18/08/2026
আমাদের ছোটবেলা থেকে এমন একটা গণ্ডির ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে যেখানে আমরা অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে, বইয়ে যা লেখা আছে সেটাই ধ্রুব সত্য। কিন্তু, আমাদের চারপাশের অনেক কিছুই আসলে একটা বিশাল মিথ্যার চাদরে ঢাকা। আমরা যারা তথ্য এবং বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করি, তাদের কাছে এই সাজানো গোছানো ইতিহাস অনেক সময়ই খুব হাস্যকর মনে হয়।
তো আজ আমি দ্য হোয়াই ফাইলস চ্যানেলের নিকোলা টেসলা এবং গিজার গ্রেট পিরামিডের রহস্য নিয়ে একটি চমৎকার আলোচনা দেখলাম। ভিডিওটি দেখার পর আমার মনে হলো, আমরা আসলে কতটা বোকার স্বর্গে বাস করছি।
আমরা কি সত্যিই জানি, আমাদের অতীত কতটা উন্নত ছিল নাকি আমাদের শুধু ততটুকুই জানানো হয়েছে, যতটুকু জানলে আমরা প্রশ্ন করা ভুলে যাব? লিটারেলি আমাদের একটা ঘুমন্ত সমাজের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে যেখানে কেউ সত্য নিয়ে মাথা ঘামায় না।
ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়েছে গিজার গ্রেট পিরামিড হলো প্রাচীন মিশরের ফারাওদের কবরস্থান। ফারাওরা নিজেদের খোদা দাবি করত এবং তাদের এই চরম অহংকার ও দম্ভের কথা আমরা কোরআন ও ইসলামি ইতিহাস থেকে খুব স্পষ্টভাবে জানি। ইসলাম সব সময় এই ধরনের শিরক এবং মিথ্যার তীব্র প্রতিবাদ করেছে। ফারাওরা যে কতটা পথভ্রষ্ট এবং জালিম ছিল তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তাদের পতন আমাদের জন্য এক বিশাল শিক্ষা।
কিন্তু আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক এবং বিজ্ঞানীদের কিছু আবিষ্কার আমাদের সামনে এক নতুন সত্য তুলে ধরেছে, যা ফারাওদের অহংকারকে আরও বেশি হাস্যকর করে তোলে। ফারাওরা কেবল অত্যাচারীই ছিল না বরং তারা ছিল চরম পর্যায়ের মিথ্যাচারী। তারা হয়তো এই গ্রেট পিরামিড তৈরিই করেনি বরং তারা এটি আবিষ্কার করেছিল এবং নিজেদের অহংকার মেটাতে একে নিজেদের কীর্তি বলে দাবি করেছিল। অন্যের তৈরি করা এক বিশাল প্রযুক্তিগত স্থাপনাকে নিজের কবর বলে চালিয়ে দেওয়ার চেয়ে বড় মিথ্যাচার আর কী হতে পারে?
