Kaibalya Bhuban

Kaibalya Bhuban Try to open the messages and teachings of Sri Sri Ram Thakur to all at the same time try to work for the community welfare.

নামৈব কেবলম্উৎসঃ শ্রী মোহনলাল সাহা মহাশয়ের লেখা গ্রন্থ ‘সমর্পণ’“কিসসু করতে হইব না, কোথাও যাইবার দরকার নাই, গ্রন্থাদি পড়ব...
23/05/2026

নামৈব কেবলম্

উৎসঃ শ্রী মোহনলাল সাহা মহাশয়ের লেখা গ্রন্থ ‘সমর্পণ’

“কিসসু করতে হইব না, কোথাও যাইবার দরকার নাই, গ্রন্থাদি পড়বারও প্রয়োজন নাই কেবল ঘরে বইসা নাম করবেন, নামেই ধাম খুইল্যা যাইব তখন সবই জানতে-বুঝতে পারবেন, কারো বুঝাইবার ক্ষমতা নাই।”- শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর।

মধুরেনু সমীপেষু

১) সুকৃতি-কুকৃতি অনুযায়ী জীবনরেখা রচিত হয় এবং তদানুসারে সবকিছু ভালো-মন্দরূপে জীবনে দেখা দেয়। কর্মভোগ শেষ না হলে তা সম্পন্ন করতে দেহজীবনে বন্দী হয়ে জন্ম-মৃত্যুর অধীনে পুনঃ পুনঃ সংসারে আসতে হয়। কর্মভোগ ক্ষয় হয়ে গেলেই জীবন মুক্ত হয়, তাই ভোগ যেরূপেই দেখা দেয় তাকে বরণ করে নিতে হয়। ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি যখন যেরূপে দেখা দেয় তাতেই জানবেন আপনার অধিকার এবং শান্তি।
২) সদ্গুরুর দীক্ষা বহু সুকৃতির ফসল, কৃপালাভ হল মহাসৌভাগ্যের লক্ষণ এবং তাঁর শরণলাভ হল অতি দুর্লভ এক প্রাপ্তি।
৩) বিলাসবহুল সংসারে থেকে বিলাসিতাকে দমন করে চলাই সার্থক বিলাসিতা -সংসার সন্ন্যাসের লক্ষণ। তৃণবৎ ভাব না এলে ভগবৎ প্রেম আসেনা।
৪) আসক্তিহীন কর্মে ও কর্তব্যে অটল থেকে সকলের সকল ঋণ শোধ হয়ে গেলেই জীবন-মাধুর্যময় হয়ে ওঠে এবং ভগবৎ প্রেম সঞ্চারিত হয়।
৫) মানুষ হয়ে জন্মে ভগবানকে না জানলে, বুঝলে, সেটি একটি পশুর জীবনের সমতুল্য হয় কারণ তাদেরই ভগবৎ চেতনা থাকে না। জীবের যাবতীয় প্রচেষ্টা, সাধন-ভজন ঐ মনুষ্যত্বটুকু লাভ করে ভগবৎপ্রিয় হবার জন্যই।
৬) তন্ত্র-মন্ত্র, যোগ-যাগ, আচার-বিচার ও শুদ্ধ-অশুদ্ধের বেড়াজালে বন্দী না থেকে সংসারের সহজ-সরল পথে ধৈর্য্যবান ও কর্তব্যপরায়ণ থেকে ঈশ্বরে নির্ভর করে তাঁর নামটি নিয়ে থাকলে তিনিই পথ দেখিয়ে নিয়ে যান।
৭) চর্মচোখ মহামায়ার মায়াবী জগত এবং জ্ঞানচোখে ভগবানে প্রেমের জগৎ দৃশ্যমান থাকে। জ্ঞানচক্ষু কেবল গুরুকৃপাতেই উন্মীলিত হয়।
৮) সংসারী বলে নিজেকে অধম ভাবার কারণ নেই বরং স্বস্তি অনুভব করা উচিৎ কারণ সংসার যেমন মায়াপুরী ও ভোগদানক্ষেত্র তেমনই মুক্তিরও উর্ব্বর ভূমি। কেবল মনকে ছেড়ে নামকে সাথী করে নিতে হয়- বাস্।
৯) সাধন ভজন নিজে নিজে, নিজকে জানলেই ভগবানকে জানা সহজ হয়, জীবন বুদবুদের ন্যায় ক্ষণস্থায়ী ঈশ্বরে সমর্পিত থাকাই বিচক্ষণতা।
১০) “সত্য” সুন্দর হয়, শান্তির হয়, আবার কঠোরও হয়, কারণ সত্যের সঙ্গে কোনরকম সমঝোতা বা মিথ্যাচার চলেনা, সত্য সদা সত্যই থাকে। ‘সত্য’র বাক্য অনুসরণ - উপলব্ধি করতে হয়, সত্যের জন্য বাঁচতে হয় - মরতে হয় - লড়তে হয় - করতে হয় তবেই জানবেন সত্যপ্রিয় হয়।
১১) বিশ্বাস হচ্ছে হৃদয়-চক্ষু যার দ্বারা ভগবৎ দর্শন হয়। সংসার সাধনার কঠিন অধ্যায় একমাত্র বিশ্বাসের শক্তিতেই উর্ত্তীর্ণ হওয়া যায় কারণ বিশ্বাসের পিছনেই থাকেন ভগবান, থাকে নির্ভরতা।
১২) আমরা মহামায়াতে বিবশ বলেই সবকিছু অস্থায়ী এবং মিথ্যা জেনেও সেসবকে আঁকড়ে থাকি, এত দুঃখ-কষ্ট ভোগ-যন্ত্রণা ও অভাবের মধ্যে সুখের খোঁজ করি। মায়ামুক্ত না হলে ‘সত্য’কে জানা যায়না - সদ্গতি লাভ হয় না।
স্বীকার করতেই হয় ঈশ্বরপ্রাপ্তির শুদ্ধতা, সেই ধৈর্য্য নিষ্ঠা ও জীবনশক্তি আমাদের নেই। ঠাকুর তাই অভয় দিয়ে বলেছেন, “গুরুর উপর নির্ভর করতে শিখেন।.... সকল ভারই গুরু বহন করিতেছেন- করিবেন, চিন্তা করিবেন না। যাহা পারেন করিবেন, না পারেন না করিবেন, কেবল সর্বদা গুরুপদে অনন্যমতি হয়ে থাকতে চেষ্টা করিবেন।”
স্বার্থকতা নামে, শান্তি সমর্পণে এবং পূর্ণতা শরণে। শরণ হল আধ্যাত্মবাদের সর্বোত্তম এবং সর্বশেষ অধ্যায়। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন, ‘শরণভাব হল মৃত ব্যক্তির দেহের ন্যায় সম্পূর্ণ নিশ্চেষ্ট- ভাব।’ ভগবান শরণ প্রদান করে ভক্তকে আপন করে নেন এবং ভক্ত সকল কর্তৃত্ব, মায়া-মোহ-ঋণ ও বেগমুক্ত হয়ে পূর্ণতা লাভ করে। ভগবানের শরণ পেতে তাই তাঁর নামে থাকুন, ধৈর্য্য ধরুন এবং সমর্পিত হোন। .... জয়রাম।

শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরকে জানুন-কৈবল্য ভুবনের সাথে থাকুন।

ডঃ ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয়   ডঃ ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এম.এ, পি.আরএস, পি.এইডি মহাশয় বেদবাণীর ...
22/05/2026

ডঃ ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

ডঃ ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এম.এ, পি.আরএস, পি.এইডি মহাশয় বেদবাণীর সংকলক। ডক্টর ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় ১৮৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পশ্চিম বঙ্গের তৎকালীন কুচবিহার রাজ্যের মেখলিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা স্বর্গীয় ভগবতীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন Deputy Inspector of Schools । তাঁর আদি বাড়ী ছিল ঢাকা জিলার বিক্রমপুর পরগণায়। ১৯১০ সালে ঢাকার কিশোরীলাল জুবিলী স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন। ১৯১৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ বি.এ পাশ করেন। ১৯৭১ সালে এম.এ পরীক্ষায় ইতিহাসে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে উত্তীর্ণ হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহ্বানে ইতিহাসের অধ্যাপক পদে ১ ডিসেম্বর ১৯১৭ সালে যোগদান করেন। ১৯২১ সালে শিখ ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য সম্মান সূচক ‘প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ’ বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৩৯ সালে পিএইচ. ডি ডিগ্রীতে ভূষিত হন। ১৯৪৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের আশুতোষ অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৫৫ সালে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ খুবই উচ্চস্তরের ছিল। তাঁর অমর র্কীতি শ্রীরামঠাকুরের স্বহস্ত লিখিত পত্রগুলি সংগ্রহ এবং উক্ত পত্রসমূহের উপদেশাংশ সংকলন করে ‘বেদবাণী’ নামক তিনখন্ড পুস্তক রচনা এবং ‘রামঠাকুরের কথা’ গ্রন্থ রচনা যা আধ্যাত্মিক জীবন গঠনে গৃহী, যোগী, সন্ন্যাসী সকলের পথ প্রদর্শক। বেদবাণী সংকলক হিসেবে তিনি শ্রীরামমন্ডলীতে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছে। বাংলায় একটি কথা প্রচলিত আছে ‘ভগবানের চিহ্ন চরণে, ভক্তের চিহ্ন মরণে।’ ডক্টর ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের মৃত্যু তা-ই প্রমাণ করে। ১৩ নভেম্বর ১৯৫৬ সাল, ১৩৬৩ সনের ২৭ কার্তিক মঙ্গলবার অধিক রাতে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করে ছেলেকে ডাক্তার ডাকতে পাঠালেন খাটে বসেই হঠাৎ অন্তিম সময় উপস্থিত জেনে ঘরের দেওয়ালে টানানো ঠাকুরের পটের দিকে মুখ করে পদ্মাসনে বসে ‘ঠাকুর’ বলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সেই পদ্মাসনে বসা অবস্থাতেই তাঁকে দাহ করা হয়। মুখাগ্নির পর অগ্নি সোজা উর্ধ্বমুখে উঠতে দেখে দু’জন অবাঙালি সন্ন্যাসী বলেছিলেন মৃতব্যক্তি মহাযোগী ছিলেন।

ডঃ প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়
ঢাকার বিক্রমপুর পরগণার ধলছত্র গ্রামে ১৮৯০ সালে ৭ এপ্রিল ডঃ প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বামামানিক্য বিদ্যাভূষণ এর তিনি কনিষ্ঠ পুত্র। মাতা সুন্দরী দেবী। ঢাকার K.L. Jubilee Institution থেকে ১৯১০ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সংস্কৃত অনার্সে প্রথম স্থান পেয়ে B.A পাশ করেন। ১৯১৬ সনে 1st Class first হয়ে M.A পাশ করেন। প্রথমে Bethune কলেজ পরে St. Xaviers College এ সংস্কৃতের অধ্যাপক হন। তারপর স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যয়ের আহ্বানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক পদ গ্রহণ করেন। Linguistic speculation of the Hindus নামক গবেষণামুলক রচনার জন্য ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেমচাঁদ, রায়চাঁদ বৃত্তি (P.R.S) পান। Philosophy of Sanskrit Grammar নামক গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করার পর ১৯২৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে Ph.D ডিগ্রী প্রদান করেন। তাঁর রচিত অপর একটি গ্রন্থ Doctrine of Sakti in Indian Literature ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া বাংলায়, ইংরেজী ও সংস্কৃতে অনেক প্রবন্ধ রচনা করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের প্রধান আশুতোষ অধ্যাপক পদে উত্তীর্ণ হন। আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনা ১৯১৮ সালে শ্রীরামঠাকুরের পাদস্পর্শ করার সময় থেকে। এর তিন চার দিন পর তিনি স্বপ্নযোগে নাম পান। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন ঐটা স্বপ্ন নয়, উহাই সত্য। ১৯৩৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে স্থান লাভ করেন। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, “প্রভাতবাবুর আবার আসতে হইব। একশত বৎসর পর তিনি পুনরায় আসবেন। তাঁহার দ্বারায় শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম হইতে মানবধর্ম প্রচারিত হইব। সর্বধর্ম সমন্বয় এখানেই হইব।”

শ্রীশ্রীঠাকুরের সাথে পরিচয়ের পর শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর সর্ম্পকে ইন্দু বাবু বলেছেন,
‘তিনি যে আমার অত্যন্ত আপনার জন ইহা যেন স্পষ্ট বুঝিতে পারিলাম। একটা বিপর্য্যয় হইয়া গেল। আমার বিদ্যাভিমান, আমার সমস্যা, আমার বিচার-বিতর্ক, সবই যেন স্রোতের মুখে তৃণের মত ভাসিয়া গেল, আমি অজানিতে ঠাকুরের নিকট আত্মসমর্পণ করিয়া বসিলাম। প্রীতির বাঁধনে তিনি আমাকে আটকাইয়া ফেলিলেন।’
শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর সর্ম্পকে ইন্দু বাবু আরো বলেছেন,
“ঠাকুরের দুর্নিবার আকর্ষণে কত তর্ক, কত যুক্তি স্রোতমুখে তৃণের মত ভাসিয়া গিয়াছে, কত অনমনীয় যুক্তিবাদী নির্ব্বিচারে তাঁহার শরণাপন্ন হইয়াছেন। আমার ধারণা এই যে, ঠাকুরের মধ্যে যে যাহা খুঁজিয়াছে, তাহাই পাইয়াছে।”

শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর সর্ম্পকে প্রভাত বাবু বলেছেন,
তাঁহার সহিত যে কি সম্বন্ধ তাহা জানি না। জানিবার প্রয়োজনও হয় নাই। তবে সত্য কথা এই যে, তাঁহাকে বড় ভাল লাগে-প্রাণ ভরিয়া ভালবাসিতে ইচ্ছা হয়। তাঁহার স্বভাবসুন্দর মূর্ত্তি, বাল-প্রকৃতি ও প্রাণস্পর্শিনী মধুর কথা সকলই প্রাণে আনন্দধারা বর্ষণ করে। তাঁহার মধ্যে কি জানি কি আছে যাহা সকলকেই আকর্ষণ করে, অল্পেই আপনার করিয়া লয়। একবার দেখিলে কেন জানি মন প্রাণ তাঁহার চরণে লুটাইয়া পড়িতে চায়। কলুষপঙ্কিল জীবনের যে কয়টি মুহূর্ত্ত তাঁহার সঙ্গে অতিবাহিত করিয়াছি তাহার পবিত্র স্মৃতি হৃদয়ে অঙ্কিত রহিয়াছে। প্রাণের আবেগে শেষে শুধু বলিতে ইচ্ছা হয়- “তুঁয়া চরণে মন লাগহুঁ রে”। জন্মে জন্মে যেন তাঁহার শ্রীচরণের দাসানুদাস হইতে পারি-- ইহাই প্রার্থনা।

( শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রচারে- কৈবল্য ভুবন। )

শ্রীশ্রীরামঠাকুর সম্পর্কে মনীষীগণের উপলদ্ধিঃকথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পর্কে উপলদ্ধি “ঠাকুর দু...
21/05/2026

শ্রীশ্রীরামঠাকুর সম্পর্কে মনীষীগণের উপলদ্ধিঃ

কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পর্কে উপলদ্ধি

“ঠাকুর দুর্জ্ঞেয় কিন্তু আকর্ষণ তাঁর দুর্বার বেশিক্ষণ তাঁর কথা মাথায় রাখা যায় না। তাই বারবার বসি আর বারবার উঠি। তাঁর কাছে যখনই থেকেছি মনে হয়েছে সব পেয়েছির দেশে বাস করছি। দূরে গেলে সে সুর হারিয়ে ফেলি। হারানো সে সুর আর খুঁজে পাইনা, তাইতো আবার তাঁকে দেখতে চাই।”

মহামহোপাধ্যায় ডঃ গোপীনাথ কবিরাজ মহাশয়ের ঠাকুর সম্পর্কে ধারণা

“আমার বিশ্বাস বর্তমান যুগে অর্থাৎ বিংশ শতাব্দীর যে কয়েকজন মহাপুরুষ বঙ্গদেশে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন তাঁহাদের মধ্যে তিনি অন্যতম প্রধান। লৌকিক দৃষ্টিতে তিনি লেখাপড়ায় বিশেষ অগ্রসর হন নাই; ইহা সত্য কিন্তু অলৌকিক দৃষ্টিতে তাঁহার ন্যায় দিব্যসম্পদশালী মহাপুরুষ খুব বেশি আছে বলিয়া মনে হয় না।”

কবিবর নবীনচন্দ্র সেনের ঠাকুর সম্বন্ধে লিখিত বক্তব্য

“রামঠাকুর দেখিতে ক্ষীণাঙ্গ ও শান্তমূর্তি। নিতান্ত পীড়াপীড়ি না করলে কাহারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন না। তাঁহার ৮ বৎসর হইতে বার বৎসর পর্যন্ত সামান্য বাংলা শিক্ষামাত্র হইয়াছিল। কিন্তু ধর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব এমন কি প্রণবের অর্থ পর্যন্ত জলের মত বুঝাইয়া দিতেন। পতিপত্মী মুগ্ধ চিত্তে তাঁহার অদ্ভুত ব্যাখ্যা সকল শুনিতাম। বলাবাহুল্য সে পেশাজীবি হিন্দু প্রচারকের ব্যাখ্যা নহে।”

শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পর্কে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মন্তব্য

“মানুষ বলে সমুদ্রের কুল কিনারা নাই। আমি বলি, সমুদ্রেরও একটা কুল আছে কিন্তু তোমার (ডাক্তার যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্তকে) ঠাকুরের কুলকিনারা নাই। যতীন যাÑও তুমি আমাকে তাঁহার সন্ধান দিলে তা প্রায় আমার শেষ মুহূর্তে। এখন আর আমার সময় নাই। তুমি বড়ই ভাগ্যবান এমন গুরুর আশ্রয় পাইয়াছ।”

আনন্দময়ী মায়ের শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পর্কে বক্তব্য

একদিন এক শিষ্য মাকে বললেন, “মা রামঠাকুর এসে আপনাকে হাতজোড় করে প্রণাম করলেন আপনি কোন শব্দও করলেন না।” মা আনন্দময়ী তখন বললেন, “বলিস কিরে, আমিতো সারা জনম তাঁর পায়েই পড়ে আছি!” স্থানান্তরে বলেছিলেন, “তিনি নারায়ণ, সর্বদাই তো তিনি আমার মাথার উপর আছেন।” অপর একদিন মা আনন্দময়ী ঠাকুরকে বলেছিলেন, “ঠাকুর আর কতদিন গোপন থাকবেন?”

শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর ঠাকুর সম্পর্কে বক্তব্য

বিক্রমপুর বাহেরক গ্রামের শ্রীপ্রসন্ন কুমার আচার্য তাঁর কুলগুরু জ্ঞানহীন, আচারভ্রষ্ট বলে শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীজির নিকট নাম প্রার্থী হলেন। গোস্বামী মহারাজ বললেন, “আমার কাছে নাই, আছে এক উচ্চতর মহাপুরুষের কাছে। তিনি স্বেচ্ছাক্রমে এসে যথাসময়ে আপনাকে দীক্ষিত করবেন।” প্রায় ২০ বৎসর পর শ্রীরামঠাকুর সিলেটের পৃথিমপাশা হাইস্কুলে গিয়ে স্বেচ্ছায় “নাম” দিয়ে আসেন।

জয়রাম, জয়গোবিন্দ।
শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরকে জানুন- কৈবল্য ভুবনের সাথে থাকুন।

কৈবল্যধামের তৃতীয় মোহন্ত শ্রীমৎ ব্রজেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা “ভক্তপ্রাণ রামঠাকুর” প্রবন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের নামে...
21/05/2026

কৈবল্যধামের তৃতীয় মোহন্ত শ্রীমৎ ব্রজেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা “ভক্তপ্রাণ রামঠাকুর” প্রবন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের নামের মাহাত্ম্য খুব সুন্দর ভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে, যেখানে তিনি লিখেছেন;

