Halal Talk

Halal Talk Assalamu Alaikum Wa Rohmotullahi Wabaraqatuhu. Welcome to HALAL TALK!
(1)

18/08/2026
It was said to al-Barāʾ ibn ʿĀzib رضي الله عنه: “Was the face of the Messenger of Allāh ﷺ like a sword?”He said:“No, rat...
18/08/2026

It was said to al-Barāʾ ibn ʿĀzib رضي الله عنه:

“Was the face of the Messenger of Allāh ﷺ like a sword?”

He said:

“No, rather it was like the moon.”

[Ṣaḥīḥ al-Bukhārī, 3552]

18/08/2026

আমরা অধিকাংশই আযানের জবাব দেওয়ার ব্যাপারে খুবই বেয়াখাল । অনেক আলেম ওলামা পর্যন্ত এই আমলটার ব্যাপারে দুর্বল ।

অথচ কত গুরুত্বপূর্ণ এই আমল ।‌যে আযান শুনে জবাব দেয় তার জন্য এই পুরস্কার :

-গুনাহ মাফ হওয়া।
-জান্নাতে প্রবেশ করা।
-রাসুল (ﷺ)-এর শাফায়াত লাভ করা।
-আজানের পর দোয়া কবুল হওয়া।

আমি দুই হারাম শরীফে দেখেছি আরবরা এই আমলটার ব্যাপারে খুবই সচেতন আমাদের চেয়ে । তারা কোরআন পড়া থামিয়ে আযানের প্রত্যেকটা বাক্যের জবাব দেয় তারপরে হাত উঠিয়ে লম্বা দোয়া করে ।

আমি প্রায়ই মানুষকে আযানের সময় কথা থামিয়ে দিতে বিব্রত বোধ করি ‌।‌ আবার না করলেও লস । ইবাদত করার ও পরিবেশ লাগে । আমরা এবাদত করার পরিবেশ থেকে অনেক দূরে ।

বড়জোর এক সপ্তাহ আপনি অভ্যাসটা চালিয়ে যান । বিশ্বাস করেন আপনি আযান শুনা এবং আল্লাহর কাছে হাত না উঠিয়ে থাকতে পারবেন না ।

শুরু করুন দেখবেন -আপনার পাশের মানুষটা শুরু করে দিয়েছে ।

ওমা তৌফিক ইল্লা বিল্লাহ ।

গোলাম রাব্বি

18/08/2026

আমাদের ছোটবেলা থেকে এমন একটা গণ্ডির ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে যেখানে আমরা অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে, বইয়ে যা লেখা আছে সেটাই ধ্রুব সত্য। কিন্তু, আমাদের চারপাশের অনেক কিছুই আসলে একটা বিশাল মিথ্যার চাদরে ঢাকা। আমরা যারা তথ্য এবং বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করি, তাদের কাছে এই সাজানো গোছানো ইতিহাস অনেক সময়ই খুব হাস্যকর মনে হয়।

তো আজ আমি দ্য হোয়াই ফাইলস চ্যানেলের নিকোলা টেসলা এবং গিজার গ্রেট পিরামিডের রহস্য নিয়ে একটি চমৎকার আলোচনা দেখলাম। ভিডিওটি দেখার পর আমার মনে হলো, আমরা আসলে কতটা বোকার স্বর্গে বাস করছি।

আমরা কি সত্যিই জানি, আমাদের অতীত কতটা উন্নত ছিল নাকি আমাদের শুধু ততটুকুই জানানো হয়েছে, যতটুকু জানলে আমরা প্রশ্ন করা ভুলে যাব? লিটারেলি আমাদের একটা ঘুমন্ত সমাজের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে যেখানে কেউ সত্য নিয়ে মাথা ঘামায় না।

ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়েছে গিজার গ্রেট পিরামিড হলো প্রাচীন মিশরের ফারাওদের কবরস্থান। ফারাওরা নিজেদের খোদা দাবি করত এবং তাদের এই চরম অহংকার ও দম্ভের কথা আমরা কোরআন ও ইসলামি ইতিহাস থেকে খুব স্পষ্টভাবে জানি। ইসলাম সব সময় এই ধরনের শিরক এবং মিথ্যার তীব্র প্রতিবাদ করেছে। ফারাওরা যে কতটা পথভ্রষ্ট এবং জালিম ছিল তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তাদের পতন আমাদের জন্য এক বিশাল শিক্ষা।

