16/07/2026
```কাকে ফাঁকি দিচ্ছি??```
: নামাজ পড়েছেন?
: আমরা তো চাষাভূষা মানুষ! দিন আনি দিন খায়। আমাগো কি নামাজ পড়লে চলবো? নামাজ পড়লে কাজকাম করুম কখন??
: আপনি পড়েছেন?
: আমরা তো চাকরিজীবী! পরের চাকরি করি। সময়ের আগেই ডিউটিতে যেতে হয়। নয়তো কপালে থাকে বসের চোখ রাঙানি! নামাজের সুযোগ কই?
: আপনি?
: ব্যবসা করি। মাত্রই দোকানটা খুলছি। নামাজে তো যাইতেই হবে। এটাই তো ভালো কাজ। কিন্তু দোকান রাইখা নামাজে গেলে দোকান দেখবে কে বলেন?
: ছোট ভাই, কি করো তুমি?
: পড়াশোনা।
: নামাজটা পড়েছ?
: কী যে বলেন! পড়াশোনার যে চাপ! নামাজ পড়ার সময় কই? তাছাড়া,... ইয়ে... মানে... কাপড়টাও পাক-পবিত্র নাই। কেমনে কি করি বলেন ??
.. এভাবেই কিছু মানুষ এড়িয়ে যায়। মহান রবের মস্ত বড় হুকুম মানা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়।
হঠাৎ একদিন। খবর পাওয়া যায়, চাষী করম আলী আর নেই! ইহধাম তাকে বিদায় জানিয়েছে।
... অফিসে যাচ্ছিলেন আনোয়ার সাহেব। চাকরিজীবী ভাইটি। সময়মতোই পৌঁছতে চেয়েছিলেন। সময় তাকে সহায়তা করেনি। একটা এক্সিডেন্টে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। অথর্ব, অকাজের হয়ে কাটে তার বাকি জীবন।
..ব্যবসায়ী মহাজন সাহেব! দোকান দোকান করেই কাটত তার সারাবেলা।
ব্যবসার হিসাব কিতাব মিলাতে গিয়েই হঠাৎ একদিন দুপুরে ব্যথা উঠে বুকে। নামাজ পড়ার সময় ছিল না যে লোকটির। আল্লাহকে দেওয়ার মতো সময় কখনো হয়নি যার। হ্যাঁ, তিনিই।হাসপাতালে নেওয়ার আগেই চলে গেছেন ওপারে।
.. আর, ওই যে ছাত্র ভাইটি! নামাজে যার ছিল চির গাফলতি! অল্প বয়সে সেও চলে গেল একদিন। বড় আশা ছিল তার। জীবনকে নিজের মতো করে সাজাবার। জীবনের রং, রস, গন্ধে মাতাল ছিল তার মন। আল্লাহকে চেনার তার সময় ছিল কখন??
এখন, আমরা কী ভাবছি?
আমি কি চাষী করম আলী?
আমি কি আনোয়ার সাহেব?
আমি কি ব্যবসায়ী মহাজন?
কিংবা সেই ছাত্রটি?
এত তাড়াতাড়ি মরবো নাকি আমি! এখনো তো অনে-ক দেরি!
_অথচ মৃত্যু প্রতিদিনই আমার সামনে থেকে কাউকে না কাউকে নিয়ে যাচ্ছে। নশ্বর থেকে অবিনশ্বরের পথে কেউ না কেউ পাড়ি জমাচ্ছে। যেতে হবে আমাকেও। তবুও হুঁশ হয় না, আজানের শব্দেরা দোলা দেয় না। খোলে না বন্ধ হয়ে থাকা হৃদয়মিনার।_
```এভাবে কতদিন আর?```
গল্পটি সংগৃহীত