17/05/2026
যিলহজ্বের প্রথম দশ দিনের ফযীলত, গুরুত্ব ও আমল
-------------------------------------------------------
কুরআন ও সহীহ হাদীসে যিলহজ্ব মাসের বহু গুরুত্ব এসেছে। এ মাসের প্রথম দশ দিন বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “এমন কোনো দিন নেই, যেসব দিনের নেক আমল আল্লাহর নিকট যিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।...”[১]
জিলহজের প্রথম দশকের বিশেষ আমলসমূূহ :
১. অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করা [২]।
২. নেক আমল ও ভালো কাজের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া। কেননা, মহান আল্লাহর কাছে অন্যান্য সময়ের আমলের চেয়ে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল অধিক প্রিয় [১]।
৩. অন্য সময়ের তুলনায় এই দিনগুলোতে পাপকাজ পরিহারে অধিক সচেষ্ট থাকা [৩]।
৪. সামর্থ্যবান হলে হজ করা। হজ ইসলামের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের একটি। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ওপর হজ ফরজ। আবার কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া অন্য কিছ্ নয় মর্মে নবীজি (সা.)-এর সুসংবাদ রয়েছে [৪, ৫]।
৫. সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করা। [৬]।
৬. কোরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির যিলহজ্বের চাঁদ দেখা থেকে কোরবানি করার আগপর্যন্ত নখ, চুল, ও অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকা [৭]। (এ হাদিসে যদিও কোরবানিদাতাকে চুল, নখ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, তবে বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য নেই, তারাও ফজিলতপূর্ণ এ আমলটি করতে পারেন। এমনকি শিশুদেরও চুল-নখ কাটা থেকে বিরত রাখা উত্তম।)
৭. অধিক পরিমাণে তাকবির, তাহমিদ ও তাহলিল পাঠ করা। অর্থাৎ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ পড়া। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর কাছে জিলহজের ১০ দিনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও প্রিয় আমল নেই। অতএব এ দিনগুলোতে তোমরা অধিক পরিমাণে তাকবির, তাহমিদ ও তাহলিল পাঠ করো [৮]।
৮. তাশরিকের দিনগুলোতে প্রত্যেক সালাতের শেষে বিশেষভাবে তাকাবিরে তাশরিক পাঠ করা। অর্থাৎ ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি নামাজের পর একবার ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ পাঠ করা [৯]।
৯. সুযোগ থাকলে যিলহজ্বের প্রথম ৯ দিন সিয়াম পালন করা [১০]। তবে বিশেষভাবে আরাফার দিন রোজা রাখা। কেননা, আরাফার দিনের রোজা রাখলে আশা করা যায় মহান আল্লাহ তার পেছনের এবং সামনের এক বছরের (সগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন [১১]।
আল্লাহ তাআলা আমাদের আমল করার তাওফীক দান করুন।
[১] সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৯৬৯ | সহিহ হাদীস
[২] সুরা আল-হজ্ব, আয়াত: ২৮
[৩] সুরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩৬
[৪] সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭
[৫] জামে আত-তিরমিজি, হাদীস: ৮১০ | হাসান হাদীস
[৬] সুরা আল-কাউসার, আয়াত: ২
[৭] সুনানে আন-নাসায়ী, হাদীস: ৪৩৬২ | সহিহ হাদীস
[৮] আল-মুজামুল কাবির, হাদীস: ১১১১৬
[৯] মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস: ৫৬৩১
[১০] সুনানে আন-নাসায়ী, হাদীস: ২৪১৭ | সহিহ হাদীস
[১১] সহিহ আল-মুসলিম, হাদীস: ১১৬২ | সহিহ হাদীস