সুফী-Sufi

সুফী-Sufi মুজাদ্দেদি ও অনান্য তরিকা সমুহের উল্লেখযোগ্য বিষয় সমুহের সংগ্রহীত আলোচনা।

গতকাল প্রিয় মোরশেদের সহবতের জন্য কিছুটা তাড়াতাড়ি ভুইগড়ে উনার কাছে যাই, উনি ইতিক্বাফে ছিলেন। বাহিরে ঝড় শুরু হয়েছে,  আমি প...
21/03/2026

গতকাল প্রিয় মোরশেদের সহবতের জন্য কিছুটা তাড়াতাড়ি
ভুইগড়ে উনার কাছে যাই, উনি ইতিক্বাফে ছিলেন। বাহিরে ঝড় শুরু হয়েছে, আমি পিছে চুপচাপ বসে আছি, হুজুর পড়ছেন।

- ছোট মাকামের সালেক।

ঈদের ভোরে হুজুরে পয়লা হুকুম হইল, গাভীগুলিকে গোসল দিয়া আন্‌। হোসেন আর নূরু ত্বরিৎ গতিতে তাহা করিয়া ফেলিল। তারপর এইগুলিকে ...
21/03/2026

ঈদের ভোরে হুজুরে পয়লা হুকুম হইল, গাভীগুলিকে গোসল দিয়া আন্‌। হোসেন আর নূরু ত্বরিৎ গতিতে তাহা করিয়া ফেলিল। তারপর এইগুলিকে তরতাজা কলাই ঘাস খাইতে দেওয়া হইল। হুজুরও সকাল সকাল গোসল করিতে গেলেন। তোলা ঠান্ডা পানি ঢালিতে ঢালিতে বলিলেন, ঘরে বাসের সাবান আছে নাকি? মুহাম্মদ বলিল, না। আমার ছিল তাহাই লইয়া গেলাম। গরজ করিয়া বছরে কেবল দুই ঈদের দিনে হুজুর গায়ে সাবান দিয়া থাকেন। আর কোথাও কেউ যদি গায়ে পরিয়া দিয়া দেয় তো দেওয়া হয়। গোসল সারিয়া হুজুর নতুন লুঙ্গীটা (মুরিদের দেয়া) পরিলেন। ভাঁজ ভাঙ্গিয়া গেঞ্জী, পাঞ্জাবী ও এক রাত্রির জন্য তুলিয়া রাখা চটি জুতা মুহাম্মদ আগাইয়া দিল। বাদামী রং এর কালিতে জুতাগুলি প্রাণ পাইয়াছিল বটে। মাথায় টুপিটা চাপাইতে যাইবেন, আমার দিকে তাকাইয়া বলিলেন, তোমার বাসের তৈলটা আনো না! আমি আহ্লাদের সহিত তাঁহার মাথায় সুগন্ধি তৈল মাখিয়া দিলাম। মুহাম্মদ দিয়া দিল আতর। মুশকিল বাঁধিল সুরমা লইয়া। কাগজের পুরিন্দায় সুরমা। ঘরে সুরমাদান কিংবা শলাকা নাই। হুজুর বলিলেন, পানের বটা দিয়া দে। আবার বলিলেন, বটার আশঁগুলি উঠাইয়া নে; ভিজা বটায় সুরমা আটকিবে। মুহাম্মদ তাহাই করিল। হুজুরের চোখে সুরমা বেশ মানাইল। আমি একটি আয়না ও চিরুনী তাঁহার হাতে দিলাম। সুন্দর করিয়া তিনি সফেদ দাড়িগুলি আঁচড়াইয়া লইলেন।

[আমার ভালোবাসা মওলানা ভাসানী (তাঁহার ঈদ), সৈয়দ ইরফানুল বারী]

19/03/2026

এক জুমায় আমি জিজ্ঞেস করিলাম, সব ইবাদতের মধ্যে কেবল রোজার সওয়াব আল্লাহ্‌র হাতে রাখিবার অর্থ কি?
হুজুর বলিলেন, আল্লাহ তোমাদের রোজার কথা বলেন নাই। বলিয়াছেন সিয়াম সাধনার কথা। সিয়াম সাধনায় প্রথমে এসতেতার (আত্মদর্শন) হয়। অতঃপর রূহানী তাজাল্লী এবং পরে যাহা সর্বোৎকৃষ্ট অর্থাৎ রব্বানী তাজাল্লীও নসিব হয়। এইসব ক্ষেত্রে আল্লাহর জাত-সিফত ও মানবজীবনলীলা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই বলা হইয়াছে, সিয়ামের সওয়াব সরাসরি আল্লাহ্‌র ব্যাপার।

[রমজানের দিবারাত্রি; মুর্শিদ মওলানা; সাপ্তাহিক হক কথা, ১৯৭৮]
মাওলানা ভাসানীর জীবনি হইতে সংগ্রহীত।

19/03/2026

আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করো না
---------------------------------------------------------
সুলতানুল আওলিয়া মাওলানা শায়খ মুহাম্মদ আদিল আর-রব্বানী

১৭ মার্চ ২০২৬ / ২৭ রমজান ১৪৪৭
শায়খ নাযিম দরগাহ, লেফকে, সাইপ্রাস

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আস-সালাতু ওয়াস-সালামু ‘আলা রাসূলিনা মুহাম্মাদিন সাইয়্যিদিল আওয়ালিনা ওয়াল আখিরীন।

তারিকাতুনাস সুঃহবা ওয়াল খাইরু ফিল জাম‘ইয়াহ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
“নিশ্চয়ই আমরা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছি” (কুরআন ৫০:৩৮)

“এবং তাতে তার জীবিকার পরিমাপ নির্ধারণ করেছি” (কুরআন ৪১:১০)।
সদাকাল্লাহুল আযীম।

আমাদের প্রিয় নবী ﷺ বলেন, তোমরা আল্লাহ ‘আজ্জা ওয়া জাল্লার কুদরাত সম্পর্কে চিন্তা করো। কিন্তু তাঁর সত্তা সম্পর্কে—তিনি কেমন, কোথায়, কী—এসব নিয়ে চিন্তা করো না। বরং তাঁর সৃষ্টির দিকে তাকাও এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহর মহিমা চিনতে চেষ্টা করো—এটাই নবী ﷺ-এর নির্দেশ।

আল্লাহ ‘আজ্জা ওয়া জাল্লা এই পৃথিবী, আসমান—সবকিছু এমন নিখুঁত পরিমাপে সৃষ্টি করেছেন যে কিছু অল্পসংখ্যক মানুষ তা বুঝতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে না। মানুষ যখন এমন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে যা সে বুঝতে পারে না, তখন সে তার বুদ্ধি হারাতে পারে—অথবা তার ঈমান নষ্ট হতে পারে। তাই নবী ﷺ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন—আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করা থেকে বিরত থাকো।

