Iskcon Youth Forum, Gabtali

Iskcon Youth Forum, Gabtali ISKCON Youth Forum (IYF), Gabtali is the youth wing of ISKCON Gabtali.

IYF is aimed towards nourishing the hearts of today's youth with the sublime message of the scriptures and helping them flourish in their lives in a wholesome manner.

শ্রীগদাধর পণ্ডিত গোস্বামীর জীবনচরিত১. পরিচয় ও জন্ম • পিতা: শ্রীমাধব মিশ্র। • মাতা: শ্রীরত্নাবতী দেবী। • জন্মস্থান: বানীগ...
18/12/2025

শ্রীগদাধর পণ্ডিত গোস্বামীর জীবনচরিত

১. পরিচয় ও জন্ম
• পিতা: শ্রীমাধব মিশ্র।
• মাতা: শ্রীরত্নাবতী দেবী।
• জন্মস্থান: বানীগ্রাম, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
• জন্ম তিথি: বৈশাখ মাসের অমাবস্যা তিথিতে।

রত্নাবতী দেবী, শচীমাতাকে বড় বোনের মতো স্নেহ করতেন। দুই পরিবারের মধ্যে ছিল গভীর সম্পর্ক।

২. শৈশব ও মহাপ্রভুর সঙ্গ
• শ্রীগৌরহরির (মহাপ্রভুর) সাথে শৈশব থেকেই গদাধর পণ্ডিতের নিবিড় সম্পর্ক।
• দুজন একসঙ্গে গ্রাম্য পাঠশালায় পড়াশোনা করতেন।
• গদাধর, মহাপ্রভুর চেয়ে কয়েক বছরের কনিষ্ঠ।
• উভয়েই একে অপরের অনুপস্থিতি সহ্য করতে পারতেন না।

৩. অন্তর্নিহিত রূপ
• শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকা অনুসারে:
ব্রজে যিনি শ্রীবৃষভানু কুমারী (শ্রীরাধা), তিনিই শ্রীগদাধর পণ্ডিত।
• শ্রীবাসুদেব ঘোষ ঠাকুর বলেছেন:
নিত্যানন্দ-গৌরাঙ্গের সঙ্গে গদাধর পণ্ডিত আসলে শ্রীরাধার স্বরূপ।

৪. গদাধর পণ্ডিতের স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য
• শৈশব থেকেই ধীর, শান্ত, নির্জনতা-প্রিয় এবং বৈরাগ্যপরায়ণ।
• গৌরসুন্দর যখন চঞ্চল প্রকৃতি প্রকাশ করতেন, গদাধর কখনও কখনও দূরে সরে যেতেন।
• গৌরাঙ্গ বলতেন:
“গদাধর, কিছুদিন পর আমি এমন বৈষ্ণব হবো, যে আমার দ্বারে ব্রহ্মা-শিবও আসবে।”

৫. শ্রীপুণ্ডরীক বিদ্যানিধির দর্শন ও দীক্ষা
• মুকুন্দ দত্তের সঙ্গে গদাধর পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির দর্শনে যান।
• প্রথম দর্শনে বিদ্যানিধির বাহ্যিক আড়ম্বর দেখে গদাধরের মনে সন্দেহ জন্মায়।
• মুকুন্দ কৃষ্ণলীলা কীর্তন করেন।
• শুনে পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ভক্তির উচ্ছ্বাসে অচেতন হয়ে পড়েন।
• গদাধর নিজের অপরাধ বোধ করেন এবং বিদ্যানিধির নিকট মন্ত্র গ্রহণ করেন।

৬. শ্রীঈশ্বর পুরীর সংস্পর্শ
• নবদ্বীপে অবস্থানকালে শ্রীঈশ্বর পুরী গদাধরকে “কৃষ্ণলীলামৃত” গ্রন্থ পাঠ করান।
• গদাধর পুরী পাদকে গুরুতুল্য সেবা ও সম্মান করেন।

৭. প্রেম-প্রকাশের সময় গদাধর পণ্ডিতের ভূমিকা
• মহাপ্রভু গয়ায় গিয়ে প্রথম প্রেমাবেশ প্রকাশ করেন।
• ফিরে এসে অনবরত কৃষ্ণ-প্রেমে ডুবে থাকেন।
• গদাধর এই প্রেমময় রূপ দেখে মহাপ্রভুর ছায়াসঙ্গী হয়ে যান।
• এক মুহূর্তও মহাপ্রভুর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন না।