কিন্তু আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক এবং বিজ্ঞানীদের কিছু আবিষ্কার আমাদের সামনে এক নতুন সত্য তুলে ধরেছে, যা ফারাওদের অহংকারকে আরও বেশি হাস্যকর করে তোলে। ফারাওরা কেবল অত্যাচারীই ছিল না বরং তারা ছিল চরম পর্যায়ের মিথ্যাচারী। তারা হয়তো এই গ্রেট পিরামিড তৈরিই করেনি বরং তারা এটি আবিষ্কার করেছিল এবং নিজেদের অহংকার মেটাতে একে নিজেদের কীর্তি বলে দাবি করেছিল। অন্যের তৈরি করা এক বিশাল প্রযুক্তিগত স্থাপনাকে নিজের কবর বলে চালিয়ে দেওয়ার চেয়ে বড় মিথ্যাচার আর কী হতে পারে?

মূলধারার ইতিহাসবিদরা যুগের পর যুগ ধরে বলে আসছে, গিজার গ্রেট পিরামিড নাকি ফারাও খুফুর কবর, যা প্রায় পঁয়তাল্লিশশো বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো পিরামিডের ভেতরে কোনো মমির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একটা সাধারণ প্রাচীন কবরস্থানে যেমন নামলিপি বা হায়ারোগ্লিফিক্স থাকে, তার কিছুই এই গ্রেট পিরামিডে নেই। একটা বিশাল পাথরের কাঠামো যার ভেতরে কোনো শিল্পের ছোঁয়া নেই বরং পুরোটাই জ্যামিতিক এবং গাণিতিক নিখুঁত হিসেবে তৈরি। এটা কোনো সাধারণ মানুষের শেষ ঠিকানা হতে পারে না।

এই কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে প্রায় পঁচিশ লাখ পাথরের ব্লক দিয়ে, যার মোট ওজন প্রায় ষাট লাখ টন এবং এর উচ্চতা চারশো একাশি ফুট। এর ভিত্তি এতটাই সমতল যে, আধুনিক যুগেও এমন স্থাপনা লেজার প্রযুক্তি ছাড়া তৈরি করা বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। গ্রেট পিরামিডের বেস বা ভিত্তি তেরো একরের বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এবং এটি ট্রু নর্থ বা প্রকৃত উত্তরের সাথে এতটা নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ, যা আজকের দিনের আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া চিন্তা করাও কঠিন।

পিরামিডের কাঠামোগত নিখুঁত হিসাব লিটারেলি যে কারও মাথা নষ্ট করে দিতে বাধ্য।

মজার ব্যাপার হলো, পিরামিডের আসলে চারটা দিক নেই বরং এর দিক আটটি। প্রতিটি দিক সামান্য ভেতরের দিকে বাঁকানো যা কেবল সরাসরি ওপর থেকে বা বিষুবীয় দিনে ছায়া পড়লেই দেখা যায়। এর উচ্চতাকে তেতাল্লিশ হাজার দুইশো দিয়ে গুণ করলে পৃথিবীর মেরু ব্যাসার্ধ পাওয়া যায়, আবার এর পরিসীমাকে একই সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে পৃথিবীর পরিধি বের হয়ে আসে।

তেতাল্লিশ হাজার দুইশো সংখ্যাটিও কাকতালীয় নয়, কারণ বিষুবীয় দিনে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য ঠিক তেতাল্লিশ হাজার দুইশো সেকেন্ড হয়। যারা এই পিরামিড বানিয়েছিল, তারা আমাদের গ্রহের আকার মাত্রা এবং মহাজাগতিক হিসাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিল।

এটা কোনো সাধারণ আদিম সমাজের কাজ হতে পারে না বরং এটা একটা প্রচণ্ড উন্নত সভ্যতার ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টারপিস। তারা পৃথিবীর সাথে পুরোপুরি কানেক্টেড ছিল এবং তাদের কাছে এমন প্রযুক্তি ছিল যা আমরা আজো কল্পনা করতে পারি না।

আসল চমকটা লুকিয়ে আছে এর নির্মাণসামগ্রীর ভেতরে। পিরামিডের বাইরের অংশ একসময় আচ্ছাদিত ছিল এমন এক বিশেষ সাদা চুনাপাথর দিয়ে যা বিদ্যুৎ অপরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এই পাথরগুলো প্রায় পাঁচশো মাইল দূর থেকে আনা হয়েছিল যা আজকের দিনে ফ্লোরিডা রাজ্যের সমান দূরত্ব। এত দূর থেকে হাজার হাজার দশ টনের পাথর বয়ে আনা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। আবার ভেতরের চেম্বারগুলো তৈরি রোজ গ্রানাইট দিয়ে যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল রয়েছে।

আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে জানি কোয়ার্টজ ক্রিস্টালের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে পিজোইলেকট্রিসিটি বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। আজকের দিনের হাতঘড়ি থেকে শুরু করে জিপিএস বা টিভির মতো আধুনিক অনেক প্রযুক্তিতে এই একই বিজ্ঞান ব্যবহার করা হয়। ক্রিস্টোফার ডান নামের এক গবেষক দেখিয়েছেন, পিরামিডের নিচে থাকা জলের প্রবাহ এবং ভেতরের চেম্বারগুলোর রাসায়নিক বিক্রিয়া কীভাবে কাজ করত। পিরামিডের নিচে থাকা ভূগর্ভস্থ জলের প্রবাহের কারণে শব্দ তরঙ্গ তৈরি হতো, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক কম্পনের সাথে অনুরণিত হতো।

রানীর চেম্বার নামে পরিচিত অংশে দুটি শ্যাফট বা সুড়ঙ্গ আছে, যার উত্তরের শ্যাফটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড এবং দক্ষিণের শ্যাফটে হাইড্রেটেড জিঙ্ক ক্লোরাইডের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই দুটি রাসায়নিক পদার্থ মিশলে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হয়। সেই গ্যাস যখন গ্রানাইট নির্মিত গ্র্যান্ড গ্যালারি এবং কিংস চেম্বারের ওপর চাপ সৃষ্টি করত, তখন পুরো পিরামিড একটা বিশাল পাওয়ার প্ল্যান্টে পরিণত হতো। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, একটা বিশাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক কম্পনের সাথে অনুরণিত হয়ে একদম দূষণমুক্ত শক্তি তৈরি করত।

গ্র্যান্ড গ্যালারি চারশো চল্লিশ হার্জ বা এফ শার্প স্কেলে অনুরণিত হতো, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক কম্পনের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পুরো কাঠামোটি যেন একটি বিশাল বাদ্যযন্ত্র এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংমিশ্রণ। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এই পিরামিড রেডিও ওয়েভ বা তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গকে নিজের ভেতরে ঘনীভূত করতে সক্ষম।

এই জায়গায় এসে নিকোলা টেসলার গল্পটা আমাদের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। টেসলা ঠিক একই থিওরি ব্যবহার করে তার ওয়ারডেনক্লিফ টাওয়ার নির্মাণ করেছিলেন। তিনিও পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ জল এবং প্রাকৃতিক কম্পন ব্যবহার করে পুরো পৃথিবীতে তারবিহীন বিদ্যুৎ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। পিরামিড যেমন অ্যাকুইফার বা ভূগর্ভস্থ জলাধারের ওপর নির্মিত, টেসলার টাওয়ারও তেমনি অ্যাকুইফারের ওপর তৈরি হয়েছিল। সেখানে তামা এবং লোহার রড জলের গভীরে প্রবেশ করানো ছিল।

টেসলার স্বপ্ন ছিল, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া।

কিন্তু তার এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আলোর মুখ দেখতে পারেনি। জেপি মর্গানের মতো তৎকালীন সময়ের বিশাল ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা যখন বুঝতে পারল যে, টেসলার এই প্রজেক্ট সফল হলে তাদের কয়লা, তেল এবং তামার তারের সাম্রাজ্য ধসে পড়বে, তখন তারা টেসলার ফান্ডিং বন্ধ করে দেয়।

জেপি মর্গান সেই সময় রাবার তামা কয়লা এবং রেললাইনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রক ছিলেন। ওয়্যারলেস এবং ফ্রি বিদ্যুৎ আবিষ্কার হলে তার এই পুরো সাম্রাজ্য মূল্যহীন হয়ে পড়ত। টেসলাকে পথে বসিয়ে দেওয়া হয় এবং তার সমস্ত গবেষণাপত্র গায়েব করে ফেলা হয়।

ক্ষমতার এই নগ্ন রূপ আমাদের দেখায় যে, মানুষের কল্যাণের চেয়ে অর্থ এবং আধিপত্য বিস্তারের লোভ সব সময় প্রাধান্য পেয়েছে। আমরা যদি একটু তলিয়ে দেখি, তবে বুঝব, আজকের বিশ্বে যত যুদ্ধ আর রক্তপাত তার বেশিরভাগই এই জীবাশ্ম জ্বালানি বা তেলের নিয়ন্ত্রণের জন্য। টেসলার স্বপ্ন যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে আজ পৃথিবীটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারত।

