14/03/2026
আজ ২৪ রমজান।🤲🤲
মানে—আজ মাগরিবের পর থেকেই শুরু হবে ২৫ রমজানের রাত।
আর অনেক আলেমের মতে, ২৫ রমজানের রাত—শবে কদরের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাতগুলোর একটি।
হয়তো আজ রাতই সেই রাত।
যে রাতে ১টা দোয়া কবুল হয়ে গেলে আপনার বহু বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে।
যে রাতে একটা কান্না আপনার তাকদির বদলে দিতে পারে।
যে রাতে একটা সিজদা আপনার আখিরাতের হিসাব হালকা করে দিতে পারে।
আর আজ যদি আপনি শুধু ৩টা জিনিস চান—
হয়তো বাকি অনেক কিছুই এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।
অনেকে শবে কদরের রাতে অনেক কিছু চান।
চাকরি চান।
বিয়ে চান।
সন্তান চান।
টাকা চান।
সুস্থতা চান।
সমস্যার সমাধান চান।
এগুলো চাওয়া ভুল না।
বরং চাইবেন।
খুলে খুলে চাইবেন।
লজ্জা না করে চাইবেন।
কিন্তু নবীজি ﷺ আমাদের এমন কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, এমন কিছু নিয়ামতের দিকে ইশারা করেছেন—যেগুলো আগে চাইলে বাকি অনেক কিছু তার ভেতরেই চলে আসে।
আজ সেই ৩টা জিনিসের কথা বলি।
ইমান। আফিয়াত। রিজিক।
প্রথমটা — ইমান
আল্লাহর কাছে সবার আগে চাইতে হবে ইমান।
কারণ ইমান না থাকলে কিছুই থাকে না।
দুনিয়ার সব অর্জন, সব সফলতা, সব স্বপ্ন—সবকিছু এক মুহূর্তে মূল্যহীন হয়ে যায় যদি শেষ নিঃশ্বাসে ইমান না থাকে।
ইমান মানে শুধু “আমি বিশ্বাস করি” — এতটুকু না।
ইমান মানে—
মৃত্যুর সময় পর্যন্ত সেই বিশ্বাস ধরে রাখা।
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আল্লাহর উপর থাকা।
শেষ মুহূর্তে দ্বীনের উপর অটল থাকা।
এ কারণেই নবীজি ﷺ নিজে এই দোয়া করতেন—
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
উচ্চারণ:
ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, ছাব্বিত কালবি আলা দ্বীনিক।
অর্থ:
হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর স্থির রাখো।
(তিরমিযী: ৩৫২২)
একটু খেয়াল করুন।
যিনি আল্লাহর প্রিয় রাসূল, যাঁর অন্তর সবচেয়ে পবিত্র, যাঁর ঈমান সবচেয়ে পূর্ণ—তিনি নিজেও এই দোয়া করতেন।
তাহলে আমি আর আপনি কেন গাফেল থাকি?
আজ রাতে সবার আগে এই দোয়া পড়ুন।
ইমান নিয়ে বাঁচার তাওফিক চান।
ইমান নিয়ে মরার তাওফিক চান।
সন্তানের জন্যও চান—তারা যেন ঈমান নিয়ে বড় হয়।
পরিবারের জন্যও চান—সবার অন্তর যেন দ্বীনের উপর থাকে।
দ্বিতীয়টা — আফিয়াত
দ্বিতীয় জিনিস—আফিয়াত।
এই শব্দটা ছোট, কিন্তু এর ভেতর অনেক কিছু আছে।
আফিয়াত মানে শুধু শরীরের সুস্থতা না।
আফিয়াত মানে—
শরীরের সুস্থতা।
মনের শান্তি।
পরিবারের নিরাপত্তা।
দ্বীনের উপর স্থিরতা।
বিপদ থেকে রক্ষা।
গুনাহ থেকে হেফাজত।
অশান্তি থেকে বাঁচা।
একবার একজন সাহাবি নবীজি ﷺ–কে জিজ্ঞেস করেছিলেন—
সবচেয়ে উত্তম কী চাইবো?