কিছু মানুষ সীমা অতিক্রম করে। তারা নিরর্থক জিনিসকে মূর্তি বানিয়ে পূজা করে। আবার কেউ কেউ আরও বিভ্রান্ত হয়ে যায়—(নাউযুবিল্লাহ) মনে করে আল্লাহ বিভিন্ন দেহে মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়ান। এসব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন কথা। তুমি একজন মানুষ—আল্লাহ তোমাকে বুদ্ধি দিয়েছেন, কিন্তু সেই বুদ্ধিরও সীমা আছে। কিছু বিষয় সীমাবদ্ধ—তাদের কাছে যেয়ো না। কাছে গেলে ধ্বংস হবে, নষ্ট হয়ে যাবে। তাই নিজের সীমা জানা জরুরি।আল্লাহ ‘আজ্জা ওয়া জাল্লা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। মানুষের হিসাব অনুযায়ী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু সেই ছয় দিন কত লক্ষ-কোটি বছরের সমান—তা আল্লাহই ভালো জানেন। মানুষ তা জানে না। তবুও মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছে—এই মহাবিশ্ব কত বড়, তার সীমানা কোথায়—তা জানার জন্য। কিন্তু তারা তার শেষ খুঁজে পায় না। এটিও আল্লাহর মহিমার প্রমাণ।

তিনি কীভাবে সৃষ্টি করেছেন? কী পরিমাপে? সব কিছু নির্ধারিত। অসংখ্য কোটি কোটি নক্ষত্র রয়েছে—একটি অন্যটির সাথে সংঘর্ষ না করেই চলছে। সব কিছুর মতো তাদেরও একটি নির্দিষ্ট জীবনকাল আছে। যখন তা শেষ হবে, তখন অন্য কিছু সৃষ্টি হবে।কী ঘটবে—তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর এখন আমাদের পালা—যখন আমাদের সময় আসবে, তখন আমাদের আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। এ বিষয়ে চিন্তা করো। আমাদের উচিত তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং সুন্দর ইবাদত করা। আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা এবং সেই দিনের অপেক্ষা করা—যেদিন আমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবো। সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।

ঈমানসহ জীবন শেষ করা, ঈমান রক্ষা করে আখিরাতে যাওয়াই সবচেয়ে বড় বিষয়।আল্লাহ আমাদের সব ইবাদত কবুল করুন। আমাদের ইবাদত অবশ্যই অপূর্ণ। অনেক মানুষ আছে যারা অন্যদের ইবাদত নিয়ে মন্তব্য করে—“তুমি ভালো নামাজ পড়েছ”, “তুমি নামাজ পড়নি”—এমন কথা বলে। কিন্তু আমরা জানি, আমাদের ইবাদতে অনেক ত্রুটি আছে। আল্লাহ সেই ত্রুটিসহই তা কবুল করবেন।

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন এবং কবুল করুন, ইনশাআল্লাহ। তিনি আমাদের সবাইকে জান্নাতে পৌঁছে দিন, ইনশাআল্লাহ।

রমজান ও ইবন আরাবীর অনুধাবন--------------------------------------------------------সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তার...
28/02/2026

রমজান ও ইবন আরাবীর অনুধাবন
--------------------------------------------------------

সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আহার বন্ধ করে, পানীয় ত্যাগ করে, দাম্পত্য সম্পর্ক থেকেও বিরত থাকে। তারা বেশি নামাজ পড়ে, বেশি কুরআন তিলাওয়াত করে, বেশি দান-সদকা করে।
তারপর রমযান শেষ হয়…
আর কয়েক দিনের মধ্যেই অধিকাংশ মানুষ আবার আগের সেই মানুষটিতে ফিরে যায়।
ইবনে আরাবি এই দৃশ্য বহুবার দেখেছিলেন।
তিনি প্রশ্ন করেছিলেন—
“এত তীব্র ইবাদতের এক মাস কেন মানুষের ভেতর স্থায়ী পরিবর্তন আনে না?”
“মানুষ তারাবিতে কাঁদে, অথচ সকালে ব্যবসায় মিথ্যা বলে—কেন?”
“লাইলাতুল কদর লক্ষ মানুষের উপর দিয়ে অতিক্রম করে যায়, অথচ তারা কিছুই অনুভব করে না—কেন?”
তার উত্তর ছিল কঠিন, কিন্তু সত্যের আগুনে দগ্ধ—
অধিকাংশ মানুষ পেট দিয়ে রোযা রাখে, আত্মা দিয়ে নয়।
তারা রমযানের বাহ্যরূপ পালন করে, কিন্তু অন্তর্লীন বাস্তবতাকে স্পর্শ করে না।
রমযান—একটি জ্বলন্ত আগুন
“রমযান” শব্দটি এসেছে “রমদা” মূল থেকে—অর্থ তীব্র উত্তাপ, দহন।
যে আগুন মাটিকে ঝলসে দেয়, তারপর বৃষ্টি আসে।
ইবনে আরাবি বলেন—
রমযান কেবল নাম নয়; এটি একটি প্রক্রিয়া।
তোমার ভেতরে জ্বলার জন্যই এ নাম।
এই আগুন আরামের উষ্ণতা নয়।
এটি এমন আগুন যা তোমার ভেতরের অপ্রয়োজনীয় স্তরগুলো পুড়িয়ে ফেলে।
প্রতি ক্ষুধা, প্রতি সংযম, প্রতি মুহূর্ত যখন তুমি নিজের নফসের চাহিদাকে অস্বীকার করো—
তখন আগুনের একটি জিহ্বা তোমার অহংকারকে গ্রাস করছে।
লোহা যেমন আগুনে বিশুদ্ধ হয়,
তেমনি আত্মাও রমযানের চুল্লিতে শুদ্ধ হয়।
আগুন ধাতুকে ধ্বংস করে না—
মিশ্রিত অপবিত্রতা পুড়িয়ে দেয়।
রমযান হলো সেই ঐশী ভাঁটি,
যেখানে তোমার আত্মা প্রবেশ করে।
কী পুড়ে যায়?
ইবনে আরাবি তিনটি বিষয়ের কথা বলেছেন—
১. স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভ্রান্তি
“আমি নিজে উপার্জন করি”, “আমি নিজে টিকে আছি”—
রোযার প্রতিটি ঘণ্টা এই মিথ্যা ভেঙে দেয়।
ক্ষুধা তোমাকে মনে করিয়ে দেয়—
তুমি নির্ভরশীল।
২. গাফলতের অভ্যাস
সেহরি ঘুম ভাঙায়।
ইফতার খাদ্যাভ্যাস বদলায়।
তারাবি রাতকে দীর্ঘ করে।
এই ভাঙনই উদ্দেশ্য—
যাতে চেতনা প্রবেশ করে।
৩. আল্লাহর বিকল্প আসক্তি
খাবার, আলাপ, বিনোদন, ব্যস্ততা—
যা দিয়ে তুমি হৃদয়ের শূন্যতা ভরছিলে।
রমযান তা সরিয়ে দেয়।
শাস্তি হিসেবে নয়—
রোগ নির্ণয়ের জন্য।
যখন এগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়, তুমি কী অনুভব করো?
সেই অনুভূতিই তোমার লুকানো আসক্তি।
রোযার রহস্য
খাদ্য শুধু শরীরের পুষ্টি নয়—
এটি অস্তিত্বের ঘোষণা।
“আমি ক্ষুধার্ত, তাই আমি আছি।”
কিন্তু রোযা বলে—
তুমি ক্ষুধার্ত, তবুও খাচ্ছ না।
এই ফাঁকে ঘটে এক বিস্ময়—
তুমি বুঝতে শুরু করো,
তুমি তোমার চাহিদা নও।
হাদিসে কুদসিতে এসেছে—
“রোযা আমার জন্য, এবং আমিই তার প্রতিদান।”
ইবনে আরাবি বলেন—
রোযা হলো না-করা।
এটি এক পবিত্র শূন্যতা।
তুমি নিজের দাবিকে সরিয়ে দাও—
আর সেই শূন্যতা আল্লাহর উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়।
লাইলাতুল কদর—অবতরণের রাত
“কদর” মানে শুধু শক্তি নয়,
সুনির্দিষ্ট পরিমাপ।
এই রাতে ফেরেশতারা নেমে আসে
আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে—
তোমার আগামী বছরের তাকদিরের রূপরেখা নিয়ে।
ইবনে আরাবি বলেন—
আত্মা এক পাত্রের মতো।
পাত্র যত বিশাল, গ্রহণ তত গভীর।
ত্রিশ দিনের রোযা, কিয়াম, জিকির—
এই পাত্রকে প্রসারিত করে।
দু’জন একই মসজিদে একই রাতে নামাজ পড়ছে—
একজনের উপর লাইলাতুল কদর নেমে এলো,
অন্যজনের উপর এলো না।
কারণ প্রস্তুতি আলাদা।
কুরআন ও রমযান
রমযানে ক্ষুধা আত্মায় শূন্যতা তৈরি করে।
কুরআন এসে তা পূর্ণ করে।
তিন স্তর—
১. তিলাওয়াত
২. অর্থ বোঝা
৩. তাজাল্লি—
যখন কুরআন তোমাকে পড়ে।
তখন আয়াত কেবল শব্দ নয়—
প্রকাশ।
কেন অধিকাংশ মানুষ বদলায় না?
কারণ তারা রমযানকে “পারফরম্যান্স” বানায়।
তারা ইবাদত করে—
কিন্তু ইবাদতের আগুনে নিজেকে সমর্পণ করে না।
সফল রমযান প্রমাণ হয় তিন মাস পরে।
যদি একটি দোষ চিরতরে কমে যায়—
সে রমযান সত্য ছিল।
যদি সব আগের মতো ফিরে আসে—
তা ছিল অভিনয়।
তারাবির গোপন শক্তি
রাতের শেষাংশে আত্মা কোমল হয়।
দিনের বর্ম খুলে যায়।
ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত, নির্ভরশীল অবস্থায়
যে নামাজ দাঁড়ানো হয়—
সেটিই সবচেয়ে সত্য।
আল্লাহ অবতরণ করেন—
আর ভাঙা হৃদয় ঊর্ধ্বগামী হয়।
মাঝপথে সাক্ষাৎ ঘটে।
শেষ শিক্ষা
আল্লাহ তোমার রোযার প্রয়োজন অনুভব করেন না।
তোমার হৃদয়ের মরিচা পরিষ্কার করার জন্যই তিনি রমযান দিয়েছেন।
রমযান তোমাকে বড় করতে নয়—
ছোট করতে এসেছে।
কম আত্মরক্ষামূলক,
কম অহংকারী,
কম পূর্ণ।
যদি তুমি বছরের পর বছর অপরিবর্তিত থাকো—
রমযান ব্যর্থ হয়নি।
তুমি নিজেকে আগুনে দিতে দাওনি।
পুড়তে দাও।
কারণ ছাই যা রেখে যায়—
তা ক্ষতি নয়।
তা তোমার আসল সত্তা,
যা অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে।

নফসের স্তর ও ইবন আরাবীর ভাবনা-----------------------------------------------------তুমি একটিমাত্র সত্তা নও। মহান সুফী আরি...
21/02/2026

নফসের স্তর ও ইবন আরাবীর ভাবনা
-----------------------------------------------------

