ইশকের সফর - IshqEr Sofor

ইশকের সফর - IshqEr Sofor 🌸 ভালোবাসা, আধ্যাত্মিকতা, হৃদয়ের ডাক ও জীবনের অর্থ নিয়ে এক অপার্থিব যাত্রা। 🌸

"ইশকের সফর - IshqEr Sofor" এক আধ্যাত্মিক ভালোবাসার যাত্রা।
এখানে আমরা ভালোবাসা, স্রষ্টা, জীবন, আত্মা এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলি। সবধরনের আধ্যাত্মিক ভাবনা, দর্শন আর ভালোবাসার বাণী এখানে শেয়ার করা হয়।

আমাদের উদ্দেশ্য হলো —
🕊️ মানুষের মনে শান্তি, ভালোবাসা আর ইতিবাচক ভাবনা পৌঁছে দেওয়া।
🕊️ জীবনের গভীর অর্থ খুঁজে পাওয়ার অনুপ্রেরণা দেওয়া।
🕊️ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।
🕊

️ মানুষের হৃদয়ে শান্তি, প্রেম ও আলোর পরশ পৌঁছে দেওয়া।
🕊️ আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও জীবনবোধকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।

আসুন, এই সফরে আমরা একসঙ্গে হই।

ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস-দেবের ব্যাখ্যা অনুসারে, কেন পাপীকে ঘৃণা করতে নেই? তিনি বলেছেন, 'পাপ-কে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়'।এ...
12/08/2025

ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস-দেবের ব্যাখ্যা অনুসারে, কেন পাপীকে ঘৃণা করতে নেই? তিনি বলেছেন, 'পাপ-কে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়'।

একজন ধর্ষককে সমাজের মানুষ যে চোখেই দেখুক না কেন, সে যত খারাপ বলেই মনে হোক না কেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধটি বাস করে তার মনে। তার দেহে নয়। দেহটি, মনের নির্দেশ মান্য করে মাত্র।

কেননা, তার নিজ ভগ্নী যত সুন্দরী-ই হোক না কেন, মাতা যত সুন্দরী হোক না কেন, সেই অপরাধী জঘন্য কর্মটির জন্য তার ভগ্নী বা মাতাকে বেছে নেবে না। সে ততটা খারাপ নয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, তার বিবেকবোধ বলতে কিছু এখনও আছে।

কিন্তু অপরের ক্ষেত্রে, সে একই বিবেকবোধকে প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েই এই পাপ-কর্মে লিপ্ত হয়েছে। সুতরাং তার শাস্তি যাই হোক, যদি কোনোভাবে তার মন থেকে এই পাপ-বোধকে অপসারণ করা যায় সেক্ষেত্রেই দেখা যাবে, যে বিবেকবোধ মা ও বোনের প্রতি প্রয়োগ করে থাকে, সে বিবেকবোধে অপরকেও গণ্য করবে।

পাপ-বোধ, মনেই বাস করে। তাই সে পাপী। যথাযথ চিকিৎসা চাই মনে।

30/04/2025
মুশতাকুন্নবী আন্তর্জাতিক মানের বেয়াদব, ঈমান নাই, জানিম, জারজ, bastard, এতেকাফে বসে ওলীদের শানে গোস্তাকি করছে, যাকাতের টা...
26/03/2025

মুশতাকুন্নবী আন্তর্জাতিক মানের বেয়াদব, ঈমান নাই, জানিম, জারজ, bastard, এতেকাফে বসে ওলীদের শানে গোস্তাকি করছে, যাকাতের টাকা দিয়ে পড়াশোনা করা মোল্লা এমনই হয়, বেয়াদব মানুষকে আর কি শেখাবে।

মোশতাক নিজে ভুয়া, তোর চৌদ্দ গুষ্ঠি ভুয়া, যারা যারা সাথে ভুয়া বলছে সেগুলোও ভুয়া, সেগুলোর চৌদ্দ গুষ্ঠি ভুয়া। তুই নিজেই ইসলাম বুঝছ না আবার মানুষকে বুঝাছ। এদেশে ইসলাম প্রচার কে করছে? বাপ দাদার ইতিহাস জানা আছে? হযরত খাজা মুঈনউদ্দীন চিশতী রহ. হিন্দুস্তানে প্রথম ইসলামের প্রচারে বিপ্লব ঘটিয়ে কলেমার ঝান্ডা উড়িয়েছিলেন বলেই মোশতাক রা আজকে মুসলমান!!

বেয়াদব মোশতাকের এমন ঔ-দ্ধ-ত্য-পূ-র্ণ মন্তব্য ও সুলতানুল হি-ন্দ খাজা গরীবে নেওয়াজের বিরুদ্ধে বে-য়া-দ-বি করার কারণে তীব্র নি-ন্দা, ঘৃ-ণা ও প্র-তি-বা-দ জানাচ্ছি। সেই সাথে তাকে গ্রে-ফ-তা-র পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শা-স্তি-র দাবি জানাচ্ছি।

