04/12/2025
আল্লাহ তার কোরআনের কোথাও বলেন নাই মসজিদ মাদ্রাসায় দান করতে, বা মসজিদ মাদ্রাসায় দান করলে নেকী হবে॥ কোরআনে তন্ন তন্ন করে কোথাও পেলাম না মসজিদ মাদ্রাসায় দান করলে আপনি নেকী পাবেন। বরং কোরআনের অনেক অনেক জায়গায় লিখা আছে, মজলুম, অসহায়, গরীব, এতিম মিসকিন ঋণগ্রস্থ এবং যিনি অভাবে থেকেও মুখে সাহায্য চাইতে পারে না, এমন মানুষকে দান করার কথা। মানে এদেরকে সাহায্য না করলে আপনি ইসলাম থেকেই বাতিল হয়ে যাবেন। এবার নিজে নিজে চিন্তা করে দেখতে পাড়েন, সত্যিকার অর্থেই কি আপনি কোরআন এর শর্ত মোতাবেক দান করেছেন কিনা, এবং আপনার দান গ্রহণযোগ্য হয়েছে কিনা।
দেশীয় মাওলানারা তাদের নিজের পকেট ভরা আর ভুঁড়িভোজের জন্যে কখনোই এই সত্য বলে না। যে কারনে দেশের মানুষ নামে মুসলমান হলেও ইসলামিক কোন জ্ঞান অর্জন করতে পারে নাই, ধর্ম নিয়ে কোন লেখা পড়া নাই, ধর্ম জানারও কোন আগ্রহ নেই। এদেশের মানুষ টুপী জুব্বা পরিধান করে সেই মধ্যযোগের যাহিল সম্প্রদায় হিসেবেই রয়ে গেছে।
ইসলাম নিয়ে যে কোন দেশের বকধার্মিককে প্রশ্ন করলে উত্তরে “তুই নাস্তিক” বলা ছাড়া আর কোন উত্তর দিতে পারছে না, এই না পারার কারন হলো ধর্ম নিয়ে তাদের কোন লেখাপড়া নেই, তাদের জ্ঞান বলতে শুধু হুজুরের বক্তব্য।
সব চাইতে ভয়াবহ ব্যপার হলো, হুজুরদেরও ইসলাম নিয়ে লেখাপড়া বা জ্ঞান চর্চা নেই, যেটুকুন আছে তা শুধু নিজের ধান্দা ফিকিরে দুই পয়সা আসবে কি ভাবে সেইটুকুন, আর তাদের পেছনেই এই লক্ষ কোটি ধর্মান্ধ যাহিল জনতা ।
উদাহরন হিসেবে আজাহারীকে দেশের সব চেয়ে বড় বক্তা বলে ধার্মিকরা মনে করে, আজাহারীর শিক্ষা আর ডক্টরেট কিসের ভিক্তিতে? তিনি কয়েক হাজার হাদিস মুখস্ত করে ডক্টোরাল ডিগ্রী পেয়েছেন, কিন্তু সেই হাদিসের বৈধতা কতোটুকু? নবী মরার আড়াইশ বছর পরে কোন এক ব্যক্তি অতিউৎসাহিত হয়ে নবীর কাহিনী সংগ্রহ করে নিজের মতো করে রচনা করেছে, সেই রচনা কোন সাহাবী লিখে নাই, তা লিখতে নবীর নির্দেশও ছিলো না। তাহলে এমন রচনার বৈধতা আর সত্যতা কতোটুকু?
আরো বিস্ময়ের ব্যপার হলো এই মাওলানারা নিজেদের ব্যবসাকে জমজমাট করতে কোরআনকে একেক মৌলভী একেক রকম করে তরজমা করেছে, এমন ভাবে করেছে যে সবার ব্যবসাই যেন ভালো চলে, কোরানের সাথে তরজমা পার্থক্য অনেক। এটা প্রমান করতে আপনাকে কমপক্ষে ৫ জনের রচয়িত তরজমা পড়তে হবে, তবেই বুঝতে পারবেন একটির সাথে অন্যটির পার্থক্য আকাশ পাতাল। মানে এটাকে চুরি নয়, পুকুরচুরি বললেও কম হয়ে যাবে॥
দেশের ইসলামী স্কোলার নামের হুজুরগুলো নিজেদের সাথে কোরআনকেও বিকৃত করে ব্যবহার করতে কোন দ্বিধাবোধ করে না, আল্লাহ রসুলকে আর আল্লার কোরআনকে বিক্রী করে হলেও হুজুর তার পকেট ভরতে বদ্ধ পরিকর, আর তাদের পেছনেই লক্ষ কোটি ধর্মান্ধ হুর এবং স্বর্গের লোভে উম্মাদ হয়ে দৌড়াচ্ছে।
নবী নিজেই তো মসজিদকে ঝলমলে ঝকঝকে পাথর বসাতে নিষেধ করে গেছেন, নবীর আমলে অনেক বিত্তশালী মুসলমান ছিল, তারা মসজিদে দান করে ঝকঝকে চকচকে করতে পারতো, কিন্তু নবী তা করতে নিষেধ করেছেন। নবী বলেছেন, কোন অবস্হাতেই যেন মসজিদকে জৌলসপুর্ণ বানানো না হয়॥
গতকাল টিভিতে দেখলাম দলাদলি করে একই গ্রামে ৮ টি মসজিদ গড়ে উঠেছে, কিন্তু মসজিদগুলোতে কোন মুসল্লি নেই॥ মানে এখন মসজিদ নিয়েও সমাজে শাস্তি শৃংখলা বিঘ্নিত হচ্ছে, মসজিদের কারনে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে।
আমাদের দেশে ইসলামিক কোন দল নেই, যা আছে তা শুধুই নিজেদের ধান্দার জন্যে দল। ইসলামীক মুখোপাত্র হিসেবে হুজুররা ওয়াজ মাহফিলে ইসলামের নামে পুরো বক্তব্য জোরে শুধু নারী বিদ্বেষ আর অন্যান্য ধর্মের কুৎসা রটানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে, এদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, এদের মুল এজেন্ডাই হলো নারীর প্রতি বিদ্বেষ আর ঘৃনা ছড়ানো, বাংলাদেশে নারী নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী এই সকল হুজুরদের ওয়াজে নারী বিরোধী ঘৃনিত বক্তব্য ।
এতে ইসলামের তো কোন উপকার হচ্ছেই না বরং অনেক নারী পুরুষ ইসলাম থেকে বিমুখ হচ্ছে, অন্যান্য ধর্মালম্বিরা ইসলামকে আরো ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করছে, একই কারনে ইসলাম ধর্ম দিনের পর দিন পৃথিবী জোরে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এদেশের টাউট হুজুররা ক্যামেরার সামনে বছরে অন্যধর্মের দুজনকে মুসলমান বানিয়ে নিজেদেরকে বীর মনে করছে, অথচ এই ওয়াজিন হুজুরদের কারনে কতো কতো মুসলিম নারীরা বি-পথে, তার হিসেব নাই।
আপনি সঠিক ধার্মিক হতে চাইলে কোরআনের সঠিক সন্ধানের কোন বিকল্প নাই ॥ কোরআন বুঝে পড়ুন, ধর্মীয় জ্ঞানে নিজেকে সমৃদ্ধ করুন, তবেই আপনি মুসলিম।