04/04/2026
ভরপেটে আল্লাহকে পাওয়া যায় না , আমাকে আপনি এমন একজন প্রকৃত আল্লাহ ওয়ালা মানুষ দেখাতে পারবেন না , যিনি ভরপেট খাওয়া দাওয়া করে এবং এতে অভ্যস্ত , তিন বেলা গরুর মত খেয়ে সকাল সন্ধ্যা নাস্তার আয়োজন করে এবং কথায় কথায় চা বিড়ি সিগারেট কফি ইত্যাদিতে ডুবে থেকে কখনোই প্রকৃতপক্ষে ইলমের নূর পাওয়া সম্ভব নয় প্রকৃত একজন আল্লাহ ওয়ালা হওয়া সম্ভব নয় প্রকৃতপক্ষে একজন আলেম হওয়া সম্ভব নয় যদি এমন কাউকে আপনি দেখেন তাহলে বুঝে নিবেন সে হচ্ছে দ্বীনের লেবাসধারী মাত্র !
লেখনীটি আপনাদের সুবিধার্থে ৩টি খন্ড করে দিচ্ছি --
🔹🔹🔹🔹🔹খন্ড ১ 🔹🔹🔹🔹🔹
নফসকে কাহিল করার উপায় হলো এটিকে ভুখা রাখতে হবে। যত বেশি এটিকে ভুখা রাখবে এটি তত বেশি নিস্তেজ হয়ে যাবে। তখন এর মধ্যে আনুগত্য পয়দা হবে। আজ মুসলমান রকমারি মজাদার খাবার খেয়ে খেয়ে নফসকে খুব শক্তিশালী করে ফেলেছে। তাই সারা দুনিয়ার মুসলমান আজ এতো গোনাহে লিপ্ত ও দীন থেকে বহু দূরে।
এ কারণেই মুসলমানরা দুনিয়াতে অত্যাচারিত হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ পাকের সাহায্য থেকে দূরে। আমরা যে তিন বেলা খানা খাই, কুরআন বা হাদিসের কোথায় এ নিয়ম লেখা আছে? নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজ শেষে ঘরে এসে ব্রেকফাস্ট খেলেন, তারপর দুপুরে লাঞ্চ করলেন এবং ইশার নামাজের পর ডিনার করে বিছানায় গেলেন-এরকম হাদিস কোথায় আছে?
আজ মুসলমান তিন, চার, পাঁচ বেলা খানা খাওয়ায় ও বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে তাদের নবীর সুন্নতকে ছেড়ে দিয়েছে। মুসলমান জানে না তার জন্য কতটুকু খানা খাওয়া চাই। সকলের জন্য জরুরি হলো নিজের ব্যক্তিগত খোরাকির একটি পরিমাণ নির্ধারণ করা। আমি সপ্তাহে এতোটুকু চাল খাবো, আটা খাবো বা অন্যান্য কিছু খাবো। এ পরিমাণ খুব অল্প পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। তারপর এর বাইরে সকল ধরনের খানা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
চায়ের দোকানে বসে একটু চা বিস্কুট বা কলা খাওয়া এবং এরকম অহেতুক সকল হালাল খানা থেকে নিজেকে এমনভাবে বিরত রাখবে, যেমন কিনা আল্লাহর নেক বান্দারা নিজেদেরকে হারাম থেকে বিরত রাখেন।
প্রথম দিকে তিন বেলার বাইরে অন্য কোনো খানা খাবে না। তারপর ধীরে ধীরে দু'বেলা, এরপর ধীরে ধীরে এক বেলা খানায় নিজেকে অভ্যস্ত করবে। আমার লেখা পড়ে প্রথম দিকে এ কাজকে খুব কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু কেউ হিম্মত করে শুরু করলে এক মাসের মধ্যে নিজেকে একবেলা খানায় অভ্যস্ত করা সম্ভব। যখন এক বেলায় অভ্যস্ত হয়ে যাবে তখন মাঝে মাঝে একাধারে কয়েকদিন না খেয়ে থাকবেন। এভাবে না খেয়ে থাকার কারণে এমন নূর হাসিল হবে, যা অন্য কোনো আমলের দ্বারা হাসিল করা সম্ভব নয়। তখন নামাজ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতে ধ্যান পয়দা হবে। তাহাজ্জুদের সময় আপনা আপনিই ঘুম ভেঙ্গে যাবে, এলার্ম ঘড়ির প্রয়োজন হবে না।
একদিন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে দেখলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বসে বসে নামাজ আদায় করছেন। এটি দেখে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত ও ব্যথিত হলেন, কারণ নবীজি সাধারণত দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ পড়তেন।
আবু হুরায়রা (রা.)-এর জিজ্ঞাসা নামাজ শেষ হলে আবু হুরায়রা (রা.) আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে বসে নামাজ পড়তে দেখলাম, আপনার কি শরীর খারাপ বা আপনি কি অসুস্থ?"
