড়গ। যা আদতে সাধকের অন্তর্জাগরণেরই চার রূপ ।
প্রথমেই বলি শঙ্খের ব্যাপারে। শঙ্খ হলো 'অনাহত নাদ' এর প্রতীক। সাধক যখন ধ্যানস্থ হন, তখন তাঁর দেহের ভেতরে এক স্বতঃস্ফূর্ত দিব্য শঙ্খধ্বনি অনুরণিত হতে থাকে যা মনকে নিমেষের মধ্যে স্থির করে দেয়।
এরপরে আসি চক্রে, এটি কালের চক্র ও মানবদেহের নবচক্রের গতিবিধির প্রতীক। এটি আদতে পরম প্রজ্ঞারই একপ্রকার ঘূর্ণন মাত্র যা সাধকের সূক্ষ্ম শরীরের সমস্ত গ্রন্থি ও চক্রকে বিশোধিত করে। কৃপাণ হলো তীব্র বিবেক আর জ্ঞানের অস্ত্রস্বরূপ । সাধক এই জ্ঞান-খড়্গ দিয়ে এক কোপে মায়ার বন্ধন, অহংকার এবং জন্ম-জন্মান্তরের সঞ্চিত কর্মফলের পাশ কেটে ফেলে দেন।
এরপর বলি ত্রিশিখ এর ব্যাপারে, ত্রিশিখ সাধারণ অর্থে ত্রিশূল। এটি ত্রিগুণ তথা - সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ এবং ত্রিনাড়ী অর্থাৎ ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্না কে বলা যেতে পারে এটি দুই অর্থেই সঠিক।
এখন প্রশ্ন মনে আসতে পারে মা কেন সিংহস্কন্ধাধিরূঢাং? কারণ আমরা জানি সিংহ হলো বনের রাজা—যা চরম অহংকার, তমঃ ও রজোগুণ, হিংসা ও পাশব প্রকৃতির রূপক। সাধারণত মানুষেরা প্রবৃত্তির দ্বারাই চালিত হয় কিন্তু একজন সাধক যখন শক্তিকে জাগ্রত করেন, তখন জাগ্রত সেই কুণ্ডলিনী সিংহরূপী অহংকার ও পশুপ্রবৃত্তির ওপর আরোহণ করেন। অর্থাৎ, সাধকের তমো ও রজোগুণ তখন সম্পূর্ণ দমিত হয়ে দেবীর দিব্য বাহনে পরিণত হয়। শক্তির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসে সাধকের ভেতরের হিংস্রতা বীরভাবে এবং বীরভাব পরম দিব্যভাবে রূপান্তরিত হয়।

সবশেষে, শক্তি যখন নবচক্র ভেদ করে তখন সাধকের ভিতরে উদ্ভাসিত হয় সেই ত্রিভুবনমখিলং রূপ। সাধকের ক্ষেত্রে এই ত্রিভুবন' হলো তাঁর তিনটি মূল শরীর যথা- স্থূল শরীর, সূক্ষ্ম শরীর এবং কারণ শরীর। শক্তির পরম তেজে এই তিন শরীরই তখন হয়ে উঠে পুষ্ট, শুদ্ধ ও জ্যোতির্ময়। তখন দেহের প্রতিটি কোষেই শক্তির এক আলাদাই স্ফুরণ ঘটে আর সাধক তখন পঞ্চভূতের ও পঞ্চকোশের বন্ধন ছাড়িয়ে এক দিব্য চৈতন্যাস্বাদ লাভ করেন।

জয় মা রাজরাজেশ্বরী 🙏😊🙏

~ চিত্র ও লেখা - সৃজন ভট্টাচার্য্য
এডমিন - দশমহাবিদ্যা তত্ত্ব

[ এই লেখাটি যদি কপি করতে চান তাহলে কোনো ভাবেই লেখাটি পরিবর্তন করা যাবে না। লেখক এর নাম অবশ্যই থাকতে হবে ]

বেদের দোহাই দিয়ে  যারা ভুল মনোভাব দেখান  অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন বেদে কি দুর্গাদেবীর অস্তিত্ব আছে?বর্তমানযুগে একদল অত...
21/07/2026

