27/01/2025
রাবেতা বা তাসাওউর-এ-শায়েখ বা পীরের ধ্যান (৬ষ্ঠ পর্ব)
(বাকি পর্বগুলো পড়ুন তাসাওউর - تصور - Tasawwur গ্রুপে, প্রতিটি পোস্টের নিচে পরবর্তী পোস্টের লিংক সংযুক্ত আছে)
গ্রন্থ : আয়নায়ে বারী ফি তরজুমাতে গাউছিল্লাহিল আজম মাইজভান্ডারি
ষষ্ঠ ফরতু : পীরের সাথে নিসবত ও রাবেতার (সম্পর্ক) বর্ণনা প্রসঙ্গে
মুছান্নিফ (লেখক) : শাহ্ সুফি মওলানা মুহাম্মদ সৈয়দ আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী ইসলামাবাদী (কাদ্দাসাল্লাহু সির্রাহু)
অনুবাদ : মুহাম্মদ আলী আছগর
পীরের সাথে রাবেতা (সম্পর্ক) স্থাপনের জন্য পীরের হাত স্পর্শ করে বায়াত করা আবশ্যকীয় শর্ত নয় [এক্ষেত্রে যেকোন উপায়ে বায়াত হলে যথেষ্ট (অনুবাদক)]। বরং যে কোন উপায়ে নিসবত অর্জিত হওয়া তথা বায়াত নেওয়া এবং ছোহবত (সাহচর্য) দ্বারা সুশোভিত হওয়া অথবা হযরত পীর খেরকা প্রদান করা অথবা টুপি দান করা অথবা কাঁচি চালানো অর্থাৎ মুরিদের মাথা থেকে স্বল্প পরিমাণ চুল কর্তন করা অথবা মুরীদকে স্বীয় ছোহবত (সাহচর্য) ও খেদমতে কবুল করা এক্ষেত্রে যথেষ্ট। হযরত হাফেজ সিরাজী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন-
কবিতাংশ
সৌভাগের ধনাগারের চাবি প্রেমাস্পদকে গ্রহণ করার মধ্যে নিহিত।
পূর্ণতা (কামালিয়ত) স্তরে পৌঁছার জন্য আমাদের হযরত গাউছে পাক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এঁর তরিকার শায়খে মুকতাদা'র (শায়খে কামিল) সাথে মহব্বতের সম্পর্কের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে। একনিষ্ট খোদা অনুসন্ধানী এই মহব্বতের পথ দ্বারা যাহা সে নিজ পীরের সাথে রাখেন, তা দ্বারা ফয়জ ও বরকত তাঁর (পীর) বাতেন (অন্তর) থেকে অর্জন করেন। আর আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কারণে সে (মুরিদ) তাঁর (পীর) রঙ্গ ধারণ করে। তরিকতের বুজুর্গদের বাণী- 'ফানা ফিশ শায়েখ' (পীর কামেলে ফানা হওয়া) হল 'ফানা ফিল্লাহ্' (আল্লাহ্তে ফানা হওয়া) এর মূল কথা ও অগ্রবর্তী। হযরত শাহ্ নিয়াজ (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন-
কবিতা
আশেকদের মাদ্রাসায় (বিদ্যালয়) যার বিসমিল্লাহ পাঠ হল,
বন্ধুগণ! তার প্রথম পাঠ 'ফানা ফিল্লাহ্' হল।
উল্লেখিত রাবেতা (সম্পর্ক) ও 'ফানা ফিশ্শায়খ' ব্যতিত যিকর (খোদা স্মরণ) খোদার দিকে পৌঁছার পথ প্রশস্ত করে না। যাই হোক, যিকর হল খোদার দিকে পৌঁছানোর উপকরণ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইহা (যিকর) মহব্বতের সম্পর্ক ও 'ফানা ফিশ শায়খ' এর সাথে শর্তযুক্ত। হ্যাঁ, এই রাবেতা (সম্পর্ক) সোহ্বতের আদব সংরক্ষণ ও পীরের তাওয়াজ্জুহ্ ও দৃষ্টি দ্বারা যিকিরের পদ্ধতি পালন ব্যতিত অর্জিত হয়। যেহেতু অন্যন্য তরিকায় কর্ম পরিধি, অজিফা, জিকির-আযকার, রিয়াজত ও চিল্লা করা পীরে তরিকতের উপর সীমাবদ্ধ নয়। আর এই তরিকায়ে আলিয়ায় ফায়দা (কল্যাণ) ও ফয়জ লাভ জজ্বা প্রসূত। সেই জন্য আদব সহকারে শায়খে কামেলের সোহ্বত (সাহচর্য) যথেষ্ট।