তুমি একটিমাত্র সত্তা নও। মহান সুফী আরিফ ইবনে আরাবি বহু বছর ব্যয় করেছিলেন মানব-আত্মার মানচিত্র আঁকতে—একজন বিজ্ঞানীর সূক্ষ্মতা ও একজন মরমীর অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে।তিনি দেখলেন, নফস—এই ‘আমি’ ভাব—সাতটি স্বতন্ত্র স্তর অতিক্রম করে বিবর্তিত হয়।
অধিকাংশ মানুষ প্রথম বা দ্বিতীয় স্তরেই জীবন কাটিয়ে দেয়।কিছু মানুষ তৃতীয় বা চতুর্থ স্তরে পৌঁছে ভাবে—“আমরা পৌঁছে গেছি।”কিন্তু খুব অল্পসংখ্যক মানুষ সপ্তম স্তরে পৌঁছায়—যেখানে ‘আমি’ এত বিশালতায় বিলীন হয় যে তাকে ‘আমি’ বলা-ই অর্থহীন হয়ে যায়।আজ আমরা সেই পূর্ণ মানচিত্রের পথে হাঁটব—
যাতে তুমি নিজেই চিনতে পারো—এখন তুমি কোন স্তরে অবস্থান করছ,কী তোমাকে সেখানে আবদ্ধ রেখেছে,
আর পরবর্তী স্তরে উত্তরণের জন্য কী প্রয়োজন।
কারণ একবার এই মানচিত্র চোখে পড়লে, আর অদেখা করা যায় না।তখন প্রতিটি মুহূর্ত একেকটি নির্বাচন—
এখানেই থাকবে, নাকি আরো ওপরে উঠবে?
প্রথম স্তর: নফসুল আম্মারা — আদেশদাতা নফস
এই স্তরেই প্রায় সবাই শুরু করে। অনেকেই এখানেই শেষ হয়।কুরআন সরাসরি বলে—
“নিশ্চয় নফস মন্দের আদেশ দেয়।”এখানে নফস সম্পূর্ণভাবে কামনা-বাসনায় নিমগ্ন।যা চায়, তা-ই এখন চাই।যে তাড়না আসে, তাতেই সাড়া।
এ যেন এক অশিক্ষিত ঘোড়া—অশ্বারোহী নেই, লাগাম নেই।
এ স্তরে নৈতিকতা বাইরের ভয় ও পুরস্কারের উপর নির্ভরশীল।মানুষ ভালো থাকে—যখন কেউ দেখছে।
ভয় না থাকলে, সংযমও থাকে না।অনেক সময় এরা সমাজে সম্মানিতও হতে পারে। নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, দান করে—কিন্তু সবই লেনদেন।“আমি করলাম, তুমি দাও”—এই মনোভাব।এখানে ইবাদত প্রেম থেকে নয়, হিসাব থেকে।সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—অচেতনতা।মানুষ জানেই না, কেন সে এমন করছে।
সে ভাবে, সে স্বাধীন—
আসলে সে তার কামনার দাস।
এই স্তর ভাঙতে প্রয়োজন ধাক্কা—
কোনো বেদনাদায়ক সত্যের মুখোমুখি হওয়া।
দ্বিতীয় স্তর: নফসুল লাওয়ামা — আত্ম-ভর্ত্সনাকারী নফস
কুরআন এ স্তরেও ইঙ্গিত দেয়—
“আমি শপথ করছি আত্মভর্ত্সনাকারী নফসের।”
এখানে মানুষ জাগতে শুরু করে।
ভুল করলে অনুতাপ হয়।
পাপ করে, কাঁদে। তওবা করে, আবার পড়ে যায়।
এ এক অন্তর্দ্বন্দ্ব—
নফসের টান ও বিবেকের আলো।
অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানেই আটকে থাকে।
সংগ্রাম আছে, কিন্তু রূপান্তর অল্প।
পাপ → অনুতাপ → প্রতিজ্ঞা → পুনরাবৃত্তি—
এক ঘূর্ণাবর্ত।
এখানে বিপদ—নিজের সংগ্রাম নিয়েই অহং জন্মাতে পারে।
“আমি তো চেষ্টা করছি”—এই পরিচয়েই তৃপ্তি।
এ স্তর অতিক্রম করতে হলে লড়াই নয়—বোঝাপড়া দরকার।
দেখতে হবে—কামনাও নফস, বিচারকও নফস।
আর তুমি?
তুমি সেই সচেতনতা—যে দুটোকেই প্রত্যক্ষ করছে।
এই সাক্ষীভাবই তৃতীয় স্তরের দরজা।
তৃতীয় স্তর: নফসুল মুলহামা — প্রেরণাপ্রাপ্ত নফস
এখানে অন্তর্দ্বন্দ্ব স্তিমিত হতে শুরু করে।
অন্তরে জন্ম নেয় অন্তর্দৃষ্টি।
তুমি রাগ অনুভব করো—কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দাও না।
কামনা আসে—কিন্তু তুমি তা দেখো, বুঝো, পরীক্ষা করো।
প্রতিরোধ নয়—বোঝা।
আর বোঝা হলেই বহু কামনা নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।
এখানে জীবনেও সমাপতন (synchronicity) বাড়ে।
মন এক সুরে মিলে যায় তাকদিরের সাথে।
তুমি বাস্তবতাকে ঠেলো না—বাস্তবতাও তোমার বিরুদ্ধে যায় না।
বিপদ?
আধ্যাত্মিক অহংকার।
“আমি পেয়েছি”—এই ভাব।
চতুর্থ স্তর: নফসুল মুতমাইন্নাহ — প্রশান্ত নফস
কুরআন বলে—
“হে প্রশান্ত আত্মা, তোমার প্রতিপালকের দিকে ফিরে যাও।”
এখানে শান্তি সংগ্রাম থেকে নয়—সমন্বয় থেকে।
ইবাদত বোঝা নয়—প্রবাহ।
ধৈর্য চর্চা নয়—স্বভাব।
এখানে প্রতিক্রিয়া নেই, আছে সাড়া।
ঝড় এলে—ভেতরের আকাশ স্থির থাকে।
তবু এখানে এখনও ‘আমি শান্ত’—এই অনুভব আছে।
এটি সুন্দর, পরিশুদ্ধ ‘আমি’—কিন্তু ‘আমি’ তবু আছে।
পঞ্চম স্তর: নফসুর রাদিয়া — সন্তুষ্ট নফস
এখানে মানুষ আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট নয় শুধু—প্রসন্ন।
রোগ এলে—আলহামদুলিল্লাহ সুস্থতা এলে—আলহামদুলিল্লাহ ।ক্ষতি এলে—আলহামদুলিল্লাহ ।
এ অভিনয় নয়।অন্তরে এক অটল আনন্দ—
যা জানে, সবই কল্যাণের ছায়া।

ষষ্ঠ স্তর: নফসুল মারদিয়া — আল্লাহর প্রিয় নফস
এখানে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট নয় শুধু—
আল্লাহও তার প্রতি সন্তুষ্ট।
এ মানুষ নিজের ইচ্ছা নিয়ে আর ব্যস্ত নয়।
সে হয়ে ওঠে এক নিঃশব্দ যন্ত্র—রহমতের প্রবাহ তার মাধ্যমে চলে।
সে প্রচার চায় না, পরিচয় চায় না।
সে জানে—অদৃশ্য থাকাই নিরাপদ।

সপ্তম স্তর: নফসুল কামিলা — পরিপূর্ণ নফস
এখানে মানচিত্র শেষ, রহস্য শুরু।
এ স্তরে ‘আমি কে?’ প্রশ্ন বিলীন হয়।
মানুষ জানে—সে ঢেউ, আর সে-ই সমুদ্র।
সে রশ্মি, আর সে-ই সূর্য।
মুহাম্মদ ছিলেন এই পূর্ণতার সীলমোহর—আল-ইনসানুল কামিল।এখানে অলৌকিকতা স্বাভাবিক হয়ে যায়—কারণ সত্তা উৎসের সাথে একাত্ম।
কিন্তু বাহ্যিকভাবে?
সাধারণ।
ক্ষুধা লাগলে খায়। ক্লান্ত হলে ঘুমায়।বিশেষত্বের চিহ্ন নেই—
কারণ ‘বিশেষ’ হওয়ার ধারণাও বিলীন।
নিজের স্তর চিনবে কীভাবে?
ইবাদতের প্রেরণা কী? ভয়, অপরাধবোধ, প্রেম, না স্বাভাবিক প্রবাহ?
কষ্ট এলে কী হয়? বিদ্রোহ, সহ্য, শান্তি, না কৃতজ্ঞতা?
কামনা কি তোমাকে চালায়, না তুমি তাকে দেখো?
সারাদিন তুমি নিজের কথাই ভাবো, না নিজেকে ভুলে থাকতে পারো?
মনে রেখো—
এই স্তরগুলো কঠিন সীমানা নয়।
একই মানুষ ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন স্তরে থাকতে পারে।
এ মানচিত্র বিচার করার জন্য নয়—জাগার জন্য।
ইবনে আরাবির শেষ শিক্ষা—
এ সাতটি স্তর আসলে সাতটি ভিন্ন সত্তা নয়।
এ সাতটি ভিন্ন মাত্রার বিস্মৃতি ও স্মরণ।
প্রথম স্তরে তুমি সম্পূর্ণ ভুলে গেছ।
সপ্তম স্তরে সম্পূর্ণ স্মরণে ফিরেছ।
আর মাঝখানে—স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠার ধীর প্রক্রিয়া।
এখন নিজেকে জিজ্ঞেস করো—
তুমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছ?
আর পরবর্তী ধাপে যেতে তোমার সবচেয়ে বড় বাধা কী?

