24/08/2026
ঈমানী সফর: সোনারগাঁও (পর্ব ১/৩)
আলহামদুলিল্লাহ Youth Intifada Muhammadpur এর উদ্দোগে বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও ও এর আশপাশের ইসলামী নিদর্শন দেখার সফর সম্পন্ন হয়েছে। ৫৭ জনের কাফেলায় জামি'আ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর, এর মিশকাত জামাতের ২০ জন তলীবুল ইলম ছিলেন। প্রাণবন্ত এই সফরে মাদ্রাসা ও জেনারেল শিক্ষার দুই ধারার ভাইদের মধ্যে এই দ্বীনি ভাতৃত্ব ইন শা আল্লাহ আরও মজবুত হবে। সারা দেশে অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হবে এই সফর ইন শা আল্লাহ।
৩টি জলদূর্গ ছিল সফর তালিকায়। আসুন জানি এই বিষয়ে।
১৬৬০ সাল। মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের উতপাতে বাংলার জনজীবন আতঙ্কগ্রস্ত। বাদশাহ আওরঙ্গজেব রহ এর বাংলায় নিযুক্ত শুবাহদার মীর জুমলা পদক্ষেপ নেন। গড়ে তুলেন ৩টি জলদুর্গের শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পারে নারায়ণগঞ্জ এ *হাজীগঞ্জ দুর্গ* আর পূর্ব পারে সোনারগাঁওয়ে *সোনাকান্দা দুর্গ*। আর জলপথে মেঘনা নদী থেকে ঢাকার প্রবেশ মুখে ইছামতী নদীর পশ্চিম পারে *ইদ্রাকপুর দুর্গ*। মোগল আমলে পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের হাত থেকে তৎকালীন রাজধানী ঢাকাকে রক্ষা করার জন্য কৌশলগত ত্রিভুজ জলদুর্গ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Triangle of Waterforts) গড়ে তোলা হয়েছিল। জলদস্যুদের জাহাজ প্রবেশ মাত্রই দুর্গের বড় কামানের গোলার নিখুত আঘাতে ধ্বংস হবে। রক্ষা পাবে বাংলার মানুষ।
বর্তমানে নদী দূরে সড়ে গেছে, মগ, পর্তুগিজরা নেই, নেই সেই কামানের গর্জন। দূর্গ ৩টির আগের রুপ নেই। কিন্তু এগুলো সানান্য ইট পাথরের কিছু পুরাতন নান্দনিক অবকাঠামো নয়। এগুলো আমাদের জমিনে ইসলামের ইতিহাস, প্রতিরক্ষার ইতিহাস। তারা বাংলার মানুষকে রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ না নিলে, আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়ে যেত। এই জমিন থেকে ইসলামও বিলিন হয়ে যেত।
এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরই ১৬৬৫ সালে শায়েস্তা খানের আমলে চট্রগ্রাম বিজয় করে বিশাল নৌ ও স্থল বাহিনী নিয়ে। মগরা পরাজিত হয়, পালিয়ে যায়। মগের মুলুক চট্টগ্রাম নতুন নাম পায় ইসলামাবাদ। এই বিজয়েরও প্রথম ধাপ ছিল এই ৩টি দুর্গ।