Straight Path To Allāh

Straight Path To Allāh Guide Us To The Straight Way.

23/03/2026
23/03/2026

অনেক বছর আগে খবরে আমি স্যান ডিয়াগোর এক লোকের অসম্ভব দুঃখজনক এবং হৃদয় বিদারক ঘটনা শুনেছিলাম।

অন্যান্য দিনের মতো কাজ শেষে সে তার গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই দিনটি অন্যান্য দিনের চেয়ে তার জন্য ছিল আলাদা। সে যখন তার নিজ এলাকার কাছাকাছি চলে এলো, তখন সে একটা সাইরেনের আওয়াজ শুনতে পেল। এটা শুনে সে অনেক উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো। সে যখন তার এলাকার আরো কাছাকাছি যায়, তখন আকাশের দিকে অনেক ধোঁয়া উড়তে দেখে। হুট করে এমন কিছু দেখে তার হৃদয় স্পন্দন যেনো থমকে যায়!

প্রিয় পাঠক, একবার নিজেকে তার অবস্থানে চিন্তা করে দেখুন। আপনি অফিস থেকে ফিরলেন। নিজ বাড়ির খুব কাছাকাছি এসে দেখলেন আপনারই বাড়ির কাছে লোকজনের জটলা, উপর দিকে ধোঁয়া উড়ছে। মুহূর্তের মধ্যে আপনার প্রিয়জনদের কথা মনে পড়বেন না? বাড়িতে আপনার বৃদ্ধা মা-বাবা, স্ত্রী, প্রাণের প্রিয় ছেলে-মেয়ে—তাদের কী হয়েছে না হয়েছে, এই ভেবে আপনার ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠবে না?

এসব ভাবতে ভাবতেই সে তার গলির মোড়ে ঢুকে দেখতে পেল, সমস্ত জায়গায় পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং অগ্নিনির্বাপক ট্রাক। সে চরম দুশ্চিন্তা আর ভয় নিয়ে তার বাড়ির আরো কাছাকাছি পৌঁছালো। সাথে সাথেই যেনো তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো।

সে দেখতে পেলো তার বাড়ি আ'গুনে জ্ব'লে উঠেছে। তার পরিবার তখনও বাড়ির ভেতরে আটকা। ফলাফল—তার দুই সন্তান, তার স্ত্রী এবং তার শাশুড়ি সবাই সেখানে মারা গেলেন!

এখন একবার নিজেকে তার জায়গায় ভাবুন। বাস্তবিক অর্থে কেউ সেভাবে ভাবতে পারবে না, যদি না আপনি আপনার খুব আপন কাউকে এতটা মর্মান্তিকভাবে হারিয়ে থাকেন। কিন্তু একবার ভাববার চেষ্টা করুন। এই অপরিসীম দুঃখের মধ্যে নিজেকে সামান্য একটা কাঠের পুড়ে যাওয়া কয়লার মতো তুচ্ছ লাগবে আপনার। তারও ঠিক তেমনই লেগেছিল সেই সময়। তার নিজের পরিবারের সবাই মারা গেছে—তার সন্তান, তার স্ত্রী! আহ আফসোস!

এই ঘটনার পর সেই লোকের জীবন একদম বদলে গিয়েছিল। সে আর কখনো নামাজ বাদ দেয়নি।

এখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর একটি হাদিস শুনুন—তিনি বলেছেন:
“যে ব্যক্তি (ইচ্ছাকৃতভাবে) আসরের নামাজ ত্যাগ করল, সে যেন তার পরিবার এবং তার সমস্ত ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলল।”
(সহীহ বুখারী ৫৫২, মুসলিম ৬২৬)

এই হাদিসটি শোনার পর আমরা কীভাবে আর কখনো নামাজ আদায় না করে থাকতে পারবো? আমাদের অন্তত ফরজ নামাজের ইচ্ছা এবং সংকল্প থাকা উচিত। কারণ নামাজ আদায় না করার কারণে আমরা অপরিসীম পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবো, যা নামাজীদের জন্য নির্ধারিত। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ পরিত্যাগের কারণে আমাদের প্রচুর শাস্তি ভোগ করতে হবে।

মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “শেষ বিচারের দিনে যেই জিনিসের হিসাব সবচাইতে আগে নেয়া হবে তা হলো নামাজের হিসাব। যদি এটি ঠিক থাকে তাহলে তুমি সফলকাম এবং যদি এটিতে কোনো প্রকার ত্রুটি থাকে তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।”

আরেকটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যদি কেউ নামাজ আদায় না করে, তাহলে সে অবিশ্বাসীদের দলভুক্ত।”

এবং পবিত্র কুরআনে সুরা আল-মুদ্দাসসিরের ৪২-৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: “জান্নাতবাসীরা যখন নিচের দিকে তাকিয়ে জাহান্নামীদের দেখবে এবং তাদের জিজ্ঞাসা করবে তাদের জাহান্নামে যাওয়ার কারণ কী? এবং তারা (জাহান্নামীরা) উত্তর দেবে—‘আমরা তাদের দলভুক্ত নই যারা নামাজ আদায় করতো।’”

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এই ঘটনা শোনার পর সত্যিই কেউ আর নামাজ বাদ দিতে পারে না। এটা শুধু একটা ঘটনা নয়—এটা একটা সতর্কবার্তা!
আসরের নামাজ বাদ দেওয়া যেন নিজের সবকিছু হারানোর সমান। আজ থেকেই সব নামাজ ঠিক সময়ে আদায় করুন। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। 🤲

23/03/2026

ইসলাম ধর্মে সুদকে একটি ভয়াবহ পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন হাদিস এবং ধর্মীয় আলোচনার ওপর ভিত্তি করে সুদের ইহকালীন ও পরকালীন ক্ষতির দিকগুলো নিচে ১ থেকে ৭০ পর্যন্ত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