৮. বিশেষ ঘটনা: হৃদয় বিদারণ ও গদাধরের কৌশল
• মহাপ্রভু ভাবাবেশে নিজের হৃদয় বিদীর্ণ করতে উদ্যত হন।
• গদাধর তাঁকে শান্ত করে বলেন:
“কৃষ্ণ এখনই আসবেন। তুমি স্থির হও।”
• শচীমাতা গদাধরের বুদ্ধিমত্তা দেখে তুষ্ট হয়ে তাঁকে নির্দেশ দেন সবসময় মহাপ্রভুর সঙ্গী হতে।

৯. ভজন ও কীর্তন আসরে গদাধর পণ্ডিত
• শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহে মহাপ্রভুর কৃষ্ণকথার সভায় গদাধর প্রবেশ করেন।
• সেখানে ভক্তিরসে বিহ্বল হয়ে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করেন।
• মহাপ্রভু বলেন:
“শৈশব থেকেই গদাধরের কৃষ্ণে সুদৃঢ় মতি।”
এবং গদাধরকে আলিঙ্গন করেন।

১০. নদীয়া লীলা ও বৃন্দাবন স্মরণ
• গৌর-গদাধর একসঙ্গে গঙ্গাতটে ব্রজ-বিহার স্মরণ করেন।
• গদাধর প্রভুকে পুষ্পমালা দিয়ে সাজান।
• সখাসঙ্গীরা কীর্তন ও নৃত্যে মগ্ন থাকেন।

১১. সন্ন্যাস লীলা ও নীলাচলে গদাধরের সেবা
• মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করে নীলাচলে (জগন্নাথ পুরী) গমন করেন।
• গদাধরও নীলাচলে গিয়ে শ্রীগোপীনাথের সেবা গ্রহণ করেন।
• মহাপ্রভু প্রায়ই গদাধর পণ্ডিতের মন্দিরে বসে কৃষ্ণকথা শ্রবণ করতেন।

১২. শ্রীগদাধর পণ্ডিতের শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ
• গদাধর পণ্ডিত ভক্তিসহকারে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতেন।
• মহাপ্রভু ও পার্ষদগণ তা শুনে কৃষ্ণ-প্রেমে মগ্ন হতেন।

১৩. শেষ লীলা
• মহাপ্রভু তাঁর বিচিত্র লীলা ৪৮ বছর পর গোপীনাথ মন্দিরে প্রবেশ করে অন্তর্ধান করেন।
• গদাধর পণ্ডিত পরম বিরহে কাতর হয়ে তাঁর সেবা চালিয়ে যান।

১৪. ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের স্মরণ

শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ভাষায়:

“স্মরণ কর গৌর-গদাধরের কেলি। শুধু গৌর-গদাধরের চারুকথা ভজন করো।”

উপসংহার

শ্রীগদাধর পণ্ডিত বৈষ্ণবসমাজের অমূল্য রত্ন। তাঁর জীবন ভক্তি, প্রেম, নম্রতা ও সেবার অপূর্ব আদর্শ। তিনি চিরকাল ভক্তদের হৃদয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর প্রিয়তম সহচর রূপে বিরাজমান।

আজ সফলা একাদশী! সফলা একাদশীর মাহাত্ম্যঃমহিষ্মত নামে চম্পাবতী নগরে এক রাজা বাস করতেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম লুম্ভক যে ...
16/12/2025

আজ সফলা একাদশী!

সফলা একাদশীর মাহাত্ম্যঃ

মহিষ্মত নামে চম্পাবতী নগরে এক রাজা বাস করতেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম লুম্ভক যে সদা সর্বদা বিভিন্ন পাপকর্ম যেমন - পরস্ত্রীগমন, মদ্যপান, ব্রাহ্মণ, বৈষ্ণব ও দেবতাদের নিন্দা করা, ইত্যাদিতে লিপ্ত ছিল। তাই তার পিতা তাকে রাজ্য থেকে বের করে বনে পাঠিয়ে দেয়। সেখানেও সে বিভিন্ন পাপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।

পূর্বজন্মের কোন পুণ্যের ফলে সে সফলা একাদশীর আগের দিন অর্থাৎ দশমীতে কেবল ফল আহার করে, রাতে প্রচণ্ড শীতে তার অবস্থা মৃতপ্রায় হয়ে যায়। দুপুরে জ্ঞান ফিরলে সে কিছু ফল সংগ্রহ করে। রাতে প্রাণ রক্ষার্থে ভগবানের উদ্দেশ্যে সেই ফল নিবেদন করে অনাহারে অনিদ্রায় রাত্রি যাপন করল।

