Sanatan Vidyarthi Samsad, University of Dhaka

Sanatan Vidyarthi Samsad, University of Dhaka Enhancing Dharma consciousness, Preserving Human Rights, Tradition & Culture of Hindus.

নজরুলের কালীভক্তি ও শ্যামা সঙ্গীতআজ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বলা হয...
24/05/2026

নজরুলের কালীভক্তি ও শ্যামা সঙ্গীত

আজ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বলা হয় প্রেম,বিরহ ও বিদ্রোহের কবি যার২২ টি কাব্যগ্রন্থ, ৬ টি সঙ্গীত গ্রন্থ, ৫ টি গল্প ও উপন্যাস, ৯ টি নাটক ও অন্যান্য রচনাসহ অসংখ্য অমর সৃষ্টি রয়েছে।

তাঁর সংগীত সমূহের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল শ্যামা সংগীত। শাক্তদর্শন’ দ্বারা ব্যপকভাবে প্রভাবিত ছিলেন নজরুল।

শাক্তদর্শন থেকেই নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত রচনা শুরু।

দেবী কালীর অন্য নাম শ্যামা। শ্যামাবন্দনা বা শ্যামাদেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত গানগুলোকে সাধারণভাবে শ্যামাসঙ্গীত বলা হয়। শাক্তসঙ্গীত নামটিরও ব্যবহার হয় এক্ষেত্রে। ‘শ্যামা মা’র পরিচয় দিতে গিয়ে কবি লিখেছিলেন-

“মার হাতে কালি মুখে কালি,
মা আমার কালিমাখা, মুখ দেখে মা পাড়ার লোকে হাসে খালি।
মোর লেখাপড়া হ’ল না মা, আমি ‘ম’ দেখিতেই দেখি শ্যামা,
আমি ‘ক’ দেখতেই কালী ব’লে নাচি দিয়ে করতালি।”

নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল, আবেগের গভীরতা। কেউ কেউ মনে করেন, নজরুল হৃদয়ের গভীর থেকে শ্যামার প্রতি ভক্তি নিবেদন করেছিলেন। আর সে ভক্তি সাকার হয়েছিল তার গানের ভাষাতে। তিনি লিখেছিলেন-
“ভক্তি, আমার ধুপের মত,
ঊর্ধ্বে উঠে অবিরত।
শিবলোকের দেব দেউলে,
মা’র শ্রীচরণ পরশিতে।”

বঙ্গদেশে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাক্তদর্শন ও শক্তিপূজা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। শ্যামা সঙ্গীতের ধারাটি বিকাশ লাভ করে খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে। আঠারো শতকের মধ্যভাগে সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন এতে প্রাণ সঞ্চার করে বাংলা গানের জগতে শাক্ত পদাবলি বা শ্যামা সঙ্গীত নামে একটি বিশেষ সঙ্গীতধারা প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ শ্যামা সঙ্গীতকার ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।

নজরুল প্রায় ৪০০০ গান রচনা করেছেন এবং অধিকাংশের সুর নিজেই করেছেন, যেগুলো এখন নজরুল সঙ্গীত বা ‘নজরুল গীতি’ নামে পরিচিত। যার বড় একটি অংশই শ্যামা সঙ্গীত। সঙ্গীত বিষয়ক নজরুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হচ্ছে ‘রাঙা-জবা’। ১৯৬৬ সালে ১০০টি শ্যামা সঙ্গীতে সমৃদ্ধ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। তখন মূল্য ছিল তৎকালীন তিন টাকা। শক্তি পূজায় তাঁর ভক্ত হৃদয়ের অকৃত্রিম আকুলতা ও আর্তি রাঙা-জবা’র গানের মধ্যে রূপায়িত।

এক সময় পূর্ববঙ্গে নজরুলের রচিত এই সকল শ্যামা সংগীত নিষিদ্ধ ছিল।

নারীশক্তির প্রতি নজরুলের ভক্ত হৃদয়ের অকৃত্রিম আকুলতা চিরকালই ছিল। তাই শুধু শ্যামা সঙ্গীতের প্রভাব সঙ্গীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তার কবিতাতেও প্রকাশ পেয়েছিল। ধূমকেতুতে প্রকাশিত ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামে যে কবিতাটির জন্য কবির এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়। সেই কবিতায়ও ছিল শাক্তসাধনার প্রকাশ-
“আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব–শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?”