​১. এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।
২. সুদের গুনাহের সর্বনিম্ন স্তর হলো নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচার করা।
৩. সুদখোরের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়।
৪. এর মাধ্যমে মানুষের বরকত নষ্ট হয়ে যায়।
৫. সুদখোর কিয়ামতের দিন পাগলের মতো হয়ে উঠবে।
৬. এটি সামাজিক বৈষম্য ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি করে।
৭. সুদখোরের দোয়া কবুল হয় না।
৮. এটি মানুষের নৈতিকতা ও মানবতা ধ্বংস করে।
৯. সুদের কারণে মানুষের মাঝে হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়।
১০. এটি সম্পদের পবিত্রতা নষ্ট করে দেয়।
১১. সুদখোর জাহান্নামের আগুনে পুড়বে।
১২. এটি একটি কবীরা গুনাহ বা মহাপাপ।
১৩. সুদখোরের কোনো নেক আমল আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না।
১৪. এটি মানুষের মনে নির্দয়তা ও নিষ্ঠুরতা তৈরি করে।
১৫. সুদের টাকা দিয়ে পালিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
১৬. এটি অর্থনৈতিক শোষণের প্রধান হাতিয়ার।
১৭. সুদখোরের উপার্জিত সম্পদে শয়তানের অংশ থাকে।
১৮. এটি মানুষের পরকালকে ধ্বংস করে দেয়।
১৯. সুদের কারণে হঠাৎ মৃত্যু বা অপমৃত্যু ঘটতে পারে।
২০. এটি জাতীয় অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়।
২১. সুদখোর কিয়ামতে রক্তনদীতে সাঁতার কাটবে।
২২. এটি মানুষের হিতাহিত জ্ঞান লোপ করে দেয়।
২৩. সুদের কারণে মানুষের ওপর আজাব ও মুসিবত নেমে আসে।
২৪. এটি মানুষের মধ্যে অলসতা তৈরি করে।
২৫. সুদের মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট করা হয়।
২৬. এটি মানুষের পারিবারিক সুখ-শান্তি কেড়ে নেয়।
২৭. সুদখোরের চেহারা থেকে ঈমানের নূর চলে যায়।
২৮. এটি মানুষের অন্তরে ভীরুতা ও কৃপণতা তৈরি করে।
২৯. কিয়ামতের দিন সুদখোর লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে।
৩০. সুদের কারণে উৎপাদনশীল কাজের আগ্রহ কমে যায়।
৩১. এটি সমাজে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান আকাশচুম্বী করে।
৩২. সুদখোরের মৃত্যু অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়।
৩৩. এটি কবরের আজাবকে কঠোর করে তোলে।
৩৪. সুদের গুনাহ হত্যার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
৩৫. এটি মানুষের সম্মান ও মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
৩৬. সুদের কারণে ব্যবসায় ধস বা দেউলিয়া হওয়ার ভয় থাকে।
৩৭. এটি মানুষের বিবেকের কাছে তাকে অপরাধী করে রাখে।
৩৮. সুদখোর সবসময় অতৃপ্ত ও অশান্ত থাকে।
৩৯. এটি মানুষের ঈমানি শক্তি দুর্বল করে দেয়।
৪০. সুদের মাধ্যমে অর্জিত অট্টালিকাও পরকালে আগুনের খণ্ড হবে।
৪১. এটি সমাজকে পঙ্গু করে দেয়।
৪২. সুদখোরের উত্তরসূরিরা সেই হারাম সম্পদের অভিশাপ পায়।
৪৩. এটি আল্লাহর অফুরন্ত রহমত থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে।
৪৪. সুদের কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়।
৪৫. এটি মানুষকে বস্তুবাদী ও স্বার্থপর করে তোলে।
৪৬. সুদখোর দুনিয়াতে ঘৃণিত পাত্রে পরিণত হয়।
৪৭. এটি মানুষের শেষ পরিণামকে ভয়াবহ করে তোলে।
৪৮. সুদের কারণে মানুষ বিভিন্ন দুশ্চিন্তা ও মানসিক রোগে ভোগে।
৪৯. এটি আল্লাহর ক্রোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৫০. সুদখোরের কোনো ইবাদত (নামাজ, রোজা) কাজে আসবে না।
৫১. এটি মানুষের তাকওয়া বা পরহেজগারি নষ্ট করে।
৫২. সুদের কারণে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বৃদ্ধি পায়।
৫৩. এটি মানুষের অন্তরে মরিচা ধরিয়ে দেয়।
৫৪. সুদখোর জান্নাতের ঘ্রাণ থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।
৫৫. এটি মানবতাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার শিক্ষা দেয়।
৫৬. সুদের জাল মানুষকে চিরস্থায়ী ঋণের জালে আবদ্ধ করে।
৫৭. এটি কিয়ামতের ময়দানে বড় লজ্জার কারণ হবে।
৫৮. সুদখোরের আমলনামায় কেবল পাপই বৃদ্ধি পায়।
৫৯. এটি আত্মিক প্রশান্তি চিরতরে মিটিয়ে দেয়।
৬০. সুদের কারণে মানুষ পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায়।
৬১. এটি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার চরম ধৃষ্টতা।
৬২. সুদের টাকা দিয়ে দান-সদকা করলেও সওয়াব হয় না।
৬৩. এটি মানুষের আয়ু কমিয়ে দেয় বা বরকতহীন করে।
৬৪. সুদখোর শয়তানের সরাসরি সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
৬৫. এটি মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
৬৬. সুদের কারণে মানুষ হীনমন্যতায় ভোগে।
৬৭. এটি বিশ্ব শান্তির অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
৬৮. সুদখোর ইসলামের গণ্ডি থেকে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
৬৯. এটি মানুষের হৃদয়ে অন্ধকার সৃষ্টি করে।
৭০. সুদের শেষ পরিণতি হলো নিঃস্বতা ও লাঞ্ছনা।

21/03/2026

এই ১০টি সংকেত দেখলে বুঝবেন, আপনার বিজয় খুব নিকটেই!