পিরামিডের ভেতরেও এমন কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে যা নির্দেশ করে যে, একসময় সেখানে বিশাল কোনো বিস্ফোরণ ঘটেছিল। দেয়ালের পোড়া দাগ এবং ছিটকে যাওয়া বিশালাকার গ্রানাইট পাথরগুলো প্রমাণ করে যে, এটি কেবল একটি নীরব স্থাপনা ছিল না বরং এর ভেতরে প্রচণ্ড শক্তির আনাগোনা ছিল।

কিংস চেম্বারের দেয়ালগুলো এক ইঞ্চির বেশি বাইরের দিকে ছিটকে গেছে যা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ছাড়া সম্ভব নয়। দক্ষিণের শ্যাফটে এক ইঞ্চি পুরু লবণের স্তর পাওয়া গেছে যা ফুটন্ত হাইড্রোজেনের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।

রবার্ট স্কচ এবং গ্রাহাম হ্যানককের মতো গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে এই পিরামিড এবং সংলগ্ন স্ফিংস আসলে তেরো হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। স্ফিংসের গায়ে থাকা জলের ক্ষয় চিহ্ন প্রমাণ করে যে, বরফ যুগের শেষে যখন বিশাল বন্যা হয়েছিল তখন এই স্থাপনাগুলো সেই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছিল।

প্রায় নয় হাজার সাতশো খ্রিস্টপূর্বাব্দে একটি বিশাল সৌর ঝড়ের কারণে পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পুরো পৃথিবী জুড়ে বিপর্যয় নেমে আসে। এই সৌর ঝড় বা প্লাজমা স্টোর্ম এতই শক্তিশালী ছিল যে, এর প্রভাবে পৃথিবীর অনেক স্থানের পাথর গলে কাঁচ হয়ে গিয়েছিল। সেই দুর্যোগে একটি অত্যন্ত উন্নত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়, যারা এই পিরামিড তৈরি করেছিল।

এই সৌর ঝড়ের কারণে হিমবাহগুলো মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে গলে যায় এবং সারা পৃথিবীতে বিশাল বন্যার সৃষ্টি হয়। ম্যামথ বা সাবার টুথ টাইগারের মতো বিশালাকার প্রাণীগুলো ধীরে ধীরে নয় বরং এক নিমিষেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন বন্যার উপকথাগুলো হয়তো সেই প্রলয়ঙ্করী ঘটনারই স্মৃতিবহন করে।

এত বিশাল দুর্যোগের পর সেই উন্নত সভ্যতা পৃথিবী থেকে মুছে যায় এবং হাজার হাজার বছর পর মিশরীয়রা সেই পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়। তারা স্ফিংসের চেহারা পরিবর্তন করে নিজেদের ফারাওদের চেহারা বসিয়ে দেয় এবং এই বিশাল স্থাপনাগুলোকে নিজেদের বলে দাবি করে। ফারাওদের এই মিথ্যাচার আজ আধুনিক বিজ্ঞানের সামনে নগ্ন হয়ে পড়েছে।

আমি যখন এই পুরো ব্যাপারগুলো একসাথে ডট কানেক্ট করি, তখন আমার মনে হয় আমরা আসলে একটা বিশাল মিথ্যার ভেতরে বাস করছি। আমাদের শেখানো ইতিহাস কতটা ঠুনকো, তা এই বিষয়গুলো নিয়ে একটু গভীরভাবে ভাবলেই বোঝা যায়।

প্রাচীনকালের সেই উন্নত সভ্যতা হয়তো এমন কিছু জানত, যা আমরা আজও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। আর টেসলা যখন সেই হারানো জ্ঞানকে আবার জাগিয়ে তুলতে চাইলেন, তখন তাকে নির্মমভাবে থামিয়ে দেওয়া হলো। কারণ দূষণমুক্ত এবং বিনামূল্যে পাওয়া শক্তি মানেই হলো সাধারণ মানুষের চরম স্বাধীনতা। আর যারা দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তারা কখনোই চাইবে না সাধারণ মানুষ স্বাবলম্বী হোক।

