Md.Yousuf Ali

Md.Yousuf Ali Welcome to Yousuf Ali Official Page

“তা" চৌদ্দ প্রকার تَاءِ مَصْدَرِيَّة, تَاءِ عِوَضِيَّة ,تَاءِ مُبَالَغَة, تَاءِ تَأنِيث , تَاءِ تَذْكِير, تَاءِ مُسْتَقِ...
03/03/2026

“তা" চৌদ্দ প্রকার
تَاءِ مَصْدَرِيَّة, تَاءِ عِوَضِيَّة ,تَاءِ مُبَالَغَة, تَاءِ تَأنِيث , تَاءِ تَذْكِير, تَاءِ مُسْتَقِلَّة , تَاءِ جَمْع, تَاءِ كَثْرَة, تَاءِ قَصَر, تَاءِ مُتَكَلِّم, تَاءِ وَحْدَت , تَاءِ مَادِّيَّة , تَاءِ عَلَامَة, تَاءِ خِطَاب-
১. تَاءِ مَصْدَرِيَّة : যা اِسْم مُشْتَق এর শেষে বা اِسْم جَامِد এর শেষে ياء مَصْدَرِيَّة এর সাথে যুক্ত হয়ে তাতে مَصْدَر এর অর্থ সৃষ্টি করে। যেমন- مَفْعُولٌ থেকে مَفْعُولِيَّةٌ হওয়া, رَجُلٌ থেকে رَجُلِيَّةٌ (পুরুষ) হওয়া।
২. تَاءِ عِوَضِيَّة : যা কোন অক্ষরের পরিবর্তে শব্দের শেষে সংযুক্ত হয়। যেমন- وَعَدَ থেকে عِدَةٌ হয়েছে, وَزْنٌ থেকে زَنَةٌ হয়েছে, وَصْفٌ থেকে صِفَةٌ হয়েছে।
৩. تَاءِ جَمْع : যা جَمَع হওয়া প্রকাশ করে।
যেমন- مَلَكٌ থেকে مَلَائِكَةٌ হয়েছে, طَالِبٌ থেকে طَلَبَةٌ হয়েছে, وَارِثٌ থেকে وَرَثَةٌ হয়েছে।
৪. تَاءِ تَأنِيث : যা مُذَكَّر কে مُؤَنَّث এ পরিণত করে।
যেমন- قَائِمٌ থেকে قَائِمَةٌ
৫. تَاءِ تَذْكِير : এমন مُذَكَّر যার مَعْدُود-এর সাথে সংযুক্ত হয়। যেমন- ثَلَاثَةُ اَيَّامٍ
৬. تَاءِ مُسْتَقِلَّة : যা اِسْمُ مُشْتَق কে اِسْمِ جَامِد এ পরিণত করে। যেমন- ذَبِيْحَةٌ, عَاقِبَةٌ, فَاتِحَةٌ, مُقَدَّمَةٌ
৭. تَاءِ مُبَالَغَة : যা اِسْم এ مُبَالَغَة এর অর্থ সৃষ্টি করে। যেমন- عَلَّامَةٌ, فَهَّامَةٌ, كَافِيَةٌ
৮. تَاءِ كَثْرَة : যা শব্দের মূল অর্থে প্রচুরতা সৃষ্টিকরণে ব্যবহৃত হয়। যেমন- مَدْرَسَةٌ, مَزْرَعَةٌ, مَقْبَرَةٌ
৯. تَاءِ قَصَر : যা একটি বাক্যকে এক শব্দে প্রকাশ। বিসমিল্লাহকে بَسْمَلَةٌ, اَلْحَمْدُ للهِ কে حَمْدَلَةْ বলা।
১০. تَاءِ مُتَكَلِّم : যা مُتَكَلِّم বুঝায়। যেমন- فَعَلْتُ
১১. تَاءِ خِطَاب : যা مُخَاطَب বুঝায়। যেমন- فَعَلْتَ
১২. تَاءِ مَادِّيَّة : যা مَادَّة তথা মূল অক্ষরে আসে।
যেমন- قَتْلُ
১২. تَاءِ عَلَامَة : যা عَلَامَة বা নিদর্শন বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন- اِفْتِعَال, اِسْتِفْعَال
১৩. تَاءِ وَحْدَت : যা স্বীয় مَدْخُولকে وَاحِد বুঝায়। যেমন- كَلِمَةٌ একটি শব্দ, نَفْخَةٌ একটি ফুঁ।
বি:দ্র: تَاءِ خِطَابْ مُؤنَّث এরপর ضَمِيْرِ مُنْفَصِل যুক্ত হলে একটি ياء যুক্ত হয়।
যেমন- রাসূল (স.) বলেন- لَئِنْ كُنْتِ قَرَأتِيْهِ لَقَدْ وَجَدْتِيْهِ