সাহিত্য চর্চার জন্য সামান্য কিছু সময় পেয়েছিলেন নজরুল। কিন্তু জীবনের এই অল্প সময়েই তিনি রেখে যান বাংলার জন্য এক সুর ভাণ্ডার। তাঁর শ্যামাসঙ্গীতের রচনা কৌশল আর ভক্তির গভীরতা বোঝা যায় নির্দ্বিধায়। সে সব ভক্তিগীতির মধ্যেও ছিল ধূমকেতুর ন্যায় অন্তরজ্বলা আর বিষেভরা চির বিদ্রোহের বাণী। আজও ভারতবর্ষে শ্যামা সঙ্গীত বিষয়ে আলোচনা উঠলে সবার আগে নজরুলের সৃষ্টি দিয়ে শুরু করতে হয়। শ্যামা সঙ্গীতের নান্দনিক প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মরমী ও ভক্তিগীতি, এমনকি দেশাত্মবোধক গানের মধ্যে আজও প্রবহমান।কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর অসামান্য ও সুরসমৃদ্ধ শ্যামা সঙ্গীতের জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।নজরুলের শ্যামা সঙ্গীতের উল্লেখযোগ্য দিক ও বিখ্যাত কিছু গানের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

মূল বৈশিষ্ট্যমানবীয় রূপ: নজরুলের শ্যামা সংগীতে দেবী কালী কোনো ভীতিকর চরিত্র নন, বরং তিনি একজন স্নেহময়ী মা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: একজন মুসলিম হয়েও তিনি হিন্দু দেবীর প্রতি যে নিখাদ ভক্তি দেখিয়েছেন, তা তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য নিদর্শন।

গ্রন্থ: তাঁর শ্যামা সঙ্গীতগুলোর বড় একটি অংশ ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত [রাঙা-জবা] নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

জনপ্রিয় শ্যামা সঙ্গীতসমূহ"আমার ভাবের অভাব লয় হয়েছে শ্যামা-ভাব-সমাধিতে""কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন""আমার কালো মেয়ে পালিয়ে বেয়ায়""কালী কালী মন্ত্র জপি""আজও মা তোর পাইনি প্রসাদ""আমায় আঘাত যত হানবি শ্যামা"নজরুল সঙ্গীতের অন্যান্য ধারার মতো তাঁর শ্যামা সঙ্গীতগুলোও আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়।

©️ সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কোন জাতির প্রগতির শ্রেষ্ঠ মাপকাঠি হলো নারীদের প্রতি তাদের মনোভাব!– স্বামী বিবেকানন্দ
21/05/2026

কোন জাতির প্রগতির শ্রেষ্ঠ মাপকাঠি হলো নারীদের প্রতি তাদের মনোভাব!
– স্বামী বিবেকানন্দ

ওঁ তৎ সৎ জ্ঞান সংস্কার ঐক্য সাপ্তাহিক ধর্মচক্র “হে পুরুষ শ্রেষ্ঠ যুধিষ্ঠির! ভগবান বিধাতা সৃষ্টির প্রথমেই এইভাবে ধর্মচক্র...
21/05/2026

ওঁ তৎ সৎ
জ্ঞান সংস্কার ঐক্য

সাপ্তাহিক ধর্মচক্র

“হে পুরুষ শ্রেষ্ঠ যুধিষ্ঠির! ভগবান বিধাতা সৃষ্টির প্রথমেই এইভাবে ধর্মচক্রের প্রবর্তন করেছেন। সুতরাং ধর্মচক্র সকলের পরম আশ্রয় স্বরূপ। অতএব সেই ধর্মচক্রেই তুমি আমৃত্যু সদা যুক্ত থাকবে।“
( মহাভারত,শান্তি পর্ব, ৬৩/৩৫)

সময়সূচী: ২১ মে ২০২৬; বৃহস্পতিবার; রাত দশটা।
স্থান: সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ কক্ষ (১০০৪ নং রুম), শিব মন্দিরের পিছনে।
আয়োজনে: সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

18/05/2026

গত ১৬ মে ২০২৬ ছিল শ্রী শ্রী চিনিশপুর কালী
মন্দির, নরসিংদীর এর বাৎসরিক কালী পূজা 🪷

এই মন্দির ঐশ্বরিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথেও যুক্ত।
এখানে মন্দিরেই সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন নাটোরের মহারাজা রামকৃষ্ণ রায়ের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সাধক দ্বিজ রামপ্রসাদ। এই মন্দির অসংখ্য অলৈকিক ঘটনায় সমৃদ্ধ 🙏🙏

এই মন্দিরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করছেন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধ্রুব দত্ত অন্তর।

