IOA - Islamic Online Academy

IOA - Islamic Online Academy বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞান, চিন্তাশীল পাঠচর্চা ও নৈতিক মানবগঠনের সমন্বয়ে একটি পরিশীলিত, গবেষণাধর্মী ও যুগোপযোগী অনলাইন ও অফলাইন ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

20/08/2026
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দুজন স্ত্রী এবং ৬ জন সন্তান তাঁর জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন!এছাড়াও অসংখ্য সাহাবী শাহাদাতবরণ করেন, কেউ কেউ ...
15/08/2026

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দুজন স্ত্রী এবং ৬ জন সন্তান তাঁর জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন!

এছাড়াও অসংখ্য সাহাবী শাহাদাতবরণ করেন, কেউ কেউ স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

এই লেখায় এমন ২০ জন সাহাবী ও সাহাবিয়ার নামোল্লেখ করা হয়েছে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন।

১. খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী। নবুওয়াতের দশম বছরে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর কবর মক্কায়, জান্নাতুল মুয়াল্লায়। একই বছরে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর চাচা আবু তালিবকেও হারান। প্রিয় দুই মানুষকে হারানোর কারণে সীরাতের এই বছরটি ‘আমুল হুযন’ বা দুঃখের বছর নামে পরিচিত।

২. হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহু: উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাতবরণ করেন। বদর যুদ্ধে তাঁর হাতে কুরাইশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। উহুদের আগে জুবাইর ইবনে মুতইম তার দাস ওয়াহশিকে হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করতে পারলে মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ওয়াহশির নিক্ষিপ্ত বর্শাতেই হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হন।

৩. সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা: ইসলামের ইতিহাসের প্রথম শহীদ সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা। তিনি ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহুর মা। ইসলাম গ্রহণের কারণে পুরো পরিবারটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে আবু জাহল সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহাকে হত্যা করে। তিনি ইসলামের প্রথম শহীদ হিসেবে প্রসিদ্ধ।

৪. ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু: সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বামী এবং আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাবা। মক্কার দুর্বল মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে ইয়াসিরের পরিবার ছিল সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত পরিবারগুলোর একটি। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের নির্যাতন দেখতেন এবং বলতেন, ‘সবর করো, হে ইয়াসিরের পরিবার! তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান জান্নাত।’ ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহুও মক্কায় নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

৫. মুস‘আব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু: মক্কার অত্যন্ত ধনী ও বিলাসী পরিবারের সন্তান ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর সবকিছু ছেড়ে দেন। মদীনায় ইসলামের প্রথম দাঈ হিসেবে তাঁকেই পাঠানো হয়েছিল। তাঁর দাওয়াতেই মদীনার বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে। উহুদের দিন মুসলিম বাহিনীর পতাকা ছিল তাঁর হাতে। সেই পতাকা রক্ষা করতে করতেই তিনি শাহাদাতবরণ করেন। মৃত্যুর পর তাঁর পুরো শরীর ঢাকার মতো যথেষ্ট বড় কাফনের কাপড়ও পাওয়া যায়নি।

৬. হানযালা ইবনে আবি আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু: উহুদের রাতেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল। যুদ্ধের ডাক শুনে গোসল করার আগেই তিনি যুদ্ধের ময়দানে চলে আসেন। উহুদে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ জানান, ফেরেশতারা তাঁকে গোসল করাচ্ছেন। এজন্য তিনি ইতিহাসে ‘গাসীলুল মালায়িকা’, অর্থাৎ ফেরেশতাদের দ্বারা গোসলপ্রাপ্ত ব্যক্তি নামে পরিচিত হন।

৭. আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহু: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ফুফাতো ভাই। উহুদের আগে তিনি সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আলাদা হয়ে দু‘আ করেছিলেন। তাঁর দু‘আ ছিল, এমন একজন শক্তিশালী শত্রুর মুখোমুখি যেন হন, যে তাঁকে হত্যা করবে এবং তাঁর নাক-কান কেটে দেবে। এরপর আল্লাহর সামনে তিনি বলতে পারবেন, ‘আপনার জন্যই আমার সাথে এমন করা হয়েছে।’ উহুদের দিন তাঁর সেই দু‘আর সাথে মিলে যায় এমনভাবেই তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