প্রশ্নে প্রশ্নে تَاء “তা” এর প্রকারসমূহ
১. প্রশ্ন: تَاء কত প্রকার?
উত্তর: ১৪ প্রকার
২. প্রশ্ন: تَاء-এর প্রকারসমূহ লিখো।
তা ১৪ প্রকার
تَاءِ مَصْدَرِيَّة, تَاءِ عِوَضِيَّة ,تَاءِ مُبَالَغَة, تَاءِ تَأنِيث , تَاءِ تَذْكِير, تَاءِ مُسْتَقِلَّة , تَاءِ جَمْع, تَاءِ كَثْرَة, تَاءِ قَصَر, تَاءِ مُتَكَلِّم, تَاءِ وَحْدَت , تَاءِ مَادِّيَّة , تَاءِ عَلَامَة, تَاءِ خِطَاب-
৩. প্রশ্ন: تَاءِ مَصْدَرِيَّة কাকে বলে?
উত্তর: যা اِسْم مُشْتَق এর শেষে বা اِسْم جَامِد এর শেষে ياء مَصْدَرِيَّة এর সাথে যুক্ত হয়ে তাতে مَصْدَر এর অর্থ সৃষ্টি করে।
৪. প্রশ্ন: تَاءِ مَصْدَرِيَّة এর উদাহরণ দাও।
যেমন- مَفْعُولٌ থেকে مَفْعُولِيَّةٌ হওয়া, رَجُلٌ থেকে رَجُلِيَّةٌ (পুরুষ) হওয়া।
৫. প্রশ্ন: تَاءِ عِوَضِيَّة কাকে বলে?
উত্তর : যা কোন অক্ষরের পরিবর্তে শব্দের শেষে সংযুক্ত হয়।
৬. প্রশ্ন: تَاءِ عِوَضِيَّة এর উদাহরণ দাও।
যেমন- وَعَدَ থেকে عِدَةٌ হয়েছে, وَزْنٌ থেকে زَنَةٌ হয়েছে, وَصْفٌ থেকে صِفَةٌ হয়েছে।
৭. প্রশ্ন: تَاءِ جَمْع কাকে বলে?
উত্তর: যা جَمَع হওয়া প্রকাশ করে।
৮. প্রশ্ন: تَاءِ جَمْع এর উদাহরণ দাও।
যেমন- مَلَكٌ থেকে مَلَائِكَةٌ হয়েছে, طَالِبٌ থেকে طَلَبَةٌহয়েছে, وَارِثٌ থেকে وَرَثَةٌ হয়েছে।
৯. প্রশ্ন: تَاءِ تَأنِيث কাকে বলে?
উত্তর: যা مُذَكَّر কে مُؤَنَّث এ পরিণত করে।
১০. প্রশ্ন: تَاءِ تَأنِيث এর উদাহরণ দাও।
যেমন- قَائِمٌ থেকে قَائِمَةٌ
১১. প্রশ্ন: تَاءِ تَذْكِير কাকে বলে?
উত্তর: এমন مُذَكَّر যার مَعْدُود-এর সাথে সংযুক্ত হয়।
১২. প্রশ্ন: تَاءِ تَذْكِير এর উদাহরণ দাও।
যেমন- ثَلَاثَةُ اَيَّامٍ
১৩. প্রশ্ন: تَاءِ مُسْتَقِلَّة কাকে বলে?
উত্তর: যা اِسْمُ مُشْتَق কে اِسْمِ جَامِد এ পরিণত করে।
১৪. প্রশ্ন: تَاءِ مُسْتَقِلَّة এর উদাহরণ দাও।
যেমন- ذَبِيْحَةٌ, عَاقِبَةٌ, فَاتِحَةٌ, مُقَدَّمَةٌ
১৫. প্রশ্ন: تَاءِ مُبَالَغَة কাকে বলে?
উত্তর: যা اِسْم এ مُبَالَغَة এর অর্থ সৃষ্টি করে।
১৬. প্রশ্ন: تَاءِ مُبَالَغَة এর উদাহরণ দাও।
যেমন- عَلَّامَةٌ, فَهَّامَةٌ, كَافِيَةٌ
১৭. প্রশ্ন: تَاءِ كَثْرَة কাকে বলে?
উত্তর: যা শব্দের মূল অর্থে প্রচুরতা সৃষ্টিকরণে ব্যবহৃত হয়।
১৮. প্রশ্ন: تَاءِ كَثْرَة এর উদাহরণ দাও।
যেমন- مَدْرَسَةٌ, مَزْرَعَةٌ, مَقْبَرَةٌ
১৯. প্রশ্ন: تَاءِ قَصَر কাকে বলে?
উত্তর: যা একটি বাক্যকে এক শব্দে প্রকাশ।
২০. প্রশ্ন: تَاءِ قَصَر এর উদাহরণ দাও।
যেমন- বিসমিল্লাহকে بَسْمَلَةٌ, اَلْحَمْدُ للهِ কে حَمْدَلَةْ বলা।
২১. প্রশ্ন: تَاءِ مُتَكَلِّم কাকে বলে?
উত্তর: যা مُتَكَلِّم বুঝায়।
২২. প্রশ্ন: تَاءِ مُتَكَلِّم এর উদাহরণ দাও।
যেমন- فَعَلْتُ
২৩. প্রশ্ন: تَاءِ خِطَاب কাকে বলে?
উত্তর: যা مُخَاطَب বুঝায়।
২৪. প্রশ্ন: تَاءِ خِطَاب এর উদাহরণ দাও।
যেমন- فَعَلْتَ
বি:দ্র: تَاءِ خِطَابْ مُؤنَّث এরপর ضَمِيْرِ مُنْفَصِل যুক্ত হলে একটি ياء যুক্ত হয়।
যেমন- রাসূল (স.) বলেন- لَئِنْ كُنْتِ قَرَأتِيْهِ لَقَدْ وَجَدْتِيْهِ
২৫. প্রশ্ন: تَاءِ مَادِّيَّة কাকে বলে?
উত্তর: যা مَادَّة তথা মূল অক্ষরে আসে।
২৬. প্রশ্ন: تَاءِ مَادِّيَّة এর উদাহরণ দাও।
যেমন- قَتْلُ
২৭. প্রশ্ন: تَاءِ عَلَامَة কাকে বলে?
উত্তর: যা عَلَامَة বা নিদর্শন বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
২৮. প্রশ্ন: تَاءِ عَلَامَة এর উদাহরণ দাও।
যেমন- اِفْتِعَال, اِسْتِفْعَال
২৯. প্রশ্ন: تَاءِ وَحْدَت কাকে বলে?
উত্তর: যা স্বীয় مَدْخُول কে وَاحِد বুঝায়।
৩০. প্রশ্ন: تَاءِ وَحْدَت এর উদাহরণ দাও।
যেমন- كَلِمَةٌ একটি শব্দ, نَفْخَةٌ একটি ফুঁ।