আর অযিফা, যিকির-আযকার ও ইবাদত বন্দেগী সহায়কের শ্রেণিভুক্ত। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এঁর সোহ্বত (সাহচর্য) কামালিয়ত অর্জনের জন্য ঈমান, তাসলিম (আত্মসমর্পন) ও আনুগত্যের শর্ত সহকারে যথেষ্ট ছিল। সেই কারণে এই তরিকায় খোদার কাছে পৌঁছা অধিকতর নিকটবর্তী। বৃদ্ধ, যুবক, কিশোর, জীবিত ও মৃত শায়খে কামেল মুকাম্মেল থেকে ফয়জ ও বরকত অর্জনের ক্ষেত্রে এক বরাবর। যার কাছে এই খোদায়ী সম্পর্ক ভাগ্যে জুটেছে, সে দ্বীন ও দুনিয়ার নেয়ামত পেল। শায়খের বেলায়ত সমস্ত কর্মকাণ্ডসমূহ সম্পাদন করবে। সেই কারণে মাশায়েখে কেরামদের ঐক্যমত হয়েছে যে, ইহা থেকে উত্তম ও উন্নত কোন তরিকা নেই। 'রেসালায়ে বরযখিয়া' গ্রন্থে আছে যে, প্রথমে মুবতাদির (আরম্ভকারী বা মুরিদ) উচিত যে, শায়খের কথার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। যখন ইহাতে সক্ষমতা অর্জন করবে, তখন শায়খের কর্মকাণ্ড সমূহের দিকে অধিকাংশ নজর রাখবে। অতঃপর শায়খের গুনাগুন বা বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রাখবে। যখন ইহাতেও সক্ষমতা অর্জন করবে, তখন শায়খের সত্তার দিকে মত্ত হরে। একজনে (শায়খ) ফানা হওয়া এক্ষেত্রে সবটার জন্য যথেষ্ট। ফলে 'ফানা ফির রাসুল' ও 'ফানা ফিল্লাহ্'ও তার অর্জিত হয়ে যাবে। হযরত আরেফ রুমী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন-
মসনবী
যখন তুমি পীরে কামেলের সত্তাকে কবুল করে নিয়েছ,
তুমি তাঁর সত্তায় খোদা ও রাসুলের জলওয়া (দ্যুতি) দেখতে পাবে।
তুমি দুই জানিও না, দুই দেখিও না এবং দুইয়ের অনুসন্ধানী হয়ো না,
তুমি তাঁর (পীরে কামিল) সত্তাকে খোদার সত্তায় বিলীন মনে কর।
যদি তুমি পীরে কামেলকে খোদা থেকে আলাদা দেখ,
তবে হাকিকতের মূল রহস্য হারিয়ে ফেলবে।
পীরে কামেলকে যে দুই দেখেছে সে পথভ্রষ্ট হল
এবং সে প্রকৃতপক্ষে মুরীদ হল না।
নবী (আলাইহিস্সালাম) ও আউলিয়াদের (রহমতুল্লাহে আলাইহিম) সত্য মনে কর,
তাহলে তোমার কাছে গুপ্ত রহস্য সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।
মানবের মধ্যে সূর্য (পীরে কামেল) ছদ্মবেশ ধারণ করে এসেছে-
ইহা অনুধাবন কর, আল্লাহ সঠিক বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।
আল্লাহ্ তায়ালা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী। কেননা তিনি পুরুষ ও নারী ব্যতিত সৃষ্টজীবকে সৃষ্টি করেছেন। যেমন হযরত আদমকে (আলাইহিস্সালাম) সৃষ্টি করেছেন। অথবা নারী ব্যতিত সৃষ্টি জীব সৃষ্টি করেছেন। যেমন হযরত হাওয়া (আলাইহিস্সালাম) কে সৃষ্টি করেছেন। অথবা পুরুষ ব্যতিত সৃষ্টিকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। যেমন হযরত ইসা বিন মরিয়ম (আলাইহিস্সালাম) কে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু উক্ত পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিরাকার ও অদ্বিতীয় মহান কর্ম সম্পাদনকারী ও পবিত্র সত্তা প্রজনন ও জন্মদান স্বামী ও স্ত্রীর উপর স্থির করেছেন। আর এই কুদরত (ক্ষমতা) ও কর্মকৌশল