৮. সা‘দ ইবনে মু‘আয রাদিয়াল্লাহু আনহু: আনসারদের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর গোত্র বনু আবদুল আশহালের মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। খন্দকের যুদ্ধে তাঁর হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে সেই ক্ষত থেকেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘সা‘দ ইবনে মু‘আযের মৃত্যুতে আরশ কেঁপে উঠেছে।’

৯. উসমান ইবনে মায‘উন রাদিয়াল্লাহু আনহু: ইসলামের একেবারে প্রথম যুগের সাহাবী এবং প্রথম হাবশা হিজরতে অংশগ্রহণকারীদের একজন। অত্যন্ত ইবাদতগুজার ছিলেন। মদীনায় মুহাজিরদের মধ্যে প্রথম মৃত্যুবরণকারী হিসেবে তিনি প্রসিদ্ধ। তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়।

১০. আস‘আদ ইবনে যুরারাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু: মদীনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। আকাবার বাইআতের আগেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মুস‘আব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মদীনায় দাওয়াতের কাজে সহযোগিতা করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ মদীনায় হিজরত করার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন। আনসারদের মধ্যে প্রথম দিকে মৃত্যুবরণকারীদের অন্যতম তিনি।

১১. আবু সালামা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আসাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দুধভাই এবং প্রথম যুগের মুসলিম। হাবশা ও মদীনা, দুই হিজরতই করেছিলেন। উহুদে পাওয়া আঘাত পরবর্তীতে আবার গুরুতর হয়ে ওঠে এবং ৪ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জন্য দু‘আ করেন। পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিয়ে করেন।

১২. যায়দ ইবনে হারিসা রাদিয়াল্লাহু আনহু: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবী। একসময় মানুষ তাঁকে যায়দ ইবনে মুহাম্মাদ বলেও ডাকত। মু’তার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রথম সেনাপতি হিসেবে তাঁকেই নিযুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছিলেন, যায়দ শহীদ হলে জাফর নেতৃত্ব নেবে। মু’তার ময়দানে পতাকা হাতে যুদ্ধ করতে করতে যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাতবরণ করেন।

১৩. জাফর ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু: আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বড় ভাই। হাবশায় নাজাশির দরবারে ইসলামের পক্ষে তাঁর ঐতিহাসিক বক্তব্য সীরাতের অন্যতম বিখ্যাত ঘটনা। মু’তার যুদ্ধে যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হওয়ার পর পতাকা তুলে নেন জাফর। যুদ্ধ করতে করতে তাঁর দুই হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তিনি শাহাদাতবরণ করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ জানান, আল্লাহ তাঁর দুই হাতের পরিবর্তে জান্নাতে দুটি ডানা দিয়েছেন। এজন্য তিনি ‘জাফর আত-তাইয়ার’ নামেও পরিচিত।

১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহু: আনসারদের বিখ্যাত কবি ও সাহাবী। মু’তার তৃতীয় সেনাপতি ছিলেন তিনি। যায়দ ও জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা একে একে শহীদ হওয়ার পর নেতৃত্ব তাঁর হাতে আসে। কিছু মুহূর্ত নিজের নফসের সাথে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত সামনে এগিয়ে যান এবং শাহাদাতবরণ করেন। একই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্ধারিত তিন সেনাপতিই একে একে শহীদ হন।

