Halal Talk

Halal Talk Assalamu Alaikum Wa Rohmotullahi Wabaraqatuhu. Welcome to HALAL TALK!
(1)

➽ কিয়ামতের অন্যতম একটি আলামত হলো, স্ত্রী তার স্বামীর ব্যবসা-বাণিজ্যে সাহায্য করবে। এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:প্রশ্ন: “ক...
25/01/2026

➽ কিয়ামতের অন্যতম একটি আলামত হলো, স্ত্রী তার স্বামীর ব্যবসা-বাণিজ্যে সাহায্য করবে। এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:

প্রশ্ন: “কিয়ামতের অন্যতম ছোট আলামত হলো, স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসায় সহযোগিতা করবে”-এটা কি সঠিক? ব্যবসায় সাহায্য করাও কি কিয়ামতের লক্ষণ? বিষয়টি বুঝিয়ে দিলে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ।

উত্তর:

হ্যাঁ, উক্ত হাদিসটি সহিহ এবং এটি কিয়ামতের অন্যতম একটি ছোট আলামত।

নিম্নে এ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো: وبالله التوفيق

হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের অন্যতম একটি আলামত হলো যে, কিয়ামতের পূর্বে এত বেশি ব্যবসা-বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়বে যে, একজন স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসার কাজে সাহায্য করবে। যেমন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

إنَّ بين يَدَيِ الساعةِ فُشُوَّ التِّجارةِ حَتَّى تُعِينَ الْمَرأةُ زَوجَها على التِّجارةِ

“নিশ্চয় কিয়ামতের পূর্বে ব্যবসা-বাণিজ্যের এত ব্যাপকতা ঘটবে যে, স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসা-বাণিজ্যে সহযোগিতা করবে।” [মুসনাদে আহমদ, ১/৪০৭, আল আদাবুল মুফরাদ, হাকিম, শুয়াইব আরনাবুত মুসনাদে আহমদ-এর তাহকিক গ্রন্থে এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন, হা/ ৩৮৭০ ও ৩৯৮২]

❑ হাদিসটির ব্যাখ্যা:

এ হাদিসে কিয়ামতের পূর্বে যে সব ছোট আলামত প্রকাশ পাবে সেগুলোর মধ্যে দুটি আলামতের কথা বলা হয়েছে। যথা:

১. কিয়ামতের পূর্বে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক বিস্তার লাভ করবে।
২. নারীরা তাদের স্বামীদেরকে ব্যবসায়িক কর্মে সহায়তা করবে।

সুবহানাল্লাহ! আমরা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভবিষ্যতবাণীর বাস্তবতা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম উন্নতি, টিভি-চ্যানেলে বিভিন্ন পণ্যের ব্যাপক প্রচার-প্রসার এবং নিত্য-নতুন নানা আধুনিক প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগে বিশ্ব অর্থনীতিতে অফলাইন-অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যের যে সর্বগ্রাসী রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে তা কল্পনাতীত। আই ফোন, স্মার্ট ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ অসংখ্য বাহনে ভর করে ইন্টারনেট এখন বিশ্ববাণিজ্যের লাইফ লাইন হয়ে উঠেছে। ফেসবুক-এর সূচনা, ইউটিউব, নেটফ্লিক্সসহ অসংখ্য গণমাধ্যম পুরো সিস্টেমে সত্যিকার অর্থেই বড় এক ঝাঁকুনি দিয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনের যুগে একজন মানুষ ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে বড় বড় ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

অনুরূপভাবে এটাও আমাদের অজানা নয় যে, বর্তমান যুগে অর্থনীতির এ বিশাল কর্মযজ্ঞে অনেক স্ত্রী তাদের স্বামীর ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা ও দেখভাল করে থাকে। অথচ সালাফদের যুগে এটি প্রচলিত ছিল না। কিন্তু আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী কিয়ামতের আলামত হিসেবে তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

আল্লাহর নবি কোনও কথা বলতেন না আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি মারফতে নির্দেশিত হওয়া ব্যতিরেকে-এ হাদিসটি তার আরেকটি উজ্জ্বল প্রমাণ। এটি তাঁর নবুওয়তের সত্যতারও প্রমাণ বহণ করে। আল হামদুলিল্লাহ।

❑ ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামীর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্ত্রীর সাহায্য-সহযোগিতা করার বিধান কী?

শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে একজন স্ত্রী যদি তার স্বামীকে এ ক্ষেত্রে সাহায্য-সহযোগিতা করে তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তাতে কোনও দোষ নেই। ইসলাম ওয়েবে
উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,

وهذا وإن كان فيه بيان حال لم يكن معهوداً عند السلف وهو بيع وشراء النساء في التجارة؛ إلا أنه لا يدل على تحريم ذلك

“এ হাদিসে যদিও এমন একটা অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে যেটা সালাফদের নিকট সুপরিচিত ছিল না। আর তা হলো, ব্যবসার ক্ষেত্রে নারীদের ক্রয়-বিক্রয়। তবে এ হাদিস এ কাজকে হারাম প্রমাণ করে না।”

এর মাধ্যমে নিঃসন্দেহে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে স্বামী উপকৃত হয় এবং পারিবারের ঘানি টানার ক্ষেত্রে একটা সাহায্যকারী মানুষ পেয়ে তার বোঝা হালকা হয়। যদিও তা স্ত্রীর মূল দায়িত্ব নয়। তার প্রধান দায়িত্ব হলো, স্বামীর সেবা করা, সন্তান প্রতিপালন করা এবং বাড়িতে অবস্থান করে স্বামীর সম্পদ হেফাজত করা। নিঃসন্দেহে এটা তার উপর অর্পিত অনেক বড় দায়িত্ব। পারিবারিক সুখ-শান্তি এবং সন্তান-সন্ততিকে সঠিকভাবে প্রতিপালনের স্বার্থে প্রতিটি নারীর এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করা কর্তব্য। এই সুখ-শান্তি পরিবার থেকে উঠে গেলে তা ধ্বংস হতে বাধ্য।

আর মনে রাখতে হবে যে, কিয়ামতের আলামত মানেই খারাপ কিছু নয়। কিছু কিছু কিয়ামতের আলামত অবশ্যই ভালো। যেমন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমন কিয়ামতের একটি আলামত। কারণ তিনি সর্বশেষ নবি। কিয়ামতের পূর্বে আর কোন নবির আগমন ঘটবে না। অর্থাৎ এর পরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

মোটকথা, একজন স্ত্রী যদি আল্লাহকে খুশি করার জন্য শরিয়তের সীমা রক্ষা করে স্বামী, সন্তান-সন্ততি ও পরিবারের জরুরত মেটানোর ক্ষেত্রে স্বামীর ব্যবসায়িক কাজে কিছুটা অবদান রাখে তাহলে তা নাজায়েজ নয়। বরং এতে সে ইনশাআল্লাহ সওয়াব পাওয়া যাবে। যেমন: সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. দ্বীনের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় আয়-রোজগারের দিকে তেমন সময় দিতে পারতেন না। ফলে এতে তাদের সংসারের টানাপোড়ন চলতো। এজন্য তাঁর স্ত্রী সেলাইয়ের কাজ করে আয়-রোজগার করতেন এবং সংসারের খরচ চালাতেন।

❑ স্বামীর ব্যবসায়িক কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করা কখন হারাম?

একজন মুসলিম মহিলা যদি স্বামীর ব্যবসায় সহায়তার নামে আল্লাহর অবশ্য পালনীয় পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে, পরপুরুষের সাথে অবাধে মেলামেশা করে, বাইরে বের হওয়ার সময় আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করে, পুরুষদের মত পোশাক-আশাক পরিধান করে, স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া ব্যবসায়িক কাজে দূর-দূরান্তে ছুটে বেড়ায় কিংবা স্বামীর হারাম ব্যবসা ও লেন-দেনে সাহায্য-সহযোগিতা করে তাহলে তা নিঃসন্দেহে হারাম। এমন কি কোনও ফাসেক বা দ্বীনের সঠিক জ্ঞান বঞ্চিত স্বামী যদি স্ত্রীকে এসব হারাম কাজের নির্দেশ প্রদান করে তাহলে স্ত্রীর জন্য তার নির্দেশ পালন করা বৈধ নয়।

বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমান যুগে দেখা যাচ্ছে, অনেক মহিলা অর্থ বাজারে ইসলামি অনুশাসনকে উপেক্ষা করে পুরুষদের মতই পুরো দস্তুর ব্যবসায়িক হয়ে স্বামী, সন্তান ও সংসারকে জলাঞ্জলি দিয়ে বসেছে। যার ফলে ঘরে ঘরে অশান্তি, তালাক, পরকীয়া, নারী নির্যাতন, সন্তান-সন্ততির লেখাপড়া, স্বাস্থ্যহানি এবং চারিত্রিক স্খলন ইত্যাদি ভয়াবহ পরিণতি অবধারিত হয়ে উঠেছে।

