Ad-dawah Foundation

Ad-dawah Foundation Education • Dawah • Humanitarian Service
Working for the pleasure of Allah.

অধ্যায় ৯যদি আবার পড়ে যাও?তুমি ফিরে এসেছ।কয়েকদিন নিয়মিত নামাজও পড়েছ, কুরআন খুলে অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছ, চোখের পানি ফে...
07/10/2026

অধ্যায় ৯

যদি আবার পড়ে যাও?

তুমি ফিরে এসেছ।

কয়েকদিন নিয়মিত নামাজও পড়েছ, কুরআন খুলে অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছ, চোখের পানি ফেলে তাওবা করেছ। নিজেকে পরম বিশ্বাসে কথা দিয়েছিলে—

“এবার থেকে আমি আর পুরোনো পঙ্কিল জীবনে ফিরব না, যেকোনো মূল্যে ভালো হয়ে যাব!”

কিন্তু হঠাৎ কোনো এক অসতর্ক মুহূর্তে, মনের এক সামান্য দুর্বলতায়—তুমি আবার সেই পুরোনো গুনাহেই আছাড় খেয়ে পড়ে গেলে!

তারপর?

হয়তো তোমার ভেতরটা এক নিমেষেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। বুক চিরে আক্ষেপ বের হয়ে আসবে—

“আমি আবারও হেরে গেলাম!”

“আমি তো রবের কাছে শক্ত ওয়াদা করেছিলাম, আর কখনো ভুল করব না!”

“আমার সেই কান্নার তাওবা কি তবে কোনো কাজেই আসল না?”

আর শয়তান ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে তোমার কানে সবচেয়ে বিষাক্ত কথাটা ফিসফিসিয়ে বলবে—

“দেখলি তো, তোকে দিয়ে আর হবে না! তুই তো ভণ্ড, তোর তাওবা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার নয়!”

না!

দয়া করে এই জায়গাটিতে এসে থেমে যেও না।

কারণ, মাঝপথে একবার বা বারবার পড়ে যাওয়াটা তোমার চরম পরাজয়ের শেষ প্রমাণ নয়। বরং পড়ে যাওয়ার পর আর উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা না করাটাই হতে পারে তোমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর বিপর্যয়।

একটা ছোট শিশু যখন প্রথম হাঁটতে শেখে, সে কতবার ধপাস করে মাটিতে পড়ে যায়! কখনো কি দেখেছ, পড়ে গিয়ে সে মাটিতে শুয়ে ভেবেছে—

“আমি আর কোনোদিন হাঁটার চেষ্টা করব না”?

না।

সে কান্নাকাটি করে, আবার কোনো কিছুর ভরসা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়, আবার চেষ্টা করে, আবার পড়ে। আর এভাবেই একদিন সে শক্ত পায়ে হাঁটতে শেখে।

তুমিও আত্মিক জীবনের সেই পথিক।

তুমি দুর্বল হয়ে পড়েছ—কিন্তু তাই বলে কি রবের দিকে ফেরার পথ ছেড়ে দূরে পালিয়ে যাবে?

তাওবা ভেঙে গেছে বলে কি তাওবার দরজাও বন্ধ হয়ে গেছে?

কখনো নয়।

আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন—

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।”

— সূরা আল-বাকারা, ২:২২২

একটু গভীরভাবে খেয়াল করো—

তিনি শুধু তাঁদের ভালোবাসার কথা বলেননি, যারা জীবনে কখনো কোনো ভুল করেনি।

তিনি ভালোবাসেন “তাওবাকারীদের”—যারা ভুলের পর ফিরে আসে, নিজের পাপ স্বীকার করে এবং সংশোধনের চেষ্টা করে।

তাই তুমি যদি আজ আবার পড়ে গিয়ে থাকো—

আজই আবার ফিরে এসো।

আজই ভুল হয়ে থাকলে, এখনই ওযু করে সিজদায় লুটিয়ে তাওবা করো। নিজেকে ভুলেও বলো না—

“কাল থেকে নতুন করে ঠিক হয়ে যাব!”

কারণ শয়তানের একটি ফাঁদ হলো—গুনাহের পর মানুষকে হতাশ করে দেওয়া। সে চায়, ভুল করার পর তুমি যেন বিশ্বাস করে ফেলো—

“আমার আর কোনো ক্ষমা নেই!”

কখনো শয়তানের এই প্রবঞ্চনাকে বিশ্বাস কোরো না।

অবশ্যই গুনাহকে হালকাভাবে উড়িয়ে দেবে না। পাপকে ভয় করবে, নিজের অন্তরের দুর্বলতার জায়গাগুলোকে চেনার চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি আবার পড়ে যাও—

আবার উঠবে।

আবার ওযু করবে।

আবার জায়নামাজে দাঁড়াবে।

আবার রবের কাছে ক্ষমা চাইবে।

আর আবার জীবনকে শুধরে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবে।

হয়তো তুমি হতাশ হয়ে ভাবছ—

“আমি তো একই গুনাহ বারবার করছি, আমার তাওবার কি কোনো দাম আছে?”