১৫. হারিস ইবনে উমাইর আল-আযদি রাদিয়াল্লাহু আনহু: রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে দূত হিসেবে শামের দিকে পাঠিয়েছিলেন। পথে গাসসানি শাসক শুরাহবিল ইবনে আমর তাঁকে আটক করে হত্যা করে। সাধারণত রাষ্ট্রীয় দূতকে হত্যা করা হতো না। তাঁর হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়াতেই রাসূলুল্লাহ ﷺ মু’তার দিকে তিন হাজার সৈন্যের বাহিনী পাঠান। এভাবেই তাঁর শাহাদাত মুসলিমদের সাথে বাইজেন্টাইন প্রভাবাধীন শক্তির সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হয়ে দাঁড়ায়।

১৬. রুকাইয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কন্যা এবং উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী। বদর যুদ্ধের সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর সেবার জন্য মদীনায় রেখে যান। মুসলিমরা যখন বদরের বিজয়ের সংবাদ নিয়ে মদীনায় ফিরছিলেন, তখন রুকাইয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহার দাফন সম্পন্ন হচ্ছিল।

১৭. যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বড় কন্যা। তাঁর স্বামী আবুল আস প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেননি। হিজরতের সময় যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহাকে মক্কা থেকে মদীনায় আসার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে আবুল আস ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁদের দাম্পত্য আবার প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮ হিজরিতে যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা ইন্তেকাল করেন।

১৮. উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহা: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কন্যা। রুকাইয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুর পর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। এ কারণেই উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘যুন নূরাইন’, অর্থাৎ দুই নূরের অধিকারী নামে প্রসিদ্ধ হন। ৯ হিজরিতে উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহা ইন্তেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে তাঁর দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

১৯. সা‘দ ইবনে খাইসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু: আকাবার বাইআতে অংশগ্রহণকারী আনসারি সাহাবী। বদরের যুদ্ধে যাওয়ার সময় তাঁর বাবা খাইসামার সাথে কে যুদ্ধে যাবেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত লটারিতে সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম ওঠে। তিনি বদরে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানেই শাহাদাতবরণ করেন। পরে তাঁর বাবা খাইসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুও উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন।

২০. উম্মে রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহা: আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী এবং আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মা। ইসলামের প্রথম যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদীনায় হিজরত করেন। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়, ইফকের ঘটনার সময়ও তিনি মেয়ের পাশে ছিলেন। প্রসিদ্ধ সীরাতি বর্ণনা অনুযায়ী তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবদ্দশাতেই মদীনায় ইন্তেকাল করেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণকারী সাহাবীর সংখ্যা এই ২০ জনেই সীমাবদ্ধ নয়।

বদরেই শহীদ হন ১৪ জন। উহুদে প্রায় ৭০ জন। বিরে মাউনার ঘটনায় শহীদ হন বহু কুরআনের কারী সাহাবী। মু’তার যুদ্ধে শহীদ হন যায়দ, জাফর, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাসহ আরও অনেকে।

অর্থাৎ, ২৩ বছরের নবুওয়াতি জীবনে রাসূলুল্লাহ ﷺ শুধু একটি নতুন উম্মাহ গড়ে উঠতে দেখেননি। নিজের চোখের সামনে একে একে হারিয়েছেন স্ত্রী, সন্তান, চাচা, আত্মীয়, বন্ধু এবং অসংখ্য প্রিয় সাহাবীকে।

ওহে উহুদ...!তোমাকে পাহাড় বলে কীভাবে ডাকি বলো তো? তোমার বুকের প্রতিটি পাথর যে আমার প্রিয় রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পদচিহ্নের স্মৃ...
08/08/2026

ওহে উহুদ...!

তোমাকে পাহাড় বলে কীভাবে ডাকি বলো তো? তোমার বুকের প্রতিটি পাথর যে আমার প্রিয় রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পদচিহ্নের স্মৃতিতে ধন্য।

তুমি কত্ত সৌভাগ্যবান...!

তুমি তাঁকে দেখেছো, আর আমি শুধু তাঁর জন্য অশ্রু ঝড়াই!

তুমি তাঁর কণ্ঠ শুনেছো, আর আমি তো তাঁর নাম শুনেই হৃদয় ভিজিয়ে ফেলি!