বেদের দোহাই দিয়ে
যারা ভুল মনোভাব দেখান

অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন

বেদে কি দুর্গাদেবীর অস্তিত্ব আছে?
বর্তমানযুগে একদল অতিপণ্ডিতের আবির্ভাব হয়েছে, যারা বেদকে ঢাল বানিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি ও নিজমত প্রতিষ্ঠা করতে সকল প্রকার ছলচাতুরির আশ্রায় নিচ্ছেন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান হিন্দুসমাজে বেদ তো দূরের ব্যাপার, গীতা, ভাগবতাদি গ্রন্থও অধিকাংশই লোক জানার চেষ্টা করে না ; ফলে তাদের খুব সহজেই বিভ্রান্ত করে নিজ মতে দীক্ষিত করা খুব সহজ। এই শ্রেণির লোকেরা বেদকে কেন্দ্র করে নানারকম অপপ্রচার, অর্ধসত্য, অর্ধশ্লোক ও বিকৃত অর্থ করার মাধ্যমে বেদে মুর্তি পুজা নিষেধ, ঈশ্বর সাকার নন বা দুর্গা দেবীর অস্তিত্ব বেদে নেই, এমন কিছু উদ্ভট সিদ্ধান্ত প্রচার করে থাকেন।
এখন আমরা দেখবো বেদে কি আসলেই দুর্গা নেই এবং দুর্গা পুজার মতো মহাপুজা হঠাৎ করেই মাটি ফুঁড়ে বের হয়েছে।
কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত তৈত্তিরীয় আরণ্যকে বলা হয়েছে----
তাং অগ্নিবর্ণাং তপসা জ্বলন্তীং বৈরোচনীং কর্মফলেষু জুষ্টাম, দুর্গা দেবীং শরণামহং প্রপদ্যে সুতরসি তরমে নমঃ।
তৈত্তিরীয় আরণ্যক--১০/২
অর্থঃ- অগ্নিবর্ণা তপ প্রদীপ্তা সূর্য ( বা অগ্নস্বরূপিণী) যিনি কর্মফলের প্রার্থিত হন, সেই দুর্গাদেবীর আমি শরণাপন্ন হই, হে সুন্দররূপে, ত্রাণকারিণী, তোমাকে নমস্কার।
ঋগবেদে দেবীসুক্ত যা দুর্গাপূজায় চণ্ডীপাঠের পূর্বে পাঠ করার বিধি আছে, সেখানে দেবীকে পরমা প্রকৃতি, নির্বিকারা ও জগতের ধাত্রীরূপে বর্ণিত আছে।
সমস্ত দেবতাদের তেজ হতে দেবীদুর্গার আবির্ভাবের পর দেবী দুর্গা দেবতাদের ঋকমন্ত্রে নিজের পরিচয় দিলেন বলে দেবী পুরাণে উল্লেখিত আছে; আর সেই ঋকমন্ত্রই হলো ঋগবেদের দেবীসুক্ত। এছাড়া বেদের রাত্রিসুক্তে কালী, শ্রীসুক্তে লক্ষী এবং বাণীসুক্তে সরস্বতীর বন্দনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বেদ দেবতাদের মহিমাতে তাদের শক্তির বর্ণনার উপর গুরুত্ব দিয়েছে, আর পুরানে তাদের বিস্তারিত রূপ ও পুজাপদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। আর বেদ কে স্বীকার করলে পুরাণকেও স্বীকার করতে হবে। কারণ, বেদ এবং বেদান্ত নিজেই পুরাণকে স্বীকার করেছে। যেমন --
ছান্দোগ্য উপনিষদ বলছে--
ইতিহাস পুরাণং পঞ্চমো বেদানাং,,,,
অর্থঃ- ইতিহাস ও পুরাণসমুহ হলো পঞ্চম বেদ। অাবার, অথর্ববেদ বলছে --
ইতিহাসস্য চ বৈ পুরাণস্য চ,,,,,,, চ।
যেহেতু বেদ পুরাণকে শাস্ত্র বলে স্বীকার করেছে, তাই পুরাণ মতেই দেবী দুর্গার রূপ ও পুজাপদ্ধতি প্রণীত হয়েছে। যা হোক আবারো অমরা বৈদিক ধারায় ফিরে আসি।
শুক্ল যর্জুবেদের বাজসনেয়ী সংহিতায় অম্বিকাদেবীর সাংখ্যায়ন গৃহ্যসূত্রে ভদ্রকালীর, কেন উপনিষদে দেবী উমার কথা পাই যা দেবী দুর্গারই অপর নাম।
যাজ্ঞিকা উপনিষদে দুর্গার গায়ত্রী আছে──
কাত্যায়নার বিমহে কন্যাকুমারীং ধীমহি তন্নো দুর্গি প্রচোদয়াৎ।
এখানে দুর্গা সম্ভোধনপদে দুর্গি হয়েছে। এতে কাত্যায়নী বা কন্যাকুমারী দুর্গার অপর নাম তা সকলেই জানে।
এছাড়া গোপাল তাপনী উপনিষদ, নারায়ণ উপনিষদ ইত্যাদি বৈদিক গ্রন্থে দুর্গার উল্লেখ আছে ।
🌸 জয় মা দুর্গা🌸
🌸 জয় শ্রীকৃষ্ণ🌸
মাং মদীয়ঞ্চ সকলং শ্রীমদ্ ভুবনেশ্বরী চরণে সর্মপয়ামী🙏🙏
©️Govindo das