শোনো, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের এমন এক বান্দার কথা জানিয়েছেন, যে গুনাহ করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছে; আবার গুনাহ করেছে, আবার ক্ষমা চেয়েছে। আল্লাহ তার বান্দার এই স্বীকৃতি ও ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে ক্ষমা করেছেন। এই ঘটনা একবার নয়, পুনরাবৃত্তির সঙ্গেও বর্ণিত হয়েছে।
— সহিহ মুসলিম, ২৭৫৮

এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ ইচ্ছা করে গুনাহ করতে থাকবে আর তাওবার ওপর নির্ভর করবে।

বরং এর শিক্ষা হলো—

সত্যিকারের তাওবা করে কেউ যদি দুর্বল হয়ে আবার পড়ে যায়, তাহলে সে যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়; আবার ফিরে আসে।

তাই এবার শুধু মুখে তাওবা করেই দায়িত্ব শেষ কোরো না। নির্জনে বসে নিজেকে শক্ত প্রশ্নগুলো করো—

“আমি আসলে বারবার কোথায় আর কখন দুর্বল হয়ে পড়ছি?”

“কোন পরিবেশে বা কোন সঙ্গীদের সাথে থাকলে আমার পাপের ইচ্ছা জাগে?”

“মোবাইলের কোন অ্যাপ বা গোপন কোন অভ্যাসের কারণে আমি বারবার হোঁচট খাচ্ছি?”

গুনাহ থেকে বাঁচতে হলে শুধু চোখ দিয়ে পানি ঝরালেই সবসময় যথেষ্ট হয় না; কখনো কখনো জীবনের অভ্যাস ও পরিবেশের পথটাও বদলাতে হয়।

যে খোলা দরজা দিয়ে বারবার গুনাহ তোমার জীবনে প্রবেশ করছে, সেই দরজাটা বন্ধ করতে হবে।

যে পরিবেশ তোমাকে পাপের দিকে টানে, সেখান থেকে দূরে সরে যেতে হবে।

যে অভ্যাস তোমাকে দুর্বল করে, সেটাকে বদলাতে হবে।

আর সবচেয়ে বেশি যা দরকার—

আল্লাহর সঙ্গে তোমার সম্পর্কটা আরও গভীর করতে হবে।

কারণ তুমি শুধু ভয় পেয়ে গুনাহ ছাড়তে চাও না।

তুমি এমন একজন মানুষ হতে চাও—যে তার রবকে সত্যিই অন্তর দিয়ে ভালোবাসে।

তাই যদি আবারও কখনো পড়ে যাও—

নিজের অস্তিত্বকে ঘৃণা করে একা বসে থেকো না।

নিজের গুনাহকে ঘৃণা করো, আর তোমার রবের দিকে ফিরে এসো।

আজ হয়তো অনুশোচনায় চোখে পানি নেই।

আজ হয়তো মনটা খুব ক্লান্ত ও দুর্বল।

ভেতরে হয়তো তীব্র লড়াই চলছে।

তবুও তুমি ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়াও!

কারণ তোমার জীবনের গল্পের শেষ অধ্যায়টা কোনো একটি পড়ে যাওয়ার মাধ্যমে লিখে ফেলা হয়নি।

তুমি পড়ে গেছ—
কিন্তু তুমি এখনও শেষ হয়ে যাওনি!

আজই আবার নতুন করে ফিরে এসো।

আবার পথচলা শুরু করো।

তবে এবার আগের চেয়ে আরও বেশি সতর্কতা নিয়ে।

হয়তো একদিন অনেক দূরে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে দেখবে—

যে পাপাচারটা একসময় তোমাকে বারবার মাটিতে আছড়ে ফেলত, আজ তুমি রবের রহমতে তার চেয়ে বহুদূরে দাঁড়িয়ে আছ।

তখন বুঝতে পারবে—

পড়ে যাওয়ার পর হেরে না গিয়ে “আবার উঠে দাঁড়ানোর” সেই ছোট্ট সিদ্ধান্তটাই ছিল তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্তগুলোর একটি।

অধ্যায় ৮একটি সিজদাই হতে পারে নতুন শুরুর গল্পকখনো কি নির্জনে বসে এমন মনে হয়েছে—জীবনটা যদি আবার নতুন করে শুরু করা যেত?পু...
05/10/2026

অধ্যায় ৮

একটি সিজদাই হতে পারে নতুন শুরুর গল্প

কখনো কি নির্জনে বসে এমন মনে হয়েছে—জীবনটা যদি আবার নতুন করে শুরু করা যেত?