28/02/2026

🔴➡️রিযিকের বিভিন্ন রূপ
আয়াত:
فَابْتَغُوا عِندَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ ۖ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
➤ “তোমরা আল্লাহর কাছে রিযিক অনুসন্ধান কর, তাঁরই ইবাদত কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।”
— (সূরা আল-আনকাবূত: ১৭)
রিযিকের কিছু উদাহরণ:
الحب – ভালোবাসা
الأطفال – সন্তান-সন্ততি
الزوج – জীবনসঙ্গী
العائلة – পরিবার
الأمان – নিরাপত্তা
المال – অর্থ-সম্পদ
الأخلاق – উত্তম চরিত্র
القبول – গ্রহণযোগ্যতা (মানুষের কাছে সম্মান/কবুলিয়ত)
العلم – জ্ঞান
الأكل – খাদ্য
العافية – সুস্থতা
الأصدقاء – বন্ধু-বান্ধব
النضج – পরিপক্বতা/প্রজ্ঞা
الجمال – সৌন্দর্য
الهداية – হিদায়াত
الوظيفة – চাকরি/কর্মসংস্থান
নিচের উক্তি:
انظر إلى وفرة الأرزاق في حياتك واحمد الله عليها
➤ তোমার জীবনে রিযিকের প্রাচুর্যের দিকে তাকাও এবং এজন্য আল্লাহর প্রশংসা কর।

✍️ শাকিল আলী
অধ্যয়নরত চরবাগডাঙ্গা ইসলামিয়া মাদ্রাসা।

17/02/2026

যথেষ্ট লিখেছেন ডক্টর খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ)।
খারিজিরা আলী ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমার) মতো সাহাবায়েকেরামদের কেউ হত্যা যোগ্য অপরাধি বা (কাফের) মনে করত, নাউজুবিল্লাহ।
এখনো এমন গুণাবলী মানুষের অভাব নাই তাই সাবধান।
******
▌খারেজীদের কিছু বৈশিষ্ট্য ও আলামত
━━━━━━━━━━━━━━━━
❑ তারা হবে নবীন, তরুণ ও নির্বোধ, অথচ নিজেদেরকে অনেক জ্ঞানী ভাববে।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৬১১, ৫০৫৭, ৬৯৩৪; মুসলিম হা/ ২৪৬২, ২৪৬৯ ]

❑ তারা সর্বোত্তম (অর্থাৎ খুব ভালো ভালো) কথা বলবে, কিন্ত সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ... করবে।
— [ সূত্রঃ মুসলিম হা/২৪৬২; আবুদাঊদ হা/৪৭৬৭; আহমাদ হা/২০৪৪৬ ]

❑ বাহ্যিকভাবে সুন্দর কথা বলবে অর্থাৎ তাদের কথাগুলো সঠিক মনে হবে।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৫০৫৭ ]

❑ মুখে ঈমানের কথা বললেও তাদের অন্তরে ঈমানের লেশমাত্র থাকবে না।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/৩৪১৫ ]

❑ তাদের ঈমান ও ছালাত তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না।
— [ সূত্রঃ মুসলিম হা/২৪৬২ ]

❑ পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ার পর এরা আর ঈমানের দিকে ফিরে আসবে না। যেমন তীর আর ধনুকের ছিলাতে ফিরে আসে না।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ২৪৬২ ]

❑ তারা হবে ইবাদতে অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী অর্থাৎ ইবাদাতে তারা আগে আগে থাকবে, কিন্তু নিজেদের ইবাদতের জন্য হবে অহংকারী। লোকেরা তাদের ইবাদত দেখে অবাক হবে।
— [ সূত্রঃ আহমাদ হা/১২৯৭২; ইবনু আবী আছিম, আস-সুন্নাহ হা/৯৪৫ ]

❑ তাদের নিদর্শন হ’ল, তাদের মাথা থাকবে ন্যাড়া।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/৩৬১০; মুসলিম হা/২৪৫১; ইবনু মাজাহ হা/১৫৭ ]

❑ তারা মুসলমানদের হত্যা করবে আর কাফের, মুশরিক ও মূর্তিপূজারীদের ছেড়ে দিবে।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৬১০; মুসলিম হা/ ২৪৫১ ]

❑ তারা দ্বীনদারিতার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করবে, এমনকি দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৬১০; মুসলিম হা/ ২৪৫১; আহমাদ হা/ ৭০৩৮; ইবনু আবী আছিম, আস-সুন্নাহ, হা/ ৯২৯-৯৩০ ]

❑ তারা মুসলিম শাসকদের নিন্দা করে, অপবাদ দেয় এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট ও কাফির বলে দাবী করে। যেমনটি খুওয়াইছারা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে করেছিল।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৬১০; মুসলিম হা/ ১০৬৪; মিশকাত হা/ ৫৮৯৪ ]

❑ তারা মানুষকে কিতাবুল্লাহর দিকে আহবান করবে। কিন্তু সে বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই থাকবে না। অর্থাৎ কিতাবুল্লাহ দিয়ে দলীল গ্রহণ করবে। কিন্তু না বুঝার কারণে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুল করবে।
— [ সূত্রঃ আবুদাঊদ হা/ ৪৭৬৫; আহমাদ হা/ ১৩৩৩৮; মিশকাত হা/ ৩৫৪৩ ]

❑ তারা ইবাদতের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করবে।
— [ সূত্রঃ আহমাদ হা/১২৯৭২; বায়হাক্বী, মাজমা যাওয়ায়েদ ২২৯/৬ ]

❑ তারা সর্বোত্তম দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। যেমন আলী ও মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে করেছিল।
— [ সূত্রঃ আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ৭/৩০৫ ]

❑ তারা তাদের নিহতদেরকে জান্নাতী মনে করে। যেমন তারা নাহ্রাওয়ানের যুদ্ধের ময়দানে পরস্পরকে ‘জান্নাতমুখী’ ‘জান্নাতমুখী’ বলে ডাকছিল’।
— [ সূত্রঃ আল-বিদায়া ১০/৫৮৭ ]