সম্পদের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রাখার জন্যই, যুগে যুগে টেসলার মতো জিনিয়াসদের দমিয়ে রাখা হয়। পৃথিবীর ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সত্য সব সময় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সত্য কখনো চিরকাল লুকিয়ে থাকে না। প্রকৃতির নিয়মেই মিথ্যার পতন ঘটে, যেমনটা ফারাওদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

তৌহিদুল ইসলাম

আগুনে পোড়ার চেয়েও বড় যে ক্ষতিমানুষকে যখন সৃষ্টি করা হয়, তখন তাকে সৃষ্টিজগতের সবার উপরে—সর্বোচ্চ মর্যাদা আর সম্মান দি...
18/08/2026

আগুনে পোড়ার চেয়েও বড় যে ক্ষতি

মানুষকে যখন সৃষ্টি করা হয়, তখন তাকে সৃষ্টিজগতের সবার উপরে—সর্বোচ্চ মর্যাদা আর সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করা হয়। সেই মর্যাদার উৎস কী? আল্লাহর দেওয়া রূহ, যা আমাদের ভেতরে ফুঁকে দেওয়া হয়েছে। সেই আধ্যাত্মিক আলো, যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে যুক্ত হই। যে আলো নিজেই আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে চায়।

রূহ আল্লাহর এতই বিস্ময়কর এক সৃষ্টি যে, আসমানসমূহের অগণিত ফেরেশতা—যাদের সংখ্যা কোনো হিসাবে ধরা যায় না—তাদের সবাইকে আল্লাহ নির্দেশ দিলেন:

فَاِذَا سَوَّیۡتُهٗ وَ نَفَخۡتُ فِیۡهِ مِنۡ رُّوۡحِیۡ فَقَعُوۡا لَهٗ سٰجِدِیۡنَ
"আমি যখন তাকে পূর্ণ মাত্রায় বানিয়ে দেব আর তাতে আমার পক্ষ হতে রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার জন্য সিজদাবনত হও।" (সূরা হিজর, ১৫:২৯)

অন্য কথায়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আদম আলাইহিস সালাম এবং তাঁর সন্তানদের এমন সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যে সম্মান তাঁর আর কোনো সৃষ্টি কোনোকালে পায়নি। সর্বোচ্চ সম্মান!

ভেবে দেখুন, এই ধারণাটি কতটা শক্তিশালী। এর মানে, পৃথিবীর যে প্রান্তেই জন্ম হোক, যে গ্রামেই হোক, যে শতাব্দীতেই হোক—প্রতিটি আদম সন্তান আল্লাহর কাছে সমস্ত ফেরেশতার সম্মিলিত জমায়েতের চেয়েও বেশি মর্যাদাবান। এমনকি জিবরিল আলাইহিস সালামও সেই জমায়েতের অন্তর্ভুক্ত।

এবার সূরা ইসরার এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করুন:

وَ لَقَدۡ کَرَّمۡنَا بَنِیۡۤ اٰدَمَ
"আর আমি তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি।" (সূরা ইসরা, ১৭:৭০)

একটু থামুন। মানুষকে কী ধরনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, ভাবুন তো একবার! সুবহানাল্লাহ!

আর এই মর্যাদা এসেছে আল্লাহপ্রদত্ত রূহের কারণে, যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে যুক্ত হই। একটি হাদিসে এসেছে, একদিন জিবরিল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, "একজন মুমিনের প্রকৃত আভিজাত্য রাতের বেলা নামাজে দাঁড়ানোর মধ্যে।"

দুনিয়ায় আমরা যে পরীক্ষায় অবতীর্ণ, তার মূল প্রশ্নটাই হলো—আমাদেরকে যে সম্মান, যে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, আমরা কি সেই মর্যাদা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করছি?

সেজন্যই এই সম্মান হারিয়ে ফেলার চেয়ে চরম পরাজয়, বাজেতম ব্যর্থতা আর কিছু নেই।

আর তাইতো সূরা আলে ইমরানে এসেছে:

"যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে। আর আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (এবং বলে) 'হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর।' 'হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।'" (৩:১৯১-১৯২)

শেষ অংশটি লক্ষ করুন—"তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে।"

আগুনে প্রবেশ করলে তো আগে মনে আসার কথা পোড়ার যন্ত্রণার কথা। কিন্তু এই মানুষটি জানে—আগুনে পোড়ার শাস্তির চেয়েও ভয়ংকর ব্যাপার হলো: আমি আল্লাহর দেওয়া সর্বোচ্চ উপহারটি হারিয়ে ফেলেছি। আমি আমার সম্মান হারিয়ে ফেলেছি। কীভাবে আমি এটি হারিয়ে ফেললাম!

