Shari'ah Fatwa Center

  • Home
  • Shari'ah Fatwa Center

Shari'ah Fatwa Center Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Shari'ah Fatwa Center, Religious Center, .

​📜 সকল সমস্যার শরয়ী সমাধানের বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম।

✨ Trusted Shari'ah Solutions for Every Problem.

🎓 অভিজ্ঞ মুফতিগণের তত্ত্ববধানে নির্ভরযোগ্য মাসআলা জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

​সঠিক মাসআলা জানুন, আমল শুদ্ধ করুন।

রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়?প্রশ্নোত্তর নং -২৫প্রশ্ন: অনেকে মনে করেন রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙ...
20/02/2026

রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়?

প্রশ্নোত্তর নং -২৫
প্রশ্ন: অনেকে মনে করেন রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙে যায়, এ বিষয়ে সঠিক বিধান কী?

​শরয়ী সমাধান:
রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙে যায়—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী স্বপ্নদোষের কারণে রোজা নষ্ট হয় না।

কারণ রোজা ভঙ্গের জন্য কোনো কাজ স্বেচ্ছায় বা সজ্ঞানে করা শর্ত, আর স্বপ্নদোষ মানুষের ঘুমের ঘোরে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। হাদিস শরিফে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর একটি বর্ণনা থেকে জানা যায় যে,
ثَلَاثٌ لَا يُفْطِرْنَ الصَّائِمَ: الْقَيْءُ، وَالْحِجَامَةُ، وَالِاحْتِلَامُ.
তিনটি বস্তু রোজা ভঙ্গের কারণ নয়; আর তা হলো অনিচ্ছাকৃত বমি হওয়া, শিঙ্গা লাগানো এবং স্বপ্নদোষ (মুসনাদে বাযযার, হাদিস ৫২৮৭; জামে তিরমিযী, হাদিস ৭১৯)।

সুতরাং রোজা অবস্থায় কারো স্বপ্নদোষ হলে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই, বরং দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করে স্বাভাবিকভাবে রোজা পূর্ণ করতে হবে।

রোজা অবস্থায় অজু বা কুলির পর মুখের আর্দ্রতা ও থুথু গিলে ফেলার শরয়ী বিধানপ্রশ্নোত্তর নং -২৪প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় অজু বা কু...
20/02/2026

রোজা অবস্থায় অজু বা কুলির পর মুখের আর্দ্রতা ও থুথু গিলে ফেলার শরয়ী বিধান

প্রশ্নোত্তর নং -২৪
প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় অজু বা কুলির পর মুখে দীর্ঘক্ষণ যে ভেজা ভাব বা থুথুর সাথে মিশে থাকা পানি থাকে, তা গিলে ফেললে কি রোজার কোনো ক্ষতি হবে?

​শরয়ী সমাধান:
রোজা অবস্থায় অজু বা কুলি করার পর মুখের বাড়তি পানি ফেলে দেওয়াই যথেষ্ট, এর জন্য বারবার থুথু ফেলে মুখ শুকানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কুলির পানি ফেলে দেওয়ার পর মুখে যে স্বাভাবিক আর্দ্রতা বা ভেজা ভাব অবশিষ্ট থাকে, তা থুথুর সাথে পেটে গেলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এতে রোজা ভঙ্গ হয় না।

রোজা অবস্থায় ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও ইনসুলিন গ্রহণপ্রশ্নোত্তর নং -২৩​প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় আঙুল ফুটো করে ডায়াবেটিস পরীক্ষা কর...
20/02/2026

রোজা অবস্থায় ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও ইনসুলিন গ্রহণ

প্রশ্নোত্তর নং -২৩
​প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় আঙুল ফুটো করে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন ইনজেকশন নেওয়া যাবে কি? এতে কি রোজার কোনো ক্ষতি হয়?

​শরয়ী সমাধান:
হ্যাঁ, রোজা অবস্থায় ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা এবং ইনসুলিন গ্রহণ করা সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

​এর কারণ ও ব্যাখ্যা:
​রক্ত বের হওয়ার ক্ষেত্রে: ইসলামি শরীয়তের মাসয়ালা অনুযায়ী, রোজা থাকা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোজা ভাঙে না। ডায়াবেটিস মাপার জন্য আঙুল থেকে যে সামান্য রক্ত নেওয়া হয়, তা রোজার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
​ইনসুলিন গ্রহণের ক্ষেত্রে: সুঁই বা ক্যানুলার মাধ্যমে শরীরের চামড়ার নিচে বা মাংসপেশিতে কোনো ওষুধ প্রবেশ করালে রোজা ভঙ্গ হয় না। যেহেতু ইনসুলিন সরাসরি পাকস্থলীতে বা খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে না এবং এটি খাদ্য বা পানীয়ের বিকল্পও নয়, তাই এটি রোজা অবস্থায় নেওয়া বৈধ।

