দ্বীনি প্লাটফর্ম Dini Platform

দ্বীনি প্লাটফর্ম Dini Platform আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা ও ক?

12/01/2025

যে নারী বোরকা পরেও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
ভাবে, আমাকে দেখতে সুন্দর লাগছে তো! বাইরে গেলে আমাকে ভালো লাগবে তো! সে এখনো বেপর্দাই রয়ে গেল।

আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের বাড়ির দীনিয়া মাদ্রাসার (দারুসসুন্নাত দীনিয়া মাদ্রাসা, কাশিয়াগাড়ী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম) নির্মা...
24/12/2023

আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের বাড়ির দীনিয়া মাদ্রাসার (দারুসসুন্নাত দীনিয়া মাদ্রাসা, কাশিয়াগাড়ী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম) নির্মাণ কাজ চলছে।
প্রচণ্ড শীতে ছাত্রদের কষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় মেঝে টাইলস করা প্রয়োজন। জরুরী ভিত্তিতে ১৩০×১৮ ফিট রুমের জন্য টাইলস একান্ত প্রয়োজন। তাই আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।
✓যোগাযোগ: আবদুল্লাহ তাহির -০১৭১৮০২০৬১০(বিকাশ পার্সোনাল),
কাসেম বিল্লাহ, ০১৭২৯৯৩৮৩৯৪ (বিকাশ পার্সোনাল)

11/03/2022

■▪পবিত্র শা'বান মাসের বিশেষ পোস্ট নং-০৪!▪■
■■ পবিত্র শব-ই বারাআতঃ একটি পর্যালোচনা!!
************************************************
■■ আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় হাবীব রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামকে খুশি করার জন্য উম্মতে মুহাম্মাদি সাল্লাল্লাহু আ'লাইহিস সালামকে বিশেষ কিছু দিন, সময়, রাত ও মাস উপহার হিসেবে দান করেছেন। যা দ্বারা কম সময়ে অধিক পরিমান সাওয়াব লাভ করা যাবে!

■▪সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শব-ই বারাআত বা লাইলাতুল বারাআত। আল্লাহ পাক এ রজনীতে তাঁর বিশেষ রহমত দ্বারা মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন।

■▪হাদীস শরীফে এ রাতকে "লাইলাতুন নিসফে মিন শা’বান" বলা হয়েছে।" নিসফে শা’বান রাতের ভিত্তি ও ইবাদত করা কুরআন এবং সূন্নাহর দৃষ্টিতে কতটুকু গ্রহনযোগ্য বা আদৌ এর কোন শরয়ী ভিত্তি আছে কিনা তা আজ সে বিষয়ে আমরা জানব ইন শা আল্লাহ!

■●■ "শব-ই বারাআত" শব্দটি ফার্সি শব্দ। যার অর্থ হলোঃ মুক্তির রাত, পরিত্রাণের রাত। প্রসঙ্গতঃ একটি কথা উল্যেখ্য যে, আমাদের দেশের কিছু লোক যারা শব-ই বারাআতকে মানতে চান না তারা সচরাচর যে কথাটি বলে বেড়ায় তা হলো, শব-ই বারাআত নামক কোন কিছু কুরআন ও হাদীসে নাই। যা নিতান্তই তাদের জাহালাতপূর্ন কথা!

■▪এ কথা সু-স্পষ্ট যে কুরআন ও হাদীস আরবী ভাষায় আমাদের কাছে রেওয়েত হয়েছে তাই ফার্সি কোন শব্দ না আসাই যুক্তিযুক্ত। যেমনটা সালাত, সাওমকে আমরা নামাজ ও রোজা বলি। তাই বলে কি একথা বলার সুযোগ আছে যে কুরআন ও হাদীসে কোথাও নামাজ-রোজা নাই! তাই তা করা যাবে না!

■▪যদি কেউ এমন কথা বলে তাহলে ওই ব্যাক্তির ইমান হারা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, আমাদের এই উপমহাদেশে সালাত নামাজ হিসেবে মাশহুর হওয়ায় তা নামাযের পরিভাষা হিসেবে গন্য হয়েছে।

■▪একই ভাবে শব-ই বারাইতকে কুরআনের ভাষায় "লাইলাতুম মুবারাকা" (যদিও মুফাসসীরগণের মাঝে ইখতেলাফ রয়েছে, তবে অধিকাংশের মত এটাই) এবং হাদীসের ভাষায় "লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান" বলেই উল্যেখ করা হয়েছে।

■▪এ রাতের আরো অসংখ্য নাম তাফসীরের কিতাব সমূহে(অসংখ্য এবং অগনিত) নাম এসেছে।
যেমনঃ
●● তাফসীরে কাশশাফে এসেছেঃ
ولها أربعة أسماء : الليلة المباركة ، وليلة البراءة ، وليلة الصكّ ، وليلة الرحمة . وقيل في تسميتها : ليلة البراءة والصكّ : أن البندار إذا استوفى الخراج من أهله كتب لهم البراءة ، كذلك الله عز وجل يكتب لعباده المؤمنين البراءة في هذه الليلة .
-------অর্থাৎঃ এ রাতের চারটি নাম রয়েছে। সেগুলো হলোঃ ▪লাইলাতুম মুবারাকা, ▪লাইলাতুল বারাআত, ▪লাইলাতুস সাক এবং ▪লাইলাতুর রাহমাহ।

●▪বর্ণিত আছে লাইলাতুল বারাআত ও সাক নামকরণের কারণ হলোঃ কর আদায় কারী যেমনি করদাতা থেকে কর আদায় করে তাকে মুক্তিনামা লিখে দেন। ঠিক তেমনি আল্লাহ পাক তার মূমিন বান্দাদেরকে মুক্তিনামা লিখে দেন। সুবহানাল্লাহ
---- তাফসীরে কাশশাফ পৃষ্ঠা নং ২৭২

●●▪মোট কথাঃ শব-ই বারাআতকে পবিত্র আল- কুরআনে লাইলাতুম মুবারাকা ও হাদীসে লাইলাতুল নিসফে মিন শা’বান নামে বর্ণিত হয়েছে।

●▪আর আমাদের নিকট তা বরকতময় রজনী বা শব-ই বারাআত নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

●●▪অতএব নামকরণ নিয়ে দ্বন্ধ করে প্রতিষ্ঠিত ও সূন্নাত আমলকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই!!

