মানব-ধর্মশাস্ত্র

মানব-ধর্মশাস্ত্র ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়।।

সঞ্জয় উবাচদৃষ্ট্বা তু পান্ডবানীকং বূঢ়ং দুর্যোধনস্তদা ।আচার্যমুপসঙ্গম্য   রাজা      বচনমব্রবীৎ ।। (অ.-১/শ্লোক-২)সরলার্থঃ ...
03/05/2026

সঞ্জয় উবাচ

দৃষ্ট্বা তু পান্ডবানীকং বূঢ়ং দুর্যোধনস্তদা ।
আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ ।। (অ.-১/শ্লোক-২)

সরলার্থঃ সেই সময় রাজা দুর্যোধন ব্যূহরচনা যুক্ত পাণ্ডবগণের সেনাকে দেখে দ্রোণাচার্য এর কাছে গিয়ে এই কথা বললেন-

দ্বৈতের আচরণই `দ্রোণাচার্য‘ । যখন অনুভব হয় যে পরমাত্মা থেকে আমরা পৃথক্ ( একেই বলে দ্বৈতবোধ) তখনই তাঁকে লাভ করার জন্য ব্যাকুলতা জেগে ওঠে, তখনই আমরা গুরুর খোঁজে বেরিয়ে পড়ি । দুই প্রবৃত্তির মধ্যে একেই প্রাথমিক গুরু বলা যেতে পারে, যদিও পরে সদ্গুরু যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ হবেন, যিনি যোগের পূর্ণস্থিতি প্রাপ্ত মহাপুরুষ ।

রাজা দুর্যোধন আচার্যর কাছে যান । মোহরুপ দুর্যোধন । মোহই সকল ব্যাধির মূল ও রাজা । দুর্যোধন – দুর অর্থাৎ দূষিত, যো ধন অর্থাৎ সেই ধন । আত্মিক সম্পত্তি স্থির সম্পত্তি । এতে যে আবিলতা সৃষ্টি করে, তা মোহ । এই মোহ প্রকৃতির দিকে আকৃষ্ট করে ও প্রকৃত জ্ঞানের জন্য প্রেরণা প্রদান করে । মোহ আছে বলেই জানার প্রশ্ন আছে, অন্যথা সকলই পূর্ণ ।

#শ্রীকৃষ্ণ, #ভগবান, #হরেকৃষ্ণ, #হরে, #হরি, #ভগবদগীতা, #গীতা, #মানবধর্মশাস্ত্র, #ধর্ম, #শ্রীমদভগবদগীতা

02/05/2026

#ভাগবদগীতা, #গীতা

মমৈবাংশো জীবলোকে জীবভুত: সনাতন: । মন: ষষ্ঠানীন্দ্রিয়াণি প্রকৃতিস্থানি কর্ষতি ।। ১৫/৭।।সকল মানব ইশ্বরের সন্তান। তাহলে এত ...
02/05/2026

মমৈবাংশো জীবলোকে জীবভুত: সনাতন: ।
মন: ষষ্ঠানীন্দ্রিয়াণি প্রকৃতিস্থানি কর্ষতি ।। ১৫/৭।।

সকল মানব ইশ্বরের সন্তান।

তাহলে এত মতবাদ কেন ? #শ্রীকৃষ্ণ, #গীতা, #হরেকৃষ্ণ, #মানব, #ভগবান

ধৃতরাষ্ট্র উবাচ ধর্মক্ষেত্রে করুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ।                                                      মামকাঃ পা...
02/05/2026

ধৃতরাষ্ট্র উবাচ

ধর্মক্ষেত্রে করুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ।
মামকাঃ পান্ডবা শ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয় ।।(অধ্যায়-১ শ্লোক-১)।।

সরলার্থঃ ধৃতরাষ্ট্র জিজ্ঞাসা করলেন- হে সঞ্জয়! ধর্মক্ষেত্রে, কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধার্থে সমবেত হয়ে আমার এবং পাণ্ডুপুত্রগণ কি করল ?

অজ্ঞানরুপ ধৃতরাষ্ট্র এবং সংযমরুপ সঞ্জয়। অজ্ঞান মনের অন্তরালে থাকে। অজ্ঞানাবৃত মন ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ ; কিন্তু সংযমরুপ সঞ্জয়ের মাধ্যমে তিনি দেখেন ও শোনেন। ধৃতরাষ্ট্র জানেন যে পরমাত্মাই একমাত্র সত্য, পুনশ্চ যতক্ষণ এর থেকে উৎপন্ন মোহরুপ দুর্যোধন জীবিত থাকে, ততক্ষণ এর দৃষ্টি সর্বদা কৌরবগণের উপরেই থাকে অর্থাৎ বিকারের উপরেই থাকে ।