পুরোনো সেই সব ভুল আর গ্লানিগুলোকে একদম পেছনে ফেলে, খারাপ অভ্যাসগুলো বদলে, নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্কগুলো কুড়িয়ে নিয়ে—আর সবচেয়ে বেশি, নিজের রবের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কটা নতুন করে গড়ে তোলা বড় প্রয়োজন!

কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে?

অনেক সময় আমরা নতুন করে জীবনটা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য বড় কোনো অলৌকিক মুহূর্তের অপেক্ষা করি। মনে মনে ভাবি—

- “একদিন নিরিবিলি সময় করে একটা বড় তাওবা করব।”
- “একদিন মনটা পুরোপুরি পাপমুক্ত হলে নামাজে একদম মনোযোগী হব।”
- “একদিন জীবনের সব ব্যস্ততা কমলে ধীরস্থিরে কুরআন নিয়ে বসব।”
- “একদিন জীবনটা একটু গুছিয়ে এলে পুরোপুরি আল্লাহর দিকে ফিরব।”

কিন্তু সত্যি বলতে—সেই কাঙ্ক্ষিত “একদিন” অনেক সময় আর আসে না। কারণ জীবন কখনো সব ঝামেলা মিটিয়ে নিখুঁত হওয়ার জন্য বসে থাকে না।

তাই তোমাকে নতুন শুরু করার জন্য পুরো জীবনটা একদিনে বদলে ফেলতে হবে না। তোমাকে সব পাহাড়সম ব্যস্ততা একরাতে সমাধান করতে হবে না।

তুমি শুধু একটি সিজদা দিয়ে শুরু করো।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনছ—কেবল একটি সিজদা!

যে সিজদায় তোমার কপাল মাটিতে লুটিয়ে পড়বে, আর তার সাথে সাথে মনের মধ্যে জমে থাকা অহংকার, জেদ আর দুনিয়াবি গৌরবও যেন মাটির কাছে নত হয়ে যাবে। যে সিজদায় তোমার মুখে হয়তো চটকদার কোনো প্রার্থনা থাকবে না; কেবল থাকবে রবের সামনে এক ব্যাকুল, অসহায় হৃদয়ের নীরব আত্মসমর্পণ।

হয়তো তুমি অনেক দিন পর আজ জায়নামাজে গিয়ে দাঁড়াবে। হয়তো দাঁড়াতে গিয়ে নিজের অপরাধবোধের কারণে নিজের কাছেই বড্ড অস্বস্তি লাগবে। মনে সংশয় আসবে—

“তুই তো কতদিন নামাজ পড়িসনি, আজ আবার কোন মুখে দাঁড়াবি?”

তবুও দাঁড়াও!

কারণ আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জন্য তোমাকে অতীতের সব হিসাব আগে চুকিয়ে নিখুঁত হতে হবে না। তুমি রবের দিকে ফিরতে ফিরতেই নিজেকে সংশোধন করতে শুরু করবে।

সিজদায় গিয়ে হয়তো আজ তোমার চোখ দিয়ে পানি ঝরবে না। কোনো সমস্যা নেই।

হয়তো হৃদয়ের কঠিন বরফটা এত দ্রুত গলবে না। তবুও সিজদা করো।

হয়তো মনটা বারবার দুনিয়ার চিন্তায় উড়ুউড়ু করবে। তবুও সিজদা করো।

কারণ আজ তোমার লক্ষ্য শতভাগ নিখুঁতভাবে রবের দরবারে পৌঁছানো নয়—আজ তোমার প্রথম কাজ হলো "রবের দরবারে ফিরে আসা।"

রাসূলুল্লাহ ﷺ কত অসাধারণ একটি সত্য প্রকাশ করেছেন—

“বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সিজদার অবস্থায় থাকে। অতএব, তোমরা তখন বেশি বেশি দোয়া করো।”

— সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪৮২

একবার বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ভেবে দেখো তো—

যে মানুষটা এতদিন দুনিয়ার দরজায় দরজায় সামান্য সহানুভূতি পাওয়ার জন্য ঘুরেছে, মানুষের কাছে নিজের জমানো কষ্টের কথা বলে বেড়িয়েছে, মনের গভীর শূন্যতা পূরণ করতে কত ভুল পথ খুঁজেছে—সে যদি আজ অন্তত একবার অন্তরের সমস্ত আকুতি নিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে বলে

“হে আমার রব, আমি আর কোথাও জায়গা না পেয়ে তোমার দরবারেই ফিরে এসেছি!”

তাহলে ভেবে দেখো, সেই একটিমাত্র মুহূর্ত তার পুরো জীবনের কত বড় মোড় ঘোরানো অধ্যায়ের শুরু হতে পারে!