নবীজির উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত ধীর স্বরে উত্তর দিলেন, "হে আবু হুরায়রা! ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না, তাই বসে নামাজ পড়ছি"।
আবু হুরায়রা (রা.) এটি শুনে অঝোরে কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি ভাবলেন, যাঁর উসিলায় সারা দুনিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং যাঁর হাতে জান্নাতের চাবিকাঠি, তিনি আজ ক্ষুধার কষ্টে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারছেন না
আবু হুরায়রা (রা.)-কে কাঁদতে দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে একটি ঐতিহাসিক কথা বলেন:
"হে আবু হুরায়রা! কেঁদো না। মনে রেখো, দুনিয়াতে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করবে, হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহ তাদের হিসাব অত্যন্ত সহজ করে দেবেন"
ভুখা থাকলে প্রথম দিকে কিছুটা দুর্বল লাগবে, মাথা ঘুরাবে, কিন্তু খুব শীঘ্রই শরীর এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা হলো, দু দিন পর্যন্ত ক্ষুধা বা দুর্বলতা কিছুই অনুভব হয় না, তৃতীয় দিন কিছুটা দুর্বল লাগে। কিন্তু এর দ্বারা নামাজ ও ইবাদতে যে স্বাদ অনুভব হয় তা অনেক সুস্বাদু খানা ও দুনিয়ার অন্যান্য সকল মজা থেকে উত্তম।
ভুখা থাকার আর একটি উপকারিতা হলো শরীর থেকে রোগ-বালাই দূর হয়ে যাবে। হাদিসে পাকে এরশাদ হয়েছে, সকল রোগের কারণ হলো পেট পুরে খানা খাওয়া এবং এ থেকে আরোগ্য লাভের উপায় হলো ভুখা থাকা। ভুখা থাকার পরেও কখনো কখনো জ্বর হতে পারে। জ্বর নবীদের রোগ। তাই জ্বর হলে সবর করা চাই।
এক হাদিসে এরশাদ হয়েছে, জ্বর আমার উম্মতের জন্য জাহান্নামের অংশ, এর কারণে গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। নিজেকে শরিয়তের উপর অটল রেখে ভুখা থাকার পরও যদি কোনো রোগ আসে, তাহলে তা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে এক নেয়ামত, এর দ্বারা আল্লাহ পাক তার বান্দাকে নিজের নৈকট্য দান করেন। আইয়ুব আলাইহিস সালাম এতো অসুস্থ হলেন যে লোকেরা তার শরীরের দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে তাকে এলাকার বাইরে ফেলে আসলো। সঙ্গে কেবলো তার স্ত্রী ছিলেন।
সেই সময় আইয়ুব আলাইহিস সালাম নিজের সুস্থতার জন্য দোয়া করাও পছন্দ করতেন না। কেননা এ অসুস্থতার কষ্ট সহ্য করার কারণে আল্লাহ পাক প্রতিদিন তাকে একবার জিজ্ঞাসা করতেন, আইয়ুব তুমি কেমন আছো? আল্লাহ পাকের সাথে এ সম্পর্ক হাসিলের জন্য বান্দার জন্য জরুরি হলো সে নিজেকে দুনিয়াতে ভোগ করা থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহ পাক তার হাবিব নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখতেন অকারণে নয়। অকারণে সাহাবায়ে কেরাম ভুখা দিন পার করতেন না। এটি এক আজিমুশ্বান আমল, যা জমিন থেকে হারিয়ে গিয়েছে। ভুখা থাকার দ্বারা আল্লাহ পাক রূহে ও শরীরে শক্তি দান করবেন।