20/03/2025

❝৪০ বৎসর যাবৎ কোরআনুল হাক্বীম দিয়েই কথা বলেছেন একজন নেককার বান্দী।❞

ঘটনাটি জানার অনুরোধ করছি।

কুরআনের প্রতি জনৈক মহিলার প্রেমাসক্তি

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, একদা আমি হজ্ব করতে গিয়েছিলাম। হজ্ব থেকে ফেরার পথে দেখলাম যে, তুলা জাতিয় কামিস পরিহিত এক বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন। আমি মহিলাকে একা বসে থাকতে দেখে তাঁর হাল-হাকীকত জানার জন্যে কয়েকটি প্রশ্ন করলাম, তিনি আমার প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর দিলেন কুরআনুল কারীমের আয়াত দ্বারা। এতে প্রতীয়মান হলো যে, কুরআনের সঙ্গে মহিলার গভীর সম্পর্ক ও ভালোবাসা রয়েছে। যার নযীর পৃথিবীতে খুবই কম। আমি তাঁকে প্রথমে সালাম দিলাম, তিনি উত্তরে বললেন-
سَلَامُ قَوْلًا مِّنْ رَّبِّ رَّحِيمٍ
(অর্থ- সালাম পরম দয়ালু আল্লাহর তরফ থেকে)। অতঃপর আমি (আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক) তাকে জিজ্ঞাসা করলাম (আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করুন) আপনি এখানে কি করছেন? মহিলা বললেন-
وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ
(অর্থ- আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন। তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই)। এতে আমি বুঝতে পারলাম, তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন। অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার বাড়ি কোথায় এবং কোথায় যেতে চান? মহিলা বলল,
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْضَى -
(অর্থ- মহাপবিত্র ও মহিমাময় সত্ত্বা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রী বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আক্‌সা পর্যন্ত ভ্রমন করিয়ে ছিলেন)। মহিলার কথায় আমি বুঝতে পারলাম, তিনি হজ্ব আদায় করেছেন, এখন বাইতুল মুকাদ্দাস যেতে চায়। আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, কখন থেকে অপনি এখানে বসে আছেন? মহিলা এর উত্তরেও একটি কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন,
ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا
(অর্থাৎ একাধারে তিন রাত যাবৎ)। আমি বললাম, আপনার কাছে কোনো খাবার দেখা যাচ্ছেনা। খাচ্ছেন কোত্থেকে? মহিলা এর জবাবও কুরআনের আয়াত দ্বারা দিলেন,
هو يُطْعِمُنِي وَيَسْقِى
(অর্থ: তিনি আমাকে আহার ও পানীয় দান করেন)। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি দিয়ে উযু করেন? মহিলা বললেন,
فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا
(অর্থ: তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও)। মহিলা কুরআনের আয়াত দ্বারা জবাব দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছেন যে, আমি পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নিই। এবার মুহাদ্দিস সাহেব বললেন, আমার কাছে কিছু খাবার আছে, আপনি তা খেলে খেতে পারেন। উত্তরে মহিলা বললেন,
أَتِمُوا الصَّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ
(অর্থ: অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত)। এ আয়াত দ্বারা মহিলা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, আমি রোযা রেখেছি, ইফতারের পূর্বে কিছুই খাবো না। আমি বললাম, এটা রমজান মাসের রোযা নয়; বরং নফল রোযা। তাই বললাম, আপনি প্রয়োজনের তাগিদে ইচ্ছা করলে খেতে পারেন। মহিলা বললেন,
وَمَنْتَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرْ عَلِيمٌ
(অর্থ: বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে তবে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তা অবগত আছেন এবং তার সে আমলের সঠিক মূল্য দিবেন)। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বললেন, সফর অবস্থায় ফরয রোযা না রাখাও জায়েয। মহিলা বললেন,
وَإِنْ تَصُوْمُوا خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ
(অর্থ: আর যদি রোযা রাখ, তবে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার)। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমার মত কথা বলেননা কেন? মহিলা এবারও কুরআনের আয়াত দিয়ে বললেন,
مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
(অর্থ: মানুষ যে কথাই মুখে উচ্চারণ করে, তা গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রহরী প্রস্তুত রয়েছে)।

অতঃপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোন গোত্রের? মহিলা কুরআনের আয়াত দ্বারা জবাব দিয়ে বললেন-
لَا تَقْفُ مَالَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ
(অর্থ: যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়না)। আব্দুল্লহ ইবনে মুবারক বললেন, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমি ভুল স্বীকার করছি। মহিলা বললেন,
لَا تَثْرِيْبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ
(অর্থ: আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই, আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করুন)। অর্থাৎ, মহিলা এ আয়াত দ্বারা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি বললাম, ইচ্ছা করলে আমার উঁটের উপর আরোহণ করে নিজের কাফেলার সঙ্গে মিলিত হতে পারেন। মহিলা বললেন-
مَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَيْرِ يَعْلَمُهُ اللَّهُ
(অর্থ: আর তোমরা যা কিছু সৎ কাজ কর, আল্লাহ তা জানেন)। মাহিলা এ আয়াত পাঠ করে উঁটের উপর আরোহণ করতে সম্মতি জ্ঞাপন করলেন। অর্থাৎ, মহিলা এ আয়াত দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছেন যে, তুমি যদি আমাকে তোমার উঁটের পিঠে সওয়ার করিয়ে আমার গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দাও, তাহলে এটাও একটা সৎকাজ হবে। আর এ সৎকাজের প্রতিদান আল্লাহ তা'আলা তোমাকে দান করবেন। আমি এতে সম্মতি আছি। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি এ কথা শুনে নিজের উঁটকে বসালাম। মহিলা আরোহণ করার পূর্বে বললেন-
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغْضُوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
(অর্থ: মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী রাখে)। মহিলা এ আয়াত দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছেন যে, তুমি তোমার দৃষ্টিকে একটু অন্য দিকে ফিরিয়ে রাখো, যেন আমি উটের পিঠে সাওয়ার অবস্থায় কাপড়-চোপড় এলোমেলো হয়ে গেলে পর্দার ব্যাঘাত না ঘটে। যখন তিনি সাওয়ার হতে যাবেন তখন উট উত্তেজিত হয়ে দৌড় দিল, এতে তার কাপড় ছিড়ে গেল। মহিলা বললেন-
مَا أَصَابَ مِنْ مُّصِيبَةٍ فِي مَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ
(অর্থ: তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মরেই ফল)। আমি তাকে বললাম, একটু অপেক্ষা করুন, আমি উটনীটিকে বেঁধে নেই। তারপর আপনি সওয়ার হবেন। মহিলা বললেন:
فَفَهَّمْنْهَا سُلَيْمَانَ
(অর্থ: অতঃপর আমি সুলায়মানকে সে ফয়সালা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম)। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন- আমি উটনীটিকে বেঁধে বললাম, এবার সওয়ার হোন। তিনি আরোহণ করলেন এবং সওয়ারীতে আরোহণের দু'আ হিসেবে এই আয়াত পাঠ করলেন,
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هُذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبَّنَا لَمُنْقَلِبُونَ *
(অর্থ: পবিত্র তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তন করব)। অতঃপর আমি উস্ট্রির নাকিল ধরে রওনা হলাম, খুব দ্রুত ছুটে চললাম এবং সঙ্গে সঙ্গে উচ্চস্বরে চিৎকার করে উস্ট্রিকে হাঁকাচ্ছিলাম। মহিলা এ অবস্থা দেখে বললেন-
وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ
(অর্থ: পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কণ্ঠস্বর নিচু কর)। একথা শুনে আমি ধীরে ধীরে পথ চলতে চলতে গুণ গুণ করে কিছু কবিতা আবৃত্তি করতে আরম্ভ করলাম। একারণে মহিলা বললেন,
فَاقْرَؤُوْا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ
(অর্থ: কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ ততটুকু পড়)। আমি বললাম, আল্লাহর পক্ষ থেকে মহা কল্যাণের সঙ্গে আপনার সফলতা অর্জিত হয়েছে। মহিলা বললেন-
وَمَا يَتَذَكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ
(অর্থ: আর বোধশক্তি সম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে)।

কিছুক্ষণ নিঃশব্দে চলার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার স্বামী আছে কী? মহিলা বললেন,
لَا تَسْتَلُوْا عَنْ اَشْيَاءٍ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤكُمْ
(অর্থ: এমন কথা জিজ্ঞাসা করোনা যা তোমাদের কাছে প্রকাশিত হলে তোমাদের খারাপ লাগবে)।