হয়তো সেই সিজদা থেকে মাথা তোলার সাথে সাথেই তোমার সব জাগতিক সমস্যা অলৌকিকভাবে উধাও হয়ে যাবে না। গুনাহের পুরোনো স্মৃতিগুলো এক নিমেষে মুছে যাবে না। কিন্তু তোমার ভেতরে একটি নতুন যাত্রা শুরু হতে পারে।

কারণ এতদিন তুমি চলছিলে তোমার নিজের সীমিত শক্তিতে, আর আজ তুমি পথ চলা শুরু করেছ তোমার সর্বশক্তিমান রবের ওপর ভরসা রেখে।

তাই নতুন জীবন শুরু করার জন্য কোনো বিশেষ শুভ তারিখের অপেক্ষা কোরো না। কোনো অলৌকিক রাতের অপেক্ষা কোরো না। কোনো তীব্র অনুভূতির অপেক্ষাতেও বসে থেকো না।

আজই উঠে দাঁড়াও।

এখনই ওযু করে সিজদায় লুটিয়ে পড়ো।

আর যদি মুখে দীর্ঘ কোনো দোয়ার শব্দ না আসে—তবে নিজের ভাষায়, নিজের মতো করে রবের কাছে বলো—

“হে আমার রব, আমি ফিরে এসেছি।”

মনে রেখো, তোমার নতুন ও সুন্দর জীবনের প্রথম পৃষ্ঠাটা হয়তো বড় কোনো আড়ম্বর দিয়ে নয়—

একটি ছোট্ট, বিনীত সিজদা দিয়েই লেখা হতে যাচ্ছে।

অধ্যায় ৭তুমি যত গুনাহই করো…কখনো কি এমন হয়েছে—নির্জনে নিজের অতীতের দিকে তাকিয়ে নিজের কাছেই নিজেকে চরম অপরিচিত মনে হয়ে...
03/10/2026

অধ্যায় ৭

তুমি যত গুনাহই করো…

কখনো কি এমন হয়েছে—নির্জনে নিজের অতীতের দিকে তাকিয়ে নিজের কাছেই নিজেকে চরম অপরিচিত মনে হয়েছে?

বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এসে মনে হয়েছে—“আমি এতটা বদলে গেলাম কীভাবে?”

একসময় যে কাজটার কথা চিন্তা করতেই তোমার বুক কেঁপে উঠত, আজ সেটাই তোমার প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একসময় যে গুনাহটি হয়ে গেলে দু-তিন দিন মন খারাপ থাকত, অনুশোচনায় ঘুম আসত না—আজ সেই একই কাজ করার পরও তুমি কেমন স্বাভাবিক থাকো, অবলীলায় ঘুরে বেড়াও!

তারপর একদিন হঠাৎ কোনো এক একাকী মুহূর্তে তোমার মনে হয়—

“আমি কি আর কখনো আগের মতো হতে পারব? আমার কি আর ভালো হওয়ার সুযোগ আছে?”

হয়তো তোমার জীবনে এমন কিছু গোপন পাপ আছে, যেগুলোর কথা মনে পড়লে তোমার নিজের কাছেই নিজেকে ক্ষমা করতে ইচ্ছে করে না। হয়তো এমন কিছু ভুলের দাগ আছে, যেগুলো দুনিয়ার কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারবে না। হয়তো এমন কিছু অন্ধকার রাত তোমার অতীতকে আঁকড়ে আছে, যেগুলোর কথা মনে পড়লে লজ্জায়, অপরাধবোধে নিজের কাছেই নিজেকে খুব ছোট মনে হয়।

আর ঠিক এই দুর্বল মুহূর্তটিতেই শয়তান তোমার মনে বিষাক্ত ফিসফিসানি শুরু করে—

*“অনেক দেরি হয়ে গেছে! তোর আর কোনো ফেরার পথ নেই। তুই তো বারবার তাওবা ভেঙেছিস—আল্লাহ কি আর তোকে কবুল করবেন?”*

কিন্তু মনে রেখো—

শয়তানের এই নিরাশার কথায় বিশ্বাস করো না।

তোমার অপরাধ আর গুনাহের পাহাড় যত বড়ই হোক না কেন—তোমার রবের রহমত তার চেয়েও অসীম।

তুমি জীবনে কতবার পাপের খাদে পড়ে গেছ, হয়তো শয়তান তোমাকে কেবল সেই হিসেবটাই মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগের কথা সে তোমাকে ভুলিয়ে দিতে চায়।

আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেছেন—

“বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

— **সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫৩**

একটু গভীরভাবে খেয়াল করো—

আল্লাহ তাআলা বলেননি—
“যারা জীবনে কখনো ভুল করেনি, শুধু তারা আমার দিকে ফিরে আসুক।”

বরং তিনি তাদেরও নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে, সীমালঙ্ঘন করেছে।

তাই রবের দরবারে ফিরে আসার জন্য তোমাকে আগে থেকেই নিষ্পাপ বা নিখুঁত হয়ে যেতে হবে না।

তোমাকে শুধু ফিরে আসতে হবে।

আজ হয়তো অনুশোচনায় তোমার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা পানিও বের হচ্ছে না।

আজ হয়তো জায়নামাজে দাঁড়ালেও মন এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে।

আজ হয়তো তাওবা করার সময়ও সেই ব্যাকুলতা তুমি অনুভব করছ না।

তবুও বলছি—

তুমি ফিরে এসো!

