Ahad

Ahad Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ahad, Religious organisation, Dhaka.

মহান আল্লাহর একত্ববাদের শাশ্বত বার্তা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে আমরা নিবেদিত। শির্ক বিদ'আত মুক্ত বিশুদ্ধ ঈমান-আক্বীদা প্রতিষ্ঠা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাওহীদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন নিকৃষ্টতম বিদআত। ইসলামে ঈদ দুটি তৃতীয় কোন ঈদ ইসলামে নেই। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেন- “যে ব্যক্তি আমার ...
25/08/2026

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন নিকৃষ্টতম বিদআত। ইসলামে ঈদ দুটি তৃতীয় কোন ঈদ ইসলামে নেই। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেন- “যে ব্যক্তি আমার শরীআতে এমন কিছু সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই তা প্রত্যাখ্যাত”। [সহী বুখারী হাদিস- ২৬৯৭, সহী মুসলিম হাদিস- ৪৩৮৪, আবু দাউদ হাদিস- ৪৬০৬ ]

“তোমাদের উপর পালনীয় হল আমার সুন্নাত ও আমার হেদায়তপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত। তোমরা তা কঠিন ভাবে আকড়ে ধর এবং মাড়ির দাত দিয়ে কামড়ে ধর। আর ধর্মের নামে নুতুন সৃষ্টি হতে সাবধান। নিশ্চয়ই প্রত্যেক নতুন সৃষ্টি বিদ'আত ও প্রত্যেক বিদ'আতই ভ্রষ্টতা”। [আহমাদ, আবুদাউদ, তিরমিজী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হাদিস- ১৬৫, ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫]

‘‘নিশ্চয় সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম”। [সহী মুসলিম: হাদিস- ১৫৩৫ ও সুনান আন-নাসাঈ: হাদিস- ১৫৬০। হাদিসের শব্দ চয়ন নাসায়ী থেকে]

25/08/2026
প্রশ্ন: প্রচলিত মিলাদুন্নবী উদযাপনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি বলে মিলাদ পন্থীরা আমাকে তিরস্কার করে: এবং বলে আমার ইসলাম নত...
25/08/2026

প্রশ্ন: প্রচলিত মিলাদুন্নবী উদযাপনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি বলে মিলাদ পন্থীরা আমাকে তিরস্কার করে: এবং বলে আমার ইসলাম নতুন ইসলাম।এ বিষয়ে কোন উপদেশ আছে কী?
▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি।অতঃপর,প্রিয় পাঠক! দ্বীনের সঠিক ও বিশুদ্ধ মানহাজ বা পথ আঁকড়ে থাকার কারণে বিরোধীদের পক্ষ থেকে তিরস্কার বা মানসিক আঘাত পাওয়া নতুন কিছু নয়; বরং এটি নবীদের উত্তরাধিকার ও হক পন্থীদের চিরন্তন পথ। এ বিষয়ে কিছু অমূল্য উপদেশ ও সান্ত্বনার বাণী আপনার জন্য পেশ করছি:

প্রথমত:প্রিয় ভাই!আপনি এ বিদআতটি পরিহার করে উত্তম কাজটি করেছেন যে বিদআতটি অভ্যাসের মত মানুষের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে। যারা আপনাকে নবীর অনুসরণের ঘাটতি উল্লেখ করে অপবাদ দিল অথবা ইসলামী আদর্শের উপর আপনার অবিচলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আপনার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার দরকার নেই। এমন কোন রাসূল নেই যাঁর সাথে লোকেরা তিরস্কার করেনি বা তাঁর বিবেক-বুদ্ধি ও দ্বীনদারির উপর অপবাদ দেয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেন: “এমনিভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রাসূল আগমন করেছে, তারা বলেছে যাদুকর কিংবা উন্মাদ।”[সূরা যারিয়াত, আয়াত: ৫২] নবীদের জীবনে আপনার জন্য উত্তম আদর্শ। সুতরাং আপনি যে কষ্ট পাচ্ছেন এতে ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের প্রত্যাশা করুন।