তাই তার মুখ থেকে বের হয়—

اِنَّکَ مَنۡ تُدۡخِلِ النَّارَ فَقَدۡ اَخۡزَیۡتَهٗ
"নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে।" (৩:১৯২)

হে আল্লাহ, আপনি আমাদের যে মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, সেই মর্যাদা রক্ষা করে চলার তাওফিক দিন, আর আমাদেরকে আগুনের অপমান থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

—নোমান আলী খানের আলোচনা অবলম্বনে
—সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯২
—বায়্যিনাহ টিভি

07/08/2026

দশ বছরে একবারও "উফ" শব্দটি শোনা যায়নি
--------------------------------------
একটা ছোট্ট পরীক্ষা করা যাক। আজ থেকে চেষ্টা করুন—ঘরের মানুষদের সাথে একটা দিন কাটাবেন, একবারও বিরক্তি প্রকাশ না করে। রাগ নয়, ধমক নয়—শুধু বিরক্তিটুকুও নয়। মুখ দিয়ে একটা "উফ" পর্যন্ত বের হবে না।

কতক্ষণ পারবেন? একটা দিন? কয়েক ঘণ্টা?

এবার শুনুন এমন একজন মানুষের সাক্ষ্য, যিনি টানা দশটি বছর একজনের ঘরে কাটিয়েছেন—সকাল থেকে সন্ধ্যা, প্রতিদিন।

আনাস ইবনে মালিক (রা)-এর বয়স তখন মাত্র সাত। তাঁর মা তাঁকে নিয়ে এলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে—নিজের ছেলেকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিলেন নবীজির খেদমতের জন্য। ছোট্ট আনাস সকালে ঘুম থেকে উঠেই দৌড়ে চলে যেতেন রাসূলের (স) ঘরে, সারাদিন সেখানেই থাকতেন—পানি এনে দিতেন, এটা-সেটা করে দিতেন—তারপর সন্ধ্যায় ফিরতেন মায়ের কাছে।

সেই আনাস (রা) পরবর্তী জীবনে বলেছেন—"আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (স)-এর সেবা করেছি। একটি বারের জন্যও তিনি আমাকে ধমক দেননি। একটি বারও তাঁর মুখ থেকে 'উফ' শব্দটা বের হয়নি!"

লক্ষ্য করুন—"উফ" রাগের শব্দও নয়। এটা বিরক্তি প্রকাশের সবচেয়ে ছোট্ট, সবচেয়ে নিরীহ শব্দ। আমরা দিনে কতবার বলি, নিজেরাই টের পাই না। আর তিনি দশ বছরে একবারও না!

আনাস (রা) আরও বলেছেন—"তিনি কখনো আমাকে বলেননি, 'কেন এটা করলে?' আর এভাবেও কখনো বলেননি, 'কেন এটা করোনি?'"

ভেবে দেখুন এই দুটো বাক্যের ওজন। "কেন করলে" আর "কেন করোনি"—এই দুই প্রশ্নের মাঝেই তো আমাদের ঘরের অধিকাংশ অশান্তি! আর যে মানুষটার কথা বলা হচ্ছে, তাঁর খাদেম একটা সাত বছরের বাচ্চা—ভুল তো হওয়ারই কথা।

ভুল হয়েছিলও। একবার রাসূলুল্লাহ (স) আনাসকে একটা কাজে পাঠালেন। পথে ছোট্ট আনাস দেখলেন কিছু বাচ্চা খেলছে। ব্যস! কাজের কথা বেমালুম ভুলে তিনিও খেলায় মেতে গেলেন। দিনশেষে তিনি তো একটা শিশুই।

এদিকে কাজটা আর হচ্ছে না দেখে রাসূলুল্লাহ (স) নিজেই খুঁজতে বেরোলেন। এসে দেখেন—আনাস পথের ধারে বাচ্চাদের সাথে খেলছে!

এবার একটু দাঁড়ান। এই দৃশ্যে নিজেকে বসান। আপনি কাউকে জরুরি কাজে পাঠিয়েছেন, আর সে রাস্তায় খেলছে—আপনার প্রতিক্রিয়া কী হতো?

আনাস (রা) বলছেন—"হঠাৎ কেউ পেছন থেকে আমার কানে স্পর্শ করে তুলে ফেললো! ঘুরে তাকিয়ে দেখি—রাসূল (স) আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন!"

