Nobijir Salat

Nobijir Salat ইসলামে সালাত হচ্ছে সৃস্টির সাথে স্রস্টার সম্পর্ক উন্নয়নে আত্মার সাথে পরমাত্মার এক অনিন্দ্য মেলবন্ধন

10/06/2025

প্রিয় ভাই,
কি এমন অজুহাত তোমার…
যা তোমাকে দিনের নির্ধারিত সময়ে মহান রব্বে কারিমের সাক্ষাতে পৌঁছাতে দেয় না?

প্রতি চন্দ্র মাসে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। এর জন্য উত্তম হলো আইয়ামুল বিজ তথা প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫তম দিন নির্বাচন ক...
15/11/2024

প্রতি চন্দ্র মাসে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব।
এর জন্য উত্তম হলো আইয়ামুল বিজ তথা প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫তম দিন নির্বাচন করা।

এই দিবসগুলোর রাত পূর্ণ চাঁদে উদ্ভাসিত থাকে এবং রাতগুলো হয় আলোময়; তাই এই নামে নামকরণ।

13/09/2024

আল্লাহর রাসুল সাঃ এর ওফাতের মুহুর্তেও সর্বশেষ নিবেদন ছিলো :
সালাত, সালাত, সালাত।

ঈদের সালাত আদায়ে আমরা কেউ কেউ তাকবির ও রুকু নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে পরে যাই।
16/06/2024

ঈদের সালাত আদায়ে আমরা কেউ কেউ তাকবির ও রুকু নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে পরে যাই।

জিলহজ্জ মাস হতে পারে ইবাদতের সুপার মওসুম।কি কি ইবাদত করবেন?১. চুল, নখ, মোচ ইত্যাদি না কাটা২. ঈদের দিন ছাড়া বাকি নয় দিন...
07/06/2024

জিলহজ্জ মাস হতে পারে ইবাদতের সুপার মওসুম।

কি কি ইবাদত করবেন?
১. চুল, নখ, মোচ ইত্যাদি না কাটা
২. ঈদের দিন ছাড়া বাকি নয় দিন রোযা রাখা
৩. বিশেষভাবে নয় তারিখের রোযা রাখা
৪.বেশি বেশি যিকির করা
৫.তাকবীরে তাশরীক
৬.কুরবানী করা।
৭.সামর্থবানরা হজ্জ করা এ মাসের শ্রেষ্ঠ আমল।


বিস্তারিত
এক.
চুল, নখ, মোচ ইত্যাদি না কাটা।

প্রমাণ-১
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
‏ مَنْ رَأَى هِلاَلَ ذِي الْحِجَّةِ وَأَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلاَ مِنْ أَظْفَارِهِ
উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক যিলহাজের নতুন চাঁদ দেখেছে এবং কুরবানীর নিয়াত করেছে সে যেন নিজের চুল ও নখ (কুরবানী পূর্ব পর্যন্ত) না কাটে।
তিরমিজি-১৫২৩

প্রমাণ-২
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَالَ: إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ

উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা যিলহজ্বের চাদ দেখবে,(জিলহজ মাস শুরু হবে) তখন তোমাদের মধ্যে যে কুরবানী করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে।
সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭

লক্ষনীয়-১
কুরবানী যারা করবে না তাদের জন্যও এ আমল রয়েছে।
‎ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ: «أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ» فَقَالَ الرَّجُلُ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيحَةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا؟ قَالَ: «لَا، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ، وَتُقَلِّمُ أَظْفَارَكَ، وَتَقُصُّ شَارِبَكَ، وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ، فَذَلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমর ইব্ন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বললেন: কুরবানীর দিনকে ঈদের দিন করার জন্য আমাকে আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা এই উম্মতের জন্য একে সাবস্ত্য করেছেন। তখন ঐ ব্যক্তি বললো: যদি আমি দুধপান করার জন্য অন্যের দান করা পশু ব্যতীত অন্য কিছু না পাই, তা হলে কি আমি তা-ই কুরবানী করবো? তিনি বললেন: না, কিন্তু তুমি তোমার চুল, নখ কেটে ফেলবে এবং গোঁফ ছোট করবে এবং তোমার নাভীর নিচের পশম কামাবে; এটাই হবে আল্লাহ্‌র নিকট তোমার কুরবানীর পূর্ণতা।
সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪৩৬৫

লক্ষনীয়-২
ছোট বাচ্ছাদের চুল ও না কাটার চেষ্টা করা।
ওলীদ বিন মুসলিম বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আজলানকে যিলহজ্বের দশকে চুল কাটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, আমাকে নাফে রাহ. বলেছেন-

أَنّ ابْنَ عُمَرَ، مَرّ بِامْرَأَةٍ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِ ابْنِهَا فِي أَيّامِ الْعَشْرِ فَقَالَ: لَوْ أَخّرْتِيهِ إِلَى يَوْمِ النّحْرِ كَانَ أَحْسَنَ
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এক নারীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। মহিলাটি যিলহজ্বের দশকের ভেতর তার সন্তানের চুল কেটে দিচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, যদি ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তবে বড় ভাল হত।
মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৫২০

