10/07/2024
মেয়েদের সম্পদ থেকে বঞ্চিত করলে যে শাস্তি হবে>>>>>
মসজিদে জামাতের সাথে অথবা বাসায় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন। হজ করেছেন, প্রতি বছর জাকাতও দেন। সুদ-ঘুষ খান না, মদ পান করেন না। নষ্টামি নোংরামিতে জড়িত নন। ছেলে-মেয়েদের মাদরাসায় পড়িয়েছেন, নিজেকে দ্বীনদার ও পরহেজগার বলে দাবি করেন, কিন্তু জেনে-বুঝে, স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে বোনদের বা মেয়েদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে। সামজে এ রকম নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন, অমানবিক ও বিবেকহীন মুসলিম নামধারী এখন অভাব নেই।
বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো- অনেকেই ইসলামীক স্কলারশিপ হওয়ার পরেও এদের এসব কুৎসিত ও জঘন্য মানসিকতা সম্পন্ন মুসলিম নামধারী কেউ কেউ এতটাই অহংকারী দাম্ভিক যে, তারা ইসলাম ও কোরআন-হাদিসের কোনো ধার ধারেন না। রাষ্ট্রীয় আইন-আদালত মানেন না। তারা বলেন- (কীসের কোরআন, হাদিস, কিসের শরিয়ত? রাখেন মিয়া আপনার শরিয়ত টরিয়ত, কোরআন-হাতিস। সম্পদ আমার, আমি নিজে তা অর্জন করেছি, সুতরাং আমার সম্পদ আমি যাকে ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা তাকে সেভাবেই দিবো। আমি যা বলি সেটাই হবে)।
নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক। ভেবে দেখুন— কতো বড় আল্লাহদ্রোহী এই লোকগুলো। এখানেই শেষ নয়, এসব মুসলিম নামধারী কেউ কেউ এর চেয়েও জঘন্য কথাও বলে থাকেন। তারা বলেন- (বোনদের বা মেয়েদের সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে, ছেলেদের নামে লিখে দিয়ে যদি আমাকে জাহান্নামে যেতে হয়— আমি জাহানামেই যাব, এতে আমার কোনো সমস্যা নেই)
কী জঘন্য কথা ও কতো বড় স্পর্ধা। আফসোস! শত আফসোস ও করুণা আমাদের এসব নিরীহ মুসলিম নামধারী জন্য— যারা পার্থিব জগতের এই সামান্য সম্পদ থেকে মেয়েদের বঞ্চিত করে জাহান্নামে যেতে চায়। অথচ তারা জানেন না, জাহান্নাম কতো ভয়ঙ্কর। কতো কঠিন ও ভয়াবহ আগুনের নির্মম এক শাস্তির জায়গা।
ধর্মের খোলস পরা এসব বকধার্মিক জাহান্নামের লেলিহান শিখা। তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, জাহান্নামের তীব্র কঠিন আজাব।
ছলেবেল, কলে-কৌশলে ও বোনদরে প্রাপ্য সম্পদ থেকে তাদের বঞ্চিতকারী এসব ভাইদের ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলছেনে, ‘যে ব্যক্তি কারো উত্তরাধকিার সম্পত্তি গ্রাস করবে, অন্য র্বণনা মতে যে ব্যক্তি কারো উত্তরাধকিারী সম্পত্তি নিয়ে পলায়ন করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতরে অংশ থেকে বঞ্চিত করবনে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : )
বোনের সম্পত্তিকে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমা আখ্যা দেয়া হয়েছে এবং সুষ্ঠুভাবে বুঝিয়ে দেওয়া জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তাতে চিরবাসী হবে এবং এটা বিরাট সাফল্য।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৩)
এরকম মুসলমানের কবরটা গোরস্থানে নয়, শ্মশানে হওয়া উচিত। কারণ, আল্লাহর কোরআনের আইন হলো যে— মেয়েদের (সম্পদ) দিতে হবে। আর হিন্দু ধর্মের আইন হলো, মেয়েরা পাবে না। তো আপনার যখন কোরআনের আইন পছন্দ হলো না, হিন্দুদের আইন পছন্দ হলো— তখন আপনার স্থান আর মুসলমানদের গোরস্থানে হওয়া উচিত না, শ্মশানে হওয়া উচিত। এখানে সমস্যা হলো- ওই ভাই জানেন না যে, মদ খাওয়া যতটুকু হারাম— তার চেয়ে একশ কোটি গুণ বেশি হারাম হলো- কাউকে হক থেকে বঞ্চিত করা।
এসব জালেমদের সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত জমি দখল করবে কিয়ামতের দিনে তার গলায় সে জমি ঝুলিয়ে দেয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬১০)