১. আপনার ওপর বিপদ আসার কোনো মানবিক সমাধান নেই। এটি আসলে আল্লাহর একটি 'ছদ্মবেশী রহমত', যা আপনাকে দুনিয়ার মোহ থেকে সরিয়ে তাঁর সিজদায় নিয়ে এসেছে।

২. যখনই আপনি তওবা করে ঠিক পথে চলতে শুরু করবেন, মানুষ বা শয়তানের পক্ষ থেকে বাধা, ঠাট্টা বা কুমন্ত্রণা আসবে। মনে রাখবেন, চোর কখনোই খালি বাড়িতে চুরি করতে যায় না; আপনার হৃদয়ে ঈমানের সম্পদ জমা হচ্ছে দেখেই শয়তান হানা দিচ্ছে।

৩. হারাম ছেড়ে দিলে সাথে সাথেই হয়তো হালাল রিযিক আসবে না। মাঝখানে একটি পরীক্ষার সময় আসবে যখন মনে হবে সব আটকে গেছে। এটি আপনার সততার পরীক্ষা।

৪. কষ্টের সময় দীর্ঘ হতে হতে যখন আপনি প্রায় হাল ছেড়ে দেবেন, তখনই আল্লাহর সাহায্য আসার সময়। হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ৯ বছরের জেলের পর মিশরের শাসনভার পাওয়ার ঘটনাটি এর বড় প্রমাণ।

৫. যখন দেখবেন নামায আর ভারী মনে হচ্ছে না, কুরআন তিলাওয়াত আপনার সঙ্গী হয়ে গেছে। বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে বড় নিয়ামত দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন।

৬. ইস্তিগফারের কয়েক মাস পর আল্লাহ স্বপ্ন বা যে কোনো মাধ্যমে আপনাকে বা আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাধ্যমে বিভিন্ন শুভ সংকেত পাঠাতে শুরু করবেন।

৭. যে সব পাপে আপনি আগে আসক্ত ছিলেন, সেগুলোর প্রতি আপনার মনে প্রচণ্ড অনীহা তৈরি হবে। এই চারিত্রিক পরিবর্তনই বস্তুগত রিযিক আসার পূর্বশর্ত।

৮. আপনার বড় সমস্যাটি হয়তো এখনও সমাধান হয়নি, কিন্তু ছোট ছোট বিষয়ে (যেমন- অসুস্থতা থেকে মুক্তি বা পারিবারিক শান্তি) আল্লাহর সাহায্য টের পাবেন। এটি আপনার দীর্ঘ সফরের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পাথেয়।

৯. আপনি বুঝতে শুরু করবেন যে, রিযিক বা সফলতা কেবল মেধা দিয়ে অর্জন হয় না। এটাও মনে রাখতে হবে, গাড়ি (নেয়ামত) দেওয়ার আগে আল্লাহ আপনাকে ড্রাইভিং (উপলব্ধি) শেখাচ্ছেন।

১০. আপনার চারপাশের চাটুকার বা হিংসুকদের আসল চেহারা আপনার সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে। আল্লাহ চান আপনি যখন বড় সফলতার স্তরে পৌঁছাবেন, তখন যেন আপনার আশেপাশে কোনো মুনাফিক না থাকে।

বিজয় আসার সময়টি একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে (কারও এক বছর, কারও পাঁচ বছর)। তবে সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো ‘বাধার পর্যায়’ এবং ‘শয়তানের আক্রমণ’। ৯০% মানুষ এই স্তরে এসে ইস্তিগফার ছেড়ে দেয়। আপনি যদি এই বাধা পার হতে পারেন, তবে আল্লাহর সাহায্য অবধারিত।

(আরবি থেকে অনূদিত)

