26/05/2026
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতীতে মসজিদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের শব্বেদারী তথা রাতজেগে ইবাদত এবং আরাফার রোজা রাখার জন্য সেহরির আয়োজনে স্থানীয় বিএনপি সন্ত্রাসীদের বাঁধা ও গাড়ি ভাংচুর—
পবিত্র আরাফার রাত যে রাতে বান্দারা আল্লাহর দরবারে চোখের পানি ফেলে ক্ষমা চায়,
যে রাতে তাহাজ্জুদের সিজদায় কেঁপে ওঠে মুমিনের হৃদয়। সেই রাত উপলক্ষে চরপার্বতী ৭নং ওয়ার্ডস্থ মৌলবি আবদুর রহিম জামে মসজিদে, মসজিদ কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান স্যারের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কোম্পানীগঞ্জ পূর্ব থানা শাখা নৈশ ইবাদত ও সাহারীর আয়োজন করে।
রাতভর কুরআন তিলাওয়াত, নফল ইবাদত ও তাহাজ্জুদের প্রস্তুতিতে পরিবেশ ছিল শান্ত ও আত্মিক প্রশান্তিতে ভরা।
কিন্তু হঠাৎ করে সাইফুল নামে এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করে এবং উপস্থিত ইবাদতকারীদের মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলে। এক পর্যায়ে নামাজ আদায়কারীদের “চোর”, “ডাকাত”, “জঙ্গি” ইত্যাদি বলে কটূক্তি করা হয়।
বিএনপির সেই সন্ত্রাসী সাইফুলের নেতৃত্বে ১৫–২০ জন লোক মসজিদের বাহিরে জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পুলিশের উপস্থিতির কারণে তারা মসজিদে হামলা চালাতে না পারলেও বাহিরে থাকা ৩টি মোটরসাইকেল ও ৫টি বাইসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
শুধু কয়েকটি গাড়ি নয়, আঘাত করা হয়েছে কিছু নিরীহ তরুণের অনুভূতিতেও। তবুও তারা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, মসজিদের পরিবেশ নষ্ট করেনি এবং শান্তিপূর্ণভাবেই তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াত, দোয়া ও রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে চেয়েছিল।
কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল অন্য জায়গায়…
যে খাবারগুলো রোজাদারদের সাহরির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেই খাবারও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। ৪০টি ডিমের মধ্যে ২৮টি খেয়ে ফেলা, খাবার নিতে বাধা দেওয়া এবং খাবার বহনের জন্য ভাড়া করা সিএনজি চালককে হুমকি দিয়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। সব মিলিয়ে যেন মানবতাকেও অপমান করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সহযোগিতায় অন্য একটি গাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে চরপার্বতীর বিএনপির সন্ত্রাসী সাইফুল, হোসেন, চুট্টু, ভুট্টু, ঈশাদ, মাঈন উদ্দিন (কালা), নাছের (মেম্বার), (পাকিস্তানি), ইকবাল (ডাক্তার), শামীম, সৈকত ও দীপু সহ নাম না জানা আরো বেশ কয়েকজন।
আরাফার রাতে মসজিদে নৈশ ইবাদতে এই সন্ত্রাসীদের বাধা, গাড়ি ভাংচুর—এমনকি সেহরির খাবারও তাদের হাত থেকে রেহাই পেলো না।
ইতিহাস সাক্ষী—
মসজিদের অশ্রু কখনো বৃথা যায় না,
তাহাজ্জুদের কান্না কখনো হারিয়ে যায় না,
আর মজলুমের আর্তনাদ একদিন ঠিকই আরশ কাঁপায়।