ব্রহ্মসত্য

ব্রহ্মসত্য যোগ, ধ্যান, ভক্তি ও শাস্ত্রের আলোচনার মাধ্যমে আমরা সত্যের সন্ধান করি। সনাতন ধর্মের মহিমা ছড়িয়ে দিতে আমাদের সঙ্গী হোন

ঈশ্বর যা করেন, জীবের মঙ্গলের জন্যই করেন।আজ ওই দোকানে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় সত্যটা সামনে এসেছে। না হলে হয়তো নিরপ...
31/05/2026

ঈশ্বর যা করেন, জীবের মঙ্গলের জন্যই করেন।

আজ ওই দোকানে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় সত্যটা সামনে এসেছে। না হলে হয়তো নিরপরাধ মানুষটির বিরুদ্ধে আরও মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হতো, এমনকি তাঁর বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হতো।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, তিনি কি সত্যিই বেঁচে গেছেন?

দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে রাস্তায় ফেলে একজন নিরীহ মানুষকে যেভাবে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে, সেই দৃশ্য হৃদয় বিদারক। ভিডিওটি দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। এখনো সেই নির্মম দৃশ্য চোখের সামনে ভাসছে, ঘুমাতে পারছি না।

একটি সভ্য সমাজে কোনো মানুষের প্রতি এমন বর্বরতা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই—এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

একজন বৃদ্ধা হিন্দু মহিলা দোকানে মোবাইল দেখতে গেছেন। আর একটা যুবক তাঁকে প্রকাশ্যে বলছে —“হিন্দু থেকে মুসলিম হলে ১ লাখ টাক...
29/05/2026

একজন বৃদ্ধা হিন্দু মহিলা দোকানে মোবাইল দেখতে গেছেন। আর একটা যুবক তাঁকে প্রকাশ্যে বলছে —

“হিন্দু থেকে মুসলিম হলে ১ লাখ টাকা দিবো” এবং নানাভাবে হেনস্তা করছে।

এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।

এটা ধর্মীয় সংখ্যালঘুর উপর চরম অত্যাচার।

ছবিতে যে ছেলেটা দেখা যাচ্ছে, তার নাম হাসান। ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।

এক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনের কি ঘুম ভাঙবে? নাকি হিন্দুদের বেলায় কবি নিরব?

ওঁ দিব্যান লোকান স গচ্ছতুসিলেটে ক্বিন ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য নামের র‍্যাব ৯ এর স...
22/05/2026

ওঁ দিব্যান লোকান স গচ্ছতু

সিলেটে ক্বিন ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য নামের র‍্যাব ৯ এর সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদেশে যারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করেন তাদেরই জীবেনর নিরাপত্তা নেই!

৫ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হওয়া পূজা দাসের কথা মনে আছে??? আপনাদের......২০১৬ সালে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আলোচিত ৫ বছর বয়সী ...
22/05/2026

৫ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হওয়া পূজা দাসের কথা মনে আছে??? আপনাদের......

২০১৬ সালে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আলোচিত ৫ বছর বয়সী শিশু পূজা দাশ ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বর্বর ধর্ষণকারী সাইফুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে গত বছর জামিনে মুক্তি পেয়েছে!

পূজার বয়স বর্তমানে ১৪, পূজা আর তার পরিবার বয়ে বেড়াচ্ছে অভিশপ্ত জীবন!পুজা'র জননাঙ্গ কে*টে ধর্ষণের কারণে শিশুটির মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একাধিকবার অস্ত্রোপচার করেও সুস্থ হলো না, ক্ষত সারে নি সেদিনের অবোধ শিশুটির।
ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী এভাবে জামিন পায় ???

ইউনুস ক্ষমতা নেওয়ার পর পর বাংলাদেশে জ*ঙ্গি, ধ*র্ষক, হ"ত্যা মামলা সহ সব রকম অপরাধীদের মুক্তি দিয়ে দিয়েছে।

প্রতিটি নারীই দেবী......
22/05/2026

প্রতিটি নারীই দেবী......

