Turn Back to Allah

Turn Back to Allah Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Turn Back to Allah, Religious Center, House 100, Road 20, Sector 20, Dhaka.

প্রশ্ন: মানুষ কবর থেকে উঠার প্রথম মুহূর্তে কী অনুভব করবে?উত্তর:মানুষ যখন কবর থেকে পুনরুত্থিত হবে, তখন প্রথমেই সে প্রচণ্ড...
05/04/2026

প্রশ্ন: মানুষ কবর থেকে উঠার প্রথম মুহূর্তে কী অনুভব করবে?
উত্তর:
মানুষ যখন কবর থেকে পুনরুত্থিত হবে, তখন প্রথমেই সে প্রচণ্ড ভয় ও আতঙ্ক অনুভব করবে। সে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দ্রুত উঠে দাঁড়াবে। আল্লাহ তাআলা এই ভয়াবহ দৃশ্যকে এভাবে বর্ণনা করেছেন:

{يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلَىٰ نُصُبٍ يُوفِضُونَ}
“সেদিন তারা কবর থেকে দ্রুত বের হবে, যেন তারা তাদের উপাস্য প্রতিমার দিকে ছুটে যাচ্ছে।” (সূরা আল-মা‘আরিজ: ৪৩)
অর্থাৎ, তারা অত্যন্ত দ্রুত ও আতঙ্কিত অবস্থায় কবর থেকে বের হবে। এই অবস্থাই মানুষের প্রথম অনুভূতি।
এরপর আল্লাহ বলেন:

{وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُمْ مِنَ الْأَجْدَاثِ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يَنْسِلُونَ}
“আর শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে যাবে।” (সূরা ইয়াসীন: ৫১)
এখানে “يَنْسِلُونَ” শব্দের অর্থ হলো ভয় ও লজ্জার সাথে দ্রুত চলা।
মানুষের অনুভূতি (কাফিরদের ক্ষেত্রে)
কাফিরদের উপর তখন লাঞ্ছনা, অপমান ও ভয়ের ছাপ থাকবে। আল্লাহ বলেন:
{خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ}
“তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে এবং তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে লাঞ্ছনা।” (সূরা আল-কলম: ৪৩)
আরও বলেন:
{يَوْمَ يَخْرُجُونَ... خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ} (সূরা আল-মা‘আরিজ: ৪৩–৪৪)
তারা তখন আফসোস করে বলবে:
{يَقُولُ الْكَافِرُ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا}
“হায়! আমি যদি মাটিই হতাম!” (সূরা আন-নাবা: ৪০)
মুমিনদের অবস্থা
মুমিনরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও শান্ত থাকবে। তারা আল্লাহর প্রতিশ্রুত নেয়ামতের আশায় আনন্দিত থাকবে, যদিও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তারা উপলব্ধি করবে।
নবী ﷺ বলেছেন:

"يَخْرُجُ مِنْ قَبْرِهِ كَأَنَّهُ غُصْنٌ أَخْضَرُ"
“মুমিন তার কবর থেকে এমনভাবে বের হবে যেন সে সবুজ ডালের মতো সতেজ।”
সবার জন্য সাধারণ অবস্থা
সব মানুষই এক ধরনের ভয় ও অস্থিরতার মধ্যে থাকবে। হাদীসে এসেছে:
"يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا"
“কিয়ামতের দিন মানুষকে খালি পায়ে, নগ্ন ও খতনাবিহীন অবস্থায় একত্র করা হবে।”
হাশরের ময়দানে অবস্থা
মানুষকে একত্র করা হবে একটি বিশাল সাদা জমিনে। সূর্য তাদের মাথার খুব কাছে চলে আসবে, এবং তারা তাদের আমল অনুযায়ী ঘামে ডুবে যাবে।
নবী ﷺ বলেছেন:

"تُدْنَى الشَّمْسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ... فَيَكُونُ النَّاسُ عَلَى قَدْرِ أَعْمَالِهِمْ فِي الْعَرَقِ"
“কিয়ামতের দিন সূর্য মানুষের খুব কাছে আনা হবে… এবং মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী ঘামে ডুবে যাবে।”
কেউ গোড়ালি পর্যন্ত, কেউ হাঁটু পর্যন্ত, কেউ কোমর পর্যন্ত, আর কেউ সম্পূর্ণভাবে ঘামে ডুবে যাবে।
উপসংহার
কবর থেকে উঠার প্রথম মুহূর্তটি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। কাফিরদের জন্য তা হবে লাঞ্ছনা ও অনুতাপের শুরু, আর মুমিনদের জন্য তা হবে আশা ও নিরাপত্তার সূচনা—যদিও সবার মধ্যেই সেই দিনের ভয় ও মহিমার অনুভূতি থাকবে।
👉 তাই আমাদের উচিত এই দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া—নেক আমল করা, আল্লাহকে ভয় করা, এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলা।

যতোবার বিমানে চড়ি, ততোবারই একই ভাবনা এসে ভর করে আমার মনে। একটা সুবিশাল আকৃতির ভীষণ ভারী জিনিস, এতোগুলো মানুষ, এতো এতো জি...
05/04/2026

যতোবার বিমানে চড়ি, ততোবারই একই ভাবনা এসে ভর করে আমার মনে। একটা সুবিশাল আকৃতির ভীষণ ভারী জিনিস, এতোগুলো মানুষ, এতো এতো জিনিসপাতি নিয়ে এই যে মাটি থেকে হাজার হাজার ফুট উঁচুতে, শূন্যের উপর কীভাবে যে ভেসে থাকে ভাবতে গেলে কোনো কূল পাই না।

আমি খুব ভালো করে জানি এর পেছনে দুর্দান্ত বিজ্ঞান কাজ করে। চার ধরণের বল প্রয়োগ বিমানকে আকাশে ভেসে থাকতে সাহায্য করে—লিফট, ড্র‍্যাগ, গ্র‍্যাভিটি ও থ্রাষ্ট। বিমানের প্রত্যেকটা অবকাঠামো—ইঞ্জিন, পাখা ইত্যাদি—এমনভাবে ডিজাইন করা যে—প্রত্যেকটাই বিমানের উড্ডয়ন এবং ভেসে থাকার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

এই সমস্তকিছু জানা এবং বোঝার পরও, বিমান যখন আমাকে নিয়ে হাজার হাজার ফুট উঁচুতে উঠে যায়, আমার মাথা থেকে যেন সমস্ত যুক্তি, সমস্ত বুঝ হারিয়ে গিয়ে কেবল একটা ব্যাপারই ঘুরতে থাকে মনে—How is this possible!

শত শত লোক, শত শত ভারী ভারী লাগেজ, বিমানের নিজস্ব বিশালাকৃতির দেহ—সমস্তটাই নিয়ে এই যে ভাবনাহীন ভেসে থাকা—আমার কাছে এই উত্তর আধুনিক যুগে বসেও এটাকে রূপকথার গল্পের মতোন আশ্চর্য ঘটনা বলে মনে হয়।

ছবিতে পৃথিবীর যে দৃশ্যটা দেখতে পাচ্ছেন, এটা কোনো গ্রাফিক্স কিংবা এআই জেনারেটেড ছবি নয়৷ নাসার দাবি, চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা করা তাদের নতুন নভোযান থেকে পৃথিবীর এই ছবিটি সদ্যই তোলা। সম্ভবত ছবিটার বয়স বড়জোর তিনদিন।

হাজার দুয়েক ফুট উঁচুতে, চারশো থেকে পাঁচশো মানুষ নিয়ে ভেসে থাকা একটা বিমানে বসে, বিমান ভেসে থাকার যাবতীয় বিজ্ঞান সম্পর্কে জেনেও যেখানে আমার বিস্ময়ের ঘোর কাটে না, সেখানে এই যে সুবিশাল মহাশূন্যে পৃথিবীটা এভাবে ভেসে আছে কোটি কোটি বছর ধরে—এই ঘটনা কি আমার চোখে কম আশ্চর্যের? সুবহানাল্লাহ!