■●■ শব-ই বারাআত কি?
শব-ই বারাআত হলো মুসলমানদের জন্য আল্লাহর দেয়া সর্বশ্রেষ্ঠ দান সমূহের অন্যতম একটি। এ রাতে আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের জীবন-মৃত্যু ও অতিশয় প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অথাৎঃ বান্দার এই বিষয়গুলো লাওহে মাহফুজ থেকে ফিরিশতাদের কাছে নাযিল করেন এবং তা শব-ই কদরের রাতে নির্ধারিত ফিরিশতাদের মধ্যে বন্টন করে দেন! আর তা সয় শুরু শা’বান মাসের চৌদ্দ তারিখ সুর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়ের মধ্যে!

●▪এরাতে মহান আল্লাহ পাক তার বান্দাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন। রাসূল সাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এ রাতে অধিক সংখ্যক নফল নামাজ আদায় করতেন। কবর যিয়ারতের মাধ্যমে মুর্দেগানদের মাগফিরাতের জন্য দু'আ করতেন এবং পরবর্তি দিন রোজা রাখতেন।

■●■ কেন পবিত্র শব-ই বারাআত অন্যান্য রাতের মতো নয়?
যেহেতু কুরআন ও হাদীসে নিসফে শা’বান রাতের বিশেষ বিশেষ ফযীলত এর কথা বর্ণিত হয়েছে, তাই এ রাত অন্যান্য রাতের মতো নয়! সহীহ বুখারীতে বর্নিত হয়েছেঃ
حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابن شهاب عن أبي سلمة وأبي عبد الله الأغر عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: ( ينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة إلى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر يقول من يدعوني فأستجيب له من يسألني فأعطيه من يستغفرني فأغفر له )
-------হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক রাতের শেষাংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং স্বীয় বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেনঃ ▪কে আছ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তোমার প্রর্থনা কবুল করবো, ▪কে আছ আমার কাছে চাইবে, অমি তোমাকে দান করবো, ▪কে আছ আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। (সহীহ বুখারী হাদিস নং-১০৯৪)

■▪এ হাদীস দ্বারা সকল রাতের এক তৃতিয়াংশের ফযীলত বর্নিত হয়েছে। কিন্তু শবে বারাইতের বিশেষত্ব যতগুলো হাদীসে বর্নিত হয়েছে তার কোনটিতেই একতৃতিয়াংশের কথা উল্লেখ নেই। বরং পুরো রাতেই আল্লাহ পাকের ক্ষমা ও রহমতের ধারা অব্যাহত থাকে। তাই এ রাতটি অন্যান্য রাত থেকে ভিন্ন ও ফযীলতপূর্ণ এবং বরকতময়।

■▪এছাড়াও এ রাতকে ফেরেস্তাদের ঈদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলমানদের জন্য যেমনিভাবে দুটি ঈদ তথা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা রয়েছে। ঠিক তেমনি ফিরেস্তাদের জন্যও দুটি ঈদ রয়েছে। একটি হলো লাইলাতুল বারাআত এবং অপরটি হলো লাইলাতুল কদর। (গুনিয়াতুত ত্বালিবিন পৃ. নং ৩৬৩)

■●■ পবিত্র শব-ই কদর গোপন রাখা এবং পবিত্র শব-ই বারাআতকে প্রকাশ করার হিকমতঃ
যেহেতু শব-ই কদরের রাত্রে আল্লাহর রহমত নাজিল হওয়া, ক্ষমাদান ও দোজখ থেকে মুক্তি লাভের রাত, তাই আল্লাহ তা’আলা এ রাতকে গোপন করেছেন। যাতে মানুষ নির্দিষ্ট রাতের উপর নির্ভরশীল না হয়। পক্ষান্তরে শব-ই বরাআতের রাতে সকল কিছুর বাজেট পরিকল্পনা হয়। মানুষের জীবন-মৃত্যু ও সামগ্রীক বিষয়ে ফয়সালা হয়, তাই আল্লাহ তা’আলা এ রাতকে প্রকাশ করেছেন। (গুনিয়াতুত ত্বালিবিন পৃ. নং৩২৬)

■●■ ইবাদতে মশগুল থাকার পনেরো রাতঃ
সকল আলেমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে বছরে ১৫টি রাত ইবাদতে মাশগুল থাকা উচিৎ। এগুলো হলোঃ ▪১.মুহাররাম মাসের ১ম রাত। ▪২.আশুরার রাত। ▪৩.রজব মাসের ১ম রাত। ▪৪.রজব মাসের মধ্য রাত। ▪৫.রজব মাসের ২৭ তম রাত। ▪৬. শা’বান মাসের মধ্যবর্তী রাত। ▪৭. আরাফার রাত। ▪৮. ঈদুল ফিতরের রাত। ▪৯.ঈদুল আযহার রাত। ▪১০. রমজান মাসের ১ম রাত এবং ▪১১-১৫. রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত সমূহ।

●▪তদ্রুপ একথার উপরও আলেমগণের ঐক্যমত্য রয়েছে যে নিন্মোক্ত ১৭টি দিনে ইবাদত করা অনেক ছাওয়াবের কারণ হয়ে থাকে। যথাঃ ▪আরাফার দিন, ▪আশুরার দিন, ▪শা’বানের মধ্যবর্তী দিন, ▪জুমার দিন, ▪দুই ঈদের দিন,▪জিলহজ্বের নির্দিষ্ট ১০ দিন, ▪আইয়্যামে তাশরীক ৩ দিন। এসব দিনের জুমু'আ এবং রমজান মাসের প্রতিটি দিনের ব্যাপারে অধিক তাকিদ বিদ্যমান রয়েছে।