ছবিটি ডাকরা কালী মন্দিরের। মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে যেখানে শত শত মানুষকে জ*/বাই করে হ*/ত্যা করেছিলো রজ্জব আলী ফকিরের নেত...
21/05/2026

ছবিটি ডাকরা কালী মন্দিরের। মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে যেখানে শত শত মানুষকে জ*/বাই করে হ*/ত্যা করেছিলো রজ্জব আলী ফকিরের নেতৃত্বে রা/জা/কা/রেরা।
যে ভ/য়াবহ ও পৈ/শাচিকতার গণহ//ত্যা ভুলে গেছে সবাই। প্রজন্মের জানা নেই আজ। রা/জা/কার দ্বারা সংগঠিত দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ গ/ণহ/ত্যা ছিলো ডাকরা গণহ//ত্যা।
ডাকরা মূলত বাগেরহাটের রামপালের পেড়িখালি ইউনিয়নের একটি গ্রাম।
মে মাসের ১১ তারিখ থেকে ডাকরা ও পেড়িখালি ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেশত্যা/গ করতে শুরু করলে ডাকরা গ্রামের কালীবাড়ির প্রধান সেবায়েত বাদলচন্দ্র চক্রবর্তী ভক্তদের এখনই যেতে নিষেধ করেন। এরপর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন ২২ মে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ভারতে যাওয়ার। ডাকরা গ্রামের কালীবাড়ি ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরম পূজনীয় স্থান এবং সেবায়েত বাদলচন্দ্র চক্রবর্তীকে সবাই ভীষণ শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন।
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ মের কয়েক দিন আগ থেকে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর অসংখ্য হিন্দু পরিবার ডাকরা কালীবাড়ির আশেপাশে মংলা নদী, মাদারতলা নদী ও কুমারখালী খালের তীরে শতাধিক নৌকায় অবস্থান নেয়। ২১ তারিখের মধ্যে ডাকরা কালীবাড়ি ও চারপাশে জায়গা হয়ে উঠে অনেকটা ছোট শরণার্/থী শি/বিরের মতো। ডাকরা গ্রামের ইনাম আলী শেখ, জোনাব আলী শেখ ও দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। বাঁশতলী গ্রামের শান্তি কমিটির সদস্য আফসার উদ্দিনও এ সময়ে পাকিস্তানি বা/হি/নী কোনো সমস্যা করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলো।
এ দিকে তারাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই মানুষদের হ/*ত্যার জন্য মেডিকেল ছাত্র লিয়াকত আলী গজনবীর মাধ্যমে বাগেরহাটের রা/জ/াকার কমান্ডার রজ্জব আলী ফকিরের কাছে একটি চিঠি পাঠায়।
২১ মে দুপুর ১টার দিকে রা/জা/কার রজ্জব আলী ফকিরের নেতৃত্বে একেএম ইউসুফ, সিরাজ মাস্টার, আকিজ উদ্দিন, ইসহাকসহ রা/জা/কারের একটি দল বড় দুটি ছিপওয়ালা নৌকায় ডাকরায় পৌঁছে। প্রতিটি নৌকায় ছিল ১৫ থেকে ২০ জন রা/জা/কার। রা/জা/কারদের প্রথম নৌকাটি কালীগঞ্জ বাজার অতিক্রম করে মাদারতলী খালের দিকে অগ্রসর হয়। দ্বিতীয় নৌকা কুমারখালী খাল বরাবর অগ্রসর হয় এবং তারপর মাদারতলী বরাবর চলে আসে।
দ্বিতীয় নৌকা থেকে রা*/জাকাররা নেমেই ভিড়ের মধ্যে নির্বিচারে গু*/লি চালাতে শুরু করে। ইতোমধ্যে প্রথম নৌকা থেকেও রা*জা/কাররা নিচে নেমে কালী মন্দিরের দিকে এগিয়ে ভিড়ের মধ্যে নির্বিচারে গু*/লি চালায়। এ সময় বৃষ্টির মতো দুদিক থেকে গু//লির শব্দ শুনে নৌকা ও তীরে অবস্থানরত নিরীহ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ছুটতে থাকেন। দুদিক থেকে গু*/লিবিদ্ধ হয়ে বহু মানুষ মারা যান। যারা গু*/লিবিদ্ধ হয়ে বেঁচে ছিলেন, তাদেরকে জ*/বা/ই করে হ*/ত্যা করে রা*জা/কারেরা।
অনেকে কালীবাড়িতে তাদের গুরুর কাছে হাজির হন। এ সময়ে রা*/জা/কারেরাও দুদিক থেকে গু*/লি চালাতে চালতে কালীবাড়িতে এসে হাজির হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত নারী ও পুরুষদের আলাদা করা হয়। এরপর আরও পুরুষ আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য কয়েকজন রা*জা/কার ঘরের ভেতরে ঢুকে শাড়ি পরা অবস্থায় কয়েকজন পুরুষকে খুঁজে পায়। তাদের টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে মন্দির চত্বরে লাইন ধরে ব্রা/শ/ফা/য়ার ও জ*/বাই করে হ*/ত্যা করে।
মাত্র দুই ঘন্টায় সংগঠিত এই গণহ*/ত্যায় শহীদ হয়েছিলেন প্রায় ৯০০ মানুষ। যদিও শহীদদের তালিকায় পাওয়া যায় ৬৪৬ জন নিরীহ ভক্ত ও গ্রামবাসীর নাম।
গণহ//ত্যা শেষে কয়েকজন তরুণীকে অ*/পহরণ করে রা*জা/কার কমান্ডার রজ্জব আলীর নৌকায় তুলে নেয় রা*/জাকারেরা। স্থানীয় রা*জা/কারদের সঙ্গে নিয়ে রজ্জব আলী ফকির বাগেরহাটে ফিরে যায়।
ছবিটি ডাকরা কালী মন্দিরের‌। এই মন্দির চত্বরেই শত শত নিরীহ ভক্ত ও গ্রামবাসীকে জ*/বাই করেছিলো রজ্জব আলী ফকির ও রা*/জাক/রেরা।
আজ ২১ মে, ডাকরা গণহ*/ত্যা দিবস। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই শহীদদের প্রতি। 🙏

সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র।

#মুক্তিযুদ্ধ #ডাকরা #বাদুছস #গিরিধরদে #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর

"আজ ২০ মে, চুকনগর গণহত্যা দিবস"ভদ্রা নদীর জল রক্তে লাল হয়েছিলো সেইদিন...❗❗❗চুকনগর গণহত্যা ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চল...
20/05/2026

"আজ ২০ মে, চুকনগর গণহত্যা দিবস"
ভদ্রা নদীর জল রক্তে লাল হয়েছিলো সেইদিন...❗❗❗

চুকনগর গণহত্যা ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত বাংলাদেশের অন্যতম ভয়াবহ ও নির্মম গণহত্যা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশীয় রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় ২০ মে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়।
ভারতীয় সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে চুকনগরে এসে জড়ো হন। ভদ্রা নদী পাড়ি দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।
১৯৭১ সালের ২০ মে সকাল প্রায় ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দুটি দল একটি ট্রাক ও একটি জিপে করে চুকনগরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে পাতখোলা বাজার এলাকায় গুলি চালানো শুরু করে এবং পরে চুকনগর বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। “কাউতলা” এলাকায় পৌঁছে নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করা হয়। টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে এই বর্বর হত্যাযজ্ঞ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার বা তারও বেশি। অসংখ্য লাশ ভদ্রা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, আর পরে স্থানীয় মানুষদের বাধ্য করা হয় অবশিষ্ট মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দিতে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে শহীদদের স্মরণে চুকনগরে নির্মিত হয়েছে “চুকনগর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ” যা আজও মুক্তিযুদ্ধের এক রক্তাক্ত ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সনাতন ধর্মশাস্ত্রে, বিশেষত মহাকাব্য মহাভারতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেবল একজন অবতার বা আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবেই আবির্ভূত হননি, ...
19/05/2026

সনাতন ধর্মশাস্ত্রে, বিশেষত মহাকাব্য মহাভারতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেবল একজন অবতার বা আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবেই আবির্ভূত হননি, বরং তিনি ছিলেন প্রাচীন ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ কূটনীতিবিদ, রাষ্ট্রনায়ক এবং এক অসামান্য পররাষ্ট্র নীতির প্রণেতা। তাঁর পররাষ্ট্র নীতির মূল ভিত্তি ছিল ধর্মের সংস্থাপন বা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। সাম্রাজ্য বিস্তার তাঁর লক্ষ্য ছিল না; তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন এক বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে ন্যায় ও প্রজার কল্যাণ সুনিশ্চিত হয়।

প্রাচীন ভারতীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল স্তম্ভ চতুরঙ্গ নীতি বা সাম, দান, ভেদ ও দণ্ড এর নিখুঁত ও বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় শ্রীকৃষ্ণের রাজনৈতিক পদক্ষেপে। মহাভারতের উদ্যোগ পর্ব (যেখানে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি ও শান্তি স্থাপনের চেষ্টা বর্ণিত হয়েছে) হলো শ্রীকৃষ্ণের পররাষ্ট্র নীতির শ্রেষ্ঠ দলিল।

শ্রীকৃষ্ণের পররাষ্ট্র নীতির প্রথম ও প্রধান ধাপ ছিল যুদ্ধ এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে যুদ্ধ হলো সর্বশেষ বিকল্প, কারণ এতে মানবজাতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

মহাভারতের উদ্যোগ পর্বে পাণ্ডবদের তরফ থেকে শান্তিদূত হিসেবে শ্রীকৃষ্ণ হস্তিনাপুরে কুরুসভায় যান। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করা।