অজ্ঞাতসারে সে সফলা একাদশী ব্রত নিষ্ঠার সাথে পালন করে ফেলল। তখন সে দৈববাণী শুনতে পেল। সে দিব্যরূপ, স্ত্রী পুত্রসহ রাজ্যসুখ ভোগ করে, পুত্রের হাতে রাজ্যভার অর্পণ করে সন্ন্যাস নিল। মৃত্যুর পর ভগবানের কাছে ফিরে গেল।

পূজিত বিগ্রহ হচ্ছেন নারায়ণ এবং নিবেদন হিসেবে আপনারা বিগ্রহকে ফল নিবেদন করতে পারেন। এই একাদশী পালন করলে জাগতিক সুখ ও পরে মুক্তি লাভ করা যায়। এই ব্রতে যারা শ্রদ্ধাশীল, তাঁরাই ধন্য। তাঁদের জন্ম সার্থক, এতে কোন সন্দেহ নেই। এই ব্রত পাঠ ও শ্রবণে মানুষের রাজসূয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়। হাজার হাজার বছর তপস্যায় যে ফল লাভ হয় না, একমাত্র সফলা একাদশীতে রাত্রি জাগরণের ফলে তা অনায়াসে প্রাপ্ত হওয়া যায়।

15/12/2025

Shadhu sanga 2025
Srila Subhag swami Moharaj with Devotees in Malpay beach.

13/12/2025
ব্রহ্ম- মাধ্ব গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের প্রধান আচার্য শ্রীমাধ্বাচার্যের শ্রীপাঠ তথা জন্মভূমি/-- পাকাজা ক্ষেএ, উডুপি,কর্ণাটক, ভার...
10/12/2025

ব্রহ্ম- মাধ্ব গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের প্রধান আচার্য শ্রীমাধ্বাচার্যের শ্রীপাঠ তথা জন্মভূমি/-- পাকাজা ক্ষেএ, উডুপি,কর্ণাটক, ভারত🥰🥰

উদুপি ধামে শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশী ভক্তদের সাথে শ্রীল সুভগ স্বামী গুরুমহারাজ ।
09/12/2025

উদুপি ধামে শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশী ভক্তদের সাথে শ্রীল সুভগ স্বামী গুরুমহারাজ ।

শ্রীশ্রী গুরু-গৌরাঙ্গৌ জয়তঃহরেকৃষ্ণআগামী,১২ ডিসেম্বর,২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।৮ নারায়ণ,৫৩২ গৌরাব্দ।২৬ অগ্রহায়ণ,১৪৩২ বঙ্গাব্দ।শুক...
09/12/2025

শ্রীশ্রী গুরু-গৌরাঙ্গৌ জয়তঃ
হরেকৃষ্ণ
আগামী,
১২ ডিসেম্বর,২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।
৮ নারায়ণ,৫৩২ গৌরাব্দ।
২৬ অগ্রহায়ণ,১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
শুক্রবার।
তিথি-কৃষ্ণ অষ্টমী (হৃষিকেশ)।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ ইসকন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য কৃষ্ণকৃপা শ্রীমূর্তি শ্রীল অভয় চরনারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের অত্যন্ত কৃপাধন্য সুযোগ্য সন্তান ইসকন ভুবনের অন্যতম বরিষ্ঠ সন্ন্যাসী বর্তমান আচার্য জিবিসি ও দীক্ষাগুরু পরমারাধ্য গুরুদেব পতিত পাবন শ্রীশ্রীমৎ সুভগ্ স্বামী গুরুমহারাজের ৮৬ তম মহামহিমান্বিত শুভ আবির্ভাব তিথি ব্যাসপুজা মহামহোৎসব।

রাসলীলা কী?​শব্দের অর্থ:​রাস (Rasa): 'রস' শব্দ থেকে 'রাস' শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হলো আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, বা মধুর প্র...
04/11/2025