নিজেকে (আল্লাহ্) প্রকাশ করে দেখালেন। আমাদের মধ্যেও এই ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু আমাদের পছন্দ এই ভাবে। দেখ! একটা কালো কাপড় লও। আর যতটুকু চাও আকাশের দিকে তুলে ধর। কখনও (কাপড়ে) আগুন লাগবে না। আগুনের শিখা (কাপড়ের) মাঝখানে রাখ। তখন ইহা (কাপড়) সূর্য থেকে যত দূরেই হোক না কেন ততক্ষণাৎ আগুন ধরে যাবে। তুমিও নিজকে কালো কাপড়ের মত মনে কর। আর তিনি (আল্লাহ্) নিরাকার তুলনাহীন সত্তাকে সূর্য মনে কর। আর শায়খে মুকতাদা (কামিল পীর) কে আগুনের শিখা নির্ধারণ কর। যেহেতু আল্লাহ্ তায়ালা ক্ষমতাবান যে, স্বীয় নেয়ামত কোন মাধ্যম ব্যতিত দান করবেন। কিন্তু আল্লাহ্র নিয়ম এইভাবে জারি আছে যে, মাধ্যম সহকারে দান করবেন। আল্লাহ্র বাণী- "আপনি আল্লাহ্র রীতিতে কখনও পরিবর্তন পাবেন না" (সূরা আহযাব : ৬২)। যেরূপ কা'বা শরীফ ইবাদতকারী ও উপাস্যের মাঝে রাবেতা স্বরূপ (সম্পর্ক স্থাপনকারী)। সেইরূপ মুর্শিদ প্রকৃত হেদায়তকারী (আল্লাহ্) ও হেদায়ত তালাশকারী মুরিদদের মাঝে রাবেতা স্বরূপ। যাইহোক, পৃথিবীটা অনেক মাশায়েখে কেরামদের দ্বারা ভরপুর। কিন্তু নিজের শায়খের সমকক্ষ কাউকে মনে করবে না।
কবিতা
প্রেমাস্পদ যদি হাজার হাজার রয়েছে।
স্বীয় প্রেমাস্পদ (মুরশিদ) এই একজনই।
আকাশে সূর্য একটি কিন্তু, নক্ষত্র হাজার হাজার।
ইহা ভুল কথা যে, মুর্শিদ ধর শক্তভাবে ধর। যে ব্যক্তি একজনের কাছে (শায়খ) গ্রহণযোগ্য, সে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। যে ব্যক্তি একজনের (শায়খ) কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, সে কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যেহেতু আউলিয়া কেরাম (রহমতুল্লাহে আলাইহিম) প্রকৃত পক্ষে সবাই মিলে এক।
কবিতা
সমস্ত আউলিয়া প্রকৃতপক্ষে এক দেহ বিশিষ্ট এবং বেশী নয়।
চাই, মাইজভাণ্ডারের বাদশাহ (গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী) এঁর কুকুর হোক বা বাগদাদের বাদশাহ (বড়পীর) হোক।
নির্বোধের মত ইহা চর্চাকারী হয়ো না যে, যেই ফকির (অলি) আসবেন তাঁরই হয়ে থাক। নয়! নয়! সবাইকে আদব কর, বিনয় ও সেবার মাধ্যমে এগিয়ে আস। আর নিজের শায়খকে (মুর্শিদ) ছাড়িও না। আল্লাহ্র বাণী- "আমরা তাঁর পয়গাম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না" (সূরা বাকারা : ২৮৫)। উক্ত আয়াতের মর্ম অনুধাবন কর। সবার পিতা হলেন হযরত আদম (আলাইহিস্সালাম)। কিন্তু যার সাথে তোমাদের অধিকতর নৈকট্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তিনিই তোমাদের পিতা। তার মালিকানার উত্তরাধিকার হতে পার। বরং নিজের পিতার মাধ্যমে যত পরিমাণ দূরে থাক, তবুও দাদার অংশ পেতে পার। কিন্তু পিতার মাধ্যম ত্যাগ করে কোন আত্মীয়ের পরিত্যাক্ত সম্পদ পাবে না। ইহা অত্যন্ত খারাপ কথা যে, আজকে একজনের মুরিদ হল, আগামীকাল অন্যজনের। এইরূপ ব্যক্তি সর্বদা বঞ্চিত হয়ে থাকে। কোন শায়খ এইরূপ ব্যক্তির দিকে অন্তরদৃষ্টি দেন না। যখন অন্তরদৃষ্টি দেননা তখন কি উপকার হবে?