মহিলা এ আয়াত দিয়ে বুঝাতে চাইলেন যে, মহিলার স্বামী নেই। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন, পথ চলতে চলতে যখন একটি কাফেলার সামনে এসে পড়লাম, তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কাফেলায় আপনার কেউ আছে কি? মহিলা বললেন-
اَلْمَالِ وَالْبَنُووْنَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
(অর্থ: ধন-সমপদ সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য)। আমি বুঝতে পারলাম যে, এই কাফেলায় তার ছেলে আছে। আমি পূণরায় তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কাফেলাতে তার কাজ কী? মহিলা বললেন-
وَعَلَامَةً وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ
(অর্থ: এবং তিনি পথনির্ণায়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং তারকা দ্বারাও মানুষ পথের নির্দেশ পায়)। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর ছেলে কাফেলার রাহ্‌বার তথা পথপ্রদর্শক। অতঃপর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার ছেলের নাম কি? মহিলা বললেন,
وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيْلًا، وَكَلَّمَ اللهُ مُوسَى تَكْلِيمًا، يَا يَحْى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ
(অর্থ: আল্লাহ ইব্রাহীম (আ.)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ মূসা (আ.) এর সঙ্গে কথোপকথন করেছেন। হে ইয়াহ্‌ইয়া (আ.) দৃঢ়তার সঙ্গে এই গ্রন্থ ধারণ কর)। কুরআনের উক্ত আয়াতসমূহ পাঠের মাধ্যমে মহিলা বুঝিয়ে দিলেন যে, তাঁর তিনটি ছেলে রয়েছে এবং তাদের নাম ইবরাহীম, মূসা ও ইয়াহ্‌ইয়া। এরপর আমি 'হে ইবরাহীম, হে মূসা, হে ইয়াহ্‌ইয়া' বলে আওয়াজ দিলাম। ক্ষণিকের মধ্যেই কয়েকজন যুবক আমার সামনে এসে দাঁড়াল, তারা সবাই তাঁর ছেলে। মহিলা ছেলেদেরকে বললেন,
فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرَقِكُمْ هَذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنْظُرْ أَيُّهَا أَزْكَى طَعَامًا فَلْيَأْتِكُمْ برِزْقٍ مِّنْهُ -
(অর্থঃ তোমাদের একজনকে এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর, সে যেন দেখে শুনে কোনো পবিত্র খাবার নিয়ে আসে)।

অতঃপর মহিলার একজন ছেলে গিয়ে কিছু ক্রয় করে নিয়ে এসে আমার সামনে পেশ করল। মহিলা বললেন,
كُلُوا وَاشْرَبُوا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَة
(অর্থঃ বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে তার প্রতিদান স্বরূপ তোমরা পানাহার কর)।

আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) বলেন, এখন আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না। ছেলেদেরকে সম্বোধন করে বললাম, তোমাদের খাবার আমার উপর হারাম, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এই মহিলার অবস্থা আমার নিকট বর্ণনা না করবে। ছেলেরা বলল, ❝আমাদের মায়ের ৪০ বৎসর যাবৎ এই অবস্থা। তিনি চল্লিশ বৎসর যাবৎ কুরআনের আয়াত ব্যতীত কোনো কথা বলেন নি। যাতে এমন কোনো অবৈধ বা অনুচিৎ কথাবার্তা তার মুখ দিয়ে নির্গত না হয় যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়।❞

আমি বললাম,
ذَالِكَ فَضْلُ اللهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
(অর্থ: আল্লাহরই অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন, আল্লাহ মহান অনুগ্রহশীল)।

প্রিয় পাঠক! বুঝতে পেরেছেন তো! একজন সাধারণ মহিলা কুরআনের প্রতি কতোটা প্রেমাসক্ত ছিলেন যে, চল্লিশ বৎসর যাবৎ কুরআনের আয়াত দ্বারা কথা বলেছেন। কুরআনের প্রতি কতটা মহব্বত থাকলে এটা সম্ভব হতে পারে। আল্লাহ্ পাক আমাদেরকেও তার মত কুরআনের প্রেমিক হওয়ার তাওফীক দান করুন।

উক্ত ঘটানাটি যদিও প্রায় ১৩০০ বৎসর পূর্বের কিন্তু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা জাল্লা শানুহু চাইলে এই আলৌকিক কাণ্ড যে কারো মাধ্যমে আজকের দিনেও প্রকাশ করতে পারেন এবং তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ নিচের ভিডিওটি।

©️ তাসাওউর - تصور - Tasawwur

بیت [পংক্তি]هر چہ خواہی کن ولی در عشق او دار احتیاط دلبر عیاّر پر شکست ہشیار احتیاطযা কিছু চাও কর বন্ধু, তবে তাঁর প্রেমে...
30/01/2025

بیت [পংক্তি]

هر چہ خواہی کن ولی در عشق او دار احتیاط
دلبر عیاّر پر شکست ہشیار احتیاط
যা কিছু চাও কর বন্ধু, তবে তাঁর প্রেমে সাবধান থেকো,
খাঁটি প্রেমাস্পদের ব্যাপারে তুমি সাবধানতা অবলম্বন কর।

قطعہ [কবিতাংশ]

تازنده در جہانم تو بانی جان جانم
اے غوث اللّہ الاعظم چیزے دگر تو دانی
از تو ترا بخواہد مقبول بینوایت
با درد و غم ہمہ دم چیزے دگر تو دانی
যতদিন বেঁচে থাকবো জগতে, আপনি থাকবেন আমার প্রাণের প্রাণ।
হে গাউছুল্লাহিল আজম! তাছাড়া অন্য বিষয় সম্পর্কে আপনি ভালো জানেন।
নিঃস্ব ও অসহায় মকবুল (গ্রন্থাকার) আপনার কাছে আপনাকে চাচ্ছি,
দুঃখ ও বিরহ বেদনায় আমি জর্জরিত, তাছাড়া অন্য বিষয় আপনি ভালো জানেন।

📗 আয়নায়ে বারী ফি তরজুমাতে গাউছিল্লাহিল আজম মাইজভান্ডারি, পৃষ্ঠা-১৪৭
✍️ শাহ্‌সুফি মওলানা সৈয়দ আবদুল গনি কাঞ্চনপুরী রহ.

তাসাওউর - تصور - Tasawwur

রাবেতা বা তাসাওউর-এ-শায়েখ বা পীরের ধ্যান (৬ষ্ঠ পর্ব) (বাকি পর্বগুলো পড়ুন তাসাওউর - تصور - Tasawwur গ্রুপে, প্রতিটি পোস্ট...
27/01/2025

রাবেতা বা তাসাওউর-এ-শায়েখ বা পীরের ধ্যান (৬ষ্ঠ পর্ব)

(বাকি পর্বগুলো পড়ুন তাসাওউর - تصور - Tasawwur গ্রুপে, প্রতিটি পোস্টের নিচে পরবর্তী পোস্টের লিংক সংযুক্ত আছে)

গ্রন্থ : আয়নায়ে বারী ফি তরজুমাতে গাউছিল্লাহিল আজম মাইজভান্ডারি
ষষ্ঠ ফরতু : পীরের সাথে নিসবত ও রাবেতার (সম্পর্ক) বর্ণনা প্রসঙ্গে
মুছান্নিফ (লেখক) : শাহ্ সুফি মওলানা মুহাম্মদ সৈয়দ আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী ইসলামাবাদী (কাদ্দাসাল্লাহু সির্‌রাহু)
অনুবাদ : মুহাম্মদ আলী আছগর