দ্বিতীয়ত:আপনার জন্য নসিহত হচ্ছে- হক কথা বলার কারনে যারা আপনাকে তিরস্কার করে,আপনি তাদের সাথে কোন আলোচনা-পর্যালোচনা, তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলবেন। যদি এদের মধ্যে জাগ্রত বিবেকের কেউ থাকে যে কথা শুনে ও বুঝতে চেষ্টা করে তাহলে তার সাথে আলোচনা করতে পারেন। বাছাই করে এ ধরণের ব্যক্তিদেরকে আপনি মিলাদের স্বরূপ, এর হুকুম, এটি সঠিক না হওয়ার দলিল জানাতে পারেন। তাদের কাছে আপনি নবীকে অনুসরণ করার মর্যাদা ও বিদআত প্রচলন করার খারাপ দিকটি তুলে ধরতে পারেন। যদি আপনি এমন কাউকে দেখেন তাহলে তাদের সাথে নিম্নোক্ত পন্থায় সংলাপ করতে পারেন এবং তাদেরকে নসিহত করতে পারেন।
(১).তারা যেখানে শেষ করেছে আমরা সেখান থেকে শুরু করব। তারা আপনাকে বলেছে: আপনার ইসলাম নতুন ইসলাম। আমরা বলব: কোনটা আগে শুরু হয়েছে- মিলাদ করা; নাকি মিলাদ না করা? নিঃসন্দেহে বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি স্বীকার করবেন যে, মীলাদ পালন না করাই আগে ছিল; কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের যুগে মীলাদ উদযাপনের কোনো প্রচলন ছিল না। পরবর্তী সময়ে উবাইদীয়দের যুগে এর প্রচলন শুরু হয়। তাহলে ভেবে দেখুন—যে আমল নবী ﷺ ও তাঁর সর্বোত্তম প্রজন্মের যুগে ছিল না, বরং বহু পরে প্রচলিত হয়েছে, সেটি গ্রহণ করার পরও কাকে “নতুন ইসলাম”-এর অনুসারী বলা হবে? অতএব, দ্বীনের ক্ষেত্রে মাপকাঠি কোনো আমল কতদিন ধরে প্রচলিত—তা নয়; বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম যে পথে ছিলেন, সেই পথের সঙ্গে আমলটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—সেটিই মূল বিষয়।
(২). আমরা যদি প্রশ্ন করি—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন ও সম্মান করতেন—সাহাবায়ে কেরাম, নাকি তাঁদের পরবর্তী যুগের মানুষ? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের উত্তর হবে, সাহাবায়ে কেরামই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বাধিক ভালোবাসতেন, সম্মান করতেন এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসরণে সর্বাধিক অগ্রগামী ছিলেন। তাহলে প্রশ্ন হলো—তাঁরা কি কখনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম উপলক্ষে ‘মিলাদ’ উদযাপন করেছেন? যদি তাঁরা তা না করে থাকেন, তাহলে পরবর্তী যুগের মানুষদের জন্য এমন কোনো আমলকে নবীপ্রেমের নিদর্শন হিসেবে গ্রহণ করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে যারা সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে নিজেদের অধিক উৎসাহী মনে করে, তাদের নিজেদেরই ভেবে দেখা উচিত—তারা কি সত্যিই নবীপ্রেমে সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে অগ্রসর হতে পারে?
৩) আমরা যদি প্রশ্ন করি—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ কী?—তাহলে প্রত্যেক বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির কাছেই এর উত্তর স্পষ্ট: তা হলো, তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা, তাঁর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা এবং তিনি যেভাবে জীবনযাপন করেছেন, সেভাবেই তাঁর প্রদর্শিত পথে চলা। যদি প্রচলিত মিলাদ পালনকারীরা সত্যিই তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসত এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করত, তাহলে তাঁর প্রতি সর্বাধিক ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনকারী সাহাবায়ে কেরাম এবং পরবর্তী নেককার পূর্বসূরিগণ যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, সেটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো। তখন তারা উপলব্ধি করতে পারত যে, কল্যাণ নিহিত রয়েছে পূর্ববর্তীদের অনুসরণে; আর অকল্যাণ নিহিত রয়েছে পরবর্তীদের নবপ্রবর্তিত রীতিনীতিতে।
কাযী ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসার আলামত শীর্ষক অধ্যায়ে বলেন: “যে ব্যক্তি কাউকে ভালবাসে সে তাকে অগ্রাধিকার দেয়। তার সাথে সাদৃশ্য অর্জনকে প্রাধান্য দেয়। তা না হলে সে ভালবাসা সত্য নয়; বরং নিছক দাবিমাত্র। যে ব্যক্তি সত্যিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসে এর আলামত তার মধ্যে দেখা যেতে হবে। প্রথম আলামত হচ্ছে: সুসময়ে, দুঃসময়ে, কর্মোদ্দীপনা ও অলসতা সর্বাবস্থায় তাঁর অনুকরণ, তাঁর আদর্শের অনুসরণ, তাঁর কথা-কাজ-নির্দেশের অনুগমন, তাঁর নিষেধগুলো পরিহার, তাঁর শিষ্টাচারগুলো গ্রহণ। এর প্রমাণ রয়েছে আল্লাহর বাণীতে “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর; এতে করে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি মার্জনা করে দিবেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী, দয়ালু।[সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩১]