রাসলীলা কী?
​শব্দের অর্থ:
​রাস (Rasa): 'রস' শব্দ থেকে 'রাস' শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হলো আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, বা মধুর প্রেম। এটি হলো ভক্তির সর্বোচ্চ স্তর।
​লীলা (Leela): এর অর্থ হলো খেলা, নৃত্য, বা দিব্য কার্য।
​রাসলীলা: অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ ও গোপিনীদের (শ্রীরাধা সহ) সম্মিলিত আনন্দময় ও অপার্থিব প্রেম-নৃত্য।
​তাৎপর্য:----(s.b.s.d)
​সর্বোত্তম লীলা: শ্রীকৃষ্ণের বহু লীলার মধ্যে রাসলীলাকে 'সর্বোত্তম মধুর রস' বা শ্রেষ্ঠ লীলা বলে মনে করা হয়।
​ভক্তির পরাকাষ্ঠা: এটি গোপিনীদের ঈশ্বরের প্রতি নিঃস্বার্থ ভক্তি (প্রেম) এবং আত্মসমর্পণের প্রতীক। গোপিনীরা জাগতিক সব কিছু ভুলে কেবল কৃষ্ণকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়েছিলেন।
​শারীরিক নয়, আধ্যাত্মিক: যদিও এর বর্ণনাকে অনেকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে পার্থিব মনে করেন, বৈষ্ণব শাস্ত্র অনুসারে এটি সম্পূর্ণরূপে অপ্রাকৃত ও আধ্যাত্মিক। এই লীলাতে গোপীরা কৃষ্ণের কাছে নিজেদের আত্মা সমর্পণ করেছিলেন।
​ঘটনার স্থান ও সময়:
​স্থান: বৃন্দাবন ধাম (যমুনা নদীর তীরে)।
​তিথি: সাধারণত কার্তিক মাসের পূর্ণিমা রাতে (শারদ পূর্ণিমা বা রাস পূর্ণিমা তিথিতে) এই লীলা অনুষ্ঠিত হয়।
​✨ রাসলীলার প্রধান বৈশিষ্ট্য (মহারাস)
​মণ্ডলীয় নৃত্য (রাস-নৃত্য): রাসলীলা হলো এক বিশেষ ধরণের নৃত্য, যেখানে অসংখ্য গোপিনী একটি বৃত্তাকারে নৃত্য করেন এবং সেই বৃত্তের কেন্দ্রে থাকেন শ্রীকৃষ্ণ।
​বহু রূপে কৃষ্ণ: এই নৃত্যের অলৌকিকত্ব হলো, যখন গোপীরা তাদের অহংকারের কারণে মনে করতে শুরু করেন যে কেবল তাঁরাই কৃষ্ণের সঙ্গে আছেন, তখন শ্রীকৃষ্ণ প্রত্যেক গোপিনীর পাশে নিজেকে বহু রূপে প্রকাশ করেন। অর্থাৎ, প্রত্যেক গোপিনী অনুভব করেন যে কৃষ্ণ একাই কেবল তার সঙ্গে নৃত্য করছেন। এটি হলো ঈশ্বরের অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্বের এক অলৌকিক প্রকাশ।
​অহং দূরীকরণ: গোপীরা যখন কৃষ্ণকে একান্তভাবে পেয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করেন, কৃষ্ণ তখন হঠাৎ অন্তর্হিত হন। এতে গোপীদের অহংকার চূর্ণ হয় এবং তাঁরা কেবল বিচ্ছেদ-প্রেমের মাধ্যমে কৃষ্ণকে খোঁজেন। এই বিরহ শেষে কৃষ্ণ আবার আবির্ভূত হয়ে রাসলীলা পূর্ণ করেন।
​সংক্ষেপে, রাসলীলা হলো শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধা এবং গোপিনীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সেই দিব্য প্রেমলীলা, যা মানুষকে জাগতিক বন্ধন ছিন্ন করে ঈশ্বরের প্রতি নিঃস্বার্থ ও শুদ্ধ প্রেমের পথে চালিত করে।

শ্রী শ্রী গৌর গদাধর আশ্রম, ইসকন গাবতলী ❤️
18/10/2025

শ্রী শ্রী গৌর গদাধর আশ্রম, ইসকন গাবতলী ❤️

ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রদীপ নিবেদনের অনন্ত মহিমা অসংখ্য শাস্ত্রে উল্লিখিত রয়েছে। তুলা, ঘি, তিল, কর্পূর এবং অন্যান্য শস্যদা...
15/10/2025

ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রদীপ নিবেদনের অনন্ত মহিমা অসংখ্য শাস্ত্রে উল্লিখিত রয়েছে। তুলা, ঘি, তিল, কর্পূর এবং অন্যান্য শস্যদানার তৈল দ্বারা প্রদীপ নিবেদন ভগবানের অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু তুলসীকাষ্ঠ দ্বারা নিবেদিত প্রদীপ ভগবানের অত্যন্ত প্রিয়, কেননা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সব থেকে প্রিয় উপকরণ হচ্ছেন কৃষ্ণপ্রিয়া তুলসী।

শাস্ত্রে কি নির্দেশনা রয়েছে?