মূলধারার ইতিহাসবিদরা যুগের পর যুগ ধরে বলে আসছে, গিজার গ্রেট পিরামিড নাকি ফারাও খুফুর কবর, যা প্রায় পঁয়তাল্লিশশো বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো পিরামিডের ভেতরে কোনো মমির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একটা সাধারণ প্রাচীন কবরস্থানে যেমন নামলিপি বা হায়ারোগ্লিফিক্স থাকে, তার কিছুই এই গ্রেট পিরামিডে নেই। একটা বিশাল পাথরের কাঠামো যার ভেতরে কোনো শিল্পের ছোঁয়া নেই বরং পুরোটাই জ্যামিতিক এবং গাণিতিক নিখুঁত হিসেবে তৈরি। এটা কোনো সাধারণ মানুষের শেষ ঠিকানা হতে পারে না।
এই কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে প্রায় পঁচিশ লাখ পাথরের ব্লক দিয়ে, যার মোট ওজন প্রায় ষাট লাখ টন এবং এর উচ্চতা চারশো একাশি ফুট। এর ভিত্তি এতটাই সমতল যে, আধুনিক যুগেও এমন স্থাপনা লেজার প্রযুক্তি ছাড়া তৈরি করা বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। গ্রেট পিরামিডের বেস বা ভিত্তি তেরো একরের বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এবং এটি ট্রু নর্থ বা প্রকৃত উত্তরের সাথে এতটা নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ, যা আজকের দিনের আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া চিন্তা করাও কঠিন।
পিরামিডের কাঠামোগত নিখুঁত হিসাব লিটারেলি যে কারও মাথা নষ্ট করে দিতে বাধ্য।
মজার ব্যাপার হলো, পিরামিডের আসলে চারটা দিক নেই বরং এর দিক আটটি। প্রতিটি দিক সামান্য ভেতরের দিকে বাঁকানো যা কেবল সরাসরি ওপর থেকে বা বিষুবীয় দিনে ছায়া পড়লেই দেখা যায়। এর উচ্চতাকে তেতাল্লিশ হাজার দুইশো দিয়ে গুণ করলে পৃথিবীর মেরু ব্যাসার্ধ পাওয়া যায়, আবার এর পরিসীমাকে একই সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে পৃথিবীর পরিধি বের হয়ে আসে।
তেতাল্লিশ হাজার দুইশো সংখ্যাটিও কাকতালীয় নয়, কারণ বিষুবীয় দিনে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য ঠিক তেতাল্লিশ হাজার দুইশো সেকেন্ড হয়। যারা এই পিরামিড বানিয়েছিল, তারা আমাদের গ্রহের আকার মাত্রা এবং মহাজাগতিক হিসাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিল।
এটা কোনো সাধারণ আদিম সমাজের কাজ হতে পারে না বরং এটা একটা প্রচণ্ড উন্নত সভ্যতার ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টারপিস। তারা পৃথিবীর সাথে পুরোপুরি কানেক্টেড ছিল এবং তাদের কাছে এমন প্রযুক্তি ছিল যা আমরা আজো কল্পনা করতে পারি না।
আসল চমকটা লুকিয়ে আছে এর নির্মাণসামগ্রীর ভেতরে। পিরামিডের বাইরের অংশ একসময় আচ্ছাদিত ছিল এমন এক বিশেষ সাদা চুনাপাথর দিয়ে যা বিদ্যুৎ অপরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এই পাথরগুলো প্রায় পাঁচশো মাইল দূর থেকে আনা হয়েছিল যা আজকের দিনে ফ্লোরিডা রাজ্যের সমান দূরত্ব। এত দূর থেকে হাজার হাজার দশ টনের পাথর বয়ে আনা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। আবার ভেতরের চেম্বারগুলো তৈরি রোজ গ্রানাইট দিয়ে যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল রয়েছে।
আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে জানি কোয়ার্টজ ক্রিস্টালের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে পিজোইলেকট্রিসিটি বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। আজকের দিনের হাতঘড়ি থেকে শুরু করে জিপিএস বা টিভির মতো আধুনিক অনেক প্রযুক্তিতে এই একই বিজ্ঞান ব্যবহার করা হয়। ক্রিস্টোফার ডান নামের এক গবেষক দেখিয়েছেন, পিরামিডের নিচে থাকা জলের প্রবাহ এবং ভেতরের চেম্বারগুলোর রাসায়নিক বিক্রিয়া কীভাবে কাজ করত। পিরামিডের নিচে থাকা ভূগর্ভস্থ জলের প্রবাহের কারণে শব্দ তরঙ্গ তৈরি হতো, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক কম্পনের সাথে অনুরণিত হতো।