“শ্রীশ্রীঠাকুরের মুখশ্রী ছিল সদাই মাধুর্য্যময় ও জ্যোতির্ম্ময়। তাঁহার দিকে চাহিলে অপলক দৃষ্টিতে চাহিয়া থাকিতেই ইচ্ছা হইত। তাঁহাকে দেখিবার সাধ কখনও মিটিত না। সকল শাস্ত্রাদি মন্থন করিয়া জগতের ত্রিতাপক্লিষ্ট মানবকে এমন এক প্রকৃষ্ট, সহজ ও যুগোপযোগী মার্গের সন্ধান দিলেন যাহা নির্ব্বিচারে আশ্রয় করিয়া থাকিলে সে পুনঃ পুনঃ জন্মমৃত্যুর পাশ হইতে ত্রাণ লাভ করিয়া নিত্য শান্তি ও প্রেমামৃতরসে আপ্লুত হইয়া থাকিতে পারে। তাহা হইল অনুক্ষণ ভগবানের নাম স্মরণ, মনন, ধ্যান ও কীর্ত্তন। নাম সত্যজাত স্থায়ী, কাম ঋণজাত অস্থায়ী।

শ্রীশ্রীঠাকুর বলিতেন মনের বেগ ধৈর্য্য সহকারে সহ্য করিয়া যাওয়াই ধর্ম্ম। ধর্ম্ম ধৈর্য্য একই। তিনি অভিমানশূন্য হইয়া দ্বারে দ্বারে ঘুরিয়া নামরূপ সিদ্ধবীজ তাপক্লিষ্ট মানবের অন্তরে বপন করিয়া গিয়াছেন এবং তাঁহার তিরোধানের পর চট্টগ্রাম, পাহাড়তলী শ্রীশ্রীকৈবল্যধামের মোহন্ত মাধ্যমে ঐ নাম বিতরণের ব্যবস্থা করিয়া গিয়াছেন। ঐ বীজের দিকে লক্ষ্য রাখিয়া নাম করিতে করিতে নামের শক্তিতে যখন বিক্ষিপ্ত মন বিষয়-বাসনা-বিমুখ হইয়া নামেতে জুরি হয় তখন নামরূপ বীজ মহামন্ত্রে পরিণত হয়; এবং মন নামের সঙ্গে থাকিতে থাকিতে যখন নামকে (নাম, সত্য, প্রাণ, ভগবান একই) চিনিতে পারে তখনই আত্মানুভূতি হয়, যাহা পাইলে আর পাওয়ার কিছু বাকী থাকে না, যাহাকে জানিলে জানারও কিছু বাকী থাকে না। ইহাকেই তত্ত্বজ্ঞানী বলে।

নাম চিন্তামণিঃ কৃষ্ণশ্চৈতন্য-রসবিগ্রহঃ।
নিত্যশুদ্ধো নিত্যমুক্তোহভিন্নাত্মা নাম নামিনোঃ।।

নিত্যশুদ্ধ নিত্যমুক্ত নাম নির্ব্বিচারে করিতে পারা যায়, যে কোন স্থানে, যে কোন সময়ে, যে কোন অবস্থায়। যে কোনও কর্ম্মে নিযুক্ত থাকিয়াও নাম করা যায়; কর গণিয়া হিসাবে রাখার প্রয়োজন হয় না। খাওয়া এবং চলাফেরার ব্যাপারে বিশেষ কোনও বিধি নিষেধ নাই। সর্ব্বদা নামের সঙ্গ করিতে করিতে নামের শক্তিতেই দেহ মন পবিত্র হইয়া যাইবে। নামের শক্তিতেই জ্ঞান উদয় হইবে। নামই সত্য অপরিবর্ত্তনশীল নিত্য বিরাজমান। এইজন্য নামই নিত্য, নামের সঙ্গ করিতে করিতে সতী হয়, নামই ধনী, নামের সঙ্গে থাকিলে সকল অভাব দূর হইয়া ঋণমুক্ত হয় এবং ঋণমুক্ত হইলে আর দেহধারণ করিয়া সংসারে আসিতে হয় না। নিত্যানন্দে অবিরাম প্রবহমান প্রেমরসাম্বুতে আপ্লুতে থাকা যায়। আসুন সবাই নামামৃত পান করিয়া জীবন ধন্য করি।”

জয়রাম, জয়গোবিন্দ।
শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরকে জানুন- কৈবল্য ভুবনের সাথে থাকুন।

‘সেবা’ সন্বন্ধে ঠাকুরের অভিমত এবং নিজ জীবনে সেবকের ভূমিকায় অন্যকে অনুপ্রাণিত করা প্রসঙ্গে।“আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখায়”- এ...
20/05/2026

‘সেবা’ সন্বন্ধে ঠাকুরের অভিমত এবং নিজ জীবনে সেবকের ভূমিকায় অন্যকে অনুপ্রাণিত করা প্রসঙ্গে।

“আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখায়”- এই আপ্তবাক্যকে পাথেয় করেই শ্রীশ্রীঠাকুরের দীর্ঘ নব্বই বছরের পথ পরিক্রমা। তিনি মনে করতেন যে,শুষ্ক উপদেশে হবেনা, সজীব দৃষ্টান্ত ও আচরণের মধ্য দিয়েই আশ্রিতবর্গকে শিক্ষিত করে তোলা যাবে। সেটাই তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে গেছেন আজীবন। তিনি বলেছেন, “আমি উপদেষ্টা নই, দৃষ্টান্ত মাত্র।”

সেবা শব্দটির অর্থ অতি ব্যাপক। ইন্দুবাবু রামঠাকুরের কথা-বইটিতে লিখেছেন ‘সেবা-কথাটির একটা বিশেষ মর্যাদা আছে। গত ২০/২৫ বছরের মধ্যে আমরা অত্যন্ত আত্মসর্বস্ব হইয়া উঠিয়াছি। নিজ নিজ ক্ষুদ্র বেষ্টনীর বাহিরে আমাদের সেবাপরায়ণতা আর অগ্রসর হইতে চাহে না। দুই চারিটি সেবা প্রতিষ্ঠানে কিছু কিছু চাঁদা দিয়াই আমরা মনে করি যে আমাদের কর্তব্য সম্পাদন হইয়াছে। কিন্তু প্রকৃত সেবা যে একটা শিক্ষণীয় বস্তু এবং সমগ্র জীবন দিয়াই ইহার সাধনা করিতে হয়, এমন কোন ধারণার ধারও আমরা ধারি না। পারিবারিক এবং সামাজিক দৈনন্দিন জীবনে এই সেবাধর্মের সাধনা করিতে হয় এবং তাহা না করিলে বা করিবার সুযোগ না থাকিলে মানুষ আত্মসর্বস্ব হইয়া উঠিতে বাধ্য।’