কিন্তু এই হাদিসের ইংগিত সম্ভবত: এ যুগের ওইসকল নারীবাদী স্ত্রীদের দিকে ইশারা করা হয়েছে, যারা ইসলামের পর্দা ব্যবস্থাকে ‘নারীর অধিকার হরণ’ বলে মনে করে এবং ‘চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্যে’র খোলা ময়দানে শরিক হয়ে দেখাতে চায় যে,

১. তারা তাদের ন্যায্য অধিকারকে কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে!
২. তারা সমাজের সামনে নমুনা হতে চায়, যাতে বাকি নারীরাও শরয়ি পর্দার অনধিকার চর্চাকে ছিন্ন করে বাড়ির বাইরে ব্যাপক হারে বেরিয়ে এসে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে!
(আল্লাহ এদের অনিষ্ট থেকে মুসলিম জাতিকে হেফাজত করুন। আমিন)

➧ উল্লেখ্য যে, একটা হাদিসে স্ত্রীদেরকে স্বামীর ব্যবসায় সাহায্য করাকে কিয়ামতের পূর্বে সংঘটিত বিভিন্ন পাপ ও হারাম কাজের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু সনদগতভাবে তা সহিহ নয়। হাদিসটি হলো:

من اقتراب الساعة اثنتان وسبعون خصلة، إذا رأيتم الناس أماتوا الصلاة، وأضاعوا الأمانة، وأكلوا الربا…..، وشاركت المراة زوجها في التجارة،

আবু নুয়াইম তার আল-হিলইয়াহ গ্রন্থে (৩/৩৫৮)। শাইখ আলবানি বলেন, এ হাদিসটি দুর্বল। [দ্র. সিলসিলা যাইফাহ, হা/১১৭১]

আবু নুয়াইম বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওবায়েদ ইবনে ওমায়ের কর্তৃক বর্ণিত হাদিসটি غريب। আমার জানা মতে, তার থেকে একমাত্র ফারাজ ইবনে ফুযালাহই বর্ণনা করেছেন।

শাইখ আলবানি বলেন, এ হাদিসটি দুর্বল যেমনটি হাফেজ ইরাকী বলেছেন। এ হাদিসের সনদে (উপরোক্ত সমস্যা ছাড়) দ্বিতীয় আরেকটি সমস্যা হচ্ছে এই যে, এটি মুনকাতি (অর্থাৎ সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে)। দ্র. জঈফ ও জাল হাদিস, ১/ বিবিধ]

✅ সারসংক্ষেপ:
১. কিয়ামতের পূর্বে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক হারে বিস্তৃত হবে। এমন পরিস্থিতিতে এ ক্ষেত্রে মহিলারা তাদের স্বামীদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। এটি কেয়ামতের অন্যতম ছোট আলামত।
বর্তমান পরিস্থিতি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভবিষ্যৎ বাণীকে সত্য বলে প্রমাণ করে। যা তার নবুয়তের সত্যতার একটি প্রমাণ আলহামদুলিল্লাহ।

২. আল্লাহ তাআলা ব্যবসাকে হালাল করেছেন। অতএব একজন স্ত্রী যদি এই হালাল কাজে শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে থেকে তার স্বামীকে সাহায্য করে তাহলে তাতে কোন দোষ নেই। হারাম তখন হবে যখন স্বামীকে ব্যবসায় সাহায্য করার নামে একজন মহিলা পর্দা লঙ্ঘন এবং অন্যান্য হারাম কর্মে লিপ্ত হবে। আল্লাহু আলাম।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

▬▬▬◄❖►▬▬▬

22/01/2026
আমি এটা প্রায়ই শুনি। আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ আছে, আমাদের সময়ের বড় একটি দুঃখজনক ব্যাপার হলো, অনেকেই অভিযোগ করেন অমুসলিমরা...
09/01/2026

আমি এটা প্রায়ই শুনি। আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ আছে, আমাদের সময়ের বড় একটি দুঃখজনক ব্যাপার হলো, অনেকেই অভিযোগ করেন অমুসলিমরা ইসলামকে আক্রমণ করে। অমুসলিমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ এর ব্যাপারে বিশ্রী কথাবার্তা বলে। অমুসলিমরা কুরআন সম্পর্কে ভয়ানক কথা বলে।

আমি বলি সেটাই সবচাইতে বড় সমস্যা নয়। আমার কাছে বড় সমস্যা হলো, মুসলিমরা সঠিকভাবে কুরআন শেখায় না। এটা আমার কাছে আরও বড় সমস্যা। কুফফারদের থেকে আপনি কী আশা করেন? তারা তা-ই করে যা তাদের করার কথা। কিন্তু জানেন কী? আমাদের যেটা করার কথা আমরা সেটা করছি না। কারণটা বলছি।

আপনি যেকোনো মুসলিম বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করুন, আল্লাহ কুরআনে কী বলে? জানেন তারা কী বলবে? হয় বলবে,

—আমি জানি না, অথবা বলবে, বেশিরভাগ জিনিসই হারাম। অথবা আল্লাহ খুব রাগ করেন। আল্লাহ অনেক জাতি ধ্বংস করে দেন। আল্লাহকে রাগাবে না।

আপনাদের অনেকেই নিজেদের বাচ্চাদের এভাবে বড় করেন। “এটা করবে না, আল্লাহ খুব রাগ করবেন!” আপনারাই রাগান্বিত এক স্রষ্টার ধারণা তৈরি করে দেন। এটা কোথায় পান আপনারা? হয়তো কুরআনেই আছে!

عَلَّمَ الْقُرْءَانَ—الرَّحْمٰنُ
এর মানে কী জানেন?

যে কুরআনকে অন্য যেকোনোকিছু মনে করবার আগে, এটাকে হেদায়েতের বই ভাবার আগে, এটাকে শাস্তির কোনো বই ভাববার আগে; আইন, নীতি, ঠিক-বেঠিক, নিয়মনীতি…এই বইয়ের ব্যাপারে প্রথম আপনাকে ভাবতে হবে—এই বইটি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহর ভালোবাসার অকল্পনীয় এক বহিঃপ্রকাশ। এভাবেই আপনাকে কুরআন সম্পর্কে ভাবতে হবে।
এটাই কুরাইশদের বলা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহ যখন শাস্তির কথা বলেন, তখন সেই আয়াতও ভালোবাসা সম্পর্কিত হয়ে যায়! একটি মেয়ে আমার কাছে এসেছিল। এরকম ঘটনা আমার সাথে প্রায়ই হয়। আমি তখন বস্টনে ছিলাম। লেকচার শেষ হবার পর আমার কাছে এসে বলল, ‘আমি ইসলাম ছেড়ে দিয়েছি। আমি আর মুসলিম নই’।

জিজ্ঞেস করলাম, তুমি আর মুসলিম নও কেন?

আমি আর এসবে অবাক হই না। কারণ এসব জিনিস প্রায়ই দেখি। খুবই সাধারণ ব্যাপার এগুলো। তো সে আমার কাছে এসে বলল, সে ইসলাম ত্যাগ করেছে।

কেন ইসলাম ত্যাগ করেছো?

সে বলে, আল্লাহ, যিনি আমাদের এত্ত ভালোবাসেন, তিনি কীভাবে কুরআনের মধ্যে শাস্তি নিয়ে এতো কথা বলেন?

আল্লাহ কি শাস্তি সম্পর্কে কথা বলেন?

হ্যাঁ! আসল কথা হলো তিনি তো কিছু শাস্তির রগরগে দৃশ্যায়নের বর্ণনাও দিয়েছেন। আপনি যদি এ ধরণের শাস্তি দেখিয়ে একটি ফিল্ম বানাতে চান, তবে লেখা থাকবে The following film is Rated R. পিতামাতাদের সতর্ক করা হচ্ছে এটা বাচ্চাদের দেখাবেন না, (এতে এমন দৃশ্য আছে যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে)।

মানুষকে জীবিত পোড়ানো হচ্ছে। তাদের চামড়া খুলে আসছে। এরপর আবার লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফুটন্ত পানি মুখে ঢেলে দেয়া হচ্ছে! বাপরে বাপ! কী ভয়ানক! এগুলো তো মুভিতেও দেখানো হয় না! খুবই ভয়ানক ভয়ঙ্কর! কুরআনের বর্ণনাগুলো খুবই স্পষ্ট! বেশ ভয়াল বর্ণনা।
আমি তাকে বললাম, তুমি ঠিকই বলেছো! কুরআনে শাস্তিগুলো আসলেই কঠিন! খুবই কঠিন। আরও বড় কথা হলো, পুরো কুরআনের ভেতর বলতে গেলে সবচাইতে ভয়ানক বর্ণনা সুরাতুর রাহমানেই আছে!! সামনে দেখব সেগুলো।

তাহলে প্রশ্ন আসে, সূরাটি কী নামে শুরু হয়েছে?

❝আর-রাহমান! (প্রচন্ড দয়াময় আল্লাহ)। তাহলে আল্লাহ কীভাবে এসব শাস্তির কথা বলেন?❞
এটাই তোমার সমস্যা, তাই না?—সে তার প্রশ্ন শেষ করার আগেই আমি প্রশ্ন শেষ করে দিলাম।

—হ্যাঁ, হ্যাঁ! একদম এটাই! আপনি তো বুঝেছেন!