17/05/2026

কুমিল্লার বিখ্যাত চন্ডীমুড়া মন্দিরে আমাদের সঙ্গীত 🪷🪷

সংগীত পরিবেশনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদের বিদ্যার্থী প্রিয়ন্তী পাল পায়েল💐
তাকে বিশেষ ধন্যবাদ এত সুন্দর পরিবেশনার জন্য 🙏🙏

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক ধর্মচক্র🪷🪷বিষয়বস্তু: ব্রিটিশ ভারতে সনাতনী সমাজ🙏 🙏
16/05/2026

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক ধর্মচক্র🪷🪷

বিষয়বস্তু: ব্রিটিশ ভারতে সনাতনী সমাজ🙏 🙏

15/05/2026

কুমিল্লার বিখ্যাত চন্ডীমুড়া মন্দিরে সকলে মিলে ব্রহ্মসঙ্গীত🪷🪷

ব্রহ্মসঙ্গীত পরিবেশনার দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রী ঐতিহ্য অথৈ রায়।
তাকে বিশেষ ধন্যবাদ এত সুন্দর পরিবেশনার জন্য 🙏🙏

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে পারমার্থিক আনন্দ ভ্রমণ-২০২৬ এ আমরা সকল বিদ্যার্থী একসাথে 🪷🪷আমরা বিশে...
15/05/2026

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে পারমার্থিক আনন্দ ভ্রমণ-২০২৬ এ আমরা সকল বিদ্যার্থী একসাথে 🪷🪷

আমরা বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি : 𝑷𝒓𝒐𝒔𝒆𝒂𝒓𝒄𝒉 𝑱𝒂𝒑𝒂𝒏𝒆𝒔𝒆 𝒍𝒂𝒏𝒈𝒖𝒂𝒈𝒆 𝑪𝒆𝒏𝒕𝒆𝒓 & 𝑷𝒓𝒐𝒔𝒌𝒊𝒍𝒍𝒋𝒐𝒃.𝒄𝒐𝒎 এর প্রতি আমাদের সকল বিদ্যার্থীদের এত সুন্দর টি-শার্ট উপহার দেওয়ার জন্য 🙏🙏
আমরা উক্ত প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পারমার্থিক আনন্দ ভ্রমণের অংশ হিসাবে আমরা গিয়েছিলাম ইতিহাসের সাক্ষী ও আলোক...
12/05/2026

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পারমার্থিক আনন্দ ভ্রমণের অংশ হিসাবে আমরা গিয়েছিলাম ইতিহাসের সাক্ষী ও আলোকবর্তিকা: কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বর পাঠশালায়🪷🪷

ব্রিটিশ শাসনামলে যখন শিক্ষা ছিল আভিজাত্যের প্রতীক, তখন সাধারণ মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯১৪ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন মহানুভব ব্যক্তিত্ব মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য। তাঁর পিতা ঈশ্বরচন্দ্র ভট্টাচার্যের স্মৃতি রক্ষার্থে এই পাঠশালাটির নামকরণ করেন ঈশ্বর পাঠশালা।

কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। এর লাল ইটের পুরনো ভবনগুলো মনে করিয়ে দেয় এক শতাব্দী আগের জমিদারি আমলের আভিজাত্য। ছায়াঘেরা ক্যাম্পাস আর বিশাল খেলার মাঠ আজও শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত থাকে।

এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন একজন দানবীর। তিনি কেবল বিদ্যালয়টি গড়েননি, সাথে সাথে এর পাশে তাঁর মায়ের নামে গড়ে তুলেছেন রামমালা লাইব্রেরি ও ছাত্রাবাস, যা আজও গবেষকদের কাছে তীর্থস্থান।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ঈশ্বর পাঠশালা তার কঠোর শৃঙ্খলা এবং গুণগত শিক্ষার জন্য সমাদৃত। এখান থেকে পড়াশোনা করে বহু কৃতি সন্তান দেশ-বিদেশে সুনামের সাথে কাজ করছেন।

সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: কুমিল্লার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনে এই বিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য

কালের বিবর্তনে আধুনিক অনেক স্কুল গড়ে উঠলেও ঈশ্বর পাঠশালার মহিমা আজও অমলিন। এটি কুমিল্লার গর্ব, আমাদের ঐতিহ্যের শেকড়। আপনি যদি কুমিল্লার মানুষ হয়ে থাকেন বা কুমিল্লা ভ্রমণে আসেন, তবে এক নজরে এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি দেখে যেতে ভুলবেন না।

