15/08/2026
বিয়ে নাকি পণ্য কেনাবেচা?
সমাজের ভয়ংকর দুই মাপকাঠি:
আমাদের সমাজে বিয়ে শব্দটি আজ এক পবিত্র সম্পর্কের চেয়ে যেন এক বাণিজ্যিক বাজারে পরিণত হয়েছে। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এখনো যে সংকীর্ণতা ও অন্ধত্ব কাজ করে:
"পাত্রের যোগ্যতা নির্ভর করে ইনকামের উপর! আর পাত্রীর যোগ্যতা নির্ভর করে সাদা চামড়ার উপর!"।
এক মুহূর্তের জন্য থমকে ভেবে দেখা দরকার—এই দুটি মানসিকতাই আজ সমাজের জন্য কতটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।
১. পাত্রের আর্থিক মূল্যায়ন: মানুষ না এটিএম বুথ?
আজকের দিনে অনেক ক্ষেত্রেই পাত্রের মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার ব্যাংক ব্যালেন্স, গাড়ি-বাড়ি কিংবা মাসিক বেতনের ওপর। পাত্রের চরিত্র কেমন, সে নৈতিকভাবে কতটা সৎ, পরিবার বা মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ কেমন—এসব প্রশ্ন আজকাল খুব কম মানুষেরই মাথা ব্যথার কারণ হয়। পাত্রের ইনকাম যত বেশি, সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা তত বেশি। অথচ ইসলাম কিংবা সুস্থ সমাজব্যবস্থা কখনো টাকার থলিতে মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন শেখায়নি। এই মানসিকতার ফলে একদিকে যেমন বেকার বা মধ্যবিত্ত মেধাবী যুবকদের অবমূল্যায়ন করা হয়, অন্যদিকে তেমনি জীবনকে শুধু অর্থের দাঁড়িপাল্লায় মাপা হয়।
২. পাত্রীর রূপ ও বর্ণবাদ: বাহ্যিক চাকচিক্যের মোহ।
অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে এখনও সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন চোখ আটকে থাকে তার গায়ের রঙ বা বাহ্যিক রূপের ওপর। মেয়েটির সুশিক্ষা, তার নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা পারিবারিক শিষ্টাচারকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে কেবল সে দেখতে কতটা ফর্সা—তা দিয়ে তার যোগ্যতা মাপা হয়। এই বর্ণবাদী ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নারীর ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। ফর্সা ত্বক বা বাহ্যিক সৌন্দর্যই যদি সব হতো, তবে ভেতরের সুন্দর মন বা গুণাবলীর কোনো দাম থাকত না।
টাকা আর বাহ্যিক রূপের ওপর ভিত্তি করে গড়া সম্পর্কগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে আজ প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। জীবনসঙ্গী মানে কোনো পণ্য নয় যে তার গায়ে দামের বা রূপের ট্যাগ লাগানো থাকবে। বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন, যার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত তাকওয়া, চরিত্র, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানসিক মিল। এই অন্ধ ও বিকৃত সমাজব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের চিন্তাভাবনা বদলানোর সময় এখনই।