পদ্মপুরাণে বর্ণনা করা হয়েছে, যদি কেউ শুষ্ক তুলসী কাষ্ঠের মাধ‍্যমে ভগবানকে শ্রীকৃষ্ণকে প্রদীপ নিবেদন করে, তাহলে সাধারণ প্রদীপ নিবেদনের চেয়ে ভগবান এক্ষেত্রে লক্ষগুণ বেশি সন্তুষ্ট হন। প্রহ্লাদসংহিতায় উল্লেখ আছে,

তুলসীপাবকেনৈব দীপং যঃ কুরুতে হরেঃ।
দীপলক্ষসহস্রাণাং পুণ্যং স্তবতি দৈত্যজ॥

অর্থাৎ, হে দৈত্যকুমার প্রহ্লাদ, যিনি তুলসীকাষ্ঠের প্রদীপ দ্বারা শ্রীহরিকে আরতি নিবেদন করেন, তার একটি দীপ দানেই শ্রী হরি এক সহস্র লক্ষ (১০ কোটি) প্রদীপ নিবেদনের সমান সন্তুষ্ট হন।

অর্থাৎ সহস্র লক্ষ দীপ নিবেদন করলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যতটা সন্তুষ্ট হন, একটি তুলসীকাঠের প্রদীপ নিবেদন করলে তার থেকেও অধিক সন্তুষ্ট হন।

কেন করা উচিত?

শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে, সকাম, নিষ্কাশন, মোক্ষকামী সকলেরই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করা উচিত। অতএব কোনো ফল লাভের আশায় হোক, অথবা নিষ্কামভাবে কেবল কৃষ্ণের সন্তুষ্টির জন্য হোক, কৃষ্ণের আদেশে সকলেরই তুলসীকাষ্ঠ দ্বারা প্রদীপ নিবেদন করা উচিত।

কে বা কারা করতে পারে?

তুলসীকাঠের প্রদীপ নিবেদন করা ভগবানকে তুলসী নিবেদনেরই মতো। অগস্ত্য সংহিতায় বলা হয়েছে,

ন তস্য নরকক্লেশো যোঽর্চ্চয়েত্তুলসীদলৈঃ।
পাপিষ্ঠো বা অপাপিষ্ঠঃ সত্যং সত্যং না সংশয়॥

অর্থাৎ, মহা পাপাত্মা ব্যক্তিও শ্রীহরিকে তুলসী নিবেদন করলে তাঁকে আর নরকযাতনা লাভ করতে হয় না। শ্রীহরির কৃপায় সে ধীরে ধীরে ধর্মাত্মায় পরিণত হয়।

অতএব, যেকোনো ব্যক্তি, সে আমিষাহারী, অশৌচ হোক, অস্নাত হোক, যবন হোক বা অন্যান্য পাপাচারে রত থাকুক, সেও ভগবানকে তুলসী নিবেদনের অধিকারী। তাই সকলেই তুলসীপত্র, তুলসী মঞ্জরী, তুলসীকাঠের প্রদীপ নিবেদন করার অধিকারী।

সারাবছরই প্রদীপ নিবেদন মঙ্গলময়। দামোদর মাস, পুরুষোত্তম মাস, বৈশাখ মাস, মাঘ মাসে অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে‌। আর বিশেষত এই সব মাসে সকলেরই বেশি বেশি কৃষ্ণ সেবা করা উচিত। তাই সকলেই এই মাসে তুলসী কাঠের প্রদীপ নিবেদন করতে পারবেন।

কেউ কেউ মনে করে তুলসী দেববৃক্ষ, তার কাষ্ঠ কীভাবে প্রজ্বলিত করা যায়? আসলে তুলসী এতটাই দিব্য, প্রকটকালে এর পত্র, মঞ্জরী কৃষ্ণ সেবায় নিয়োজিত হয়, পরিক্রমা ও জলদান করে জীব উদ্ধার পায়, আর কৃষ্ণের আদেশে শুকনো তুলসীকাঠের প্রদীপ নিবেদন করে জীবের কৃষ্ণসেবা হয়। যেহেতু এটি কৃষ্ণেরই আদেশ, আমাদের নানারকম ভাবনার থেকে এটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে তৈরী করবেন তুলসীকাঠের প্রদীপ?