দুই.
ঈদের দিন ছাড়া বাকি নয় দিন রোযা রাখা।

প্রমাণ-১
যিলহজ্বের প্রথম দশক তথা নয় যিলহজ্ব পর্যন্ত রোযা রাখতে চেষ্টা করি। হাদীস শরীফে এসেছে,

‎، عَنْ هُنَيْدَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ امْرَأَتِهِ، عَنْ بَعْضِ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَالْخَمِيسَ ‏
হুনাইদাহ ইবনু খালিদ (রহঃ) তার স্ত্রী হতে এবং তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন এক স্ত্রী সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিলহাজ্জ মাসের নয় তারিখ পর্যন্ত, আশূরার দিন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন, মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৩৭

প্রমাণ-২
হাফসা রা. থেকে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন-

أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: صِيَامَ عَاشُورَاءَ، وَالْعَشْرَ، وَثَلَاثَةَ أَيّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ

চারটি আমল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম দশকের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা, ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায। সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২৪১৫

তিন.
বিশেষভাবে নয় তারিখের রোযা রাখা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السّنَةَ الّتِي قَبْلَهُ، وَالسّنَةَ الّتِي بَعْدَهُ

আরাফার দিনের (নয় যিলহজ্বের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি যে, (এর দ্বারা) আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।
সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২

জেনে রাখা ভালো,
উক্ত হাদীসে বর্ণিত ইয়াওমে আরাফা দ্বারা যিলহজ্বের নয় তারিখ উদ্দেশ্য। এই তারিখের পারিভাষিক নাম হচ্ছে ইয়াওমে আরাফা। কেননা এই রোযা আরাফার ময়দানের আমল নয় বরং আরাফার দিন তো হাজ্বীদের জন্য রোযা না রাখাই মুস্তাহাব। আবু দাউদের বর্নাটি লক্ষ করুন,

‎ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّ نَاسًا، تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صَوْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعْضُهُمْ هُوَ صَائِمٌ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ بِصَائِمٍ ‏.‏ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ بِعَرَفَةَ فَشَرِبَ

আল-হারিস কন্যা উম্মুল ফাদল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আরাফাহর দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওম পালন করেছেন কিনা এ নিয়ে কতিপয় লোক তার নিকট বিতর্ক করেন। তাদের কেউ বললেন, তিনি সওম রেখেছেন, আবার কতিপয় বললেন, তিনি সওম রাখেননি। সুতরাং আমি তাঁর কাছে এক পেয়ালা দুধ পাঠালাম, তখন তিনি তাঁর উষ্ট্রীর পিঠের উপর আরাফাহতে অবস্থান করছিলেন। তিনি দুধটুকু পান করলেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৪১

আরাফার দিন আল্লাহর রাসূল রোযা রাখেননি। একারণে ফকীহগণ হাজ্বীদের জন্য আরাফার দিন রোযা না রাখা উত্তম বলেছেন।

চার.
বেশি বেশি যিকির করা

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَا مِنْ أَيّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ وَلَا أَحَبّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنّ مِنْ هَذِهِ الْأَيّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوا فِيهِنّ مِنَ التّهْلِيلِ وَالتّكْبِيرِ وَالتّحْمِيدِ
আল্লাহ তাআলার নিকট আশারায়ে যিলহজ্বের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পড়।
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৫৪৪৬

পাচ.
তাকবীরে তাশরীক
যিলহজ্ব মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখকে পরিভাষায় আইয়ামে তাশরীক বলে।

কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ اذْكُرُوا اللهَ فِیْۤ اَیَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ
তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ কর। সূরা বাকারা-২০৩

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এখানে اَیَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ দ্বারা উদ্দেশ্য- আইয়ামে তাশরীক।
(দ্র. সহীহ বুখারী, বাবু ফাদলিল আমাল ফী আইয়ামিত তাশরীক; মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আছার, হাদীস ১০৮৭২)

আল্লাহর বড়ত্ব ও প্রশংসা

اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ

৯ যিলহজ্ব ফজর হতে ১৩ যিলহজ্ব আসর পর্যন্ত মোট তেইশ ওয়াক্তের নামাযের পর একবার করে তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। জামাতে নামায পড়া হোক বা একাকি, পুরুষ বা নারী, মুকীম বা মুসাফির সকলের উপর ওয়াজিব। এমনকি ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত কোনো নামায কাযা হয়ে গেলে এবং ঐ কাযা এই দিনগুলোর ভিতরেই আদায় করলে সে কাযা নামাযের পরও তাকবীরে তাশরীক পড়বে। পুরুষগণ তাকবীর বলবে উচ্চ আওয়াজে আর নারীগণ নিম্নস্বরে।

