13/01/2026
ওনার নাম লক্ষীকান্ত চৌহান।
খুব সম্ভবত ওনার চাকরি ইতিমধ্যেই চলে গেছে।
কারণ উনি নিজেই আমাদের বলেছিলেন—ওনার ছবি বা ভিডিও প্রকাশিত হলে ওনার চাকরি থাকবে না। একটু আগেই দেখলাম, বড় বড় পেইজ থেকে ওনার ভিডিও পোস্ট হচ্ছে, হাজার হাজার ভিউ পাচ্ছে।
এটা প্রায় নিশ্চিত যে ভিডিওটি ওনার মালিকের কাছেও পৌঁছাবে। অর্থাৎ চাকরি যাওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
চাকরি যখন যাবেই, তখন অন্তত দেখা যাক—আমরা কিছু করতে পারি কি না।
যতদূর মনে পড়ে, ওনার দুইটি মেয়ে আছে। চোখ দেখলেই বোঝা যায়, চোখে ছানি পড়েছে। কেন চিকিৎসা করাননি—সেই প্রশ্ন না করাই ভালো।
৮ ঘণ্টায় ২৩ কেজি চা-পাতা তুললে ওনার পারিশ্রমিক মাত্র ১৭৮ টাকা।
একবার ভেবে দেখুন—একদিন আপনার ভার্সিটি থাকলে সারাদিনে খরচ কত হয়?
এটা কি ভয়ানক রকম বৈষম্য নয়?
এটা আসলে আধুনিক রূপের গোলামি।
২৩ কেজি গ্রীন টি-র বাজারমূল্য কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা।
তাহলে কোন যুক্তিতে ২৩ কেজি পাতা তোলার মজুরি ২০০ টাকারও কম হয়?
চা পাতা প্রসেস করতে কত খরচ হয়?
চা গাছের পরিচর্যায় কত টাকা লাগে?
আমাদের কি এসব সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই?
আমরা সবাই বুঝতে পারছি—নানান অজুহাতে কিছু মালিক-সিন্ডিকেট একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে যুগের পর যুগ কুক্ষিগত করে রেখেছে।
তাহলে তারা অন্য কাজ করে না কেন?
কারণ অন্য কোনো কাজে তাদের নেওয়া হয় না। এই প্রথা ইংরেজ আমল থেকেই চলে আসছে।
তারা আন্দোলন করে না কেন?
করেছিল। তখন দিনে মাত্র ৫ টাকা মজুরি বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছিল।
এটাকে জুলুম বলবো, না উপহাস—সেটা আমি নিজেও ঠিক জানি না।
ওনাদের কষ্টের ভারী ভারী আরো অনেক গল্প সেদিন শুনেছি, সেসব নিয়ে এখন বলতে চাই না, শুধু একবার ভাবুন, আপনার বাবা-মা মিলে দিনে ৩৫০ টাকা ইনকাম করলে আপনার পরিবারের কি হবে! কি খাবেন?কোথায় যাবেন!
এখন কথা হচ্ছে, ওনাদের জন্য কি করা যেতো?
শুধু একটা পলিসি - কায়িক শ্রমিকদের বেতন মাসে ১৫ হাজারের নিচে দেয়া যাবে না! শুধু এতটুকু ডঃ ইউনুস চাইলেই পারবেন!
তার কাছে এই মেসেজটি পৌঁছে দেয়ার জন্য যতো জায়গায় লম্বা লম্বা ইমেইল করা লাগে আমি করবো, এর পক্ষে জনমত তৈরির জন্য যেভাবে পারি চেষ্টা করবো, পারলে বিএনপি, জামাত এর মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এ আমন্ত্রণ আমি পৌঁছে দেবো!
কারন, কাল সকালে লক্ষী কান্তের চাকরি থাকবে না,, চা বাগান ছাড়া অন্য কোথাও ওনাকে চাকরি নিবে না!
#চাশ্রমিক #ডিজিটালদ্বাসত্ব
-সংগ্রহীত পোস্ট