🔸🔸🔸🔸🔸🔸২য় খন্ড 🔸🔸🔸🔸🔸🔸
ডাক্তারদের কথা শুনো না। এরা ইহুদীদের কালাম পড়ে। ইহুদীরা সব সুন্নতের বিরুদ্ধে কথা বলবে। নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি পছন্দ করতেন, এরা তোমাদের মিষ্টি খেতে নিষেধ করবে। নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠান্ডা পছন্দ করতেন, এরা ঠান্ডা নিষেধ করবে। নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের পর দিন খেজুর খেয়েছেন।
সৌদিতে গেলে শুনবেন সেখানে ডাক্তাররা দিনে তিনটার বেশি খেজুর খেতে নিষেধ করে, এতে রক্তে সুগার বেড়ে যায়। যতসব ফালতু লোকজন, মুসলমানকে তাদের নবীর সুন্নত থেকে সরানোর সব ষড়যন্ত্র। সবাই এদের কথাকে অস্বীকার করো। ঔষুধ না খাওয়ার চেষ্টা করো। কারণ বেশিরভাগ ঔষুধের ফর্মুলা আসে আমেরিকা থেকে। কোনো সন্দেহ নেই যে এরা এগুলোর মধ্যে হারাম বস্তু মিশ্রণ করে। যদি কোনো মুফতি সাহেব অসুস্থতার অবস্থায় হারাম গ্রহণের অনুমতি দান করে, তাহলে এ সকল মুফতি সাহেবদের থেকে দূরে থাকো।
এরা দীন বুঝেনি, এরা একটি হাদিসের ভুল অর্থ গ্রহণ করে। বরং অসুস্থতার ব্যাপারে সরাসরি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ পাক জমিনে যত রোগ দিয়েছেন, সাথে তার শিফাও দিয়েছেন। কিন্তু তোমরা হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করো না। তাই সকল মেডিসিন বর্জন করো। নিয়মিত কালিজিরা, মধু, দুধ, মেথি, খেজুর, শসা খাওয়ার অভ্যাস করো ও ভুখা থাকো, পরিষ্কার ও পবিত্র থাকো, নিজেকে গোনাহমুক্ত রাখো। আল্লাহ পাক সকল রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন।
আর যদি এসব কিছুর পরও কোনো রোগ আসে তাহলে আইয়ুব আলাইহিস সালামের মতো ধৈর্যশীল হও। আল্লাহ পাক আসমানে তোমাকে নিয়ে গর্ব করবেন।
একসময় আমি কিছুদিন হেকিমি করেছিলাম। তখন যত রোগী আমার নিকট চিকিৎসার জন্য আসতো, এরা মূলত তিনটি রোগে আক্রান্ত ছিলো। পাইলস, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্ত্রী সহবাসে অক্ষমতা। আমি এগুলোর সহজ ও অব্যর্থ চিকিৎসা বলে দিচ্ছি। প্রতিদিন সকালে ৭টি নরম খেজুর নিবে। খেজুরগুলো শক্ত হলে ধুয়ে অল্প পানিসহ কিছুক্ষণ রেখে নরম করে নিবে। প্রতিটি খেজুরে ১ বার করে সূরা ফাতিহা পড়ে দম দিবে। তারপর খেজুরগুলো খেয়ে এক পেয়ালা ঠান্ডা দুধ খেয়ে নিবে। সম্ভব হলে দুধের সাথে মধু মিশিয়ে নিবে। এটিই তোমার প্রতিদিনের খাবার।