তাঁর শরিয়তকে অগ্রাধিকার দেয়া, আত্মপ্রবৃত্তি ও নিজ-মতের পরিবর্তে তাঁর শরিয়তের অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে।” [সূরা হাশর, আয়াত: ৯] আল্লাহর রেজামন্দি হাছিলের জন্য বান্দাকে নারাজ করা: যে ব্যক্তি এসব গুণে গুণান্বিত সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে পূর্ণ ভালবাসে। যে ব্যক্তি এসব ক্ষেত্রে কিঞ্চিত ঘাটতি করে তার ভালবাসাতে ঘাটতি আছে; তবে সেও তাঁদেরকে ভালবাসে।"(আস-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুস্তাফা (২/২৪-২৫)
(৪). আমরা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ বা ‘মিলাদ’ নিয়ে পর্যালোচনা করি, তাহলে প্রথমেই প্রশ্ন আসে—এ-সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো কি নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণিত? অপরদিকে, তাঁর ইন্তেকালের তারিখ নিয়েও যদি একইভাবে যাচাই-বাছাই করি, তাহলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিঃসন্দেহে একজন বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি স্বীকার করবেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দিষ্ট জন্মতারিখ সহীহ ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি; পক্ষান্তরে তাঁর ইন্তেকালের তারিখ সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্যভাবে সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। সীরাতের গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সীরাতকারদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন ২ রবিউল আউয়াল, কেউ ৮ রবিউল আউয়াল, কেউ ১০ রবিউল আউয়াল, আবার কেউ ১২ রবিউল আউয়াল। এমনকি যুবাইর ইবনু বাক্কার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, তিনি রমযান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। অতএব, যখন তাঁর জন্মতারিখ নিয়েই এতগুলো ভিন্ন মত পাওয়া যায় এবং কোনো একটি তারিখ নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত নয়, তখন ১২ রবিউল আউয়ালকেই তাঁর নিশ্চিত জন্মতারিখ হিসেবে দাবি করা ঐতিহাসিক ও প্রামাণ্য বিচারে সঙ্গত নয়।
যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ জানার উপর দ্বীনের কোন কিছু নির্ভর করত তাহলে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেন অথবা তিনি নিজেই তাদেরকে এ ব্যাপারে অবহিত করতেন। অথচ এর কোনটি ঘটেনি।পক্ষান্তরে,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লামের মৃত্যু তারিখের ব্যাপারে সামান্য মতভেদ থাকলেও সঠিক মত হচ্ছে। তাঁর মৃত্যু তারিখ হিজরী ১১ সালের ১২ই রবিউল আউয়াল। এরপর আমরা যদি দেখি এ বিদআতপন্থী লোকগুলো কখন মিলাদুন্নবী (নবীর জন্মবার্ষিকী) পালন করে? তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন। উবাইদি সম্প্রদায় (যারা বংশ পরিচয়ে জালিয়াতি করে নিজেদেরকে ফাতেমা রাঃ এর সাথে সম্পৃক্ত করে ফাতেমী দাবী করে) এভাবে এ কর্মের প্রচলন করে গেছেন এবং লোকেরা নির্বোধের মত এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। অথচ তারা ছিল জিন্দিক, নাস্তিক বা ধর্মত্যাগী সম্প্রদায়। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুতে ফুর্তি করার জন্য এমন একটি উপলক্ষের উদ্ভব করেছে। এর জন্য তারা জমায়েত হত এবং খুশি প্রকাশ করত। আর নির্বোধ মুসলমানদেরকে এভাবে ধোকা দিত যে, তাদের অনুকরণে এ অনুষ্ঠান করার মানে- নবীর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা। এভাবে তারা তাদের নিকৃষ্ট ও মন্দ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ও ভালবাসার অর্থকে বিকৃত করণে সফল হল। তাদের কাছে নবীর ভালবাসা হচ্ছে- মিলাদের কাসিদা পড়া, সিরনি ও মিষ্টি বিতরণ, নাচের আয়োজন, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ঢোল বাজানো, বেপর্দাপনা, পাপাচার, বিভিন্ন বিদআতী দুআ ও শিরকী কথাবার্তা, যেগুলো মিলাদের মজলিসে বলা হয়ে থাকে।
পরিশেষে প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণের উপর ধৈর্য ধারণ করুন। তাঁর বিরুদ্ধাচারণকারীদের সংখ্যাধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা আপনাকে ইলমে দ্বীন অর্জন ও মানুষের উপকার করার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ধরণের ইস্যু যেন পরিবারের সদস্যদের থেকে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করে না রাখে। কারণ তারা এমন লোকদের তাকলিদ করছেন যারা মিলাদের জলসাগুলো জায়েয হওয়ার, এমনকি মুস্তাহাব হওয়ার পক্ষে ফতোয়া দেয়। তাই এ বিদআতের বিরোধিতা করার সময় তাদের সাথে কোমল হওয়া উচিত। কথা, কাজ ও আখলাকের সৌন্দর্যতা ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট থাকা উচিত। নবীর অনুসরণের প্রভাব আপনি আপনার আচার-আচরণ, ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তাদের কাছে ফুটিয়ে তুলুন। আমরা আপনার জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিকের দুআ করছি।(গৃহীত পরিমার্জিত, ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১২৫৬৯০) আল্লাহই ভাল জানেন।
▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬
আপনার দ্বীনি ভাই,
জুয়েল মাহমুদ সালাফি

