29/05/2026
১৬৮৯ সাল।
ভারত তখনো উপনিবেশিক শাসনের পুরো কবলে যায়নি।
ইংরেজ খ্রিস্টান পাদ্রী ও পর্যটক জন ওভিংটন তাঁর বিখ্যাত বই A Voyage to Surat–এ এমন কিছু বাস্তব চিত্র লিখে গেছেন, যা আজকের সাজানো ইতিহাসের সঙ্গে ভয়ংকরভাবে সাংঘর্ষিক।
আমাদের পাঠ্যবই বলে—
“রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বন্ধ করেছিলেন।”
কিন্তু ইতিহাসের পুরনো পাতা খুললে দেখা যায়, তারও বহু আগে মুসলিম শাসকরা এই বর্বর প্রথা দমনে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করেছিলেন।
ওভিংটনের বর্ণনায় উঠে আসে এক নির্মম বাস্তবতা—
সতীদাহ কেবল ধর্মীয় আচার ছিল না, এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের অর্থনৈতিক স্বার্থ।
যে নারী স্বামীর চিতায় জীবন্ত পুড়ে মরতে অস্বীকৃতি জানাতো, তাকে সমাজচ্যুত করতে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হত।
আজীবন অপমান, ঘৃণা আর সামাজিক বর্জন—
এই ছিল তার শাস্তি।
আর যে নারী আগুনে ঝাঁপ দিতো, তার শরীরের গহনার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত পুরোহিত শ্রেণি।
কারণ মৃতদেহের ছাই স্পর্শের “অধিকার” কেবল তাদেরই ছিল।
ছাই থেকে স্বর্ণ-রৌপ্য তুলে নেওয়াও ছিল তাদের আয়ের উৎস।
কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি দিক খুব কম মানুষকে জানানো হয়—
মুসলিম শাসকরা ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথা দ্রুত কমতে শুরু করে।
ওভিংটন নিজেই লিখেছেন, নবাবদের নির্দেশ ছিল সতীদাহ দমন ও নির্মূল করা।
ফলে এই প্রথা বিরল হয়ে পড়ে এবং কেবল কিছু রাজপরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
অর্থাৎ, যাদেরকে আজকের অনেক বর্ণনায় “আক্রমণকারী” বলা হয়,
তারাই বাস্তবে অসংখ্য হিন্দু নারীর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিল।
ইতিহাস সবসময় সাদা-কালো না।
কিছু সত্য পাঠ্যবইয়ে লেখা হয়,
আর কিছু সত্য সময়ের ধুলোয় চাপা পড়ে থাকে।
— সূত্র: A Voyage to Surat the Year 1689, John Ovington, p.201