ছয়.
কুরবানী করা।
আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إنّ أَعْظَمَ الْأَيّامِ عِنْدَ اللهِ يَوْمُ النّحْرِ، ثُمّ يَوْمُ الْقَرِّ
নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন ইয়াওমুন নাহর-দশ যিলহজ্ব। তারপর ইয়াওমুল কার-এগার যিলহজ্ব; যেদিন মানুষ মিনায় অবস্থান করে। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৭৬৫

বিদায় হজ্বে ইয়াওমুন নাহরের ভাষণে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

أَلَا إِنّ أَحْرَمَ الْأَيّامِ يَوْمُكُمْ هَذَا
জেনে রাখো, তোমাদের এ দিন (ইয়াওমুন নাহর) সবচেয়ে সম্মানিত দিন। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৯৩১

সাত.
সামর্থবানগন হজ্জ করা এ মাসের শ্রেষ্ঠ আমল।
এ মাসের সবচেয়ে প্রধান আমল হল হজ্ব। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ لِلهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا وَ مَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللهَ غَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ
মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্ব করা তার জন্য অবশ্যকর্তব্য। আর যে এই নির্দেশ পালন করতে অস্বীকার করবে তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ দুনিয়াবাসীদের প্রতি সামান্যও মুখাপেক্ষী নন।
সূরা আলে ইমরান-৯৭

ফজীলত।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

مَنْ حَجّ لِلهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمّهُ
যে ব্যক্তি একমাত্র অল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্ব করে এবং কোনো অশ্লীল কাজ বা গুনাহে লিপ্ত হয় না, সে সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে বাড়ী ফেরে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৫২১

আমার আজকের লিখার মুল উদ্দেশ্য এটা নয় যে আমি আপনাদেরকে আমার মতো করেই "ঈদ আনন্দ উদযাপন" করতে হবে এই সবক দিচ্ছি, আমি বরং ঈদ...
09/04/2024

আমার আজকের লিখার মুল উদ্দেশ্য এটা নয় যে আমি আপনাদেরকে আমার মতো করেই "ঈদ আনন্দ উদযাপন" করতে হবে এই সবক দিচ্ছি, আমি বরং ঈদ উদযাপনে আমার ব্যাক্তিগত কিছু পছন্দক্রম শেয়ার করতে চাই।

আপনারা প্রত্যেকেই এ লিখার সবকিছু হুবহু পালন করতে হবে, এমনটা আশা করছি না। তবে যার যার ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক অবস্থান ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে আনন্দ উদযাপন চাইলে আমার নিম্নোক্ত লেখা থেকে কিছু আইডিয়া হয়তো আপনাদেরও কাজে লাগতে পারে এমন বিশ্বাস থেকেই আজকের আলোচনা।

ঈদের দিনে করনীয় কিছু ব্যাক্তিগত পছন্দ অপছন্দের তালিকাঃ

একঃ ঈদের দিনের ফরজ এবাদতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা।
=========================

আল্লাহ মাফ করুন, সারা মাসজুড়ে এবাদতগুজার অনেক ভাইকে দেখেছি, ঈদের দিনে আনন্দ, ছোটাছুটিতে এত বেশি মশগুল হয়ে যান, যে ফরজ সালাতও মিস হয়ে যায় কারো কারো।
নিজেও সতর্ক থাকুন, পরিবার প্রিয়জনকেও সতর্ক রাখুন।

দুইঃ পরিবারে শিশুদের প্রতি আলাদা নজর দিন।
=========================

মনে রাখবেন - ঈদে শিশুদের আনন্দটাই প্রধান। তাই ঈদের আগের রাত থেকেই তাদেরকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করুন। সবাই মিলে চাঁদ দেখুন, মেহেদী দিন, ঈদের দিন ও তার পরের দিনের জন্য বিশেষভাবে প্ল্যান করুন। প্ল্যান তৈরিতে তাদের মতামত নিন। আগে নতুন কাপড় লুকিয়ে রাখা হত। তাতে শিশুদের একটা আগ্রহ থাকত ঈদের দিনের জন্য। সম্ভব হলে সে রেওয়াজটাও পুনরায় চালু করুন।

তিনঃ একসাথে ঈদের মাঠে যাওয়া।
=========================

সম্ভব হলে সকাল সকাল প্রস্তুত হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসাথে ঈদের ময়দানে যান। বিশেষ করে শিশুরা যেন আগে আগে থাকে। ফেরার পথে তাদের পছন্দমত কিছু জিনিস কিনে দিন। দেখবেন তাদের আনন্দ কয়েক গুন বেড়ে গেছে।

চারঃ পরিবারের সবাই মিলে একসাথে খানাপিনা।
=========================

সারাবছর কর্মব্যাস্ততায় হয়তো সম্ভব হয়না। তাই বলে কি ঈদের দিনেও পরিবারের যত বেশি সম্ভব সদস্যদের নিয়ে একসাথে খানাপিনা করা যাবেনা? ট্রাই করেই দেখুন না, কি অপার্থিব আনন্দ পুলকিত করবে আপনাকে।