“তাছাড়া তিনি বলেছিলেন- লোকালয়ে তোমার কাজ আছে।” এই ‘কাজ’ কি জনগণের সেবা? যাই হোক শুরু হল মাতৃসেবা। এই বৃত্তিতে গৃহস্থের সেবাই সূচিত হয়। শুভময় দত্ত মহাশয়ের “শ্রীশ্রীরামচন্দ্র দেব প্রসঙ্গ ও অমৃতবাণী” তে ঠাকুরের গৃহস্থ গৃহে অবস্থানকালীন নানা সেবাকার্যের উল্লেখ আছে-অসীম শক্তির অধিকারী এবং সর্ববিষয়ে ঐশ্বর্যশালী হওয়া সত্ত্বেও এই প্রকার সাধারণ কাজ করিয়া এই দৃষ্টান্তই রাখিয়া গিয়াছেন যে কাজকে উচ্চনীচ ভালমন্দ ইত্যাদি মনে করা একেবারেই ভ্রান্তি।

গুরুর আদেশে লোকালয়ে প্রত্যাবর্তনকালে পথে একটি কুষ্ঠরোগীর সেবার ঘটনা, তখন থেকেই শুরু হয়েছিল তার সেবাকার্য। শুধু রোগীর সেবা নয়-সংসারের প্রতিটি কাজকে সেবার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। সেখানে বৈঠকখানায় আগন্তুক লোকদের তিনি নিজ হাতে তামাক সেজে দিতেন। ওষুধ এনে দিতেন এবং নিজ হস্তে সেবা করে তাকে সুস্থ করে তুলেছিলেন। উত্তরপাড়ায় এক মেথর পল্লীতে আগুন লাগলে তিনি গঙ্গা থেকে কলসী কলসী জল এনে অগ্নি নির্বাপণে সাহায্য করেছিলেন।

শুধু ব্যক্তিগত সেবা নয়-সমাজগত সেবার আদর্শও তিনি স্থাপন করে গেছেন। মহেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী লিখিত “রামঠাকুরের জীবন কথা”-বইটিতে “বাহেরক গ্রামে দরিদ্র সেবা” বাতরোগে শয্যাগত তাঁর স্ত্রীর সেবা এমন কি হাট-বাজার, রান্নাবাড়া প্রভৃতি গৃহস্থালীর অনেক কিছু নিজহাতে ঠাকুর সম্পন্ন করতেন।

এমনি কত প্রানবন্ত আচরণের মাধ্যমে তিনি আদর্শ রেখে গেছেন। “মা! আমি শিব হইতে আসি নাই, আসছি আপনাগো সেবা করতে।” এই সেবা শুধু আশ্রিতবর্গকে নাম সম্পদ দান করে ভবরোগ থেকে উদ্ধার নয়-অক্লান্তভাবে শারীরিক ক্লেশ উপেক্ষা করে ব্যাধিগ্রস্তদের সেবা। শুভময় দত্ত মহাশয়ের “শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব স্মরণে” পুস্তকটিতে ঠাকুরের একটি চরম সেবার কাহিনী আছে।

সমাজচ্যুত মনমোহন গাঙ্গুলী মহাশয়ের অন্তিমকালে কঠিন রক্তমাশয়ে আক্রান্ত হলে একটি জঙ্গলে পরিত্যক্ত হয়। সেই অসহায় রোগীকে ঠাকুর অতি কষ্টে সযত্নে তার আত্মীয়ের বাড়ীর একখানা ছোট ঘরে নিয়ে আসেন এবং তিনমাস কাল রোগীর দিবারাত্রি সর্বপ্রকারের সেবা পরিচর্য্যা একাকী সম্পন্ন করেন। তার দেহত্যাগ হলে স্থানীয় একটি লোকও তাকে স্পর্শ করতে রাজী হয়নি। কিন্তু ঠাকুর রোগীর আত্মীয়টির সাহায্যে নিজ হাতে আমগাছ কেটে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সমাপন করেছিলেন। ঠাকুর বলেছিলেন- “মনমোহনের আত্মা মুক্ত হইয়াছে, তার আর জন্মগ্রহণ করিতে হইবে না।”

সদানন্দ চক্রবতী মশাইয়ের “ছন্নাবতার শ্রীশ্রীরামঠাকুর” বইটিতে “ত্রিপুরার বনাঞ্চলে শ্রীশ্রীঠাকুর ও সদানন্দবাবু” প্রবন্ধটিতে ঠাকুর মশাইয়ের এক অপূর্ব সেবারত মূর্তি আছে। সেই আবাসস্থলে তক্তাপোষের উপর শায়িত ম্যালেরিয়া জ্বরে অচৈতন্য এক মহিলা ও একটি রুগ্ন শিশু। খুব অল্প বয়সের দুটি বালক-বালিকা ছাড়া বাড়ীতে কোন পুরুষ মানুষ বা কাজের লোক নেই। প্রথমে ঠাকুর রান্নাঘরে ঢ়ুকে ডাল, ভাত, ডালের বড়া রান্না করে অভুক্ত ছেলে-মেয়ে দুটিকে খাওয়ালেন। অসুস্থ ছেলেটিকে সাবু করে খাওয়ালেন। এরপর শুরু হ-ল অচৈতন্য মহিলার সেবা। মাথায় জলের ধারা দিয়ে সযত্নে মুছিয়া সাবু খাওয়ালেন। এর পরের পর্যায়ে ঘরদোর গুছিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সদানন্দবাবুকে খেতে দিলেন। সদানন্দবাবুর কোন সাহায্যই তিনি গ্রহণ করলেন না। তার নিপুণ হাতের কর্মপদ্ধতি সদানন্দবাবু মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখে যাচ্ছেন। নিজের আহার্য সন্বন্ধে চিন্তা নেই- তিনি তো চির অভুক্ত। সদানন্দবাবুই তার জন্য সরবত করে দিলে তিনি তা গ্রহণ করলেন।

নিজেকে ভুলে সেবা করার এসকল অপূর্ব দৃষ্টান্ত সমূহই শ্রীশ্রীঠাকুর আমাদের অনুকরণীয় করে রেখে গেছেন।

জয়রাম, জয়গোবিন্দ।
শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরকে জানুন- কৈবল্য ভুবনের সাথে থাকুন।

শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর গুরু বলতে বলেছেনঃ“গুরু প্রসন্ন হয়ে যা দেন তাই প্রসাদ। প্রসাদের স্বাদ কখনও নিম্নগামী হয় না। প্রসাদ যে অ...
19/05/2026

শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর গুরু বলতে বলেছেনঃ
“গুরু প্রসন্ন হয়ে যা দেন তাই প্রসাদ। প্রসাদের স্বাদ কখনও নিম্নগামী হয় না। প্রসাদ যে অবস্থায় পাওয়া যায় সে অবস্থায় নিতে হয়। প্রসাদ না নিয়ে গেলে ফিরা আসতে হয়।”

“গুরু দর্শনের সময় নির্ধারিত আছে, তাহার পূর্বে বা পরে গুরু দর্শন পাওয়া যায় না।”