​শরীর থেকে কোনো কিছু (রক্ত, ঘাম ইত্যাদি) বের হলে কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করালে রোজা নষ্ট হয় না।

চোখে ও নাকে ড্রপ দিলে রোজার ক্ষতি হবে কিনা? প্রশ্নোত্তর নং -২২প্রশ্ন : রোযা অবস্থায় চোখে বা নাকে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযার...
20/02/2026

চোখে ও নাকে ড্রপ দিলে রোজার ক্ষতি হবে কিনা?

প্রশ্নোত্তর নং -২২
প্রশ্ন : রোযা অবস্থায় চোখে বা নাকে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি না?

শরয়ী সমাধান:
রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা নেই। এ কারণে রোযা নষ্ট হয় না। আর রোযা অবস্থায় নাকে ড্রপ ব্যবহার না করাই উচিত। কারণ ওষুধ গলার ভেতর চলে গেলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। আর নাকে ওষুধ দিলে সাধারণত গলায় চলেই যায়।

একটি ভিত্তিহীন ধারণারমযান মাসে কি কবরের আযাব মাফ থাকে? অনেক মানুষকেই বলতে শোনা যায়, ‘রমযান মাসে কবরের আযাব মাফ থাকে’। ত...
20/02/2026

একটি ভিত্তিহীন ধারণা
রমযান মাসে কি কবরের আযাব মাফ থাকে?

অনেক মানুষকেই বলতে শোনা যায়, ‘রমযান মাসে কবরের আযাব মাফ থাকে’। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়; কুরআন-হাদীসে এ বিষয়ে কিছু বর্ণিত হয়নি।

তেমনিভাবে কিছু মানুষকে একথাও বলতে শোনা যায় যে, ‘দাফনের পর জুমা বা রমযান এলে কিয়ামত পর্যন্ত কবরের আযাব মাফ হয়ে যায়!’ এ কথারও কোনো ভিত্তি নেই।

আল্লাহ সকলকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন! আসলে কবরের আযাব হওয়া বা না-হওয়ার সাথে রমযানের কোনো সম্পর্ক নেই, ব্যক্তির ঈমান ও নেক আমলের সাথে এর সম্পর্ক। ব্যক্তির উচিত ঐসকল আমল থেকে বিরত থাকা, যার কারণে কবরের আযাব হয় এবং সাথে সাথে ঐসকল আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া, যার মাধ্যমে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে।

তবে হাঁ, রোযাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করলে তার বিশেষ ফযীলত রয়েছে। হুযায়ফা رضى الله عنه থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন-
.. وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنّةَ.

قال الهيثمي : رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصّحِيحِ غَيْرَ عُثْمَانَ بْنِ مُسْلِمٍ الْبَتِّيِّ وَهُوَ ثِقَةٌ.

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন রোযা রাখে এবং এ রোযা হয় তার জীবনের শেষ আমল (অর্থাৎ রোযাদার অবস্থায় তার ইন্তেকাল হয়) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৩২৪; আলআসমা ওয়াস সিফাত, বায়হাকী, হাদীস ৬৫১; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ১১৯৩৫

অর্থাৎ রোযাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করলে, আশা করা যায়, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন। কিন্তু রমযান মাসে কবরের আযাব মাফ- এমন কোনো কথা পাওয়া যায় না।

সম্ভবত একটি বিষয় থেকে মানুষের মাঝে এ ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে-

إِذَا كَانَتْ أَوّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، صُفِّدَتِ الشّيَاطِينُ، وَمَرَدَةُ الْجِنِّ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النّارِ، فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ، وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنّةِ، فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ، وَنَادَى مُنَادٍ: يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشّرِّ أَقْصِرْ، وَلِلهِ عُتَقَاءُ مِنَ النّارِ، وَذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ.