সাথে একটি রুটি, মশলা না কসিয়ে পাকানো পাকানো সবজি ও গোস্ত প্রতিদিন খাবে। শুকনা মরিচ ও কাঁচা মরিচ থেকে হারামের মতো বিরত থাকো। এছাড়া অন্য সময় ক্ষুধা লাগলে ঠান্ডা ফলের শরবত পান করবে। রাতে বিলকুল খাবে না। প্রতিদিন তিলাওয়াত করবে ও নামাজ আদায় করবে। এভাবে একবেলা করে ৪০ দিন খেয়ে দেখো। পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য একেবারে ভালো হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। স্ত্রী সহবাসের অক্ষমতাও দূর হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে আর একটি আমল করবে। ফজরের নামাজের পর সুরা নাস পড়ে বাম হাতে মুখের লালা নিয়ে তা লজ্জাস্থানে লাগিয়ে দিবে। ইনশাআল্লাহ, সফলকাম হবে।
ভুখা থাকার দ্বারা রূহানি শক্তির সাথে সাথে অনেক এলেম হাসিল হবে। কুরআন হাদিসের অন্তর্নিহিত অর্থসমূহ প্রকাশ পাবে। ভুখা অবস্থায় তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে রাতের শেষভাগে তিলাওয়াত করবে। এতে করে কাশফ হাসিল করবে এবং গায়েবের এমন সব জিনিস নজরে ভাসবে যা তোমাকে ঈমানের মজা দিবে। এটিকে মারেফত বলে। আসহাবে সুফফার সাহাবী রদিয়াল্লহু আনহুম দিনের পর দিন ক্ষুধার্ত থেকে দীন শিখেছেন।
হাদিসের ইমাম আবু হুরাইরাহ রদিয়াল্লহু আনহু ভুখা থাকতে থাকতে বেহুশ হয়ে পড়ে যেতেন, লোকেরা তাকে পাগল মনে করে পা দিয়ে ঘাড়ে পারা দিতেন। ভুখা থাকা এলেমের শর্ত। আর তাই আজ জমিন থেকে এলেম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।
♦️♦️♦️♦️♦️♦️৩য় খন্ড♦️♦️♦️♦️♦️♦️
জমিন থেকে এলেম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকরা মানতে চাইবে না। হাজারো মাদরাসা কেবলো বাংলাদেশেই আছে, সারা দুনিয়াতে না জানি কত মাদরাসা আছে। না জানি কত লাখো-কোটি কুরআন ও হাদিসের কিতাব মওজুদ আছে, তাহলে এলেম উঠিয়ে নেওয়া হলো কীভাবে? রিয়াদে একজন এক আলেমকে মজলিসে বসে প্রশ্ন করেছিলেন, এলেম যে উঠিয়ে নেওয়ার কথা হাদিসে বলা হয়েছে তা কীভাবে হবে? সে আলেমের উত্তর শুনে আমার কাছে খুবই হাস্যকর মনে হয়েছে।
উনার জবাব হলো, এলেম উঠিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন সব কিতাব ও কুরআন সফটওয়্যারে চলে এসেছে। একসময় মানুষ পুরোপুরি সফটওয়্যার নির্ভরশীল হয়ে যাবে। তখন কেবলো সফটওয়্যারে কিতাব থাকবে, কাগজের কিতাব আর থাকবে না। তারপর একসময় টেকনোলজি ধ্বংস হয়ে যাবে, এভাবে এলেমও জমিন থেকে বিলিন হয়ে যাবে। ঐ ব্যাচারা আলেম মাদরাসায় পড়েও বস্তুবাদী চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এলেম কখনোই শুধু কিতাব পড়ার নাম নয়। বরং এলেম হলো আল্লাহ পাকের পরিচয় লাভের এক মাধ্যম। যার মধ্যে আল্লাহ পাকের ভয় পয়দা হয়েছে, সে এলেম হাসিল করে নিয়েছে, যদিও সে কখনো মাদরাসায় পড়াশোনা না করুক।
যখন এলেম উঠিয়ে নেওয়া হবে তখন কিতাব মওজুদ থাকবে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এরশাদ হয়েছে,
سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ، وَمِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ ، مَسَاجِدُهُمْ يَوْمَئِذٍ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى. عُلَمَاؤُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ مِنْهُمْ خَرَجَتِ الْفِتْنَةُ وَفِيهِمْ
تَعُودُ . ( المجالسة وجواهر العلم الحديث : (۵۱۹)
অর্থ: মানুষের উপর এমন একটি জামানা আসবে, যখন ইসলামের নাম ব্যতীত কিছুই বাকী থাকবে না। কুরআনের অংকিত হরফ ব্যতীত কিছুই বাকি থাকবে না। এই জামানার আলামত হলো সেই সময় মসজিদগুলো সুসজ্জিত থাকবে, কিন্তু সেখানে হেদায়াত থাকবে না। তখনকার আলেমরা আসমানের ছায়ার নিচের নিকৃষ্টতম বান্দা হবে। এদের থেকেই ফিত্না ছড়াবে এবং সেই ফিন্নাতে নিজেরাই পতিত হবে।
এটিই সেই জমানা। মক্কার মসজিদে হারামের দিকে তাকিয়ে দেখো, এটিই সেই জমানা। মদিনার মসজিদে নববীর দিকে তাকিয়ে দেখো, এটিই সেই জমানা। দুনিয়ার হাজার হাজার মসজিদের দিকে তাকিয়ে দেখো, মসজিদগুলো আমাদেরকে সাক্ষী দিচ্ছে, এটিই সেই জমানা। যদিও মুসলমানরা বেখবর। এভাবে বেখবর হালতেই একজন জীর্ণশীর্ণ মানুষ ইমাম মাহদি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। সেই সময় তাঁর সাথে যারা সঙ্গ দিবেন তাদের অধিকাংশই হয়তো এ জমানার আলেমরা হবেন না। কারণ তাঁরাতো আসমানের নিচের নিকৃষ্টতম মানুষ হবেন না।
বরং উনারা দুনিয়াকে বিসর্জনকারী এক পবিত্র জামাত হবেন। যারা আল্লাহকে ভয় করে চলনেওয়ালা হবেন। তাই জমিনের সকল পরাশক্তিরা তাদেরকে ভয় করবে, যদিও তাদের নিকট সকল আগ্নেয়াস্ত্র ও সরকারি ক্ষমতা থাকুক না কেনো।
যেটা কিছুক্ষণ আগে বলেছিলাম, আমাদেরকে এমন মুসলমান হওয়ার জন্য মেহনত করা চাই, যাদের দোয়া আল্লাহ পাক ফিরিয়ে দিবেন না। আজকে দুনিয়ার মুসলমানদের দোয়ায় আল্লাহ পাক সাড়া দেন না। হাদিসে পাকে এরশাদ হয়েছে:
الدُّعَاءُ سِلَاحُ الْمُؤْمِنِ
অর্থ: দোয়া হলো মু'মিনের হাতিয়ার। (মুসনাদে আবিল ইয়ালি, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৪, হাদীস-৪৩৯)
দোয়াকে হাতিয়ার বলা হয়েছে। হাতিয়ারের দ্বারা হালত পরিবর্তন হয়। দুনিয়ার মুসলমানরা এখন কাফেরদের বলির পাঠা হয়ে রক্ত দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনে আজ ৭০ বছর ধরে ইসরায়েলিরা মুসলমানদের হত্যা করছে। কাশ্মীর, আসামসহ সারা ইন্ডিয়াতে সবসময়ই মুসলমানরা অত্যাচারিত। ইরাকে মুসলমানদেরকে সেই ১৯৯০-৯১ সাল থেকে হত্যা করা হচ্ছে এবং তা এখনো চলছে। মায়ানমারের মুসলমানদের জবাই করে কলিজা চিবিয়ে খায় সেখানকার হায়াওয়ান। আফগানিস্তানেও একই অবস্থা। এক আফগানি লোক বললো, তোমরা মায়ানমারের ভিডিও দেখে ভাবছো ওদের উপর খুব জুলুম হচ্ছে। অথচ আফগানিস্তানের অবস্থা এর চেয়েও ভয়াবহ, যা কখনো কোনো মিডিয়াতে আসেনি।