“গুরুরা যা দেন তা বীজ। বীজ গোপনে রাখ্তে হয়। এখানে যা পাইছেন তা ফল-পুষ্প সমম্বিত মহামহীরুহ। ফলটা দিলাম, শুধু-পাড়েন আর খায়েন, শুধু-পাড়েন আর খায়েন।”

“গুরুর পদ সেবা অর্থে গুরুর আশ্রয় ভিক্ষা। গুরু সর্ব্বজ্ঞ ও সর্বদর্শী। গুরু কৃপায় সবই লাভ হয়। গুরুর আশ্রিত ব্যক্তিকে পাপ স্পর্শ করতে পারে না। গুরু পাত্রানুযায়ী বীজ বপন করেন। গুরুর বীজ নিষ্ফল হয় না। প্রত্যেক অণু-পরমাণুই গুরুর অংশ।”

“গুরুকে দিলে সর্বস্ব দিতে হয়।”

“গুরু বলতে নামই গুরু। অতএব নাম হইল গুরু মূর্তি। ধ্যান বলে চিন্তারে। নাম চিন্তায় গভীরভাবে নিমগ্ন থাকাকে ধ্যান বলে। নাম চিন্তা করলেই গুরু মূর্তির চিন্তা করা হয়। পৃথক ভাবে চিন্তা করতে হয় না।”

“ দীক্ষা-দেখা। দর্শন-আত্ম দর্শন। নাম করিতে করিতে দেখা হয়।”

“গুরু বাক্যই গুরু। গুরু বাক্যে অন্ধ বিশ্বাস না থাকলে ইহকাল আর পরকাল দুইই হারায়।”

“গুরু আসেন নিতে, তিনি দিতে আসেন না। দিয়ে তিনি ব্রজের পথে বিলম্ব ঘটাতে চান না।”
“গু-শব্দে অন্ধকার, রু-শব্দে আলো” গুরু শব্দে অন্ধকারে আলো।”

“গুরু বলতে নামই গুরু। শ্রীগুরু প্রদত্ত নামই সদ্গুরু। এই নাম জীবের ত্রিগুণাত্মিকা বিষয় সমূহ যথা-মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার, দশ ইন্দ্রিয়ের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর কইরা নাম আলোতে আনয়ন করেন বইলাই সদ্গুরু বা সত্য গুরু বলা হয়।”

“সদ্গুরুর কাজ হইল ভক্তকে উদ্ধার করা। ভক্ত নাম করুক আর না করুক, সদ্গুরু যিনি তিনি ভক্তকে উদ্ধার করিবেনই।”

“কুল অর্থ কিনারা, গুরু অর্থ নাম। কুলগুরু অর্থাৎ যিনি নামের কিনারে থাকেন। ভব সাগরের কুলে যিনি নিয়ে যান, তিনিই কুল গুরু। কুলকুগুলিনী শক্তি যিনি জাগিয়ে দেন তিনিই কুলগুরু।”

“গুরু বলতে নামই গুরু। গুরু শব্দও নাম বই আর কিছু নয়। গুরু নামে পাওয়া নামে কোন পার্থক্য দেখিনা।”

“গুরু বলতে নামই গুরু। গুরুদেহ নামের দেহ। সুতরাং নাম এবং গুরু দেহ একই বস্তু জাইনা নাম নিয়া পইড়া থাকতে হয়। কালের মহাচক্র আবর্তিত হইতেছে। মনে রাইখো এটা মায়ার জগৎ। সকলি ভুল, সকলি ভ্রান্তি।”

শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরকে জানুন- কৈবল্য ভুবন

শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন,“কলিতে বেদ নাই সুতরাং বিধিও নাই। কলিতে প্রয়োজন হইতেছে গুরু চরণে আত্মনিবেদন, আত্ম নিবেদন পূর্বক যাহা...
18/05/2026

শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন,
“কলিতে বেদ নাই সুতরাং বিধিও নাই। কলিতে প্রয়োজন হইতেছে গুরু চরণে আত্মনিবেদন, আত্ম নিবেদন পূর্বক যাহা বোধ হইবে তাহাই বেদ এবং তদ্অনুযায়ী যাহা করণীয় মনে হইবে তাহাই বিধি”

সুখে-দুঃখে, বিপদে-সম্পদে, ত্যাগে-ভোগে, সুখে-অসুখে তিনিই হয়েছেন আমাদের আশ্রয়দাতা, পরিত্রাতা, সর্বোপরি আমাদের প্রাণের ঠাকুর।

“সংসারটা হইছে জ্বালাময়।” তাই একটা উপমা দিয়া ঠাকুর পুনরায় বলিলেন, “দেখ, তুমি এক স্থান হইতে অন্যস্থানে যাইতাছ, এখন মাঝখানে একটা কাঁটাবন, তার ভিতর দিয়া একটা মাত্র সরু পথ। ঐ পথটা অতিক্রম করতে পারলেই তুমি ফাঁকা মাঠে যাইয়া পরবা এবং আলো দেইখা গন্তব্য স্থলে পৌঁছাইতে পারবা। এখন এই কাঁটাবনের ভিতর দিয়া চলার সময় তোমার পায়ে ও শরীরে দু-একটা কাঁটা লাগব, কিন্তু তুমি ঐ সমস্ত ভ্রুক্ষেপ না কইরা কতক্ষণে কাঁটাবন পার হইয়া ফাঁকা মাঠে ওই আলোতে যাইয়া পৌঁছাইবা সেইদিকে তোমার লক্ষ্য রাখতে হইব। তাহা হইলেই তুমি গন্তব্য স্থলে যাইয়া পৌঁছাইতে পারবা।” “সেইরূপ এই সংসার থাইকা ভগবানের দিকে লক্ষ্য রাইখা যাবতীয় কর্ত্তব্য কইরা যাইতে হইব। সংসারে কর্ত্তব্য করতে যাইয়া কেহ তোমাকে প্রসংসা করব, আবার কেহ তোমার নিন্দা করব। তুমি ঐ সমস্ত কথার দিকে লক্ষ্য না রাইখা তোমার কর্ত্তব্য কাজ যত তাড়াতাড়ি পার শেষ কইরা ভগবানের পাদপদ্মে পৌঁছাইতে পার সতত তার চেষ্টায় থাকবা। তা হইলে সংসারের কোন বন্ধনই তোমাকে আবদ্ধ করতে পারবো না এবং তুমি ও অচিরেই সংসার হইতে মুক্তি পাইয়া যাইবা।”