কমেন্টে দানবীর মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো ⬇️

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক আয়োজিত পারমার্থিক আনন্দ ভ্রমণের একটি অংশ হিসেবে আমরা গিয়েছিলাম কুমিল্লা...
11/05/2026

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক আয়োজিত পারমার্থিক আনন্দ ভ্রমণের একটি অংশ হিসেবে আমরা গিয়েছিলাম কুমিল্লার সুবিখ্যাত চন্ডীমুড়া মন্দিরে🙏🙏

চণ্ডীমুড়া মন্দিরটি কুমিল্লা জেলা সদরে অবস্থিত দেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এটি জেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে লালমাই পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। মন্দিরটি প্রায় ৩০০ ফুট উপরে অবস্থিত। এ মন্দিরের প্রবেশ পথে রয়েছে ১৪২টি সিঁড়ি। সিঁড়ির শেষ মাথায় মন্দিরের প্রধান প্রবেশপথ।
মন্দিরের পিছন দিকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত রয়েছে একটি বিশাল ফাটল। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই ফাটল দিয়ে মা চণ্ডী স্বয়ং যাতায়াত করেন এবং তার সঙ্গে একটি সাপও যাতায়াত করে।

জানা যায়, সপ্তম শতাব্দীতে রাজা দেব খড়গ তার স্ত্রী প্রতীভা দেবীর অনুরোধে তার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এখানে চন্ডী মন্দির ও এর পাশে আরও একটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন। এর মধ্যে চন্ডী মন্দিরে স্বরসতী ও শিব মন্দিরে শিবকে স্থাপন করে দুজনের আলাদা আলাদা পূজা আর্চনা করা হত। বিভিন্ন উৎসবে এ মন্দির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করা হয়।

কার্তিক মাসের কালীপূজার সময় দেওয়ানি উৎসব, পৌষ-মাঘ মাসে গীতা সম্মেলন এবং ফালগুন-চৈত্র মাসে বাসন্তী মহাঅষ্টমীতে এখানে বড় করে অনুষ্ঠান হয়।
খড়গ বংশীয় রাজাদের প্রদত্ত আশ্রাফপুর তাম্রফলক উৎকীর্ন লেখামালা হতে জানা যায় যে, রাজা দেব খড়গ এর মহীয়সী রানী প্রভাবতী ছিলেন আধ্যাত্মিক বিদুষী রমনী। সেখানেই রানীর ইচ্ছানুসারে মহারাজা শ্রী শ্রী চন্ডী মন্দির স্থাপন করে দেন। তিনি অষ্টভূজা শর্বানী মা- চন্ডীর পূজা করতেন।

ত্রিপুরা সৃতিগ্রন্থ এবং রাজমালা মানিক্য খন্ডে উল্লেখ আছে ১৭ শ শতাব্দীতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন,দ্বিতীয়া দেবী৷তিনি ছিলেন তখনকার ত্রিপুরা রাজা গোবিন্দ মানিক্যের অগ্রজ জগন্নাথ দেবের দুহিতা যুবরাজ চম্পক রায় এর ভগ্নি৷ পুজা অর্চনা ও ভক্তদের জন্য তিনি একটি দিঘি খনন করেন যা দ্বিতীয়া বা দ্যুত্যা দিঘী নামে পরিচিত ৷ কিন্তু কালক্রমে আবার ধ্বংস প্রাপ্ত হয় মন্দির বিভিন্ন কারনে৷এবার এগিয়ে আসেন শ্রীযুক্ত বাবু নিবারন চক্রবর্তী,মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য(১৩৩৫ সাল,সুত্র ত্রিপুরা সৃতি গ্রন্থ)পুনরায় চন্ডীমুর্তি স্থাপন হয়,শুরু হয় পুজা-অর্চনা ৷ কিন্তু ১৯১৯ সালে মুর্তিটি চুরি হয় এবং মন্দির পরিত্যক্ত হয়ে পরে ৷

সবশেষে সপ্নদ্রষ্টা হয়ে ১৯৭২ সালে স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজ এই মন্দিরে আসেন ৷

সেই থেকে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে মন্দিরে পুজা-অর্চনা হয়ে আসছে ৷

জয় মা চণ্ডী 🙏🙏

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে কুমিল্লায় বৌদ্ধবিহার দর্শন 🪷সনাতন বিদ্...
11/05/2026

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে কুমিল্লায় বৌদ্ধবিহার দর্শন 🪷
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তারই অংশ হিসেবে এই ভ্রমণ।

Address

Dhaka
1100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sanatan Vidyarthi Samsad, University of Dhaka posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share