Nur Islam

17/03/2026
16/03/2026
14/03/2026

আজ ২৪ রমজান।🤲🤲

মানে—আজ মাগরিবের পর থেকেই শুরু হবে ২৫ রমজানের রাত।

আর অনেক আলেমের মতে, ২৫ রমজানের রাত—শবে কদরের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাতগুলোর একটি।

হয়তো আজ রাতই সেই রাত।

যে রাতে ১টা দোয়া কবুল হয়ে গেলে আপনার বহু বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে।

যে রাতে একটা কান্না আপনার তাকদির বদলে দিতে পারে।

যে রাতে একটা সিজদা আপনার আখিরাতের হিসাব হালকা করে দিতে পারে।

আর আজ যদি আপনি শুধু ৩টা জিনিস চান—

হয়তো বাকি অনেক কিছুই এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।

অনেকে শবে কদরের রাতে অনেক কিছু চান।

চাকরি চান।

বিয়ে চান।

সন্তান চান।

টাকা চান।

সুস্থতা চান।

সমস্যার সমাধান চান।

এগুলো চাওয়া ভুল না।

বরং চাইবেন।

খুলে খুলে চাইবেন।

লজ্জা না করে চাইবেন।

কিন্তু নবীজি ﷺ আমাদের এমন কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, এমন কিছু নিয়ামতের দিকে ইশারা করেছেন—যেগুলো আগে চাইলে বাকি অনেক কিছু তার ভেতরেই চলে আসে।

আজ সেই ৩টা জিনিসের কথা বলি।

ইমান। আফিয়াত। রিজিক।

প্রথমটা — ইমান

আল্লাহর কাছে সবার আগে চাইতে হবে ইমান।

কারণ ইমান না থাকলে কিছুই থাকে না।

দুনিয়ার সব অর্জন, সব সফলতা, সব স্বপ্ন—সবকিছু এক মুহূর্তে মূল্যহীন হয়ে যায় যদি শেষ নিঃশ্বাসে ইমান না থাকে।

ইমান মানে শুধু “আমি বিশ্বাস করি” — এতটুকু না।

ইমান মানে—

মৃত্যুর সময় পর্যন্ত সেই বিশ্বাস ধরে রাখা।

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আল্লাহর উপর থাকা।

শেষ মুহূর্তে দ্বীনের উপর অটল থাকা।

এ কারণেই নবীজি ﷺ নিজে এই দোয়া করতেন—

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

উচ্চারণ:

ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, ছাব্বিত কালবি আলা দ্বীনিক।

অর্থ:

হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর স্থির রাখো।

(তিরমিযী: ৩৫২২)

একটু খেয়াল করুন।

যিনি আল্লাহর প্রিয় রাসূল, যাঁর অন্তর সবচেয়ে পবিত্র, যাঁর ঈমান সবচেয়ে পূর্ণ—তিনি নিজেও এই দোয়া করতেন।

তাহলে আমি আর আপনি কেন গাফেল থাকি?

আজ রাতে সবার আগে এই দোয়া পড়ুন।

ইমান নিয়ে বাঁচার তাওফিক চান।

ইমান নিয়ে মরার তাওফিক চান।

সন্তানের জন্যও চান—তারা যেন ঈমান নিয়ে বড় হয়।

পরিবারের জন্যও চান—সবার অন্তর যেন দ্বীনের উপর থাকে।

দ্বিতীয়টা — আফিয়াত

দ্বিতীয় জিনিস—আফিয়াত।

এই শব্দটা ছোট, কিন্তু এর ভেতর অনেক কিছু আছে।

আফিয়াত মানে শুধু শরীরের সুস্থতা না।

আফিয়াত মানে—

শরীরের সুস্থতা।

মনের শান্তি।

পরিবারের নিরাপত্তা।

দ্বীনের উপর স্থিরতা।

বিপদ থেকে রক্ষা।

গুনাহ থেকে হেফাজত।

অশান্তি থেকে বাঁচা।

একবার একজন সাহাবি নবীজি ﷺ–কে জিজ্ঞেস করেছিলেন—

সবচেয়ে উত্তম কী চাইবো?