পাচঃ সারা বিকেল শিশুদের সাথে সময় কাটানো
=========================

নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, ছোটবেলায় আমাদের সাথে যখন বড়রা খেলায় অংশ নিতেন, সে খেলার আনন্দ দ্বিগূন হয়ে যেত। আজ এই পড়ন্ত বয়সেও সেসব খেলার কথা মনে আছে। নিজের সন্তান বা ভাতিজা ভাগিনাদের দেখেও এমনই অভিজ্ঞতা হয়েছে, হচ্ছে। সুতরাং ঈদের আনন্দের একটা বড় অংশ শিশুদের সাথে কাটান।

সম্ভব হলে আউটডোর একটিভিটিতে সম্পৃক্ত হোন। তাদের নিয়ে কানামাছি, গোল্লাছুট, কিংবা অন্য যে কোন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রুচিসম্মত খেলাধুলা। আমি নিশ্চিত আপনার সময়ও আনন্দেই কাটবে। খেলায় জয়ী পরাজিত সবার জন্য মানসম্মত পুরস্কারের আয়োজন থাকলে খুবই ভালো হয়।

ছয়ঃ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
=================

পাড়ার শিশুদের নিয়েও কিছু আয়োজন করুন। খেলা বা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। সামর্থানুযায়ী কিছু পুরস্কার রাখুন। সবাই মিলে খাওয়া–দাওয়া করুন। সবার সাথে ভাব বিনিময় এমনকি একটা উৎসবের আমেজ আসবে পুরো মহল্লা জুড়েই।

সাতঃ দলগত কাওয়ালি মিছিল করুন।
=================

ছোট বেলায় দেখেছি ঢাকাশহর ছাড়াও কিছু কিছু জেলা শহরে ঈদের সন্ধ্যা থেকে ধারাবাহিক কয়েকদিন ঈদ উদযাপনের আনন্দ মিছিল হত। সম্ভব হলে আপনি নিজের গ্রামে/মহল্লায় শুরু করুন। শিশুদের নিয়েই শুরু করুন, হ্যামিলনের বাশিওয়ালার মত। সারা গ্রাম ঘুরে ঘুরে ওদের কিছু চকলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি কিনে দিন। ওদের দিনটা আপনি আনন্দে রাঙ্গিয়ে দিন।

আমি নিশ্চিত গ্রামে গঞ্জে এই মিছিল শুরু করলে অনেক এলাকায় বড়রাও যোগ দেবে।

আটঃ বয়োবৃদ্ধদের খবর নিন।
==================

বিশেষ করে ঈদের পরের দিন, পড়াতো জেঠাতো বয়োবৃদ্ধদের খোজখবর নিন।

বয়োবৃদ্ধ এমন যাদের ছেলেমেয়েরা দূরদেশে থাকে তাদের সাথে একটু খোশগল্প / সময় কাটান। যারা হাটতে চলতে পারেন না, যাদের কাছে খুব বেশি কেউ যায় না, এবার তাদের কাছে যান, কিছুটা সময় নিয়ে গল্প করুন। দেখবেন, আপনারও ভালো লাগতে শুরু করেছে। তাদের ভালোলাগা তো সুনিশ্চিত; ঈদের আনন্দ তাদের জীবনে আবার ফিরে আসবে। আপনার জন্য, এই দিনটার জন্য তারা আমৃত্যু অপেক্ষা করে থাকবেন। হয়তো দোয়াতেও শামিল করে নেবেন।

নয়ঃ অসুস্থদের ভিজিট করুন।
=================

পঙ্গু প্যারালাইজড ইত্যাদি নানাবিধ ব্যাধিতে যারা আক্রান্ত এমন অসুস্থদের দেখতে যান। সম্ভব হলে তাদের প্রিয় কিছু উপহার দিন। আল্লাহর রাসুল সাঃ নিয়মিত পরিচিত বা অপিরিচিত যে কোন অসুস্থ ব্যাক্তিকে দেখতে যেতেন।

আমাদের সমাজে ঈদের পূর্বাপর দিনগুলোতে সকলের দুয়ারই এখনো খোলা। নিঃসঙ্কোচে আপনি যেতে পারে। সুন্নাত পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও পালন হলো। আর ঈদের স্পেশালিটিও নতুন রূপে পালিত হলো।

দশঃ কবর জিয়ারত করুন।
====================

মৃতদের ভুলবেন না। আপনার মৃত আত্মীয়-পরিজনদেরও ঈদ আনন্দে শামিল করুন। আপনার কবর যিয়ারত, একটুখানি দুআ-মাগফিরাত তাদের কবরের জীবনেও ঈদের আনন্দ নিয়ে আসতে পারে।

এগারোঃ ইসলামিক জলসা করুন।
=================

সামর্থ্য আর সুযোগ পেলে নিজের বাড়ি, আঙ্গিনা, মসজিদ, ঈদগাহতে মাহফিল করুন। ভালো ও যোগ্যতা সম্পন্ন মুত্তাকি আলেমদের দাওয়াত করুন। বাজারি / দাওয়াতি বক্তাদের পরিহার করুন।