ঈদে মীলাদুন্নবী!ক্রুসেড বিজেতা মিসরের সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী (৫৩২-৫৮৯ হি.) কর্তৃক নিযুক্ত ইরাকের ‘এরবল’ এলাকার গভর্ণর...
25/08/2026

ঈদে মীলাদুন্নবী!
ক্রুসেড বিজেতা মিসরের সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী (৫৩২-৫৮৯ হি.) কর্তৃক নিযুক্ত ইরাকের ‘এরবল’ এলাকার গভর্ণর আবু সাঈদ মুযাফফরুদ্দীন কুকুবুরী (৫৮৬-৬৩০ হি.) সর্বপ্রথম ৬০৪ হিজরীতে মতান্তরে ৬২৫ হিজরীতে মীলাদের প্রচলন ঘটান। যা ছিল রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর ৫৯৩ বা ৬১৪ বছর পরে। এই দিন তারা মীলাদুন্নবী উদযাপনের নামে নাচ-গান সহ চরম স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হ’ত। গভর্ণর নিজে নাচে অংশ নিতেন। আর এই অনুষ্ঠানের সমর্থনে তৎকালীন আলেম সমাজের মধ্যে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন আবুল খাত্ত্বাব ওমর বিন দেহিইয়াহ (৫৪৪-৬৩৩ হি.)। তিনি মীলাদের সমর্থনে বহু জাল ও বানাওয়াট হাদীছ জমা করে বই লেখেন এবং এক হাযার স্বর্ণমুদ্রা বখশিশ পান।
বিস্তারিত পড়তে: https://at-tahreek.com/article_details/921227

▌বিদ'আত কি?বিদ'আত বলা হয় দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নুতন উদ্ভাবন করা বা সৃষ্টি করা যা কুরআন ও সুন্নাহ কিংবা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ...
25/08/2026

▌বিদ'আত কি?

বিদ'আত বলা হয় দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নুতন উদ্ভাবন করা বা সৃষ্টি করা যা কুরআন ও সুন্নাহ কিংবা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) হেদায়েতপ্রাপ্ত সাহাবীদের কর্ম দ্বারা অনুমোদিত নয়; অর্থাৎ শরীয়াহর অংশ নয় কিন্তু তারপরও ইবাদত বা আমল মনে করে করা হয়। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেন- “যে ব্যক্তি আমার শরীআতে এমন কিছু সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই তা প্রত্যাখ্যাত”। [সহী বুখারী হাদিস- ২৬৯৭, সহী মুসলিম হাদিস- ৪৩৮৪, আবু দাউদ হাদিস- ৪৬০৬ ]

“তোমাদের উপর পালনীয় হল আমার সুন্নাত ও আমার হেদায়তপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত। তোমরা তা কঠিন ভাবে আকড়ে ধর এবং মাড়ির দাত দিয়ে কামড়ে ধর। আর ধর্মের নামে নুতুন সৃষ্টি হতে সাবধান। নিশ্চয়ই প্রত্যেক নতুন সৃষ্টি বিদ'আত ও প্রত্যেক বিদ'আতই ভ্রষ্টতা”। [আহমাদ, আবুদাউদ, তিরমিজী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হাদিস- ১৬৫, ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫]

‘‘নিশ্চয় সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম”। [সহী মুসলিম: হাদিস- ১৫৩৫ ও সুনান আন-নাসাঈ: হাদিস- ১৫৬০। হাদিসের শব্দ চয়ন নাসায়ী থেকে]

বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “আমি তোমাদের জন্য দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যা দৃঢ়ভাবে ধারন করলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবেনা। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও তার রাসুলের সুন্নাহ”। [সীরাত ইবনে হিশাম, ই:ফা, প্রকাশ ২০১৩ ইং) মুওয়াত্বা ইমাম মালেক: হাদিস -৩৩৩৮, মিশকাতুল মাসাবীহ: হাদিস- ১৮৬ ]

“আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারী উক্ত নির্দেশের ভিন্নতা করার কোন অধিকার রাখে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে সে স্পষ্টতই সত্য পথ হতে দুরে সরে পড়ল”। [সূরা আহযাব: আয়াত- ৩৬]

“যে রসূলের আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল”। [সূরা আন নিসা: আয়াত- ৮০]

বিদআতীর পরিণাম: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “আল্লাহ প্রত্যেক বিদ’আতীর তওবা ততক্ষন পর্যন্ত স্থগিত রাখেন (গ্রহণ করেন না), যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার বিদ’আত বর্জন করতে না পারছে”। [তাবারানী, সহীহ তারগীব হাদীস:৫১]

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি বিদ‘আত উদ্ভাবণ করে কিংবা বিদ'আতীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহর লানত, ফেরেশতাদের লানত এবং সকল মানুষের লানত-অভিসম্পাত। আর আল্লাহ তার (বিদ'আতীর) কোন নফল ও ফরজ ‘ইবাদাত কবূল করেন না”। [আবু দাউদ: হাদীস- ৪৫৩০; সহীহ বুখারী: (ই.ফা.) হাদীস- ২৯৪৮; (তাওহীদ প্রকাশনী) হাদীস ৩১৭২; নাসাঈ: হাদীস- ৪৭৩৪, সহীহ মুসলীম হাদীস- ১৩৬৬]

“আমার উম্মাতের থেকে কতিপয় লোক আমার সামনে হাউযে কাওসারে উপস্থিত হবে। তারপর তাদেরকে সেখান থেকে পৃথক করে নেয়া হবে। তখন আমি বলব, হে রব! এরা আমার উম্মাত। তিনি বলবেন, তোমার পরে এরা (ধর্মে নতুন সংযোজনের মাধ্যমে) কি কীর্তিকলাপ করেছে সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই তোমার জানা নেই। নিঃসন্দেহে এরা দ্বীন থেকে পিছনের দিকে ফিরে গিয়েছিল”। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৯/ হাউয, হাদিস নম্বর: ৬১৩৫]

বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে সতর্ক করার অপরিহার্যতা।কুরআন থেকে দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর নিশ্চয়ই এটাই আমার সরল পথ। অতএব তো...
25/08/2026

বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে সতর্ক করার অপরিহার্যতা।

কুরআন থেকে দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর নিশ্চয়ই এটাই আমার সরল পথ। অতএব তোমরা তা অনুসরণ করো এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করো না; তাহলে সেগুলো তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।” (সূরা আল-আন‘আম, ৬:১৫৩)

আল্লাহ আরও বলেন:
“আপনি প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না; তাহলে তা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি—কারণ তারা হিসাবের দিনকে ভুলে গিয়েছিল।” —সূরা সোয়াদ, ৩৮:২৬
আরও বলেন:
“আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের উপাস্য বানিয়েছে? আল্লাহ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার শ্রবণশক্তি ও হৃদয়ের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চোখের ওপর পর্দা দিয়েছেন। অতএব আল্লাহর পর কে তাকে হিদায়াত করবে? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?” —সূরা আল-জাসিয়াহ, ৪৫:২৩
আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সঙ্গে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই।” —সূরা আল-আন‘আম, ৬:১৫৯
আরও বলেন:
“তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না—যারা তাদের দীনে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই তাদের নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।” —সূরা আর-রূম, ৩০:৩১–৩২
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
“তারা নিজেদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়; কিন্তু কাফিররা অপছন্দ করলেও আল্লাহ তাঁর আলো পূর্ণ করবেন।” —সূরা আস-সফ, ৬১:৮

হাদিস থেকে দলিল
১- রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“ইহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে একটি দল জান্নাতে এবং সত্তরটি দল জাহান্নামে যাবে। খ্রিস্টানরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে একাত্তরটি দল জাহান্নামে এবং একটি দল জান্নাতে যাবে। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। একটি দল জান্নাতে এবং বাহাত্তরটি দল জাহান্নামে যাবে।”
জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা?” তিনি বললেন: “আল-জামাআত।”
২- ইরবাদ্ব ইবনু সারিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন:
একদিন রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী একটি নসিহত করলেন। এতে চোখ অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তর ভীত হয়ে উঠল। তখন একজন বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! মনে হচ্ছে এটি যেন বিদায় নেওয়া ব্যক্তির নসিহত। সুতরাং আপনি আমাদের কী অসিয়ত করছেন?” তিনি বললেন: “আমি তোমাদেরকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং শ্রবণ ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি—এমনকি যদি তোমাদের ওপর একজন নাক-কান কাটা হাবশি দাসও শাসক হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে। আর সাবধান! দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয় থেকে। কারণ প্রত্যেক নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।”
শায়খ আলবানী রহিমাহুল্লাহ এই হাদিসের পর বলেন:“এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিসগুলোর একটি। এটি মুসলিমদের সুন্নাহ এবং খোলাফায়ে রাশেদীন চারজনের সুন্নাহ ও যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁদের সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে উৎসাহিত করে। একইসঙ্গে প্রত্যেক বিদআত থেকে নিষেধ করে এবং জানিয়ে দেয় যে তা ভ্রষ্টতা—মানুষ সেটিকে ভালো মনে করলেও। যেমন ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে।”
“এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক হাদিস অনেক রয়েছে এবং সেগুলো সুপরিচিত। কিন্তু আজ অধিকাংশ মুসলিমই এসব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে—সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; অল্প কিছু মানুষ ব্যতিক্রম।”
“বরং অনেকেই এ বিষয়ে আলোচনা করাকে তুচ্ছ বিষয় মনে করে। তারা মনে করে সুন্নাহ ও বিদআতের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় নিয়ে আলোচনা করলে ফিতনা সৃষ্টি হয় এবং ঐক্য বিনষ্ট হয়। তাই তারা এসব বিষয় ছেড়ে দিতে এবং মতভেদপূর্ণ সব বিষয়ে পরস্পরকে নসিহত করা ছেড়ে দিতে বলে।”
“তারা ভুলে যায় কিংবা ভুলে যাওয়ার ভান করে যে, আহলুস সুন্নাহ ও বিদআতপন্থীদের মধ্যকার মতভেদের বিষয়গুলোর অন্যতম হলো তাওহীদের কালিমা। তারা এর অর্থ থেকে আল্লাহকে ইবাদতের ক্ষেত্রে একক করার অপরিহার্যতা বুঝতে পারে না। তারা বুঝতে পারে না যে, ইবাদতের কোনো বিষয়েই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও দিকে মুখাপেক্ষী হওয়া বৈধ নয়—যেমন মৃত ওলি ও নেককার ব্যক্তিদের কাছে বিপদে সাহায্য চাওয়া এবং তাদের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা। অথচ তারা মনে করে যে তারা ভালো কাজই করছে।”
হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত দল
৩- মুগীরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটি দল সর্বদা প্রকাশ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে, অবশেষে আল্লাহর নির্দেশ এসে যাবে, অথচ তারা বিজয়ী অবস্থায় থাকবে।”
৪- জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে: “আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের জন্য যুদ্ধ করতে থাকবে এবং তারা বিজয়ী থাকবে।”
৫- সহীহ মুসলিমে সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে এসেছে: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের সাহায্য করবে না, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না—অবশেষে আল্লাহর নির্দেশ এসে যাবে এবং তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।”
৬- সহীহ মুসলিমে মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর নির্দেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের সাহায্য করবে না কিংবা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না—অবশেষে আল্লাহর নির্দেশ এসে যাবে এবং তারা মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে।”