একজন শ্রীশ্রীরামঠাকুরের কাছে জানতে চাইলেন- ‘শান্তি কিসে পাওয়া যায়, বলতে পারেন? ‘উত্তর দিলেন রাম- ‘শান্ত হইলেই শান্তি পাইবেন’। ছোট্ট একটা কথা অথচ কত মর্ম্মস্পর্শী। আসলে মানুষের মনের স্বভাবই হল চঞ্চল হওয়া-বিকারগ্রস্থ হওয়া। মনের সেই চঞ্চলতা আর বিকারের কারণেই ইন্দ্রিয় বহির্মুখী হয়। আর কষ্টপায় জীব।

শ্রীশ্রীরামঠাকুর একদিন একটা কাগজে একটি বৃত্ত আঁকলেন। মধ্যে একটা বিন্দু দিলেন। পরে কাগজটি ইন্দুভূষণ বাবুর সামনে ধরে বললেন- এই বৃত্তটি দেখছেন- এটাই হল সীমাবদ্ধ মন বুদ্ধি আর ইন্দ্রিয়ের পরিধি। আর আপনাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হল বিন্দু। এই বিন্দুটির আয়তন যতই বাড়বে মন বুদ্ধি ইন্দ্রিয়ের পরিধির পরিমাপ ততই কমবে। আপনি এই বিন্দুটির সেবা পরিচর্যা লইয়াই থাকুন। উহাদের সহিত মিত্রতাও করিবেন না, উহাদের বিরোধিতাও করিবেন না। করুণাময় আমাদের ঠাকুর যে নিত্য সদাজাগ্রত।

তাই তিনি বলেছেন “প্রারব্ধ ভূঞ্জমানাণি গীতাধ্যান পরায়ণা”। (৩/১২৩ বেদবানী)। ঐ গীতাটি ভগবানের হৃদয় সন্দেহ নাই। এই শরীরে ভগবান আছেন, তাহাকে জানিয়া লইতে পারিবেন। তাঁর নিকট সকল চেষ্টা রাখিতে পারিলেই সকল সংসার মুক্ত হয়।

শ্রীশ্রীরামঠাকুর ছিলেন স্বয়ং গীতার প্রতিমূর্ত্তি। তাঁর বাণী অনুসরণ না করে পারমাথির্ক সফলতা লাভ করা অসম্ভব। তাঁর প্রদর্শিত পন্থাতেই কৃষ্ণানুশীলনে রত হওয়া কর্ত্তব্য। তাঁর বাণীর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বাণীর পার্থক্য নেই, কেন না তাঁরা অভিন্ন।

“শ্রীশ্রী ঠাকুর দয়ানিধি কথা প্রসঙ্গে এক সময় প্রকাশ করিয়াছিলেন যে “আমার কোটি কোটি অংশের এক কণা যে বুঝিতে পারিয়াছে সে এই দেহে নাই; যদিও থাকে সে লোকালয়ে নাই।” এ কথার দ্বারা প্রাণগোবিন্দ শ্রীশ্রীঠাকুর আমাদের কি এ কথাই বোঝাচ্ছেন না যে তিনিই স্বয়ং ভগবান।
তিনি শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ সেবার প্রচলন করেছিলেন জগতের অশেষ কল্যাণের জন্য। যাদবপুর শ্রীশ্রী কৈবল্যধামে সত্যনারায়ণ পীঠ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন- “জগতের অশেষ কল্যাণের জন্য সত্যের ইচ্ছায় সত্যপীঠ পুনঃ প্রকাশিত হইল।” তিনিই যে স্বয়ং শ্রীশ্রীসত্যানারায়ণ তাও তিনি জানিয়েছেন ভক্তগণকে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে।

বেদবাণী প্রথম খন্ডের ১০২ নং পত্রে বলেছেন “পিতা-মাতা, ভাই ভগ্নী, খুড়া জ্যেঠা, মাসী পিসী, বাড়ীঘর, গ্রামবাসী, দেশবাসী, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব, শত্রুমিত্র, সৎ অসৎ সংগ সকল ঋণগত কর্মফল। ইহা সকলি ভাগ্যক্রমে প্রাপ্ত হয়। ইহাদের মধ্যে কাহারও কোন দোষ নাই। ভাগ্যবশতঃ ফলাফল ভালমন্দ ব্যবস্থা যা থাকে ইহাই ঋনবদ্ধ। এই সকলের গঞ্জনা যথাশক্তি সহ্য করিবে। যাহার যে প্রাপ্ত অংশ আছে তাহারা যে যে ভাবে আদায় করিতে পারে, সেই ভাবে আদায়ের চেষ্টা করে। ইহাদিগকে ফাঁকি দিয়া বনে গিয়া কি ফল হইবে, কিংবা দেহ ছাড়িলেই বা কি হইবে। এদের ঋণ তো শোধ হইবেই না, দফে দফে চিরজন্মই ভোগ করিতে হইবে। যাহা হইক, সত্যনারায়ণের ব্রত ভুলিবেন না।”

শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ করুণার্দ্র হৃদয়ে মায়ামুগ্ধ জীবকে পরম শান্তির পথে আহ্বান করেছেন। আত্মা অবিনশ্বর, দেহ নশ্বর, এই নশ্বর দেহ অবিনাশী আত্মজ্ঞানের সহায়ক রূপে ব্যবহারের যোগ্যতম পন্থা শ্রীশ্রীঠাকুর দেখিয়েছেন। যার যা ভাব যা সংস্কার যা অভিরুচি, তা বুঝে নিয়ে নিজ নিজ অধিকার অনুসারে কীভাবে মানব জন্মকে উচ্চতম শিখরে আরোহণের সোপান রূপে ব্যবহার করা যায় তার অনবদ্য উপায় শ্রীশ্রীঠাকুর দেখিয়েছেন।

তাইতো শ্রীশ্রী ঠাকুরের পাদপদ্মে প্রণতি জানিয়ে কবিগুরুর ভাষায় বলি,

‘শুধু তোমার বাণী নয় গো হে বন্ধু হে প্রিয়,
মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিও।’

শ্রীশ্রী ঠাকুরের নির্দেশে যাদবপুর কৈবল্যধামে উৎসবের ব্যবস্থাদি হওয়ার পর ক্ষিতিবাবু প্রবীন ভক্তগণ সহ ঠাকুরকে আনতে আর্লষ্ট্রীটে কুঞ্জবাবুর বাড়ী গেলে ঠাকুর বললেন “আমি যামুনা”। ক্ষিতি বাবুর বাঁধভাঙা অশ্রুপাত ও মর্মবেদনা উপলব্ধি করে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁহার ব্যবহৃত কমলাদেবীর দেওয়া কেড্স পাদুকা যুগল এগিয়ে দিয়ে বললেন “এই খানা নিয়ে গৃহ প্রবেশ করেন, আমি সেই খানেই থাকুম এই বিশ্বাস রাইখেন। ১৯৩০ ইংরেজী ১০ই শ্রাবন ১৩৩৭ বাংলা শ্রীশ্রী ঠাকুরের নির্দেশে পাহাড়তলী কৈবল্যধামে কৈবল্যনাথের শ্রীপট বিগ্রহ রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। এইখানে কোনো পটের নির্দেশনা দিলেন না। ক্ষিতি বাবু একটি থালায় করে পাদুকা যুগল মাথায় করে ডা. জে.এম দাশগুপ্ত, অধ্যাপক ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক প্রমথ নাথ চক্রবর্তী, পরেশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, উপেন্দ্র নাথ সাহা, এডভোকেট শুভময় দত্ত, অধ্যাপক লোকেশ চন্দ্র চক্রবর্তী প্রকুখ প্রবীন ভক্তগন সহ পূজার আঙিনায় আসেন। এই ব্যবস্থায় ত্রেতা যুগে ভরতের পাদুকা গ্রহন মনে পড়ে।