খাস মুজাদ্দিদ হজরত  হাকিম আব্দুল হাকিম (রহ:)।
07/02/2026

খাস মুজাদ্দিদ হজরত হাকিম আব্দুল হাকিম (রহ:)।

31/01/2026

ইবন আরাবীর খিজির (আ:) বিষয়ক উপলব্ধি
-------------------------------------------------------------------
আট শতাব্দীরও বেশি আগে, মক্কায় কাবা শরীফের চারপাশে তাওয়াফ করছিলেন হযরত ইবন আরাবি (রহ.)। তাঁর পদচারণা ছিল বাহ্যিক, কিন্তু অন্তর ছিল গভীর ধ্যানে নিমগ্ন। হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন—কেউ যেন তাঁর পাশে হাঁটছেন। তিনি তাকিয়ে দেখলেন, সবুজ পোশাকে আবৃত এক ব্যক্তি। তাঁর মুখমণ্ডল এমন এক নূরে দীপ্ত, যা না সূর্যের, না চাঁদের।

লোকটি ঠোঁট নাড়ালেন না, তবু কথা শোনা গেল হৃদয়ের গভীরে। সে কথা এমন ছিল, যা সাধারণ মানুষ জানে না, বইয়ে লেখা থাকে না। তারপর, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি জনসমুদ্রে মিলিয়ে গেলেন।ইবন আরাবি তখন বুঝলেন—তিনি সাক্ষাৎ পেয়েছেন হযরত খিজির (আ.)-এর। সেই অমর সাধকের, যিনি কেবল তাদের কাছেই প্রকাশিত হন, যাদের হৃদয় গোপন ইলম বহনের জন্য প্রস্তুত।
এই সাক্ষাৎ তাঁকে কোনো ফিকহ বা কালাম শেখায়নি। শেখায়নি তত্ত্ব।সে তাঁকে দেখিয়েছিল বাস্তবতা আসলে কীভাবে কাজ করে।

কুরআনে সূরা কাহফে আল্লাহ বলেন—
“আমার বান্দাদের একজন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছি এবং আমার নিকট থেকে ইলম শিক্ষা দিয়েছি।

তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু উলামায়ে কিরাম একমত—তিনি হযরত খিজির (আ.)।হযরত মূসা (আ.) তাঁর কাছে গিয়েছিলেন এমন ইলম শিখতে, যা কিতাবের পাতায় ধরা পড়ে না। কিন্তু সেই সফরে খিজির (আ.) এমন তিনটি কাজ করলেন, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে পাগলামি মনে হয়েছিল—
একটি গরিব মানুষের নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত করলেন,একটি কিশোরকে হত্যা করলেন,আর অকৃতজ্ঞ এক জনপদের জন্য ভেঙে পড়া প্রাচীর মেরামত করলেন।মূসা (আ.) প্রশ্ন করলেন আর প্রতিবার খিজির (আ.) পর্দার আড়ালের হিকমত প্রকাশ করলেন।
নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল এক জালিম রাজার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য।ছেলেটি বড় হয়ে তার পিতামাতার ঈমান ধ্বংস করত।প্রাচীরের নিচে ছিল এতিমদের জন্য সংরক্ষিত গুপ্তধন।এটাই শিক্ষা—ইলমে ইলাহী বাহ্য দেখে না, গভীর সত্য দেখে।

ইবন আরাবি (রহ.) আরও গভীরে গেলেন।তিনি বুঝলেন—খিজির (আ.) কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন।তিনি হলেন ইলমে লাদুন্নি-র জীবন্ত রূপ—যে জ্ঞান আল্লাহ সরাসরি হৃদয়ে নিক্ষেপ করেন,যেখানে না বই লাগে, না শিক্ষক, না যুক্তি।

আল-ফুতূহাতুল মাক্কিয়্যাহ-তে ইবন আরাবি লেখেন—
“আমি কাবা শরীফ তাওয়াফ করছিলাম।তখন এক অপরূপ সৌন্দর্যের যুবক আমার কাছে এলেন।
তাঁর চেহারা এমন আলো ছড়াচ্ছিল, যা দুনিয়ার কোনো আলো নয়।তিনি সবুজ পোশাক পরিহিত ছিলেন,আর তাঁর শরীর থেকে এমন ঘ্রাণ আসছিল,যা এই জগতের নয়।”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন,“তুমি জানো, কিসের চারপাশে ঘুরছ?”
আমি বললাম, “আল্লাহর ঘর।”
তিনি হাসলেন,
“না। তুমি নিজের চারপাশে ঘুরছ।
কাবা একটি আয়না।তুমি তার প্রতিফলন।”
সেই মুহূর্তে ইবন আরাবির তাওয়াফ থেমে গেল।হজের অর্থ ভেঙে পড়ল—আর নতুন করে গড়ে উঠল।কালো ঘনক, পাথরের ঘর—এটাই গন্তব্য নয়।এটি ইশারা মাত্র।আসল কাবা হলো পরিশুদ্ধ হৃদয়।
খিজির (আ.) বললেন—
“আল্লাহ বলেন,
আমার জমিন ও আসমান আমাকে ধারণ করতে পারে না,
কিন্তু আমার মুমিন বান্দার হৃদয় আমাকে ধারণ করে।
তাহলে বলো, আল্লাহর প্রকৃত ঘর কোথায়?”
ইবন আরাবি বুঝলেন—
মানুষ কাবার চারপাশে ঘোরে আল্লাহকে খুঁজতে, কিন্তু আল্লাহ কাবার মাধ্যমে মানুষকেই খুঁজছেন।তারপর খিজির (আ.) সেই প্রশ্ন করলেন,যা তাঁকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে—“যদি তুমি ঘর হও, আর আল্লাহ বাসিন্দা হন—
তাহলে কে কার চারপাশে তাওয়াফ করছে?”উত্তর দেওয়ার আগেই তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