পংক্তি
হৃদয় হৃদয়ের দ্বারা পথ প্রাপ্ত হয়,
এই ব্যাপারে সচেতন ব্যক্তি তা জানে।
হযরত শায়খ আকবর মহিউদ্দিন ইবনে আরবী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) নিম্নোক্ত আয়াতের তাফসিরে লিখেন। আল্লাহ্র বাণী "যারা বংশধর ছিল পরস্পরের" (সূরা আলে ইমরান: ৩৪)। বেলাদত (জন্ম) দুইভাগে বিভক্ত। যথাঃ সুরি (বাহ্যিক) ও মা'নবী (অপ্রকাশ্য)। পূর্ববতী যুগে যে সমস্ত নবী অপর নবীর (আলাইহিমুস্সালাম) তাওহীদ, মা'রেফত ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অনুসারী ছিলেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে অনুসৃত নবীর (আলাইহিমুস্সালাম) আধ্যাত্মিক সন্তান, বর্তমান সময়ের শায়খদের সন্তান-সন্ততির মত। যেমন বলা হয় যে, পিতা তিন জন। একজন হলেন তিনি, যিনি তোমাকে জন্ম দিয়েছেন। দ্বিতীয় জন হলেন- যিনি তোমাকে লালন পালন করেছেন। তৃতীয় জন হলেন- যিনি তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন বাহ্যিক জন্মের ক্ষেত্রে শরীর বা দেহের অস্তিত্ব মাতার গর্ভাশয়ে পিতার বীর্য দ্বারা জন্ম লাভ করে। অনুরূপভাবে, অপ্রকাশ্য জন্ম লাভের ক্ষেত্রে কলব (অন্তঃকরণ) এর বিদ্যমানতা প্রশিক্ষক শায়খের তাওয়াজ্জুহের নিঃশ্বাসে নফ্সের মানসিক শক্তির গর্ভাশয়ে প্রকাশিত হয়। সেই দিকে হযরত (আলাইহিস্সালাম) এঁর বাণী ইঙ্গিতবহ- "সে কখনো আসমানের উর্ধালোকে প্রবেশ করতে পারবে না, যে দ্বিতীয়বার জন্ম লাভ করেনি।” যেমন প্রকাশ্যভাবে অধিকাংশ নবীগন একই প্রজন্ম (বংশধর) এবং মেজাজের ক্ষেত্রে একে আপরের সাদৃশ্য ছিলেন। অনুরূপভাবে অপ্রকাশ্য জন্মের ক্ষেত্রে মুরিদ আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে স্বীয় পথপ্রদর্শক মুর্শিদের একই রং ধারণ করা আবশ্যক। সেই ক্ষেত্রে তাছাওরে শায়খের (শায়খের অবয়ব কল্পনা করা) বড় দখল রয়েছে। হযরত মাশায়েখ কেরাম (রহমতুল্লাহে আলাইহিম) বলেন, শায়খের বরযখ বড় প্রভাবশালী। তার চেয়ে বড় মূর্তি পূজা অন্য কোন বিষয় নয়। যদিও প্রকাশ্যভাবে মূর্তি পূজার মত। হযরত মাওলানা শাহ্ নিয়াজ (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন, 'মূর্তি পূজা ছাড়া আর তো কোন কাজ নেই।' হযরত আমির খসরু (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন,
কবিতা
'মানুষ বলে যে খসরু মূর্তি পূজা করে,
হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি মূর্তি পূজা করি,
পৃথিবীর লোকদের সাথে আমার কোন কাজ নেই।'
পংক্তি
আমার বন্ধুর মুর্তি আমার কাছে হযরত ইব্রাহীম খলিল (আলাইহিস্সালাম) এর মত মনে হয়েছিল,
এটি একটি মূর্তি রূপ, এর বাস্তবতা মূর্তি ভঙ্গকারী।
খোদার রহস্যাদি মুর্শিদের অবয়বে নিহিত। হাকিমে উম্মতে মুস্তাফা হযরত মওলানা শাহ অলি উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) স্বীয় পুস্তিকা 'আশবাহ ফি সালাসিলি আউলিয়াল্লাহ'তে হযরত সুলতানুল মুওয়াহ্হেদীন বুরহানুল আশেকীন হুজ্জাতুল মুতাওয়াক্কেলীন শায়খুল হক ওয়াশ শরা' ওয়াদ্দীন মওলানা কাযি খাঁন ইউসুফ নাছেহী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- মুর্শিদের বাহ্যিক অবয়ব প্রকাশ্যভাবে অবলোকন করা যায়। ইহা পানি ও কাঁদার অবগুন্ঠনে আল্লাহ্ তায়ালার দর্শন। আর মুর্শিদের যে বাহ্যিক অবয়ব নির্জনতায় প্রকাশিত হয় পানি ও কাঁদার অবগুন্ঠন ব্যতিত উহা আল্লাহ্র দর্শন। হাদিসের বাণী- 'নিশ্চয় আল্লাহ্ তায়ালা আদম (আলাইহিস্সালাম) কে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। যে আমাকে দেখল, সে আল্লাহ্কে দেখল'। এই বাণীটি এ ক্ষেত্রে যথার্থ।