রানীর চেম্বার নামে পরিচিত অংশে দুটি শ্যাফট বা সুড়ঙ্গ আছে, যার উত্তরের শ্যাফটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড এবং দক্ষিণের শ্যাফটে হাইড্রেটেড জিঙ্ক ক্লোরাইডের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই দুটি রাসায়নিক পদার্থ মিশলে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হয়। সেই গ্যাস যখন গ্রানাইট নির্মিত গ্র্যান্ড গ্যালারি এবং কিংস চেম্বারের ওপর চাপ সৃষ্টি করত, তখন পুরো পিরামিড একটা বিশাল পাওয়ার প্ল্যান্টে পরিণত হতো। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, একটা বিশাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক কম্পনের সাথে অনুরণিত হয়ে একদম দূষণমুক্ত শক্তি তৈরি করত।
গ্র্যান্ড গ্যালারি চারশো চল্লিশ হার্জ বা এফ শার্প স্কেলে অনুরণিত হতো, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক কম্পনের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পুরো কাঠামোটি যেন একটি বিশাল বাদ্যযন্ত্র এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংমিশ্রণ। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এই পিরামিড রেডিও ওয়েভ বা তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গকে নিজের ভেতরে ঘনীভূত করতে সক্ষম।
এই জায়গায় এসে নিকোলা টেসলার গল্পটা আমাদের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। টেসলা ঠিক একই থিওরি ব্যবহার করে তার ওয়ারডেনক্লিফ টাওয়ার নির্মাণ করেছিলেন। তিনিও পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ জল এবং প্রাকৃতিক কম্পন ব্যবহার করে পুরো পৃথিবীতে তারবিহীন বিদ্যুৎ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। পিরামিড যেমন অ্যাকুইফার বা ভূগর্ভস্থ জলাধারের ওপর নির্মিত, টেসলার টাওয়ারও তেমনি অ্যাকুইফারের ওপর তৈরি হয়েছিল। সেখানে তামা এবং লোহার রড জলের গভীরে প্রবেশ করানো ছিল।
টেসলার স্বপ্ন ছিল, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া।
কিন্তু তার এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আলোর মুখ দেখতে পারেনি। জেপি মর্গানের মতো তৎকালীন সময়ের বিশাল ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা যখন বুঝতে পারল যে, টেসলার এই প্রজেক্ট সফল হলে তাদের কয়লা, তেল এবং তামার তারের সাম্রাজ্য ধসে পড়বে, তখন তারা টেসলার ফান্ডিং বন্ধ করে দেয়।
জেপি মর্গান সেই সময় রাবার তামা কয়লা এবং রেললাইনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রক ছিলেন। ওয়্যারলেস এবং ফ্রি বিদ্যুৎ আবিষ্কার হলে তার এই পুরো সাম্রাজ্য মূল্যহীন হয়ে পড়ত। টেসলাকে পথে বসিয়ে দেওয়া হয় এবং তার সমস্ত গবেষণাপত্র গায়েব করে ফেলা হয়।
ক্ষমতার এই নগ্ন রূপ আমাদের দেখায় যে, মানুষের কল্যাণের চেয়ে অর্থ এবং আধিপত্য বিস্তারের লোভ সব সময় প্রাধান্য পেয়েছে। আমরা যদি একটু তলিয়ে দেখি, তবে বুঝব, আজকের বিশ্বে যত যুদ্ধ আর রক্তপাত তার বেশিরভাগই এই জীবাশ্ম জ্বালানি বা তেলের নিয়ন্ত্রণের জন্য। টেসলার স্বপ্ন যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে আজ পৃথিবীটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারত।