কুরুসভায় ধৃতরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে শ্রীকৃষ্ণ শান্তির প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন

শমং কুরুষ্ব রাজেন্দ্র পাণ্ডবৈঃ সহ কৌরব।
তথা চেদং কুরূণাং বৈ পাণ্ডবানাং চ ভারত।।
শর্ম স্যাদমমিত্রঘ্ন সর্বেষাং চ মহীক্ষিতাম্।
(মহাভারত, উদ্যোগ পর্ব, ৯৫/১৬-১৭)

অর্থ: হে রাজেন্দ্র! পাণ্ডবদের সাথে আপনি শান্তি স্থাপন করুন। হে ভারত! যদি আপনি তা করেন, তবে কুরু, পাণ্ডব এবং পৃথিবীর সকল রাজন্যবর্গের মঙ্গল সাধিত হবে।

এখানে স্পষ্ট দেখা যায়, শ্রীকৃষ্ণ সমগ্র ভূ-মণ্ডল বা মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই শান্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

পররাষ্ট্র নীতিতে দান বলতে বোঝায় কিছু সুবিধা বা ছাড় দিয়ে বড় কোনো বিপদ এড়ানো। পাণ্ডবরা ইন্দ্রপ্রস্থের ন্যায্য অধিকারী এবং সমগ্র অর্ধ রাজ্যের দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও, শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের বুঝিয়েছিলেন বড় যুদ্ধ এড়াতে ন্যূনতম শর্তে রাজি হতে।

শ্রীকৃষ্ণ কুরুসভায় প্রস্তাব দেন যে, কৌরবরা যদি পাণ্ডবদের কেবল ৫টি গ্রাম (ইন্দ্রপ্রস্থ, বৃকপ্রস্থ, জয়ন্ত, বারণাবত ও আরেকটি) প্রদান করে, তবে পাণ্ডবরা সন্তুষ্ট থাকবেন এবং কোনো যুদ্ধ হবে না। এটি ছিল শ্রীকৃষ্ণের চরম নমনীয়তা ও ছাড় দেওয়ার নীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যার উদ্দেশ্য ছিল রক্তপাত এড়ানো।

যখন আলোচনা (সাম) এবং আপসের (দান) মাধ্যমে দুর্যোধন সন্ধি করতে রাজি হলেন না ("সূচ্যগ্র মেদিনীও বিনা যুদ্ধে দিব না"), তখন শ্রীকৃষ্ণ ভেদ বা বিভাজন নীতির আশ্রয় নেন। শত্রুপক্ষের শক্তি দুর্বল করার জন্য তিনি তাদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোকে ব্যবহার করেন।

কৌরব পক্ষের অন্যতম প্রধান সেনাপতি ও যোদ্ধা ছিলেন সূর্যপুত্র কর্ণ। শ্রীকৃষ্ণ জানতেন কর্ণ পাণ্ডবদের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। তিনি কর্ণের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করেন।

শ্রীকৃষ্ণ কর্ণকে তাঁর জন্মবৃত্তান্ত জানিয়ে বলেন যে তিনি কুন্তীর প্রথম সন্তান এবং তাঁকে পাণ্ডবদের পক্ষে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান।

ত্বং বৈ মাত্রা সমুৎসৃষ্টো রাধেয় ইতি মন্যসে।
পাণ্ডবানাং ভবান্ জ্যেষ্ঠো ভ্রাতা ভরতসত্তম।।
(মহাভারত, উদ্যোগ পর্ব, ১৪০/৬)

অর্থ: তুমি মনে করো তুমি রাধার পুত্র, কিন্তু কুন্তী তোমাকে জন্ম দিয়েছেন। হে ভরতশ্রেষ্ঠ! তুমি পাণ্ডবদের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। তুমি পাণ্ডবপক্ষে এলে যুধিষ্ঠির তোমাকে হস্তিনাপুরের সিংহাসন ছেড়ে দেবেন।

এটি ছিল একটি দুর্ধর্ষ মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাল। যদিও কর্ণ বন্ধুত্বের খাতিরে দুর্যোধনকে ত্যাগ করেননি, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের এই পদক্ষেপে কর্ণের মনে তাঁর ভাইদের প্রতি এক অন্তর্নিহিত দুর্বলতা তৈরি হয়, যা কৌরবদের সামরিক অবস্থানকে পরোক্ষভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল।

যখন কূটনীতির সকল শান্তিকামী পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন শ্রীকৃষ্ণের পররাষ্ট্র নীতির চূড়ান্ত রূপ হলো দণ্ড বা সামরিক শক্তি প্রয়োগ।