সদসদ্দেবি যত্কিংচিন্মোক্ষবচ্চার্থবত্পদম্ ।তত্সর্বং ত্বয়্যসংয়োগং যোগবদ্দেবি সংস্থিতম্ ॥ হে দেবি! এই সংসারে সত (নিত্য) ও...
17/07/2026

সদসদ্দেবি যত্কিংচিন্মোক্ষবচ্চার্থবত্পদম্ ।
তত্সর্বং ত্বয়্যসংয়োগং যোগবদ্দেবি সংস্থিতম্ ॥

হে দেবি! এই সংসারে সত (নিত্য) ও অসত (অনিত্য) যা কিছু আছে, এবং মোক্ষ ও অর্থযুক্ত (ভোগ্য) যা কিছু পদ বা বস্তু রয়েছে, সেই সমস্তই আপনার মধ্যে যোগ ও অযোগ (যুক্ত ও বিযুক্ত) উভয় রূপেই অবস্থান করছে।
মা ভগবতী পরাভট্টরিকার মধ্যেই সমগ্র বিশ্ব বিরাজমান🌺

এবং সৰ্ব্বগতা দেবী সৰ্ব্বদেব-তনুস্থিতা । পূজিতা বিধিনা বৎস সৰ্ব্ব কামান্ প্রযচ্ছতি ৷৷ ৩২                               -...
14/07/2026

এবং সৰ্ব্বগতা দেবী সৰ্ব্বদেব-তনুস্থিতা ।
পূজিতা বিধিনা বৎস সৰ্ব্ব কামান্ প্রযচ্ছতি ৷৷ ৩২
----শ্রীদেবীপুরাণ,একোনষষ্টিতমোহধ্যায়

অর্থাৎ - (পিতামহ ব্রহ্মা দেবগুরু বৃহস্পতিকে বললেন) হে বৎস ! দেবী সর্ব্বাধিষ্ঠাত্রী ( সর্বব্যাপী পরব্রহ্ম, মানে সব কিছুর মধ্যেই তিনি অধিষ্ঠান করেন), দেবীই সব দেবতার শরীরে অবস্থান করেন, অতয়েব কেবল তাঁহার (দেবীর) পূজা বিধিপূর্ব্বক করিতে পারিলেই, সকল বাসনাই পূর্ণ হয়🌺🌺

11/07/2026

কলৌ কালী কলৌ কালী কলৌ কালী কেবলম্।
গতিরন্যা নাস্তি নাস্তি নাস্তি কলৌ যুগে॥”

বাংলা অর্থ-
কলিযুগে মা কালী-ই একমাত্র আশ্রয়। অন্য কোনো গতি নেই, নেই, নেই এই কলিযুগে🌺🌺🙏
©️দত্তাত্রেয় নন্দনাথ গিরি ভৈরব

কাশীধামে জীবের মৃত্যুর কালে শম্ভু স্বয়ং আসিয়া জীবের কর্ণে ‘দুর্গা দুর্গা’ তারকব্রহ্ম নাম উচ্চারণ করিয়া জীবের মুক্তি ব...
10/07/2026

কাশীধামে জীবের মৃত্যুর কালে শম্ভু স্বয়ং আসিয়া জীবের কর্ণে ‘দুর্গা দুর্গা’ তারকব্রহ্ম নাম উচ্চারণ করিয়া জীবের মুক্তি বিধান করিয়া থাকেন।
শ্রীশ্রী মহাভাগবতম, ২য় অধ্যায়
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺দুর্গা দুর্গা🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺

যথা পূজ্যতমাম্বেকা ভবানী ভবসুন্দরী।পত্রেষু তুলসীপত্রং বিল্বপত্রঞ্চ  শোভনম্ ।।যথা মায়াবীনাং শ্রেষ্ঠঃ পুরুষঃ শ্রীগদাধরঃ ।ত...
06/07/2026

যথা পূজ্যতমাম্বেকা ভবানী ভবসুন্দরী।
পত্রেষু তুলসীপত্রং বিল্বপত্রঞ্চ শোভনম্ ।।
যথা মায়াবীনাং শ্রেষ্ঠঃ পুরুষঃ শ্রীগদাধরঃ ।
তথা সর্ব্বেষু তীর্থেষু শ্রেষ্ঠং শ্রীযোনিপীঠকম্ ।।
কামাখ্যা পরমং তীর্থং কামাখ্যা পরমং তপঃ ।
কামাখ্যা পরমো ধর্ম্মঃ কামাখ্যা-পরমাগতি
মহাভাগবত দেবী পুরাণ
অর্থাৎ - যেমন শিবপত্নী ভবানী তিনিই কেবল একাপূজ্যা ;পাতার মধ্যে যেমন তুলসী ও শোভন বেলপাতা পূজার যোগ্য ; মায়াবী পুরুষের মধ্যে ভগবান শ্রীগদাধারী বিষ্ণুই শ্রেষ্ঠ ; তেমন সর্ব তীর্থের মধ্যে যোনিপীঠই শ্রেষ্ঠ। কামাখ্যাই পরম তীর্থ ,কামাখ্যাই পরম তপস্যা ,কামাখ্যাই পরম ধর্ম ;কামাখ্যা দ্বারাই পরমগতি (মুক্তি ) লাভ হয় 🌺🌺

"ওঁ ভূতানি দুর্গা, ভুবনানি দুর্গা, স্ত্রীয় পশুশ্চ নরশ্চ দুর্গা। যদ্ যদ্ধি দৃশ্যং খলু তদ্ধি দুর্গা, দুর্গা স্বরূপাৎ নৈবাস...
04/07/2026

"ওঁ ভূতানি দুর্গা, ভুবনানি দুর্গা, স্ত্রীয় পশুশ্চ নরশ্চ দুর্গা।
যদ্ যদ্ধি দৃশ্যং খলু তদ্ধি দুর্গা, দুর্গা স্বরূপাৎ নৈবাস্তি
কিঞ্চিৎ।।"

পঞ্চভূতাদি স্বরূপ হল দুর্গা, চতুর্দশ ভুবনসমূহ হল দুর্গাময়, স্ত্রী, পশু, নর সকলেই স্বয়ং দুর্গা স্বরূপ, জগতে যা কিছু দৃশ্যমান সমস্তই দুর্গা স্বরূপ🌺🌺🌺

হোমের শেষে “পূর্ণপাত্র” তথা পূর্ণপাত্রানুকল্প ভোজ্যের প্রকৃত তাৎপর্যবর্তমানে অধিকাংশ হোমকর্মের শেষে আমরা সাধারণত একটি “ভ...
02/07/2026

হোমের শেষে “পূর্ণপাত্র” তথা পূর্ণপাত্রানুকল্প ভোজ্যের প্রকৃত তাৎপর্য

বর্তমানে অধিকাংশ হোমকর্মের শেষে আমরা সাধারণত একটি “ভোজ্যদান” করে থাকি, যাকে বলা হয় — “পূর্ণপাত্রানুকল্প ভোজ্য”। অর্থাৎ এটি প্রকৃত পূর্ণপাত্রের পরিবর্তে তার একটি প্রতীকী বা সহজীকৃত রূপ। সাধারণত ফল, মিষ্টান্ন, চাল, ডাল, নৈবেদ্য বা বিভিন্ন ভোজ্যদ্রব্য সাজিয়ে ব্রাহ্মণকে দান করা হয়। আজকের দিনে পূর্ণ বৈদিক যজ্ঞের সমস্ত আচার, ঋত্বিকসমাজ ও শাস্ত্রবিধি যথাযথভাবে পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় এই “অনুকল্প” পদ্ধতির প্রচলন হয়েছে।