কবিতা
যদি খোদার জাতের (সত্তা) তজাল্লি (নুরের আলোকছটা) দেখতে চাও,
তাহলে মানুষের আকৃতিকে দেখ,
খোদার সত্তাকে মানবের অভ্যন্তরে প্রকাশ্যভাবে প্রোজ্জ্বল দেখ।
কতেক নির্বোধ উক্ত পূণ্য কর্মের পথের কাঁটা হয়ে যায় এবং বলে বসে যে, জায়েজ নয়। কেননা উক্ত বিষয়টি ফিকহের কিতাব সমূহ দ্বারা সাব্যস্থ নয়। ঠিক কেউ যদি তাদের জিজ্ঞাসা করে, ফিকহ শাস্ত্রের সাথে উহার কি সম্পর্ক? ফিকহের মধ্যে তো বাহ্যিক আমল সমূহের বর্ণনা রয়েছে এবং বাতেনী মাসয়ালার বর্ণনা ও উল্লেখ তো সেখানে নেই? ইহা এমন একটি দৃষ্টান্ত যে, কেউ তরকারির দোকানদার থেকে আতর চাইতে লাগল অথবা আতরের দোকানে গিয়ে সেখানে দুধ খুঁজতে লাগল। এতদ্সত্ত্বেও যদি ফিক্হ থেকে উহার প্রমাণ চাও, তাও তাতে বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা নিজেদের স্বল্প গবেষণায় অবগত হতে না পারার কারণে তা জানতে পারছ না। যদি কোন বিষয়ের উপর কোন নস (কোরআন-হাদিসের দলিল) আদেশ ও নিষেধমূলক বিদ্যমান না থাকে, তখন উক্ত বিষয়টির ইবাহত (বৈধতা) মূলতঃ বিদ্যমান থাকে; যা অধিকাংশ ফকিহদের মতামত। বরং উসুলে ফিকহের কায়েদা (বিধান) হল- বস্তুর মৌলিকত্ব হচ্ছে মোবাহ (বৈধতা)। যেমন ইহ্য অধিকাংশ হানেফী ও শাফেয়ীদের অভিমত।
এই সমস্ত লোক ইহাও অভ্যাসে পরিণত করেছে যে, যদি কেউ ইহা যথার্থ মনে করে তাহলে তারা বগল ঝেঁকে কথা বানায় যে, ইহাতো ঠিক আছে। কিন্তু বিশেষ কিছু উদ্দেশ্যে নিষেধ করা হয়। যাতে পীরের পূজা না করতে থাকে। (তারা) ইহা বুঝে না যে, যদি এই নিয়ম হয়, তাহলে নামাজও বন্ধ করে দাও। ইহাতে সম্ভাবনা আছে যে, রিয়াকার (প্রদর্শনেচ্ছা নামাজী) না হয়ে যাও অথবা কা'বা অথবা ইমামকে সিজদার যোগ্য বানিয়ে না ফেল। বরং প্রত্যেক ইবাদতের মধ্যে এই ধরণের সংশয় সৃষ্টি হয়। হযরত মুসলেহ উদ্দিন সাদী সিরাজী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) - السلام عليك ياأيها النبي )হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক) উক্ত বাক্যে সম্বোধন সূচক 'কাফ' বর্ণের ব্যাপারে নামাজে হুজুরি কলবের আলোচনায় বলেন, তাঁর (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আকৃতি অন্তরে খেয়াল কর। ইমাম আহমদ কুস্তুলানী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) 'মাওয়াহেবে লাদুনিয়া' গ্রন্থে বলেন, অন্তরের মধ্যে তাঁর পবিত্র আকৃতি কল্পনা করবে। মোল্লা আলী ক্বারী (রহমতুল্লাহে আলাইহি)ও লিখেন যে, যিয়ারতকারী স্বীয় অন্তরে তাঁর (বুজুর্গ ব্যক্তি) মোবারক চেহারার কল্পনা করবে।