●●▪নোটঃ ▪রজব মাসের ১ম রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবেন এবং দিনে রোজা রাখবেন, ▪দুই ঈদের রাত্রিতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবেন, তবে দিনে রোজা রাখবেন না। ▪শা’বান মাসের মধ্যবর্তী রাতে এবং আশুরার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত ও দিনে রোজাও রাখবেন।
(গুনিয়াতুত ত্বালিবীন পৃ. নং-৩৪১)

■●■ পবিত্র কুরআন মাজিদে শব-ই বারাআতঃ
■▪আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ- فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ.
-----অর্থাৎঃ "আমি এটি (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। আমি তো সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকরা হয়।"
(সুরা দুখান ৩-৪)

●● এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসীরানে কিরামদের থেকে দুটি অভিমত পওয়া যায়। যথাঃ
●▪তাফসীরে রুহুল মা‘আনী সহ বিভিন্ন তাফসীরে বর্নিত হয়েছেঃ হযরত ইবনে আব্বাস(রাঃ), হযরত কাতাদা(রাঃ), আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের(রাঃ), মুজাহিদ(রহঃ), ইবনে যায়েদ(রহঃ) হাসান বসরী(রহঃ) সহ জমহুর মুফাসসীনের মতে লাইলাতুম মুবারাকা বলতে শব-ই কদরকে বুঝানো হয়েছে। আসহাবে জাওয়াহেরও এমত পোষণ করেছেন।

●▪পক্ষান্তরে হযরত ইকরামা(রাঃ) ও একদল মুফাসসিরের মতে এর দ্বারা শব-ই বরাআতকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

■▪ইমাম কুরতুবী(রহঃ), আল্লামা ইবনে কাসীর (রহঃ), আল্লামা ইবনে জারীর তাবারী(রহঃ), ইমাম রাজী(রহঃ), আল্লামা মাহমুদ আলুসী বাগদাদী(রহঃ), আল্লামা ইসমাইল হাক্কী(রহঃ) সহ প্রখ্যাত মুফাসসীরগণ স্ব-স্ব তাফসীরে লাইলাতুম মুবারাকার ব্যাখ্যায় উপরোক্ত দুটি মতই উল্লেখ করেছেন। যথাঃ

●▪তাফসীরে খাজিনঃ
هي ليلة النصف من شعبان عن عائشة رضي الله تعالى عنها قالت : قال رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) ( إن الله تبارك وتعالى ينزل ليلة النصف من شعبان إلى سماء الدنيا فيغفر لأكثر من عدد شعر غنم بني كلب ) أخرجه الترمذي.
ليلة النصف من شعبان يبرم فيها أمر السنة وينسخ الأحياء من الأموات , وروى البغوي بسنده أن النبي ( صلى الله عليه وسلم ) قال ( تقطع الآجال من شعبان إلى شعبان حتى إن الرجل لينكح ويولد له وقد خرج اسمه في الموتى ) وعن ابن عباس ( إن الله يقضي الأقضية في ليلة النصف من شعبان ويسلمها إلى أربابها في ليلة القدر.

●▪তাফসীরে কুরতুবীঃ
وقال عكرمة : هي ليلة النصف من شعبان يبرم فيها أمر السنة وينسخ الأحياء من الأموات ويكتب الحاج فلا يزاد فيهم أحد ولا ينقص منهم أحد وروى عثمان بن المغيرة قال : [ قال النبي صلى الله عليه و سلم : تقطع الآجال من شعبان إلى شعبان حتى أن الرجل لينكح ويولد له وقد خرج اسمه في الموتى ] و [ عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلتها وصوموا نهارها فإن الله ينزل لغروب الشمس إلى سماء الدنيا يقول ألا مستغفر فأغفر له ألا مبتلى فأعافيه ألا مسترزق فأرزقه ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر ] ذكره الثعلبي وخرج الترمذي بمعناه عن عائشة [ عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : إن الله عز و جل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى سماء الدنيا فيغفر لأكثر من عدد شعر غنم كلب ]

■●■ হাদীস শরীফের আলোকে শব-ই বারাআতঃ

●● হাদীস নং ০১-
عن معاذ بن جبل عن النبي ﷺ يطلع الله تبارك و تعالى إلى خلقه ليلة النصف من شعبان ، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن.
-------হযরত মুয়ায বিন জাবাল(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "মধ্য শা’বানের মহান আল্লাহ রহমতের ভান্ডার নিয়ে তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি এক বিশেষ ভুমিকায় আবির্ভুত হন এবং রাতে মুশরিক অথবা হিংসুক ব্যাক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন।"
-----হাদিসের মানঃ সহীহ
------(সহীহ ইবনে হিব্বান পৃ. ১৫১৪ হাদিস নং ৫৬৬৫)

●▪হাদীসটি আরো যেসকল কিতাবে বর্ণিত হয়েছেঃ
▪০১. ইমাম বায়হাকী,শুয়াবুল ইমান খন্ড ৩, হাদীস নং ৩৮৩৩
▪০২. ইমাম বায়হাকী ফাদ্বাইলুল আওকাত, পৃষ্ঠা১১৯ হাদীস নং২২
▪০৩. ইমাম তাবারানী আল মু’জামুল কবীর, খন্ড ১৫ পৃষ্ঠ ১০৯
▪০৪. তাবারানী আল মু’জামুল আওসাত, খন্ড ৭ পৃষ্ঠা ৩৬
▪০৫. হাফিজ আল মুনযিরী, আত তারগীব ওয়াত তারহীব খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৭৩
▪০৬. হাফিজ নুরুদ্দিন আল হায়সামী, মাজমাউয যাওয়াইদ খন্ড ৮ পৃষ্ঠা ৬৫
▪০৭. হাফিজ ইবনু আবি াাসিম, আস সুন্নাহ খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২২৪
▪০৮. হাফিয ইবনে আসাকীর, আত তারীখ, খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৩০২
▪০৯. আবুল হাসান আল কাযবিনি, আল আমালি, খন্ড৪ পৃষ্ঠা ২
▪১০. আবু মুহাম্মাদ াাল জাওহারী, আল মাজলিস আস সাবিঈ, খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ২
▪১১. মুহাম্মাদ সুলাইমান আর রিবয়ী, জুযউ মিন আহাদীসিহি খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১২
▪১২. শায়খ আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহা খন্ড ৩ পৃষ্ঠা নং ১৩৫