❑ ওরা এমন জাতি যাদের অন্তরে রয়েছে বক্রতা।
— [ সূরা আলে-ইমরান ১০৬ নং আয়াতের তাফসীর, মুসনাদে আহমাদ হা/২২৩১৩ ]

❑ মতভেদ ও মতানৈক্যের সময় এদের আবির্ভাব হবে।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৬৯৩৩ ]

❑ মক্কা থেকে পূর্বের কোন এলাকা থেকে দলটির আবির্ভাব হবে।
— [ সূত্রঃ সহীহ আল বুখারী, হা/ ৭১২৩ ]

❑ যেসব আয়াত কাফেরের জন্য প্রযোজ্য তারা সেগুলিকে মুমিনদের উপর প্রয়োগ করবে।
— [ সূত্রঃ আবুদাঊদ হা/৪৭৬৯ ]

❑ তাদের আগমন ঘটবে শেষ যামানায়।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/৩৪১৫ ]

❑ তারাও কুরআন ও সুন্নাহ দিয়েই কথা বলবে কিন্তু অপব্যাখ্যা করবে।
— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৪১৫ ]

❑ কুরআন ও সুন্নাহ দিয়েই কথা বলবে কিন্তু অপব্যাখ্যা করবে: ফলে তারা আলেমদের সাথে সবচেয়ে বেশী শত্রুতা পোষণকারী হবে। প্রতিপক্ষের বিরোধিতা করতে গিয়ে জাল হাদীছ পর্যন্ত রচনা করে।
— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আক্বীদাতান ওয়া ফিকরান ৫৪-৬৮ পৃঃ ]

❑ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের নামে এ সম্পর্কিত শরী‘আতের দলীলগুলিকে শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে।
— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আউয়ালুল ফিরাক্ব ফী তারীখিল ইসলাম পৃঃ ৩৭-৩৮ ও ১৪৬ ]

❑ ক্বুরআনুল কারিম থেকে তারা কেবল ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত আয়াতগুলি দিয়ে দলীল গ্রহণ করে। কিন্তু ভাল কাজের পুরস্কার বা উৎসাহমূলক আয়াতগুলিকে পরিত্যাগ করে।
— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আউয়ালুল ফিরাক্ব ফী তারীখিল ইসলাম পৃঃ ৩৭-৩৮ ও ১৪৬ ]

❑ তারা আলেমগণকে মূল্যায়ন করবে না। নিজেদেরকেই বড় জ্ঞানী মনে করবে। যেমন খারেজীরা নিজেদেরকে হযরত আলী রাঃ, হযরত ইবনু আববাস রাঃ সহ সকল ছাহাবী (রাঃ)-এর চেয়ে জ্ঞানী দাবী করেছিল।
— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আউয়ালুল ফিরাক্ব ফী তারীখিল ইসলাম পৃঃ ৩৭-৩৮ ও ১৪৬ ]

❑ ওরা হুকুম লাগানোর ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে।
— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আউয়ালুল ফিরাক্ব ফী তারীখিল ইসলাম পৃঃ ৩৭-৩৮ ও ১৪৬ ]

❑ তারাই সর্বপ্রথম মুসলিমদের জামা‘আত তথা আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামা'আত হ’তে বেরিয়ে গেছে এবং তাদেরকে পাপের কারণে কাফের সাব্যস্ত করেছে।
— [ সূত্রঃ ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৭৯/৩৪৯, ৭/৩ ]

❑ তারা ক্বিয়াস (ধারণা বা অনুমান) ভিত্তিক কাজে বেশী বিশ্বাসী।
— [ সূত্রঃ আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল ১১৬/১ ]

❑ তারা মনে করে যালেম শাসকের শাসন জায়েয নয়।
— [ সূত্রঃ মাকালাতুল ইসলামমিয়্যন ২০৪/১ ]

❑ ওরা মুখে আহলে ইল্মদের তথা মুহাদ্দিসিন ও ফুকাহানে ক্বিরামে ইমামগণের কথার বকওয়ায করে কিন্তু তার মর্মাথ বুঝে না।
— [ সূত্রঃ আশ-শারী‘আহ ২৮ পৃঃ ]

❑ যতবারই তাদের আবির্ভাব হবে, ততবারই তারা ধ্বংস হবে। এভাবে রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) বিশ বার বলেন।
— [ সূত্রঃ ইবনু মাজাহ হা/১৭৪; আরনাঊত্ব ছহীহ বলেছেন, মুসনাদ ৩৯৮/৯ ]

❑ ভূপৃষ্ঠে সর্বদাই খারেজী আক্বীদার লোক থাকবে এবং সর্বশেষ এদের মাঝেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে।
— [ সূত্রঃ ইবনু মাজাহ হা/১৭৪ ]

