07/09/2026
গতকাল সংসদে "ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (আ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬" পাস হয়েছে । যেখানে বলা হয়েছে বাবা-মা তাদের সম্পদ সন্তানকে হিবা করে দিয়েও আমৃত্যু নিজেদের মালিকানায় রাখতে পারবে। বাস্তবতা হলো, এভাবে জীবন স্বত্ব সংরক্ষিত রেখে হেবা করাকে শরিয়তে হেবা বলা যায় না । কেননা হেবা বা গিফটের ক্ষেত্রে মালিকানা লাভ বা অধিগ্রহণ শর্ত । এই আইন একদিক বিবেচনায় শরীয়া নির্ধারিত মিরাস বা উত্তরাধিকার বন্টনে বিরুপ প্রভাব তৈরি করবে এতে কোনই সন্দেহ নাই । তখন এই আইন কেবল শরীয়া বিরুধীই নয় বরং তা সামাজিক অস্থিরতার বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে । জাস্ট দুইটা উদাহরণ :
১। আমাদের সমাজের বহু বাবা-মা আছেন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিলে নিজের সম্পত্তি ছেলেদের দিয়ে দিতে চান । ভয় থাকে লিখে দিলে যদি নিজেরা কোন ঝামেলায় পড়েন । এই ভয় এখন আর থাকবে না । ছেলেদের লিখে দিয়ে নিজেরা আমৃত্যু লাঠি ঘুরিয়ে চলতে পারবে । দিন শেষে মেয়েদের কুরআনে নির্ধারিত প্রাপ্ত অংশ থেকে সুকৌশলে কোন রকম ঝুঁকি ছাড়ায় বিদায় করার সুযোগ তৈরি হলো ।
২। মতের অমিলের কারণে বহু বাবা-মা সন্তানদের মাঝে ভালোবাসার তারতম্য করেন । এখন সেটা সম্পদের ক্ষেত্রেও পুরোপুরি কার্যকর করার সুযোগ হবে । বাবা-মা চাইলেই নিজেদের পছন্দের সন্তানকে সকল সম্পত্তি হিবা করে নিজের আয়ত্তে আমৃত্যু রাখতে পারবে । তাদের মৃত্যুর পর বাকি সন্তানেরা বাবা-মায়ের মিরাস থেকে কিছুই পাবে না ।
৩ ।
এই বিল উত্থাপনের পেছনে বাবা-মায়ের দেখভালের ক্ষেত্রে যেন সন্তানেরা উদাসীন হয়ে না পড়ে এই যুক্তি দেখানো হলেও তা কিন্তু অন্য বহু ঝামেলার দরজা খুলে দিচ্ছে । এজন্যই আল্লাহ মিরাস বা উত্তরাধিকার আইনের ব্যাপারে স্ববিস্তারে আলোচনার পর কোরআনে একটি সতর্কবাণী জানিয়েছেন ,
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানি করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে যাবে, তাকে আল্লাহ আগুনে ফেলে দেবেন। সেখানে সে থাকবে চিরকাল, আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা ও অপমানজনক শাস্তি।" - সুরা নিসা , আয়াত : ১৪ ।