শরীর একটি ক্ষেত্র । যখন হৃদয়-দেশে দৈবী সম্পত্তির বাহুল্য ঘটে , তখন এই শরীর ধর্মক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং যখন এতে আসুরিক সম্পত্তির বাহ্রল্য ঘটে, তখন এই শরীর কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়। `কুরু‘ অর্থাৎ কর- এই শব্দ আদেশাত্মক। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন – ``প্রকৃতিজাত তিনটি গুনের বশীভূত হয়েই মানুষ কর্ম করে।“ সে ক্ষণমাত্রও কর্ম না করে থাকতে পারে না, গুনত্রয় তাকে দিয়ে করিয়ে নেয়। ঘুমন্ত অবস্থাতেও কর্ম বন্ধ হয় না, সেটি সুস্থ দেহের আবশ্যক খোরাক মাত্র।

এই তিন গুণ মানুষকে দেবতা থেকে শুরু করে কীটপর্যন্ত দেহের বন্ধেনেই আবদ্ধ করে । যতক্ষণ প্রকৃতি ও প্রকৃতিজাত গুণ জীবিত, ততক্ষণ `কুরু“সক্রিয় থাকবে। অতএব জন্ম-মৃত্যুময় এই ক্ষেত্র, বিকারযুক্ত এই ক্ষেত্রই `কুরুক্ষেত্র“ এবং পরমধর্ম পরমাত্মাতে প্রবেশ করতে পারে যে পুণ্যময় প্রবৃত্তি সমূহের ক্ষেত্রই `ধর্মক্ষেত্র ।

পুরাতত্ত্বাবিদ্ পাঞ্জাবে, কাশী – প্রয়াগের মধ্যে এবং অন্যান্য বহু স্থানে কুরুক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থান অনুসন্ধান কার্যে রত আছেন, কিন্তু গীতাকার স্বয়ং বলেছেন, যে ক্ষেত্রে এই যুদ্ধ হয়েছিল সেই ক্ষেত্রটি কোথায়। `ইদং শরীরং কৌন্তেয় ক্ষেত্রমিত্যভিধীয়তে ।‘ (অ. ১৩/১) – “ অর্জুন ! এই দেহই ক্ষেত্র এবং যিনি একে জানেন এবং আয়ত্তের অধীনে আনতে পারেন তিনিই ক্ষেত্রজ্ঞ ।“ এরপর তিনি ক্ষেত্রের বিস্তার সম্বন্ধে বললেন, যাতে দশটি ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার পাঁচটি বিকার ও তিনটি গুণের বর্ণনা আছে । এই দেহই ক্ষেত্র, এক মল্লভূমি । এর মধ্যে যুদ্ধাভিলাষী প্রবৃত্তি দুটি - `দৈব সম্পদ্` ও `আসুরী সম্পদ্`, `পান্ডুর সন্তানগণ` ও `ধৃতরাষ্ট্রের সন্তানগণ`, সজাতীয় ও বিজাতীয় প্রবৃত্তিসমূহ ।

তত্ত্বদর্শী মহাপুরুষের শরণাগত হলে এই দু্ই প্রবৃত্তির মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, একেই ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞের সংঘর্ষ ও প্রকৃত যুদ্ধ বলা হয়। ইতিহাসের পাতা বিশ্বযুদ্ধের কাহিনীতে পরিপূর্ণ ; কিন্তু সেই সব যুদ্ধে যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, তাঁরা কেউই শাশ্বত বিজয়ী হননি, এর মধ্যে প্রতিহিংসা ছিল । প্রকৃতিতে শান্ত করে প্রকৃতির ঊদ্ধের সত্তার দিগদর্শন করা এবং তাতে প্রবেশ করাই প্রকৃত বিজয় । এই হল শ্বাশত বিজয় যার পশ্চাতে পরাজয় নেই । একেই বলে মুক্তি, যার পর জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন নেই। এইভাবে অজ্ঞানে আবৃত্ত প্রত্যেক মন সংযমের দ্বারা জানতে পারে যে ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞের যুদ্ধের পরিণাম কি ? যার যেমন সংযমবৃত্তি প্রাপ্ত হয়, তেমনি তাঁর দৃষ্টি খুলতে থাকে ।

#শ্রীকৃষ্ণ, #ভগবান, #রাধারাণী #গীতা

29/04/2026

বৈদিক প্রকিয়ায় জল শুদ্ধিকরণ মন্ত্র:

ওঁ গঙ্গে চ যমুনা চৈব গদাবরী স্বরস্বতী।
নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু।।

দ্বাদশ অঙ্গে তীলক  ধারণললাটে- শ্রী কেশবায় নমঃকণ্ঠে- শ্রী গোবিন্দায় নমঃবক্ষে- শ্রী মাধবায় নমঃউদর- শ্রী নারায়নায় নমঃবাম স্...
21/04/2026

দ্বাদশ অঙ্গে তীলক ধারণ
ললাটে- শ্রী কেশবায় নমঃ
কণ্ঠে- শ্রী গোবিন্দায় নমঃ
বক্ষে- শ্রী মাধবায় নমঃ
উদর- শ্রী নারায়নায় নমঃ
বাম স্কন্ধে- শ্রী ঋষীকেশায় নমঃ
বাম বাহুতে- শ্রী শ্রীধরায় নমঃ
বাম কুক্ষিতে -শ্রী বামনায় নমঃ
ডান স্কন্ধে- শ্রী ত্রিবিক্রমায় নমঃ
ডান বাহুতে- শ্রী মধুসূদনায় নমঃ
ডান কুক্ষিতে- শ্রী বিষ্ণুবে নমঃ
পৃষ্ঠে -শ্রী পদ্মনাভায় নমঃ
কটিতে -শ্রী দামোদরায় নমঃ