১. প্রথমে শুকনো তুলসীবৃক্ষ খোঁজ করতে হবে।
অনেকেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেকসময় তুলসীবৃক্ষ শুষ্ক হয়ে যায়, সব পাতা ঝরে যায়, তুলসী দেহত‍্যাগ করেন, সেই শুষ্ক বৃক্ষ জলে ভাসিয়ে বা মাটিতে পুতে দেয়া হয়। প্রদীপের জন‍্য এরকম শুষ্ক তুলসী সংগ্রহ করতে হবে। যদি তাজা বৃক্ষ থেকে কাঠ সংগ্রহ করা হয়, সেটাতে অপরাধ হয়ে হিতে বিপরীত হবে! তাই এখন থেকে শুকনো তুলসী বৃক্ষ যত্ন করে সংরক্ষণ করবেন।

২. শুকনো তুলসীর ডাল ধুয়ে শুঁকিয়ে নিতে পারেন।

৩. শুকনো ডাল গুলো ৬ বা ৭ ইঞ্চি করে কেটে নিতে হবে। (আরো বড় কাটা যেতে পারে, কিন্তু বেশি ছোট কাটা হলে প্রদীপের আগুনের আঁচ হাতে লাগতে পারে)
৪. এবার তুলা নিয়ে একেকটি ডালে সমানভাবে পেচাতে হবে। সবগুলো ডালে তুলো পেচিয়ে এভাবে সলতে বানিয়ে রেখে দিতে পারেন।

৫. প্রদীপ নিবেদনের আগে তুলা পেচানো তুলসীর ডালের সলিতাগুলো ঘিয়ে ডুবিয়ে তারপর অতিরিক্ত ঘি সরিয়ে দিয়ে সলিতাগুলোর মাথায় কর্পূর লাগাতে হবে।

৬. এরপর কর্পূরে আগুন জ্বালালে আস্তে আস্তে পুরো সলিতাটিয় জ্বলে উঠবে, সেক্ষেত্রে আগুন জ্বালানোর শুরু থেকেই প্রদীপ নিবেদন শুরু করা উচিত।

৭. নতুনদের জন‍্য সতর্কতা হিসেবে দামোদর-প্রদীপ-নিবেদনের আগেই একদিন সলিতা তৈরি করে প্রদীপ নিবেদন করে চেষ্টা করে দেখতে পারেন, সলিতার জন‍্য তুলসী কাঠ আরো বড় করে কাটা লাগবে কীনা, বা তুলা আরো বেশি পেচাতে হবে কীনা, ঘি আরো অধিক লাগবে কীনা ইত‍্যাদি। প্রয়োজনে প্রদীপের মধ‍্যেও তুলসীকাঠের সলিতাগুলো নিয়ে নিবেদন করতে পারেন।

৮. আরতি নিবেদনের জন‍্য, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীনিতাইগৌর, শ্রীনৃসিংহদেব, শ্রীবিষ্ণুকে চরণে চারবার, উদরে দুইবার, মস্তকে তিনবার এবং সর্বাঙ্গে সাতবার প্রদীপ নিবেদন করতে হয়। আর, শ্রীমতী রাধারাণী, শ্রীলক্ষ্মীদেবী, শ্রীতুলসীদেবীকে সর্বাঙ্গে সাতবার প্রদীপ নিবেদন করা উচিত। শ্রীরাধাকৃষ্ণের পর শ্রীজগন্নাথ-বলদেব-সুভদ্রাকে (প্রত‍্যেককে সাতবার করে), এরপর শ্রীনৃসিংহদেব ও তারপর শ্রীনিতাইগৌরকে প্রদীপ নিবেদন করতে হয়।

এরপর তুলসীদেবীকে নিবেদনের পর শ্রীগুরুপরম্পরাকে ভগবৎপ্রসাদরূপে মুখমণ্ডলে সাতবার বা পাঁচবার নিবেদন করতে হবে।

নিজে তুলসীকাঠের সলিতার প্রদীপ নিবেদনের মহিমা জেনে ভগবানকে নিবেদন করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিবিধান করুন, অন‍্যের নিকট এই বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে উৎসাহিত করে তার ও আপনার নিজের ভগবানকে আরো অধিক সন্তুষ্ট করার জগৎমঙ্গলময় সুযোগ গ্রহণ করুন।

Address

34/1-B, Horirampur, Borobazar, Gabtoli
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Iskcon Youth Forum, Gabtali posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share