যখন রমযানের প্রথম রাতের আগমন ঘটে, তখন দুষ্ট জিন ও শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, (সারা মাস) একটি দরজাও খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, (সারা মাস) একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে- হে কল্যাণের প্রত্যাশী! আরো অগ্রসর হও। হে অকল্যাণের যাত্রী! ক্ষান্ত হও। আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৬৪২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ১৮৮৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৫৩২

এ বর্ণনার ‘জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়’- এখান থেকে হয়ত কারো মাঝে এ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, তাহলে রমযানে কবরের আযাবও বন্ধ থাকে।

যাইহোক, রমযানে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ থাকে, প্রতি রাতে আল্লাহ বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং রোযাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেবেন এবং জান্নাতে দাখেল করবেন- এগুলো সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু রমযানে কবরের আযাব মাফ থাকে- এমন কোনো কথা পাওয়া যায় না।

[সূত্র : মাসিক আল কাউসার
বর্ষ : ১৮, সংখ্যা: ০৪
শাওয়াল ১৪৪৩ || মে ২০২২]

স্ত্রীর লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে অজু বা গোসল করার শরয়ী বিধান—প্রশ্নোত্তর নং ২১প্রশ্ন: স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময় শুধু লজ্জা...
15/02/2026

স্ত্রীর লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে অজু বা গোসল করার শরয়ী বিধান—

প্রশ্নোত্তর নং ২১
প্রশ্ন: স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময় শুধু লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে কি গোসল ফরজ হয়, নাকি মিলন বা বীর্যপাত হওয়া শর্ত? শরীয়তের বিধান কী?

​শরয়ী সমাধান: না, শুধু স্পর্শ করার দ্বারা গোসল ফরজ হয় না। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মিলনের ক্ষেত্রে মূলত দুটি কারণে গোসল ফরজ হয়:
​১. লিঙ্গ প্রবেশ করলে (বীর্যপাত হোক বা না হোক):
​যদি পুরুষের লিঙ্গের অগ্রভাগ (সুপুরি অংশ) স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করে, তবে বীর্যপাত না হলেও স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ওপরই গোসল করা ফরজ হয়ে যায়।
​২. বীর্যপাত হলে:
​যদি মিলন ছাড়াই বা লিঙ্গ প্রবেশের আগেই উত্তেজনাজনিত কারণে বীর্যপাত ঘটে, তবে যার বীর্যপাত হবে (স্বামী বা স্ত্রী) শুধুমাত্র তার ওপর গোসল ফরজ হবে। এক্ষেত্রে:
​যদি শুধু স্বামীর বীর্যপাত হয়, তবে স্বামীর ওপর গোসল ফরজ।
​যদি স্ত্রীরও বীর্যপাত (উত্তেজনাপূর্ণ চরম তৃপ্তি বা অর্গাজম) হয়, তবে তার ওপরও গোসল ফরজ হবে।

​হাদিসের প্রমাণসমূহ—
​১. সহীহ মুসলিম (হাদিস নং ৩৪৮):
أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا، فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْغُسْلُ» وَفِي حَدِيثِ مَطَرٍ وَإِنْ لَمْ يُنْزِلْ
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
​"যখন কেউ তার স্ত্রীর চার শাখার (দুই হাত ও দুই পা) মাঝে বসবে এবং তার সাথে মিলনে লিপ্ত হবে, তখন তার ওপর গোসল ফরজ হবে। (অন্য বর্ণনায় রয়েছে— যদিও বীর্যপাত না ঘটে)।"

​২. সহীহ মুসলিম (হাদিস নং ৩৫০):
عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: إِنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرَّجُلِ يُجَامِعُ أَهْلَهُ ثُمَّ يُكْسِلُ هَلْ عَلَيْهِمَا الْغُسْلُ؟ وَعَائِشَةُ جَالِسَةٌ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَفْعَلُ ذَلِكَ، أَنَا وَهَذِهِ، ثُمَّ نَغْتَسِلُ»
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রশ্ন করলেন— যদি কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত হওয়ার আগেই বিরত হয়, তবে কি তাদের ওপর গোসল ফরজ হবে? রাসূলুল্লাহ ﷺ আয়েশা (রা.)-এর দিকে ইঙ্গিত করে বললেন:
​"আমি এবং এই (আয়েশা) এরূপ করি, এরপর আমরা গোসল করে নেই।"

​মোটকথা: সহবাসের ক্ষেত্রে লিঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশ করা মাত্রই গোসল ফরজ হয়, বীর্যপাত হওয়া শর্ত নয়। আর স্পর্শের ক্ষেত্রে যদি বীর্যপাত না হয়, তবে কেবল ওযু ভাঙবে কিন্তু গোসল ফরজ হবে না।

নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর আঙ্গুলের মাথায় লাগিয়ে দেওয়া অমোচনীয় কালি, প্রুফকালি ও কলমের কালি হাতে লেগে থাকলে অযু ও গোসল ...
12/02/2026

নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর আঙ্গুলের মাথায় লাগিয়ে দেওয়া অমোচনীয় কালি, প্রুফকালি ও কলমের কালি হাতে লেগে থাকলে অযু ও গোসল আদায় হবে কিনা।

প্রশ্নোত্তর নং-২০
প্রশ্ন: আমি নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর আঙ্গুলের মাথায় এক ধরনের অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর এমনিতে আমি লেখালেখি করি। যার কারণে মাঝে মধ্যে (ফ্লুইড) প্রফকালি ব্যবহার করতে হয়, কখনো তা হাতে লেগে যায়। জানতে চাই, এধরণের কালি হাতে লেগে থাকলে অযু গোসল সহীহ হবে কিনা?

শরয়ী সমাধান:
যে সব জিনিস অযু ও গোসলের অঙ্গে পানি পৌঁছাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তা দূর করা ব্যতীত অযু ও গোসল সহীহ হয় না। সুতরাং প্রুফকালি কালি যেহেতু অযু-গোসলের অঙ্গে পানি পৌঁছাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাই তা হাতে লেগে থাকলে অযু গোসল সহীহ হবে না এবং এ অযু-গোসল দ্বারা নামায পড়লে নামায আদায় হবে না। তা ধুয়ে পুনরায় নামায পড়তে হবে। পক্ষান্তরে সাধারণ নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর আঙ্গুলের মাথায় যে অমোচনীয় কালি ও কলমের কালি লেগে থাকলে অযু-গোসল সহীহ হয়ে যাবে। কারণ তা শরীরে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। কিন্তু যদি চামড়ার ওপর প্রলেপ তৈরি করে তাহলে সেক্ষেত্রে বিধান হলো, যথাসম্ভব সেটাকে তুলে ফেলে অযু করতে চেষ্টা করবে। যদি অত্যধিক চেষ্টার পরও সেই কালি তোলা সম্ভব না হয় তাহলে ওই অবস্থায়ই অযু-গোসল করে নামাজ আদায় করতে পারবে।

সূত্রঃ-
* রদ্দুল মুহতার খ:১ পৃ:৩১৭ (রশীদিয়া)
* আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া খ:১ পৃ:১৩ (দারুল ফিকর)

জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা বিনিময়ের শরয়ি বিধানপ্রশ্নোত্তর নং-১৯​প্রশ্ন: আমি বিভিন্ন দিবস, বিশেষ করে জন্মদিন বা ব...
11/02/2026

জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা বিনিময়ের শরয়ি বিধান

প্রশ্নোত্তর নং-১৯

​প্রশ্ন:
আমি বিভিন্ন দিবস, বিশেষ করে জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা পাঠানো নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই। যদি আমি এই নিয়তে শুভেচ্ছা পাঠাই যে— "আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দিন" বা "নতুন বছরটি বরকতময় হোক", তবে এতে আকিদাগত সমস্যা কোথায়? অনেকে একে বিধর্মীদের অনুকরণ বলেন, কিন্তু আমরা তো তাদের তৈরি প্রযুক্তি বা পোশাকও ব্যবহার করি। তবে কি শুধু শুভেচ্ছাবার্তাই নিষিদ্ধ? ফেতনার এই যুগে সরাসরি সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা বা শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে উপকৃত হবো।

শরয়ী সমাধান:
একজন মুসলমানের সুখে আনন্দিত হওয়া এবং তার বিপদে ব্যথিত হওয়া ঈমানের অন্যতম দাবি। ইসলাম আমাদের একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও কল্যাণ কামনার পরম শিক্ষা দেয়।

عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَايَعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ، فَلَقَّنَنِي، فِيمَا اسْتَطَعْتُ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ.

হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তাঁর কথা শোনা ও আনুগত্য করা এবং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনার ব্যাপারে বায়আত গ্রহণ করেছি।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৬৭১১)।

এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—একজন মুমিন সর্বদা অন্য মুমিনের ভালো চাইবে। তবে এই কল্যাণ কামনার পদ্ধতিটি অবশ্যই শরীয়তের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হতে হবে।

​শরীয়তের একটি মৌলিক নীতি হলো, কোনো কাজকে যদি ইবাদত বা বিশেষ পুণ্য মনে করে করা হয় অথচ ইসলামে তার কোনো ভিত্তি নেই, তবে সেই কাজ গ্রহণযোগ্য নয়।

عن عَائِشَة أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ " .

আম্মাজান আয়েশা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছুর উদ্ভাবন করল যা তার অংশ নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৩৪৪)।

জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকী পালন করা আমাদের দ্বীনি ঐতিহ্যের অংশ নয় এবং কুরআন-সুন্নাহর কোথাও এই নির্দিষ্ট দিবসগুলোতে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কোনো নির্দেশনা বা প্রমাণ পাওয়া যায় না।

​অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আমরা তো বিধর্মীদের তৈরি প্রযুক্তি যেমন—মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করি, তাহলে দিবস পালনে সমস্যা কোথায়? আসলে প্রযুক্তি হলো জাগতিক প্রয়োজন বা উপকরণ, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সংস্কৃতি নয়। কিন্তু জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর মতো অনুষ্ঠানগুলো হলো একটি জাতির আদর্শ, বিশ্বাস এবং আকিদাগত ঐতিহ্যের অংশ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন,
عن ابن عمر رضي الله عنهما مرفوعا: من تشبه بقوم فهو منهم.

ইবন উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য বা অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।" (ফিকহুস সুনান, হাদিস নং ২৩৮৪)।

তাই জাগতিক প্রয়োজনীয় বস্তু ব্যবহার আর বিজাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব পালন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

​মুসলমানদের জন্য দোয়ার দুয়ার সবসময় খোলা। আমরা তো প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এবং সালামের মাধ্যমে একে অপরের জন্য রহমত ও শান্তি কামনা করি। কাফির-মুশরিকদের জীবনে পরকালীন দোয়ার ধারণা নেই বলেই তারা বছরের একটি বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা বা সান্ত্বনা খুঁজে নেয়। একজন মুমিন কেন তার ভাইয়ের জন্য দোয়া করতে একটি নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা করবে? বরং বছরের প্রতিটি দিনই তার জন্য শুভকামনা করার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট দিবসে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে আমরা মূলত নিজেদের দোয়া ও ভালোবাসাকে একটি সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে ফেলি।

​তাই জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর মতো দিনগুলোতে ঘটা করে শুভেচ্ছা পাঠানো বা আয়োজন করা থেকে বিরত থাকাই ঈমানি দাবি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর নেয়ামত, তাই সুস্থভাবে বেঁচে থাকা বা সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষায় না থেকে সবসময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত। দিবস পালনের এই কৃত্রিমতা ত্যাগ করে আমরা যদি সুন্নাহসম্মত পন্থায় একে অপরের প্রকৃত কল্যাণকামী হতে পারি, তবেই আমাদের আকিদা ও আমল সুরক্ষিত থাকবে।

Shari'ah Fatwa Center

মদের খালি বোতল পরিষ্কার করে পানি পানের জন্য ব্যবহারের বিধানপ্রশ্নোত্তর নং-১৮প্রশ্ন: অনেক সময় মদের খালি বোতল পাওয়া যায়, য...
10/02/2026

মদের খালি বোতল পরিষ্কার করে পানি পানের জন্য ব্যবহারের বিধান

প্রশ্নোত্তর নং-১৮
প্রশ্ন: অনেক সময় মদের খালি বোতল পাওয়া যায়, যা দেখতে সুন্দর বা মজবুত। এই বোতলগুলো কি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করার পর পানি পান করার কাজে ব্যবহার করা যাবে? শরীয়তের দৃষ্টিতে এর বিস্তারিত বিধান কী?

​শরয়ী সমাধান: মদের খালি বোতল যদি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়, যাতে তাতে মদের কোনো অংশ, স্বাদ বা গন্ধ অবশিষ্ট না থাকে, তবে সেই বোতলে পানি বা অন্য কোনো হালাল পানীয় পান করা জায়েজ বা বৈধ। এতে শরীয়তের কোনো বিধিনিষেধ নেই।

​ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিধানের পরিবর্তন:
ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসূলুল্লাহ ﷺ মদের পাত্রে পানি পান করতে বা তাতে সিরকা (ভিনেগার) তৈরি করতে নিষেধ করেছিলেন। ওলামায়ে কেরাম এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন:
​১. নাপাকি থেকে সুরক্ষা: মাটির বা অন্য ধাতব পাত্রে মদের চিহ্ন লেগে থাকার সম্ভাবনা থাকত, যা ভালো করে পরিষ্কার না করলে পানীয় নাপাক হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল।
২. মানসিক প্রভাব ও স্মৃতি: মদের পাত্র ব্যবহারের কারণে যেন পুনরায় মদ্যপানের জাহেলি যুগের স্মৃতি বা নেশার কথা মনে না পড়ে, সেজন্য এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল।
৩. মদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি: ইসলামে মদ হারাম করার পর মানুষের মনে যেন মদের প্রতি এবং মদের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুর প্রতি একটি পরিপূর্ণ ঘৃণা ও অনীহা তৈরি হয়, সেজন্য এই কঠোর পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল।