উদ্যোগ পর্বে কুরুসভায় দুর্যোধন যখন শ্রীকৃষ্ণের শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে উল্টো তাঁকেই বন্দী করার নির্দেশ দেন, তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বিশ্বরূপ দর্শন করান। এটি ছিল শত্রুকে নিজের চরম ক্ষমতা প্রদর্শন , যাতে শত্রু ভয় পেয়ে পিছু হটে। কিন্তু দুর্যোধন তাতেও নিবৃত্ত না হলে, শ্রীকৃষ্ণ ধর্মযুদ্ধের নির্দেশ দেন।

যুদ্ধ যে অনিবার্য এবং দুষ্টের দমনের জন্য দণ্ড প্রয়োগ যে অবশ্য কর্তব্য, তা শ্রীকৃষ্ণ ভগবদগীতায় স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন

পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।
(ভগবদগীতা ৪/৮)

অর্থ: সাধুদের রক্ষা করার জন্য, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম (ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলার) পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।

এখানে বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম হলো শ্রীকৃষ্ণের পররাষ্ট্র নীতির সেই দিক, যেখানে অন্যায্য ও স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পররাষ্ট্র নীতির আরেকটি বিস্ময়কর দিক ছিল মিত্রতা ও জোট গঠন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে যখন দুর্যোধন ও অর্জুন উভয়েই শ্রীকৃষ্ণের কাছে সাহায্য চাইতে দ্বারকায় যান, তখন শ্রীকৃষ্ণ এক অসাধারণ নিরপেক্ষতা ও সামরিক কূটনীতির পরিচয় দেন।

তিনি একদিকে তাঁর দুর্ধর্ষ নারায়ণী সেনা প্রদান করেন দুর্যোধনকে এবং অন্যদিকে নিজে অস্ত্রহীন অবস্থায় অর্জুনের রথের সারথি হওয়ার প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে তিনি যাদবদের সরাসরি যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন, আবার নিজের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব দিয়ে পাণ্ডবদের জয় সুনিশ্চিত করেন।

শ্রী কৃষ্ণের পররাষ্ট্র নীতি কোনো আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদ ছিল না। তাঁর নীতির মূল দর্শন একটি শ্লোকেই নিহিত

"যতো ধর্মস্ততো কৃষ্ণো যতো কৃষ্ণস্ততো জয়ঃ"
(যেখানে ধর্ম, সেখানে কৃষ্ণ; আর যেখানে কৃষ্ণ, সেখানেই জয়)

তাঁর পররাষ্ট্র নীতি আমাদের শেখায় যে, রাষ্ট্রকে সর্বদা প্রথমে শান্তির চেষ্টা করতে হবে (সাম ও দান), প্রয়োজন হলে চতুর কূটনীতির আশ্রয় নিতে হবে (ভেদ), এবং দেশের সার্বভৌমিকতা, ন্যায় ও ধর্ম রক্ষার্থে চরম শক্তি প্রয়োগের (দণ্ড) জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সনাতন শাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণকে তাই একজন নিখুঁত, বাস্তববাদী ও পরম ধার্মিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহ লেখা এবং © ব্রহ্মসত্য

মহাভারত এবং ভগবদগীতার আলোকে শ্রীকৃষ্ণের রাষ্ট্রনীতি  ছিল গভীর বাস্তববাদী, কল্যাণমুখী এবং ধর্মভিত্তিক। তাঁর রাষ্ট্রনীতি ন...
18/05/2026

মহাভারত এবং ভগবদগীতার আলোকে শ্রীকৃষ্ণের রাষ্ট্রনীতি ছিল গভীর বাস্তববাদী, কল্যাণমুখী এবং ধর্মভিত্তিক। তাঁর রাষ্ট্রনীতি নিছক ক্ষমতা দখলের জন্য ছিল না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার এবং শৃঙ্খলার (ধর্ম) প্রতিষ্ঠাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। শ্রীকৃষ্ণের রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তাধারায় চরম আদর্শবাদ এবং কঠোর বাস্তববাদের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়।

শ্রীকৃষ্ণের মতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হলো ধর্ম বা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রধান কাজ হলো সমাজ থেকে অন্যায় দূর করে সজ্জনদের রক্ষা করা।

(ভগবদগীতা ৪.৮)

পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।
অর্থ: সাধুদের (সৎ মানুষের) রক্ষা করার জন্য, দুষ্কৃতকারীদের (অন্যায়কারীদের) বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম (ন্যায়বিচার) সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।