ঈদ এবং মাহফিল উপলক্ষে বাড়িঘর সুন্দর করুন। শিশুদের নিয়েই সাজান, ঈদ মুবারক লিখা পোস্টার বানান; ঈদ উপলক্ষে শিশুদের দিয়ে চিত্রাঙ্কন করে দেয়ালে ঝুলিয়ে দিন। দেখবেন, শিশুরা সারাবছর জুড়ে এই দিনের অপেক্ষায় থাকবে।

বারোঃ আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান।
=====================

আত্মীয়-স্বজন, পাড়া–প্রতিবেশিদের বাড়িতে যান। ঈদ উপলক্ষে কেউ গেলে বিরক্ত হয়, এমন মানুষ সম্ভবত এখনো আমাদের সমাজে নেই। তবে আমরা না গেলে এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

তেরোঃ পার্শ্ববর্তী এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম ভিজিট করুন।
===================

আপনি কেবল নিজে সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকলে চলবে? পার্শ্ববর্তী এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ইত্যাদিতেও তো যাওয়া উচিত। তাইনা?
কিছু ফল, মিষ্টি, সাদাকাহ জাতীয় কিছু নিয়ে তাদের সাথে একটু সময় কাটান। বাবা মা হারা একজন এতিমের মুখে হাসি ফোটানোর চাইতে উত্তম কাজ ঈদের দিনে সম্ভবত আর হতে পারে না।

============
দুটো কথা
============

মনে রাখবেন, ঈদ সামজিক উৎসব। ফলে যা-ই করব, তা যেন কেবল নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। বেড়াতে যাব, পরিবারের লোকজন নিয়ে যাব, মাহফিল কিংবা সামাজিক উৎসব যাই করিনা কেনো আপনজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়েই করব। একা একা ঘরকুনো হয়ে যেই আনন্দ সেটা কি নবিজীর ঈদ হতে পারে?

মূলত ঈদের দিনগুলোতে যেন সচেতনভাবেই বুঝা যায় এটা আমাদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসব। চলাফেরা আচার-আচরন, সব ক্ষেত্রেই সবাইকে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত, মুসলিম সমাজে কত প্রডাক্টিভ ঈদ হতে পারে।

এক্ষেত্রেও শিশুদেরকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেবেন। তারা বুঝতে শিখুক, জানতে শিখুক, ইসলাম ও মুসলিমদের জীবনের চাইতে উত্তম শ্রেষ্ঠ ও অনুকরণীয় জীবনবোধ আর একটিও নেই।

========
সতর্কতা
========
আমাদের লড়াই তো কেবল অমুসলিমদের বিপক্ষে, অনৈসলামিক সংস্কৃতির বিপক্ষে। মুসলিমরা আমাদের বিপক্ষ নয়; আমাদের সহযোগী, আমাদেরই দল। তাই সবদল সবঘরানার সকলে মিলেই আমরা বিজয়ী হতে চাই। ইখতেলাফি বিরোধ আর নানাবিধ ঘরানার ছাড়াছাড়ি বাড়াবাড়িতে আমরা কতটা কোনঠাসা হয়েছি একটু কি ভাবনায় আসেনা?

ফুটনোটঃ
==========
ভালো লাগলে লেখাটা যতবেশি সম্ভব ছড়িয়ে দিতে পারেন। আর বাস্তবায়ন করতে চাইলে যদি সুযোগ থাকে আমাকেও ডেকে নিয়েন।

#ঈদমানেবিশালআনন্দ #ঈদমানেঅনেকখুশি

06/04/2024

হৃদয় জুড়ানো চমৎকার এই দোয়াটি অনেকেই চেয়েছিলেন।

মুখস্ত করে নিন। মন প্রশান্ত হবেই ইনশাআল্লাহ।

03/04/2024

৮ ধরনের লোকের হাতে
যাকাত দেয়া যাবে
আল কোরআনের বিধান শুনুন
কারা কারা পাবে;

শুনুন, শুনুন, কারা হবে
যাকাতের হক্বদ্বার
বেচে থাকার অবলম্বন
সামান্য নেই যার।।

সর্বস্বান্ত ফকির যারা
কস্টে কাটে দিন
মুখ ফুটে যে চায়না কিছুই
সেওতো মিসকিন।।

এমন তাকে গোপনে দিন
যার কাধে ভাই, আছে অনেক ঋণ
ঋণের টাকা মেটাতে যেনো
হয়না দ্বীন হীন।।

যাকাত আদায় কাজে যারা
সদা নিয়োজিত
যাকাত থেকে তারাও পাবে
হিস্যা নিয়মিত।।

যারা দ্বীনের তরে জিহাদ করে
সকল কিছু ছেড়ে
তারা যদি যাকাত না পায়
যাকাত পাবে কে রে?