সিরিয়ার এক মুসলমান বললো আমাদের এখন প্রতিদিন ৬ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও জানাজা। সিরিয়াতে সম্ভ্রান্ত মেয়েরা নিলামে বিক্রি হচ্ছে। কিতাবুল ফিতানে এক হাদিসে ইমাম মাহদি আবির্ভাবের পূর্বের অবস্থা বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তখন সিরিয়াতে আরবি সম্ভ্রান্ত বংশের মেয়েরা ২৫ দিরহামে বিক্রি হবে। হায়, এ হাদিসের বাস্তব রূপ এখন সিরিয়াতে চলছে। আর আমরা এখনো বেখেয়াল। দুনিয়া জুড়ে এতোসব জুলুমের শিকার মুসলমান আজ আল্লাহ পাকের দরবারে হাত তুলে সাহায্য প্রার্থনা করে, কিন্তু আল্লাহ পাক তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন করছেন না। আল্লাহ পাক এরশাদ ফরমান:
ادْعُونِي أَسْتَجِبْلَ كُمْ
অর্থ: আমার নিকট চাও, আমি তোমাদেরকে দিবো।
আল্লাহ পাকের ওয়াদা তো সত্য। কিন্তু আজকে আমরা চাইলে কেনো পাই না? মুসলমান চাইলে আজ কেনো পায় না? কয়েক সপ্তাহ আগে মসজিদুল হারামে শেখ সুদাইসি জুম্মার খুতবাতে আরাকান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, চীন ও সারা দুনিয়ার মজলুম মুসলমানদের জন্য দোয়া করলেন। জুম্মার দিন কা'বার সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া হয়েছে ও লক্ষ লক্ষ হাজী সেই সাথে আমিন বলেছে। কিন্তু কই! দুনিয়ার মুসলমানদের অবস্থা তো পরিবর্তন হয়নি। আল্লাহ পাক কেনো মুসলমানদের সাহায্য করা বন্ধ করে দিলেন? এর কারণ খুঁজে বের করা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।
নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান:
وَالْعَاجِزُ مَنْ اتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ
অর্থ: বেওকুফ ঐ ব্যক্তি যে তার নফসের খাহেশের অনুসরণ করে, আবার আল্লাহ পাকের দরবারে আশা করে। (তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৬৩৮, হাদীস-২৪৫৯)
এই হাদিসের মানে হলো, যে নিজের খাহেশ পূরণ করে, তার জন্য আল্লাহ পাকের নিকট কিছু আশা করা বোকামি। এদের দোয়া কখনো কবুল হবে না। সারা দুনিয়ার মুসলমান আজ খাহেশে লিপ্ত। এদের দোয়া কীভাবে কবুল হবে? আমরা তো আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সম্ভব এরকম সকল খাহেশ পূরণ করে ফেলি। আর যেটি সামর্থ্যের বাইরে সেটির জন্য আফসোস করি। আমাদের খুব তাওবা করা চাই। নিজেদের দুর্গতির জন্য আমরাই দায়ী। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা ছাড়া কোনো রাস্তা নেই। আল্লাহর রহমত অনেক প্রশস্ত। তিনি তার বান্দার প্রতি অনেক বেশি মেহেরবান।
যারা ধৈর্যের সাথে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়েছেন আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুক জাযাকাল্লাহু খাইরান ❤️
✍🏻 আরিয়ান রশিদ