সন্দেহবাতিকেরা এসে বলবে, পৃথিবী সহ মহাশূন্যের যাবতীয় গ্রহ আর নক্ষত্রেরা ভেসে থাকে, কারণ এর পেছনে পদার্থবিজ্ঞানের এই এই ল কাজ করে বলে।

আলবৎ!

তা তো কেউ অস্বীকার করেনি কোনোকালে।

বিমান আকাশে ভেসে থাকে, কারণ বিমানকে ভাসিয়ে রাখার জন্য বিজ্ঞানের যে মেকানিজম দরকার, বাতাসকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, অভিকর্ষজ বলকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার তা খুবই সুনিপুণভাবে তা করা হয়েছে।

এই যে মেকানিজমটা, এটা কারা করেছে?

নিশ্চয় বিজ্ঞানীগণ। রক্ত মাংশের একদল মানুষ। কিছু বুদ্ধিমান সত্ত্বা।

চারশো থেকে পাঁচশো মানুষ নিয়ে একটা জিনিস নির্বিঘ্নে শূন্যে ভেসে থাকবে—এই মেকানিজমটা তৈরিতে যদি বুদ্ধিমান সত্ত্বার উপস্থিতি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে, মহাশূন্যের এই যে লক্ষ কোটি গ্রহ আর নক্ষত্র, অজানা মহাশূন্যের এরকম আরও অপার বিস্ময় যেখানে লুকিয়ে আছে, সেই মহাবিশ্ব তৈরিতে কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বার কোনো ইশারা থাকবে না—তা কি কোনো যুক্তির মাঝে পড়ে?

এই যে পৃথিবীটা এভাবে ভেসে আছে মহাশূন্যে এবং প্রতিনিয়ত ঘুরছে—এটার পেছনে একটা মেকানিজম আছে যেটাকে আমরা বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান বলে জানি। এই পদার্থবিজ্ঞানের যে ল বা কানুন, এই কানুন তো সেই বুদ্ধিমান সত্ত্বারই তৈরি, যিনি এই সকল গ্রহ নক্ষত্রদের এভাবে শূন্যের উপর ভাসিয়ে রাখতে চেয়েছেন, যেমনভাবে মানুষ রপ্ত করেছে শূন্যের উপর বিমান ভাসিয়ে রাখার কলাকৌশল।

আমি এইসব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি আর রবের সৃষ্টির মহিমা দেখে সিজদাবনত হয় আমার অন্তর। সুবহানাল্লাহ! এই কারণেই, কুরআনের বহু বহু জায়গায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী, গ্রহ আর নক্ষত্রদের সৃষ্টির আলোচনা টেনেছেন৷ কোনো উপমা দিতে গেলেই তিনি বলেছেন—‘ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব।’ ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান এবং যমিন।’

আসমানে লুকিয়ে আছে আমার রবের অপূর্ব সব রহস্য! সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি!

04/04/2026

ভরপেটে আল্লাহকে পাওয়া যায় না , আমাকে আপনি এমন একজন প্রকৃত আল্লাহ ওয়ালা মানুষ দেখাতে পারবেন না , যিনি ভরপেট খাওয়া দাওয়া করে এবং এতে অভ্যস্ত , তিন বেলা গরুর মত খেয়ে সকাল সন্ধ্যা নাস্তার আয়োজন করে এবং কথায় কথায় চা বিড়ি সিগারেট কফি ইত্যাদিতে ডুবে থেকে কখনোই প্রকৃতপক্ষে ইলমের নূর পাওয়া সম্ভব নয় প্রকৃত একজন আল্লাহ ওয়ালা হওয়া সম্ভব নয় প্রকৃতপক্ষে একজন আলেম হওয়া সম্ভব নয় যদি এমন কাউকে আপনি দেখেন তাহলে বুঝে নিবেন সে হচ্ছে দ্বীনের লেবাসধারী মাত্র !

লেখনীটি আপনাদের সুবিধার্থে ৩টি খন্ড করে দিচ্ছি --

🔹🔹🔹🔹🔹খন্ড ১ 🔹🔹🔹🔹🔹

নফসকে কাহিল করার উপায় হলো এটিকে ভুখা রাখতে হবে। যত বেশি এটিকে ভুখা রাখবে এটি তত বেশি নিস্তেজ হয়ে যাবে। তখন এর মধ্যে আনুগত্য পয়দা হবে। আজ মুসলমান রকমারি মজাদার খাবার খেয়ে খেয়ে নফসকে খুব শক্তিশালী করে ফেলেছে। তাই সারা দুনিয়ার মুসলমান আজ এতো গোনাহে লিপ্ত ও দীন থেকে বহু দূরে।

এ কারণেই মুসলমানরা দুনিয়াতে অত্যাচারিত হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ পাকের সাহায্য থেকে দূরে। আমরা যে তিন বেলা খানা খাই, কুরআন বা হাদিসের কোথায় এ নিয়ম লেখা আছে? নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজ শেষে ঘরে এসে ব্রেকফাস্ট খেলেন, তারপর দুপুরে লাঞ্চ করলেন এবং ইশার নামাজের পর ডিনার করে বিছানায় গেলেন-এরকম হাদিস কোথায় আছে?

আজ মুসলমান তিন, চার, পাঁচ বেলা খানা খাওয়ায় ও বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে তাদের নবীর সুন্নতকে ছেড়ে দিয়েছে। মুসলমান জানে না তার জন্য কতটুকু খানা খাওয়া চাই। সকলের জন্য জরুরি হলো নিজের ব্যক্তিগত খোরাকির একটি পরিমাণ নির্ধারণ করা। আমি সপ্তাহে এতোটুকু চাল খাবো, আটা খাবো বা অন্যান্য কিছু খাবো। এ পরিমাণ খুব অল্প পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। তারপর এর বাইরে সকল ধরনের খানা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
চায়ের দোকানে বসে একটু চা বিস্কুট বা কলা খাওয়া এবং এরকম অহেতুক সকল হালাল খানা থেকে নিজেকে এমনভাবে বিরত রাখবে, যেমন কিনা আল্লাহর নেক বান্দারা নিজেদেরকে হারাম থেকে বিরত রাখেন।

প্রথম দিকে তিন বেলার বাইরে অন্য কোনো খানা খাবে না। তারপর ধীরে ধীরে দু'বেলা, এরপর ধীরে ধীরে এক বেলা খানায় নিজেকে অভ্যস্ত করবে। আমার লেখা পড়ে প্রথম দিকে এ কাজকে খুব কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু কেউ হিম্মত করে শুরু করলে এক মাসের মধ্যে নিজেকে একবেলা খানায় অভ্যস্ত করা সম্ভব। যখন এক বেলায় অভ্যস্ত হয়ে যাবে তখন মাঝে মাঝে একাধারে কয়েকদিন না খেয়ে থাকবেন। এভাবে না খেয়ে থাকার কারণে এমন নূর হাসিল হবে, যা অন্য কোনো আমলের দ্বারা হাসিল করা সম্ভব নয়। তখন নামাজ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতে ধ্যান পয়দা হবে। তাহাজ্জুদের সময় আপনা আপনিই ঘুম ভেঙ্গে যাবে, এলার্ম ঘড়ির প্রয়োজন হবে না।

একদিন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে দেখলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বসে বসে নামাজ আদায় করছেন। এটি দেখে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত ও ব্যথিত হলেন, কারণ নবীজি সাধারণত দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ পড়তেন।

আবু হুরায়রা (রা.)-এর জিজ্ঞাসা নামাজ শেষ হলে আবু হুরায়রা (রা.) আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে বসে নামাজ পড়তে দেখলাম, আপনার কি শরীর খারাপ বা আপনি কি অসুস্থ?"