আলেমদের বক্তব্য
১- শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ
শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ মাজমূ‘উল ফাতাওয়া-তে বলেন: “তাদের (বিদআতপন্থীদের) অবস্থা স্পষ্ট করা এবং তাদের ব্যাপারে উম্মতকে সতর্ক করা মুসলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী অপরিহার্য। এমনকি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: একজন ব্যক্তি সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে এবং ই‘তিকাফ করে—এটি কি আপনার কাছে অধিক প্রিয়, নাকি সে বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে আলোচনা করে? তিনি বললেন: সে যখন সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে ও ই‘তিকাফ করে, তখন তা কেবল তার নিজের জন্য। কিন্তু সে যখন বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে আলোচনা করে, তখন তা মুসলিমদের জন্য। এটি অধিক উত্তম।”
এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে সতর্ক করা মুসলিমদের দ্বীনের জন্য ব্যাপক উপকার বয়ে আনে এবং এটি জিহাদেরই একটি প্রকারের মতো।
২- ইমাম আবু ইসমাঈল আস-সাবূনী রহিমাহুল্লাহ
ইমাম আবু ইসমাঈল আস-সাবূনী ‘আকীদাতুস সালাফ আসহাবিল হাদিস গ্রন্থে বলেন:
“তারা সেই বিদআতপন্থীদের ঘৃণা করেন, যারা দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করেছে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা তাদের ভালোবাসেন না, তাদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন না, তাদের কথা শোনেন না, তাদের সঙ্গে বসেন না এবং দ্বীনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে বিতর্ক বা তর্ক করেন না। তারা তাদের কানকে তাদের বাতিল কথাবার্তা শোনা থেকে রক্ষা করাকে সঠিক মনে করেন। কারণ এসব কথা কানে প্রবেশ করে অন্তরে স্থান করে নিলে ক্ষতি করে এবং অন্তরে নানা ধরনের কুমন্ত্রণা ও ভ্রান্ত চিন্তার জন্ম দেয়।”
তিনি আরও বলেন:
“তারা (সালাফগণ) এ বিষয়েও একমত ছিলেন যে, বিদআতপন্থীদের দমন করা, তাদের অপমান করা, তাদের লাঞ্ছিত করা, তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া, তাদের বর্জন করা, তাদের থেকে দূরে থাকা এবং তাদের সঙ্গ ও মেলামেশা পরিত্যাগ করা উচিত। আর তাদের থেকে বিচ্ছিন্নতা ও হিজরত করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা উচিত।”
আলেমদের আরও কিছু বক্তব্য
৩- শায়খ আবদুল লতিফ ইবনু আবদুর রহমান আলে শায়খ তাঁর মাজমূ‘উর রাসায়িল আন-নাজদিয়্যাহ-তে (৩/১১১) কিছু পথভ্রষ্ট বিদআতপন্থী সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়ে বলেন:
“উম্মতের সালাফ ও ইমামদের এবং সুন্নাহর ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলের সুপরিচিত সুন্নাহগুলোর মধ্যে রয়েছে—তাদের (বিদআতপন্থীদের) বর্জনের ব্যাপারে কঠোর হওয়া, তাদের অবহেলা করা, তাদের সঙ্গে বিতর্ক পরিত্যাগ করা, তাদের কথাবার্তা প্রত্যাখ্যান করা, তাদের থেকে দূরে থাকা এবং তাদের প্রতি ঘৃণা, নিন্দা ও দোষত্রুটি প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।”
৪- শায়খ সুলাইমান ইবনু সাহমান কাশফুশ শুবহাতাইন ফির রদ্দি ‘আলা ইউসুফ ইবনু শাবীব আল-কুয়াইতি গ্রন্থে (পৃ. ৩৭) বলেন:
“আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন! জেনে রাখুন, শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর মতো পূর্ববর্তী সালাফদের কাছ থেকে বিদআত ও ভ্রষ্টতার অনুসারীদের বিরোধিতা সম্পর্কে যে বক্তব্য এসেছে, তা এমন কোনো ভ্রষ্টতা নয় যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়। তবে তাঁরা এ ব্যাপারে কঠোর হয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন দুটি কারণে।”
প্রথম কারণ: দীনের ক্ষেত্রে বিদআতের গুরুতরতা। তাঁদের কাছে বিদআত কবিরা গুনাহের চেয়েও গুরুতর। তাই তাঁরা বিদআতপন্থীদের সঙ্গে কবিরা গুনাহকারীদের তুলনায় আরও কঠোর আচরণ করতেন। আজও মানুষের অন্তরে এর উদাহরণ দেখা যায়—একজন রাফেযি ব্যক্তি আলেম ও ইবাদতগুজার হলেও তার প্রতি এমন একজন সুন্নির চেয়ে বেশি ঘৃণা পোষণ করা হয়, যে প্রকাশ্যে কবিরা গুনাহ করে।
দ্বিতীয় কারণ: বিদআত অনেক সময় সুস্পষ্ট কুফরির দিকে নিয়ে যায়—যেমন বহু বিদআতপন্থীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
৫- শায়খ হামূদ আত-তুওয়াইজরী আল-কাওলুল বালীগ ফিত তাহযীর মিন জামা‘আতিত তাবলীগ গ্রন্থে বলেন:
“সালাফে সালেহীন বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে সতর্ক করতেন এবং তাদের সম্পর্কে সতর্ক করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তাঁরা তাদের সঙ্গে বসতে, তাদের সঙ্গ গ্রহণ করতে এবং তাদের কথা শুনতে নিষেধ করতেন। বরং তাদের থেকে দূরে থাকা, তাদের বিরোধিতা করা, তাদের ঘৃণা করা এবং তাদের বর্জন করার নির্দেশ দিতেন।”
