তাদাব্বুরে ইলম

তাদাব্বুরে ইলম اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ
-পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।
(96:1)Al-Quran

সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি একদম ফ্রি!!!!!!আপনার ঘর কি আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত? ✨​প্রতিদিনের আমলগুলোকে আমাদের চোখের সামনে ...
20/04/2026

সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি একদম ফ্রি!!!!!!

আপনার ঘর কি আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত? ✨

​প্রতিদিনের আমলগুলোকে আমাদের চোখের সামনে সহজ করে তুলতে তাদাব্বুরে ইলম নিয়ে এলো ১২টি অতি প্রয়োজনীয় দোয়ার প্রিমিয়াম ফ্লোরাল কার্ড সেট। আমাদের এই বিশেষ কালেকশনটি আপনার ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়াবে, তেমনি ছোট-বড় সবার দোয়া মনে রাখা ও আমল করা সহজ করে দিবে ইনশাআল্লাহ। 🌿
​✨ আমাদের এই প্যাকেজে যে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পাচ্ছেন:
১. ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া
২. ঘরে প্রবেশের দোয়া
৩. খাবার শুরুর দোয়া
৪. খাবার শেষের দোয়া
৫. ঘুমানোর দোয়া
৬. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার দোয়া
৭. আয়না দেখার দোয়া
৮. পোশাক পরিধানের দোয়া
৯. যানবাহনে চড়ার দোয়া
১০. বাবা-মায়ের জন্য দোয়া
১১. টয়লেটে ঢুকার সময় দোয়া
১২. টয়লেট থেকে বের হয়ে দোয়া

​✨কেন আমাদের থেকে দোয়ার কার্ড কিনবেন?

✅ প্রিমিয়াম ফ্লোরাল ডিজাইন যা দেয়ালে ফুটিয়ে তুলবে আভিজাত্য।
✅ উন্নত মানের আর্ট কার্ড ও ওয়াটারপ্রুফ লেমিনেশন (দীর্ঘস্থায়ী)।
✅ আরবি, নির্ভুল বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ স্পষ্ট ফন্ট।
✅ প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য একটি অনন্য ও অর্থবহ ইসলামিক হাদিয়া।

​🎁 লঞ্চিং ধামাকা অফার!
রেগুলার প্রাইস: ~~১২০০ টাকা~~
অফার প্রাইস: মাত্র ৮৫০ টাকা! (সরাসরি ৩৫০ টাকা ছাড়!)
🚚 সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি একদম ফ্রি!
​📦 ১২টি দোয়ার এই এক্সক্লুসিভ সেটটি সংগ্রহ করতে এখনই আমাদের মেসেজ দিন অথবা কল করুন:

📞 01838-066889

​তাদাব্বুরে ইলম - সুন্নাহর পথে আপনার সঙ্গী।

09/04/2026

সদকার জন্য কিছু সুন্দর টিপস—
১. একটি জায়নামাজ কিনে মসজিদে রেখে দিন, যে ব্যক্তি তাতে নামাজ আদায় করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেই আমলের জন্য পুরস্কৃত হবেন।
২. একটি বাটি বা গ্লাসে কিছু পানি আপনার জানালায় রেখে দিন পাখিদের জন্য, এটাও এক ধরনের সদকা। এটিকে অভ্যাসে পরিণত করুন। আপনি পুরস্কৃত হবেন।
৩. আপনার পুরাতন অথবা ব্যবহার হচ্ছে না এমন পোশাক গরিবকে দান করুন।
৪. আপনার রুমে একটি বক্স রাখুন এবং যখনই আপনি মনে করবেন যে আপনি কোন অন্যায় করেছেন, তখনি তাতে সাধ্যমতো পয়সা রাখুন। মাস শেষে তা খুলে দেখুন এবং তা দান করে দিন। এতে নিজের ভুলগুলোর পরিমাণ বুঝতে পারবেন এবং অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সংশোধনের জন্য এটা সুন্দর একটি পন্থা।
৫. বাড়িতে ঢুকার ও বের হবার পথে দোয়া লিখে রাখুন একটি কাগজে। যে এই দোয়াগুলো দেখতে পেয়ে পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেজন্য পুরস্কৃত হবেন। একইভাবে ঘরের এমন কোন স্থানে দোয়া লিখে রাখতে পারেন যেটা সবার নজরে আসে।
৬. আপনার হাত খরচের টাকা দিয়ে একজন এতিমকে সহায়তা করুন আপনার সাধ্যমতো।
৭. আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোন নির্মাণ কাজ চলে কিংবা শ্রমিকেরা কাজ করে, তবে কিছু ঠাণ্ডা পানি বা খাবার তাদেরকে দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আপনি পুরস্কৃত হবেন।
৮. কোন মসজিদে কোরআন শরীফ দিন, যে কোন ব্যক্তি যখন অন্তত একটি অক্ষর পাঠ করবে সেটার জন্য ১০ গুন সওয়াব লিখিত হবে আপনার আমলে।
৯. আপনি পান করা গ্লাসে পানি অবশিষ্ট থেকে গেলে তা একটি ফুলদানির পাত্রে রেখে দিন, অপচয় করবেন না।
১০. আপনার মুসলমান ভাই বোনদের উৎসাহ দিন, দুর্দিনে সাহায্য করুন, সহানুভূতিশীল হোন যখন তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকবেন।
১১. অসুস্থ আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের দেখে আসুন। একটু হাসুন, কথা বলুন। এটাও সাদকা। মৃদু হাসি বিনিময় করাও সদকা।
১২. ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের ক্ষমা করেছেন।
১৩. কাউকে এক অক্ষর হলেও দীন শিক্ষা দিন। সেই ব্যক্তি যখন তার সন্তানসন্ততি, বন্ধুবান্ধব কিংবা তার সন্তানদের মাধ্যমে তার পরের প্রজন্ম এই দীন অর্জন করবে, সে সকল সওয়াব মৃত্যুর পরেও আপনার কবরে পৌঁছাবে।
১৪. সামর্থ্য থাকলে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল স্থাপনে সহায়তা করুন। গাছ লাগান, টিউবওয়েল বা পান করার পানির ব্যবস্থা করুন। আপনার মৃত্যুর পরেও মসজিদ মাদ্রাসা দীন শিক্ষা দিতে থাকবে, হাসপাতালে রোগী সেবা পেতে থাকবে।