নবীজির উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত ধীর স্বরে উত্তর দিলেন, "হে আবু হুরায়রা! ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না, তাই বসে নামাজ পড়ছি"।

আবু হুরায়রা (রা.) এটি শুনে অঝোরে কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি ভাবলেন, যাঁর উসিলায় সারা দুনিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং যাঁর হাতে জান্নাতের চাবিকাঠি, তিনি আজ ক্ষুধার কষ্টে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারছেন না

আবু হুরায়রা (রা.)-কে কাঁদতে দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে একটি ঐতিহাসিক কথা বলেন:
"হে আবু হুরায়রা! কেঁদো না। মনে রেখো, দুনিয়াতে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করবে, হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহ তাদের হিসাব অত্যন্ত সহজ করে দেবেন"

ভুখা থাকলে প্রথম দিকে কিছুটা দুর্বল লাগবে, মাথা ঘুরাবে, কিন্তু খুব শীঘ্রই শরীর এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা হলো, দু দিন পর্যন্ত ক্ষুধা বা দুর্বলতা কিছুই অনুভব হয় না, তৃতীয় দিন কিছুটা দুর্বল লাগে। কিন্তু এর দ্বারা নামাজ ও ইবাদতে যে স্বাদ অনুভব হয় তা অনেক সুস্বাদু খানা ও দুনিয়ার অন্যান্য সকল মজা থেকে উত্তম।

ভুখা থাকার আর একটি উপকারিতা হলো শরীর থেকে রোগ-বালাই দূর হয়ে যাবে। হাদিসে পাকে এরশাদ হয়েছে, সকল রোগের কারণ হলো পেট পুরে খানা খাওয়া এবং এ থেকে আরোগ্য লাভের উপায় হলো ভুখা থাকা। ভুখা থাকার পরেও কখনো কখনো জ্বর হতে পারে। জ্বর নবীদের রোগ। তাই জ্বর হলে সবর করা চাই।

এক হাদিসে এরশাদ হয়েছে, জ্বর আমার উম্মতের জন্য জাহান্নামের অংশ, এর কারণে গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। নিজেকে শরিয়তের উপর অটল রেখে ভুখা থাকার পরও যদি কোনো রোগ আসে, তাহলে তা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে এক নেয়ামত, এর দ্বারা আল্লাহ পাক তার বান্দাকে নিজের নৈকট্য দান করেন। আইয়ুব আলাইহিস সালাম এতো অসুস্থ হলেন যে লোকেরা তার শরীরের দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে তাকে এলাকার বাইরে ফেলে আসলো। সঙ্গে কেবলো তার স্ত্রী ছিলেন।

সেই সময় আইয়ুব আলাইহিস সালাম নিজের সুস্থতার জন্য দোয়া করাও পছন্দ করতেন না। কেননা এ অসুস্থতার কষ্ট সহ্য করার কারণে আল্লাহ পাক প্রতিদিন তাকে একবার জিজ্ঞাসা করতেন, আইয়ুব তুমি কেমন আছো? আল্লাহ পাকের সাথে এ সম্পর্ক হাসিলের জন্য বান্দার জন্য জরুরি হলো সে নিজেকে দুনিয়াতে ভোগ করা থেকে বিরত রাখে।

আল্লাহ পাক তার হাবিব নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখতেন অকারণে নয়। অকারণে সাহাবায়ে কেরাম ভুখা দিন পার করতেন না। এটি এক আজিমুশ্বান আমল, যা জমিন থেকে হারিয়ে গিয়েছে। ভুখা থাকার দ্বারা আল্লাহ পাক রূহে ও শরীরে শক্তি দান করবেন।

🔸🔸🔸🔸🔸🔸২য় খন্ড 🔸🔸🔸🔸🔸🔸

ডাক্তারদের কথা শুনো না। এরা ইহুদীদের কালাম পড়ে। ইহুদীরা সব সুন্নতের বিরুদ্ধে কথা বলবে। নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি পছন্দ করতেন, এরা তোমাদের মিষ্টি খেতে নিষেধ করবে। নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠান্ডা পছন্দ করতেন, এরা ঠান্ডা নিষেধ করবে। নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের পর দিন খেজুর খেয়েছেন।

সৌদিতে গেলে শুনবেন সেখানে ডাক্তাররা দিনে তিনটার বেশি খেজুর খেতে নিষেধ করে, এতে রক্তে সুগার বেড়ে যায়। যতসব ফালতু লোকজন, মুসলমানকে তাদের নবীর সুন্নত থেকে সরানোর সব ষড়যন্ত্র। সবাই এদের কথাকে অস্বীকার করো। ঔষুধ না খাওয়ার চেষ্টা করো। কারণ বেশিরভাগ ঔষুধের ফর্মুলা আসে আমেরিকা থেকে। কোনো সন্দেহ নেই যে এরা এগুলোর মধ্যে হারাম বস্তু মিশ্রণ করে। যদি কোনো মুফতি সাহেব অসুস্থতার অবস্থায় হারাম গ্রহণের অনুমতি দান করে, তাহলে এ সকল মুফতি সাহেবদের থেকে দূরে থাকো।

এরা দীন বুঝেনি, এরা একটি হাদিসের ভুল অর্থ গ্রহণ করে। বরং অসুস্থতার ব্যাপারে সরাসরি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ পাক জমিনে যত রোগ দিয়েছেন, সাথে তার শিফাও দিয়েছেন। কিন্তু তোমরা হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করো না। তাই সকল মেডিসিন বর্জন করো। নিয়মিত কালিজিরা, মধু, দুধ, মেথি, খেজুর, শসা খাওয়ার অভ্যাস করো ও ভুখা থাকো, পরিষ্কার ও পবিত্র থাকো, নিজেকে গোনাহমুক্ত রাখো। আল্লাহ পাক সকল রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন।

আর যদি এসব কিছুর পরও কোনো রোগ আসে তাহলে আইয়ুব আলাইহিস সালামের মতো ধৈর্যশীল হও। আল্লাহ পাক আসমানে তোমাকে নিয়ে গর্ব করবেন।

একসময় আমি কিছুদিন হেকিমি করেছিলাম। তখন যত রোগী আমার নিকট চিকিৎসার জন্য আসতো, এরা মূলত তিনটি রোগে আক্রান্ত ছিলো। পাইলস, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্ত্রী সহবাসে অক্ষমতা। আমি এগুলোর সহজ ও অব্যর্থ চিকিৎসা বলে দিচ্ছি। প্রতিদিন সকালে ৭টি নরম খেজুর নিবে। খেজুরগুলো শক্ত হলে ধুয়ে অল্প পানিসহ কিছুক্ষণ রেখে নরম করে নিবে। প্রতিটি খেজুরে ১ বার করে সূরা ফাতিহা পড়ে দম দিবে। তারপর খেজুরগুলো খেয়ে এক পেয়ালা ঠান্ডা দুধ খেয়ে নিবে। সম্ভব হলে দুধের সাথে মধু মিশিয়ে নিবে। এটিই তোমার প্রতিদিনের খাবার।
সাথে একটি রুটি, মশলা না কসিয়ে পাকানো পাকানো সবজি ও গোস্ত প্রতিদিন খাবে। শুকনা মরিচ ও কাঁচা মরিচ থেকে হারামের মতো বিরত থাকো। এছাড়া অন্য সময় ক্ষুধা লাগলে ঠান্ডা ফলের শরবত পান করবে। রাতে বিলকুল খাবে না। প্রতিদিন তিলাওয়াত করবে ও নামাজ আদায় করবে। এভাবে একবেলা করে ৪০ দিন খেয়ে দেখো। পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য একেবারে ভালো হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। স্ত্রী সহবাসের অক্ষমতাও দূর হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে আর একটি আমল করবে। ফজরের নামাজের পর সুরা নাস পড়ে বাম হাতে মুখের লালা নিয়ে তা লজ্জাস্থানে লাগিয়ে দিবে। ইনশাআল্লাহ, সফলকাম হবে।