৬- শায়খ ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ
শায়খ ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ বলেন:
“যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ বা বিদআত প্রকাশ্যে করে, তার ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করা হবে। তার নেক আমল দেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তার নেক আমলের হিসাব তার ও তার রবের মধ্যে। যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে কোনো মন্দ কাজ বা বিদআত করে, তার ব্যাপারে সতর্ক করা হবে এবং তাকে নসিহত করা হবে, যাতে সে হিদায়াত লাভ করে। এভাবেই সুন্নাহ এসেছে।”
তিনি বিদআতপন্থীদের সম্পর্কে আরও বলেন:
“আমার মত হলো, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত এবং সংবাদপত্রের পৃষ্ঠা, রেডিও এবং গ্রন্থের মাধ্যমে তাদের অনিষ্ট, ভ্রষ্টতা ও উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করা উচিত। প্রত্যেক রোগের একটি চিকিৎসা রয়েছে। বাতিলপন্থীরা যখন তাদের বাতিল প্রকাশ্যে তুলে ধরে, তখন হকপন্থীদের ওপরও হককে প্রকাশ করা অপরিহার্য।”
“এই দুনিয়া সংগ্রামের স্থান, যুদ্ধের স্থান, সংস্কারের স্থান এবং মুজাহাদার স্থান। আর আখিরাত হলো প্রতিদান ও হিসাবের স্থান। সুতরাং বাতিলপন্থীরা হকপন্থীদের চেয়ে বেশি সক্রিয় হবে—এটা হতে পারে না। বাতিল প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা হক প্রকাশকারীদের চেয়ে বেশি সাহসী হবে—এটাও হতে পারে না। বরং হকপন্থীদেরই অধিক সাহসী, আল্লাহর নির্দেশ পালনে অধিক দৃঢ় এবং বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অধিক সত্যনিষ্ঠ হওয়া উচিত।”
“আমি আমার এ কথা যারা শুনছে এবং অন্য সবাইকে নসিহত করছি—তারা যেন আল্লাহর জন্য দাঁড়ায় এবং মানুষের মধ্যে যা কিছু আল্লাহর শরিয়তের বিরোধী হিসেবে প্রকাশ পায়, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে—তা আধুনিকতাবাদী, কমিউনিস্ট, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, সুফি কিংবা অন্য যেকোনো বাতিলপন্থী গোষ্ঠীর হোক।”
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর বিরোধী কোনো বিষয় প্রকাশ করে, সে যদি অজ্ঞ হয়, তাহলে তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে হবে, সঠিক পথ দেখাতে হবে এবং হকের দিকে আহ্বান করতে হবে। আর যদি সে জেনেশুনে বাতিলের ওপর অটল থাকে, তাহলে তার অনিষ্ট স্পষ্ট করা, তার ব্যাপারে সতর্ক করা, তার জবাব দেওয়া এবং তাকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করা অপরিহার্য—যাতে হয়তো সে হিদায়াত লাভ করে।”
৭- শায়খ ইবনু উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ
শায়খ বকর আবু যায়দ-এর বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে শায়খ ইবনু উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ বলেন:
“তিনি বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তারা এরই উপযুক্ত। বিশেষত যখন কোনো বিদআতপন্থী তীক্ষ্ণভাষী ও অত্যন্ত বাগ্মী হয়, তখন তার অনিষ্ট আরও বেশি ও মারাত্মক হয়। বিশেষ করে তার বিদআত যদি কুফরিসৃষ্টিকারী হয় অথবা গুরুতর ফাসিকির পর্যায়ের হয়, তাহলে তার বিপদ আরও বড়।”
“আরও বিশেষভাবে, যখন সে মানুষের সামনে নিজেকে আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত বলে প্রকাশ করে। কারণ কিছু বিদআতপন্থীর মধ্যে মুনাফিকি রয়েছে। তুমি দেখবে, যার কাছ থেকে সে ভয় পায় তার সামনে নিজেকে অসহায় ও নিরীহ হিসেবে প্রকাশ করছে এবং বলছে: ‘আমি আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। আমি অমুক বা অমুক সাহাবিকে ঘৃণা করি না। আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি।’ অথচ সে মিথ্যাবাদী। সুতরাং এ ধরনের লোকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা অপরিহার্য।”
৮- আল-কাহতানীর কবিতা
আল-কাহতানী আশ‘আরিদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় বলেন:
“হে আশ‘আরিরা, হে সৃষ্টির নিকৃষ্টতম লোকেরা,
হে অন্ধ ও বধিরেরা—যাদের কান নেই!
আমি তোমাদের এবং তোমাদের দলকে ঘৃণা করি,
তোমাদের প্রতি আমার সামান্যতম ঘৃণাও আমাকে অস্থির করে।
আমি যদি দুই চোখেই অন্ধ হয়ে যেতাম, তবুও তাতে আনন্দিত হতাম,
যাতে তোমাদের কাউকে আমার চোখে দেখতে না হয়।
তোমাদের অন্তর আমার প্রতি ক্রোধ ও বিদ্বেষে
প্রচণ্ডভাবে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলছে।
তোমরা তোমাদের ক্রোধেই মরে যাও, আক্ষেপ ও দুঃখেই মরে যাও,
আর আমার কারণে আঙুল কামড়াতে থাকো।”