যারা দূর শহরে সফর করে
সর্বহারা হয়
তাদের জন্যও যাকাত থেকে
অল্প কিছু রয়।।

নও-মুসলিম আর অমুসলিমের
খুলতে মনের দ্বার
যাকাতের টাকাতে দেওয়া যাবে
উপহার।।

কৃতদাসের মুক্তি, করে চুক্তি
দাসমালিকের সাথে
যাকাতের টাকাটা দিন
গুনে তাহার হাতে।।

20/03/2024

আরবি হরফের কি অনন্য কম্পিটিশন, সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদু লিল্লাহ।

৩০ দিনে ৩০ জন সাহাবির  #২৭তমগল্পমনিবের প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান=========================ফুটফুটে সন্তান জায়েদকে কোলে নিয়ে...
16/03/2024

৩০ দিনে ৩০ জন সাহাবির #২৭তমগল্প

মনিবের প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান
=========================

ফুটফুটে সন্তান জায়েদকে কোলে নিয়ে আরবের এক মা পারি দিচ্ছিলেন দিগন্ত সমান মরুপথ। সে জামানায় মরুপথে যাতায়াত ছিল ভীষণ কষ্টকর। তখন দিনের বেলায় সূর্যের প্রচণ্ড তাপ যেমন থাকতো মাথার উপর একইসাথে রাত হলেই ডাকাতের উপদ্রব। ডাকাতরা মরুভূমির ফাঁক-ফোকরে ওঁৎ পেতে বসে থাকত। সুযোগ পেলেই এরা অকস্মাৎ পথচারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত এবং লোকজনের সর্বস্ব লুট করে নিত। অনেক সময় ডাকাতরা লোকজনকে বন্দী করে নিয়ে যেত। এসব বন্দীকে তারা কখনোবা হত্যা কখনোবা ক্রীতদাস হিসেবে হাট-বাজারে বিক্রি করে দিতো।

জায়েধ ও তাঁর মায়ের ভাগ্যও ঘটল একই ঘটনা। তারা ডাকাতের হাতে পড়লেন। তস্কররা তাদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেল। ছোট বালক জায়েদসহ অনেককেই ডাকাতরা বন্দী করল। একদিন জায়েদকে বিক্রি করে দেয়া হলো আরবের হাটে। এ সুযোগে হাকিম নামে এক লোক জায়েদকে কিনে নিল।

হাকিম ছিলেন আরবের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী খাদিজা (রা)-এর আপনজন। হাকিমের খালা তিনি। হাকিম জায়েদকে এনে খালা খাদিজার হাতে সমর্পণ করলেন। খাদিজা (রা) ছিলেন আরবের সেরা ধনী মহিলা। তাই তাঁর ঘরে অনেক দাস-দাসী কাজ করত। জায়েদকেও তিনি কাজের জন্য রেখে দিলেন। খাদিজার ঘরে বালক জায়েদ বড় হতে লাগলেন। সে ছিলো খুব বিশ্বস্ত ও কর্মঠ।

চল্লিশ বছর বয়সে হযরত খাদিজার সাথে মহানবী (সা)-এর বিয়ে হলো। এবার হযরত খাদিজা বালক জায়েদকে স্বামীর খেদমতে নিয়োগ করলেন। সে হিসেবে নবী মোহাম্মদ হয়ে গেলেন তার নতুন মনিব।

কথা, কাজ, আচরণ, ব্যবহার সবকিছুতেই দুনিয়ার সেরা, অতুলনীয়, অনুপম চরিত্রমাধুর্যের এমন পরশমণির ছোয়ায় জায়েদ হয়ে উঠলেন আরেক নক্ষত্র।

মহানবী (সা)-এর সান্নিধ্য পেয়ে জায়েদ তো মহাখুশী। আল্লাহর নবী সাথে থাকা যে বড় ভাগ্যের ব্যাপার। ভাগ্যবান না হলে কেউ আল্লাহর নবীর এত কাছের এত প্রিয় হয়ে উঠতে পারে? খাদিজা (রা) যেমন জায়েদকে ভালোবাসতেন, তেমনি মহানবী (সা)ও ছোট্ট জায়েদকে ভীষণ আদর করতেন।

ক্রিতদাস হয়েও মা-বাবা হারা জায়েদ যেনো সৌভাগ্যের পরশমণি হয়ে উঠলেন। একইসাথে তিনি হযরত খাদিজার কাছে মায়ের চেয়েও বেশী আদর অন্যদিকে মহানবী (সা)-এর কাছে পেলেন বাবার আদর। ফলে তাঁর আনন্দ ও সুখ আর কে দেখে? এমনি করে জায়েদের দিনগুলো সুখে-আনন্দে ভালই কাটছিল। মহানবী (সা)-এর খেদমত আর ইসলামের কাজ ছাড়া তাঁর জীবনে আর কোনো ভাবনা নেই। নেই কোনো পিছুটানও।