পীরের সাথে রাবেতা (সম্পর্ক) স্থাপনের জন্য পীরের হাত স্পর্শ করে বায়াত করা আবশ্যকীয় শর্ত নয় [এক্ষেত্রে যেকোন উপায়ে বায়াত হলে যথেষ্ট (অনুবাদক)]। বরং যে কোন উপায়ে নিসবত অর্জিত হওয়া তথা বায়াত নেওয়া এবং ছোহবত (সাহচর্য) দ্বারা সুশোভিত হওয়া অথবা হযরত পীর খেরকা প্রদান করা অথবা টুপি দান করা অথবা কাঁচি চালানো অর্থাৎ মুরিদের মাথা থেকে স্বল্প পরিমাণ চুল কর্তন করা অথবা মুরীদকে স্বীয় ছোহবত (সাহচর্য) ও খেদমতে কবুল করা এক্ষেত্রে যথেষ্ট। হযরত হাফেজ সিরাজী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন-

কবিতাংশ

সৌভাগের ধনাগারের চাবি প্রেমাস্পদকে গ্রহণ করার মধ্যে নিহিত।

পূর্ণতা (কামালিয়ত) স্তরে পৌঁছার জন্য আমাদের হযরত গাউছে পাক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এঁর তরিকার শায়খে মুকতাদা'র (শায়খে কামিল) সাথে মহব্বতের সম্পর্কের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে। একনিষ্ট খোদা অনুসন্ধানী এই মহব্বতের পথ দ্বারা যাহা সে নিজ পীরের সাথে রাখেন, তা দ্বারা ফয়জ ও বরকত তাঁর (পীর) বাতেন (অন্তর) থেকে অর্জন করেন। আর আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কারণে সে (মুরিদ) তাঁর (পীর) রঙ্গ ধারণ করে। তরিকতের বুজুর্গদের বাণী- 'ফানা ফিশ শায়েখ' (পীর কামেলে ফানা হওয়া) হল 'ফানা ফিল্লাহ্' (আল্লাহ্তে ফানা হওয়া) এর মূল কথা ও অগ্রবর্তী। হযরত শাহ্ নিয়াজ (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন-

কবিতা

আশেকদের মাদ্রাসায় (বিদ্যালয়) যার বিসমিল্লাহ পাঠ হল,
বন্ধুগণ! তার প্রথম পাঠ 'ফানা ফিল্লাহ্' হল।

উল্লেখিত রাবেতা (সম্পর্ক) ও 'ফানা ফিশ্‌শায়খ' ব্যতিত যিকর (খোদা স্মরণ) খোদার দিকে পৌঁছার পথ প্রশস্ত করে না। যাই হোক, যিকর হল খোদার দিকে পৌঁছানোর উপকরণ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইহা (যিকর) মহব্বতের সম্পর্ক ও 'ফানা ফিশ শায়খ' এর সাথে শর্তযুক্ত। হ্যাঁ, এই রাবেতা (সম্পর্ক) সোহ্‌বতের আদব সংরক্ষণ ও পীরের তাওয়াজ্জুহ্ ও দৃষ্টি দ্বারা যিকিরের পদ্ধতি পালন ব্যতিত অর্জিত হয়। যেহেতু অন্যন্য তরিকায় কর্ম পরিধি, অজিফা, জিকির-আযকার, রিয়াজত ও চিল্লা করা পীরে তরিকতের উপর সীমাবদ্ধ নয়। আর এই তরিকায়ে আলিয়ায় ফায়দা (কল্যাণ) ও ফয়জ লাভ জজ্‌বা প্রসূত। সেই জন্য আদব সহকারে শায়খে কামেলের সোহ্‌বত (সাহচর্য) যথেষ্ট।

আর অযিফা, যিকির-আযকার ও ইবাদত বন্দেগী সহায়কের শ্রেণিভুক্ত। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এঁর সোহ্‌বত (সাহচর্য) কামালিয়ত অর্জনের জন্য ঈমান, তাসলিম (আত্মসমর্পন) ও আনুগত্যের শর্ত সহকারে যথেষ্ট ছিল। সেই কারণে এই তরিকায় খোদার কাছে পৌঁছা অধিকতর নিকটবর্তী। বৃদ্ধ, যুবক, কিশোর, জীবিত ও মৃত শায়খে কামেল মুকাম্মেল থেকে ফয়জ ও বরকত অর্জনের ক্ষেত্রে এক বরাবর। যার কাছে এই খোদায়ী সম্পর্ক ভাগ্যে জুটেছে, সে দ্বীন ও দুনিয়ার নেয়ামত পেল। শায়খের বেলায়ত সমস্ত কর্মকাণ্ডসমূহ সম্পাদন করবে। সেই কারণে মাশায়েখে কেরামদের ঐক্যমত হয়েছে যে, ইহা থেকে উত্তম ও উন্নত কোন তরিকা নেই। 'রেসালায়ে বরযখিয়া' গ্রন্থে আছে যে, প্রথমে মুবতাদির (আরম্ভকারী বা মুরিদ) উচিত যে, শায়খের কথার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। যখন ইহাতে সক্ষমতা অর্জন করবে, তখন শায়খের কর্মকাণ্ড সমূহের দিকে অধিকাংশ নজর রাখবে। অতঃপর শায়খের গুনাগুন বা বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রাখবে। যখন ইহাতেও সক্ষমতা অর্জন করবে, তখন শায়খের সত্তার দিকে মত্ত হরে। একজনে (শায়খ) ফানা হওয়া এক্ষেত্রে সবটার জন্য যথেষ্ট। ফলে 'ফানা ফির রাসুল' ও 'ফানা ফিল্লাহ্'ও তার অর্জিত হয়ে যাবে। হযরত আরেফ রুমী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন-

মসনবী

যখন তুমি পীরে কামেলের সত্তাকে কবুল করে নিয়েছ,
তুমি তাঁর সত্তায় খোদা ও রাসুলের জলওয়া (দ্যুতি) দেখতে পাবে।
তুমি দুই জানিও না, দুই দেখিও না এবং দুইয়ের অনুসন্ধানী হয়ো না,
তুমি তাঁর (পীরে কামিল) সত্তাকে খোদার সত্তায় বিলীন মনে কর।
যদি তুমি পীরে কামেলকে খোদা থেকে আলাদা দেখ,
তবে হাকিকতের মূল রহস্য হারিয়ে ফেলবে।
পীরে কামেলকে যে দুই দেখেছে সে পথভ্রষ্ট হল
এবং সে প্রকৃতপক্ষে মুরীদ হল না।
নবী (আলাইহিস্‌সালাম) ও আউলিয়াদের (রহমতুল্লাহে আলাইহিম) সত্য মনে কর,
তাহলে তোমার কাছে গুপ্ত রহস্য সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।
মানবের মধ্যে সূর্য (পীরে কামেল) ছদ্মবেশ ধারণ করে এসেছে-
ইহা অনুধাবন কর, আল্লাহ সঠিক বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।