আর ফতোয়ায়ে আলমগীরির মধ্যেও বিদ্যমান আছে, "যিয়ারতকারী তাঁর (বুজুর্গ ব্যক্তি) সম্মানিত চেহারার কল্পনা করবে। যেন তিনি স্বীয় কবরে তার (যিয়ারতকারী) সম্পর্কে অবগত ও তার কথা শুনছেন।" ভালভাবে চিন্তা করে দেখ যে, উক্ত উদ্ধৃতিটি দ্বারা কি উপকারিতা লাভ হয়। যিয়ারতকারী কল্পনা করবে তাঁর (মাজারে শায়িত বুজুর্গ ব্যক্তি) চেহারা মোবারক, যেন তিনি আরাম করছেন এবং তাকে (যিয়ারতকারী) দেখছেন এবং তার (যিয়ারতকারী) কথা শুনছেন। মওলানা আবদুল হাই লৌখনবী (রহমতুল্লাহে আলাইহি)- 'যেন আমি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে দেখতেছি।' এই বাণীর উপকারিতা প্রসঙ্গে লিখেন- এই হাদিস এবং অনুরূপ হাদিস সমূহ; যা সিহাহ সিত্তার কিতাব সমূহে উল্লেখিত হয়েছে; প্রমাণ করে যে পীরের অবয়ব কল্পনা করা জায়েজ। আল্লাহ্র বাণী, 'হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও' (সূরা তওবা)। আল্লাহ্র বাণী 'আপনি আপনার পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাতে মগ্ন হোন' (সূরা মুযযাম্মিল-৮)। আল্লাহ্র বাণী- 'অতঃপর তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর, যদি তোমরা না জান' (সূরা নাহল)।
উক্ত আয়াত সমূহের তাফসির দেখ যে, সম্মানিত মুফাস্সিরগণ কি কি লিখেছেন। প্রকাশ্য বিষয়টি তো প্রকাশ্যে আছে। অপ্রকাশ্য বিষয়টি হল এই যে, শায়খের বরযখ গ্রহণ করবে। 'ইবনে মাজাহ' গ্রন্থে যা উল্লেখিত হয়েছে- রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তির ব্যাপারে খবর দিব না? সাহাবীগণ উত্তর দিলেন হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যাঁকে দেখলে আল্লাহ্র স্মরণ হয়।' উক্ত হাদিসে দেখ, কত সুক্ষাতিসুক্ষ্মভাবে সাব্যস্ত হয় যে, প্রকাশ্য অবয়ব অথবা অপ্রকাশ্য অবয়ব বরং অপ্রকাশ্য অবয়ব স্থিতিশীলতার দিকে টেনে নিয়ে যায়। মূলতঃ তাছাওরে শায়খ (শায়খের কল্পনা) এর মাসয়ালা কোরআন, হাদিস ও বিশুদ্ধচিত্ত সুফিয়া কেরামদের ঐকমত্য দ্বারা সাব্যস্ত। হযরত শায়খ হাজি এমদাদ উল্লাহ্ চিশতী ফারুকী মুহাজেরে মক্কী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) 'জিয়াউল কুলুব' গ্রন্থে বলেন- কলব (অন্তঃকরণ) এর সম্পর্ক শায়খের সাথে বিশ্বস্ত ভালবাসার সাথে এবং অত্যন্ত সম্মানের সাথে এই সুলুকের রাস্তায় পূর্বশর্ত এবং শ্রেষ্ঠ রুকন (ভিত্তি)।
হযরত গাউছে গাওয়ালিয়ারি (রহমতুল্লাহে আলাইহি) স্বীয় কিতাব 'জাওয়াহেরে খামসা' গ্রন্থে লিখেন- 'নিশ্চয় খোদার রাজ-রহস্য মুর্শিদের অবয়বে আবদ্ধ'। অতঃপর উচিত যে, প্রতি মুহুর্তে ও প্রত্যেক অবস্থায় মুর্শিদের অবয়ব অর্থাৎ আকৃতিকে প্রত্যক্ষভাবে অবলোকন করবে। যেমন নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন- "আদম (আলাইহিস্সালাম) কে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে' এবং আরো ইরশাদ করেন- 'মানব প্রতিপালকের আকৃতি স্বরূপ।' আরো ইরশাদ কমরো মানুষ আমার রহস্য এবং আমি (আল্লাহ্) মানুষের রহস্য'। অতএব, মুর্শিদের অবয়ব কল্পনা 'ফানা ফিস শায়খ' এর স্তরে উপনীত করে।
কবিতা
মুর্শিদের আকৃতি যেমনই দেখ, আল্লাহর সৌন্দর্য্যের দর্পন দেখ।