কারণ তাওবা মানে শুধু চোখ দিয়ে দরদর করে পানি পড়ার নাম নয়। তাওবা হলো—নিজের ভুলকে স্বীকার করে, পাপের পথ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর দিকে আবার যাত্রা শুরু করা।

আল্লাহ বলেন—

“আর তোমরা তোমাদের রবের দিকে ফিরে এসো এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো, তোমাদের কাছে শাস্তি আসার আগে; তখন তোমাদের সাহায্য করা হবে না।”
— সূরা আয-যুমার,

যদি বহু বছর ধরে তুমি নামাজ থেকে দূরে থেকে থাকো—তবে আজকের নামাজটি দিয়েই শুরু করো।

যদি বহুদিন তোমার হাতে কুরআন তোলা না হয়ে থাকে—তবে আজ মাত্র এক পৃষ্ঠা পড়ে সেটার সাথে সম্পর্ক জোড়া দাও।

যদি কোনো একটা পাপ তোমাকে বারবার টানে, আর তুমি তাওবা ভেঙে ফেলো—তবে প্রতিবার পড়ে যাওয়ার পরও আবার উঠে দাঁড়াও।

“আমি তো অনেকবার তাওবা করেছি, আবার ভেঙে ফেলেছি—আমাকে দিয়ে আর হবে না”—এই বিষাদময় ভাবনাকে অজুহাত বানিয়ে থেমে যেও না।

তুমি হয়তো বারবার পড়ে যাচ্ছ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তোমার রবের কাছে ফিরে আসার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে।

বরং রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, বান্দা তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে এলে আল্লাহ তার তাওবায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।

আর রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেই দিনে সত্তরেরও বেশি বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন ও তাওবা করতেন।

তাহলে তুমি কেন ভাবছ—
“আমি তো বারবার ভুল করেছি, তাই আর ফিরে আসব না”?

না।

পড়ে গেলে উঠো।

আবার পড়ে গেলে আবার উঠো।

কারণ মুমিনের পথ কখনো ভুল না করার পথ নয়; বরং ভুলের পর রবের দিকে ফিরে আসার পথ।

গতকাল তুমি কেমন ছিলে, কত বড় পাপিষ্ঠ ছিলে—সেটা আজ রবের কাছে ফিরে না আসার অজুহাত হতে পারে না।

গতকালের অতীতকে পেছনে ফেলে আজ তুমি কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছ—সেটাই এখন তোমার সামনে।

তাই আর নিজেকে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে বলো না—

“একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে!”

সেই কাঙ্ক্ষিত “একদিন”-এর জন্য অপেক্ষা না করে, সেই শুভ দিনটা আজই শুরু হোক না কেন?

উঠো।

ওযু করো।

নিরিবিলিতে জায়নামাজটা বিছাও।

রবের সামনে দুটি হাত তুলে অনুতপ্ত হৃদয়ে বলো—

“হে আমার রব, আমি অনেক ভুল পথে হেঁটে ক্লান্ত হয়ে আজ আবার তোমার দরজাতেই ফিরে এসেছি। তুমি ছাড়া আমার আর কোনো আশ্রয় নেই।”

হয়তো তুমি মনে করছ, অনেক দেরি করে ফেলেছ।

হয়তো তোমার অতীত তোমাকে বারবার পেছন থেকে টেনে ধরছে।

তবুও ফিরে এসো।

কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন—

“আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।”

তাই আজ আর নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখো না।

ফিরে এসো।

তোমার গুনাহ যতই হোক—

তোমার রবের দিকে ফিরে আসার পথ এখনো খোলা।

02/10/2026

সূর্য ডোবে, দিন ফুরায়—কিন্তু রবের দিকে ফিরে আসার দরজা কখনো বন্ধ হয় না।

কিছুটা থামি, নিজেকে প্রশ্ন করি—
আমি কি এখনো আমার রবের কাছাকাছি আছি?

02/10/2026
01/10/2026
 # অধ্যায় ৬ # # কুরআনটা এখনও তোমার অপেক্ষায়মনে আছে?একটা সময় ছিল, যখন কুরআন খুললেই মনে হতো—*“আমি যেন আমার পরম রবের বাণ...
01/10/2026

# অধ্যায় ৬

# # কুরআনটা এখনও তোমার অপেক্ষায়

মনে আছে?

একটা সময় ছিল, যখন কুরআন খুললেই মনে হতো—

*“আমি যেন আমার পরম রবের বাণী পড়ছি।”*

তখন হয়তো প্রতিদিন অনেক পৃষ্ঠা পড়া হতো না, কিন্তু নিয়মিত কিছুটা তো পড়া হতো!