পরবর্তী সাক্ষাতে খিজির (আ.) দেখালেন বিপরীতের রহস্য।নূর ও অন্ধকার, রহমত ও গজব, প্রসার ও সংকোচন সবকিছু একে অপরের শত্রু নয়।এরা একে অপরের সঙ্গী।
তিনি বললেন—“তুমি মনে কর রহমত ভালো, গজব খারাপ।
কিন্তু গজব হলো রহমতেরই আরেক মুখ।একই আগুন জালিমকে পুড়ায়,আর মুমিনকে উষ্ণ করে।”আল্লাহ প্রথম ও শেষ—আল্লাহ প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—কারণ প্রতিটি রূপই তাঁকে প্রকাশ করে, আবার আড়ালও করে।“তুমি বৈপরীত্য দেখো,” খিজির (আ.) বললেন, “কারণ তুমি চোখ দিয়ে দেখো।হৃদয় দিয়ে দেখলে সব এক হয়ে যায়।”এক মুহূর্তের জন্য ইবন আরাবি দ্বৈততা ছাড়া বাস্তবতা দেখলেন। স্রষ্টা ও সৃষ্টি আলাদা রইল না।এক অস্তিত্ব—অগণিত রূপে প্রকাশিত।

শেষ সাক্ষাতে খিজির (আ.) তাঁকে সময়ের রহস্য দেখালেন।
তিনি দেখালেন—‘কুন ফায়াকুন’ কোনো অতীত ঘটনা নয়।
এটি এখনো ঘটছে। প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহ নতুন করে সৃষ্টি করছেন। তুমি প্রতি মুহূর্তে নতুন।আগের তুমি মৃত।
পরের তুমি এখনো জন্মাওনি।এটাই “খালক জাদীদ”—নতুন সৃষ্টি। তওবা মানে অতীত মুছে ফেলা নয়। তওবা মানে চেতনার অন্য ফ্রেমে লাফ দেওয়া।

শেষ জীবনে ইবন আরাবি বলেছিলেন—
খিজির কোনো ব্যক্তি নন।
তিনি একটি মাকাম।
যখন হৃদয় যথেষ্ট পরিশুদ্ধ হয়,তখন মানুষ নিজেই খিজির হয়ে ওঠে।
তিনি বলেছিলেন—
“আমি খিজিরকে তিনবার রূপে দেখেছি,আর হাজারবার অর্থে।”
যখন জ্ঞান শেখানো ছাড়াই আসে—সে খিজির।
যখন বিশৃঙ্খলার পেছনে হিকমত দেখা যায়—সে খিজির।
যখন বহুত্বে ঐক্য দেখা যায়—সে খিজির।

প্রশ্ন এটা নয়—
তুমি খিজিরকে দেখবে কি না।
প্রশ্ন হলো—
তিনি তো আগেই আছেন,
তুমি কি তাঁকে চিনতে প্রস্তুত...

28/01/2026

ইসমে আজম ও ইবন আরাবির ভাবনা
--------------------------------------------------------

আল্লাহর একটি নাম আছে—এতটাই শক্তিশালী যে, যদি আপনি তা জানতে পারতেন, পাহাড় পর্যন্ত বিভক্ত হয়ে যেত।একটি নাম আছে—এতটাই গোপন যে, ফেরেশতারা তা কেবল গভীরতম আসমানে ফিসফিস করে উচ্চারণ করেন।একটি নাম আছে—যা সমগ্র মহাবিশ্বকে একসূত্রে ধারণ করে রাখে, যেমন সুতোয় গাঁথা থাকে মুক্তোর মালা।
ইবনে আরাবি এই নামের সন্ধানে কাটিয়েছেন চল্লিশ বছর।
তিনি স্পেন থেকে মক্কা পর্যন্ত সফর করেছেন।আওলিয়া ও আলেমদের সঙ্গে বসেছেন।
এমন সব কাশফ ও দর্শন লাভ করেছেন, যা তাঁর আত্মাকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে।আর যখন তিনি শেষ পর্যন্ত সেই নামের বাস্তবতায় পৌঁছালেন, তিনি তা কখনো লিখে যাননি।কেন?
কারণ আল্লাহর সেই গোপন নাম—আল-ইসমুল আ‘যম—
উচ্চারণ করার জন্য নয়।তা জীবন দিয়ে ধারণ করার জন্য।
আজ এই আলোচনা আপনাকে ইসলামী সুফিবাদের সবচেয়ে গভীর রহস্যের পথে নিয়ে যাবে।শেষ পর্যন্ত পৌঁছালে আপনি শুধু এই নাম সম্পর্কে জানবেন না—
আপনি উপলব্ধি করবেন, কেন এই নামটি আপনি আগেই নিজের ভেতর বহন করে চলেছেন।
আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আমাদের জানা—
আর-রহমান, আর-রহীম, আল-মালিক, আল-কুদ্দূস।
নবী ﷺ বলেছেন,
“আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে। যে ব্যক্তি সেগুলো ধারণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।আর একটি নাম আছে—যা তিনি গোপন রেখেছেন।”এই একশততম নামই হলো আল-ইসমুল আ‘যম—সর্বশ্রেষ্ঠ নাম।কেন এটিকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়?কারণ এই নাম দ্বারা আল্লাহকে ডাকা হলে দোয়া কখনো প্রত্যাখ্যাত হয় না।

কল্পনা করুন—
একটি নাম, যা খাঁটি অন্তর নিয়ে উচ্চারণ করা হলে বাস্তবতার বুনন পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছায় পরিবর্তিত হয়।
চৌদ্দশত বছর ধরে আলেমগণ এই প্রশ্নে আলোচনা করেছেন—এই নামটি কী?কেউ বলেন, এটি “আল্লাহ”।
কেউ বলেন, “আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম”—চিরঞ্জীব ও ধারক।
কেউ বলেন, “আর-রহমান”।
আবার কেউ বলেন, এটি সূরা ফাতিহার মধ্যে লুকায়িত।
কিন্তু ইবনে আরাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন।
তিনি বলেন—সবাই একটি শব্দের অনুসন্ধান করছে,
অথচ আল-ইসম কোনো উচ্চারিত শব্দ নয়।এটি এমন এক বাস্তবতা—যাতে মানুষ রূপান্তরিত হয়।

মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন।অধিকাংশ মানুষ মনে করে—
“আমি যদি সঠিক আরবি শব্দটি জানতে পারি, তাহলে আল্লাহর শক্তির দরজা খুলে যাবে।”ইবনে আরাবি বলেন—
এই ধারণা খুবই সীমিত।সর্বশ্রেষ্ঠ নাম কোনো অভিধানে লুকিয়ে নেই।এটি লুকিয়ে আছে নিজ আত্মার আয়নায়।
ভেবে দেখুন—যখন আপনি বলেন “ইয়া রহমান”, আপনি আল্লাহর একটি গুণকে আহ্বান করেন।যখন বলেন “ইয়া ক্বাওয়ী”, আপনি শক্তির একটি দিককে ডাকেন।কিন্তু যদি এমন একটি নাম থাকে—যার মধ্যে সব নাম একসাথে বিদ্যমান?একটি নাম—যা সমস্ত গুণের সমষ্টি।মানুষ কুরআন অনুসন্ধান করে।হাদিস অধ্যয়ন করে।আলেমদের প্রশ্ন করে।