একজন আদর্শ শাসকের মূল দায়িত্ব হলো অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদান এবং নিরীহ প্রজাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না।

মহাভারতের উদ্যোগ পর্ব এ শ্রীকৃষ্ণের কূটনৈতিক দক্ষতার চরম প্রকাশ ঘটে। তিনি রাষ্ট্রীয় বিরোধ মেটাতে প্রাচীন ভারতের চতুর্বিধ নীতির (চাণক্য নীতিরও পূর্বসূরি) নিখুঁত প্রয়োগ করেছিলেন।

কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে যুদ্ধ এড়াতে তিনি শান্তির দূত হয়ে হস্তিনাপুরে যান এবং ধৃতরাষ্ট্র ও দুর্যোধনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

শান্তির স্বার্থে পাণ্ডবদের ন্যায্য রাজ্যের বদলে তিনি মাত্র ৫টি গ্রাম দাবি করেন।

দুর্যোধন যখন কোনোভাবেই রাজি হলেন না, তখন কৃষ্ণ কর্ণকে তাঁর প্রকৃত জন্মবৃত্তান্ত (তিনি যে কুন্তীর সন্তান) জানিয়ে কৌরব শিবিরে বিভাজন বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন।

যখন প্রথম তিনটি নীতি ব্যর্থ হয়, তখন তিনি ধর্মযুদ্ধের (কুরুক্ষেত্র) নির্দেশ দেন। অর্থাৎ, যুদ্ধ কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য যখন শান্তির সমস্ত পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

শ্রীকৃষ্ণের মতে শাসকের ক্ষমতা ভোগ করার জন্য নয়, বরং লোকসংগ্রহ বা বৃহত্তর জনকল্যাণের জন্য। শাসককে এমনভাবে কাজ করতে হবে যা সাধারণ মানুষের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

(ভগবদগীতা ৩.২০)

কর্মণৈব হি সংসিন্ধিমাস্থিত জনকাদয়ঃ।
লোকসংগ্রহমেবাপি সংপশ্যন্ কর্তুমর্হসি।।
অর্থ: রাজা জনক আদি রাজর্ষিরা নিষ্কাম কর্মের দ্বারাই সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। অতএব, সাধারণ মানুষের কল্যাণের (লোকসংগ্রহ) দিকে দৃষ্টি রেখে তোমারও কর্ম করা উচিত।

রাষ্ট্রনায়ককে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হবে। শাসকের আচরণ প্রজাদের চরিত্র গঠন করে
(গীতা ৩.২১: যদ্ যদাচরতি শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ)।

শ্রীকৃষ্ণের রাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বিতর্কিত অথচ সবচেয়ে বাস্তবসম্মত দিক হলো তাঁর আপদ্ধর্ম (জরুরি অবস্থার নীতি)। মহাভারতের যুদ্ধে ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ বা জয়দ্রথকে বধ করার সময় কৃষ্ণ প্রথাগত যুদ্ধের নিয়ম ভাঙতে কুণ্ঠাবোধ করেননি।

শ্রীকৃষ্ণের মতে, বৃহত্তর কল্যাণ বা ধর্মের সুরক্ষার জন্য কখনো কখনো ক্ষুদ্রতর নীতি বিসর্জন দেওয়া অন্যায় নয়। রাষ্ট্র যখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়ে বা যখন শত্রুরা অন্যায়ের আশ্রয় নেয়, তখন আদর্শবাদী হয়ে বসে থাকলে রাষ্ট্রের পতন নিশ্চিত। তাই রাষ্ট্রের সুরক্ষায় কৌশল বা কূটনীতির আশ্রয় নেওয়া শাসকের কর্তব্য। এটি নিকোলো মেকিয়াভেলির দর্শনের মতো মনে হলেও, মেকিয়াভেলির দর্শন ছিল ক্ষমতাকেন্দ্রিক, আর কৃষ্ণের দর্শন ছিল ধর্ম বা ন্যায়কেন্দ্রিক।

একজন রাষ্ট্রনায়ককে কেমন হতে হবে, তার সবচেয়ে বড় রূপরেখা কৃষ্ণ দিয়েছেন নিষ্কাম কর্মতত্ত্বে। শাসক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, কিন্তু ক্ষমতার প্রতি মোহগ্রস্ত হবেন না।

(ভগবদগীতা ২.৪৭)

কর্মণ্যবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোহস্ত্বকর্মণি।।
অর্থ: কর্মেই তোমার অধিকার, কর্মফলে কখনও নয়। তুমি কর্মফলের কারণ হয়ো না, এবং কর্মত্যাগেও যেন তোমার আসক্তি না হয়।