ভুখা থাকার দ্বারা রূহানি শক্তির সাথে সাথে অনেক এলেম হাসিল হবে। কুরআন হাদিসের অন্তর্নিহিত অর্থসমূহ প্রকাশ পাবে। ভুখা অবস্থায় তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে রাতের শেষভাগে তিলাওয়াত করবে। এতে করে কাশফ হাসিল করবে এবং গায়েবের এমন সব জিনিস নজরে ভাসবে যা তোমাকে ঈমানের মজা দিবে। এটিকে মারেফত বলে। আসহাবে সুফফার সাহাবী রদিয়াল্লহু আনহুম দিনের পর দিন ক্ষুধার্ত থেকে দীন শিখেছেন।

হাদিসের ইমাম আবু হুরাইরাহ রদিয়াল্লহু আনহু ভুখা থাকতে থাকতে বেহুশ হয়ে পড়ে যেতেন, লোকেরা তাকে পাগল মনে করে পা দিয়ে ঘাড়ে পারা দিতেন। ভুখা থাকা এলেমের শর্ত। আর তাই আজ জমিন থেকে এলেম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।


♦️♦️♦️♦️♦️♦️৩য় খন্ড♦️♦️♦️♦️♦️♦️

জমিন থেকে এলেম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকরা মানতে চাইবে না। হাজারো মাদরাসা কেবলো বাংলাদেশেই আছে, সারা দুনিয়াতে না জানি কত মাদরাসা আছে। না জানি কত লাখো-কোটি কুরআন ও হাদিসের কিতাব মওজুদ আছে, তাহলে এলেম উঠিয়ে নেওয়া হলো কীভাবে? রিয়াদে একজন এক আলেমকে মজলিসে বসে প্রশ্ন করেছিলেন, এলেম যে উঠিয়ে নেওয়ার কথা হাদিসে বলা হয়েছে তা কীভাবে হবে? সে আলেমের উত্তর শুনে আমার কাছে খুবই হাস্যকর মনে হয়েছে।

উনার জবাব হলো, এলেম উঠিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন সব কিতাব ও কুরআন সফটওয়‍্যারে চলে এসেছে। একসময় মানুষ পুরোপুরি সফটওয়্যার নির্ভরশীল হয়ে যাবে। তখন কেবলো সফটওয়‍্যারে কিতাব থাকবে, কাগজের কিতাব আর থাকবে না। তারপর একসময় টেকনোলজি ধ্বংস হয়ে যাবে, এভাবে এলেমও জমিন থেকে বিলিন হয়ে যাবে। ঐ ব্যাচারা আলেম মাদরাসায় পড়েও বস্তুবাদী চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এলেম কখনোই শুধু কিতাব পড়ার নাম নয়। বরং এলেম হলো আল্লাহ পাকের পরিচয় লাভের এক মাধ্যম। যার মধ্যে আল্লাহ পাকের ভয় পয়দা হয়েছে, সে এলেম হাসিল করে নিয়েছে, যদিও সে কখনো মাদরাসায় পড়াশোনা না করুক।

যখন এলেম উঠিয়ে নেওয়া হবে তখন কিতাব মওজুদ থাকবে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এরশাদ হয়েছে,

سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ، وَمِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ ، مَسَاجِدُهُمْ يَوْمَئِذٍ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى. عُلَمَاؤُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ مِنْهُمْ خَرَجَتِ الْفِتْنَةُ وَفِيهِمْ

تَعُودُ . ( المجالسة وجواهر العلم الحديث : (۵۱۹)

অর্থ: মানুষের উপর এমন একটি জামানা আসবে, যখন ইসলামের নাম ব্যতীত কিছুই বাকী থাকবে না। কুরআনের অংকিত হরফ ব্যতীত কিছুই বাকি থাকবে না। এই জামানার আলামত হলো সেই সময় মসজিদগুলো সুসজ্জিত থাকবে, কিন্তু সেখানে হেদায়াত থাকবে না। তখনকার আলেমরা আসমানের ছায়ার নিচের নিকৃষ্টতম বান্দা হবে। এদের থেকেই ফিত্না ছড়াবে এবং সেই ফিন্নাতে নিজেরাই পতিত হবে।

এটিই সেই জমানা। মক্কার মসজিদে হারামের দিকে তাকিয়ে দেখো, এটিই সেই জমানা। মদিনার মসজিদে নববীর দিকে তাকিয়ে দেখো, এটিই সেই জমানা। দুনিয়ার হাজার হাজার মসজিদের দিকে তাকিয়ে দেখো, মসজিদগুলো আমাদেরকে সাক্ষী দিচ্ছে, এটিই সেই জমানা। যদিও মুসলমানরা বেখবর। এভাবে বেখবর হালতেই একজন জীর্ণশীর্ণ মানুষ ইমাম মাহদি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। সেই সময় তাঁর সাথে যারা সঙ্গ দিবেন তাদের অধিকাংশই হয়তো এ জমানার আলেমরা হবেন না। কারণ তাঁরাতো আসমানের নিচের নিকৃষ্টতম মানুষ হবেন না।

বরং উনারা দুনিয়াকে বিসর্জনকারী এক পবিত্র জামাত হবেন। যারা আল্লাহকে ভয় করে চলনেওয়ালা হবেন। তাই জমিনের সকল পরাশক্তিরা তাদেরকে ভয় করবে, যদিও তাদের নিকট সকল আগ্নেয়াস্ত্র ও সরকারি ক্ষমতা থাকুক না কেনো।

যেটা কিছুক্ষণ আগে বলেছিলাম, আমাদেরকে এমন মুসলমান হওয়ার জন্য মেহনত করা চাই, যাদের দোয়া আল্লাহ পাক ফিরিয়ে দিবেন না। আজকে দুনিয়ার মুসলমানদের দোয়ায় আল্লাহ পাক সাড়া দেন না। হাদিসে পাকে এরশাদ হয়েছে:

الدُّعَاءُ سِلَاحُ الْمُؤْمِنِ

অর্থ: দোয়া হলো মু'মিনের হাতিয়ার। (মুসনাদে আবিল ইয়ালি, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৪, হাদীস-৪৩৯)

দোয়াকে হাতিয়ার বলা হয়েছে। হাতিয়ারের দ্বারা হালত পরিবর্তন হয়। দুনিয়ার মুসলমানরা এখন কাফেরদের বলির পাঠা হয়ে রক্ত দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনে আজ ৭০ বছর ধরে ইসরায়েলিরা মুসলমানদের হত্যা করছে। কাশ্মীর, আসামসহ সারা ইন্ডিয়াতে সবসময়ই মুসলমানরা অত্যাচারিত। ইরাকে মুসলমানদেরকে সেই ১৯৯০-৯১ সাল থেকে হত্যা করা হচ্ছে এবং তা এখনো চলছে। মায়ানমারের মুসলমানদের জবাই করে কলিজা চিবিয়ে খায় সেখানকার হায়াওয়ান। আফগানিস্তানেও একই অবস্থা। এক আফগানি লোক বললো, তোমরা মায়ানমারের ভিডিও দেখে ভাবছো ওদের উপর খুব জুলুম হচ্ছে। অথচ আফগানিস্তানের অবস্থা এর চেয়েও ভয়াবহ, যা কখনো কোনো মিডিয়াতে আসেনি।

সিরিয়ার এক মুসলমান বললো আমাদের এখন প্রতিদিন ৬ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও জানাজা। সিরিয়াতে সম্ভ্রান্ত মেয়েরা নিলামে বিক্রি হচ্ছে। কিতাবুল ফিতানে এক হাদিসে ইমাম মাহদি আবির্ভাবের পূর্বের অবস্থা বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তখন সিরিয়াতে আরবি সম্ভ্রান্ত বংশের মেয়েরা ২৫ দিরহামে বিক্রি হবে। হায়, এ হাদিসের বাস্তব রূপ এখন সিরিয়াতে চলছে। আর আমরা এখনো বেখেয়াল। দুনিয়া জুড়ে এতোসব জুলুমের শিকার মুসলমান আজ আল্লাহ পাকের দরবারে হাত তুলে সাহায্য প্রার্থনা করে, কিন্তু আল্লাহ পাক তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন করছেন না। আল্লাহ পাক এরশাদ ফরমান:

ادْعُونِي أَسْتَجِبْلَ كُمْ

অর্থ: আমার নিকট চাও, আমি তোমাদেরকে দিবো।

আল্লাহ পাকের ওয়াদা তো সত্য। কিন্তু আজকে আমরা চাইলে কেনো পাই না? মুসলমান চাইলে আজ কেনো পায় না? কয়েক সপ্তাহ আগে মসজিদুল হারামে শেখ সুদাইসি জুম্মার খুতবাতে আরাকান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, চীন ও সারা দুনিয়ার মজলুম মুসলমানদের জন্য দোয়া করলেন। জুম্মার দিন কা'বার সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া হয়েছে ও লক্ষ লক্ষ হাজী সেই সাথে আমিন বলেছে। কিন্তু কই! দুনিয়ার মুসলমানদের অবস্থা তো পরিবর্তন হয়নি। আল্লাহ পাক কেনো মুসলমানদের সাহায্য করা বন্ধ করে দিলেন? এর কারণ খুঁজে বের করা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।

নবীজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান:

وَالْعَاجِزُ مَنْ اتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ

অর্থ: বেওকুফ ঐ ব্যক্তি যে তার নফসের খাহেশের অনুসরণ করে, আবার আল্লাহ পাকের দরবারে আশা করে। (তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৬৩৮, হাদীস-২৪৫৯)

এই হাদিসের মানে হলো, যে নিজের খাহেশ পূরণ করে, তার জন্য আল্লাহ পাকের নিকট কিছু আশা করা বোকামি। এদের দোয়া কখনো কবুল হবে না। সারা দুনিয়ার মুসলমান আজ খাহেশে লিপ্ত। এদের দোয়া কীভাবে কবুল হবে? আমরা তো আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সম্ভব এরকম সকল খাহেশ পূরণ করে ফেলি। আর যেটি সামর্থ্যের বাইরে সেটির জন্য আফসোস করি। আমাদের খুব তাওবা করা চাই। নিজেদের দুর্গতির জন্য আমরাই দায়ী। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা ছাড়া কোনো রাস্তা নেই। আল্লাহর রহমত অনেক প্রশস্ত। তিনি তার বান্দার প্রতি অনেক বেশি মেহেরবান।

যারা ধৈর্যের সাথে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়েছেন আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুক জাযাকাল্লাহু খাইরান ❤️

✍🏻 আরিয়ান রশিদ

04/04/2026
03/04/2026

আল্লাহর রাসূল ﷺ উমরের হাত ধরলেন মজলিশে সবার সামনে। বড় মুহাব্বতের স্পর্শ। উমরের হৃদয় চুর চুর করে গলে গেলো। মুহাব্বাতের আতিশয্যে বললেন:

ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিজের জানটা ছাড়া বাকী সবকিছুর চেয়ে আপনাকেই বেশি ভালোবাসি।

রাসূলুল্লাহ ﷺ শুনে বললেন: উমর! হলো না তো! জানের চেয়েও কি আমায় বেশি ভালবাসো না?

উমর একাকী হলেন একটু। দূরে কোথাও বসে আপন মনে বিড়বিড় করলেন। নিজের সাথে কথা বললেন। একটু পর এসে প্রিয়তমকে বললেন:

আল্লাহর কসম! আপনাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। এমনকি জীবনের চেয়েও বেশি।

রাসূলুল্লাহ ﷺ খুশি হলেন। বললেন: এই তো উমর। এখন তোমার ঈমান পূর্ণ হলো।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সন্তান আব্দুল্লাহ বাবাকে বললেন:

বাবা! দেখলাম আপনি বিড়বিড় করে কী যেন বলছিলেন। কী বলছিলেন?

উমর বললেন: বেটা! আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করছিলাম। আচ্ছা উমর: রাসূলুল্লাহ না হলে তুমি কি দ্বীন পেতে? দুনিয়া আখিরাতে নাজাত পেতে? পেতে না।

উমর! তুমি যদি রাসূলুল্লাহর সাহচর্যের সরোবরে অবগাহন না করতে তুমি কি মূর্তিপূজা থেকে পাক হতে? হতে না।

এরপরই আমার হৃদয় আমাকে বুঝিয়ে দিলো কেন রাসূলুল্লাহকে জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসি।

আসলেই তো! রাসূল না হলে আমরা কী পেতাম? কী হতো আমাদের? রাসূল ছাড়া আমাদের জীবনে আছেই বা কী?

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ❤️

03/04/2026

আবূ হুরাইরাহ্ (রা.)-এর সনদে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিঁনি (ﷺ) বলেছেন—

আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন ইরশাদ করেছেন– আমার উপর বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে আছি। সে যেখানেই আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথে আছি। আল্লাহর কসম, শূণ্য মাঠে তোমাদের কেউ হারানো প্রাণী পাওয়ার পর যে আনন্দিত হয় আল্লাহ তা‘আলা বান্দার তাওবার কারণে এর চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। যদি কেউ একবিঘত সমান আমার দিকে অগ্রসর হয় তাহলে আমি তার দিকে একহাত অগ্রসর হই। যদি কেউ একহাত সমান আমার প্রতি অগ্রসর হয়, তাহলে আমি একগজ সমান তার প্রতি অগ্রসর হই। যদি কেউ আমার দিকে পায়ে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে দৌঁড়ে আসি।

— সহীহ্ মুসলিম, হাদিস : ৬৮৪৫

মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশি তখন শান্ত হয়ে আসছে। এক সাহাবী ক্লান্ত শরীরে একটি জনমানবহীন প্রান্তরে এসে পৌঁছালেন। বিশ্রামের তা...
02/04/2026

মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশি তখন শান্ত হয়ে আসছে। এক সাহাবী ক্লান্ত শরীরে একটি জনমানবহীন প্রান্তরে এসে পৌঁছালেন। বিশ্রামের তাগিদে তিনি সেখানে নিজের তাবু খাটালেন। তিনি জানতেন না, তাঁর পায়ের নিচের মাটির গভীরে শুয়ে আছেন এক জান্নাতি আত্মা।

সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্ত:

তাবুর ভেতর যখন তিনি শরীরটা এলিয়ে দিলেন, হঠাৎ এক অস্ফুট গুঞ্জন তাঁর কানে এল। প্রথমে ভাবলেন বাতাসের শব্দ, কিন্তু না! শব্দটা মাটির নিচ থেকে আসছে। তিনি কান পেতে শুনলেন—অত্যন্ত সুমধুর, ভরাট এক কণ্ঠে কেউ তিলাওয়াত করছে:

"তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর..."

তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন! নিঝুম প্রান্তরে জনমানুষের চিহ্ন নেই, অথচ মাটির নিচ থেকে সূরা আল-মুলক তিলাওয়াত শোনা যাচ্ছে। সেই অদৃশ্য কণ্ঠস্বর থেমে থাকল না; সুরাটির প্রতিটি আয়াত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করে একদম শেষ পর্যন্ত (৩০টি আয়াত) সম্পন্ন করল।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে সেই সংবাদ:

সাহাবী বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে দ্রুত মদিনার পানে ছুটলেন। সোজা চলে এলেন নবীজি ﷺ-এর পবিত্র দরবারে। হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আজ এক অলৌকিক কাণ্ড দেখে এলাম। আমি অজান্তেই এক কবরের ওপর তাবু গেড়েছিলাম, আর সেই কবরের ভেতর থেকে সুমধুর কণ্ঠে সূরা মুলকের তিলাওয়াত শুনেছি!"