আল্লাহ্ তায়ালা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী। কেননা তিনি পুরুষ ও নারী ব্যতিত সৃষ্টজীবকে সৃষ্টি করেছেন। যেমন হযরত আদমকে (আলাইহিস্‌সালাম) সৃষ্টি করেছেন। অথবা নারী ব্যতিত সৃষ্টি জীব সৃষ্টি করেছেন। যেমন হযরত হাওয়া (আলাইহিস্‌সালাম) কে সৃষ্টি করেছেন। অথবা পুরুষ ব্যতিত সৃষ্টিকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। যেমন হযরত ইসা বিন মরিয়ম (আলাইহিস্‌সালাম) কে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু উক্ত পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিরাকার ও অদ্বিতীয় মহান কর্ম সম্পাদনকারী ও পবিত্র সত্তা প্রজনন ও জন্মদান স্বামী ও স্ত্রীর উপর স্থির করেছেন। আর এই কুদরত (ক্ষমতা) ও কর্মকৌশল নিজেকে (আল্লাহ্) প্রকাশ করে দেখালেন। আমাদের মধ্যেও এই ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু আমাদের পছন্দ এই ভাবে। দেখ! একটা কালো কাপড় লও। আর যতটুকু চাও আকাশের দিকে তুলে ধর। কখনও (কাপড়ে) আগুন লাগবে না। আগুনের শিখা (কাপড়ের) মাঝখানে রাখ। তখন ইহা (কাপড়) সূর্য থেকে যত দূরেই হোক না কেন ততক্ষণাৎ আগুন ধরে যাবে। তুমিও নিজকে কালো কাপড়ের মত মনে কর। আর তিনি (আল্লাহ্) নিরাকার তুলনাহীন সত্তাকে সূর্য মনে কর। আর শায়খে মুকতাদা (কামিল পীর) কে আগুনের শিখা নির্ধারণ কর। যেহেতু আল্লাহ্ তায়ালা ক্ষমতাবান যে, স্বীয় নেয়ামত কোন মাধ্যম ব্যতিত দান করবেন। কিন্তু আল্লাহ্‌র নিয়ম এইভাবে জারি আছে যে, মাধ্যম সহকারে দান করবেন। আল্লাহ্‌র বাণী- "আপনি আল্লাহ্‌র রীতিতে কখনও পরিবর্তন পাবেন না" (সূরা আহযাব : ৬২)। যেরূপ কা'বা শরীফ ইবাদতকারী ও উপাস্যের মাঝে রাবেতা স্বরূপ (সম্পর্ক স্থাপনকারী)। সেইরূপ মুর্শিদ প্রকৃত হেদায়তকারী (আল্লাহ্) ও হেদায়ত তালাশকারী মুরিদদের মাঝে রাবেতা স্বরূপ। যাইহোক, পৃথিবীটা অনেক মাশায়েখে কেরামদের দ্বারা ভরপুর। কিন্তু নিজের শায়খের সমকক্ষ কাউকে মনে করবে না।

কবিতা

প্রেমাস্পদ যদি হাজার হাজার রয়েছে।
স্বীয় প্রেমাস্পদ (মুরশিদ) এই একজনই।
আকাশে সূর্য একটি কিন্তু, নক্ষত্র হাজার হাজার।

ইহা ভুল কথা যে, মুর্শিদ ধর শক্তভাবে ধর। যে ব্যক্তি একজনের কাছে (শায়খ) গ্রহণযোগ্য, সে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। যে ব্যক্তি একজনের (শায়খ) কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, সে কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যেহেতু আউলিয়া কেরাম (রহমতুল্লাহে আলাইহিম) প্রকৃত পক্ষে সবাই মিলে এক।

কবিতা

সমস্ত আউলিয়া প্রকৃতপক্ষে এক দেহ বিশিষ্ট এবং বেশী নয়।
চাই, মাইজভাণ্ডারের বাদশাহ (গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী) এঁর কুকুর হোক বা বাগদাদের বাদশাহ (বড়পীর) হোক।

নির্বোধের মত ইহা চর্চাকারী হয়ো না যে, যেই ফকির (অলি) আসবেন তাঁরই হয়ে থাক। নয়! নয়! সবাইকে আদব কর, বিনয় ও সেবার মাধ্যমে এগিয়ে আস। আর নিজের শায়খকে (মুর্শিদ) ছাড়িও না। আল্লাহ্‌র বাণী- "আমরা তাঁর পয়গাম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না" (সূরা বাকারা : ২৮৫)। উক্ত আয়াতের মর্ম অনুধাবন কর। সবার পিতা হলেন হযরত আদম (আলাইহিস্‌সালাম)। কিন্তু যার সাথে তোমাদের অধিকতর নৈকট্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তিনিই তোমাদের পিতা। তার মালিকানার উত্তরাধিকার হতে পার। বরং নিজের পিতার মাধ্যমে যত পরিমাণ দূরে থাক, তবুও দাদার অংশ পেতে পার। কিন্তু পিতার মাধ্যম ত্যাগ করে কোন আত্মীয়ের পরিত্যাক্ত সম্পদ পাবে না। ইহা অত্যন্ত খারাপ কথা যে, আজকে একজনের মুরিদ হল, আগামীকাল অন্যজনের। এইরূপ ব্যক্তি সর্বদা বঞ্চিত হয়ে থাকে। কোন শায়খ এইরূপ ব্যক্তির দিকে অন্তরদৃষ্টি দেন না। যখন অন্তরদৃষ্টি দেননা তখন কি উপকার হবে?

পংক্তি

হৃদয় হৃদয়ের দ্বারা পথ প্রাপ্ত হয়,
এই ব্যাপারে সচেতন ব্যক্তি তা জানে।

হযরত শায়খ আকবর মহিউদ্দিন ইবনে আরবী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) নিম্নোক্ত আয়াতের তাফসিরে লিখেন। আল্লাহ্‌র বাণী "যারা বংশধর ছিল পরস্পরের" (সূরা আলে ইমরান: ৩৪)। বেলাদত (জন্ম) দুইভাগে বিভক্ত। যথাঃ সুরি (বাহ্যিক) ও মা'নবী (অপ্রকাশ্য)। পূর্ববতী যুগে যে সমস্ত নবী অপর নবীর (আলাইহিমুস্‌সালাম) তাওহীদ, মা'রেফত ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অনুসারী ছিলেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে অনুসৃত নবীর (আলাইহিমুস্‌সালাম) আধ্যাত্মিক সন্তান, বর্তমান সময়ের শায়খদের সন্তান-সন্ততির মত। যেমন বলা হয় যে, পিতা তিন জন। একজন হলেন তিনি, যিনি তোমাকে জন্ম দিয়েছেন। দ্বিতীয় জন হলেন- যিনি তোমাকে লালন পালন করেছেন। তৃতীয় জন হলেন- যিনি তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন বাহ্যিক জন্মের ক্ষেত্রে শরীর বা দেহের অস্তিত্ব মাতার গর্ভাশয়ে পিতার বীর্য দ্বারা জন্ম লাভ করে। অনুরূপভাবে, অপ্রকাশ্য জন্ম লাভের ক্ষেত্রে কলব (অন্তঃকরণ) এর বিদ্যমানতা প্রশিক্ষক শায়খের তাওয়াজ্জুহের নিঃশ্বাসে নফ্সের মানসিক শক্তির গর্ভাশয়ে প্রকাশিত হয়। সেই দিকে হযরত (আলাইহিস্‌সালাম) এঁর বাণী ইঙ্গিতবহ- "সে কখনো আসমানের উর্ধালোকে প্রবেশ করতে পারবে না, যে দ্বিতীয়বার জন্ম লাভ করেনি।” যেমন প্রকাশ্যভাবে অধিকাংশ নবীগন একই প্রজন্ম (বংশধর) এবং মেজাজের ক্ষেত্রে একে আপরের সাদৃশ্য ছিলেন। অনুরূপভাবে অপ্রকাশ্য জন্মের ক্ষেত্রে মুরিদ আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে স্বীয় পথপ্রদর্শক মুর্শিদের একই রং ধারণ করা আবশ্যক। সেই ক্ষেত্রে তাছাওরে শায়খের (শায়খের অবয়ব কল্পনা করা) বড় দখল রয়েছে। হযরত মাশায়েখ কেরাম (রহমতুল্লাহে আলাইহিম) বলেন, শায়খের বরযখ বড় প্রভাবশালী। তার চেয়ে বড় মূর্তি পূজা অন্য কোন বিষয় নয়। যদিও প্রকাশ্যভাবে মূর্তি পূজার মত। হযরত মাওলানা শাহ্ নিয়াজ (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন, 'মূর্তি পূজা ছাড়া আর তো কোন কাজ নেই।' হযরত আমির খসরু (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন,

