01/03/2026
আপনি কি আসলেই স্বাধীন?
সূরা ফুরকানের ৪৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তুমি কি তাকে দেখেছো যে তার নিজের খেয়াল-খুশিকেই তার ইলাহ বানিয়েছে?” কত গভীর কথা।
মানে সে যা চায়, সেটাই তার সত্য; যা ভালো লাগে, সেটাই তার ধর্ম; তার লোভ, তার লালসা, তার ভোগ, তার ইনজয়মেন্ট এইগুলোই তার ইলাহ।
সে ভাবে আমি স্বাধীন। আমি যা ইচ্ছা করবো। আমার শরীর, আমার টাকা, আমার জীবন। কিন্তু আল্লাহ দেখাচ্ছেন, এই স্বাধীনতার ভেতরেই লুকানো আছে দাসত্ব।
আমরা ইতিহাসে দেখি, মক্কায় যখন মুসলমানরা নির্যাতিত। তখন একদল সাহাবিকে এক খ্রিস্টান শাসকের দেশে পাঠানো হইলো, যেখানে একজন ন্যায়পরায়ণ রাজা ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের দাওয়াত কী?
তারা সংক্ষেপে বললেন, আমরা মানুষকে পৃথিবীর দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসত্বের দিকে ডাকছি। এই বাক্যটাই ইসলামের গভীর দর্শন। মানুষ সবসময় কারো না কারো দাস। কিন্তু সে কার দাস?
আজকে ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে মানুষ বলে, আমি কারো কথা শুনবো না। কিন্তু সে টাকার দাস, ফেমের দাস, শরীরের দাস, সোশ্যাল মিডিয়ার দাস।
এক সময় এক নারী, যে বহু বছর অশ্লীল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে, সাক্ষাৎকারে বলেছিল, শুরুতে সে ভেবেছিল সে স্বাধীন। তার টাকা আছে, খ্যাতি আছে, যা ইচ্ছা তাই করছে। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝছে যে সে নিজের লজ্জা বিক্রি করতেছে।
কিছু লোকের টাকার বিনিময়ে এমন কাজ করতেছে যা তার মন চায় না। সে বলছে, আমি তো আসলে দাস। এবং নিচু পর্যায়ের দাস। শেষে সে সব ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে।
এইটাই পৃথিবীর দাসত্ব। আজ আপনি আইফোনের দাস, কাল অন্য কিছুর। ফোন ব্যবহার করা সমস্যা না, কিন্তু যখন লাইক, ভিউ, ভাইরাল হওয়া আপনার পরিচয় হয়ে যায়, তখন আপনি দাসে পরিণত হন।
আপনি বলছেন আমি স্বাধীন, কিন্তু আপনি তো আসলে নির্ভরশীল। অসুস্থ হইলে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন, বিপদে পড়লে পুলিশের কাছে যাচ্ছেন, রিজিকের জন্য চাকরি খুজতেছেন মোট কথা আমরা কেউই প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন না।
আমরা আপেক্ষিক স্বাধীনতা পাই, কিন্তু অ্যাবসলিউট স্বাধীনতা মানুষের পক্ষে পাওয়া সম্ভব না।
ইসলাম বলে, যেহেতু নির্ভর করতেই হবে, তবে সেই সত্তার উপর নির্ভর করো যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বকরুণাময়। আল্লাহর দাস হওয়া মানে অপমান না, বরং সর্বোচ্চ সম্মান।
আবদুল্লাহ হওয়াই স্বাধীনতার চূড়ান্ত রূপ। কারণ তখন আমি জানি, আল্লাহ যা নিষেধ করেন তা আমার ক্ষতির জন্য, যা নির্দেশ দেন তা আমার কল্যাণের জন্য।
শর্ট টার্মে যা ভালো লাগে, লং রানে তা ধ্বংস ডেকে আনে। আবার লং রানের কল্যাণের জন্য ত্যাগ করতে কষ্ট হয়। মানুষ এই টানাপোড়েনে থাকে। বসের অধীনে কাজ করলে মনে হয় দাস, কিন্তু বেকার থাকলে ব্যর্থ লাগে।
কিন্তু যখন অন্তর আল্লাহর কাছে সঁপে দেন, তখন আপনি টাকা বা লোভের গোলাম হন না। কারণ আপনি শুধু আল্লাহকে ভয় করেন, মানুষকে না।
যে তার অন্তরকে স্বেচ্ছায় আল্লাহর দাস বানায়, সে পৃথিবীর দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়। এটাই ব্যক্তি স্বাধীনতার সর্বোচ্চ রূপ।