তখন নবীজি ﷺ বলেছিলেন—

“আল্লাহর কাছে আফিয়াত চাও। কারণ ইমানের পর আফিয়াতের চেয়ে উত্তম কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।”

(তিরমিযী: ৩৫১২)

একটু ভাবুন।

ইমানের পর—সবচেয়ে বড় নিয়ামত আফিয়াত।

মানে, আপনি যদি ইমান পান, তারপর আফিয়াত পান—তাহলে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় দুই সম্পদ পেয়ে গেছেন।

আজ রাতে এই দোয়াটা পড়ুন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।

অর্থ:

হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও সুস্থতা চাই।

(ইবনে মাজাহ: ৩৮৭১)

নিজের জন্য পড়ুন।

স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পড়ুন।

সন্তানের জন্য পড়ুন।

মা-বাবার জন্য পড়ুন।

পুরো পরিবারের জন্য পড়ুন।

কারণ অনেক সময় মানুষ টাকা পায়, কিন্তু শান্তি পায় না।

সম্পদ পায়, কিন্তু নিরাপত্তা পায় না।

মানুষ পায়, কিন্তু ভালোবাসা পায় না।

শরীর পায়, কিন্তু মন ভেঙে থাকে।

আফিয়াত এলে—জীবনটা হালকা হয়।

তৃতীয়টা — রিজিক

তৃতীয় জিনিস—রিজিক।

কিন্তু রিজিক মানে শুধু টাকা না।

রিজিক মানে—

হালাল উপায়ে পাওয়া।

বরকতসহ পাওয়া।

যথেষ্ট পাওয়া।

মানসম্মতভাবে পাওয়া।

অমুখাপেক্ষী হয়ে পাওয়া।

শুকরিয়া করার মতো পাওয়া।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

“আমিই রিজিকদাতা, শক্তিশালী, দৃঢ়।”

(সূরা যারিয়াত: ৫৮)

অর্থাৎ রিজিকের দরজা মানুষের হাতে না—আল্লাহর হাতে।

আজ রাতে এই দোয়াটা পড়ুন—

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিক, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।

অর্থ:

হে আল্লাহ, তোমার হালাল দিয়ে আমাকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে যথেষ্ট করো, আর তোমার অনুগ্রহ দিয়ে তোমা ছাড়া সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।

(তিরমিযী: ৩৫৬৩)

এই দোয়া শুধু অভাবীদের জন্য না।

এই দোয়া সবার জন্য।

কারণ ধনী মানুষও হারামে পড়তে পারে।

উপার্জন থাকলেও বরকত নাও থাকতে পারে।

আয় থাকলেও প্রশান্তি নাও থাকতে পারে।

তাই আজ রাতে শুধু টাকা না—হালাল, প্রশস্ত, বরকতময় রিজিক চান।

এই তিনটা একসাথে চাইতে চাইলে

আজ রাতে সিজদায় এই কথাগুলো একসাথে চাইতে পারেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ وَالرِّزْقَ الْحَلَالَ

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ওয়ার রিযকাল হালাল।

অর্থ:

হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে ক্ষমা, সুস্থতা ও হালাল রিজিক চাই।

চাইলে এর সাথে ইমানের দোয়াটাও আগে বা পরে যোগ করুন—

ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, ছাব্বিত কালবি আলা দ্বীনিক।

কেন এই তিনটা আগে?