কবিতা

'মানুষ বলে যে খসরু মূর্তি পূজা করে,
হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি মূর্তি পূজা করি,
পৃথিবীর লোকদের সাথে আমার কোন কাজ নেই।'

পংক্তি

আমার বন্ধুর মুর্তি আমার কাছে হযরত ইব্রাহীম খলিল (আলাইহিস্‌সালাম) এর মত মনে হয়েছিল,
এটি একটি মূর্তি রূপ, এর বাস্তবতা মূর্তি ভঙ্গকারী।

খোদার রহস্যাদি মুর্শিদের অবয়বে নিহিত। হাকিমে উম্মতে মুস্তাফা হযরত মওলানা শাহ অলি উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) স্বীয় পুস্তিকা 'আশবাহ ফি সালাসিলি আউলিয়াল্লাহ'তে হযরত সুলতানুল মুওয়াহ্হেদীন বুরহানুল আশেকীন হুজ্জাতুল মুতাওয়াক্কেলীন শায়খুল হক ওয়াশ শরা' ওয়াদ্দীন মওলানা কাযি খাঁন ইউসুফ নাছেহী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- মুর্শিদের বাহ্যিক অবয়ব প্রকাশ্যভাবে অবলোকন করা যায়। ইহা পানি ও কাঁদার অবগুন্ঠনে আল্লাহ্ তায়ালার দর্শন। আর মুর্শিদের যে বাহ্যিক অবয়ব নির্জনতায় প্রকাশিত হয় পানি ও কাঁদার অবগুন্ঠন ব্যতিত উহা আল্লাহ্‌র দর্শন। হাদিসের বাণী- 'নিশ্চয় আল্লাহ্ তায়ালা আদম (আলাইহিস্‌সালাম) কে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। যে আমাকে দেখল, সে আল্লাহ্কে দেখল'। এই বাণীটি এ ক্ষেত্রে যথার্থ।

কবিতা

যদি খোদার জাতের (সত্তা) তজাল্লি (নুরের আলোকছটা) দেখতে চাও,
তাহলে মানুষের আকৃতিকে দেখ,
খোদার সত্তাকে মানবের অভ্যন্তরে প্রকাশ্যভাবে প্রোজ্জ্বল দেখ।

কতেক নির্বোধ উক্ত পূণ্য কর্মের পথের কাঁটা হয়ে যায় এবং বলে বসে যে, জায়েজ নয়। কেননা উক্ত বিষয়টি ফিকহের কিতাব সমূহ দ্বারা সাব্যস্থ নয়। ঠিক কেউ যদি তাদের জিজ্ঞাসা করে, ফিকহ শাস্ত্রের সাথে উহার কি সম্পর্ক? ফিকহের মধ্যে তো বাহ্যিক আমল সমূহের বর্ণনা রয়েছে এবং বাতেনী মাসয়ালার বর্ণনা ও উল্লেখ তো সেখানে নেই? ইহা এমন একটি দৃষ্টান্ত যে, কেউ তরকারির দোকানদার থেকে আতর চাইতে লাগল অথবা আতরের দোকানে গিয়ে সেখানে দুধ খুঁজতে লাগল। এতদ্‌সত্ত্বেও যদি ফিক্‌হ থেকে উহার প্রমাণ চাও, তাও তাতে বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা নিজেদের স্বল্প গবেষণায় অবগত হতে না পারার কারণে তা জানতে পারছ না। যদি কোন বিষয়ের উপর কোন নস (কোরআন-হাদিসের দলিল) আদেশ ও নিষেধমূলক বিদ্যমান না থাকে, তখন উক্ত বিষয়টির ইবাহত (বৈধতা) মূলতঃ বিদ্যমান থাকে; যা অধিকাংশ ফকিহদের মতামত। বরং উসুলে ফিকহের কায়েদা (বিধান) হল- বস্তুর মৌলিকত্ব হচ্ছে মোবাহ (বৈধতা)। যেমন ইহ্য অধিকাংশ হানেফী ও শাফেয়ীদের অভিমত।

এই সমস্ত লোক ইহাও অভ্যাসে পরিণত করেছে যে, যদি কেউ ইহা যথার্থ মনে করে তাহলে তারা বগল ঝেঁকে কথা বানায় যে, ইহাতো ঠিক আছে। কিন্তু বিশেষ কিছু উদ্দেশ্যে নিষেধ করা হয়। যাতে পীরের পূজা না করতে থাকে। (তারা) ইহা বুঝে না যে, যদি এই নিয়ম হয়, তাহলে নামাজও বন্ধ করে দাও। ইহাতে সম্ভাবনা আছে যে, রিয়াকার (প্রদর্শনেচ্ছা নামাজী) না হয়ে যাও অথবা কা'বা অথবা ইমামকে সিজদার যোগ্য বানিয়ে না ফেল। বরং প্রত্যেক ইবাদতের মধ্যে এই ধরণের সংশয় সৃষ্টি হয়। হযরত মুসলেহ উদ্দিন সাদী সিরাজী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) - السلام عليك ياأيها النبي )হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক) উক্ত বাক্যে সম্বোধন সূচক 'কাফ' বর্ণের ব্যাপারে নামাজে হুজুরি কলবের আলোচনায় বলেন, তাঁর (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আকৃতি অন্তরে খেয়াল কর। ইমাম আহমদ কুস্তুলানী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) 'মাওয়াহেবে লাদুনিয়া' গ্রন্থে বলেন, অন্তরের মধ্যে তাঁর পবিত্র আকৃতি কল্পনা করবে। মোল্লা আলী ক্বারী (রহমতুল্লাহে আলাইহি)ও লিখেন যে, যিয়ারতকারী স্বীয় অন্তরে তাঁর (বুজুর্গ ব্যক্তি) মোবারক চেহারার কল্পনা করবে।