ধমক নেই। রাগ নেই। বরং তিনি যেন শিশুটির সাথে খেলাই করছেন!

আর এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা। মানুষ চেনা যায় তার পরিবারের সাথে আচরণ দেখে। মসজিদে অন্য মানুষ সাজা সহজ, কর্মক্ষেত্রে অন্য কেউ হয়ে থাকা সহজ—কিন্তু ঘরের ভেতরে, স্ত্রীর সামনে, সন্তানের সামনে, খাদেমের সামনে আপনি যা—সেটাই প্রকৃত আপনি। আনাসের (রা) সাক্ষ্য বাইরের কোনো জনসভার নয়—এটা দশ বছরের ঘরোয়া, প্রতিদিনের, একান্ত জীবনের সাক্ষ্য। আর সেখানেই তাঁর চরিত্রের এই পূর্ণতা!

এমনকি যারা তাঁকে কষ্ট দিতে আসতো, তাদের সাথেও রাসূলুল্লাহ (স) উত্তম আচরণ করতেন। একবার একদল লোক এসে সালামের শব্দ বাঁকা করে বললো—"আসসামু আলাইকুম"—অর্থাৎ, "তোমার মৃত্যু হোক!" আয়েশা (রা) রাগে পর্দার আড়াল থেকে চিৎকার করে উঠলেন। আর রাসূল (স)? সম্পূর্ণ শান্ত থেকে শুধু বললেন, "ওয়া আলাইকুম"—তোমাদের উপরও। তারপর আয়েশা (রা)-কেই সংযত করলেন, "শান্ত হও, আয়েশা! তুমি কি জানো না—যেখানে কোমলতা থাকে, তা সেই জিনিসটাকে সুন্দর করে তোলে; আর যেখানে কঠোরতা প্রবেশ করে, তা সেই জিনিসটাকে কুৎসিত করে তোলে?"

আর ছোট্ট আনাসের সেই দশ বছরের খেদমতের প্রতিদান? তাঁর মা একদিন এসে বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার ছোট্ট খাদেম আনাস—তার জন্য একটু দুআ করুন!"

রাসূল (স) দুআ করলেন—"হে আল্লাহ! তার হায়াত, সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততিতে বরকত দান করুন!"

একটা মাত্র দুআ—আর ইতিহাস তার ফলাফল লিখে রেখেছে। যে যুগে মানুষের গড় আয়ু ছিল ত্রিশের ঘরে, আনাস (রা) বেঁচেছিলেন একশো দশ বছরেরও বেশি! মানুষ বলতো—আনাস একটা পাথর উল্টালেও নাকি তার নিচে স্বর্ণ পান! ব্যবসায়ীরা মুখিয়ে থাকতো তাঁকে অংশীদার বানাতে—শুধু তাঁর বরকতের ছোঁয়া পাওয়ার আশায়। আর নাতি-নাতনি, পুতি-পুতনি এত হয়েছিল যে নিজের জীবদ্দশাতেই তিনি তাদের গুনে শেষ করতে পারতেন না!

কে ছিলেন এই মানুষ—যাঁর ঘরের ভেতরটা বাইরের চেয়েও সুন্দর? আল্লাহ নিজেই তাঁর পরিচয় দিয়েছেন —

لَقَدۡ جَآءَکُمۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ عَزِیۡزٌ عَلَیۡهِ مَا عَنِتُّمۡ حَرِیۡصٌ عَلَیۡکُمۡ بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ
"তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন; তোমাদের কষ্ট তাঁর জন্য বেদনাদায়ক; তিনি তোমাদের কল্যাণে ব্যাকুল; মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা তাওবা, ৯:১২৮)

লক্ষ্য করুন—"রউফ" ও "রাহীম"—এ দুটো তো আলিফ-লামসহ পড়লে স্বয়ং আল্লাহরই নাম! স্বয়ং আর-রউফ ও আর-রাহীম তাঁর রাসূলকে বর্ণনা করছেন "রউফ" ও "রাহীম" বলে! (স্নেহশীল, পরম দয়ালু)।

ও আল্লাহ! আপনার রাসূলের (স) এই কোমলতার সামান্যতম ছোঁয়া আমাদের ঘরগুলোতে দান করুন—আমাদের জিহ্বাকে সংযত করুন আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষদের সামনে। আমিন।