তুমি তাঁর পায়ের ধুলোকে নিজের বুকে ধারণ করেছ, আর আমি চৌদ্দশো বছরের দূরত্ব পেরিয়ে শুধু তাঁর শহরটাকে ভালোবাসতে শিখেছি!

তোমার গায়ে লেগেছিল তার ছায়া, আর আমি হাজার মাইল দূরে বসে শুধু তাঁর শহরের দিকেই তাকিয়ে থাকি কখন ডাক আসবে এই ভেবে!

কিন্তু, আমার যে তোমার মত সৌভাগ্য হয়নি! এই যন্ত্রনা কেমন করে বয়ে বেড়াই বলো তো? কতবার ভেবেছি, যদি তোমার সঙ্গে কিছুক্ষণ একা বসে কথা বলতে পারতাম!

বলতো উহুদ যেদিন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তোমার বুকের ওপর দিয়ে হেঁটেছিলেন, সেদিন কি তোমার প্রতিটি পাথর আনন্দে কেঁপে উঠেছিল?

যেদিন তাঁর মুবারক রক্ত তোমার মাটিতে ঝরে পড়েছিল, সেদিন কি আকাশও কেঁদেছিল তোমার সঙ্গে? তাঁর কি খুউব কষ্ট হয়েছিলো? আজও তাঁর কষ্টে আমার বুকে মোচড় দিয়ে ওঠে, ভেতরে যন্ত্রনা গুলো ছুটে যায় এদিক ওদিক! কি করে বোঝাই?

যেদিন তিনি তোমাকে ভালোবেসে বলেছিলেন—উহুদ আমাদের ভালোবাসে, আমরাও উহুদকে ভালোবাসি।—সেদিন কি তোমার প্রতিটি পাথর আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছিল?

ওহে উহুদ! তোমার সৌভাগ্য দেখে আমার কি ঈর্ষা করা উচিত?

তুমি আজও সেই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছো, যেখানে তিনি ﷺ হেঁটেছেন। আর আমি? আমি তো শুধু তাঁর গল্প শুনেই,তার সুন্নাহ আকড়ে ধরেই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি!

হে উহুদ! যদি কখনো আমার সালাম তোমার পাথরে এসে স্পর্শ করে, তবে মাদীনার বাতাসকে বলো—

দূরদেশে এক অধম আছে, যে চৌদ্দশ বছরের দূরত্ব পেরিয়েও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে শিখেছে; যে তাঁকে না দেখেই, প্রতিটি দরূদে তার নাম উচ্চারণ করে কেঁদে ওঠে, যে এক নগণ্য উম্মত ভীষন দেরি করে এসেছে, কিন্তু রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর মুহাব্বাতে কখনো দেরি করেনি।

হে উহুদ! আমি তোমাকে ভালোবাসি, কারণ যিনি আমার হৃদয়ের সবচেয়ে প্রিয় রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তিনিও তোমাকে ভালোবেসেছেন..!!

04/08/2026

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার রাতের চন্দ্রের মত উজ্জ্বল। অতঃপর যে দল তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের সর্বাধিক দীপ্তিমান উজ্জ্বল তারকার ন্যায়। তারা পেশাব করবে না, পায়খানা করবে না। তাদের থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না এবং তাদের নাক হতে শ্লেষ্মাও বের হবে না। তাদের চিরুণী হবে স্বর্ণের তৈরী। তাদের ঘাম হবে মিস্‌কের মত সুগন্ধযুক্ত। তাদের ধনুচি হবে সুগন্ধযুক্ত চন্দন কাষ্ঠের। বড় চক্ষু বিশিষ্টা হুরগণ হবেন তাদের স্ত্রী। তাদের সকলের দেহের গঠন হবে একই। তারা সবাই তাদের আদি পিতা আদম (‘আঃ)-এর আকৃতিতে হবেন। উচ্চতায় তাদের দেহের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। (৩২৪৫) (আ.প্র. ৩০৮১, ই.ফা. ৩০৮৯)

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৩২৭

Address

Mirpur/10
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when IOA - Islamic Online Academy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share