আল্লাহর রাসূল ﷺ তাঁর কথা শুনে মোটেও অবাক হলেন না। বরং তাঁর নূরানী চেহারায় এক প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। তিনি রহস্য উন্মোচন করে বললেন:

"হীয়া আল-মানি’আহ, হীয়া আল-মুনজিয়াহ; তুনজীহি মিন আযাবিল ক্বাবর।"

(অর্থ: এই সূরাটি হলো রক্ষাকারী, এটি মুক্তিদানকারী; যা পাঠকারীকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে।) — [সুনানে তিরমিযী: ২৮৯০]

কেন এমন হলো?

সেই মৃত সাহাবী জীবিত অবস্থায় প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অত্যন্ত মহব্বতের সাথে সূরা মুলক তিলাওয়াত করতেন। কুরআনের সাথে তাঁর এই অবিচ্ছেদ্য প্রেম দেখে আল্লাহ তাআলা তাঁর কবরের জগতকেও কুরআনের আলোয় আলোকিত করে দিয়েছেন। আজাব তো দূরের কথা, কবরের একাকীত্ব দূর করতে খোদ কুরআনের আয়াতগুলোই তাঁর সঙ্গী হয়ে গেছে।

এই গল্প থেকে আমাদের প্রাপ্তি:

১. কবর হবে জান্নাতের বাগান: আপনি যদি কুরআনের সাথে বন্ধুত্ব করেন, অন্ধকার কবরে কুরআন আপনার উকিল হয়ে লড়বে।
২. সূরা মুলকের শক্তি: রাসূল ﷺ বলেছেন, কুরআনে এমন একটি সূরা আছে যাতে ৩০টি আয়াত রয়েছে, যা কোনো ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে থাকে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়।
৩. প্রাত্যহিক আমল: প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মুলক পাঠ করার অভ্যাস আমাদের কবরের আজাব থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে পারে।

কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে সূরা মুলক হতে পারে আপনার সেরা ঢাল। এই ঈমান জাগানিয়া ঘটনাটি ছড়িয়ে দিন আপনার টাইমলাইনে। হতে পারে আপনার একটি শেয়ারে কেউ আমলটি শুরু করবে।

01/04/2026

বনী ইসরাঈলে এক আবেদ ছিলেন, যিনি তার সময়ের শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একদা তিন ভাই যুদ্ধে যাওয়ার সময় তাদের অবিবাহিত বোনকে ওই আবেদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা আবেদের ইবাদতখানার কাছেই একটি ঘরে বোনকে থাকার ব্যবস্থা করল। আবেদ প্রথমে রাজি না হলেও তাদের অনুরোধে রাজি হলেন।

শুরুতে আবেদ তার ইবাদতখানা থেকে খাবার নামিয়ে দরজার সামনে রেখে দিতেন এবং দরজা বন্ধ করে ওপরে চলে যেতেন। মেয়েটি এসে খাবার নিয়ে যেত। কোনো কথা হতো না।

শয়তান তখন আবেদের মনে কুমন্ত্রণা দেওয়া শুরু করল। সে বলল, "মেয়েটি একা বের হলে কেউ দেখে ফেলতে পারে। তুমি যদি খাবারটা তার দরজায় পৌঁছে দাও তবে সওয়াব বেশি হবে।" আবেদ তাই করলেন।

এরপর শয়তান বলল, "মেয়েটি একা খুব ভয় পাচ্ছে। তুমি যদি তার সাথে একটু কথা বলো, তবে সে সাহস পাবে।" আবেদ কথা বলা শুরু করলেন।
এরপর শয়তান বলল, "তুমি যদি তার দরজার কাছে বসে কথা বলো, তবে সে আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।" আবেদ তা-ও করলেন।
অবশেষে শয়তান বলল, "তুমি ঘরের ভেতরে গিয়ে কথা বললে কেউ দেখবে না।" আবেদ ঘরে ঢুকলেন।

দীর্ঘদিন মেলামেশার পর আবেদের মনে পাপের ইচ্ছা জাগল। শয়তান তাকে ধোঁকা দিয়ে জিনার (ব্যভিচারের) পাপে লিপ্ত করল। ফলে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ল এবং একটি ছেলেসন্তান জন্ম দিল।

শয়তান আবার এসে বলল, "মেয়েটির ভাইয়েরা ফিরে এসে যদি বাচ্চা দেখে, তবে তোমার মানসম্মান যাবে। তুমি বাচ্চাটিকে হত্যা করে পুঁতে ফেলো।" আবেদ বাচ্চাটিকে হত্যা করলেন।
শয়তান বলল, "মা কি বাচ্চার হত্যার কথা গোপন রাখবে? সে তো ভাইদের বলে দেবে। তুমি মাকেও হত্যা করে বাচ্চার সাথে পুঁতে ফেলো।" আবেদ তা-ও করলেন এবং তাদের কবরের ওপর বড় পাথর চাপা দিলেন।

ভাইয়েরা যুদ্ধ থেকে ফিরে বোনের খোঁজ করল। আবেদ মিথ্যা বলে কান্নাকাটি করে বললেন, "তোমাদের বোন মারা গেছে, সে খুব ভালো ছিল।" তিনি একটি মিথ্যা কবর দেখালেন। ভাইয়েরা বিশ্বাস করে চলে গেল। রাতে শয়তান তিন ভাইয়ের স্বপ্নে এল। সে তাদের আসল ঘটনা জানাল যে,আবেদ তাদের বোনকে ধর্ষণ করেছে, বাচ্চা হয়েছে এবং মা ও বাচ্চাকে হত্যা করে ঘরের পেছনে পুঁতে রেখেছে।

সকালে ছোট ভাই স্বপ্নের কথা বিশ্বাস করে ওই নির্দিষ্ট জায়গায় খুঁড়ল এবং বোন ও বাচ্চার লাশ পেল। তারা আবেদের কাছে গিয়ে সত্য জানতে চাইলে তিনি সব স্বীকার করলেন।

লোকেরা আবেদকে ধরে শূলে চড়ানোর (ফাঁসি) জন্য নিয়ে গেল। শূলে চড়ানোর ঠিক আগ মুহূর্তে শয়তান মানুষের বেশে এসে বলল,
"আমিই সেই শয়তান, যে তোমাকে দিয়ে এসব করিয়েছি। আজ যদি তুমি আমাকে একটি সিজদা করো (বা আল্লাহকে অস্বীকার করো), তবে আমি তোমাকে এই বিপদ থেকে বাঁচাব।"

আবেদ বাঁচার আশায় শয়তানকে সিজদা করলেন এবং কাফের হয়ে গেলেন। শয়তান তখন বলল, "আমি তোমার থেকে মুক্ত। আমি বিশ্বজগতের রব আল্লাহকে ভয় করি।"এরপর তাকে হত্যা করা হলো।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই কুরআনের আয়াত নাজিল হয়,
"শয়তানের দৃষ্টান্তের মতো, যখন সে মানুষকে বলে, 'কুফরি করো'। তারপর যখন সে কুফরি করে, তখন শয়তান বলে, 'তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই...'" (সূরা হাশর: ১৬)

শয়তান মানুষকে সরাসরি কুফরি করায় না, বরং ছোট ছোট নেক কাজের বাহানায় পাপের দিকে টানে এবং শেষে ঈমান কেড়ে নেয়।

(সূত্র: যাম্মুল হাওয়া- ইবনুল জাওযি রহ.)

31/03/2026

জীবনে বহু ক'বর খুঁড়েছি। কিন্তু গত জুমাবার রাতের সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আজও আমার বুক কাঁপিয়ে দেয়। ঘটনাটা কাউকে বিশ্বাস করাতে পারব কি না জানি না, কিন্তু আমার নিজের চোখের সামনে ঘটা দৃশ্য তো আর আমি অস্বীকার করতে পারি না!