এরপর তুলসী প্রণাম মন্ত্র
ওঁ বৃন্দায়ে তুলসী দেব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ
কৃষ্ণভক্তি পদে দেবী সত্যবত্যৈ নমো নম:

13/04/2026

মঙ্গলাচরণ:-

ওঁ তৎ সৎ অর্থ শ্রীমদ্ভগবদগীতা প্রায়াম্ভম শ্রী গোপালকৃষ্ণায় নম:

ওঁ অস্য শ্রীমদ্ভগবদ্গীতামালামন্ত্রস্য শ্রীভগবান্ বেদব্যাসঃ ঋষিঃ অনুষ্টুপ্ ছন্দঃ শ্রীকৃষ্ণঃ পরমাত্মা দেবতা অশোচ্যানন্বশোচস্ত্বং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাষসে ইতি বীজং, সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং ব্রজেতি শক্তিঃ, অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ইতি কীলকম্৷ নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ ইত্যঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ৷ ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ ইতি তর্জনীভ্যাং নমঃ৷ অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য এব চ ইতি মধ্যমাভ্যাং নমঃ। নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ ইত্যনামিকাভ্যাং নমঃ৷ পশ্য মে পার্থ রূপাণি শতশোহথ সহস্রশঃ ইতি কনিষ্ঠাভ্যাং নমঃ। নানাবিধানি দিব্যানি নানা বর্ণাকৃতীনি চ ইতি করতল পৃষ্ঠাভ্যাং নমঃ ইতি করন্যাসঃ৷

নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ ইতি হৃদয়ায় নমঃ৷
ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ ইতি শিরসে স্বাহা৷
অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য এব চ ইতি শিখায়ৈ বষট্।
নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ ইতি কবচায় হুম্ ৷
পশ্য মে পার্থ রূপাণি শতশোহথ সহস্রশঃ ইতি নেত্রত্রয়ায় বৌষট্।
নানাবিধানি দিব্যানি নানাবর্ণাকৃতীনি চেতি অস্ত্রায় ফট্৷ ইতি অঙ্গন্যাসঃ৷
শ্রীকৃষ্ণপ্রীত্যর্থং পাঠে বিনিয়োগঃ৷

02/03/2026

ভগবানের ৬টি গুণ রয়েছে যাকে ভগ বলে । এই গুণ গুলো কি কি

গীতার মাহাত্ম্য-৭   একং শাস্ত্রং দেবকীপুত্র গীতম, একো দেবো দেবকীপুত্র এব । একো মন্ত্রস্তস্য নামানি যানি, কর্মাপ্যেকং তস্...
26/02/2026

গীতার মাহাত্ম্য-৭

একং শাস্ত্রং দেবকীপুত্র গীতম,
একো দেবো দেবকীপুত্র এব ।
একো মন্ত্রস্তস্য নামানি যানি,
কর্মাপ্যেকং তস্য দেবস্য সেবা ।।

সরলার্থ: এই শ্রীমদ্ভগবদগীতা মাতা দেবকীর পুত্র শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা গীত হয়েছে, আর শ্রীকৃষ্ণই এক এবং অদ্বিতীয় পরমেশ্বর ভগবান। তাঁর ‍দিব্যনামই সমস্ত মন্ত্রের সারস্বরুপ পরম মন্ত্র এবং তাঁর শ্রীপাদপদ্মে অর্পিত সেবাই ভগবদ-সেবা বা জীবের একমাত্র কর্ম।
#শ্রীকৃষ্ণ #ভগবান #হরেকৃষ্ণ #গীতা #ভগবতগীতা

গীতা মাহাত্ম্য-৬সর্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দন:।পার্থো বৎস: সুধীর্ভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ।।সরলার্থ: সমস্ত উপনিষদে...
25/02/2026

গীতা মাহাত্ম্য-৬
সর্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দন:।
পার্থো বৎস: সুধীর্ভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ।।

সরলার্থ: সমস্ত উপনিষদের সারতিসার এই গীতোপনিষদ, ভগবদগীতা ঠিক একটি গাভীর মতো এবং রাখাল বালকরুপে প্রসিদ্ধ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই গাভীকে দোহন করেছেন। অর্জুন যেন ঠিক গোবৎসের মতো এবং জ্ঞানীগুণী ও শুদ্ধ ভক্তেরা ভগবদগীতার সেই অমৃতময় দুগ্ধ পান করে থাকেন।
#শ্রীকৃষ্ণ #গীতা #হরেকৃষ্ণ

Address

Dinajpur
5210

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মানব-ধর্মশাস্ত্র posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category