সেটাই। আমরা এই সূরার আলোচনায় সেটারই সমাধান করার চেষ্টা করবো যখন সেই আয়াতগুলোতে যাবো। এখন করবো না! কিন্তু বুঝতে চেষ্টা করুন,

এই সূরাতে আল্লাহ যা কিছুই বলেছেন, তা একটি চশমার ভেতর দিয়ে দেখতে হবে। আর সেই চশমা হলো ❛আর-রাহমান❜। এই সূরার বাকি পুরোটা, কিছুই বুঝতে পারবেন না যদি না বুঝেন যে, আল্লাহ সবকিছুই বলছেন তার অকল্পনীয় ভালোবাসা থেকে। এমনকি যখন তিনি জাহান্নাম নিয়ে কথা বলছেন, তখন সেটাও তিনি ভালোবাসা থেকে করছেন!

আপনি বলবেন, ভালোবাসা নিয়ে কথা বলতে গেলে কীভাবে জাহান্নাম নিয়ে বলেন তিনি! আমরা সেটাই সমাধান করবো যখন সেখানে যাবো।

আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের প্রথম আকীদা ও ঈমান কেমন হবে? কী বিষয়ে হবে? আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের প্রথমে কী জানতে হবে যা আল্লাহ আমাদের জানার জন্য বলছেন? এই আলোচনাই এসেছে সূরা ফাতিহাতে, প্রথম সূরাতে। আল্লাহ সূরা ফাতিহায় নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে যেসব গুণাবলির মাধ্যমে এই পরিচয় তুলে ধরেছেন সেগুলো হচ্ছে ঃ রব, আর-রাহমান, আর-রাহীম, মালিকি ইয়াওমিদ্দিন। এগুলো আল্লাহর ব্যাপারে সর্বপ্রথম মৌলিক ঈমানী ও আকীদাগত গুণাবলি যা আমাদের প্রথমে জানতে হবে।

তো, আল্লাহ প্রচন্ড দয়াময় (আর-রাহমান)। তিনি কেমন অসম্ভব দয়াময় তাঁর সৃষ্টির প্রতি, এই বিষয়ে জানা আমাদের ঈমানী প্রথমদিককার দায়িত্ব। এই বিষয়ে জানা ছাড়া আপনার ঈমান কখনো ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না। তিনি কুরআন শিক্ষা দেবার জন্য এই আর-রাহমান বলেছেন। অর্থাৎ কুরআন এমন এক শিক্ষক আমাদের শিক্ষা দিচ্ছেন যিনি প্রচন্ড দয়াময়। তো, দয়াময় যদি কুরআন শিক্ষা দেয়, সেই কুরআন পুরোটাই দয়াময়ের গুণের সাথে সম্পর্ক যুক্ত হবে না? আল্লাহ প্রচন্ড দয়াময়, তাঁর কুরআন শিক্ষাটাও প্রচন্ড দয়া থেকে, কুরআনের খোদ শিক্ষাও দয়ামায়ায় পরিপূর্ণ।

এই দয়াময়ের দয়ার ভিতরে যত প্রবেশ করবেন, তত এর বিস্ময়ভরা রহস্য ও গুপ্ত রহস্যের সুগভীর ভালোবাসায় নিমজ্জিত হতে থাকবেন। বুঝতে পারবেন এই ভালোবাসার অন্তপূরে কতোটা প্রশান্তি বিরাজ করে। এই ভালোবাসা থাকলে ইবাদতে কতোটা আত্মিক প্রশান্তির ছোঁয়া হৃদয়ে অনুভব করে। তখন জানবেন এই ভালোবাসা কেউ কেড়ে নিতে পারে না, এই ভালোবাসা ছাড়া কেউ অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দিতে পারে না, এই ভালোবাসা ছাড়া অন্তরাত্মা সবসময় শূন্যতা ভর করে বেড়ায়। পৃথিবীর কোনোকিছুই এই দয়াময়ের ভালোবাসা ও আত্মার প্রশান্তিকে পূর্ণ করতে পারে না, একমাত্র আল্লাহর দয়া ও ভালোবাসা ছাড়া।

নুমান আলী খান

‎কবরের শাস্তিকে ভয় করা।উসমান (রাঃ) এর মুক্তদাস হানী থেকে বর্ণিতঃউসমান (রাঃ) কোন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এত কাঁদতেন যে, তার দ...
04/01/2026

‎কবরের শাস্তিকে ভয় করা।
উসমান (রাঃ) এর মুক্তদাস হানী থেকে বর্ণিতঃ
উসমান (রাঃ) কোন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এত কাঁদতেন যে, তার দাড়ি ভিজে যেত।
তাকে প্রশ্ন করা হলো,
জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা করা হলে তো আপনি কাঁদেন না, অথচ এই কবর দর্শনে এত বেশি কাঁদেন কেন?
তিনি বললেন,
🟤 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
আখিরাতের মানযিলসমূহের (প্রাসাদ) মধ্যে কবর হলো প্রথম মানযিল।
এখান হতে কেউ মুক্তি পেয়ে গেলে তবে তার জন্য পরবর্তী মানযিলগুলোতে মুক্তি পাওয়া খুব সহজ হয়ে যাবে।
আর সে এখান হতে মুক্তি না পেলে তবে তার জন্য পরবর্তী মানযিলগুলো আরো বেশি কঠিন হবে।
তিনি [উসমান (রাঃ)] বলেন,
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেছেন,
আমি কবরের দৃশ্যের চাইতে অধিক ভয়ংকর দৃশ্য আর কখনো দেখিনি।

হাসান , ইবনু মা-জাহ (৪২৬৭)।

জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৩০৮
হাদিসের মান: হাসান হাদিস

কাপল ভ্লগ: দাম্পত্য জীবনের কলঙ্কিত অধ্যায় বর্তমানে আধুনিক কালে নিজ স্ত্রীর রূপ সৌন্দর্য দেখিয়ে টাকা পয়সা কামাই করাকে ...
04/01/2026

কাপল ভ্লগ: দাম্পত্য জীবনের কলঙ্কিত অধ্যায়

বর্তমানে আধুনিক কালে নিজ স্ত্রীর রূপ সৌন্দর্য দেখিয়ে টাকা পয়সা কামাই করাকে বলা হয় কাপল ভ্লগ। আগে যেমন বেকার ও অকর্মণ্য মানুষেরা কয়টা টাকা পয়সা কামানোর জন্য সার্কাস এবং পশুপাখির খেলা দেখাত, সময়ের পরিবর্তনে এখন সেই শ্রেণিটাই কাপল ভ্লগ করে।

যারা কাপল ভ্লগ করে, তাদের পেশা এবং একইসাথে নেশা হয়ে ওঠে এটা। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ক্যামেরা বন্দী করে ভিডিওতে উপস্থাপন করে থাকে কাপল ব্লগাররা। উদ্দেশ্য একটাই মনিটাইজেশনের মাধ্যমে টাকা কামানো। যেহেতু উপার্জন নির্ভর করে দর্শক সংখ্যার উপর, আর দর্শক সংখ্যা বাড়াতে আকর্ষণীয় দৃশ্যপটের প্রয়োজন হয়, তাই তারা প্রদর্শনীতে নিজ স্ত্রীকে উপস্থাপন করে। এটা বলা বাহুল্য যে, একজন নারীর চেহারা এবং কথাবার্তা স্বভাবতই আকর্ষণীয় হয়। ফলশ্রুতিতে বিপুল সংখ্যক পরপুরুষ একই ভিডিও বারংবার দেখে।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি জঘন্য পাপ এবং স্বাভাবিক বিবেকবোধ ও মানবীয় আত্মমর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি গুরুতর অপরাধ।

◍ কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ-وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

“আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, যৌনকামনা মুক্ত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্য কারো কাছে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।” [সূরা নূর: ৩১]

◍ কুরআনে নারীদেরকে বাইরে গমন কালীন মুহূর্তে পূর্ণ পর্দা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার সুস্পষ্ট নির্দেশ,

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

“হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং মু’মিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন (প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময়) তাদের (পরিহিত) জিলবাবের একাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আহযাব: ৫৯]

◍ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إيَّاكم والدُّخولَ على النِّساءِ . فقالَ رجلٌ منَ الأنصارِ : يا رسولَ اللَّهِ ! أفرأيتَ الحموَ ؟ قالَ : الحموُ : الموتُ

“তোমরা নারীদের নিকট যাওয়া থেকে বিরত থাক। তখন এক আনসার সাহাবি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দেবরের ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, দেবর হচ্ছে মৃত্যুতুল্য।” [বুখারী: ৫২৩২]

ইমাম তিরমিযী, লাইস ইবনে সা’দ, আল্লামা কাযী ইয়ায ও তাবারীসহ বহু আলেম অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ নারীর জন্য তার দেবর, ভাসুর, চাচা শ্বশুর, মামা শ্বশুর ও তাদের ছেলেদের সামনে নিজেকে প্রদর্শন করা থেকে দূরে থাকতে হবে যেভাবে মৃত্যু থেকে দূরে থাকতে চায়।