পিরামিডের ভেতরেও এমন কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে যা নির্দেশ করে যে, একসময় সেখানে বিশাল কোনো বিস্ফোরণ ঘটেছিল। দেয়ালের পোড়া দাগ এবং ছিটকে যাওয়া বিশালাকার গ্রানাইট পাথরগুলো প্রমাণ করে যে, এটি কেবল একটি নীরব স্থাপনা ছিল না বরং এর ভেতরে প্রচণ্ড শক্তির আনাগোনা ছিল।
কিংস চেম্বারের দেয়ালগুলো এক ইঞ্চির বেশি বাইরের দিকে ছিটকে গেছে যা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ছাড়া সম্ভব নয়। দক্ষিণের শ্যাফটে এক ইঞ্চি পুরু লবণের স্তর পাওয়া গেছে যা ফুটন্ত হাইড্রোজেনের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।
রবার্ট স্কচ এবং গ্রাহাম হ্যানককের মতো গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে এই পিরামিড এবং সংলগ্ন স্ফিংস আসলে তেরো হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। স্ফিংসের গায়ে থাকা জলের ক্ষয় চিহ্ন প্রমাণ করে যে, বরফ যুগের শেষে যখন বিশাল বন্যা হয়েছিল তখন এই স্থাপনাগুলো সেই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছিল।
প্রায় নয় হাজার সাতশো খ্রিস্টপূর্বাব্দে একটি বিশাল সৌর ঝড়ের কারণে পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পুরো পৃথিবী জুড়ে বিপর্যয় নেমে আসে। এই সৌর ঝড় বা প্লাজমা স্টোর্ম এতই শক্তিশালী ছিল যে, এর প্রভাবে পৃথিবীর অনেক স্থানের পাথর গলে কাঁচ হয়ে গিয়েছিল। সেই দুর্যোগে একটি অত্যন্ত উন্নত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়, যারা এই পিরামিড তৈরি করেছিল।
এই সৌর ঝড়ের কারণে হিমবাহগুলো মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে গলে যায় এবং সারা পৃথিবীতে বিশাল বন্যার সৃষ্টি হয়। ম্যামথ বা সাবার টুথ টাইগারের মতো বিশালাকার প্রাণীগুলো ধীরে ধীরে নয় বরং এক নিমিষেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন বন্যার উপকথাগুলো হয়তো সেই প্রলয়ঙ্করী ঘটনারই স্মৃতিবহন করে।
এত বিশাল দুর্যোগের পর সেই উন্নত সভ্যতা পৃথিবী থেকে মুছে যায় এবং হাজার হাজার বছর পর মিশরীয়রা সেই পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়। তারা স্ফিংসের চেহারা পরিবর্তন করে নিজেদের ফারাওদের চেহারা বসিয়ে দেয় এবং এই বিশাল স্থাপনাগুলোকে নিজেদের বলে দাবি করে। ফারাওদের এই মিথ্যাচার আজ আধুনিক বিজ্ঞানের সামনে নগ্ন হয়ে পড়েছে।
আমি যখন এই পুরো ব্যাপারগুলো একসাথে ডট কানেক্ট করি, তখন আমার মনে হয় আমরা আসলে একটা বিশাল মিথ্যার ভেতরে বাস করছি। আমাদের শেখানো ইতিহাস কতটা ঠুনকো, তা এই বিষয়গুলো নিয়ে একটু গভীরভাবে ভাবলেই বোঝা যায়।
প্রাচীনকালের সেই উন্নত সভ্যতা হয়তো এমন কিছু জানত, যা আমরা আজও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। আর টেসলা যখন সেই হারানো জ্ঞানকে আবার জাগিয়ে তুলতে চাইলেন, তখন তাকে নির্মমভাবে থামিয়ে দেওয়া হলো। কারণ দূষণমুক্ত এবং বিনামূল্যে পাওয়া শক্তি মানেই হলো সাধারণ মানুষের চরম স্বাধীনতা। আর যারা দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তারা কখনোই চাইবে না সাধারণ মানুষ স্বাবলম্বী হোক।
সম্পদের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রাখার জন্যই, যুগে যুগে টেসলার মতো জিনিয়াসদের দমিয়ে রাখা হয়। পৃথিবীর ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সত্য সব সময় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সত্য কখনো চিরকাল লুকিয়ে থাকে না। প্রকৃতির নিয়মেই মিথ্যার পতন ঘটে, যেমনটা ফারাওদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।
তৌহিদুল ইসলাম