13/08/2026
সূফী সম্রাট হযরত মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানের ঐতিহাসিক সংস্কার :-
১লা রবিউল আওয়াল হযরত হযরত মুহাম্মদ (স.) এর ওফাত দিবস
পবিত্র কুরআনে সূরা মায়েদার ৩নং নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- “আল ইয়াউমা আকমালতু লাকুম দ্বীনাকুম ওয়া আতমামতু আলাইকুম নিয়্যিমাতি ওয়া রাদিতু লাকুমুল ইসলামা দ্বীনা” - ”আজ আমি তোমাদের ধর্মকে পূর্ণত্ব প্রদান করলাম, আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে একমাত্র ধর্ম হিসেবে কবুল করে নিলাম” এ প্রসিদ্ধ আয়াতখানি হিজরীর দশম বর্ষের ৯ই জিলহজ্ব তারিখে আরাফার ময়দানে অবতীর্ণ হয়। এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার স্থান, দিন, তারিখ ও সময় নির্দিষ্ট হওয়ায় এ তারিখকে হযরত রাসুল (স.)-এর ওফাতের তারিখ নির্ণয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায়। বিখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ আয়াত ১০ম হিজরির ৯ই জিলহজ্ব তারিখে নাজিল হয়। এরপর হযরত রাসুল (স.) মাত্র ৮১ দিন পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন (তাফসীরে মা’রেফুল কুরআন)।
বিদায় হজ্বের দিনে আলোচ্য আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়া থেকে ৮১তম দিবসে রাসুল (স.) ওফাত লাভ করেন বলে সর্বসম্মত অভিমত। প্রাচীন ও আধুনিককালের প্রায় ভাষ্যকারই এমত ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানকালের আল্লামা সাব্বীর আহম্মদ উসমানী তাঁর বিখ্যাত উর্দু তাফসীরে ৮১ দিন উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়ে নিম্নে আরো কয়েকজন আরবী তাফসীরকারকের অভিমত তুলে ধরা হয়েছে :-
১. ইবনে জারীর কর্তৃক ইবনে জুরাইজ হতে বর্ণিত হয়েছে, এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসুল (স.) ৮১ রাত জীবিত ছিলেন (তাফসীরে দুররে মানছুর ৬ষ্ঠ খ- পৃষ্ঠা ২০)।
২. বাগবী বলেন, হারুন ইবনে আনতারা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর হযরত রাসুল (স.) ৮১ দিন জীবিত ছিলেন (তাফসীরে মাজহারী, পৃষ্ঠা ২৫)।
৩. ইবনে জারীর ও অন্যরা বলেন, আরাফা দিবসের পর হযরত রাসুল (স.) ৮১ দিন জীবিত ছিলেন (তাফসীরে ইবনে কাসীর)।
৪. এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওযার ৮১ রাত রাসুল (স.) জীবিত ছিলেন (তাফসীরে খাজেন ও তাবারী)।
উপরোল্লেখিত বর্ণনা থেকে আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারি যে, হযরত রাসুল (স.) বিদায় হজ্বের দিন থেকে ৮১তম দিবসে ওফাত লাভ করেছিলেন। সুতরাং আমরা বিদায় হজ্বের দিন থেকে ৮১তম দিবস কত তারিখ ও কি বার হয় তা গণনা করলে হযরত রাসুল (স.)-এর ওফাতের তারিখ সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে পারি।