30/01/2026

শাইখ আবদুর রহমান আস-সে‘দী রহিমাহুল্লাহ বলেন:
গভীর চিন্তা ও পর্যবেক্ষণের পর আমি দেখেছি—
যে যিকিরগুলো বেশি বেশি করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে
কিতাব ও সুন্নাহতে—সেগুলো ছয়টি যিকির।
এই ছয়টি যিকির, যা আমি তোমাকে বলব, তোমার দীর্ঘ লড়াই—দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট, রোগ এবং গুনাহর বিরুদ্ধে— এগুলোই তোমার অগ্রভাগের অস্ত্র ও কার্যকর হাতিয়ার।
১️ প্রথম যিকির: (রাসুলের ওপর সালাত পাঠ) সারাদিন এটাকে আঁকড়ে ধরো। দিনের শেষে দেখবে—তুমি অনেক বেশি সালাত পড়েছ।
২️ দ্বিতীয় যিকির: (বেশি বেশি ইস্তিগফার) যদি আল্লাহ তোমাকে তাওফিক দেন এবং অবসর সময়ে সাহায্য করেন— তুমি যেন বেশি বেশি বলো: “আস্তাগফিরুল্লাহ”।
৩️ তৃতীয় যিকির: (ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম)
এই যিকির বেশি করা প্রায় পরিত্যক্ত সুন্নাহগুলোর একটি, অথচ রাসুল ﷺ আমাদের এটার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাসুল ﷺ বলেছেন:
“আলিয্যু বি ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম”
অর্থ: এটাকে বেশি পড়ো, লেগে থাকো।
রাসুল ﷺ বিশেষভাবে এই দুই নাম উল্লেখ করেছেন, কারণ এতে রয়েছে গভীর রহস্য।
ইয়া যাল-জালাল অর্থ: হে সৌন্দর্য, পরিপূর্ণতা ও মহিমার অধিকারী
ওয়াল-ইকরাম অর্থ: হে দানশীলতা ও অনুগ্রহের অধিকারী
তুমি যদি এর গভীরে যাও, দেখবে—
তুমি একসাথে প্রশংসা করছ এবং চাচ্ছও!
ভাবো—তুমি দিনে শত শত বার আল্লাহকে বলছ:
“ইয়া যাল-জালাল”—নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার ওপর সন্তুষ্ট হবেন।
আর শত শত বার বলছ: “ওয়াল-ইকরাম”—
আল্লাহ তোমার প্রয়োজন জানেন এবং তোমাকে দেবেন।
৪️ চতুর্থ যিকির:
(লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)
এই কথাটি রাসুল ﷺ বহু সাহাবিকে বলেছেন
এবং এটাকে জান্নাতের ভাণ্ডারগুলোর একটি বলেছেন।
তুমি যদি বেশি বেশি এটা পড়ো,
তাহলে আল্লাহর ব্যবস্থাপনায়
অদ্ভুত লুতফ, অনুগ্রহ ও নিয়ামত দেখতে পাবে।
৫️ পঞ্চম যিকির:
এটা আল্লাহর নবী ইউনুস আলাইহিস সালামের দোআ— “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমীন”
এই যিকির দুঃখকে পরাস্ত করে
এবং আনন্দ নিয়ে আসে।
৬️⃣ ষষ্ঠ যিকির:
“সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার”
একটি নিয়ম মনে রাখো:
যিকির, দোআ ও রুকইয়ার উপকার, ফল ও প্রভাব নির্ভর করে—
বারবার করা, লেগে থাকা, পুনরাবৃত্তি এবং গভীর চিন্তার ওপর।
তুমি যত বেশি আল্লাহকে স্মরণ করবে,
তত বেশি আল্লাহর ভালোবাসা পাবে।
তুমি যত বেশি দোআয় অনুরোধ করবে, তত বেশি কবুল হওয়ার দরজা খুলবে।
তুমি যত বেশি শরঈ রুকইয়া পুনরাবৃত্তি করবে, তত বেশি শয়তানকে পরাস্ত করতে পারবে
এবং হিংসার বিষ দূর হবে।
- শাইখ আস-সে‘দী রহিমাহুল্লাহ,
আকিদা, তাওহিদ, আখলাক ও আহকাম শিক্ষা, পৃ. ৪৭।

12/01/2026

ইলম শেখার আগেই মূলত ইলমের আদব শেখা জরুরী। ইমাম ইবনে সিরীন রাহ. (১১০ হি.) বলেন-

كانوا يتعلمون الهدي كما يتعلمون العلم
‘তারা ( সাহাবা-তাবিঈগণ) যেমন ইলম শিক্ষা করতেন তেমনি আচার-আচরণও শিক্ষা করতেন। — (আলজামি লিআখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি', খতীব বাগদাদী ১/৭৯)

হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইরশাদ প্রমাণিত-
لا تَتَعَلَّموا العلمَ لتُبَاهُوا به العلماء، ولا تُمَارُوا به السُّفَهَاء، ولا تَخَيَّروا به المجالس، فمن فعل ذلك فالنار فالنار.
অর্থ : এজন্য ইলম অর্জন করো না যে, তা দ্বারা আলেমের সাথে গর্ব করবে বা মূর্খদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হবে কিংবা মজলিসের অধিকর্তা হবে। যে এমন করবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।
— সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৭৭

অনেক সময় আমরা নিজেও খেয়াল করি না, উস্তাযের সঙ্গে প্রশ্ন বা ইশকাল করার ভঙ্গি কখন যেন মুবাহাত (নিজেকে জাহির করা) কিংবা মুমারাত (বিতর্কের মাধ্যমে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা) রূপ নিয়ে ফেলে। অথচ এই অবিবেচনাপ্রসূত আচরণই হয়ে উঠতে পারে আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ—দুনিয়াতেও, আখিরাতেও।

ইলমের পথে শুধুমাত্র জানার আগ্রহই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন হয় তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবিচার, গভীর সহনশীলতা এবং সুস্পষ্ট আদবের। সব প্রশ্ন সব জায়গায় করা যায় না। কিছু কথা থাকে যা কখনোই উস্তাযকে প্রকাশ্য দরসে জিজ্ঞাসা করা শোভন নয়; সেসব আলোচনা নির্জনে, খাস পরিসরে হওয়াই উত্তম। আবার কিছু কথা থাকে, যা এমন উস্তাযকেই জিজ্ঞাসা করা উচিত, যার সঙ্গে ইতস্ততহীনতা থাকলেও সম্মান, ভাবগম্ভীরতা ও আদবের ভারসাম্য অটুট থাকে।

এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো বুঝতে শেখা—এটাই ইলমের প্রকৃত সৌন্দর্য এবং তালিবে ইলমের প্রকৃত পরিপক্বতা।

তাই ইলম শিখার আগে আদব-কায়দা শিখুন :