সেদিন সারাদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি। গো'রস্তানের মাটি একেবারে থিকথিকে কাদা হয়ে আছে। এশার নামাজের পর ফোন এলো,

ভাই, একটা লা'শ আসছে হাসপাতাল থেকে। বেওয়ারিশ লা'শ। কেউ নেই। তাড়াতাড়ি একটা কবরের ব্যবস্থা করেন।’

বৃষ্টির মধ্যে এমন কাদা-মাটিতে ক'বর খোঁড়া যে কত বড় কষ্টের কাজ, তা শুধু একজন গোরখোদকই জানে। আমি আর আমার সহকারী রফিক কোদাল নিয়ে নামলাম। বিরক্ত লাগছিল খুব। ভাবছিলাম, এমন দুর্যোগের রাতে কার লা'শ এলো রে ভাই!

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার শুরু হলো কোদাল মাটিতে পড়ার পর থেকেই।

সাধারণত বৃষ্টির পর এই গো'রস্তানের মাটি আঠালো হয়ে যায়, কোদাল চালানো যায় না। কিন্তু সেদিন...সুবহানআল্লাহ! মাটি যেন তুলোর মতো নরম হয়ে আসছিল। রফিক অবাক হয়ে বলল, "উস্তাদ, ব্যাপার কী? মাটি এত ঝুরঝুরে লাগতেছে কেন? মনে হইতেছে কেউ আগে থাইকাই আমাদের জন্য মাটি খুঁইড়া রাখছে!"

আমি ধমক দিয়ে তাকে কাজ করতে বললাম। কিন্তু আমার নিজের বুকেও তখন বিস্ময়। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলাম ক'বর খোঁড়া শেষ হওয়ার পর। গো'রস্তানের এই কোণায় ময়লা-আবর্জনার গন্ধ থাকে সবসময়। কিন্তু হঠাৎ করেই চারপাশটা একটা অদ্ভুত, স্নিগ্ধ সুবাসে ভরে গেল। কোনো আতরের গন্ধ নয়, মনে হলো যেন এক সাথে হাজারটা হাসনাহেনা আর গোলাপ ফুল ফুটেছে! বৃষ্টির সোঁদা গন্ধের সাথে সেই সুবাস মিলে এমন এক পরিবেশ তৈরি হলো, আমার মনে হলো আমি দুনিয়ার কোনো বাগানে নেই।

এর কিছুক্ষণ পরই অ্যাম্বুলেন্স এলো। মাত্র তিনজন মানুষ লা'শের সাথে। হাসপাতালের একজন স্টাফ, আর দুজন অপরিচিত লোক। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, মৃত ব্যক্তি কে? উনার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই?"

হাসপাতালের স্টাফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "না ভাই। উনি শহরের ওই বড় সিগন্যালটার পাশে বসে জুতো সেলাই করতেন। মুচি ছিলেন। আজ বিকেলে হঠাৎ স্ট্রোক করে মা'রা গেছেন। কেউ নেই উনার।"

আমি অবাক হয়ে লা'শের দিকে তাকালাম। সাধারণ সস্তা কা'ফনের কাপড়ে মোড়ানো একটা জীর্ণ শরীর। যখন তাকে ক'বরে নামানো হচ্ছিল, তখনো সেই মিষ্টি সুবাসটা যেন আরও তীব্র হলো। এত প্রশান্ত একটা চেহারা আমি জীবনে কোনো লা'শের দেখিনি। মনে হচ্ছিল, সারা জীবনের ক্লান্তি শেষে মানুষটা পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। তার ঠোঁটের কোণে যেন একটা হালকা হাসির রেখা।

দা'ফন শেষ করে আমি আর রফিক যখন ফিরে আসছি, তখন দেখলাম লা'শের সাথে আসা ওই দুজন অপরিচিত লোক অঝোরে কাঁদছেন। তাদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল তারা বেশ অবস্থাসম্পন্ন।

আমি আর কৌতূহল ধরে রাখতে পারলাম না। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, আপনারা কি উনার আত্মীয়?"

তাদের মধ্যে একজন চোখ মুছে বললেন, "না ভাই। আমরা উনাকে চিনতামও না সেভাবে। কিন্তু আজ বিকেলে উনি যখন রাস্তায় পড়ে যান, আমরাই উনাকে হাসপাতালে নিই। ডাক্তার মৃত ঘোষণার পর উনার ছেঁড়া থলে থেকে একটা পুরোনো ডায়েরি পাই। সেটা পড়েই আমরা চমকে গেছি।"

তিনি ডায়েরিটা বের করলেন। "জানেন ভাই? এই লোকটা সারা দিন জুতো সেলাই করে যা পেতেন, তার নিজের জন্য রাখতেন মাত্র কয়েকটা টাকা। বাকি সব টাকা উনি গোপনে একটা এতিমখানায় দিয়ে আসতেন। গত দশ বছর ধরে একটা পঙ্গু মেয়ের চিকিৎসার পুরো খরচ এই মুচি লোকটা দিয়ে আসছিল, অথচ মেয়েটা নিজেও জানে না টাকাটা কে দেয়! ডায়েরিতে শুধু হিসাব লেখাঃ 'আজ এতিমখানার জন্য ২০০ টাকা', 'আজ ফাতেমার ওষুধের জন্য ১৫০ টাকা'।"

লোকটার কথা শুনে আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে এলো। চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারলাম না। আমি ফিরে তাকালাম সেই নতুন কবরটার দিকে। বুঝতে পারলাম, কেন রাতের অন্ধকারে এই কর্দমাক্ত মাটি তুলোর মতো নরম হয়ে গিয়েছিল। কেন চারপাশটা জান্নাতি সুবাসে ভরে উঠেছিল।

দুনিয়ার চোখে তিনি ছিলেন রাস্তার ধারের এক সাধারণ মুচি। কেউ তাকে দাম দিত না। কিন্তু আল্লাহর চোখে তিনি ছিলেন কতটা সম্মানিত, তা বিদায় বেলায় প্রকৃতি নিজেই সাক্ষ্য দিয়ে গেল।।

গোপন আমল আল্লাহ কতটা পছন্দ করেন, সেদিন এই ঘটনা না দেখলে হয়তো কোনোদিনও বুঝতাম না।।

31/03/2026

কেয়ামতের একটি আলামত হলো প্রচুর পরিমাণে যুদ্ধ বিগ্রহ সংঘটিত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যৎবাণী করেছেন তোমরা দিনের পর দিন হারাজের পর হারাজে লিপ্ত থাকবে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলো, হারাজ কি? তিনি বললেন, রক্তপাত।

তো, দেখা যাচ্ছে প্রচুর পরিমাণে যুদ্ধের ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে। কতগুলো হাদিসে বলা হয়েছে শেষ জামানায় মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে গৃহ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। ভয়াবহ যুদ্ধ, বিশাল যুদ্ধ যা মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে ঘটবে।

আবার অনেকগুলো হাদিসে 'সবচয়ে বড়' যুদ্ধের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যা মুসলিম এবং কাফেরদের মধ্যে হবে। এই বড় যুদ্ধকে বলা হয় 'আল-মালহামাতুল কুবরা।' মালহামা মানে ব্যাপক রক্তপাত। এটার সমমানের খ্রিস্টান পরিভাষা হলো আর্মাগেডন। এই মালহামার সর্বশেষ যুদ্ধ হবে ঈসা (আ) এবং দাজ্জালের মধ্যে। এরপরে আর কোনো যুদ্ধ হবে না।

রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, তোমাদের মাঝে তিনটি আর্মি তৈরী হবে। মানে মুসলিমদের মাঝে। একটি আর্মি শাম অঞ্চলের। (তৎকালীন শাম হলো- সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ফিলিস্তিন এই সমগ্র অঞ্চলটা।) একটি আর্মি ইরাক অঞ্চলের। (সে সময়ের ইরাক সাসানীয় মানে ইরানীয় শাসনের অধীনে ছিল।) আর আরেকটি আর্মি ইয়েমেন থেকে। তখন তোমাদের ধন সম্পদ এতো বেশি হবে যে, কাউকে ১০০ দিনার দেওয়া হলেও সে এটাকে কিছুই মনে করবে না। সে সময়ের ১০০ দিনারকে আমাদের সময়ের ৫ লক্ষ টাকা বলতে পারেন। অন্য কথায় ধন সম্পদ এতো বেশি হবে যে, ৫ লক্ষ টাকাকেও মানুষ কোনো টাকাই মনে করবে না।