তখন নবীজি ﷺ বলেছিলেন—
“আল্লাহর কাছে আফিয়াত চাও। কারণ ইমানের পর আফিয়াতের চেয়ে উত্তম কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।”
(তিরমিযী: ৩৫১২)
একটু ভাবুন।
ইমানের পর—সবচেয়ে বড় নিয়ামত আফিয়াত।
মানে, আপনি যদি ইমান পান, তারপর আফিয়াত পান—তাহলে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় দুই সম্পদ পেয়ে গেছেন।
আজ রাতে এই দোয়াটা পড়ুন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও সুস্থতা চাই।
(ইবনে মাজাহ: ৩৮৭১)
নিজের জন্য পড়ুন।
স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পড়ুন।
সন্তানের জন্য পড়ুন।
মা-বাবার জন্য পড়ুন।
পুরো পরিবারের জন্য পড়ুন।
কারণ অনেক সময় মানুষ টাকা পায়, কিন্তু শান্তি পায় না।
সম্পদ পায়, কিন্তু নিরাপত্তা পায় না।
মানুষ পায়, কিন্তু ভালোবাসা পায় না।
শরীর পায়, কিন্তু মন ভেঙে থাকে।
আফিয়াত এলে—জীবনটা হালকা হয়।
তৃতীয়টা — রিজিক
তৃতীয় জিনিস—রিজিক।
কিন্তু রিজিক মানে শুধু টাকা না।
রিজিক মানে—
হালাল উপায়ে পাওয়া।
বরকতসহ পাওয়া।
যথেষ্ট পাওয়া।
মানসম্মতভাবে পাওয়া।
অমুখাপেক্ষী হয়ে পাওয়া।
শুকরিয়া করার মতো পাওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
“আমিই রিজিকদাতা, শক্তিশালী, দৃঢ়।”
(সূরা যারিয়াত: ৫৮)
অর্থাৎ রিজিকের দরজা মানুষের হাতে না—আল্লাহর হাতে।
আজ রাতে এই দোয়াটা পড়ুন—
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিক, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ:
হে আল্লাহ, তোমার হালাল দিয়ে আমাকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে যথেষ্ট করো, আর তোমার অনুগ্রহ দিয়ে তোমা ছাড়া সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।
(তিরমিযী: ৩৫৬৩)
এই দোয়া শুধু অভাবীদের জন্য না।
এই দোয়া সবার জন্য।
কারণ ধনী মানুষও হারামে পড়তে পারে।
উপার্জন থাকলেও বরকত নাও থাকতে পারে।
আয় থাকলেও প্রশান্তি নাও থাকতে পারে।
তাই আজ রাতে শুধু টাকা না—হালাল, প্রশস্ত, বরকতময় রিজিক চান।
এই তিনটা একসাথে চাইতে চাইলে
আজ রাতে সিজদায় এই কথাগুলো একসাথে চাইতে পারেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ وَالرِّزْقَ الْحَلَالَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ওয়ার রিযকাল হালাল।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে ক্ষমা, সুস্থতা ও হালাল রিজিক চাই।
চাইলে এর সাথে ইমানের দোয়াটাও আগে বা পরে যোগ করুন—
ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, ছাব্বিত কালবি আলা দ্বীনিক।
কেন এই তিনটা আগে?
হয়তো আপনি ভাবছেন—
“শুধু এই তিনটা?
আরও তো অনেক কিছু চাওয়ার আছে।”
অবশ্যই আছে।
চাইবেন।
সব চাইবেন।
আল্লাহ তো অশেষ দাতা।
কিন্তু এই তিনটা আগে চাইলে বাকি অনেক কিছু তার ভেতরেই চলে আসে।
ইমান থাকলে—সঠিক পথে থাকা সহজ হয়।
আফিয়াত থাকলে—জীবন উপভোগ করা যায়, ইবাদত করা যায়, পরিবার টিকে থাকে।
হালাল রিজিক থাকলে—অশান্তি কমে, অন্তর স্থির হয়, মুখে শুকর আসে।
এই তিনটার ভেতরেই দুনিয়া-আখিরাতের অনেক কল্যাণ লুকিয়ে আছে।
আজ রাতের আগে কী করবেন?
আজকের দিনটাই হোক প্রস্তুতির দিন।
এই দোয়াগুলো এখনই মুখস্থ করুন।
না পারলে কাগজে লিখে রাখুন।
ফোনে সেভ করুন।
পরিবারকে পাঠিয়ে দিন।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে মনে করিয়ে দিন।
সন্তানদের নাম ধরে দোয়া করার তালিকা বানান।
কারণ রাত শুরু হওয়ার পর “কী চাইবো?” ভাবতে ভাবতেই অনেক সময় চলে যায়।
আজ ২৪ রমজান।
আজ মাগরিবের পর ২৫ রমজানের রাত শুরু হবে।
তাই এখনই ঠিক করুন—আজ রাতে সিজদায় গিয়ে এই তিনটা আগে চাইবেন।
পরিবারকে নিয়ে চান
এই তিনটা দোয়া শুধু নিজের জন্য না।
নিজের জন্য চান।
সন্তানের জন্য চান।
মা-বাবার জন্য চান।
স্বামী বা স্ত্রীর জন্য চান।
পুরো পরিবারের জন্য চান।
একটা পরিবার যদি কদরের রাতে একসাথে ইমান, আফিয়াত আর হালাল রিজিক চায়—এটা কত বড় চাওয়া!
শেষ কথা
আজ রাতে বড় তালিকা না থাকলেও চলবে।
শুধু তিনটা জিনিস।
ইমান।
আফিয়াত।
রিজিক।
বারবার চান।
কান্না দিয়ে চান।
বিশ্বাস দিয়ে চান।
সিজদায় চান।
ফজরের আগে চান।
হয়তো এই তিনটা চাওয়াই আজ রাতে আপনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে ২৫ রমজানের রাতের পূর্ণ বরকত নসিব করুন, আপনার ইমান মজবুত করুন, আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াত দান করুন, আর আপনাকে হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করুন। আমিন।
আজ রাতে আপনি সবার আগে কোনটা চাইবেন—ইমান, আফিয়াত, নাকি হালাল রিজিক?
©
যারা লাতীফা থেকে জমজমের পানি নিয়েছেন, বা বাসায় জমজমের পানি আছে দয়া করে নিয়ত করে খেয়ে দোয়া করবেন।
াতীফাহ