শাসক রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবেন তাঁর কর্তব্য হিসেবে। ফলাফল (জয়-পরাজয়, খ্যাতি-অখ্যাতি) নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হলে বা ব্যক্তিগত লাভের আশায় রাষ্ট্র পরিচালনা করলে তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।

শ্রীকৃষ্ণের রাষ্ট্রনীতি হলো লক্ষ্য হবে নৈতিক (ধর্ম সংস্থাপন), কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পদ্ধতি হবে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং কৌশলগত (কূটনীতি)। শান্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না। প্রয়োজনে বৃহত্তর স্বার্থে কঠোরতম সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তবে তা কখনোই ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং সমাজের সার্বিক কল্যাণের (লোকসংগ্রহ) জন্য।
তথ্য সংগ্রহ লেখা এবং © ব্রহ্মসত্য

মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ কেবল অর্জুনের রথচালক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মূল নিয়ন্ত্রক, শ্রেষ্ঠ কূটনীতিবিদ এবং ...
17/05/2026

মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ কেবল অর্জুনের রথচালক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মূল নিয়ন্ত্রক, শ্রেষ্ঠ কূটনীতিবিদ এবং ধর্মসংস্থাপক। শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধনীতি সাধারণ কোনো সামরিক কৌশল ছিল না, বরং এটি ছিল দর্শন, ন্যায়বিচার এবং ধর্ম কে রক্ষা করার এক চূড়ান্ত প্রায়োগিক রূপ।

শ্রীকৃষ্ণের মতে, যুদ্ধ কখনোই প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে না। ধ্বংস এড়ানোর জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন।

(মহাভারত, উদ্যোগ পর্ব)
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের শান্তির দূত (শান্তিদূত) হিসেবে হস্তিনাপুরে যান। তিনি কৌরবদের প্রস্তাব দেন যে, পাণ্ডবদের পুরো রাজ্য ফিরিয়ে না দিলেও নিদেনপক্ষে পাঁচটি গ্রাম যেন দেওয়া হয়।
অহিংসা ও শান্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। কিন্তু যখন দুর্যোধন বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী (সূঁচের অগ্রভাগের সমপরিমাণ জমিও দেব না) বলে অহংকার দেখান, তখন শ্রীকৃষ্ণ প্রমাণ করেন যে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার চেয়ে যুদ্ধই একমাত্র ধর্মীয় কর্তব্য।

যখন যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখন ভয় বা মোহের বশবর্তী হয়ে তা থেকে পিছিয়ে আসাকে শ্রীকৃষ্ণ কাপুরুষতা ও অধর্ম বলে আখ্যায়িত করেছেন।

(শ্রীমদভগবদ্গীতা ২য় অধ্যায়, শ্লোক ৩১)

স্বধর্মমপি চাবেক্ষ্য ন বিকম্পিতুমর্হসি।
ধৰ্ম্যাদ্ধি যুদ্ধাচ্ছ্রেয়োহন্যৎ ক্ষত্রিয়স্য ন বিদ্যতে॥

অর্থ: নিজের ক্ষত্রিয় ধর্মের কথা বিবেচনা করেও তোমার (অর্জুনের) ভয় পাওয়া উচিত নয়। কারণ, ধর্মযুদ্ধ অপেক্ষা ক্ষত্রিয়ের পক্ষে মঙ্গলজনক আর কোনো কাজ নেই।
কর্তব্যের খাতিরে আপনজনদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে হলেও, ন্যায়ের স্বার্থে তা করা উচিত।

শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধনীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ দর্শন হলো নিষ্কাম কর্ম। যুদ্ধে জয় বা পরাজয়, লাভ বা ক্ষতি এসব নিয়ে চিন্তা না করে কেবল কর্তব্য হিসেবে যুদ্ধ করার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন।

(শ্রীমদভগবদ্গীতা ২য় অধ্যায়, শ্লোক ৩৮)
সুখদুঃখে সমে কৃত্বা লাভালাভৌ জয়াজয়ৌ।
ততো যুদ্ধায় যুজ্যস্ব নৈবং পাপমবাপ্স্যসি॥

অর্থ: সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি এবং জয়-পরাজয়কে সমান জ্ঞান করে তুমি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। এইভাবে যুদ্ধ করলে তুমি কোনো পাপভাগী হবে না।

আবেগ, রাগ বা প্রতিশোধস্পৃহা থেকে নয়, বরং সম্পূর্ণ নির্লিপ্তভাবে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অস্ত্র ধারণ করা।