মওলানা শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) 'কওলুল জামিল' গ্রন্থে লিখেন যে, 'শ্রেষ্ঠ রুকন (ভিত্তি) হল কলবকে শায়খের সাথে ভালবাসা ও সম্মানের সাথে সম্পর্কিত করা এবং তাঁর অবয়ব কল্পনা করা।' হযরত হাজিউল হারামাইন শাহ্ মুহাম্মদ ছালেহ আবু শাহমা লাহুরী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) এঁর সম্মানিত দাদা রচিত 'আখলাকে সুফিয়া' পুস্তিকায় উল্লেখ আছে- 'আল্লাহর দিকে পৌঁছার ৩য় তরিকা হল রাবেতা (সম্পর্ক) স্থাপন ঐ পীরের সাথে যিনি শাহেদা (খোদার দর্শন) স্তরে পৌঁছেছেন এবং যিনি খোদার জাতের তজল্লী (দ্যুতি) অবলোকন করেছেন। তাঁর (শায়খ) দিদার (সাক্ষাত) নিম্নোক্ত আয়াতের মর্ম অনুযায়ী খোদা স্মরণের উপকারিতা দেয়। আল্লাহর বাণী- 'তাঁরা ঐ ব্যক্তি যাঁদের যখন দেখা হয়, আল্লাহ্র স্মরণ আসে'। আর তাঁদের ছোহবত (সাহচর্য) আল্লাহ্র সাথে বৈঠকের পর্যায়ভুক্ত। তাঁদের অসিলায় অগণিত কল্যাণ ও বরকতের কারণ। বুজুর্গানে দ্বীনের তাসাউফের কিতাবসমূহ উক্ত মাসয়ালায় পূর্ণ। যার বেশি আগ্রহ সে যেন দেখে নেয়। হযরত মওলানা কলিম উল্লাহ জাঁহা আবাদী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) লিখেন যে, উদ্দেশ্যহীন মুরিদগণ কোন কাজেরই নয়। মুরিদ হলেন তিনি; শায়খের প্রতি যার ভালবাসা উভয় জগতের ভালবাসার পুঁজি।
হযরত শায়খ ফরিদ উদ্দিন গঞ্জে শকর (রহমতুল্লাহে আলাইহি) বলেন- 'কিয়ামতের দিন যদি আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু আমার পীর হযরত খাজা বখতিয়ার কাকী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) এঁর আকৃতিতে তজল্লী (দ্যুতি) প্রকাশ করেন, তাহলে আমি তাকাব না'। এখানে অন্য একটি বিষয় বুঝিয়ে দিচ্ছি যে, খোদা তায়ালা মুতলাক (নিরঙ্কুশ) বস্তুর মধ্যেও নেই, সীমাবদ্ধ বস্তুর মধ্যেও নেই। সংশয়পূর্ণ বস্তুর মধ্যেও নেই, স্বচ্ছ বস্তুর মধ্যেও নেই। তিনি (আল্লাহ) সর্ব প্রকার শর্ত বা সীমাবদ্বতা থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত। কোন সীমা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা ভুল। নিজের রূহ (আত্মা) কে দেখ যে, ইহা তোমাদের সমন্ত শরীরের পরিচালক। তোমাদের প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও দেহ উহার (রূহ) অংশ গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু উহা (রূহ) কোন জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। তোমাদের সমস্ত শরীরকে ইহা পরিবেষ্টনকারী। পরকালে আল্লাহ তায়ালার তজল্লী বান্দাগণের নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী প্রকাশ পাবে। আল্লাহর বাণী-'আমার বান্দা আমার ব্যাপারে যেরূপ ধারণা করে আমি সে রকমই।'
বরং কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তায়ালা তজল্লী প্রকাশ করবেন। লোকেরা উহাকে অস্বীকার করবে এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ কথাবার্তা বলবে। যখন তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তজল্লী প্রকাশ করবেন (তখন তারা উপলদ্ধি করতে পারবে)। যখন সিজদা কর তখন ন্যায় বিচার করে দেখ যে, সমস্ত বর্ণসমূহ সুন্দরভাবে উচ্চারণ করা হয়ে থাকে। ইহার (বর্ণ) হাকিকত আলোক ছাড়া আর কি? কোন বর্ণও আলোক থেকে মুক্ত নয়। আলোক বর্ণ সমূহকে পরিবেষ্টনকারী। যেই বর্ণের আকৃতিতে তাকাবে জ্যোতিকে দেখে নাও। ইহা দ্বারা তোমরা উহাও জেনে গেছ যে, কেউ তো প্রকৃত জ্যোতিকে (আলোক) জেনে বর্ণসমূহকে চেনেন। কেননা-'আমি কোন কিছু দেখি নাই। কিন্তু ইহাতে খোদাকে দেখেছি।' আর কেউ বর্ণসমূহ থেকে আলোক পর্যন্ত পৌঁছেন। কেননা-'আমি কোন কিছু দেখি নাই। কিন্তু ইহার পর আল্লাহ্কে দেখছি।' এই বিষয়টি ঐ সমস্ত হযরতগণের জন্য প্রযোজ্য যাঁরা নিজেদেরকে ফানা করে দিয়েছেন।