কখনো স্নিগ্ধ ফজরের পর, কখনো বা নিস্তব্ধ রাতে ঘুমানোর আগে। কখনো কখনো কোনো একটি আয়াত পড়েই থমকে যেতে; বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসত আর মনে হতো—

*“এই বার্তাটি তো আজকের এই কঠিন পরিস্থিতিতে যেন আমার হৃদয়ের কথাই বলছে!”*

আর আজ?

সেই পবিত্র কুরআনটি হয়তো এখনও তোমার ঘরেই আছে।

অত্যন্ত যত্নে রাখা আছে।

হয়তো সুন্দর কোনো কাপড়ে মোড়ানো, নয়তো তাকের কোনো এক উঁচুতে বা আলমারির কোণে।

শুধু তোমার হাতটাই আর আগের মতো সেখানে পৌঁছায় না।

দিনের পর দিন কেটে যায়, সপ্তাহের পর সপ্তাহ গড়ায়। কখনো কখনো পুরো একটি মাসও পার হয়ে যায়।

কুরআনটি কিন্তু ঠিক একই জায়গায় পড়ে থাকে।

নীরবে।

তোমার ফিরে আসার অপেক্ষার মতো।

অথচ জিজ্ঞেস করলে তুমি ক্লান্ত সুরে বলো—

*“সময় পাই না!”*

আসলেই কি সময় পাও না?

সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে পর্দার দিকে তাকিয়ে কত ঘণ্টা পার হয়ে যায়, তার কি কোনো হিসাব আছে?

একটা শর্ট ভিডিও থেকে আরেকটা ভিডিও, একটা পোস্ট থেকে আরেকটা ছবি। উদ্দেশ্য ছাড়াই শুধু স্ক্রল করতে করতে কত গভীর রাত হয়ে যায়।

অথচ সেই ২৪ ঘণ্টার মধ্য থেকে রবের এই মহামূল্যবান বাণীর জন্য মাত্র কয়েক মিনিট বের করতে গেলেই মনে হয়—

*“আজ না, কাল থেকে নতুন করে শুরু করব।”*

এই “কাল” বলতে বলতে যে জীবনের কতগুলো বছর পার হয়ে গেল, তা কি কখনো হিসাব করে দেখেছ?

আল্লাহ তাআলা বলেন—

> **“নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথের দিকে পথনির্দেশ করে, যা সর্বাধিক সরল।”**
>
> — সূরা আল-ইসরা, ১৭:৯

একটু ভেবে দেখো—

তুমি জীবনে কত মানুষের কাছে পরামর্শের জন্য ছুটেছ!

কীভাবে সফল হওয়া যায়, কীভাবে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে জীবনের কঠিন সময় পার করা যায়—এসব জানতে কত বই পড়েছ, কত মানুষের কথা শুনেছ, কত ভিডিও দেখেছ।

অথচ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি তোমার অন্তরের গোপন কথাও জানেন, তাঁর পক্ষ থেকে নাজিল করা হিদায়াতের কিতাবটি হয়তো তোমার ঘরের তাকেই পড়ে থাকে।

কুরআন শুধু কারো মৃত্যুর খবর শুনে সুর করে পড়ার জন্য আসেনি।

কুরআন শুধু রমজান মাসের বিশেষ খতমের জন্যও আসেনি।

কুরআন শুধু ঠোঁট নাড়িয়ে তিলাওয়াত করার জন্যও নয়।

কুরআন এসেছে **তোমাকে পথ দেখাতে।**

তোমার আনন্দের সময়।

তোমার নিঃসঙ্গতার সময়।

তোমার ভুল ও অনুশোচনার সময়।

তোমার দুঃখ ও অস্থিরতার সময়।

আর তোমার রবের দিকে ফিরে আসার সময়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

> **“এটি এমন এক কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাকিদের জন্য এটি হিদায়াত।”**
>
> — সূরা আল-বাকারা, ২:২

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

> **“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে কুরআন শেখে এবং তা শিক্ষা দেয়।”**
>
> — সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫০২৭

তাহলে তুমি আর কতদিন অপেক্ষা করবে?

হয়তো ভাবছ—

*“আমি তো অর্থ বুঝি না, কীভাবে পড়ব?”*

তাহলে অনুবাদসহ একটু একটু করে পড়া শুরু করো।

হয়তো ভাবছ—

*“আরবিটা তো ঠিকমতো আসে না, পড়তেও কষ্ট হয়।”*

তাহলে ধীরে ধীরে শেখা শুরু করো।

একদিনে অনেক পড়তে পারো না?

মাত্র এক পৃষ্ঠা পড়ো।

এক পৃষ্ঠাও কঠিন মনে হলে কয়েকটি আয়াত পড়ো।

কিন্তু **ফিরে এসো।**

কারণ কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক একদিনে তৈরি হয় না; প্রতিদিনের অল্প অল্প চেষ্টাতেই তা গড়ে ওঠে।

আজ হয়তো মাত্র পাঁচ মিনিট।

কাল দশ মিনিট।

তারপর হয়তো একদিন তুমি নিজেই অনুভব করবে—

যে কুরআন পড়ার জন্য একসময় তোমাকে নিজেকে জোর করতে হতো, সেই কুরআনের স্পর্শ ছাড়া তোমার দিনটাই যেন অসম্পূর্ণ লাগে।

তাই আজ ঘরের সেই তাকটির দিকে একবার তাকাও।

কুরআনটা এখনও সেখানেই আছে।

তুমি শুধু তাকে খুলে বসোনি।

যত্ন করে হাতে নাও।

ওযু করো।

প্রথম পৃষ্ঠাটা খোলো।

তারপর পড়তে শুরু করো।

হয়তো কোনো একটি আয়াত তোমার হৃদয়ে এমনভাবে স্পর্শ করবে, যেভাবে বহুদিন কোনো কথা তোমাকে স্পর্শ করেনি।

হয়তো সেদিন তুমি উপলব্ধি করবে—

**তুমি কুরআন থেকে দূরে ছিলে; কিন্তু আল্লাহর এই হিদায়াত তোমার জন্য তখনও উন্মুক্ত ছিল।**

আর মনে রেখো—

জীবন শুধরানোর জন্য কোনো বিশেষ “কাল”-এর অপেক্ষা করতে হয় না।

**আজই শুরু করার জন্য যথেষ্ট।**

এই মুহূর্তটাও যথেষ্ট।

কুরআনটা খুলে বসো।

 # অধ্যায় ৫ # # নামাজটা কেন এত কঠিন হয়ে গেল?মনে আছে?একটা সময় ছিল, যখন আজানের শব্দ শুনলেই তোমার ভেতরটা আকুল হয়ে উঠত। ...
30/09/2026

# অধ্যায় ৫

# # নামাজটা কেন এত কঠিন হয়ে গেল?

মনে আছে?

একটা সময় ছিল, যখন আজানের শব্দ শুনলেই তোমার ভেতরটা আকুল হয়ে উঠত। তুমি বুঝে যেতে—এখন আমার পরম করুণাময় রব আমাকে ডাকছেন। তখন হয়তো কাজের মাঝেই সবকিছু থামিয়ে দিতে, ওযু করে সিজদায় গিয়ে প্রশান্তি খুঁজতে।

এমনকি কখনো গভীর রাতে বা ভোরে ঘুম ভেঙে গেলে মনে হতো—

*“আগে নামাজটা পড়ে নিই, তারপর নিশ্চিন্তে ঘুমাব।”*

ব্যস্ততার মাঝেও সারাক্ষণ মনের এক কোণে তাগিদ থাকত—

*“আমার তো নামাজ বাকি!”*

আর আজ?

আজও আজান হয়। ধ্বনিটা ঠিকই তোমার কানে এসে পৌঁছায়। কিন্তু তুমি আর সহজে উঠে দাঁড়াও না।

হৃদয়ের অলসতাকে প্রশ্রয় দিয়ে মনে মনে বলো—

*“আরেকটু পরে পড়ব।”*

অথচ সেই “আরেকটু পরে” বলতে বলতে কখন যে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তুমি টেরও পাও না। কখনো ঘুমের অজুহাতে, কখনো কাজের বাহানায়, কখনো বা হাতের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে নামাজ পিছাতে থাকে। আবার কখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কারণও থাকে না—কেবল ভেতর থেকে উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছেটুকুই যেন হারিয়ে যায়।

একবার কি নির্জনে বসে নিজেকে এই কঠিন প্রশ্নটা করেছ—

**যে নামাজ একসময় তোমার কাছে পরম শান্তির ছিল, সেটাই আজ তোমার কাছে এত বড় বোঝা হয়ে গেল কেন?**

নামাজ তো তোমাকে কষ্ট দিতে বা তোমার ওপর বাড়তি কোনো চাপ তৈরি করতে আসেনি। নামাজ তো তোমাকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে বের করে তোমার রবের সামনে দাঁড় করাতে আসে—যেখানে তুমি কিছুক্ষণের জন্য সবকিছু ভুলে তাঁর দিকে মনোযোগ দিতে পারো।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

> **“নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।”**
>
> — সূরা আল-আনকাবূত, ২৯:৪৫

তাহলে সমস্যাটা নামাজে নয়।

সমস্যা হয়তো আমাদের অন্তরে।

আমরা যখন একটু একটু করে আল্লাহর সান্নিধ্য থেকে দূরে সরে যাই, তখন তাঁর সঙ্গে মুনাজাতের এই অপূর্ব মাধ্যমটিও আমাদের কাছে ভারী মনে হতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মিনিটের নামাজকে যেন পাহাড়সম দীর্ঘ মনে হয়।

অথচ ভেবে দেখো—

মোবাইলের স্ক্রল কিন্তু থামতেই চায় না।

একটা শর্টসের পর আরেকটা ভিডিও, একটা পোস্টের পর আরেকটা ছবি—এভাবেই জীবনের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অনায়াসে পার হয়ে যায়।

তখন কি একবারও ক্লান্তি আসে?

আসলে সময়ের অভাব এখানে মূল সমস্যা নয়; আসল সমস্যা হলো **অগ্রাধিকারের অভাব**।

মানুষ যে জিনিসটাকে হৃদয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, হাজার ব্যস্ততার মাঝেও সে সেটার জন্য সময় ঠিকই বের করে নেয়।

তাহলে রবের ডাকার সময় তোমার সুযোগ হয় না কেন?

হয়তো কারণ, নামাজ তোমার কাছে ধীরে ধীরে এমন একটি দৈনন্দিন কাজ হয়ে গেছে, যেটা তুমি দ্রুত শেষ করে ফেলতে চাও। অথচ নামাজ তো তোমার আর তোমার রবের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশগুলোর একটি।

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন—

> **“কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো নামাজ।”**
>
> — সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস ৪১৩

ভাবো তো একবার—

যে আমলটির হিসাব হাশরের ময়দানে সবার আগে নেওয়া হবে, সেই আমলটিকেই আমরা আমাদের প্রতিদিনের তালিকার সবচেয়ে শেষে জায়গা দিই!

কখনো কখনো আমরা নামাজকে এমনভাবে অবহেলার সঙ্গে পড়ি, যেন আল্লাহ তাআলা আমাদের সিজদার মুখাপেক্ষী।

অথচ সত্যটা সম্পূর্ণ বিপরীত—

**আমরাই আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে তাঁর মুখাপেক্ষী।**

তুমি অসুস্থ হলে আরোগ্য চাইতে তাঁর কাছেই ছোটো।

বিপদে পড়ে দিশেহারা হলে তাঁর সাহায্য খোঁজো।

কোনো স্বপ্ন পূরণ হলে তাঁর শুকরিয়া আদায় করো।

আর হৃদয়ে কষ্ট জমলে তাঁর কাছেই গোপন অশ্রু ঝরাও।

তাহলে যিনি তোমার অস্তিত্বের মালিক, যিনি তোমার প্রতিটি মুহূর্তকে সচল রেখেছেন, তাঁর সামনে দিনে কয়েকবার দাঁড়াতে তোমার এত দ্বিধা কেন?

হয়তো তুমি বলবে—

*“আমার নামাজে মন বসে না, বারবার মন অন্যদিকে চলে যায়।”*

হয়তো বলবে—

*“অনেকদিন ধরে তো পড়ি না, কেমন যেন একটা অপরাধবোধ কাজ করে।”*

তবুও বলছি—

**ফিরে আসো।**

মন বসার অপেক্ষায় বসে থেকো না।

আগে ওযু করে জায়নামাজে গিয়ে দাঁড়াও। অনুগত শরীরটা যখন বারবার সিজদায় নত হবে, মনও একদিন ধীরে ধীরে রবের দিকে ফিরে আসবে—ইনশাআল্লাহ।

আজই নতুন করে শুরু করো।

আজানের সুমধুর ধ্বনি কানে আসার সঙ্গে সঙ্গেই হাতের কাজ গুটিয়ে নাও। মোবাইলটা দূরে সরিয়ে রাখো। জায়নামাজে দাঁড়িয়ে শুধু মনে মনে বলো—

*“হে আমার রব, আমি অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম। আজ আবার তোমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। আমাকে ফিরিয়ে দাও।”*

হয়তো আজ প্রথম দিন তোমার চোখে পানি আসবে না।

হয়তো হৃদয় পুরোপুরি নরম হবে না।

তবুও তুমি দাঁড়িয়ে থাকো।

কারণ বদলে যাওয়ার যাত্রাটা সবসময় তীব্র কোনো অনুভূতি দিয়ে শুরু হয় না।

কখনো কখনো পরিবর্তনের শুরুটা হয় কেবল—

**অলসতা ভেঙে উঠে দাঁড়ানোর মাধ্যমে।**

পরবর্তী আজানের ধ্বনি যখন আবার তোমার শহরের বাতাসে ভেসে আসবে, তখন নিজেকে আরেকবার জিজ্ঞেস করো—

**“আমি কি আজও ‘আরেকটু পরে’ বলে অজুহাত দেব, নাকি এবার সত্যিই আমার ডাক পাওয়া রবের দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব?”**

Address

Rayerchar, Fulbaria, Saltha
Faridpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ad-dawah Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share