ইমাম মালিক(রহিমাহুল্লাহ) বলেন-
" ﺗﻘﻮﻝ ﻟﻲ : ﺍﺫﻫﺐ ﺇﻟﻰ ﺭﺑﻴﻌﺔ ﻓﺘﻌﻠﻢ ﻣﻦ ﺃﺩﺑﻪ ﻗﺒﻞ ﻋﻠﻤﻪ ".
"আমার মা আমাকে বলল (ইমাম)রবীআহর নিকট যাও, এরপর তাঁর থেকে তাঁর ইলম শিক্ষার আগে তাঁর আদব শিখে নাও।"
(তারতিবুল মাদারিক ১/১৩০)
-
ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন-
" ﻃﻠﺒﺖ ﺍﻷﺩﺏ ﺛﻼﺛﻴﻦ ﺳﻨﺔ، ﻭﻃﻠﺒﺖ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺳﻨﺔ، ﻭﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻄﻠﺒﻮﻥ ﺍﻷﺩﺏ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ ".
"আমি ৩০ বছর আদব শিখেছি আর ২০ বছর ইলম শিখেছি,এবং সালাফুস সালেহীনরা ইলম শিখার আগে আদব শিখতেন।"
(গায়াতুন নিহায়া ১/১৯৮)
-
ইমাম ইবনুল জাওযী(রহ:) বলেন-
" ﻛﺎﺩ ﺍﻷﺩﺏ ﻳﻜﻮﻥ ﺛﻠﺜﻲ ﺍﻟﻌﻠﻢ ".
"আদব হচ্ছে ইলমের এক তৃতীয়াংশ। "
[সিফাতুস সফওয়াহ ১/৪৫].
-
ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াহহাব(রহ:) বলেন:
" ﻣﺎ ﺗﻌﻠَّﻤﻨﺎ ﻣﻦ ﺃﺩﺏِ ﻣﺎﻟﻚٍ ﺃﻛﺜﺮُ ﻣﻤﺎ ﺗﻌﻠّﻤﻨﺎ ﻣﻦ ﻋﻠﻤﻪ ".
"আমরা মালিকের ইলম অপেক্ষায় তাঁর আদব সবচেয়ে বেশি শিখেছি।"
[সিয়ারু আ'লা মিন নুবালা ৮/১১৩].

আল্লাহ আমাদের কল্যাণকর আদব ও ইলম নাসীব করুক! আমিন ইয়া রব্ব।

21/12/2025

যারা বিবাহ বন্ধনে উদ্যোগ নিচ্ছেন, তাঁদের এক আরব বেদুঈনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ মনে রাখা প্রয়োজন। তিনি তাঁর বিবাহযোগ্য পুত্রকে সম্বোধন ক’রে বলেছিলেন,
يا بني لا تنكح المنانه ولا الأنانه ولا الحنانه ولا الحداقه ولا البراقه ولا الشداقه ولا عشبه الدار ولا كية القفا
অর্থাৎ, বেটা! তুমি এই (৮ প্রকার) মেয়েকে তোমার স্ত্রীরূপে নির্বাচন করো না।

১। মান্নানাহ (উপকার বা অনুগ্রহ প্রচারকারিণী)
এমন মেয়ে, স্বামীর প্রতি সে বা তার বাপের বাড়ির লোক কোন উপকার বা অনুগ্রহ করলে কথায় কথায় খোঁটা মারে। স্বামীর পরিবারের বা বাইরের লোকের কাছে বলে বা গেয়ে বেড়ায়। 'এটা আমার বাপের ঘরের। এটা আমার ভাই দিয়েছিল বলেই তো? মা দিয়েছিল বলে ঠান্ডা পানি খেতে পাচ্ছ।’ ইত্যাদি

২। আন্নানাহ (কাতর)
এমন মেয়েকে আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় 'আবছুদে’ বলে। মানে যে মেয়ে অল্প কিছুতে 'আঃ-উঃ, বাবারে-মারে’ করতে থাকে। সামান্য আঘাতে কাতর হয়ে যায়। সামান্য কষ্টে কাঁদতে লাগে (ছিঁছ-কাঁদুনে)। অধিকাংশ সময়ে অসুস্থ না থাকলেও অসুস্থতার ভান করে। কোনও কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য মাথা-ব্যথা বা অন্য কোন অসুখের ওজর পেশ করে। আজ মাথা ধরেছে, কাল পেটে বাজছে পরশু আরো কিছু বলে অজুহাত তৈরি করে।
বাংলা প্রবাদে বলা হয়,
'জারে বউ জার-কাতুরে বর্ষায় বউয়ের হাজা,
কখনো দেখলাম না আমি বউ রইল তাজা।’

৩। হান্নানাহ (অন্যাসক্তা)
যে মেয়ের আসক্তি নিজের স্বামীর সাথে সীমাবদ্ধ থাকে না। তবে সে পরকীয়া করে না। আসলে সে বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর বিবাহিতা হয়। অতঃপর কথায় কথায় সে পূর্ব স্বামীর প্রতি আসক্তি প্রকাশ করে। যেন বর্তমান স্বামীর তুলনায় সেই ভালো ছিল, সে কথা বুঝাতে চায়। নগণ্য বঞ্চনায় অথবা সামান্য ত্রুটির ক্ষেত্রে সে তাকে স্মরণ করে। পূর্বের ভালোবাসা সে ভুলতে পারে না। যার ফলে তুলনা করতে গিয়ে সে বর্তমান স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিতা হয়।
অথবা তার গর্ভজাত পূর্ব স্বামীর সন্তান থাকে এবং সে তাদের প্রতি সর্বদা নিজ মনকে ফেলে রাখে। এমনকি সুখের সময়েও সে তাদের দুঃখের কথা তুলে বর্তমান সুখের সময়কে নষ্ট ক’রে ফেলে।
অথবা সর্বদা নিজ পরিবারের প্রতি আসক্তি প্রকাশ ক’রে থাকে। ক্ষণে ক্ষণে বা ঘন ঘন মায়ের বাড়ি যেতে চায়। আর তার ফলে স্বামীর প্রতি কর্তব্যে অবহেলা ক’রে বসে।