৯- ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
সবশেষে মুহাম্মাদ ইবনু বান্দার আল-জুরজানী ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রহিমাহুল্লাহকে বলেছিলেন:
“আমার জন্য এ কথা বলা খুব কঠিন হয়ে যায় যে, ‘অমুক এমন, অমুক তেমন।’”
তখন ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বললেন:
“তুমি যদি নীরব থাকো এবং আমিও নীরব থাকি, তাহলে অজ্ঞ ব্যক্তি কীভাবে সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য চিনবে?”

লেখক: শাইখ প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ জাকারিয়া।

24/03/2025

তারাবির নামাজের পরে কখন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হয়?
শাইখ মতিউর রহমান মাদানী।

23/03/2025

একজন মুসলিম অপর মুসলিমের প্রতি প্রতিশোধ পরায়ণ হবে না

একজন মুসলমান অপর মুসলমানের প্রতি হত্যার উদ্দেশ্যে নিজো হাতকে সম্প্রসারিত করতে পারে না। প্রকৃত মুসলিম সদা নিজেকে নিবৃত রাখবে কবীরা গোণাহ থেকে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, لَئِنۡۢ بَسَطۡتَّ اِلَیَّ یَدَكَ لِتَقۡتُلَنِیۡ مَاۤ اَنَا بِبَاسِطٍ یَّدِیَ اِلَیۡكَ لِاَقۡتُلَكَ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰهَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ (হাবিল তার ভাই কাবিলকে বলেছিলেন) ‘আমাকে হত্যা করার জন্য তুমি আমার দিকে হাত বাড়ালেও আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য তোমার দিকে হাত বাড়াব না, আমি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি’ (মায়েদা ৫/২৮)।

আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন দু’জন মুসলিম তাদের হাতিয়ার নিয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হবে, তখন তাদের দু’জনই জাহান্নামে যাবে। বলা হল, এতে হত্যাকারীর ব্যাপারটি তো বোঝা গেল, কিন্তু যাকে হত্যা করা হয়েছে তার ব্যাপারটি কেমন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সেও তো তার সাথীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। [বুখারী হা/৭০৮৩; মুসলিম হা/২৮৮৮]

অন্য হাদীসে এসেছে, সাদ ইবন আবী ওক্কাস বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি সে আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়, তখন কি করতে হবে আমাকে জানান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমি তখন আদম সন্তানদের মত হয়ে যাও। তারপর বর্ণনাকারী তেলাওয়াত করলেন, যদি তুমি আমার প্রতি তোমার হস্ত প্রসারিত কর, তবে আমি তোমার প্রতি আমার হস্ত প্রসারিত করব না। [আবু দাউদ হা/৪২৫৭; তিরমিযী হা/২১৯৪] এর অর্থ, তুমি তাকে হত্যা করবে না সেটা জানিয়ে দাও।

অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে আবু যর! তোমার কি করণীয় থাকবে, যখন দেখবে যে, আহযারু যাইত স্থানও রক্তে ডুবে গেছে? আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ ও তার রাসূল আমার জন্য যা পছন্দ করবেন। রাসূল বললেন, তোমার উচিত তখন তুমি যেখান থাকো সেখানে থাকা। অর্থাৎ পরিবার পরিজনের বাইরে না যাওয়া। তিনি বললেন, আমি কি আমার তরবারী নিয়ে ঘাড়ে লাগাব না? রাসূল বললেন, তাহলে তো তুমি তাদের সাথে হত্যায় শরীক হলে।

আবু যর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমার করণীয় কি? তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করবে। আমি বললাম, যদি তারা আমার ঘরে প্রবেশ করে? তিনি বললেন, যদি তুমি ভয় পাও যে, তরবারীর চমকানো আলো তোমাকে বিভ্রান্ত করবে, তাহলে তুমি তোমার চেহারার উপর কাপড় দিয়ে ঢেকে দাও, এতে করে (যদি তোমাকে সে হত্যা করে, তবে) সে তোমার ও তার গোনাহ নিয়ে ফিরে যাবে। [আবু দাউদ হা/৪২৬১; ইবন মাজাহ হা/৩৯৫৮; মুসনাদে আহমাদ হা/৫/১৬৩]

বিস্তারিত : https://anniyat.com/4gxm

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ahad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share