নারী এতটা সস্তা নয় যে, তাকে পণ্য বানিয়ে উপস্থাপন করা যায়। এমন পুরুষের স্বামী হওয়া মহা অন্যায়, যে নিজে খাটাখাটনি করে নিজ স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে পারে না; উল্টো টাকা পয়সা কামানোর জন্য স্ত্রীকে পণ্য বানিয়ে পরপুরুষের চোখে লালসার শিকার হতে বাধ্য করে।

নিশ্চয়ই পিতারা তাদের এই কন্যাদের বহু কষ্টে গড়ে তুলেছেন। আদর্শ ও সুকন্যা বানিয়েই স্বামীদের অর্পণ করেছেন। স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে পিতা-মাতা ভারমুক্ত ও নিশ্চিন্ত থাকছেন। আর এরা স্বামী হয়ে করছেটা কী! পিতারা যদি মেয়েদের নিয়ে ভ্লগ করতেন, তাহলে হয়তো এই স্বামীরা তাদের বিয়ে করত না। বরং খারাপ ও ঘৃণা-র চোখে দেখত। এই কাপল ভ্লগ আমাদের দেশে ছোঁয়াচে অভিশাপ হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এটি বহু সুখী পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বহু পুরুষের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে দিয়েছে। বহু শিক্ষার্থীর ফুলেল জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে।

কয়েকটি ঘটনা বলছি।

◈ এক. আমার এক সহকর্মীর হঠাৎ দেখি মন খারাপ। বিষণ্নতায় ভরা চেহারা। আগে কখনও এমন দেখিনি। তাই অবাক হয়েই জানতে চাই — কী হয়েছে? মন খারাপ নাকি? আমতা আমতা করে না সূচক উত্তর দেয়। স্বাভাবিকভাবেই এড়িয়ে যাই ব্যাপারটা। কিন্তু! সময় যত গড়ায়, ততই দেখি তার অবস্থার বিরাট পরিবর্তন। বিষণ্ণতা থেকে রীতিমত কাজেকর্মে অনীহা। আমার সন্দেহ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। শক্ত করে ধরি তাকে। বলি, কী হয়েছে জানাও। এক পর্যায়ে রহস্যের জট খুলে। হাফ ছেড়ে বলতে থাকে সব কথা। আমি অবাক হয়ে শুধু শুনি। সে জানায়, ফেসবুকে ভিডিওর ধারাবাহিকতায় একদিন জনৈক কাপলের ভ্লগ দেখে। তার চোখ আটকে যায় স্ত্রী লোকটির চেহারায়। ব্যস, সেই থেকে নিয়মিত দেখা শুরু। এখন সেটা একটা ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। কল্পনায় শুধু ওই নারী। ব্লগার স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী লোকটির বলা একেকটি কথা, ভাব ভঙ্গি সবসময় তার মাথায় ঘুরপাক খায়। সে স্বস্তি পাচ্ছেনা কিছুতেই।

◈ দুই. এমন বহু স্বামীর কথা জানা আছে— যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে শুয়ে থেকে কাপল ভ্লগ দেখে নিয়মিতই। ব্লগার স্বামী-স্ত্রীর মুহূর্তগুলো, তাদের আচরণগুলো কল্পনা করে সময় পার করে। নিজ স্ত্রীর সাথে খোশগল্পের তৌফিক তাদের হয় না। ওদিকে স্ত্রীদের কলজে ফেটে যেতে চায় দুঃখে কষ্টে। না পারে বলতে, আর না পারে সইতে।নাউজুবিল্লাহ।

বিবেকবানদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট। এমন বহু অপ্রীতিকর ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। ব্লগারদের মোটা অংকের উপার্জন দেখে দেখে বহু সভ্য ভদ্র ঘরের ছেলেমেয়েরাও এসবের দিকে ঝুঁকছে। বহু সুপুরুষ এসব দেখে তাদের জীবন যৌবন সব ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখনই যদি এসবের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে না দাঁড়াই, তাহলে হয়তো আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এই কাপল ব্লগের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে পারব না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন আমিন।
লেখক: মুহাম্মাদ রাজ
[ourislam24]
সম্পাদনা ও পরিমার্জন:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

‎খাওয়া শেষে হাত ধোয়া।আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ🟤 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি হাত পরিষ্কার না করেই হাতে গ...
04/01/2026

‎খাওয়া শেষে হাত ধোয়া।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
🟤 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
যে ব্যক্তি হাত পরিষ্কার না করেই হাতে গোশতের গন্ধ ও তৈলাক্ততা নিয়ে ঘুমালো, এতে তার কোন ক্ষতি হলে এজন্য সে নিজেকেই যেন তিরস্কার করে।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

04/01/2026

কঠিন সময়ে যে পাঁচটি ইতিবাচক পদক্ষেপ আপনাকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখবে

বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে যে, সমগ্র বিশ্ব গুম, খুন, অপরাধ, সন্ত্রাস, যুদ্ধ এবং অস্ত্রের ঝনঝনানিতে মুখর হয়ে আছে। এইগুলোই এখন বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান সংবাদ। আপনার আমার চারপাশের পরিবেশ নিতান্তই গুমোট ও বিমর্ষ। দিনদিন জীবন কঠিনতর হয়ে পড়ছে। এমনকি, ঘরের মধ্যেও আমাদের জীবন বড্ড একঘেয়ে ও হতাশাপূর্ণ। আর্থিক সংকট, চাকুরিচ্যুত বেকার জীবন, স্বজনের মৃত্যু, অসুস্থতা ইত্যাদি।

এই সমস্ত নেতিবাচক চিন্তা, হতাশাকে পিছে ফেলে আমরা কিভাবে জীবনে এগিয়ে যাবো তাই এখানে আলোকপাত করা হয়েছে। জীবনটা আপনার। আপনি আসলে জীবনকে কিভাবে দেখতে চান? পানিপূর্ণ একটি গ্লাস, নাকি অর্ধেক পূর্ণ গ্লাসের ন্যায়? ইচ্ছাটা নিতান্তই আপনার। আমরা শুধু কিছু পয়েন্ট তুলে ধরছি:

১) দ্বীনের পথে অবিচল থাকুন: ঝড়-ঝঞ্জা সবার জীবনেই আসে। যদিও সেই দুর্বিষহ সময় সামলানো বেশ কঠিন, তবুও এটাকে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে মেনে নেবার মন-মানসিকতা আমাদের তৈরি করতে হবে। খুব সাধারণ একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, আর তা হল জীবনে কঠিন সময়ে বেশিরভাগ মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে। দ্বীনের প্রতি বেশি করে ঝুঁকে পড়ার এই মোক্ষম সময়। কারণ পবিত্র কোরআন ও হাদিসের প্রচুর ইতিবাচক বাণী রয়েছে যা মানুষের হতাশা এবং মানব হৃদয়ের ক্ষত সারাতে পারে খুব সহজেই। এভাবে মানুষ মহান আল্লাহ তাআলার খুব কাছে চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, “আর আমি তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেণীতে, তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে ভালো আর কিছু রয়েছে অন্যরকম! তাছাড়া আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভালো ও মন্দের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে আসে।”[সূরা আল-আরাফ: ১৬৮]।

আমাদের ঈমানের যেই পর্যায়ই থাকুক না কেন জীবনের কঠিন (পরীক্ষা) সময়ে আল্লাহমুখী হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। একমাত্র তিনিই পারেন সবকিছু কল্যাণকর ও অনুকূলে এনে দিতে। মনের শান্তির জন্য এর চেয়ে বড় দাওয়াই আর কি হতে পারে? “যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখো, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।”[সূরা রা’দ: ২৮]।

২) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: বিপদ-আপদের সময়ও জীবনের ইতিবাচক দিকগুলির কথা স্মরণ করতে হবে। সংকটকালে জীবনের প্রাপ্তিগুলো অনেক বড় আনন্দের খোরাক হতে পারে। তাই কৃতজ্ঞ হোন। আপনার প্রতি মহান আল্লাহর রহমতের কথা চিন্তা করুন এবং খুব কাছের প্রিয় মানুষটির সাথে তা আলাপ করুন। যখন আপনার মানসিক অবস্থা বহির্জগত নিয়ে বিক্ষিপ্ত ঠিক তখনই ঘরের মানুষের সাথে ইতিবাচক এই আলোচনা আপনার মনে প্রশান্তি এনে দিবে।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মানে এই নয় যে, আপনি আপনার বর্তমান সমস্যাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবেন বা গুরুত্বহীন মনে করবেন। প্রকৃতপক্ষে, বিপদ সাময়িক। সারাজীবন কারো বিপদই থাকে না। বিপদ আসে বান্দার ঈমানের পরীক্ষা হিসেবে। এটি মানুষকে তার রবের দিকে নিয়ে যায় এবং তাকে অনেক বেশি বিনয়ী, কোমল হৃদয়ের অধিকারী হতে সাহায্য করে। তিনিই আল্লাহ যিনি মানুষকে বিপদ দেন এবং তা থেকে উদ্ধার করেন।