■▪শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী তার সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহা গ্রন্থে এ হাদিসটি বর্ননা করে মন্তব্য করেছেনঃ
حديث صحيح ، روي عن جماعة من الصحابة من طرق مختلفة يشد بعضها بعضا و هم معاذ ابن جبل و أبو ثعلبة الخشني و عبد الله بن عمرو و أبي موسى الأشعري و أبي هريرة و أبي بكر الصديق و عوف ابن مالك و عائشة
-------অর্থাৎঃ এ হাদিসটি সহীহ। একদল সাহাবী থেকে বিভিন্ন সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে, যা একে অন্যকে শক্তিশালী করে। এ হাদীসের বর্ণনা কারী সাহাবায়ে কিরাম(রাঃ)গণ হলেনঃ ▪১.হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল(রাঃ), ▪২. হযরত আবু সা’লাবা আল খুশানী(রাঃ), ▪৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর(রাঃ), ▪৪. হযরত আবু মুসা আল আশ’আরী(রাঃ), ▪৫. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ), ▪৬. হযরত আবু বকর(রাঃ), ▪৭. হযরত আওফ ইবনে মালিক(রাঃ) এবং ৮. হযরত আয়শা(রাঃ)।
-----(শায়খ আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহা খন্ড ৩ পৃষ্ঠা নং ১৩৫)

●● হাদীস নং-০২
عن ابي ثعلبة الخشني عن النبي ﷺ قال اذا كان ليلة النصف من الشعبان اطلع الله الي خلقه فيغفر للمؤمن ويملي للكافرين ويدع اهل الحقد بحقدهم حتي يدعوه-
▪০১. বায়হাকী শুয়াবুল ঈমান খ.৩ পৃষ্ঠা-৩৮১
▪০২. আস সুন্নাহ খ.১ পৃষ্ঠা ২২২
▪০৩. ফাদ্বাইলুল আওকাত হাদিস নং ২৩
▪০৪. আল আরশ খ.২ পৃষ্ঠা ১১৮
▪০৫. আত তারগীব ওয়াত তারহিব খ.৩ পৃষ্ঠা ৩০৮
▪০৬. আল মুজামুল কবির খ.২২ পৃষ্ঠা ২২৩

●● হাদীস নং-০৩
عن غبد الله بن عمرو أن رسول الله ﷺ يطلع الله عزوجل الي خلقه ليلة النصف من شعبان فيغفر لعباده الا لا ثنين مشاحن و قاتل االنفس –
▪০১. মুসনাদে আহমদ খ.১১ পৃষ্ঠা ২১৬
▪০২. নুরুদ্দীন আল হায়সামি, মাজমাউজ জাওয়াইদ খ.৮ ১২৬

●● হাদীস নং-০৪
عن ابي موسي الاشعري رضي الله تعالي عنه قال عن النبي ﷺ قال ان الله ليطلع في ليلة النصف من شعبان. فيغفر لجميع الخلقه الا لمشرق او مشاحن-
▪০১. ইবনে মাজাহ খ.১ পৃষ্ঠা ৪৪৫
▪০২. নাসির উদ্দিন আলবানী সিলসিলাতু আহাদিসিস সহীহাহ খ.৩ পৃষ্ঠা ১৩৫
▪০৩. সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহিব খ.৩ হাদিস নং ২৭১৮
▪০৪. সহীহ ইবনে মাজাহ খ.৩ হাদিস নং ১১৪০

●● হাদীস নং-০৫
عن ابي هريرة رضي الله تعالي عنه قال قال رسول الله ﷺ اذا كان ليلة النصف من شعبان يغفر الله لعباده الالمشرك او مشاحن-
▪০১. মাজমাউজ যাওয়াইদ খ. ৮ পৃষ্ঠা ৬৫
▪০২. কাশফুল আসতার খ.২ পৃষ্ঠা ৪৩৬
▪০৩. ইবনুল জাওজি আল ইলাল খ.২ পৃষ্ঠা ৫৫৯

●● হাদীস নং-০৬
عن ابي بكر الصديق رضي الله تعالي قال قال رسول الله ﷺ اذا كانت ليلة النصف من شعبان ينزل الله تبارك وتعالي الي سماء الدنيا فيغفر لعباده الا ما كان من مشرك او مشاحن لاخيه-
▪০১. শুয়াবুল ঈমান খ.৩ পৃষ্ঠা ৩৮০
▪০২. সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহিব খ.৩ হাদিস নং ২৭৬৯
▪০৩. শরহুস সুন্নাহ খ.৪ পৃষ্ঠা ১২৭

●● হাদীস নং-০৭
عن عوف بن مالك رضي الله تعالي عنه قال قال رسول الله ﷺ يطلع الله تبارك وتعالي علي خلقه ليلة النصف من شعبان فيغفر لهم كلهم الا لمشرك او مشاحن –
▪০১. মুসনাদে বাযযার খ.১ পৃষ্ঠা ৪২৩
▪০২. মাযমাউয যাওয়াইদ খ.৮ পৃষ্ঠা১২৬