কবিতা
যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার কল্পনায় তোমার হাস্তি (অস্তিত্ব) বিদ্যমান আছে মনে করবে,
তাহলে জেনে রাখ যে, নিশ্চিতভাবে মুর্তিপূজা বাকি আছে।
তুমি বলেছিলে যে, কল্পনার মুর্তিকে ভেঙ্গে ফেলেছি এবং মুক্তি পেয়েছি,
এই মুর্তি যেটি ধারণা করছ ভেঙ্গে ফেলেছ, তা বাকি আছে।
তার মূল আমিত্বকে বিনাশ করতে হবে। সেই কারণে যিকির-আযকার, ফিকির ও মোরাকাবা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেই গুলো অধিকহারে আল্লাহ্র একত্ববাদের দিকে পৌঁছিয়ে দেয়। আর কবিতা ও পংক্তি সমূহ সেই উদ্দেশ্যে শুনা হয়ে থাকে। নতুবা-
কবিতা
হে ভাই! তুমিও সেই তোমার একই ভাবনায়,
বাকিদের জন্য তুমি কেবল হাড় ও তন্তু।
তোমার চিন্তা যদি গোলাপ ফুল হয়, তবে তুমি গোলাপের বাগান,
আর যদি কাঁটা হয়, তবে তুমি গোসলখানার পানি গরম করার উনুনের জ্বালানী।
'কশলুল শরীফ' গ্রন্থে আছে যে, কোন বস্তুকে বরযখ বালাতে চাইলে বানানো যায়। কেননা বরযখ মাধ্যমের নাম; যেটি অন্তর ও উদ্দিষ্ট বস্তুর মধ্যবর্তী হয়ে থাকে। সালেকের উদ্দেশ্য সুক্ষ্মতা ও স্বাচ্ছতার কারণে অন্য কোন পবিত্র বস্তুতে আসে না। অতএব, উহার সৌন্দর্য যে বস্তুর মধ্যে খেয়াল করবে তা যথাযথ এবং উহার নাম বরযখ। আর ইহা আপনার জানা হয়ে গেল যে, উহা (বরযখ) থেকে কোন বস্তু খালি নয়। যেখানে তুমি খেয়াল করবে (বরযখ) পাবে। তবে পার্থক্য এই পরিমাণ যে, স্থুল বস্তুর বরযখ গ্রহণ করলে স্থুলতা সৃষ্টি হবে। আর সূক্ষ্ম বস্তু হতে সূক্ষ্মতা বৃদ্ধি পায়। শায়খে কামেলের যার যেরূপ সক্ষমতা দেখা যায়, তিনি সেইরূপ বরযখের হেদায়েত দান করেন। উত্তম কল্পনা সঞ্চিত করার পদ্ধতি এই যে, যে বস্তুতে বেশি মহব্বত (ভালবাসা) থাকে বা যে বস্তু হতে তুমি ভয় পাও উহাকে খেয়াল কর, ভাড়াতাড়ি সফল হবে। 'রেসালায়ে হক নামা' গ্রন্থে লিখা আছে, খোদা অনুসন্ধানীদের উচিত যে, নির্জনতায় মুর্শিদের ছুরত বা অবয়ব অথবা মাশুক মজাজি (রূপক প্রেমাস্পদ) এর কল্পনা করতে থাকবে। হযরত শাহ্ শরফউদ্দিন আহ্মদ ইয়াহইয়া মুনিরীর (রহমতুল্লাহে আলাইহি) মকতুবাত শরীফে দেখ যে, উহাতে কেমন তাগিদ লিপিবদ্ধ আছে। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এঁর শ্রেষ্ঠত্ব উহা হতে সাব্যস্ত করা হয়। যাঁর রাবেতা (সম্পর্ক) বিশুদ্ধ, তিনি সবার থেকে কামিল। 'মকতুবাতে কুদুসিয়া' (পবিত্র ব্যক্তিগণের গ্রন্থ সমূহ) কে দেখ, তাঁরা কি পরিমাণ সেই ব্যাপারে লিখেছেন। মূলতঃ খোদা পথচারীর জন্য শায়খে কামেলের বরযখ কিমিয়ায়ে সা'দত (সৌভাগ্যের পরশমণি)। হযরত মওলানা জামী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) 'নফহাতুল উনস' গ্রন্থে বলেন, যার সামান্য রাবেতাও (সম্পর্ক) উক্ত প্রিয় জনদের সাথে হল, আশা করা যায় যে, শেষ পরিণতি তাঁদের সাথে সংযুক্ত হবে। আর আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
১ম পর্ব লিংক
https://www.facebook.com/share/p/1BjGCoNdeG/
#তাসাওউর
#তাচাওউর
#তাসাব্বুর
#তাসাউউর