তবে একদিন ঘটল এক ঘটনা। একদল হজযাত্রী কাবাঘর জেয়ারত করতে মক্কায় এলো। তাদের সাথে হযরত জায়েদের দেখা হলে যাত্রীদের একজন হযরত জায়েদকে চিনে ফেলল। সে নিশ্চিত হলো, এই বালকই মরুপথে হারানো হারেসার সেই পুত্রধন। হজ সেরে লোকেরা বাড়িতে ফিরে হারেসাকে ঠিকই সবকথা খুলে বলল। প্রাণপ্রিয় পুত্র জায়েদের খবর শুনে বাবা হারেসার বুক খুশীতে লাফিয়ে উঠল। তাই কালবিলম্ব না করেই সে তড়িঘড়ি মক্কায় এসে হাজির । জায়েদ তো হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর সাথেই থাকেন। তাই হারেসা সোজা মহানবী (সা)-এর বাড়ীতে গিয়ে উঠল।

মহানবী (সা)-এর বাড়িতে গিয়ে হারেসা ঠিকই জায়েদকে দেখতে পেল। এত এত বছর পর হারানো পুত্রের মুখ দেখে হারেসার চোখ বেয়ে নেমে এলো আনন্দ অশ্রু। সে মহানবী (সা)-কে বলল,

: দেখুন নবীজি! জায়েদ আমার ছেলে, বুকের ধন, ও আমার হারিয়ে যাওয়া মানিক। আমি ওকে নিতে এসেছি। জায়েদকে দয়া করে ফিরিয়ে দিন। এ জন্য যা মূল্য চান আমি তা দিতে প্রস্তুত আছি। আপনি তো মহামানব। তাই না করবেন না। আমার ছেলে আমাকে ফিরিয়ে দিন।

মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর নবী। মানবতার দিশারি তিনি। মানুষের কল্যাণে তাঁর প্রাণ ছিল অবারিত, উদার। তিনি মানুষের প্রভু হতে আসেননি, এসেছেন মানুষের বন্ধু হয়ে। মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্তির সওগাত নিয়ে তিনি দুনিয়ায় এসেছেন। তিনি দয়া, মায়া, মমতা ও মানবতার অগ্রদূত। মা-বাবার কাছে সন্তানের যে মূল্য তা তিনি সম্যক অনুধাবন করতে পারেন। তাই জায়েদের পিতা হারেসার দুঃখ তিনি বোঝেন। জায়েদের জন্য কী মুক্তিপণ নেবেন মহানবী (সা)! বরং তিনিই তো মানুষকে তাঁর সর্বস্ব বিলিয়ে দেন।

এ ক্ষেত্রেও মানবতার দিশারি তার প্রমাণ দিলেন। জায়েদ তাঁর সেবক। শুধু সেবক বললে ভুল হবে। তিনি আল্লাহর নবী (সা)-এর খুবই প্রিয়জন। জায়েদকে তিনি সাহিমুখে হারেসার হাতে তুলে দিলেন।

হারেসা তো হতবাক। এত সহজে ছেলেকে ফিরে পাবেন, তা ছিল হারেসার কল্পনারও বাইরে। মহানবী (সা)-এর উদারতা দেখে হারেসা আবেগে –কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হলো। তার খুশি আর কে দেখে? কারও হারানো পুত্র ফিরে পাবার আনন্দ ও তৃপ্তি যে কত মধুর তা ঐ মা-বাবা ছাড়া আর কারো অনুধাবন করাও কঠিন। আজ হারেসার মনের অবস্থাও তাই। পুত্র জায়েদকে পেয়ে হারেসার বুক ভরে গেল। সে ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হলো।

এমন সময় ঘটল উলটো এক অনন্য ঘটনা। জায়েদ এতক্ষণ ধরে সবই শুনছিল। এবার সে বেঁকে বসল। তার এক কথা, রাসুল (সা)-কে ছেড়ে সে কোথাও যাবে না। জায়েদ বলল: আমি আমার বাবা ও মাকে পেয়ে গেছি। নবীজি আমার বাবা, খাদিজা (রা) আমার মা। তাঁরা আমাকে এত বেশি আদর ভালোবাসা দিয়েছেন। সারা পৃথিবীর সবকিছুর বিনিময়ে হলেও আমি আমার নতুন বাবা - মাকে ছেড়ে আর কোথাও কারও কাছে যাব না।

বাবা হারেসা জায়েদের অনড় অবস্থা দেখে হতাশ হলেন। পুত্রকে অনেক করে বুঝালেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হলো না। এতে জায়েদের মন গলল না। অগত্যা সুখে মহানবী (সা)-এর সেবা করে যেতে লাগলেন। এভাবেই জায়েদ আজীবন মুহাম্মদ (সা)-এর কাছে থেকে গেলেন।

মহানবী (সা)-এর ভালোবাসার কাছে জায়েদের সবই ছিল তুচ্ছ। জায়েদের কাছে মহানবী (সা) ছিলেন এক পরশ পাথর। তাঁর জাদুকরী ছোঁয়ায় জীবন বদলে গিয়েছিল জায়েদের। এভাবে আরও কত লাখো কোটি মানুষের জীবনকে আল্লাহর নবী (সা)-এর আদর্শ বদলে দিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।

