27/07/2023
যারা প্রগতির নামে, অধিকার এর নামে, স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে বেহায়াপনার প্রচার করতে চায় এরা কাপুরুষ। কারণ ঘুঁন ধরে যাওয়া সমাজে ব্যাধির সংক্রমন সহজ। শাশ্বত, সর্বজনীন কল্যাণের বাস্তবায়ন এদের মত বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বে লিপ্ত পরাজিতদের দ্বারা সম্ভব না।
তাই যেখানেই এরা এদের নৈতিকতা বিবর্জিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে নিষ্পেষিত মুমিনদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুর শুনতে পায় সেখানেই হুক্কা হুয়া বলে ডেকে উঠে সবাই।
সুস্পষ্ট হারাম, নোংরামি, কুফরকে এরা পশ্চিমা নগ্ন সমাজের ভিত্তিহীন যুক্তির মারপ্যাঁচে আসমানী ওহীর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরা ভাবে না যে, এর মাধ্যমে এরা এদের রবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে গেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন,
[১০:৮২] ইউনুস
وَيُحِقُّ اللَّهُ الحَقَّ بِكَلِماتِهِ وَلَو كَرِهَ المُجرِمونَ
বায়ান ফাউন্ডেশন:
আর আল্লাহ তাঁর বাণীসমূহের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে।
যেখানেই অন্যায়, জুলুম, বাতিল এর বিরুদ্ধে ইসলাম এর আপোষহীন আওয়াজ শোনা যায়, সেখানেই এরা আওয়াজ তোলে ইসলাম পালন করতে হলে নাকি আরবে ফিরে যেতে হবে, মাদ্রাসায় চলে যেতে হবে। এরা ভুলে গেছে আল্লাহর দীন সকলের জন্য, সারা দুনিয়ার জন্য। মসজিদ থেকে আপন ঘর, ভার্সিটি থেকে মাদ্রাসা প্রতিটা জায়গায় হুকুম চলবে শুধু ইসলাম এর। যে অস্বীকার করবে সেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
লিবটার্ডরা সবার জবানের স্বাধীনতার কথা বলে বেড়ায় ঠিকই, কিন্তু যখনি নিজেদের নষ্ট, ভোগবৃত্তিক লিবারেল আইডিওলোজির বিরুদ্ধে কাউকে বলতে দেখে তখনই সে আর লিবারেল থাকতে পারে না। উল্টো-পাল্টা ট্যাগবাজিতে এরা সেরা। মডারেট ইসলাম এর বাইরে যেয়ে যদি কেউ কুরআন-সুন্নাহ এর আপোষহীন সত্য-ন্যায়নিষ্ঠ দাওয়াত গুলি মানুষকে দিতে যায়, তখন কিন্তু এরা জবানের স্বাধীনতার বুলি আওড়াবে না।
মুসলিমরা ইসলাম চর্চার জন্য আরবে যাবে না, বরং, লিবটার্ডদেরকে ওদের বেহায়াপনা চর্চার জন্য বরং পশ্চিমা কোনো নাস্তিক সমাজে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। রক্ষণশীল সমাজে ওদের নষ্টামির উদারনীতি চলবে না।
দুনিয়া আল্লাহর সৃষ্টি, তাই জীবন পরিচালনার জন্য বিধান ও আল্লাহরই মানতে হবে। এই বিষয়ে দ্বিমত থাকলে নিজেকে মুসলিম পরিচয় দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
পশ্চিমাদের থেকে ভিক্ষা করে আনা ভোগবৃত্তিক, স্বার্থবাদী, দ্বিচারিতামূলক উদারনীতি ৯০ ভাগ মুসলিম এর উপর জোর করে চাপালে সে বরং পশ্চিমা দালাল এবং দেশ ও জাতির শত্রু। স্বাধীন দেশে নিজেদের রক্ষনশীল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে পশ্চিমা নোংরামি চাপানো হলে তাকে বরং দেশের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আগ্রাসী শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
মানবরচিত ভোগবৃত্তিক, স্বার্থবাদী জুলুমের নীতি রক্ষণশীল মুসলিম সমাজে কোনোভাবেই চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। চিন্তার স্বাধীনতা, জবানের স্বাধীনতার নাম দিয়ে মুক্ত চিন্তা চর্চার নাম দিয়ে ইসলাম বিদ্বেষ, নাস্তিকতা কে রুখে দিতে হবে সমাজ কে বাঁচাতে হলে। নাহলে ভবিষ্যতে এক নৈতিকতা বিবর্জিত বেয়াদব প্রজন্ম অধিকার এর নাম দিয়ে মূল্যবোধ লুণ্ঠনের নষ্ট খেলায় মাতবে।
তাই যেখানেই বেহায়াপনা, অযাচিত নোংরামি, জুলুম কে অধিকার কিংবা স্বাধীনতার ব্যানারে "লিবারেল-সেক্যুলার" মতাদর্শের নাম দিয়ে প্রচার করা হবে, সেখানেই ইসলাম এর আওয়াজ পৌঁছে যাবে। সৃষ্টি যার, বিধান তার। আনুগত্য ও কেবলমাত্র তারই। আল্লাহ তাআলা বলেন,
[২৪:১৯] আন নূর
إِنَّ الَّذينَ يُحِبّونَ أَن تَشيعَ الفاحِشَةُ فِي الَّذينَ آمَنوا لَهُم عَذابٌ أَليمٌ فِي الدُّنيا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعلَمُ وَأَنتُم لا تَعلَمونَ
বায়ান ফাউন্ডেশন:
নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
অদ্ভুত এক প্রজন্মের কাছে আমরা নিরাপদ, উন্নত ভবিষ্যতের জিম্মা দেওয়ার স্বপ্ন দেখছি যাদের কাছে নীতি-নৈতিকতার বিন্দুমাত্র মূল্য নেই।
ইসলামকে যেকোনো মূল্যে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে পারলে এদের প্রশান্তি। যেকোনো মূল্যে দুটো মার্কস আর সার্টিফিকেট অর্জনকেই এরা জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছে।
প্রকাশ্য বেহায়াপনাকে এরা অধিকার ও প্রগতির নামে দিচ্ছে বৈধতা। আমাদের সমাজের ভবিষ্যৎ আমরা এক বিকারগ্রস্থ, স্বার্থপর ভোগবৃত্তিক, চিন্তার দাসত্বে লিপ্ত প্রজন্মের কাছে দিয়ে দিচ্ছি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক। আল্লাহ বলেন,
[১৪:৩] ইব্রাহীম
الَّذينَ يَستَحِبّونَ الحَياةَ الدُّنيا عَلَى الآخِرَةِ وَيَصُدّونَ عَن سَبيلِ اللَّهِ وَيَبغونَها عِوَجًا أُولئِكَ في ضَلالٍ بَعيدٍ
বায়ান ফাউন্ডেশন:
যারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাত থেকে অধিক পছন্দ করে, আর আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং তাতে বক্রতার সন্ধান করে; তারা ঘোরতর ভ্রষ্টতায় রয়েছে।