নিশ্চয়ই শক্তিশালী নাম আছে।
“আল্লাহ” শব্দটি কুরআনে এসেছে ২৬৯৯ বার।
“আর-রহমান” এসেছে ৫৭ বার।কেউ বলেন, “ইয়া লতীফ” নির্দিষ্ট সংখ্যায় পাঠ করলে বিপদ দূর হয়।কিন্তু ইবনে আরাবি প্রশ্ন তোলেন—“যদি নাম কেবল শব্দই হয়, তবে সবাই উচ্চারণ করলেও তা কার্যকর হয় না কেন?”
তোতা পাখিও তো “আল্লাহ” বলতে পারে।তাতে কি পাহাড় ভেঙে যায়? না। কারণ অর্থহীন শব্দ কেবল শব্দই থেকে যায়।এখানেই মানুষের বিভ্রান্তি।মানুষ নাম সংগ্রহ করে মুদ্রার মতো,কিন্তু অন্তর শূন্যই থেকে যায়।
দ্বিতীয় স্তর—নাম অর্থ হয়ে ওঠে।এখানে সাধক কেবল “রহমান” উচ্চারণ করেন না—তিনি করুণার প্রবাহ নিজের ভেতর অনুভব করেন।তিনি কেবল “জব্বার” বলেন না—
তিনি আল্লাহর মহাশক্তির উপস্থিতি টের পান।এটি উন্নত স্তর।এটি আন্তরিকতা।
তবু ইবনে আরাবি বলেন—এটিও যথেষ্ট নয়।
কারণ এখনো আল্লাহর গুণগুলোকে পৃথকভাবে দেখা হচ্ছে।দয়া একদিকে, শক্তি অন্যদিকে, বিচার আলাদা।কিন্তু আল্লাহ বিভক্ত নন।আল্লাহ এক।তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ নাম কীভাবে একটি গুণ হতে পারে?এখানেই পৌঁছানো যায়—

তৃতীয় স্তরে: নামই সত্তা।
এই স্তরে ইবনে আরাবি বলেন—
আল-ইসমুল আ‘যম এমন কোনো নাম নয় যা আল্লাহর আছে।এটি সেই নাম—যা আল্লাহ নিজেই।যখন বলা হয় আল্লাহ দয়ালু—তার অর্থ, দয়া তাঁর একটি গুণ।
কিন্তু যখন বলা হয় আল্লাহই আল-ইসমুল আ‘যম—
তার অর্থ, এটি তাঁর সত্তা।আর তাঁর সত্তা হলো—পরম অস্তিত্ব।খাঁটি থাকা। ওজুদ।এই কারণেই গোপনভাবে, সর্বশ্রেষ্ঠ নামটি আপনার ভেতরই বিদ্যমান।আপনি তরঙ্গ—আর নামটি মহাসাগর।আপনি কিরণ—আর নামটি সূর্য।
আপনি শব্দ—আর নামটি নিঃশ্বাস।এই কারণেই ইবনে আরাবি বলেন—এই নাম প্রকাশ পায় কেবল তার কাছেই,
যে মরার আগেই নিজের অহং বিলুপ্ত করেছে।
যতক্ষণ মানুষ মনে করে—“আমি আলাদা”, নাম ততক্ষণ আড়ালেই থাকে।
কিন্তু যেদিন মানুষ উপলব্ধি করে—
“আমার কোনো অস্তিত্ব নেই তাঁর বাইরে”—সেদিন পর্দা সরে যায়।এই নামের কোনো অক্ষর নেই।কোনো ভাষায় একে লেখা যায় না।কারণ এটি ভাষারও পূর্ববর্তী বাস্তবতা।
এটি নিঃশব্দতা—যেখান থেকে সব শব্দের জন্ম।
এটি শূন্যতা—যেখান থেকে সব রূপ প্রকাশ পায়।
শেষ কথা—আপনি ইতিমধ্যেই এই নাম উচ্চারণ করছেন।
প্রতিটি হৃদস্পন্দনে।প্রতিটি নিঃশ্বাসে।আপনি শুধু আগে শুনছিলেন না।এখন শুনছেন।আর একবার শুনতে পারলে আর কখনো ভুলবেন না।আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই সত্যে পৌঁছান যা সমস্ত প্রশ্নকে বিলীন করে দেয়।

দেখো,  শেখো,  সিজদা করো কিন্ত কথা বলো না। - খাস মুজাদ্দিদ হাকিম আব্দুল হাকিম (রহ:)
23/01/2026

দেখো, শেখো, সিজদা করো কিন্ত কথা বলো না।
- খাস মুজাদ্দিদ হাকিম আব্দুল হাকিম (রহ:)

23/01/2026

ইস্তিগফার বিষয়ে আলোচনা
------------------------------------------
অনেকে মনে করে, ইস্তিগফার কেবল তাদের জন্য—যারা প্রকাশ্য গুনাহে ডুবে আছে।কিন্তু ইবন আরাবী (রহ.) আমাদের সামনে আরও গভীর এক সত্য উন্মোচন করেন।
তিনি বলেন, ইস্তিগফার শুধু অবাধ্যতার জন্য অনুতাপ নয়। ইস্তিগফার হলো আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার জন্য অনুতাপ।
আল্লাহকে ভুলে যাওয়াই হলো হৃদয়ের ওপর সবচেয়ে ভারী পর্দা।একটু ভাবুন—প্রতিদিন আমরা কত ভুল করি।
কিছু জিহ্বা দিয়ে, কিছু চোখ দিয়ে, কিছু কান দিয়ে।
আর কত ভুল আছে, যা কখনো হৃদয় ছেড়ে বাইরে আসে না।লুকানো চিন্তা, নীরব হিংসা, অপ্রকাশিত অহংকার, অস্থির বাসনা।আমরা খুব কমই থেমে ভাবি—এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো ধীরে ধীরে কীভাবে আমাদের জীবনকে আকার দেয়।তারপর আমরা অবাক হই—কেন শান্তি হারিয়ে যাচ্ছে,
কেন দরজাগুলো বন্ধ মনে হয়,কেন বাহ্যিকভাবে সব ঠিক থাকলেও হৃদয় ভারী লাগে।আল্লাহ তাঁর রহমতে আমাদের এই অবস্থায় আটকে রাখেননি।তিনি আমাদের জন্য এমন এক দরজা খুলে দিয়েছেন—যা কখনো বন্ধ হয় না।এই দরজা শুধু গুনাহ মুছে না, হৃদয়ের ভারও হালকা করে।
এই দরজার নাম—তাওবা ও ইস্তিগফার।একটি ছোট বাক্য—কিন্তু কুরআনে আল্লাহ এর প্রভাব স্পষ্ট করে বলেছেন।
ক্ষমা, রিজিকের প্রশস্ততা, জীবনে সহজতা,আর এমন জায়গা থেকে সাহায্য—যা আমরা কল্পনাও করিনি।
ইবন আরাবী (রহ.) বলেন,যখন বান্দা আন্তরিকভাবে বলে— “আস্তাগফিরুল্লাহ”তখন সে শুধু গুনাহ মোছার আবেদন করে না, সে স্বীকার করে—