​পরবর্তীতে যখন ইসলামের বিধানগুলো সবার মাঝে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সাহাবায়ে কেরামদের মনে মদের প্রতি চূড়ান্ত ঘৃণা ও বিতৃষ্ণা জন্ম নেয়, তখন সেই পুরনো নিষেধাজ্ঞা রহিত (মানসুখ) হয়ে যায়। তাই বর্তমানে মদের বোতল ভালো করে পরিষ্কার করে নিলে তা ব্যবহারে কোনো গুনাহ নেই। {তথ্যসূত্র: তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম-৩/৩৫১}

এই মাসআলার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই হাদিসটি:
عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « نَهَيْتُكُمْ عَنِ الظُّرُوفِ وَإِنَّ الظُّرُوفَ – أَوْ ظَرْفًا – لاَ يُحِلُّ شَيْئًا وَلاَ يُحَرِّمُهُ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
​অনুবাদ: হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন— "আমি আগে তোমাদেরকে কিছু পাত্রের ব্যাপারে (মদ রাখার পাত্র) নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছিলাম। জেনে রেখো, পাত্র নিজে কোনো কিছুকে হালালও করে না, আবার কোনো কিছুকে হারামও করে না (বরং পাত্রের ভেতরের বস্তুটির ওপর বিধান নির্ভর করে)। আর মনে রেখো, প্রতিটি মাদকদ্রব্যই হারাম।"
​{দলিলসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫৩২৬; সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৫১৮৮; সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৭; সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৮৬৯}

মদের বোতলটি যদি কাঁচের হয় এবং তা আধুনিক ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে এমনভাবে পরিষ্কার করা হয় যেন তা সম্পূর্ণ পাক ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়, তবে তা ব্যবহার করতে কোনো বাধা নেই। তবে যদি সম্ভব হয়, এমন পাত্র এড়িয়ে চলাই উত্তম যা অন্যকে বিভ্রান্ত করতে পারে বা খারাপ ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু মূল বিধান অনুযায়ী এটি জায়েজ।

Shari'ah Fatwa Center

প্রশ্নোত্তর নং -১৭প্রশ্ন: রাগের মাথায় যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে বলে— “তোকে একেবারে ছেড়ে দিলাম”, তবে কি শরীয়তের দৃষ্টি...
09/02/2026

প্রশ্নোত্তর নং -১৭

প্রশ্ন: রাগের মাথায় যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে বলে— “তোকে একেবারে ছেড়ে দিলাম”, তবে কি শরীয়তের দৃষ্টিতে তালাক পতিত হবে?

​শরয়ী সমাধান:
হ্যাঁ, এই বাক্যটি বলার দ্বারা একটি বায়েন তালাক পতিত হবে। এর ফলে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

​করণীয় ও বিধান:
​সম্পর্ক পুনঃস্থাপন: এই তালাকের পর আপনারা চাইলে পুনরায় নতুন করে বিবাহ (নিকাহ) করার মাধ্যমে সংসার শুরু করতে পারবেন।

​শর্ত: এটি তখনই সম্ভব হবে, যদি স্বামী ইতিপূর্বে তার স্ত্রীকে সর্বোচ্চ দুটি তালাক প্রদান না করে থাকে। অর্থাৎ, এটি যদি আপনাদের প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক হয়ে থাকে, তবেই নতুন বিবাহের সুযোগ থাকবে।

​সতর্কতা: যদি পূর্বে আরও দুটি তালাক দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এই বাক্যের মাধ্যমে তিন তালাক পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তখন আর পুনরায় বিবাহের সুযোগ থাকবে না।

​বিশেষ দ্রষ্টব্য:
​মনে রাখতে হবে যে, সাধারণ কথা প্রসঙ্গে "তোমাকে ছেড়ে দিলাম" আর সরাসরি বিচ্ছেদের উদ্দেশ্যে "তোমাকে একেবারে ছেড়ে দিলাম" বলার মধ্যে বিধানগত পার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয় বাক্যটি চূড়ান্ত বিচ্ছেদের ইঙ্গিত বহন করে।