আর ফতোয়ায়ে আলমগীরির মধ্যেও বিদ্যমান আছে, "যিয়ারতকারী তাঁর (বুজুর্গ ব্যক্তি) সম্মানিত চেহারার কল্পনা করবে। যেন তিনি স্বীয় কবরে তার (যিয়ারতকারী) সম্পর্কে অবগত ও তার কথা শুনছেন।" ভালভাবে চিন্তা করে দেখ যে, উক্ত উদ্ধৃতিটি দ্বারা কি উপকারিতা লাভ হয়। যিয়ারতকারী কল্পনা করবে তাঁর (মাজারে শায়িত বুজুর্গ ব্যক্তি) চেহারা মোবারক, যেন তিনি আরাম করছেন এবং তাকে (যিয়ারতকারী) দেখছেন এবং তার (যিয়ারতকারী) কথা শুনছেন। মওলানা আবদুল হাই লৌখনবী (রহমতুল্লাহে আলাইহি)- 'যেন আমি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে দেখতেছি।' এই বাণীর উপকারিতা প্রসঙ্গে লিখেন- এই হাদিস এবং অনুরূপ হাদিস সমূহ; যা সিহাহ সিত্তার কিতাব সমূহে উল্লেখিত হয়েছে; প্রমাণ করে যে পীরের অবয়ব কল্পনা করা জায়েজ। আল্লাহ্‌র বাণী, 'হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও' (সূরা তওবা)। আল্লাহ্‌র বাণী 'আপনি আপনার পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাতে মগ্ন হোন' (সূরা মুযযাম্মিল-৮)। আল্লাহ্‌র বাণী- 'অতঃপর তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর, যদি তোমরা না জান' (সূরা নাহল)।

উক্ত আয়াত সমূহের তাফসির দেখ যে, সম্মানিত মুফাস্‌সিরগণ কি কি লিখেছেন। প্রকাশ্য বিষয়টি তো প্রকাশ্যে আছে। অপ্রকাশ্য বিষয়টি হল এই যে, শায়খের বরযখ গ্রহণ করবে। 'ইবনে মাজাহ' গ্রন্থে যা উল্লেখিত হয়েছে- রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তির ব্যাপারে খবর দিব না? সাহাবীগণ উত্তর দিলেন হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যাঁকে দেখলে আল্লাহ্‌র স্মরণ হয়।' উক্ত হাদিসে দেখ, কত সুক্ষাতিসুক্ষ্মভাবে সাব্যস্ত হয় যে, প্রকাশ্য অবয়ব অথবা অপ্রকাশ্য অবয়ব বরং অপ্রকাশ্য অবয়ব স্থিতিশীলতার দিকে টেনে নিয়ে যায়। মূলতঃ তাছাওরে শায়খ (শায়খের কল্পনা) এর মাসয়ালা কোরআন, হাদিস ও বিশুদ্ধচিত্ত সুফিয়া কেরামদের ঐকমত্য দ্বারা সাব্যস্ত। হযরত শায়খ হাজি এমদাদ উল্লাহ্ চিশতী ফারুকী মুহাজেরে মক্কী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) 'জিয়াউল কুলুব' গ্রন্থে বলেন- কলব (অন্তঃকরণ) এর সম্পর্ক শায়খের সাথে বিশ্বস্ত ভালবাসার সাথে এবং অত্যন্ত সম্মানের সাথে এই সুলুকের রাস্তায় পূর্বশর্ত এবং শ্রেষ্ঠ রুকন (ভিত্তি)।

হযরত গাউছে গাওয়ালিয়ারি (রহমতুল্লাহে আলাইহি) স্বীয় কিতাব 'জাওয়াহেরে খামসা' গ্রন্থে লিখেন- 'নিশ্চয় খোদার রাজ-রহস্য মুর্শিদের অবয়বে আবদ্ধ'। অতঃপর উচিত যে, প্রতি মুহুর্তে ও প্রত্যেক অবস্থায় মুর্শিদের অবয়ব অর্থাৎ আকৃতিকে প্রত্যক্ষভাবে অবলোকন করবে। যেমন নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন- "আদম (আলাইহিস্‌সালাম) কে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে' এবং আরো ইরশাদ করেন- 'মানব প্রতিপালকের আকৃতি স্বরূপ।' আরো ইরশাদ কমরো মানুষ আমার রহস্য এবং আমি (আল্লাহ্) মানুষের রহস্য'। অতএব, মুর্শিদের অবয়ব কল্পনা 'ফানা ফিস শায়খ' এর স্তরে উপনীত করে।

কবিতা

মুর্শিদের আকৃতি যেমনই দেখ, আল্লাহর সৌন্দর্য্যের দর্পন দেখ।

মওলানা শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) 'কওলুল জামিল' গ্রন্থে লিখেন যে, 'শ্রেষ্ঠ রুকন (ভিত্তি) হল কলবকে শায়খের সাথে ভালবাসা ও সম্মানের সাথে সম্পর্কিত করা এবং তাঁর অবয়ব কল্পনা করা।' হযরত হাজিউল হারামাইন শাহ্ মুহাম্মদ ছালেহ আবু শাহমা লাহুরী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) এঁর সম্মানিত দাদা রচিত 'আখলাকে সুফিয়া' পুস্তিকায় উল্লেখ আছে- 'আল্লাহর দিকে পৌঁছার ৩য় তরিকা হল রাবেতা (সম্পর্ক) স্থাপন ঐ পীরের সাথে যিনি শাহেদা (খোদার দর্শন) স্তরে পৌঁছেছেন এবং যিনি খোদার জাতের তজল্লী (দ্যুতি) অবলোকন করেছেন। তাঁর (শায়খ) দিদার (সাক্ষাত) নিম্নোক্ত আয়াতের মর্ম অনুযায়ী খোদা স্মরণের উপকারিতা দেয়। আল্লাহর বাণী- 'তাঁরা ঐ ব্যক্তি যাঁদের যখন দেখা হয়, আল্লাহ্‌র স্মরণ আসে'। আর তাঁদের ছোহবত (সাহচর্য) আল্লাহ্‌র সাথে বৈঠকের পর্যায়ভুক্ত। তাঁদের অসিলায় অগণিত কল্যাণ ও বরকতের কারণ। বুজুর্গানে দ্বীনের তাসাউফের কিতাবসমূহ উক্ত মাসয়ালায় পূর্ণ। যার বেশি আগ্রহ সে যেন দেখে নেয়। হযরত মওলানা কলিম উল্লাহ জাঁহা আবাদী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) লিখেন যে, উদ্দেশ্যহীন মুরিদগণ কোন কাজেরই নয়। মুরিদ হলেন তিনি; শায়খের প্রতি যার ভালবাসা উভয় জগতের ভালবাসার পুঁজি।