ইসলামে বিপদ মানে পরীক্ষা। বান্দা এই সময় ধৈর্য্য ধরবে পুরস্কারের আশায়। কারণ মহান আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের অত্যন্ত ভালোবাসেন। হাদিসে এসেছে, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন: “বড় পরীক্ষার পুরস্কারও বড়। মহান আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন, তিনি তখন সেই ব্যক্তির পরীক্ষা নেন। যে ব্যক্তি ধৈর্য্যের সাথে এর মোকাবিলা করে সে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, আর যে ব্যক্তি অধৈর্য্য হয়ে যায় সে বিপথে চালিত হয়।”[তিরমিযী]

এই হাদিসে থেকে আমরা জানতে পারি যে-সকল ব্যক্তি বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করে মহান আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করবেন। আর যারা অধৈর্য্য হয়ে আল্লাহর অন্যান্য নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, বিপদে অস্থির হয়ে যায় আল্লাহর ক্রোধ তাদের উপরে নেমে আসে।

বিপদে ধৈর্য্যধারণ করলে ইহকাল-পরকাল উভয় দুনিয়ায় লাভ। এটা আমাদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক শিক্ষা যে, আমরা বিপদে অধৈর্য্য বা অস্থির হবো না এবং মহান আল্লাহর উপর আস্থা রাখবো।

৩) ভালো মনের বন্ধু বা সৎসঙ্গ: প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি আতর বিক্রেতা এবং কামারের অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী একটি উপমা দিয়েছেন। “একজন ভালো বন্ধুর উদাহরণ হলো কস্তুরি বিক্রেতার মতো। কেউ যদি তার কাছে যায় আতর নাও কিনে তবু কিছু সুবাস সে ঠিকই পাবে। অপরদিকে, মন্দ বন্ধুর উদাহরণ হলো কামারের মতো। তার কাছে গেলে হয় তুমি পুড়বে নয়তো দূর্গন্ধ পাবে।”[সহীহ বুখারী]

এই উদাহরণ এজন্য দেয়া হয়েছে যে, বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক বেশি যত্নশীল হতে হবে। কারণ মানুষ তার বন্ধু দ্বারা প্রভাবিত হয় সবচেয়ে বেশি। একজন মানুষের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যদি হয় ইতিবাচক তবে সে বিপদে ধৈর্যশীলের পরিচয় দিবে। জীবনে দুঃখকষ্ট, অভাব-অনটন, মৃত্যু, বেকারত্ব ইত্যাদি সকল বালা-মুসিবত বা নেতিবাচক দিকসমূহ আমরা কেউই পছন্দ করি না। তবু তা আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের উপলব্ধি এবং পরীক্ষার জন্য। অসৎ বা মন্দ সঙ্গ আমাদের বিপথে পরিচালিত করবে। চেষ্টা করুন খারাপ বন্ধুত্ব এড়িয়ে চলতে। একটা পচা আপেল অন্য দশটা ভালো আপেলকে পচিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে।

৪) নিজের যত্ন নিন: বিপদ বা সংকট চলাকালে অনেককে দেখা যায় নির্ঘুম রাত বা হতাশ জীবন যাপন করে। জীবনে চড়াই-উৎরাই থাকবেই, তার মানে এই নয় যে, রাতের ঘুম নষ্ট করে সারা রাত বসে চিন্তার পাহাড় গড়বেন। ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করুন ও রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান। নিজের যত্ন নিন। এতে করে মনের অশান্ত ভাব কিছুটা হলেও কমবে।

*পরিশ্রম করুন: বেকার বসে থাকলে শরীরের পাশাপাশি আপনার মনও নিস্তেজ হয়ে পড়বে। তাই কর্মঠ থাকুন। ব্যায়াম বা শারীর চর্চা আপনাকে অনেকটাই মানসিক শক্তি দেবে। একঘেয়ে জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে প্রতিদিন পার্ক বা মাঠে কিছু সময় হেঁটে আসুন বা খেলাধুলা করুন। এতে করে বেশ সজীব লাগবে।

*পর্যাপ্ত ঘুমান: ঘুম কম হলে শরীরের পাশাপাশি আপনার মনও নিস্তেজ হয়ে যাবে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমান। মানসিক সুস্থতার জন্য এর বিকল্প নেই। Pennsylvania University এর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা রাতে ৪/৪.৫ ঘন্টা ঘুমান তারা অনেক বেশি দুঃশ্চিন্তা, হতাশা, খিটখিটে মেজাজ এবং সর্বোপরি মানসিক অস্থিরতায় ভুগেন। নাটকীয়ভাবে হলেও সত্যি যে, ঐ একই মানুষগুলি যখন পর্যাপ্ত ঘুমান তখন দেখা গেছে তাদের মুড আগের চেয়ে অনেক ভালো থাকে। অনেকে মনে করেন যে, সংকট কালে বুঝি কম ঘুমানো ভালো, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

রাত দশটার মধ্যে সব কাজ সেরে বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস করুন। সকল ধরনের ক্যাফেইন যেমন; চা, কফি রাতে পান করা থেকে বিরত থাকুন। পুষ্টিসম্পন্ন খাবার যেমন আপনাকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি জাঙ্কফুড আপনাকে অসুস্থ করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম গ্রহণের ফলে শরীরের পেশিসমূহ শিথিল থাকে এবং ঘুমের জন্য প্রস্তুত থাকে। ঘুমের বেশ কিছু সময় আগে থাকতেই সমস্ত ইলেকট্টনিক্ ডিভাইস যেমন; পিসি, ট্যাব, স্মার্টফোন ইত্যাদি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এই সকল ইলেকট্টনিক্ ডিভাইসের নীলরশ্মি ঘুমের জন্য উপকারী হরমোন মেলাটোনিন নিঃসরণকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে আপনি হয়ত সারা রাত একফোঁটা শান্তির ঘুমের জন্য হয় ছটফট করেন না হয় ঘুমের ওষুধ সেবন করতে বাধ্য হন। ডিভাইস রাতে অন্য ঘরে রাখুন এবং বেডরুমের আলো যথা সম্ভব দ্রুত নিভিয়ে দিন।

*শখঃ কথায় আছে ‘শখের দাম লাখ টাকা’। ঠিক তাই। আপনার দুঃশ্চিন্তা, ক্লান্তিকর জীবনে শখের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। মানুষের নানারকম শখ থাকে, যেমন; পশু-পাখি পোষা, বই পড়ার অভ্যাস, ডাক টিকেট সংগ্রহ, বাগান করা, ভ্রমণ ইত্যাদি ইত্যাদি। চিন্তার নেতিবাচক নাগপাশ থেকে বের হয়ে আসতে তাই শখের চর্চা করুন। এটি আপনাকে মানসিক দিক দিয়ে অনেকটাই রিলাক্স হতে সাহায্য করবে।

*অন্যের জন্য কিছু করুনঃ নেতিবাচক জীবন থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে পরোপকারী হবার চেয়ে ভালো কাজ আর কি থাকতে পারে? সম্ভব হলে দুঃস্থ, অসহায়, নিঃস্ব, দরিদ্র বা নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত মহৎ কাজে নিজেকে যুক্ত করুন। হতাশার মেঘ কেটে যাবে শীঘ্রই।

৫) ভালো সময় আসবেই: জানুন যে, দুঃখ চিরস্থায়ী হয় না। দুর্যোগের আকাশে কালো মেঘ কেটে গিয়ে সোনালী রৌদ্দুর আসবেই। মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।”[সূরা আল-ইনশিরাহ: ০৫]। সমস্ত ধৈর্য্য এবং আল্লাহর স্মরণের প্রতিদান আমরা একদিন পাবো। প্রয়োজন শুধু মহান রবের উপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতা। আল্লাহ তাআলা যেই শপথ করেন তার ব্যত্যয় ঘটে না। নিশ্চয়ই তাঁর ওয়াদা সত্য। প্রত্যেক বান্দার এটা মনে রাখতে হবে যে, সকল দুঃখ-কষ্টেরই শেষ আছে।

দুঃখের পর সুখ আসলে আমরা অবশ্যই আমাদের মহান রবের শুকরিয়া জানাতে ভুলবো না। নিশ্চয়ই তিনি সকল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সাফল্যের নির্ধারক।

মূল: সাইয়েদা সামিহা

অনুবাদক: সারাহ ইসলাম

#শেয়ার_করুন

©সিরাতল মুস্তাকিম

➽ প্রশ্ন: প্রচণ্ড শীতের কারণে ওযু—গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা যাবে কি না? দয়া করে জানাবেনউত্তর: স্ত্...
04/01/2026

➽ প্রশ্ন: প্রচণ্ড শীতের কারণে ওযু—গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা যাবে কি না? দয়া করে জানাবেন