কিন্তু এই “পূর্ণপাত্রানুকল্প ভোজ্য”-র পেছনে যে মূল ধারণাটি রয়েছে, তা হল “পূর্ণপাত্র”। যেকোনো বৈদিক বা তান্ত্রিক হোমকর্মের শেষে পূর্ণপাত্র দানের একটি বিশেষ বিধান আছে। এটি কেবল একটি দান নয়; বরং সমগ্র যজ্ঞকর্মের পূর্ণতা, সমাপন ও ঋত্বিকসমাজের সন্তুষ্টির প্রতীক। শাস্ত্র মতে যজ্ঞ তখনই সম্পূর্ণ হয় যখন দেবতা, অগ্নি, ঋষি ও যজ্ঞসম্পর্কিত সকল পুরোহিত যথোচিত যোগ্যভাগ লাভ করেন। প্রচলিত বিধান অনুসারে এই পূর্ণপাত্রে ২৫৬ মুষ্ঠি আতপচাল বা যজ্ঞাশিষ্টাংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই সংখ্যাটির পেছনে বৈদিক যজ্ঞব্যবস্থার একটি গভীর সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। একটি সম্পূর্ণ বৈদিক যজ্ঞে মোট ১৬ জন ঋত্বিকের প্রয়োজন হয়। প্রধান চারজন হলেন

ব্রহ্মা — যিনি চতুর্বেদজ্ঞ প্রধান কলসস্থিত ব্রাহ্মণ
হোতৃ — ঋগ্বেদীয় মন্ত্রপাঠক
উদগাত্রী — সামবেদীয় স্তোত্রগায়ক
অধ্যার্যু — যজুর্বেদীয় ক্রিয়ানির্বাহক

এই প্রত্যেক প্রধান ঋত্বিকের আবার তিনজন করে সহকারী থাকে (১৬×১৬ = ২৫৬)। পূর্ণপাত্রস্থিত যজ্ঞের অবশিষ্টাংশ সকলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হইত। কিন্তু পূর্ণপাত্রানুকল্প সাধারণত “ব্রহ্মা”-কে দান করা হয়। কারণ ব্রহ্মাই সমগ্র যজ্ঞের শুদ্ধতা রক্ষা করেন এবং সমস্ত ঋত্বিকসমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরে সেই ভোজ্য ব্রহ্মার প্রতিনিধিত্বরূপী ব্রাহ্মণ/কৌলব্রাহ্মণ কে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অতএব তাঁকে ভোজ্য প্রদান মানে কার্যত সমগ্র যজ্ঞশক্তির নিকট সমর্পণ। বর্তমানে পূর্ণ বৈদিক পদ্ধতিতে ১৬ জন ঋত্বিক একত্র হওয়া যেমন দুর্লভ, তেমনই চতুর্বেদপারদর্শী ব্রহ্মাও অত্যন্ত বিরল। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্ণপাত্রের পরিবর্তে “পূর্ণপাত্রানুকল্প ভোজ্য” প্রদান করা হয়। যদিও রূপে এটি সরলীকৃত, তবু এর অন্তর্নিহিত ভাব একই, যজ্ঞ যেন অপূর্ণ না থাকে, এবং সমাপ্তির সময় দান ও সমর্পণের মাধ্যমে কর্ম পূর্ণতা লাভ করে।
©️আরিয়ান সরকার🙏

ওঁ সহনাববতু , সহনৌ ভুনক্তু , সহ বীর্যং করবাবহৈ।         তেজস্বীনাবধীতমস্তু , মা বিদ্বিষাবহৈ ।।                          ...
01/05/2026

ওঁ সহনাববতু , সহনৌ ভুনক্তু , সহ বীর্যং করবাবহৈ।
তেজস্বীনাবধীতমস্তু , মা বিদ্বিষাবহৈ ।।
তৈত্তিরীয় উপনিষদ্‌ ৩/১
অর্থাৎ - (পরমাত্মা) আমাদের উভয়কে (আচার্য ও বিদ্যার্থী) সমভাবে রক্ষা করুন এবং উভয়কে তুল্যভাবে বিদ্যাফল দান করুন; আমরা যেন সমভাবে বিদ্যাফল লাভের সামর্থ্য অর্জন করতে পারি; আমাদের উভয়েরই লব্ধবিদ্যা তেজস্বী হোক; আমরা যেন পরস্পরকে বিদ্বেষ না করি। ওঁ আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক - এই ত্রিবিধ বিঘ্নের বিনাশ হোক ও শান্তি বিরাজ করুক 🌺🙏

Address

Habiganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দশমহাবিদ্যা তত্ত্ব posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share