হয়তো আপনি ভাবছেন—

“শুধু এই তিনটা?
আরও তো অনেক কিছু চাওয়ার আছে।”

অবশ্যই আছে।

চাইবেন।

সব চাইবেন।

আল্লাহ তো অশেষ দাতা।

কিন্তু এই তিনটা আগে চাইলে বাকি অনেক কিছু তার ভেতরেই চলে আসে।

ইমান থাকলে—সঠিক পথে থাকা সহজ হয়।

আফিয়াত থাকলে—জীবন উপভোগ করা যায়, ইবাদত করা যায়, পরিবার টিকে থাকে।

হালাল রিজিক থাকলে—অশান্তি কমে, অন্তর স্থির হয়, মুখে শুকর আসে।

এই তিনটার ভেতরেই দুনিয়া-আখিরাতের অনেক কল্যাণ লুকিয়ে আছে।

আজ রাতের আগে কী করবেন?

আজকের দিনটাই হোক প্রস্তুতির দিন।

এই দোয়াগুলো এখনই মুখস্থ করুন।

না পারলে কাগজে লিখে রাখুন।

ফোনে সেভ করুন।

পরিবারকে পাঠিয়ে দিন।

স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে মনে করিয়ে দিন।

সন্তানদের নাম ধরে দোয়া করার তালিকা বানান।

কারণ রাত শুরু হওয়ার পর “কী চাইবো?” ভাবতে ভাবতেই অনেক সময় চলে যায়।

আজ ২৪ রমজান।

আজ মাগরিবের পর ২৫ রমজানের রাত শুরু হবে।

তাই এখনই ঠিক করুন—আজ রাতে সিজদায় গিয়ে এই তিনটা আগে চাইবেন।

পরিবারকে নিয়ে চান

এই তিনটা দোয়া শুধু নিজের জন্য না।

নিজের জন্য চান।

সন্তানের জন্য চান।

মা-বাবার জন্য চান।

স্বামী বা স্ত্রীর জন্য চান।

পুরো পরিবারের জন্য চান।

একটা পরিবার যদি কদরের রাতে একসাথে ইমান, আফিয়াত আর হালাল রিজিক চায়—এটা কত বড় চাওয়া!

শেষ কথা

আজ রাতে বড় তালিকা না থাকলেও চলবে।

শুধু তিনটা জিনিস।

ইমান।

আফিয়াত।

রিজিক।

বারবার চান।

কান্না দিয়ে চান।

বিশ্বাস দিয়ে চান।

সিজদায় চান।

ফজরের আগে চান।

হয়তো এই তিনটা চাওয়াই আজ রাতে আপনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে ২৫ রমজানের রাতের পূর্ণ বরকত নসিব করুন, আপনার ইমান মজবুত করুন, আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াত দান করুন, আর আপনাকে হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করুন। আমিন।

আজ রাতে আপনি সবার আগে কোনটা চাইবেন—ইমান, আফিয়াত, নাকি হালাল রিজিক?

©
যারা লাতীফা থেকে জমজমের পানি নিয়েছেন, বা বাসায় জমজমের পানি আছে দয়া করে নিয়ত করে খেয়ে দোয়া করবেন।