উত্তর: স্ত্রীসহবাস জনিত কারণে অপবিত্র হলে গোসল না করে সালাত আদায় করা যাবে না। অনুরূপ ওযু ছোটে গেলে পানি দ্বারা ওযু করে সালাত আদায় করতে হবে। পানি অতিরিক্ত ঠান্ডা হলেও কষ্ট করে ওযু করে সালাত আদায়ের বিশেষ ফযীলত রয়েছে। তাই কর্তব্য হলো পানি দিয়ে অযু করা। কারণ সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন:
وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا
“আর যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তাহলে নিজেদের পবিত্র করো।” যদি সে পানি ব্যবহার করতে অক্ষম হয় অথবা যদি পানি না পাওয়া যায় অথবা যদি পানি পায়. কিন্তু অসুস্থতা বা তীব্র ঠান্ডার কারণে তা ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে এবং তার কাছে তা গরম করার মতো কিছু না থাকে, তাহলে তার উচিত পানি দিয়ে অযু করা থেকে বিরত থাকা এবং পরিবর্তে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম (শুকনো অযু ) করা। কারণ সর্বশক্তিমান বলেন:
وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا
“আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা ভ্রমণে থাকো অথবা তোমাদের কেউ টয়লেট থেকে আসে অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো”। এই আয়াতে প্রমাণ রয়েছে যে, একজন অসুস্থ ব্যক্তি যার পানি ব্যবহারে ক্ষতি হতে পারে, যেমন গোসল করলে মৃত্যু হতে পারে, অসুস্থতা আরও খারাপ হতে পারে অথবা তার আরোগ্য বিলম্বিত হতে পারে, তার তায়াম্মুম করা উচিত। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়াম্মুমের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বলেন,
فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ
“তাহলে তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল এবং হাত মুছে ফেলো”। আর তিনি এই বিধানের পেছনের হিকমত ব্যাখ্যা করেছেন, বলেন,
مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
“আল্লাহ তোমাদের উপর কোন কষ্ট চাপিয়ে দিতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান।” এবং তোমাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও। (সূরা আল—মায়িদা: ৬)

আর আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাতুল সালাসিলের যুদ্ধের সময় এক শীতল রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়েছিল। আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, যদি আমি গোসল করি, তাহলে আমি মারা যাবো, তাই আমি তায়াম্মুম করলাম। তারপর আমি আমার সাথীদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলাম। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—এর কাছে এই বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “হে আমর, তুমি কি তোমার সাথীদেরকে নাপাক অবস্থায় নামায পড়াতে পেরেছিলে? আমি তাকে বললাম যে, আমাকে আল্লাহর এই বাণী গোসল করতে বাধা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيماً
“আমি শুনেছি: 'আর নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি সর্বদা দয়ালু।' (সূরা আন—নিসা:২৯) এটা শোনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন এবং কিছুই বললেন না। (সুনান আবু দাউদ, হাদীছ নং ৩৩৪) এবং ইমাম আলবানী সহীহ আবি দাউদ গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন।

এই হাদিসটি ঠান্ডা বা অন্য কোন কারণে পানি ব্যবহার করে মৃত্যুর আশঙ্কাকারী অথবা রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কাকারী ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম করার বৈধতা নির্দেশ করে। (ফাতহুল বারী, ১/৪৫৪)

শায়খ আব্দুল—আযীয বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি আপনি গরম পানি পান অথবা ঠান্ডা পানি গরম করেন অথবা আপনার প্রতিবেশী বা অন্যদের কাছ থেকে কিনে নেন, তাহলে তা করা আপনার উপর ফরজ। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
فاتَّقوا الله ما استَطَعْتُم
"তোমরা যতটা সম্ভব আল্লাহকে ভয় করো।" অতএব, আপনার যা কিছু সম্ভব তা করা উচিত, তা পানি কিনে, গরম করে, অথবা পানি দিয়ে ওজু করার জন্য অন্য কোন উপায় ব্যবহার করে। যদি আপনি তা করতে অক্ষম হন এবং ঠান্ডা তীব্র হয় এবং আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনে এবং আপনার আশেপাশের লোকদের কাছ থেকে এটি গরম করার বা গরম পানি কেনার কোন উপায় না থাকে, তাহলে আপনার জন্য তায়াম্মুম যথেষ্ট। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর যদি পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মুছে ফেলো”।

_শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানী
লিসান্স: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, এম,এম, ফাস্ট ক্লাশ

29/12/2025

কিছু গল্প আমরা আমাদের কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করি। বাস্তব জগতের গল্পগুলোকে হারানোর জন্য। সেগুলোকে রূপকথা বলা হয় । মানুষ কম করে হলেও পাঁচ হাজার বছর ধরে গল্প লিখে চলছে। যত গল্প লেখা সম্ভব, তার সবই লেখা হয়ে গেছে। এখন শুধু সম্ভব পুরাতন গল্পগুলোকে চাতুর্যতার সাথে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা। তবে গল্প মাত্রই যে কাল্পনিক তা কিন্তু না। কিছু গল্প বাস্তব। তাদের জন্ম আমাদের এই চিরচেনা পৃথিবীতে। কিন্তু তারা হার মানায় আমাদের সকল কল্পনাকে। হার মানায় রূপকথাকে। পাঁচ হাজার বছর ধরে কল্পনার গাঁথুনিতে তৈরি হওয়া গল্পগুলো অবাক বিস্ময়ে পৃথিবীর বুকে সদ্য জন্ম নেয়া গল্পটার দিকে তাকিয়ে থাকে।

আজকের গল্পটা তেমনই এক গল্প। সে গল্পের একজন নায়ক আছে। আর সে নায়ক রূপকথার নায়কদের মতোই। অসম্ভব হ্যান্ডসাম। কিন্তু তাকে হিরো বলছি কেন? তিনি কি রূপকথার গল্পের মতই কোনো রাজকন্যাকে দৈত্যের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন?

না, আমাদের হিরো তেমন কিছু করেননি। বরং এর চেয়ে অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। উৎসর্গ করেছেন জীবনের প্রায় সবকিছু।

তিনি একজন আরব। বাস করতেন মক্কায়। আরবের সবথেকে দামী আর স্টাইলিশ ড্রেস পরতেন। সবথেকে সেরা আতর ব্যবহার করতেন। বড়লোকের সন্তান। সে সময়কার সবচেয়ে স্টাইলিশ জুতা থাকতো তাঁর পায়ে। তখনকার যুগে ইয়ামেনী জুতা ছিলো সারা বিশ্বে বিখ্যাত। আর যুবকের পায়ে থাকতো ইয়ামেনী জুতার মধ্যেও সবচেয়ে দামী জোড়াটি। যুবকের নাম মুসআব ইবন উমাইর (রা)। উষর আরবকে কেউ জাগাতে পারেনি। রোমক-পার্সী কেউ না। সপ্তম শতাব্দীর সেই সময়টা ছিলো ইতিহাসের অন্ধকারময় সময়। এমন সময়ে আরবভূমি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানের ছোঁয়ায় জেগে উঠলো। এর প্রভাব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারলেন না মুসআব ইবন উমাইর (রা)।

মক্কায় মুহাম্মাদ (সা) নামের একজন সকল দেব-দেবীর উপাসনা ছেড়ে এক আল্লাহর দিকে আহ্বান করা শুরু করলেন। মুসআব চিন্তা করলেন বিষয়টা তলিয়ে দেখা দরকার। ইতোমধ্যেই তিনি খবর পেলেন মুহাম্মাদ (সা) এবং তাঁর সঙ্গীরা কুরাইশদের অত্যাচার থেকে বেঁচে আলোচনা করার জন্য মক্কার উপকণ্ঠে আরকাম নামের একজন বিশ্বস্ত সাহাবির বাড়িতে মিলিত হচ্ছেন। এটা সেই বিখ্যাত দারুল আরকাম যেখান থেকে রাসূল (সা) গোপনে ইসলাম প্রচার করেছিলেন। সাক্ষাৎ করতেন তাঁর সাহাবীদের সাথে। কৌতুহলী মুসআব তাঁর কৌতুহল মেটাবার জন্য এ বাড়িটিতে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। মুসআব এমন এক বরকতময় সন্ধ্যায় সেখানে উপস্থিত হলেন যে, তিনি দারুল আরকামে উপস্থিত হতে না হতেই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উপর নতুন ওহী নাযিল হলো। তিনি দেখলেন, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সা) সেই ওহীখানা তিলাওয়াত করে উপস্থিত সকলকে শুনালেন। সবাই মুগ্ধ হয়ে আল্লাহ তা‘আলার সেই কালাম শুনলো।

আল্লাহর কালাম মুসআব (রা)-কে গভীরভাবে আকর্ষণ করলো। ইতোমধ্যে মুসআব (রা), রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে এসে পড়েছেন। তিনি মুসআব (রা)-কে স্বাগত জানালেন এবং তাঁর একটি বরকতময় পবিত্র হাত মুসআব (রা)-এর বুকের ওপর রাখলেন। মুসআব (রা) যেন দারুন এক প্রশান্তিতে বিভোর হয়ে পড়লেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন তার পরবর্তী জীবনের প্রাণ-প্রিয় নেতার কাছ থেকে।

সেই মহান নেতা, যাঁর মুখের নির্দেশে শিষ্যরা সাগরে ঝাঁপ দিতেও দ্বিধা করতেন না। তাঁর নির্দেশের মোকাবিলায় সবকিছুই তুচ্ছ। অকাতরে সবাই বিলিয়ে দিতেন প্রাণ। প্রাণপ্রিয় মাকে চিরদিনের জন্য ত্যাগ করলেন মুসআব (রা)। তাঁর মা চেষ্টা করলেন ছেলেকে কড়া পাহারায় বন্দী করে রাখতে। কিন্তু যার হৃদয় রাসূল (সা)-এর প্রতি ভালোবাসায় পরিপূর্ণ, তাকে কে বন্দী করবে? বন্দীদশা থেকে পালালেন তিনি।

গন্তব্য এবার আফ্রিকার দিকে। জীবনের এক নতুন অধ্যায় তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আবিসিনিয়ায়। সে অধ্যায় সংগ্রামের। সে অধ্যায় চরমতম দারিদ্র্যের, যা তাঁর উজ্জ্বল ত্বককে বিবর্ণ করে দিয়েছিলো। স্টাইলিশ ড্রেস পরতে অভ্যস্ত মুসাআব খুশি মনে পরিধান করলেন বস্তার মতো পোশাক!