এমন অপার্থিব ভালোবাসার প্রতিদান আল্লাহর রাসুল সাঃ দিয়েছিলেন জায়েদকে যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি আপন চাচাতো বোন জয়নবকে বিয়ে দেন জায়েদের সাথে।

ফলে নবী পরিবারে সাথে জায়েদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলো। জায়েদের এক ছেলে সন্তান ছিল। নাম উসামা। নবীজি তাকে বড্ড বেশি আদর করতেন। নবীজি তাঁর প্রিয় নাতি হাসান-হোসেনের মতোই উসামাকে ভালোবাসতেন।

মক্কা বিজয়ের দিনের ঘটনা। মহানবী (সা) উটে চড়ে মক্কা নগরীতে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর সাথে উটের পিঠে বসেছিলেন উসামা। তা থেকেই বোঝা যায়, উসামার বাবা মহানবী (সা)-এর কত কাছের কত আপনজন ছিলেন।

আজকের শিক্ষা-
জন্মদাতা মা-বাবার চাইতেও বেশি ভালোবাসা যায় এমন নবীপ্রেমের নমুনা আমরা কি দিতে পেরেছি?

#রামাদানউপলব্ধি #সাহাবিদেরগল্প #রামাদানচ্যালেঞ্জ #৩০দিনে৩০গল্প

আসুন ৩০ দিনে ৩০ জন সাহাবির জীবনমুখি ৩০ টা গল্প জানি।১ম পর্বে আজকে জানবো সাহাবী সা'দ ইবনে উবাদা'র গল্প।তিনি, তার বাবা, তা...
13/03/2024

আসুন ৩০ দিনে ৩০ জন সাহাবির জীবনমুখি ৩০ টা গল্প জানি।

১ম পর্বে আজকে জানবো সাহাবী সা'দ ইবনে উবাদা'র গল্প।

তিনি, তার বাবা, তার দাদা বংশপরম্পরায় এতটাই অতিথিপরায়ণ ছিলেন যে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে শত সহস্রবছর ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তাহলে আজকে,
=======================
সা'দ ইবনে উবাদা রাঃ এর গল্পই বলছি
=======================

মদীনায় একটি বাড়ি ছিল। মানুষকে খাওয়ানোর জন্য বাড়িটি দেশি বিদেশি সবধরনের আগন্তুকের কাছেই বিখ্যাত ছিল। চার প্রজন্ম ধরে এই বাড়িতে লোকসমাগম হতো।

ভূনা গোশত, চর্বি ও মজাদার খাবার রান্না হতো এই বাড়িতে। রান্না শেষে একজন ঘোষক দূর্গে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করতেন- "যারা গোশত খেতে চাও, তাড়াতাড়ি এই বাড়িতে চলে আসো।"

ঘোষকের ঘোষণা শুনে মানুষজন সেই বাড়িতে গিয়ে ভালো ভালো খাবার খেতো।

বাড়িটি ছিলো বিখ্যাত সাহাবী সা'দ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর। তাঁর দাদা দুলাইম, তাঁর বাবা উবাদা, তিনি নিজে, তাঁর ছেলে কায়স— প্রত্যেকেই মানুষ খাওয়াতে পছন্দ করতেন। পরিবারটি ৪ প্রজন্ম ধরেই এই সিলসিলা জারি রেখেছিল।

যে সকল সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সবচেয়ে বেশি গোশত, কলিজা খাইয়েছেন, সা'দ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন তাদের অন্যতম।

একবার তিনি ৪০ টি উট জবাই করে মদীনার সবাইকে খাওয়ানোর জন্য দাওয়াত দিলেন। প্লেটভর্তি উটের মগজ নিয়ে চলে যান প্রিয় নবিজীর কাছে। সেই গল্পতো আমরা হাদিসের রেওয়াতেও পেয়েছি।

আহলে সুফফার গল্প কে না জানে বলুন? সেই আহলুস সুফফার ৮০ জন সাহাবীকে প্রতিদিন রাতের খাবারের দায়িত্ব ছিলো সা'দ ইবনে উবাদার দায়িত্বে। তাদেরকে খাবার খাওয়ানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন স্বেচ্ছায়।

একেকজন সাহাবীর একেকটি ইউনিক বৈশিষ্ট্য ছিল। সা'দ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বৈশিষ্ট্য ছিলো মানুষকে খাওয়ানো।

শিক্ষাঃ আমাদের আলেম ওলামা ও প্রাকটিসিং মুসলিমরা দলমত নির্বিশেষে আপনজনদের দাওয়াত দিয়ে খাবার আপ্যায়ন করতে পারি। আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে আপ্যায়নমুখি সাহাবীয় গুনাবলি ফিরে আসুক আমাদের মাঝে এটাই কাম্য। এই হোক আমাদের আজকের শিক্ষা।

===================
৩০ রোজার ৩০ চ্যালেঞ্জ - পর্ব ০১

Address

House 343, Road 25, Mohakhali DOHS
Dhaka
1206

Telephone

+8801717650240

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nobijir Salat posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Nobijir Salat:

Share