াতীফাহ

13/03/2026

শুধু বিজোড় রাতেই নয়, শেষ দশকের কোনো জোড় রাতও হতে পারে লাইলাতুল কদর। আজ ২৪তম রাত। লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ে নিন, তাহলে বিষয়টি সহজে বুঝতে পারবেন।
▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) একটি বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে বলেছেন, যদি রামাদান মাস ৩০ দিনে হয়, তবে শেষ দশকের জোড় রাতগুলোতেও কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা (কদর) সন্ধান করো (শেষ দশকের) অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) নবম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) সপ্তম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) পঞ্চম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) তৃতীয় রাতে এবং অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) শেষ রাতে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৯৪; হাদিসটি সহিহ]
এ হাদিস থেকে আমরা দেখতে পারি যে, কোনো বছর রামাদান মাস যদি ৩০ দিনের হয়, তাহলে অবশিষ্ট নবম রাতটি হবে রামাদানের ২২তম রাত, অবশিষ্ট সপ্তম রাতটি হবে ২৪তম রাত, অবশিষ্ট পঞ্চম রাতটি হবে ২৬তম রাত এবং অবশিষ্ট তৃতীয় রাতটি হবে ২৮তম রাত। আর এভাবেই বিশিষ্ট সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) কদরের রাত সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। (এই গণনা শেষ দিক থেকে করা হয়েছে। হাসান বাসরি (রাহ.) থেকেও এভাবে গণনার পক্ষে দলিল রয়েছে)
অন্য দিকে, রামাদান মাস যদি ২৯ দিনের হয়, তাহলে উক্ত হাদিস অনুযায়ী কদরের রাত পড়বে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে। অতএব, ঈমানদারদের উচিত, রামাদানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই কদর অনুসন্ধান করা। [মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ২৫/২৮৪-২৮৫]
রামাদান ২৯ দিনে হলে বিজোড় রাতে কদর হবে আর ৩০ দিনে হলে জোড় রাতেও কদর হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকবে।
কদর যে জোড় রাতেও হতে পারে, তার একটি প্রমাণ হলো সাহাবি ইবনু আব্বাস (রা.)-এর বক্তব্য। তাবি’ঈ ইকরামা (রাহ.) ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ‘‘তোমরা ২৪তম রাতে (কদর) তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২২]
২৪তম রাতের ব্যাপারে হাসান সনদের একটি মারফু হাদিস (সরাসরি নবিজি থেকে বর্ণিত হাদিস) সংকলন করেছেন ইমাম আহমাদ ও তাবারানি (রাহিমাহুমাল্লাহ)।
জোড় রাতগুলোর মাঝে সরাসরি কেবল ২৪তম রাতের ব্যাপারেই বর্ণনা পাওয়া যায়।
গত শতকের প্রখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস শায়খ ইবনু উসাইমিন (রাহ.)-ও বলেছেন, জোড়-বিজোড় যেকোনো রাতেই কদর হতে পারে। [শারহুল মুমতি’: ৬/৪৯২]
এজন্য আমরা হাদিসে দেখি, নবিজি যদিও শেষ দশকের বিজোড় রাতকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন, কিন্তু তিনি নিজে শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করতেন; শুধু বিজোড় রাতগুলোতেই ইবাদত করতেন না। আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রামাদানের) শেষ দশকে (ইবাদতে) যে পরিমাণ চেষ্টা-সাধনা করতেন, অন্য কোনো সময়ে সে পরিমাণ প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন না।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৮]
তবে, কোনো সন্দেহ নেই যে, কদরের রাত বিজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদিস এসেছে। তাই, আমরা বিজোড় রাতগুলো বেশি গুরুত্ব দেবো, তবে জোড় রাতগুলোও অবহেলা করবো না। কারণ জোড় রাতেও কদর হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) এবং অন্য আলিমগণ জোড় রাতে হওয়ার পক্ষে যেভাবে শেষ দিক থেকে গণনা করে হাদিসটির অর্থ করেছেন, অধিকাংশ আলিম তেমনটি করেননি। বরং সালাফে সালিহিনের অধিকাংশ আলিম বিজোড় রাতের পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন। কারণ বিজোড় রাতের পক্ষে বর্ণিত হাদিসগুলো খুবই স্পষ্ট শব্দে বর্ণিত।
সর্বশেষ কথা হলো: যেহেতু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকের প্রতিটি রাতকেই গুরুত্ব দিতেন, সেহেতু তাঁকেই অনুসরণ করা উচিত। বিজোড় রাতে কদর হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি, তবে জোড় রাতেও হতে পারে। হাদিস থেকে কোনো কোনো আলিম এমনটিই অর্থ করেছেন। আমরা বিজোড় রাতগুলো বেশি গুরুত্ব দেবো, তবে জোড় রাতকে একেবারে অবহেলা করবো না। আল্লাহু আলামু বিস সওয়াব।
#মহান_রজনী (পর্ব : ০৪)
আগের পর্বগুলোর লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো।

লেখা : Nusus

#সীরাহ

11/03/2026

Address

Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Straight Path To Allāh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share