৪। হাদ্দাক্বাহ (পরদর্শিনী)
এমন মেয়ে সর্বদা পরের দিকে তাকায়। পরের সুখ দেখে নিজের সুখটাকে তুচ্ছজ্ঞান করে। আর তার ফলে নিজেকে ও নিজ স্বামীকে কষ্টে ফেলে। সে কী পেয়েছে, তা দেখে না, কী পায়নি, তাই দেখে থাকে।
এ নারী কখনও অল্পে তুষ্ট হয় না। যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে না। স্বামীর কৃতজ্ঞ হয় না। বরং অন্যের দেহে (বর্তমানে নেটে) যে অলংকার বা পোশাক দেখে, পছন্দ হলেই তা পাওয়ার জন্য স্বামীর কাছে বায়না ধরে। অন্যের বাড়িতে ভালো কোন সাজ-সরঞ্জাম (পালঙ্ক, সোফা, গালিচা, আলমারি প্রভৃতি) দেখে এলে নিজের বাড়িতে পেতে জেদ ধরে। পরের দেখাদেখি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে অলংকারের উপর অলংকার, পোশাকের উপর পোশাক কিনতে চায়। অন্যের ডিজাইন পছন্দ হলে নিজের অলংকার ভেঙ্গে গড়াতে চায় এবং অর্থের অপচয় ঘটায়।

৫। শাদ্দাক্বাহ (বাচাল বা বখাটে)
এমন মেয়ের মুখে সর্বদা খই ফোটে, সে সর্বদা বেশি কথা বলে, উচ্চ স্বরে বলে, কাটিং ক’রে আজব ভঙ্গিতে বলে, মিথ্যা বলে, ফালতু বলে, বিরক্তিকর কথা বলে এবং সকলকে বিরক্ত ক’রে ছাড়ে। যে মজলিসে থাকে, সে মজলিসে সে একাই কথা বলে, অন্যকে কথা বলার সুযোগই দেয় না। অন্যের কথা লুফে নিয়ে বলে, খুব বেশি বকবক করে।
তার কথায় অহংকার প্রকাশ পায়। বিশেষ ক’রে স্বামী তার থেকে বয়সে অনেক বড় হলে অথবা আর্থিকভাবে স্বামীর পরিবার তার পরিবার থেকে দুর্বল হলে অথবা রূপে স্বামীর থেকে বেশি সুন্দর থাকলে অথবা শিক্ষায় স্বামীর তুলনায় বড় হলে অথবা সামাজিক মর্যাদা বা বংশে স্বামীর তুলনায় উচ্চ হলে তার অহংকার নিত্য কাঁটা হয়ে স্বামী ও তার আত্মীয়ের দেহ-মনে বিদ্ধ হতে থাকে।

৬। বার্রাক্বাহ (ঠসকী)
এমন মেয়ে সব সময় নিজ দেহের চমক নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সব সময় সাজুগুজুতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে। নিজ ঠাট-ঠসকে স্বামীর মন যোগানো তার উদ্দেশ্য থাকে না, বরং এটা তার আচরিত অভ্যাস থাকে। নিজের রূপ না থাকলেও বানানো নকল রূপ নিয়ে গর্বিত হয়।
এর অন্য একটি অর্থ হল তীক্ষ্ম-দর্শিনী। এমন মেয়ে সর্বদা সূক্ষ্ম জিনিসকে তীক্ষ্মভাবে দর্শন ক’রে থাকে। খাবার সময় কে কীভাবে খাচ্ছে, কে কয়টা রুটি খাচ্ছে, কে বেশি খাচ্ছে, কে কম খাচ্ছে, কে পেটুকের মতো খাচ্ছে, কে বড় বড় গ্রাস তুলে গিলছে ইত্যাদি অনর্থক পরিদর্শন করে। যেন তার চক্ষু আধুনিক যুগের রাডার-যন্ত্র। অবশ্য খুঁত ও ভুল ধরার জন্য।

৭। উশবাতুদ দার (ঘরের ঘাস)
অপদার্থ মেয়ে। যে না নিজের যত্ন নেয়, আর না স্বামী-সন্তান বা বাড়ির যত্ন গ্রহণ করে। পরিচ্ছন্নতার খেয়াল রাখে না, পারিপাট্যের খবর জানে না। আগোছালো তার শরীরের পোশাক, আগোছালো তার সংসারের আসবাব-পত্র।
এর অন্য অর্থে নোংরা পরিবার ও পরিবেশের সুন্দরী নারীকে বুঝানো হয়েছে। যার আচরণ ও চরিত্রে সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক।

৮। কাইয়্যাতুল ক্বাফা
এমন মেয়েকে বলা হয়, যার অভ্যাস হল পিছনে কথা বলা, গীবত করা। মায়ের বাড়ির লোকের কাছে শ্বশুরবাড়ির গীবত করা ইত্যাদি।
অথবা এমন দাগী মেয়েকে বলা হয়, যার স্বামী মজলিস থেকে বিদায় নিলে লোকেরা তার সম্পর্কে সমালোচনা ক’রে বলে, 'এর বউটা এমন। এর বউটা এই কাজ করেছিল।’

#কমেন্টে---------------------------------------------------
পুংবাদীদের বক্তব্যঃ
*দারুন বলেছেন। কিন্তু অধিকাংশ মেয়েরাই এই রকম।
*স্যার! এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাহলে আজীবন অবিবাহিতই থেকে যাওয়া লাগবে।
*শায়খ! আমরা বিয়ের আগে মেয়ের এই সকল বদগুণ জানব কীভাবে?
*কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের মাধ্যমে জানা যেতে পারে।
*দূর! তাই কি সম্ভব নাকি? এ সব ভাগ্যের ব্যাপার। ভাগ্যে যেমন আছে, তেমন মেয়েকেই বউ রূপে নিয়ে মেনে ও মানিয়ে চলতে হবে।
*তা বলে খোঁজ-খবর না নিয়েই বিয়ে ক’রে বসবেন, তা ঠিক নয়।
*আরে মশাই! মেয়ে দ্বীনদার হলেই সব গুণই পাওয়া যাবে।
*না, না। এটা জরুরী নয়। সর্বগুণে গুণবতী মেয়ে পাওয়া কঠিন। খুঁজতে খুঁজতে বুড়া হওয়া লাগবে।
*হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন, যত বড়ই দ্বীনদার হোক, 'কন্টক বিনা কমল নাই, কলঙ্ক বিনা চন্দ্র নাই।’