আরেকটি হাদিসে এসেছে, তিন রাজপুত্র সম্পদের জন্য পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে। কোন সম্পদ? হয়তো তেল, অন্য কোনো খনিজ সম্পদ....আমরা জানি না। সুনির্দিষ্ট করে কোন সম্পদ তার উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে সম্পদ। আল্লাহ ভালো জানেন। কেউ বিজয় অর্জন করবে না। এরপর খোরাসানের কালো পতাকা আসবে। এরপর মাহ্দীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

এই হাদিস আমাদের বলছে যে, মাহ্দী এমন এক সময়ে আসবে যখন মুসলিম উম্মাহ বিশাল এক গৃহ যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে। মাহ্দী এসে সমগ্র উম্মাহকে একত্রিত করবেন।

এখনকার পরিস্থিতির দিকে তাকালে মনে হচ্ছে উম্মাহ এক বিশাল গৃহ যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আল্লাহু মুসতাআন।

চলুন, হাদিসে উল্লেখিত আরো কিছু যুদ্ধ নিয়ে কথা বলি। একদিন কুফায় ভয়াবহ এক বালু ঝড় দেখা দেয়। চারদিকে আকাশ কালো হয়ে প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়। তখন এক লোক ভয় পেয়ে দৌড়ে কুফার মসজিদে এসে উপস্থিত হয়। সে সময় প্রখ্যাত সাহাবী ইবনে মাসউদ ঐ মসজিদে ছিলেন। সে বলে, ও ইবনে মাসউদ! ও ইবনে মাসউদ! কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে। ইবনে মাসউদ তখন উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে কথা বলা শুরু করলেন। তিনি বললেন, কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না এই ব্যাপারগুলো ঘটবে। তিনি কয়েকটি ভবিষৎবাণী করলেন।
১. মানুষ তাদের উত্তরাধিকার বন্টনের সুযোগ পাবে না। মানে, গণহত্যা এবং মৃত্যু এতো বেশি পরিমানে হবে যে, ব্যক্তির পরিবারের কেউ আর জীবিত থাকবে না।
২. মানুষ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ পেয়েও খুশি হবে না। মানে, পরিবারের কেউ জীবিত থাকবে না। সম্পত্তি দিয়ে কি হবে।
তারপর তিনি শাম অঞ্চলের দিকে নির্দেশ করেন। তারপর বলেন, সেখানে মুসলিমদের একটি বাহিনী এবং কাফেরদের একটি বাহিনী যুদ্ধের জন্য সমবেত হবে। মুসলমানেরা প্রথমে একটি দল পাঠাবে তারা যুদ্ধ করতে করতে সবাই শহীদ হয়ে যাবে। এভাবে পর পর তিন দিন, তিন তিনটি দল শহীদ হয়ে যাবে। চতুর্থ দিন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মুসলমানদের বিজয় দান করবেন।

ঐ হাদিসে ভয়াবহ একটি ব্যাপার উল্লেখ আছে। তিনি বলেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যুদ্ধ এতো ভয়াবহ হবে যে, উড়ন্ত পাখিও মরে পড়ে যাবে।" এখন আমাকে বলুন, মাটিতে মানুষের পরস্পরের মাঝে যত যুদ্ধই হোক না কেন, এতে আকাশের পাখি মরে পড়ে যাবে কেন? তার মানে, এমন কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হবে যা পাখিকে মেরে ফেলবে। হয়তো পরমাণু অস্ত্র। আল্লাহ ভালো জানেন।

এরপর হাদিসটিতে এসেছে, ১০০ জনের মাঝে ৯৯ জন মারা যাবে। মাত্র একজন বেঁচে থাকবে। এই যুদ্ধে হতাহতের হার ৯৯ শতাংশ! আল্লাহু মুসতাআন।

ইবনে মাসউদ বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, এমন সময় কেমন করে গনীমাতের সম্পদ নিয়ে লোকেরা আনন্দোৎসব করবে এবং কেমন করে উত্তরাধিকার সম্পদ ভাগ করা হবে।

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে কেয়ামতের আগে জেরুজালেম কেন্দ্রিক মুসলমানদের একটি খিলাফা প্রতিষ্ঠিত হবে। হাদিসটি হলঃ

ইবনে হাওয়ালা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার মাথার ওপর হাত রাখলেন (অথবা কপালে হাত রাখলেন) এবং বললেন:

"হে ইবনে হাওয়ালা! যখন তুমি দেখবে যে খিলাফত আরদুল মুকাদ্দাসে (জেরুজালেমে) অবতীর্ণ হয়েছে, তখন মনে করবে যে ভূমিকম্প, বিপদ-আপদ এবং বড় বড় দুর্ঘটনা নিকটবর্তী হয়ে গেছে। সেদিন কিয়ামত মানুষের এত কাছে হবে, যত কাছে এখন আমার এই হাত তোমার মাথার ওপর আছে।"

-- ইয়াসির কাদির আলোচনা থেকে

সূরা কাহাফেও এ বড় যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।
সূরা কাহাফের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-- قَيِّمًۭا لِّيُنذِرَ بَأْسًۭا شَدِيدًۭا مِّن لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعْمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًۭا -

অর্থগুলো ভেঙে ভেঙে বলছি। قَیِّمًا একে (অর্থাৎ কুরআনকে) করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ, কুরআনের বিধানগুলোতে কোনো পরিবর্তন নেই। দুনিয়া পরিবর্তন হয়ে গেলেও এতে কোনো পরিবর্তন হবে না। لِّيُنذِرَ بَأْسًۭا شَدِيدًۭا مِّن لَّدُنْهُ তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন এক যুদ্ধ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য। وَيُبَشِّرَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعْمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ এবং সেই মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য যারা সৎকর্ম করে। أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًۭا নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।

আয়াতের দ্বিতীয় অংশের بَأْسًۭا শব্দটির অর্থ যুদ্ধ লিখেছি। কারণ, উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী পণ্ডিত মানাজির আহসান গিলানির মতে, কুরআনে যেখানেই بَأْسًۭ বা'স শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা ব্যবহার করা হয়েছে শুধু দুনিয়ার জন্য। যেমন, সূরা বনী ইসরাইলের পঞ্চম আয়াতে এসেছে-- بَعَثۡنَا عَلَیۡکُمۡ عِبَادًا لَّنَاۤ اُولِیۡ بَاۡسٍ شَدِیۡدٍ - "তখন আমি তোমাদের উপর আমার কিছু বান্দা পাঠালাম, যারা কঠোর যুদ্ধবাজ।" তাই, এখানেও শব্দটি দুনিয়ার জন্যই এসেছে।

এরপর আল্লাহ বলেছেন-- مِّن لَّدُنْهُ বিশেষভাবে তাঁর পক্ষ থেকে। মানে-- এ যুদ্ধটা হবে এমন এক যুদ্ধ দুনিয়াতে যার অন্য কোনো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন কঠোর এক যুদ্ধ যা শুধু আল্লাহর বিশেষ অনুমতিক্রমে ঘটবে। খ্রিস্টানরা যাকে বলে আর্মাগেডন। হাদিসে যাকে বলা হয় আল-মালহামা।

আয়াতের পরবর্তী অংশটির কথা মনে রাখুন, وَ یُبَشِّرَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ الَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَهُمۡ اَجۡرًا حَسَنًا - সেই মুমিনদের জন্য সুসংবাদ যারা নেক আমল করে। তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিফল।

তো, আমাদের কাজ হলো আমলে সলেহ বা সৎকর্ম করে যাওয়া এবং অন্যদেরও সৎকাজ করতে উৎসাহ দেওয়া।
—এই অংশটুকু নোমান আলী খানের আলোচনা থেকে

Address

House 100, Road 20, Sector 20
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Turn Back to Allah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share