​তথ্যসূত্র:
​আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৩১
​বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৭৪, ২৯৫
​ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৪৫৪

Shari'ah Fatwa Center

বিয়েতে 'উকিল বাবা' প্রথার বিধান ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিপ্রশ্নোত্তর নং -১৬​প্রশ্ন: বিয়েতে 'উকিল বাবা' বানানো এবং তাকে বাবা ব...
08/02/2026

বিয়েতে 'উকিল বাবা' প্রথার বিধান ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

প্রশ্নোত্তর নং -১৬
​প্রশ্ন: বিয়েতে 'উকিল বাবা' বানানো এবং তাকে বাবা বা তার স্ত্রীকে মা বলে ডাকার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? তাদের সাথে কি পর্দা করা আবশ্যক?

​শরয়ী সমাধান:
​ইসলামি শরিয়তে 'উকিল বাবা' বলতে কোনো পদবী বা বিশেষ কোনো বাপের অস্তিত্ব নেই। এটি আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি কুসংস্কার ও ভুল প্রথা মাত্র। নিচে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো:
​১. পর্দার বিধান ও মাহরাম: ইসলামে একজন নারীর জন্য কেবল তিনজন বাবা 'মাহরাম' (যাদের সামনে দেখা দেওয়া জায়েজ):
▪️​নিজের জন্মদাতা পিতা।
▪️​শশুর।
▪️​দুধপিতা (অর্থাৎ যে মায়ের দুধ পান করেছেন, সেই মায়ের স্বামী)।
​এই তিনজন ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে 'বাবা' বানিয়ে তার সামনে দেখা দেওয়া বা পর্দা না করা কট্টর গুনাহের কাজ।

​২. সম্পর্কের অসারতা: কাউকে 'উকিল বাবা' ডাকলেই তিনি বাবার মর্যাদা পান না এবং তার সাথে কোনো রক্ত সম্পর্ক বা বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হয় না। তাই উকিল বাবার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা হারাম।

​৩. আল-কুরআনের দলিল:
আল্লাহ তায়ালা সূরা আন-নিসায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন কাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম এবং কাদের সাথে পর্দা আবশ্যক। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

​حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمۡ اُمَّہٰتُکُمۡ وَبَنٰتُکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ وَعَمّٰتُکُمۡ وَخٰلٰتُکُمۡ وَبَنٰتُ الۡاَخِ وَبَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَاُمَّہٰتُکُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَۃِ وَاُمَّہٰتُ نِسَآئِکُمۡ وَرَبَآئِبُکُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِکُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ ۫ فَاِنۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ ۫ وَحَلَآئِلُ اَبۡنَآئِکُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِکُمۡ ۙ وَاَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ۙ

তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাতিজী, ভাগ্নি, তোমাদের সেই সকল মা, যারা তোমাদেরকে দুধ পান করিয়েছে, তোমাদের দুধ বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমাদের প্রতিপালনাধীন তোমাদের সৎ কন্যা, যারা তোমাদের এমন স্ত্রীদের গর্ভজাত, যাদের সাথে তোমরা নিভৃতে মিলিত হয়েছ। তোমরা যদি তাদের সাথে নিভৃত-মিলন না করে থাক (এবং তাদেরকে তালাক দিয়ে দাও বা তাদের মৃত্যু হয়ে যায়), তবে (তাদের কন্যাদেরকে বিবাহ করাতে) তোমাদের কোন গুনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণও (তোমাদের জন্য হারাম) এবং এটাও (হারাম) যে, তোমরা দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করবে। তবে পূর্বে যা হয়েছে, হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আন নিসা আয়াত নং ২৩)

​অতএব, উকিল বাবা কোনো শরয়ী মাহরাম নয়। বিয়ের সময় উকিল নিয়োগ করা কেবল একটি আইনি বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মাত্র। এর মাধ্যমে কোনো আত্মীয়তা বা স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। সুতরাং, মাহরাম আত্মীয় ছাড়া অন্য সব পরপুরুষের মতো উকিল বাবার সাথেও পর্দা করা ফরয।

Shari'ah Fatwa Center

শরীরের অবাঞ্চিত লোম পরিষ্কারের ইসলামি বিধি-বিধান ও প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা:​ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ও...
04/02/2026

শরীরের অবাঞ্চিত লোম পরিষ্কারের ইসলামি বিধি-বিধান ও প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা:

​ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ও শুদ্ধ জীবন দর্শনের নাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) পবিত্রতাকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা এবং শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কারের বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

​প্রশ্ন: লজ্জাস্থানের লোম ৪০ দিন অতিবাহিত হলে কি ইবাদত কবুল হবে না?