শ্রীকৃষ্ণের মতে, যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য রাজ্য জয় বা ক্ষমতা দখল নয়, বরং সমাজ থেকে পাপ ও অন্যায় দূর করে ধর্মের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

(শ্রীমদভগবদ্গীতা ৪র্থ অধ্যায়, শ্লোক ৭ ও ৮)

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ॥
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে ॥

অর্থ: হে ভারত, যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখনই আমি নিজেকে প্রকাশ করি। সাধুদের রক্ষা, দুর্বৃত্তদের বিনাশ এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।

দুর্বৃত্তদের বিনাশ (কৌরব ও তাদের অহংকারী মিত্ররা) এবং সাধুদের (পাণ্ডব) রক্ষার জন্য যুদ্ধ একটি পবিত্র যজ্ঞ।

শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধনীতির সবচেয়ে বিতর্কিত অথচ সবচেয়ে বাস্তবসম্মত দিক হলো বৃহত্তর ন্যায়ের স্বার্থে কখনো কখনো ক্ষুদ্র নিয়ম বা প্রচলিত যুদ্ধনীতি ভঙ্গ করা। কৌরবরা যখন বারবার ছলনা ও অন্যায়ের আশ্রয় নিয়েছিল, তখন শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের আদর্শবাদিতার ফাঁদে আটকে মরতে দেননি।

(মহাভারতের বিভিন্ন পর্বে এর প্রমাণ পাওয়া যায়)

পিতামহ ভীষ্মকে পরাজিত করা অসম্ভব ছিল। শ্রীকৃষ্ণ শিখণ্ডীকে (যিনি পূর্বে নারী ছিলেন) অর্জুনের রথের সামনে রাখার নির্দেশ দেন, কারণ ভীষ্ম কোনো নারীর ওপর অস্ত্র তুলবেন না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। এই সুযোগে অর্জুন ভীষ্মকে শরশয্যায় শায়িত করেন।

দ্রোণাচার্যকে নিরস্ত্র করতে শ্রীকৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে দিয়ে "অশ্বত্থামা হত, ইতি গজ" (অশ্বত্থামা নামক হাতির মৃত্যু হয়েছে) বলা করান। নিজের পুত্রের মৃত্যুর মিথ্যা খবরে দ্রোণাচার্য অস্ত্র ত্যাগ করলে ধৃষ্টদ্যুম্ন তাঁর শিরশ্ছেদ করেন।

কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে গেলে তিনি যখন তা তোলার জন্য নিরস্ত্র অবস্থায় নিচে নামেন, তখন তিনি অর্জুনের কাছে যুদ্ধনীতি স্মরণ করান। শ্রীকৃষ্ণ তখন অর্জুনকে নির্দেশ দেন তীর নিক্ষেপ করতে। শ্রীকৃষ্ণ কর্ণকে স্মরণ করিয়ে দেন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ, শকুনি মামার পাশা খেলা এবং নিরস্ত্র অভিমন্যুকে সপ্ত মহারথী মিলে অন্যায়ভাবে হত্যার সময় তাঁর (কর্ণের) ধর্ম কোথায় ছিল?

গদাযুদ্ধের নিয়ম হলো নাভির নিচে আঘাত করা যাবে না। কিন্তু ভীম দুর্যোধনকে পরাজিত করতে পারছিলেন না। তখন শ্রীকৃষ্ণ ভীমকে তাঁর প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে ঊরুতে আঘাত করার ইশারা করেন।

যে শত্রুরা নিজেরা কখনোই ধর্ম বা নিয়মের তোয়াক্কা করেনি, তাদের সাথে অন্ধভাবে নিয়ম মেনে যুদ্ধ করা বোকামি। অধর্মকে পরাজিত করার জন্য যদি কূটকৌশলের প্রয়োজন হয়, তবে বৃহত্তর ধর্ম রক্ষার স্বার্থে তা ন্যায়সঙ্গত।

শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধনীতি কেবল পেশীশক্তি বা অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, এটি হলো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, কূটনীতি এবং সর্বোচ্চ দর্শনের সংমিশ্রণ। তিনি শিখিয়েছেন যে, শান্তির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা উচিত, কিন্তু যখন অন্যায় সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন আসক্তিহীনভাবে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত ধর্ম। মহাভারতের মূল কথা "যতো ধর্মস্ততো জয়ঃ" (যেখানে ধর্ম, সেখানেই জয়) শ্রীকৃষ্ণের এই যুদ্ধনীতির মাধ্যমেই কুরুক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

তথ্য সংগ্রহ লেখা এবং © ব্রহ্মসত্য

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ব্রহ্মসত্য posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share