#নারীবাদীদের_বক্তব্যঃ
*যত দোষ মেয়েদের! আর ছেলেদের বুঝি কোন দোষ নেই?
*আছে। মেয়েদেরও উচিত তেমন ছেলে দেখে বিয়ে করা।
*মেয়েদেরকে অভিভাবকের পছন্দ মতে বিয়ে করতে হয়। তারা কীভাবে খুঁজবে?
*যেভাবে ছেলেরা খুঁজবে। মেয়ের অভিভাবক তো একটা ছেলে বা পুরুষ।

#মোটকথা--------------------------
শিক্ষণীয় হল যে, এই সকল গুণের মেয়ে বা ছেলে হওয়া উচিত নয়। পাওয়াটা সত্যই সৌভাগ্যের ব্যাপার। তবে ভালো পেতে চেষ্টা অবশ্যই চালাতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ নেট থেকে
সংগ্রহ ও ভাবানুবাদেঃ আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী

08/12/2025

হাসান আল-বাসরি رحمه الله বলেছেন:

“খাঁটি তাওবা হলো—তুমি যে গোনাহকে আগে ভালোবাসতে, এখন তাকে ঠিক ততটাই ঘৃণা করা; এবং যখনই সেই গোনাহ তোমার স্মরণে আসে, তখনই তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।”

(তাফসির ইবন কাসীর, ৮/১৬৯)

07/12/2025
03/12/2025

গুনাহ ছেড়ে দিন এতেই আপনার জন্য কল্যাণ

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেন,
‎ﺇِﻧَّﻰ ﻟَﺄَﺣْﺴَﺐُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞَ ﻳَﻨْﺴَﻰ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢَ ﺑِﺎﻟْﺨَﻄِﻴﺌَﺔِ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻬَﺎ , ﻭَﺃَﻥَّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟِﻢَ ﻣَﻦْ ﻳَﺨْﺸَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪَ

~অবশ্যই আমি মনে করি, মানুষ তার শিক্ষা করা ইলম ভুলে যায় তার কৃত গুনাহর কারণে। নিশ্চয় তিনি প্রকৃত জ্ঞানী/আলেম যে আল্লাহকে বেশি ভয় করে থাকে।

[জামিউ বয়ানিল ইল'ম ১/১৯৬]

🌿 خَمْسٌ يَرفَعنَ خَمْسًا❖ পাঁচটি জিনিস পাঁচটি জিনিসকে উন্নত করে তোলে ❖─────────────────────────────🌸 التَّوَاضُعُ يَرفَ...
03/11/2025

🌿 خَمْسٌ يَرفَعنَ خَمْسًا
❖ পাঁচটি জিনিস পাঁচটি জিনিসকে উন্নত করে তোলে ❖
─────────────────────────────

🌸 التَّوَاضُعُ يَرفَعُ العُلَمَاءَ
👉 বিনয় আলেমদের মর্যাদা বাড়ায়।
🔹 যে আলেম নিজের জ্ঞানে অহংকার করে না, বরং বিনয় ও নম্রতায় মানুষকে উপদেশ দেয় — তার জ্ঞানই তাকে উঁচু আসনে বসায়।
──────
💰 وَالمَالُ يَرفَعُ اللِّئَامَ
👉 ধন-সম্পদ নীচ লোকদেরও মাথা তুলে দেয়।
🔹 অর্থ যাদের চরিত্রে refinement আনে না, তবুও সমাজ তাদের সম্মান করে বসে — কারণ ধন মানুষকে বাহ্যিকভাবে উঁচু দেখায়, যদিও ভিতরে সে নিচই থাকে।
──────
🤫 وَالصَّمْتُ يَرفَعُ الجُهَّالَ
👉 নীরবতা মূর্খদেরও মর্যাদা দেয়।
🔹 যে অজ্ঞ ব্যক্তি চুপ থাকে, তার মূর্খতা ঢেকে যায়; তাই নীরবতা অনেক সময় বুদ্ধিমত্তার সমান মূল্য রাখে।
──────
🌺 وَالحَيَاءُ يَرفَعُ الخُلُقَ
👉 লজ্জাশীলতা চরিত্রকে উন্নত করে।
🔹 লজ্জা ও মর্যাদাবোধ মানুষকে সীমা শেখায়, তার চরিত্রকে সৌন্দর্য ও মর্যাদায় অলংকৃত করে।
──────
😄 وَالهَزْلُ يَرفَعُ الكُلْفَةَ
👉 হাস্য-রস আনুষ্ঠানিকতার ভার কমিয়ে দেয়।
🔹 পরিমিত রসিকতা হৃদয়ের ভার লাঘব করে, সম্পর্ককে উষ্ণ ও সহজ করে তোলে, আর কথোপকথনে বন্ধুত্বের সেতু গড়ে দেয়।
──────
🌟 সারমর্ম:
পাঁচটি গুণ — বিনয়, সম্পদ, নীরবতা, লজ্জাশীলতা ও পরিমিত হাস্যরস — মানুষ ও সমাজকে ভিন্ন ভিন্নভাবে উন্নত করে। কিন্তু তাদের প্রভাব নির্ভর করে হৃদয়ের পরিশুদ্ধতা ও উদ্দেশ্যের উপর।

💫 বিনয় আলেমকে মহৎ করে, ধন নিচ লোককে উঁচু দেখায়, নীরবতা মূর্খকেও সম্মানিত করে, লজ্জা চরিত্রকে অলংকৃত করে, আর হাস্যরস বন্ধুত্বকে সহজ ও মধুর করে তোলে।

29/10/2025

Address

Dinajpur Nababganj
Dinajpur
5280

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md.Yousuf Ali posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share