●● হাদীস নং-০৮
عن عاﺋشة رضي الله تعالي عنه فقدت رسول الله ﷺ ليلة فخرجت فاذا هو بالبقيع فقال اكنت تخافين ان يحيف الله عليك ورسول ؟ قلت يا رسول الله اني ظننت انك أتيت بعض نساﺋك فقال ان الله عز وجل ينزل ليلة النصف من شعبان الي السماء الدنيا فيغفر لاكثر من عدد شعر غنم كلب

▪০১. ইবনে মাজাহ খ.১ পৃষ্ঠা ৪৪৪
▪০২. আবু বকর ইবনে শায়বা আল মুসান্নাফ খ.১০ পৃষ্ঠা ৪৩৮
▪০৩. বায়হাকী শুয়াবুল ইমান খ. ৩ পৃষ্ঠা ৩৮০
▪০৪. দ্বার কুতনি,আন নুযুল পৃষ্ঠা ৯১ হাদিস নং ৭৩

●■● উপরোক্ত তাফসীর ও হাদীসে নববী দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, শব-ই বারাআত বা লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বানের ভিত্তি শরীয়তে রয়েছে। অতএব শরীয়ত স্বীকৃত একটি বিষয় নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অবান্তর। এদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষ যাতে ইবাদত থেকে বিমুখ হয় এবং সমাজের খারাপ মানুষ গুলো যাতে আমল থেকে দূরে থাকে এবং মহান আল্লাহ তা'আলার ক্ষমা না পান সে বিষয়ে বিরত রাখার এক সুদুরপ্রসারী কৌশল ছাড়া কিছু নয়!

■■▪তাই আসুন এ সকল মিথ্যা কথা এবং নাপাক কথার গালে চপেটাঘাত করে সবাই সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রহমত লাভের প্রত্যাশায় পবিত্র লাইলাতুল বারাআতকে উদযাপন করি। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তাঁর রহমত ও নৈকট্য লাভের তাওফীক দান করুন(আ-মীন)!!

12/08/2021

📚🕋 মুহাররম মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য, ফজিলত ও আমল সমূহ ।

➖➖➖➖➖➖➖💎💎➖➖➖➖➖➖➖

🕋 মুহাররম মাসের হেলাল দেখা গেছে এবং নতুন চান্দ্রবর্ষ শুরু হয়েছে। সকল প্রশংসা ওই আল্লাহর, যিনি আমাদের হায়াত বৃদ্ধি করেছেন এবং নতুন একটি মাস ও বছরের সূচনায় আমাদেরকে পৌঁছে দিয়েছেন।

নতুন বছর, নতুন মাস, নতুন সপ্তাহ এবং প্রতিটি নতুন দিন ও রাত আমাদের জীবনের অংশ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের স্বতন্ত্র নিআমত। এগুলোর জন্য স্বতন্ত্রভাবে শোকর আদায় করা দরকার। নতুন নতুন সংকল্প ও প্রত্যয়ে এগুলোকে বরণ করা দরকার।

কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-

وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ الَّیْلَ وَ النَّهَارَ خِلْفَةً لِّمَنْ اَرَادَ اَنْ یَّذَّكَّرَ اَوْ اَرَادَ شُكُوْرًا.

এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত ও দিনকে পরস্পরের অনুগামী করে সৃষ্টি করেছেন। (কিন্তু এসব বিষয় উপকারে আসে কেবল) সেই ব্যক্তির জন্য, যে উপদেশ গ্রহণের ইচ্ছা রাখে কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়। -সূরা ফুরকান (২৫) : ৬২

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

الطّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ، وَالْحَمْدُ لِلهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ، وَسُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ تَمْلَآَنِ مَا بَيْنَ السّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَالصّلَاةُ نُورٌ، وَالصَدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصّبْرُ ضِيَاءٌ، وَالْقُرْآنُ حُجّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ، كُلّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَايِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا.

পবিত্রতা ঈমানের অংশ। ‘আলহামদু লিল্লাহ’ মীযানের পাল্লাকে ভরে দেয়। ‘সুবহানাল্লাহ ও আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান-যমীনের মধ্যস্থ শূন্যতাকে ভরে দেয়। সালাত হল নূর। সদকা হল দলীল। সবর হচ্ছে আলো। কুরআন তোমার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রমাণ। প্রতিটি মানুষ সকাল যাপন করে; অতপর কেউ নিজেকে (আল্লাহর আনুগত্যে) নিয়োজিত করে জীবনকে রক্ষা করে। আর কেউ (নফস ও শয়তানের আনুগত্যে নিয়োজিত করে) নিজেকে ধ্বংস করে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৩, কিতাবুত তাহারাতের প্রথম হাদীস

সৌভাগ্যবান তো সেই ব্যক্তি যে প্রতিটি নতুন সময় ও সূচনায় নিজেকে এমন কাজে নিয়োজিত করে, যার মাধ্যমে আখেরাতে মুক্তি পাওয়া যায়। দুর্ভাগা সেই ব্যক্তি, যে নতুন সময় ও সূচনায় এমন কাজকর্মে লিপ্ত হয়, যা তার ধ্বংস টেনে আনে।

🕋 মুহাররাম মাসের গুরুত্ব 🕋

মুহাররামুল হারাম” বলা হয়েছে আরবী বছরের বা হিজরী সালের প্রথম মাসকে। অর্থাৎ সন্মানিত মুহাররাম মাস। আল্লাহ যে চারটি মাসকে সন্মানিত করেছেন তার মধ্যে মুহাররাম মাস রয়েছে।

মুহাররাম মাস গুরুত্বপূর্ণসেই সৃষ্টি লগ্ন থেকেই।

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ [٩:٣٦

নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন। {সূরা তওবা-৩৬}

সেই পবিত্র চার মাস কি? যা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা হয়েছে? যে মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেদের উপর অত্যাচার করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসে তা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ হয়েছে-

عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلاَثٌ مُتَوَالِيَاتٌ: ذُو القَعْدَةِ، وَذُو الحِجَّةِ، وَالمُحَرَّمُ، وَرَجَبُ، مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى، وَشَعْبَانَ “

হযরত আবু বাকরা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেন, সেদিন যেভাবে কাল [যমানা] ছিল তা আজও অনুরূপভাবে বিদ্যমান। বারমাসে এক বছর, তন্মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক যথা জিলকদ, জিলহজ্ব ও মুহাররম ও মুযার গোত্রের রজব, যা জামাদিউস সানী এবং শাবান মাসের মধ্যবর্তী। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৬৬২, ৪৩৮৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৭৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৯৪৭}

অন্যভাবে বললে বলা যায় যে, যুলক্বা‘দাহ হ’তে মুহাররম পর্যন্ত একটানা তিন মাস। অতঃপর পাঁচ মাস বিরতি দিয়ে ‘রজব’ মাস। এভাবে বছরের এক তৃতীয়াংশ তথা ‘চার মাস’ হ’ল ‘হরম’ বা সম্মানিত মাস।

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস প্রমাণ করছে মুহররম মাস গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে শুধু কারবালার ঘটনার জন্য নয়। বরং এটি গুরুত্বপূর্ণ অনেক আগে থেকেই।

লড়াই-ঝগড়া, খুন-খারাবী ইত্যাদি অন্যায়-অপকর্ম হ’তে দূরে থেকে এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলমানের ধর্মীয় কর্তব্য। যেমন আল্লাহ বলেন,

فَلاَ تَظْلِمُوا فِيْهِنَّ أَنْفُسَكُمْ

‘এই মাসগুলিতে তোমরা পরস্পরের উপরে অত্যাচার কর না’ (তওবা ৩৬)।

🕋 মুহাররাম মাসের ফজিলত 🕋

মুহাররম চান্দ্রবছরের প্রথম মাস। সম্মানিত চার মাসের তৃতীয় মাস। হাদীস শরীফে এ মাসের অনেক ফযীলতের কথা উল্লেখিত হয়েছে।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

أَفْضَلُ الصِّيَامِ، بَعْدَ رَمَضَانَ، شَهْرُ اللهِ الْمُحَرّمُ، وَأَفْضَلُ الصَلَاةِ، بَعْدَ الْفَرِيضَةِ، صَلَاةُ اللَّيْلِ.

অর্থাৎ, রমযানের পর সবচে উত্তম রোযা হল আল্লাহর মাসের রোযা, যে মাসকে তোমরা মুহাররম নামে চেন। আর ফরয নামাযের পর সবচে উত্তম নামায হল রাতের নামায।( -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৩, কিতাবুস সওম, ফাযলু সওমি মুহাররম)

এই হাদীসে লক্ষণীয় বিষয় হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাররম মাসকে বলছেন ‘শাহরুল্লাহ’ বা আল্লাহর মাস। জানা কথা, সকল মাসই আল্লাহর মাস। এর পরও কোনো এক মাসকে আল্লাহর মাস বলার রহস্য কী? রহস্য হল, এই মাসের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। সেজন্যই তাকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। যেমন দুনিয়ার সব ঘরই আল্লাহর ঘর। কিন্তু সব ঘরকে বাইতুল্লাহ বলা হয় না।

মুহাররমের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফযীলত হল, এর সঙ্গে তাওবা কবুলের ইতিহাস যুক্ত। মুসনাদে আহমাদ ও জামে তিরমিযীতে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে- এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞেস করল,

يَا رَسُولَ اللهِ، أَيّ شَهْرٍ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ بَعْدَ رَمَضَانَ؟

আল্লাহর রাসূল! রমযানের পর আপনি আমাকে কোন্ মাসে রোযা রাখার নির্দেশ দেন? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

إِنْ كُنْتَ صَائِمًا بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصُم المُحَرّمَ،

তুমি যদি রমযানের পর আরও কোনো মাসে রোযা রাখতে চাও তাহলে মুহাররমে রোযা রাখ। (-জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৫১)

আগের উম্মতের জন্য সবচেয়ে সন্মানি রোজা ছিল এই মাসের রোজা।

হযরত আলী রা.কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপসি’ত ছিলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’-(জামে তিরমিযী ১/১৫৭)

🕋 মুহাররাম মাসের আমল 🕋

এ মাসে বেশি বেশি নফল রোযা ও তাওবা ইসতিগফারের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

فِيهِ يَوْمٌ تَابَ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ، وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَ.

সেই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও সেদিন আরও মানুষের তাওবা কবুল করবেন। -(জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৫১ (ইমাম তিরমিযী বলেন- هذا حديث حسن غريب ); মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৩২২, খ. ১ পৃ. ১৫৪।)

এই হাদীসে যেই দিনের দিকে ইশারা করা হয়েছে খুব সম্ভব সেটি আশুরার দিন। তবে বান্দার উচিত বছরের সব দিনেই তাওবা ইসতিগফারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। বিশেষ করে এই মাসের প্রতিটি দিনেই তাওবা ইসতিগফারের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া। আর আশুরার দিন অনেক বেশি ইসতিগফার করবে।

ইসতিগফারের জন্য সবচে’ উত্তম হল কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত ইসতিগফার বিষয়ক দুআগুলো বুঝে বুঝে মুখস্থ করবে। সেই দুআগুলোর মাধ্যমে রাব্বে কারীমের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। তবে নিজের ভাষায় নিজের মতো করে ইসতিগফার করলেও ঠিক আছে। কারণ আল্লাহ সকল ভাষারই ¯্রষ্টা। তিনি সবার কথা বুঝেন। সকলের আরজি কবুল করেন।

ইসতিগফারের কয়েকটি দুআ এখানে উল্লেখ করা হল-

১.

رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ .

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করে ফেলেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন ও আমাদের প্রতি রহম না করেন তাহলে অবশ্যই আমরা অকৃতকার্যদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। -সূরা আরাফ (৭) : ২৩

২.