আবিসিনিয়া থেকে মুসআব আবার একদিন মক্কায় ফিরে এলেন। তিনি মক্কার পথে হেঁটে চলেছেন আর লোকজন কৌতুহলী দৃষ্টি নিয়ে নতুন মুসআবকে দেখছে। এতে তিনি নিজেও কিছুটা খুশি হচ্ছেন এই ভেবে যে, লোকজন দেখুক যে মুসআব একসময় জাহিলিয়্যাতের চরম ভোগ-বিলাসে জীবন কাটিয়েছে সে মুসআব এ নয়; এ তো দ্বীন-ইসলামের এক নগণ্য খাদেম!

তাঁর মা খুনাইসও খবর পেলেন ছেলে ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর মা আর ছেলের দেখা হলো। দু’জনেই আবেগাপ্লুত ছিলেন। খুনাইস আশা করেছিলেন ছেলে মুহাম্মাদ (সা)-এর প্রচার করা ‘অদ্ভুত’ বিশ্বাস ত্যাগ করে ফিরে এসেছে। কিন্তু অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি বুঝলেন তার এই ধারণা ভুল। ক্রোধে তিনি ফেটে পড়লেন। মুসআবকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তিনি শেষ চেষ্টা করবেন বলে স্থির করলেন । তিনি ছেলেকে আবার বন্দী করে বেঁধে ফেলার জন্য ভৃত্যদেরকে আদেশ করলেন। মুসআব মায়ের সকল অত্যাচার কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই মেনে নিয়েছিলেন সবসময়। কিন্তু এবার তিনি মাকে শপথ করে বললেন, কেউ যদি তাঁকে বন্দী করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের সবাইকে তিনি হত্যা করবেন। খুনাইস জানতেন তার ছেলে কখনও অনর্থক কথা বলে না। তার উপর তাঁর ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তাও তাকে অবাক করেছিলো।

মা আর সন্তানের বিচ্ছেদ ধীরে ধীরে অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠলো যদিও দু’জন দু’জনকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। মা-পুত্র দু’জনই এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছিলেন না, কিন্তু এর মাধ্যমে ঈমানের উপর মুসআবের এবং কুফরের উপর খুনাইসের অটল দৃঢ়তা স্পষ্ট হয়ে উঠল। খুনাইস, মুসআবের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিলেন। মুসআব (রা) পরিবারের বিশাল ঐশ্বর্য আর বিত্তের উত্তরাধিকারী হওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন। দু’জনের শেষ দেখায় খুনাইস বললেন, যে পথে তুমি পা বাড়িয়েছো যদি তুমি সে পথেই চলে যাও, তবে জেনে রাখো, আজ থেকে আমি আর তোমার মা নই।

এতো কর্কশ কথা শুনেও মুসআব ঘাবড়ে গেলেন না। রেগেও গেলেন না। বরং শান্ত কণ্ঠে বললেন, মা, আপনাকে আমি জানি আর আমি ভালোবাসি আপনাকে। আমি আপনাকে ‘আশহাদু আল্-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু’- এ সাক্ষ্য দেবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

খুনাইস জবাব দিলেন, আকাশের ছুটন্ত তারকার শপথ! আমার অন্তর, চিন্তাশক্তি যদি লোপও পেয়ে যায়, তবুও আমি তোমার এ দ্বীন গ্রহণ করবো না।

মুসআব আবার ঘর ছাড়লেন। পেছনে ফেলে এলেন বিপুল ঐশ্বর্য আর বিলাসিতার জীবন। আরবে যে-ই তাঁর এ অবস্থার কথা শুনতো, ভীষণ অবাক হয়ে ভাবতো এটাও কীভাবে সম্ভব!

বাড়ি-ঘর ছাড়া মুসআব ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন মদীনার পথে পথে। ইবনে হিশামের বর্ণনায় বলা আছে, অনাহারে অর্ধাহারে অপুষ্টিতে তাঁর গায়ের চামড়া এমনভাবে উঠে গিয়েছিলো যেমন সাপ তার খোলস পরিবর্তন করে।

একদিন মুসআব রাসূল (সা)-এর কাছে এলেন যেখানে রাসূল (সা)-কে ঘিরে মুসলিমদের একটি দল বসে ছিলো। দূর থেকে মুসআবকে আসতে দেখে উপস্থিত লোকদের দৃষ্টি নত হয়ে গেলো। দলের অনেকেই কেঁদে ফেললেন। কারণ মুসআবের পরনে ছিলো তালি দেওয়া একটি জীর্ণ জুব্বা।

ইসলাম-পূর্ব মুসআবের ছবি তাঁদের হৃদয়ে ভেসে উঠলো। এই কি সেই মুসআব! একদিন যার গায়ে থাকতো আরবের সবচেয়ে দামী পোশাক, আরবের বিলাসিতা আর সৌন্দর্যের মডেল ছিলো সে। কিন্তু রাসূল (সা) মুসআবের দিকে তাকিয়ে খুশি হলেন। তাঁর দিকে চেয়ে মুচকি হেসে সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বললেন, এ মুসআবকে আমি মক্কায় তার বাবা-মার সাথে দেখেছি। তারা ওকে খুব যত্ন করতেন এবং তার স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সবকিছুই করেছেন। কুরাইশদের মধ্যে কোনো যুবকই তার মতো ছিলো না। এরপর এ সমস্ত কিছু সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করে এসেছে এবং নিজেকে সে রাসূলের কাজে নিবেদিত করেছে।

বদর যুদ্ধে বন্দীদের মধ্যে একজন বন্দীর নাম ছিলো আবু আজিজ ইবনে উমাইর। এ আবু আজিজ ছিলন মুসআব ইবনে উমাইরের ভাই। যুদ্ধবন্দী থাকাকালীন সময়কার কথা আবু আজিজ পরে বর্ণনা করেন,

বন্দী থাকা অবস্থায় আমি একদল আনসারের দায়িত্বে ছিলাম। তারা যখনই খেতে বসছিলো, তখনই আমাকেও রুটি এবং খেজুর খেতে দিচ্ছিলো। এ ছিল রাসূল (সা)-এর নির্দেশ পালন, যে নির্দেশে তিনি তাদেরকে আমাদের সাথে ভালো আচরণ করতে বলেছিলেন। আমার ভাই মুসআব একসময় আমার পাশ দিয়ে গেলেন এবং আনসারদের যে ব্যক্তিটি আমার বন্দীত্বের দায়িত্বে ছিলো তাকে বললেন, একে শক্ত করে বাঁধো। এর মা হলেন একজন অত্যন্ত সম্পদশালী মহিলা এবং তিনি এর বিনিময়ে প্রচুর মুক্তিপণ দিতে সক্ষম।

আবু আজিজ যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে মুসআবের দিকে ফিরে তিনি বললেন, আপনি আমার ভাই আর আমার ব্যাপারে এটা আপনার কেমন নির্দেশ!

পাশে থাকা আনসার সাহাবিকে দেখিয়ে মুসআব বললেন, তিনি হলেন আমার ভাই, তুমি নও।

এতো ইস্পাত দৃঢ়তা থাকার পরেও মুসআব কি ভাবতে পেরেছিলেন অন্তিম মুহূর্তে এমন ব্যাথা সইতে হবে তাঁকে?

উহুদের প্রান্তর। খুনী মরুভূমির সূর্য যেন আগুন ঢালছে। চারদিকে তরবারীর ঝঙ্কার। কিছু সঙ্গীর ভুলে প্রাণপ্রিয় নেতার জীবন শঙ্কার মুখে। কী করবেন মুসআব?