​উত্তর:শরীরের অবাঞ্ছিত লোম (নাভির নিচ, বগল) এবং নখ কাটার সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ৪০ দিন। এর মধ্যে পরিষ্কার করা সুন্নত।

​আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, “গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা এবং নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার জন্য আমাদের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যেন আমরা তা করতে ৪০ দিনের বেশি দেরি না করি।” [সহিহ মুসলিম: ৪৮৭]

​বিধান:
যদি কেউ অলসতা বা অবহেলার কারণে ৪০ দিন অতিবাহিত করে, তবে সে গুনাহগার হবে। তবে প্রচলিত এই ধারণাটি সঠিক নয় যে, ৪০ দিন পার হলে নামাজ, রোজা বা তিলাওয়াত কবুল হবে না। নিয়ম অনুযায়ী ইবাদত করলে তা ইনশাআল্লাহ কবুল হবে। তবে যদি অপরিচ্ছন্নতার কারণে পবিত্রতা অর্জনে (গোসলে বা ওজুতে) বিঘ্ন ঘটে, তবে সংশ্লিষ্ট ইবাদত ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে। তাই দ্রুত পরিচ্ছন্নতা অর্জন করে আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত।

​প্রশ্ন: নাভির নিচের লোম কিঞ্চিৎ অবশিষ্ট থাকলে কি নামাজ হবে?

​উত্তর:চেষ্টা করতে হবে যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লোমগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়। তবে অসতর্কতাবশত বা অজান্তে যদি দু-একটি লোম থেকে যায়, তবে তাতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে সবসময় সতর্ক থাকা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী পূর্ণ পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা মুমিনের দায়িত্ব।

প্রশ্ন: শরীরের অবাঞ্ছিত লোম বা নখ কি নাপাক?

​উত্তর:না, শরীরের অতিরিক্ত লোম, নখ বা চুল নাপাক নয়। হাদিসে এগুলোকে অপবিত্র বলা হয়নি। মানুষের শরীর থেকে নির্গত রক্ত, পুঁজ বা মলমূত্র নাপাক হিসেবে গণ্য। তবে সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্যবিধির খাতিরে এগুলো সময়মতো পরিষ্কার করা ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় সুন্নাহ।

​প্রশ্ন: নির্দিষ্ট দিনে (শনি বা বুধবার) নখ-চুল কাটা কি নিষেধ?

​উত্তর:নখ বা চুল কাটার জন্য সপ্তাহের কোনো নির্দিষ্ট দিন বা সময় ইসলাম নির্ধারণ করে দেয়নি। "বুধবার বা শনিবার নখ কাটলে অমঙ্গল হয় বা রোগ হয়"—এ জাতীয় কথাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং কুসংস্কার।

​প্রচলিত কিছু কুসংস্কার:
▪️​শনি বা রবিবারে কাটলে বিপদ হয়।
▪️​মঙ্গলবারে কাটলে আয়ু কমে।
▪️​সূর্যাস্তের পর নখ কাটা অশুভ।

​এই বিশ্বাসগুলো মূলত ভিন্নধর্মী সংস্কৃতি থেকে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের শুভ-অশুভ মানা হারাম। প্রয়োজনে যে কোনো দিন বা রাতে নখ ও চুল কাটা যাবে।

​প্রশ্ন: কাজের প্রয়োজনে নখ কি কিছুটা বড় রাখা যাবে?

​উত্তর:সাধারণভাবে ফ্যাশন বা কাফের-মুশরিকদের অনুকরণে নখ বড় রাখা জায়েজ নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) পাঁচটি বিষয়কে মানুষের স্বভাবজাত (ফিতরাত) হিসেবে উল্লেখ করেছেন:
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, "পাঁচটি বিষয় স্বভাবজাত: খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা, বগলের চুল উপড়ানো এবং গোঁফ ছোট করা।" [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

​ব্যতিক্রম:
যদি আপনার কর্মক্ষেত্রে (যেমন লন্ড্রি বা বিশেষ কারিগরি কাজ) নখ সামান্য বড় রাখা জরুরি হয় এবং তা না রাখলে আঙুলে সমস্যা হয়, তবে প্রয়োজনের খাতিরে তা ইনশাআল্লাহ গুনাহের কারণ হবে না। তবে তা যেন নোংরা বা অস্বাভাবিক বড় না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shari'ah Fatwa Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship?

Share