ঠাকুর ভক্ত অক্ষয় কুমার মজুমদার কে জানালেন, “কলিতে বেদ নাই সুতরাং বিধিও নাই। কলিতে প্রয়োজন হইতেছে গুরু চরণে আত্মনিবেদন, আত্ম নিবেদন পূর্বক যাহা বোধ হইবে তাহাই বেদ এবং তদ্অনুযায়ী যাহা করণীয় মনে হইবে তাহাই বিধি” প্রথম দিকে কয়েকদিন ডাক্তার বাবু প্রদোষে সত্যনারায়ণ সেবা করেছিলেন। একদিন ধ্যানস্থ অবস্থায় উপলব্ধি করলেন খড়ম পায়ে হাটার শব্দ তুলসীমঞ্চে এসে স্তব্ধ। ধ্যান নেত্রে দেখলেন আলখাল্লা পরিহিত দাড়ি শোভিত অপূর্ব মূর্ত্তি তুলসী মঞ্চে উপবিষ্ট, গাড়ী পাঠিয়ে তৎক্ষনাৎ বাড়ীতে সযত্নে রক্ষিত চিত্রপট খানি আনালেন। ঠাকুর তখন বেলেঘাটায় ভক্ত প্রবর ডাঃ কৈলাস চন্দ্র মজুমদারের বাড়ীতে উপস্থিত ভক্তদের বললেন আজ যাদবপুরে সত্যনারায়ণের পট প্রতিষ্টা হইল।

আত্মা নির্লিপ্ত দ্রষ্টা সাক্ষীস্বরূপ। আত্মা প্রকৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রকৃতির চঞ্চলতাকে নিজস্ব মনে করে। নিজেকে সে ভুলে যায়। আর তখনই আসে ঘোরতর দুঃসময়। কল্পিত ভ্রান্ত আমিত্বের জালে জড়িয়ে মুক্ত স্বভাব আত্মা নিজেকে বদ্ধ বলে ভাবে। এই কল্পিত বদ্ধতা থেকে জীবন্মুক্তির আস্বাদন দিতেই জীবের উদ্ধারকল্পে শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ সত্যনারায়ণ রামঠাকুরের অবতরণ লীলা। তাঁর সহজ-সরল নির্লিপ্ত-অনাসক্ত-করুণাঘন জীবনশৈলী ত্রিতাপ দগ্ধ তাপিত জাড়িত মানুষের কাছে নিরাপদ আশ্রয়। শান্তির নীড়। নিজেকে জানবার জন্য যাঁদের হৃদয় ব্যাকুল, তাঁদের জন্য শ্রীশ্রী ঠাকুরের চিরন্তনী বাণী দিব্যজ্ঞানের উম্মুক্ত বাতায়ন। যে সকল ভক্তের জাগতিক সমস্ত বাসনা ফুরিয়েছে, তাঁদের জন্য নিত্যকালের পরমসম্পদ স্বরূপ শ্রীশ্রী ঠাকুরের যুগল পাদপদ্ম।

জীবনের প্রকৃত অর্থ খোঁজার পথ দেখিয়েছেন শ্রীশ্রী ঠাকুর। তাঁর অমূল্য শাশ্বত বেদবাণীতে উল্লিখিত শান্তির পথ লাভের যা যা উপায় বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হ’ল, সত্যব্রত, পতিব্রত, নিরুদ্বিগ্ন ভাব নিয়ে প্রারব্ধ ভোগ, নামাশ্রয়। কী অসাধারণ মনস্বত্ত্ব বিশ্লেষণ। শ্রীশ্রী ঠাকুর প্রকৃতিকে এতটাই নিবিড়ভাবে জেনেছেন যে, সেই প্রকৃতিকে বশে আনার সরলতম পদ্ধতি মানুষের কাছে বরদান স্বরূপ প্রদান করেছেন।

এখন শুধুই জীব কল্যাণ সাধন। ভগবত বিমুখ জীবের দশা দেখে ব্যথিত। কি ভাবে অসত্যের বন্ধন থেকে মুক্ত হবে জীব? কি ভাবে লাভ করবে পরম পুরুষার্থ? জীবকে স্বরূপ ও স্বভাবে প্রতিষ্ঠিত করাই যে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। সেই পরম সত্য প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি ঘরে ঘরে কাঙ্গালের বেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বলতেন নিত্যবস্তু বা স্বভাবের সঙ্গ না করলে দুঃখ এড়াবার উপায় নেই। ভগবানের নামের দাস হয়ে সংসারে থাকতে হয়। কর্ম্মের পুরস্কার ভূক্ত না থেকে অর্থাৎ কর্ম্মফলের আশা ত্যাগ করে নাম করলে সংসারের সমস্ত উৎপাত সহ্যকরা যায়। কামনা আর বাসনাই হলো সাংসারিক উৎপাতের কারণ।

সলতে আর তেলের যোগানেই দীপ জ্বলে, প্রদীপের আলো ছড়ায়। ভক্তদের প্রচেষ্টায় সমস্ত দেশে-দেশান্তরে শ্রীশ্রী ঠাকুরের প্রতিষ্ঠা ঘটবে আমরা দূর থেকে মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখব প্রচ্ছন্ন নারায়ণের লীলা আর বলব অপূর্ব দৃশ্যের দূরবর্তী সাক্ষী আমরা।

(শ্রীশ্রীঠাকুরকে জানুন- কৈবল্য ভুবন।)
See less

Joy Ram, Joy Gobinda
18/05/2026

Joy Ram, Joy Gobinda

Joy Ram
16/05/2026

Joy Ram

13/05/2026

কৈবল্যভুবনেত ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিক অনুষ্ঠানে, শ্রীশ্রীঠাকুর প্রসঙ্গ আলোচনা করছেন প্রকৌশলী শ্রী গৌতম প্রসাদ চৌধুরী।

#জয়রাম

13/05/2026

৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উপলক্ষে আয়োজিত আসরে প্রার্থনা সঙ্গীত পরিবেশন করছেন মীরা চৌধুরী।

Address

Flat 13C, House 27/1/B, Road 3, Shyamoli
Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kaibalya Bhuban posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Kaibalya Bhuban:

Share