“আমি সীমাবদ্ধ, আমি দুর্বল, আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ নই।”
এই সত্য স্বীকারই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

নবী ﷺ—যিনি গুনাহমুক্ত ছিলেন—
তাঁকেও দিনরাত ইস্তিগফার করতে দেখা যেত।কারণ তাঁর আল্লাহ-সচেতনতা কখনো ক্ষীণ হতো না।আর সত্যিকারের সচেতনতা থেকেই জন্ম নেয় বিনয়।যিনি গুনাহহীন হয়েও এত ইস্তিগফার করতেন—আমরা তবে কী অবস্থায়?ইস্তিগফার দুর্বলতা নয়।ইস্তিগফার হলো স্বচ্ছতা।এটি সেই মুহূর্ত—যখন বান্দা শক্তিশালী সেজে থাকা ছেড়ে
আল্লাহর সামনে সত্যিকারের হয়ে দাঁড়ায়।অনেকে অভিযোগ করে—ঘরে অশান্তি, কাজে চাপ, বুকে ভার, সিদ্ধান্তে দ্বিধা।তারা সমাধান খোঁজে চারদিকে কিন্তু ভেতরের দিকে খুব কমই ফিরে তাকায়। ইবন আরাবী (রহ.) বলেন,যখন আল্লাহর সঙ্গে ভেতরের সম্পর্ক ঠিক হয়,
বাইরের জগত নিজে থেকেই সুশৃঙ্খল হয়ে যায়।ইস্তিগফার কোনো জাদু নয়।এটি সমন্বয় (alignment)।হৃদয় যখন জাগ্রত অবস্থায় ইস্তিগফার করে,তখন অদৃশ্যভাবে এক ভার সরে যায়।রূহ যেন নিঃশ্বাস ফেলে।হৃদয় মনে পড়ে—সে কোথায় ফিরে যাওয়ার।তুমি শুধু বলছ না— “আমাকে ক্ষমা করো।”তুমি বলছ— “আমি ফিরে আসছি।”আর যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে পবিত্র করেন,তিনি শুধু অতীত মুছে দেন না—আগামী পথকেও নতুন করে গড়ে দেন।অসংখ্য জীবন বদলে গেছে—দীর্ঘ ভাষণ বা কঠিন আমলের মাধ্যমে নয়,বরং নীরব ইস্তিগফারের ধারাবাহিকতায়নিঃশব্দ পুনরাবৃত্তি,সত্যিকারের অনুশোচনা,আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা।এই শব্দ শুধু দুনিয়াকে আলোকিত করে না—এটি কবরেও আলো,পুলসিরাতে সহজতা,আর সেই মুহূর্তে রহমত—যখন কেউ সাহায্য করতে পারবে না।ইস্তিগফার কেবল জিহ্বার বাক্য নয়।এটি রূহের আহ্বান,অভাবের স্বীকারোক্তি,রূপান্তরের দরজা।ইবন আরাবী (রহ.) ইঙ্গিত দেন—
ক্ষমা কোনো লেনদেন নয়।
এটি একটি অবস্থা (state)।

যখন বান্দা নিজেকে আল্লাহর সামনে নত করে,আল্লাহ তাকে ঘোষণা ছাড়াই উচ্চতায় তুলে নেন।ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মুছার জন্য নয়—এটি অন্তরের শান্তির সবচেয়ে বড় দরজাগুলোর একটি।জীবন ভারী লাগলে,উদ্বেগ বাড়লে,চিন্তা জমে গেলে—ইস্তিগফার করো। জিহ্বার অভ্যাস হিসেবে নয়,হৃদয়ের প্রত্যাবর্তন হিসেবে।
পরিস্থিতি বদলানোর আগেই তুমি অনুভব করবে—ভার হালকা হয়ে গেছে।তখন বুঝবে—আল্লাহ কখনো দূরে ছিলেন না।আর জেনে রাখো—ইস্তিগফার রিজিকও বাড়ায়।
এটি গল্প নয়—এটি নববী নির্দেশনা।

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকে,আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন,তার কাজ সহজ করেন,আর এমন দিক থেকে রিজিক দেন—যা সে ভাবেনি। একটি বাক্য—কিন্তু দুনিয়া ও আখিরাত—দু’টোকেই রূপ দিতে সক্ষম।
শেষ কথা—ইস্তিগফার ব্যর্থতার প্রমাণ নয়। এটি জাগ্রত হওয়ার আলামত।
ফিরে এসো— ঘুম থেকে উঠলে,
বুক ভারী হলে,ভুল করলে, সফল হলেও।

কারণ ইস্তিগফার মানে—সব অবস্থায় আল্লাহর দিকে ফিরে থাকা।আল্লাহ আমাদের জিহ্বাকে যিকিরে সিক্ত করুন,
হৃদয়কে বিনয়ে জীবিত রাখুন,আর জীবনকে নীরব প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী বানান।
তিনি আমাদের ক্ষমা করুন—আমরা চাওয়ার আগেই।

23/01/2026

আল্লাহর দরজার কড়া নাড়ো ও সেখানে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাক। যখন তুমি ওখানে পড়ে থাকবে, স্বপ্নের তত্ত্ব তোমার কাছে উদঘাটিত হবে। তখন তুমি চিনতে পারবে নফসের মন্ত্রণা, কল্পনাবিলাস, অন্তরের মন্ত্রণা, শয়তানের প্ররোচনা ও ফেরেশতার প্রেরণা। তোমাকে বলা হবে, এগুলো প্ররোচনা ও এগুলো প্রেরণা। সবকিছুই তুমি আলামতের মাধ্যমে চিনতে পারবে।

যখন তোমার এ মর্তবা হাসিল হবে, তখন আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে এমন প্রেরণা (এলহাম) তোমার কাছে আসবে যা তোমাকে আদব শেখাবে এবং তোমাকে সুদৃঢ় পদে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই বস্তুই তোমাকে দাঁড় করাবে, বসাবে, নড়াচড়া করাবে, থামিয়ে দেবে, নির্দেশ দেবে এবং নিষেধ করবে।

হযরত আব্দুল কাদের জীলানী রহঃ
ঐশী প্রেরণার অনন্ত উৎস/৩০ পৃষ্ঠা

Address

Dhaka
১২১৬

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সুফী-Sufi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share