হযরত শায়খ ফরিদ উদ্দিন গঞ্জে শকর (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন- 'কিয়ামতের দিন যদি আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু আমার পীর হযরত খাজা বখতিয়ার কাকী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) এঁর আকৃতিতে তজল্লী (দ্যুতি) প্রকাশ করেন, তাহলে আমি তাকাব না'। এখানে অন্য একটি বিষয় বুঝিয়ে দিচ্ছি যে, খোদা তায়ালা মুতলাক (নিরঙ্কুশ) বস্তুর মধ্যেও নেই, সীমাবদ্ধ বস্তুর মধ্যেও নেই। সংশয়পূর্ণ বস্তুর মধ্যেও নেই, স্বচ্ছ বস্তুর মধ্যেও নেই। তিনি (আল্লাহ) সর্ব প্রকার শর্ত বা সীমাবদ্বতা থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত। কোন সীমা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা ভুল। নিজের রূহ (আত্মা) কে দেখ যে, ইহা তোমাদের সমন্ত শরীরের পরিচালক। তোমাদের প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও দেহ উহার (রূহ) অংশ গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু উহা (রূহ) কোন জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। তোমাদের সমস্ত শরীরকে ইহা পরিবেষ্টনকারী। পরকালে আল্লাহ তায়ালার তজল্লী বান্দাগণের নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী প্রকাশ পাবে। আল্লাহর বাণী-'আমার বান্দা আমার ব্যাপারে যেরূপ ধারণা করে আমি সে রকমই।'

বরং কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তায়ালা তজল্লী প্রকাশ করবেন। লোকেরা উহাকে অস্বীকার করবে এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ কথাবার্তা বলবে। যখন তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তজল্লী প্রকাশ করবেন (তখন তারা উপলদ্ধি করতে পারবে)। যখন সিজদা কর তখন ন্যায় বিচার করে দেখ যে, সমস্ত বর্ণসমূহ সুন্দরভাবে উচ্চারণ করা হয়ে থাকে। ইহার (বর্ণ) হাকিকত আলোক ছাড়া আর কি? কোন বর্ণও আলোক থেকে মুক্ত নয়। আলোক বর্ণ সমূহকে পরিবেষ্টনকারী। যেই বর্ণের আকৃতিতে তাকাবে জ্যোতিকে দেখে নাও। ইহা দ্বারা তোমরা উহাও জেনে গেছ যে, কেউ তো প্রকৃত জ্যোতিকে (আলোক) জেনে বর্ণসমূহকে চেনেন। কেননা-'আমি কোন কিছু দেখি নাই। কিন্তু ইহাতে খোদাকে দেখেছি।' আর কেউ বর্ণসমূহ থেকে আলোক পর্যন্ত পৌঁছেন। কেননা-'আমি কোন কিছু দেখি নাই। কিন্তু ইহার পর আল্লাহ্কে দেখছি।' এই বিষয়টি ঐ সমস্ত হযরতগণের জন্য প্রযোজ্য যাঁরা নিজেদেরকে ফানা করে দিয়েছেন।

কবিতা

যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার কল্পনায় তোমার হাস্তি (অস্তিত্ব) বিদ্যমান আছে মনে করবে,
তাহলে জেনে রাখ যে, নিশ্চিতভাবে মুর্তিপূজা বাকি আছে।
তুমি বলেছিলে যে, কল্পনার মুর্তিকে ভেঙ্গে ফেলেছি এবং মুক্তি পেয়েছি,
এই মুর্তি যেটি ধারণা করছ ভেঙ্গে ফেলেছ, তা বাকি আছে।

তার মূল আমিত্বকে বিনাশ করতে হবে। সেই কারণে যিকির-আযকার, ফিকির ও মোরাকাবা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেই গুলো অধিকহারে আল্লাহ্‌র একত্ববাদের দিকে পৌঁছিয়ে দেয়। আর কবিতা ও পংক্তি সমূহ সেই উদ্দেশ্যে শুনা হয়ে থাকে। নতুবা-

কবিতা

হে ভাই! তুমিও সেই তোমার একই ভাবনায়,
বাকিদের জন্য তুমি কেবল হাড় ও তন্তু।
তোমার চিন্তা যদি গোলাপ ফুল হয়, তবে তুমি গোলাপের বাগান,
আর যদি কাঁটা হয়, তবে তুমি গোসলখানার পানি গরম করার উনুনের জ্বালানী।

'কশলুল শরীফ' গ্রন্থে আছে যে, কোন বস্তুকে বরযখ বালাতে চাইলে বানানো যায়। কেননা বরযখ মাধ্যমের নাম; যেটি অন্তর ও উদ্দিষ্ট বস্তুর মধ্যবর্তী হয়ে থাকে। সালেকের উদ্দেশ্য সুক্ষ্মতা ও স্বাচ্ছতার কারণে অন্য কোন পবিত্র বস্তুতে আসে না। অতএব, উহার সৌন্দর্য যে বস্তুর মধ্যে খেয়াল করবে তা যথাযথ এবং উহার নাম বরযখ। আর ইহা আপনার জানা হয়ে গেল যে, উহা (বরযখ) থেকে কোন বস্তু খালি নয়। যেখানে তুমি খেয়াল করবে (বরযখ) পাবে। তবে পার্থক্য এই পরিমাণ যে, স্থুল বস্তুর বরযখ গ্রহণ করলে স্থুলতা সৃষ্টি হবে। আর সূক্ষ্ম বস্তু হতে সূক্ষ্মতা বৃদ্ধি পায়। শায়খে কামেলের যার যেরূপ সক্ষমতা দেখা যায়, তিনি সেইরূপ বরযখের হেদায়েত দান করেন। উত্তম কল্পনা সঞ্চিত করার পদ্ধতি এই যে, যে বস্তুতে বেশি মহব্বত (ভালবাসা) থাকে বা যে বস্তু হতে তুমি ভয় পাও উহাকে খেয়াল কর, ভাড়াতাড়ি সফল হবে। 'রেসালায়ে হক নামা' গ্রন্থে লিখা আছে, খোদা অনুসন্ধানীদের উচিত যে, নির্জনতায় মুর্শিদের ছুরত বা অবয়ব অথবা মাশুক মজাজি (রূপক প্রেমাস্পদ) এর কল্পনা করতে থাকবে। হযরত শাহ্ শরফউদ্দিন আহ্‌মদ ইয়াহইয়া মুনিরীর (রহমতুল্লাহে আলাইহি) মকতুবাত শরীফে দেখ যে, উহাতে কেমন তাগিদ লিপিবদ্ধ আছে। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এঁর শ্রেষ্ঠত্ব উহা হতে সাব্যস্ত করা হয়। যাঁর রাবেতা (সম্পর্ক) বিশুদ্ধ, তিনি সবার থেকে কামিল। 'মকতুবাতে কুদুসিয়া' (পবিত্র ব্যক্তিগণের গ্রন্থ সমূহ) কে দেখ, তাঁরা কি পরিমাণ সেই ব্যাপারে লিখেছেন। মূলতঃ খোদা পথচারীর জন্য শায়খে কামেলের বরযখ কিমিয়ায়ে সা'দত (সৌভাগ্যের পরশমণি)। হযরত মওলানা জামী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) 'নফহাতুল উনস' গ্রন্থে বলেন, যার সামান্য রাবেতাও (সম্পর্ক) উক্ত প্রিয় জনদের সাথে হল, আশা করা যায় যে, শেষ পরিণতি তাঁদের সাথে সংযুক্ত হবে। আর আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

১ম পর্ব লিংক
https://www.facebook.com/share/p/1BjGCoNdeG/

#তাসাওউর
#তাচাওউর
#তাসাব্বুর
#তাসাউউর

Address

Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইশকের সফর - IshqEr Sofor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share