—ইয়াসির কাদীর আলোচনা অবলম্বনে
— সীরাহ সিরিজ, পর্ব ২ থেকে

07/08/2026

তোমার আর আমার গন্তব্য জান্নাত
*
মাগরিবের আজান শেষ হয়েছে। কবরস্থানের এক কবরের পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াত করছে সিফাত। এখানে আর কেউ নেই।

এ দৃশ্যটা কয়েক মাস ধরে দেখছিলেন কবরস্থানের বৃদ্ধ খাদেম। প্রতিদিন একই সময়ে ছেলেটি আসে, কুরআন পড়ে, দু'হাত তুলে অনেকক্ষণ দোয়া করে, তারপর নীরবে চলে যায়।

একদিন তিনি সিফাতের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "ভাইজা, এখানে কে শুয়ে আছে?"
সিফাত কবরের মাটিতে হাত বুলিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,"আমার স্ত্রী।"

বৃদ্ধ থমকে গেলেন। সিফাতের বয়স ৩৫ এর কাছাকাছি হবে। এত অল্প বয়সে স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলা। কবরের পাশে এমন নীরবতা। এ দৃশ্য সহজে ভুলে যাওয়ার না।

কিছুক্ষণ নীরব থেকে বৃদ্ধ আবার বললেন, "তুমি কি খুব বেশি ভালোবাসতে তাকে?"
সিফাত মৃদু হেসে মাথা নাড়ল। বলল, 'হ্যা। কিন্তু তার থেকেও বেশি ভালোবাসি সেই জান্নাতকে, যেখানে আবার তার সঙ্গে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।"

বৃদ্ধ খাদেম খেয়াল করল সিফাতের চোখের কোণে পানি চিকচিক করছে।

সিফাত বলতে লাগল, "মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সে আমার হাত শক্ত করে ধরে বলেছিল- 'আমার জন্য দুনিয়া ছেড়ে দিও না। বরং এমন মানুষ হয়ে থেকো, যাকে দেখে আল্লাহ খুশি হন। যদি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো, তাহলে জান্নাত পর্যন্ত সেই ভালোবাসা পৌঁছে দিও।'

সেদিন আমি বুঝেছিলাম। কবর ভালোবাসার শেষ নয়। এটা শুধু অপেক্ষার শুরু।"
*
সেদিনের পর থেকে সিফাতের জীবন বদলে গেল। ফজরের আগে ঘুম থেকে ওঠা এখন আর তার কাছে কষ্ট হয় না। কুরআন তিলাওয়াত তার প্রতিদিনের সঙ্গী। কাউকে কষ্ট দিলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে নেয়। গোপনে সদকা করে। গণতন্ত্র, সেকুলারিজম, লিবারিজম ইত্যাদি কুফরী চিন্তা থেকে খাস ভাবে তাওবা করে ফিরে এসেছে।

রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে শুধু একটি দোয়া করে,
"হে আল্লাহ! যদি আপনি আমার স্ত্রীকে জান্নাত দান করেন, তবে আমাকেও এমন বান্দা বানিয়ে দিন, যেন জান্নাতে আবার তার পাশে দাঁড়াতে পারি।"
*
একদিন সিফাতকে তার এক বন্ধু বলল,"তুমি তো এখনো তরুণ। জীবন তো পড়ে আছে।"

সিফাত সেই বন্ধুর ইশারাটা ধরতে পেরে মুচকি হাসল। বলল, "জীবন পড়ে আছে বলেই তো প্রস্তুতি নিচ্ছি। দুনিয়ার বিচ্ছেদ কয়েক বছরের, কিন্তু জান্নাতের মিলন অনন্তকালের"।
*
বেশ কয়েক বছর পর এলাকার এক ছোট ভাই সিফাতকে জিজ্ঞেস করেছিল, "ভাই, আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন কী?"

সিফাত আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিল,"হাশরের দিন যখন সবাই নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে, তখন আল্লাহ যদি আমাকে ডাকেন। আর আমি দেখি, আমার স্ত্রীও জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে! সেদিন আমি বুঝব
এই দুনিয়ার সব ধৈর্য বৃথা যায়নি।"

দুনিয়ার ভালোবাসা মৃত্যুতে শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু যে ভালোবাসার ভিত্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি, তার শেষ কবর নয়, তার শেষ জান্নাত।
"হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সৎ পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান ও বংশধরদেরকে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান।" (৪০:৮)

~ গোলাম রাব্বানী মাশায়েখ

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Halal Talk posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share