26/05/2026
✅ পশুবলি দিলে কী ঈশ্বর খুশি হন ❓
▪️উত্তর:
মনুষ্যের মস্তিকের কথাই বা কী! যখন নিষ্কাম কর্ম করে তখন তখন মানব থেকে ভগবান্ হয়ে যায়, আর যখন কুকর্ম করে তখন শয়তান হয়ে যায়। বেদের মধ্যে কোথাও লেখা নেই যে, পশুবধ করে তার বলি প্রদান করলে মনোকামনা পূর্ণ হয়। এই ধরনের কথা পাপীরা বলে থাকে। মনুষ্য যখন মনুষ্য থাকে না, পশুর ন্যায় কর্ম করতে থাকে তখন তার বুদ্ধিও পশুর মতো হয়ে যায়। নিজ রসনার পূর্তির জন্য, স্বার্থ-সিদ্ধির জন্য নীচ কর্ম করে এবং করায়, কোনও জীবকে বিনা কারণে হত্যা করা মহাপাপ। বেদের মধ্যে সমস্ত প্রাণীকে প্রেম করার শিক্ষা দেওয়া হয়। হত্যা তো দূরের কথা, শত্রুতা-বিরোধ করাও অনুচিত বলা হয়েছে। যে ধর্মগ্রন্থে অহিংসাকে সর্বপ্রথম প্রাথমিকতা দেওয়া হয়, সেখানে হত্যার কথা কীভাবে থাকতে পারে? বরং বৈদিক ধর্মে তো মন, বাণী এবং কর্ম দ্বারা অহিংসা পালনের প্রেরণা প্রদান করা হয়েছে। হিংসার অনুমতি একমাত্র দুষ্ট মানব ও প্রাণীর সাথেই বিহিত করা হয়েছে । নিরীহ জন্তুর প্রতি নয় । আর ক্ষাত্রশক্তির কথা বললে বৃহৎ পশুকে একাধিক মানুষ আটক করে বলি দেওয়া বীরত্ব নয়, কেননা শত্রু বদ্ধ অবস্থায় নয় মুক্ত অবস্থাতেই আক্রমণ করে ।
বলিই দিতেই চান তো নিজে-নিজের বলি দিন, নিজের অহংকারের বলি দিন। ঈশ্বরের প্রেমে সর্বস্ব বলিদান করা উচিত। বলির অর্থ এই নয় যে, কারোর শরীরে ক্ষত করে, রক্তপাত করিয়ে তাকে অগ্নিকে সমর্পণ করে দেওয়া - এ তো নীচ কর্ম। এর থেকে বড় পাপ আর হতে পারে না! এগুলো অঘোরী ন্যায় ইতরদের কার্য হতে পারে- মনুষ্যের নয়।
পশুর বধ করে বলি দেওয়া মূর্খের কাজ পাপী লোকদের কাজ। যে এরূপ মানে অথবা করে তার থেকে বড় বোঝা এই পৃথিবীতে হয় সম্ভব নয়। মানব-ধর্মে তো কারোর মনে দুঃখ প্রদান করা পাপ, তবে এমন অবলা পশু- পক্ষীদের কেটে বলি প্রদান করা, তারপর স্বয়ং তার দ্বারা নিজের উদার পূর্তি করা এ তো পশুত্বের পরাকাষ্ঠা। শাকাহারী পশুও এমন করে না, আর যদি মনুষ্য এমন না করে, তখন সে তো পশুও বলার যোগ্য থাকে না! শিক্ষিত সমাজে এমন কথা বলা - মনে করা তো নিজে-নিজেকে শয়তান প্রমাণিত করা। যে সমস্ত লোক এমন মনে করে যে, সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণীর বলি প্রদান করা সর্বশ্রেষ্ঠ কার্য হওয়া উচিত, তাদের নিজের ঘর থেকে শুরু করা উচিত। এমন লোকদের দরকার যে, তারা নিজেরই পরিবারের কোন সদস্যের বলি প্রদান করুক। কার্য পূর্ণ হয় পরিশ্রম দ্বারা। জ্ঞানপূর্বক কর্ম করায় স্থগিত থাকা কার্যও পূর্ণ হয়।
কর্ম করে যান বাকী সব ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দিন। ঈশ্বর আমাদের সবার প্রয়োজনীয়তাকে ভালোভাবে জানেন এবং পূর্ণও করেন। মনোকামনা তো মৃত্যু পর্যন্ত পূর্ণ হয় না। এক পূর্ণ হয় তখন একশত ইচ্ছার জন্ম দেয়, অতএব বিবেকবান্ তিনিই যিনি মনকে নিয়ন্ত্রণ করেন, যা পরিশ্রম দ্বারা প্রাপ্ত হয় তাকে প্রভুর প্রসাদ মনে করে প্রয়োগ করুন। ইচ্ছার কখনও মৃত্যু হয় না। দেহ ত্যাগের পূর্বে ইচ্ছাগুলির দমন করা শিখে নিন। নিজের ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করুন, এর দ্বারাই আমাদের মন শান্ত এবং প্রসন্ন থাকে। মন তো জড়, সে কী করতে পারে? বুদ্ধি দ্বারা তাকে লাগাম লাগানো শিখুন- আত্মাকে পবিত্র করুন। এটাই তো মানব- জীবনের লক্ষ্য, এর প্রতি সর্বদা মনযোগ দিন এবং এতে সফলতা প্রাপ্ত করার যথাশক্তি যোগ দ্বারা প্রয়াস-প্রচেষ্টা করতে থাকুন।
সবার প্রতি প্রীতি রাখা শিখুন, এখান থেকেই ঈশ্বর-ভক্তি প্রারম্ভ হয়। প্রেমই প্রথম সিড়ি যার দ্বারা শ্রেয়মার্গ পার করে ব্যক্তি নিজের প্রিয়তম পরমেশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর