28/07/2026
ভালোবাসা কাকে বলে? সাহাবিদের জীবনই তার সবচেয়ে উজ্জ্বল উত্তর।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা শুধু মুখের দাবি ছিল না; প্রতিটি আচরণে, প্রতিটি ত্যাগে, প্রতিটি অশ্রুবিন্দুতে সেই ভালোবাসা ফুটে উঠেছিল।
আবু বকর (রা.) একদিন দেখলেন, প্রিয় নবী ﷺ-এর চোখ অশ্রুসজল। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “আমি কাঁদছি কারণ আমার প্রিয় নবী কাঁদছেন।” প্রিয় মানুষের হাসিতে হাসা সহজ, কিন্তু তাঁর দুঃখকে নিজের হৃদয়ে অনুভব করাই সত্যিকারের ভালোবাসা।
জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.) তখনও কিশোর। যখন শুনলেন—রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে হত্যা করা হয়েছে, তিনি এক মুহূর্তও দেরি না করে তলোয়ার হাতে বেরিয়ে পড়লেন। ভালোবাসা কখনো বয়সের হিসাব করে না।
বনু দীনার গোত্রের সেই সাহসী নারী উহুদের ময়দানে বাবা, ভাই ও স্বামী—তিনজনকেই হারিয়েছিলেন। তবুও তাঁর প্রথম প্রশ্ন ছিল, “আল্লাহর রাসুল ﷺ কেমন আছেন?” যখন জানতে পারলেন তিনি নিরাপদে আছেন, তখন বললেন, “আপনি ভালো থাকলে আমার সব শোকই তুচ্ছ।”
একদিন রাসুলুল্লাহ ﷺ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “আয়েশাকে নিয়ে আমাকে কষ্ট দিও না।” প্রিয়জনকে সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়ার এমন সুন্দর দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল।
হিজরতের পথে সাওর গুহার সামনে আবু বকর (রা.) নবীজিকে বললেন, “আপনি আগে প্রবেশ করবেন না, আগে আমি ঢুকি। যদি কোনো বিপদ থাকে, তা আগে আমার ওপর আসুক।” নিজের জীবনকে ঢাল বানিয়ে দেওয়ার নামই তো ভালোবাসা।
বিলাল (রা.) নবীজি ﷺ-এর ইন্তিকালের পর আর আজান দিতে পারতেন না। “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ” উচ্চারণ করলেই তাঁর চোখ ভিজে যেত। বহু বছর পর আবার আজান দিলে উপস্থিত মানুষের কান্নায় চারদিক ভারী হয়ে উঠেছিল।
হিজরতের কঠিন সফরে আবু বকর (রা.) এক পাত্র দুধ এনে নবীজির হাতে তুলে দিলেন। তিনি পরে বলেছিলেন, “নবীজি পান করলেন, কিন্তু তৃপ্তি পেল আমার হৃদয়।” এটাই ভালোবাসার সৌন্দর্য—প্রিয়জনের শান্তিতেই নিজের শান্তি খুঁজে নেওয়া।
সাওবান (রা.) একদিন বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন। নবীজি ﷺ কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, “আপনাকে না দেখলে আমার মন অস্থির হয়ে যায়। আপনার সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি পাই না।”
রাবিয়া ইবন কাব (রা.)-কে যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “কিছু চাও”, তখন তিনি দুনিয়ার কিছুই চাননি। তাঁর একমাত্র প্রার্থনা ছিল—“জান্নাতেও যেন আপনার সঙ্গ লাভ করতে পারি।”
এমন ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ—যিনি নিজের উম্মতের জন্য অশ্রু ঝরিয়েছেন, দোয়া করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর প্রতি ভালোবাসা শুধু অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের আমল, চরিত্র ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত
।
🌿 আসুন, এই লেখা পড়ে অন্তত একবার আন্তরিকভাবে দরুদ শরিফ পাঠ করি— اللهم صل وسلم وبارك على نبينا محمد ﷺ
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রকৃত অনুসারী হওয়ার তাওফিক দান করুন।
আমীন।