وَ اِلَّا تَغْفِرْ لِیْ وَ تَرْحَمْنِیْۤ اَكُنْ مِّنَ الْخٰسِرِیْنَ.

(হে আমার প্রতিপালক!) আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন ও আমার প্রতি দয়া না করেন তাহলে আমিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। -সূরা হুদ (১১) : ৪৭

৩.

رَبِّ اِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ فَاغْفِرْ لِیْ

হে আমার রব! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। -সূরা কাসাস (২৮) : ১৬

৪.

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ ، اِنِّیْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি সকল ত্রæটি থেকে পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধী। -সূরা আম্বিয়া (২১) : ৮৭

৫.

رَبَّنَا اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ یَوْمَ یَقُوْمُ الْحِسَابُ .

হে আমাদের প্রতিপালক! যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা মাতা ও সকল ঈমানদারকে ক্ষমা করুন। -সূরা ইবরাহীম (১৪) : ৪১

৬.

رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنْ دَخَلَ بَیْتِیَ مُؤْمِنًا وَّ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ.

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার পিতা-মাতাকেও এবং প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকেও, যে মুমিন অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে আর সমস্ত মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকেও। -সূরা নূহ (৭১) : ২৮

৭.

رَبِّ اغْفِرْ وَ ارْحَمْ وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ .

হে আমার প্রতিপালক! আমার ত্রæটিসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। আপনি তো দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। -সূরা মুমিনূন (২৩) : ১১৮

৮.

رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ.

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। -সূরা মুমিনূন (২৩) : ১০৯

৯.

رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ، رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ، اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ.

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমাদের মন্দসমূহ মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে তুলে নিন।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, যার প্রতিশ্রæতি আপনি নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদেরকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রæতির বিপরীত করেন না। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৯৩-১৯৪

১০.

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا، رَبَّنَا وَ لَا تَحْمِلْ عَلَیْنَاۤ اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا، رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖ، وَ اعْفُ عَنَّا، وَ اغْفِرْ لَنَا، وَ ارْحَمْنَا، اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ.

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনো ভুল-ত্রæটি হয়ে যায়, সেজন্য আমাদের পাকড়াও করবেন না।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের দায়িত্বভার অর্পণ করবেন না, যেমন অর্পণ করেছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন ভার চাপিয়ে দিবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।

আপনি আমাদের ত্রæটিসমূহ মার্জনা করুন। আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। -সূরা বাকারা (২) : ২৮৬

১১.

رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ قِنَا عَذَابَ النَّارِ.

হে আমাদের রব! আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৬

১২.

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ اِسْرَافَنَا فِیْۤ اَمْرِنَا، وَ ثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ.

হে আমাদের রব! আমাদের গোনাহসমূহ এবং আমাদের দ্বারা আমাদের কার্যাবলিতে যে সীমালঙ্ঘন ঘটে গেছে তা ক্ষমা করে দিন। আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে বিজয় দান করুন। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৪৭

১৩.

اللهُمّ أَنْتَ الْمَلِكُ، لَا إِلهَ إِلّا أَنْتَ، أَنْتَ رَبِّي، وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا، إِنّهُ لَا يَغْفِرُ الذّنُوبَ إِلّا أَنْتَ.

হে আল্লাহ! আপনিই মালিক। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি আমার প্রতিপালক। আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি। সুতরাং আমার সকল পাপ ক্ষমা করে দিন। আপনি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী কেউ নেই। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৭১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭৬০

১৪.

اللّهُمّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يَغْفِرُ الذّنُوبَ إِلّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِيْ إِنّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرّحِيمُ.

হে আল্লাহ! আমি নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া আমার পাপরাশি ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পূর্ণ মাগফিরাত নসীব করুন। আর আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, চিরদয়াময়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৮৩৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭০৫

১৫.

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الّذِي لَا إِلهَ إِلّا هُوَ الْحَيّ الْقَيّوم، وَأَتُوبُ إِلَيْهِ.

আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক। আমি তার কাছে তাওবা করছি। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫১৭, জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৮৯৪

১৬.

رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيّ، إِنّكَ أَنْتَ التّوّابُ الرّحِيمُ.

হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন। আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী, চিরদয়াময়। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৪৭২৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫১৬

১৭.

اللّهُمّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلهَ إِلّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنّهُ لاَ يَغْفِرُ الذّنُوبَ إِلّا أَنْتَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সাথে কৃত অঙ্গীকার ও আপনার প্রতিশ্রæতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি। আমার প্রতি আপনার নিআমতের কথা স্বীকার করছি। আপনার কাছে আমি আমার গোনাহের কথা স্বীকার করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩০৬

১৮.

أَسْتَغْفِرُ اللهَ رَبِّيْ مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وّأَتُوْبُ إِلَيْهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوّةَ إِلّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ.

আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর কাছে সকল গোনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তাওবা করছি। সুমহান আল্লাহ ছাড়া আমাদের কোনো সাধ্য নেই, শক্তি নেই। [আল্লাহর কোনো বুযুর্গ বান্দার শেখানো ইসতিগফারের বাক্য। যার অর্থ ঠিক আছে।]

মনে রাখতে হবে, ইসতিগফারের প্রাণ হল তাওবা। আর তাওবার হাকীকত হল, মানুষ আল্লাহ তাআলার নাফরমানী ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে। পিছনের অন্যায়গুলোর কাফফারা আদায় করবে। যেখানে যে কাফফারার কথা বলা হয়েছে সেখানে তা-ই আদায় করবে। বিশেষ করে মানুষের কোনো হক নষ্ট হয়ে থাকলে সেগুলো আদায়ের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে।