হ্যাঁ, এটাই একমাত্র পথ। তাঁর চেহারা যে অনেকটা রাসূল (সা)-এর মতোই। নেকড়ের মতো চিত্‍কার করতে শুরু করলেন মক্কার ধনীর দুলাল সেই সুদর্শন যুবক। যাতে শত্রুরা তাঁকে মুহাম্মাদ (সা) ভেবে ভুল করে। সব আঘাত তিনি সহ্য করতে পারেন। মাকে ত্যাগ করে আফ্রিকায় পাড়ি জমাতে পারেন, দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু নেতার দেহে একটি আঘাত তাঁর সহ্যের বাইরে। তাঁর চিৎকারে মুসলিম বাহিনীর পতাকাবাহীর দিকে মুশরিকদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো এবং তারা প্রথমে এ পতাকাকে ভূলুণ্ঠিত করে পরবর্তী লক্ষ্যে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিলো। একজন মুশরিক সেনা তাঁর ওপর আক্রমণ করলো। একহাতে মুসলিম বাহিনীর পতাকা আর অন্য হাতে তরবারী নিয়ে তিনি প্রচণ্ড বেগে লড়াই করতে থাকেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে এক অশ্বারোহী মুশরিক সেনা তরবারীর আঘাতে মুসআবের ডান হাত তাঁর দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললো। তিনি তৎক্ষণাৎ বাম হাতে পতাকা তুলে ধরলেন।

যুদ্ধের প্রান্তরে তলোয়ার ঝনঝনানি ভেদ করে একটা আওয়াজ শোনা গেলো, ‘মুহাম্মাদ নিহত হয়েছে। মুহাম্মাদ নিহত হয়েছে…!’ তিনি জানতেন না যে ওটা ছিলো বিভ্রান্ত শত্রুর ভুল উক্তি।

মুসআব বলে উঠলেন, ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূল…আর মুহাম্মাদ কেবলমাত্র আল্লাহর একজন রাসূল! তাঁর পূর্বেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা তাঁকে হত্যা করা হয়, তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে? আর যে পেছনে ফিরে যায়, সে কখনো আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। অচিরেই আল্লাহ কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন।

যে সকল মুসলিম একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন, তাঁরা সবাই যেন জেগে উঠলেন। ইতোমধ্যে আরেক মুশরিক সেনা তার বাঁ হাতটি বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললো। তিনি এবার বাহু দুটির অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা আঁকড়ে ধরে রাখলেন এবং চিৎকার করে বলতে লাগলেন, ‘মুহাম্মাদ কেবলমাত্র আল্লাহর একজন রাসূল, তাঁর পূর্বেও রাসূলদের মৃত্যু হয়েছে’- তবুও ইসলামের পতাকাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দিলেন না। এমতাবস্থায় ইবনে কামিয়া নামের এক নরাধম এসে একটি তীক্ষ্ম বর্শা দ্বারা তাঁর দেহে আঘাত করলো, বর্শাটি তাঁর দেহটাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেললো। এবার মুসলিম বাহিনীর পতাকা মাটিতে পড়ে গেলো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি যে কথাটি (ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূল…মুহাম্মাদ কেবলমাত্র আল্লাহ্’র একজন রাসূল, তাঁর পূর্বেও রাসূলদের মৃত্যু হয়েছে) বলে গেছেন, পরবর্তীতে সে কথা রাসূল (সা)-এর কাছে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনের একটি আয়াত (সূরা আলে ইমরানঃ ১৪৪) হিসাবে অবতীর্ণ করেছেন এবং পৃথিবী ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এ কথাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সংরক্ষিত থাকবে।

যুদ্ধ শেষ হলো। রাসূল (সা) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে যুদ্ধ ময়দানে ঘুরে ঘুরে শহীদ মুসলিমদের খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন এবং তাদের জানাজার আয়োজন করছিলেন। এক সময় ঘুরতে ঘুরতে তিনি প্রিয় মুসআবের কাছে এলেন। মুসআবকে দেখে তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রগড়িয়ে পড়ছিলো। মুসআবের দেহকে ঢেকে দেবার জন্য একখণ্ড কাপড় চাওয়া হলেও একমাত্র তাঁর পোশাকটি ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছিলো না। যে জামাটি তাঁর ছিলো, সেটি দিয়ে তাঁর পা ঢাকলে মাথা বেরিয়ে পড়ছিলো এবং মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে পড়ছিলো। অবশেষে রাসূল (সা) বললেন, জামাটি দিয়ে ওর মাথা ঢেকে দাও এবং পা ইযখার (এক প্রকার ঘাস) দিয়ে ঢেকে দাও।

উহুদ যুদ্ধে রাসূল (সা) তাঁর প্রিয় অনেক মানুষকে হারিয়েছিলেন। এ যুদ্ধে শহীদ হন রাসূল (সা)-এর প্রাণপ্রিয় চাচা হামজা (রা), মুশরিকরা যার নাক, কান কর্তন করে চেহারা বিকৃত করে ফেলেছিল। যার জানাজা পড়তে গিয়ে রাসূল (সা) এমনভাবে কেঁদেছিলেন যে তাঁর স্বর উঁচু হয়ে গিয়েছিল।

এ যুদ্ধ ছিল অসংখ্য হৃদয়কে নাড়া দিয়ে ঘটনার সমষ্টি। এ যুদ্ধে মুশরিকদের আঘাতে রাসূল (সা)-এর রূবাই দাঁত ভেঙ্গে গিয়েছিল। তাঁর নীচের ঠোঁট আহত হয়েছিল। কাঁধে এতো জোরে ব্যাথা পেয়েছিলেন যে এক মাস পর্যন্ত সে ব্যাথার কষ্ট তিনি অনুভব করতেন। তরবারীর আঘাতে তাঁর চেহারা রক্তাক্ত হয়েছিল, গর্তে পড়ে তাঁর হাঁটু মচকে গিয়েছিল।

আল্লাহর রাহে এ যুদ্ধে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন সদ্য বিবাহিত হানযালা (রা), যিনি নববধূর আলিঙ্গন ছেড়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। ফেরেশতারা স্বয়ং যাকে গোসল করিয়েছিলেন।

এতো হৃদয়বিদারক ঘটনার পরেও মুসআবের দেহের সামনে এসে রাসূল (সা) ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন তখনকার কথা যখন তিনি মুসআবকে প্রথম দেখেছিলেন মক্কায়। তখন মুসআব ছিলেন মক্কার সবচেয়ে স্টাইলিশ যুবক, তাঁর গায়ে ছিলো সময়ের সেরা এবং দামী পোশাক, অথচ আজ তাঁর মৃতদেহটিকে ঢেকে দেবার জন্য একটি পূর্ণ কাপড় পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

উহুদের প্রান্তরে রাসূল (সা) অশ্রুসিক্ত চোখে যুদ্ধক্ষেত্রের চারদিকে মুসআব এবং তাঁর অন্য শহীদ সাথীদের লক্ষ করে বলেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তোমরা হলে শহীদ এবং কিয়ামাতের দিন এ মর্যাদা নিয়েই তোমরা উত্থিত হবে।

সত্যিই, রাসূল (সা)-এর এ স্বীকৃতি একজন মুমিনের জন্য পৃথিবীর সেরা প্রাপ্তি, যা মুসআব (রা) অর্জন করে আল্লাহর কাছে পৌঁছেছিলেন।

আমাদের কাছে হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে পারে অনেক অর্থ-বিত্ত, আভিজাত্য। আমাদের যাদের কাছে দুনিয়ার জীবনই মুখ্য তাদের কাছে ধনী এক যুবকের পরিবারকে ত্যাগ করা, আভিজাত্যকে ত্যাগ করা, বিলাসিতার জীবনকে ত্যাগ করে দরিদ্রতাকে বরণ করা, নেতার মৃত্যুর কথা শুনে যুদ্ধ থেকে না পালিয়ে জীবন বিলিয়ে দেওয়া নিছক বোকামি ও হেঁয়ালীপনা ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু যাদের কাছে আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনটা ছিলো বিশাল সাগরে এক ফোঁটা জল, তাদের কাছে এত কষ্টের বিনিময়েও জান্নাত ছিলো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমাদের কাছে এটা হয়তো নিছক একটা গল্প, কিন্তু এটা তো তাঁদের গল্প যারা এক ফোঁটা জলের বিনিময়ে রূপকথাকেও হার মানিয়েছিলেন। গভীর ভালোবাসায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আগলে রেখেছিলেন ইসলামের পতাকা।

আমরা যারা পরকালকে উপেক্ষা করে দুনিয়াতে সামান্য কিছু অর্জন করে নিজেকে হিরো ভাবা শুরু করি, আল্লাহর শপথ আমরা কখনোই সফলকাম নই। সফলকাম তো তাঁরা যারা আভিজাত্যের পোশাক ছেড়ে দারিদ্র্যের পোশাক পরেছিলেন।

সফলকাম তো তাঁরা, যারা এক ফোঁটা জলের বিনিময়ে পুরো সমুদ্র কিনে নিয়েছিলেন।

শিহাব আহমেদ তুহিন

#শেয়ার_করুন

©সিরাতল মুস্তাকিম

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Halal Talk posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share