একথাও মনে রাখবে, ইসতিগফারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরত হল, কুরআনে কারীমে কিংবা হাদীস শরীফে যে আমল ও ইবাদাতের প্রসঙ্গে মাগফিরাতের ওয়াদা করা হয়েছে সেগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দিবে।

প্রত্যেক মুমিনের যেহেনেই সেই আমলগুলোর একটা তালিকা থাকা উচিত। এই তালিকায় সর্বপ্রথম রয়েছে ফরয নামায ও অন্যান্য ফরয ইবাদাত। এরপর মাগফিরাত পাওয়ার আমলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কবীরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা। তাছাড়া দান-সদকা, যিকির-আযকার ও অন্যান্য নফল ইবাদতগুলো তো রয়েছেই।

যিকির ও দুআর মধ্যে সবচে বরকতপূর্ণ আমল হল দরূদ শরীফ। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফাআত এবং আল্লাহ তাআলার রহমত ও মাগফিরাত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

মা’ছূর দরূদ শরীফের মধ্যে সংক্ষিপ্ত একটি দরূদ হল-

اللّهُمّ صَلِّ عَلَى مُحَمّدٍ النّبِيِّ الْأُمِّيِّ.

এখানে আরও দুটি শব্দ বাড়িয়ে এভাবেও পড়া যায়-

اللّهُمّ صَلِّ عَلَى مُحَمّدٍ النّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَآلِه وَسَلِّمْ.

দৈনিক কমপক্ষে দুই বেলা দরূদ শরীফের আমল জারি রাখা উচিত। সেটা দশবার দশবার করেও হতে পারে। একেবারে না হওয়ার চেয়ে এটাও ভালো।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে শিরক, বিদ‘আত ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন।

✔আপনাদের থেকে আগত প্রশ্নঃ শরীয়তে কাঁকড়া খাওয়ার বিধান কি?  সংকলনেঃ কাসেম বিল্লাহ⇨➤উত্তরঃহানাফী মাযহাব মতে, নদীনালার শুধু ...
30/07/2021

✔আপনাদের থেকে আগত প্রশ্নঃ শরীয়তে কাঁকড়া খাওয়ার বিধান কি?
সংকলনেঃ কাসেম বিল্লাহ
⇨➤উত্তরঃ
হানাফী মাযহাব মতে, নদীনালার শুধু মাছই খাওয়া জায়েজ। অন্য কোন প্রাণী খাওয়া জায়েজ নয়। সেই হিসেবে কাঁকড়া যেহেতু মাছের মাঝে গণ্য নয়, তাই হানাফী মাযহাব অনুসারে তা খাওয়া বৈধ নয়। উপরন্তু কোনো কোনো জায়গায় কাঁকড়াকে পানির বিচ্ছুও বলা হয়। তাই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কখনো এই খাবারটি খাওয়া বৈধ নয়।

[ফাতওয়া কাসিমীয়া-২৪/১২২]
(বাদায়েউস সানায়ে : ৫/৩৫) ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/৩৭৫)।

25/07/2021

✔প্রশ্নঃ পুরুষের জন্য সিল্ক-রেশমী, হলুদ ও লাল কাপড় পড়া নিষেধ কেন?
সংকলনেঃ মুহা.কাসেম বিল্লাহ

➤উত্তরঃ আমাদের দেশে ঈদ উপলক্ষে ছেলেদের পোশাকের দোকানগুলোতেই ভীড় কম থাকে না । তবে পোশাকের ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হওয়া দরকার । পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান পায় সিল্কের পাঞ্জাবী । ছোট থেকে বড়, বড় থেকে বুড়ো সব বয়সের পুরুষদের প্রায়ই দেখা যায় সিল্কের পাঞ্জাবী পরতে । কিন্তু আমরা হয়ত জানি বা না জেনে সিল্কের পোষাকের দিকে ঝুকি।

কিন্তু পুরুষের জন্য তো সিল্ক হারাম করা হয়েছে । আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, নবী (সাঃ) আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন । আমি তা পরিধান করলাম । তার মুখমণ্ডলে গোস্বার ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার মহিলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম । বুখারিঃ২৬১৪ ইঃফাঃ২৪৩৯ আহমাদঃ ১১৭১

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসূলূল্লাহ (সাঃ) কে দেখেছি,তিনি ডান হাতে রেশম ধরলেন এবং বাম হাতে সোনা, অতঃপর বললেন, আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য এ দু’টি বস্তু হারাম ।’’ আবু দাউদঃ ৪০৫৭, নাসায়িঃ ৫১৪৪, ইবন মাজাহঃ৩৫৯৫

রসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে । সহীহ বুখারীঃ ৫৫৯০

পুরুষদের জন্য হলুদ ও লাল জামা পরার ব্যাপারে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে । লাল ও হলুদ রঙ পুরুষদের জন্য এই কালারের পাঞ্জাবিও এড়িয়ে চলতে হবে ।

রসুলুল্লাহ( সাঃ) আলি (রাঃ) কে দুইটি হলুদ রঙয়ের কাপড় পরা অবস্থায় দেখলেন।
তিনি তখন বলেন, এই রঙ কাফেরদের জন্য, এই রঙের কাপড় পরিধান করো না । মুসলিমঃ ২০৭৭

উমার(রাঃ) বলেন,রসুলুল্লাহ (সাঃ)আমাদেরকে লাল রঙের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন । (মুসনাদে আহমাদ,ইবনে মাজাহঃ ৩৫৯১)

⇨তবে শুধু এক কালারের লাল না হয়ে যদি লালের মাঝে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকে তাহলে সেটা পরা জায়েজ আছে । তবে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকলেও তাকওয়ার খাতিরে লাল রঙ এড়িয়ে চলাই উত্তম । তাই পোশাকের ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হতে হবে ।

Address

Facebook. Com/diniplatform
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দ্বীনি প্লাটফর্ম Dini Platform posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to দ্বীনি প্লাটফর্ম Dini Platform:

Share