03/04/2026

সূরা আদ-দোহা পবিত্র কুরআনের ৯৩তম সূরা। এই সূরাটি নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট বা শানে নুযূল অত্যন্ত আবেগঘন এবং চমৎকার। এটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হৃদয়ে প্রশান্তি দেওয়ার জন্য নাজিল হয়েছিল।

​নিচে সেই ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

✅ ​ওহী বন্ধ হওয়ার বেদনাদায়ক সময়

​রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিয়মিত জিবরাঈল (আ.) ওহী নিয়ে আসতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই বেশ কিছুদিনের জন্য (মতান্তরে ১৫ থেকে ৪০ দিন) ওহী আসা বন্ধ হয়ে যায়। জিবরাঈল (আ.) আর আসছিলেন না। প্রিয় নবীর (সা.) জন্য এটি ছিল চরম দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণার সময়। তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে—তার পালনকর্তা কি তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন? নাকি তাকে ত্যাগ করেছেন?

✅ ​কাফেরদের উপহাস ও অপবাদ

​ওহী আসা বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে মক্কার মুশরিকরা উপহাস শুরু করে। বিশেষ করে আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল রাসূল (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কটু কথা বলে। সে বলেছিল:

​"হে মুহাম্মদ! আমি দেখছি তোমার শয়তান (নাউযুবিল্লাহ) তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে, সে তো তোমাকে আর দেখা দিচ্ছে না!"

​শত্রুদের এই বিদ্রূপ এবং ওহী না আসার নীরবতা রাসূল (সা.)-কে ভীষণভাবে ব্যথিত করেছিল।

✅ ​সূরা আদ-দোহা নাজিল: আল্লাহর চমৎকার সাড়া

​রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বিষণ্ণতা দূর করতে এবং কাফেরদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে আল্লাহ তাআলা চমৎকার এই সূরাটি নাজিল করেন। সূরার শুরুতেই আল্লাহ দিনের আলো এবং রাতের অন্ধকারের কসম খেয়ে প্রিয় নবীকে আশ্বস্ত করেন।

✅ ​ঘটনাটির চমৎকার কিছু দিক:

▪️​বিস্ময়কর সান্ত্বনা: আল্লাহ শুরুতেই ঘোষণা করলেন— "আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি।" (আয়াত: ৩)

▪️​ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা: আল্লাহ বললেন, আপনার জন্য পরের সময়গুলো আগের চেয়ে আরও উত্তম হবে।

▪️​পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি: মহান আল্লাহ তাকে এমন কিছু দান করার ওয়াদা করলেন, যাতে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।

▪️​অতীতের স্মৃতিচারণ: আল্লাহ তাকে মনে করিয়ে দিলেন—কীভাবে তিনি তাকে এতিম অবস্থায় আশ্রয় দিয়েছিলেন, পথহারা অবস্থায় পথ দেখিয়েছিলেন এবং নিঃস্ব অবস্থায় অভাবমুক্ত করেছিলেন।

✅ ​ঘটনার প্রভাব ও শিক্ষা

​এই সূরাটি নাজিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারায় আনন্দের আভা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্তি ফিরে পান। এটি মুসলিমদের জন্য একটি বড় শিক্ষা যে:

▪️​আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের কখনো ছেড়ে যান না, এমনকি পরীক্ষার সময় যখন নীরবতা থাকে তখনও তিনি পাশে থাকেন।

▪️​বিপদের পর অবশ্যই সুখের দিন আসে।

▪️​মানুষের উপহাস বা কথায় কান না দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত।

✅ ​একটি মজার তথ্য:

এই সূরাটি নাজিল হওয়ার খুশিতে রাসূল (সা.) 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীর দিয়েছিলেন। সেই থেকে একটি নিয়ম প্রচলিত আছে যে, কুরআন খতমের সময় সূরা আদ-দোহা থেকে পরবর্তী সূরাগুলোর মাঝে তাকবীর পড়া সুন্নাত বা মুস্তাহাব বলে গণ্য হয়।

03/04/2026

স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে বা যেকোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জনে আপনি নিচের আমলগুলো নিয়মিত করতে পারেন:

১। ইস্তিগফার (সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও শক্তিশালী)

▪️তাসবিহ: আস্তাগফিরুল্লাহ (أستغفر الله)

▪️কীভাবে পড়বেন: প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার (সকাল-সন্ধ্যা বা যেকোনো সময়)

▪️উপকারিতা (বিশ্বাস অনুযায়ী): গুনাহ মাফ হয় → মন শান্ত হয় → দোয়ার রাস্তা খোলে → অপ্রত্যাশিত সুযোগ ও রিজিক আসে → বাধা দূর হয় → স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়।

▪️হাদিসে আছে: যে বেশি ইস্তিগফার করে আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির রাস্তা বের করে দেন।

২। দরুদ শরীফ

▪️তাসবিহ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা

▪️মুহাম্মাদ (اللهم صل على سيدنا محمد) অথবা দরুদে ইবরাহিম

▪️কীভাবে: প্রতিদিন ১০০ বার বা যতটা সম্ভব

▪️উপকারিতা: রাসূল (সা.)-এর শাফায়াতের অসীলা হয়, দুঃখ দূর হয়, রিজিকে বরকত আসে, সফলতার দরজা খোলে।

▪️হাদিস: যে আমার উপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন।

৩। ইয়া ফাত্তাহু ইয়া রাজ্জাক

▪️তাসবিহ: ইয়া ফাত্তাহু ইয়া রাজ্জাক (يا فتاح يا رزاق)

▪️কীভাবে: ফজরের নামাজের পর ৪০ বার বা ১০০ বার

▪️অর্থ: হে দরজা খোলার মালিক, হে রিজিকদাতা

▪️উপকারিতা: বন্ধ দরজা খোলে, নতুন সুযোগ আসে, আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজন পূরণ হয়।

৪। হযরত মুসা (আ.)-এর দোয়া (খুবই কার্যকর বলা হয়)

▪️আরবি: رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

▪️উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নী লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর

▪️অর্থ: হে আমার রব! তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী। (সূরা কাসাস: ২৪)

▪️কীভাবে: প্রতিদিন ১০০ বার বা যতটা পারেন

▪️উপকারিতা: বিয়ে, চাকরি, বড় প্রয়োজন, স্বপ্ন পূরণে অনেকে এটাকে পরীক্ষিত বলে।

✅ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা টিপস (এগুলো ছাড়া শুধু তাসবিহ পড়লে পুরোপুরি ফল পাওয়া কঠিন):

▪️প্রতিদিন নিয়মিত করুন (consistency খুব জরুরি)

▪️নিয়ত ঠিক রাখুন — শুধু দুনিয়ার জন্য নয়, আখিরাতের কল্যাণও চান

▪️তাহাজ্জুদ পড়ে দোয়া করুন (রাতের শেষ প্রহরে)

▪️ফরজ নামাজ ঠিকমতো আদায় করুন

▪️হালাল উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যান — আল্লাহ চেষ্টাকারীকে পছন্দ করেন

▪️ধৈর্য ধরুন — সময়মতো ফল দেয় আল্লাহ

আল্লাহ আমাদে সবার ভালো স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করে দিক, ইনশাআল্লাহ। আমীন।

10/02/2026
09/02/2026

এক ব্যক্তি হযরত উমর (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, "আল্লাহ আপনাকে যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দিয়েছেন, সেখান থেকে আমাকে কোনো একটি পদের দায়িত্ব (চাকরি) দিন।"

হযরত উমর (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি কুরআন পড়তে পারো?" সে উত্তর দিল, "না।" হযরত উমর (রা.) বললেন, "যে কুরআন পড়তে জানে না, আমরা তাকে কোনো দায়িত্ব দিই না।" (হযরত উমর (রা.) চেয়েছিলেন মানুষ আগে দ্বীন শিখুক, কারণ দ্বীনের জ্ঞান থাকলে সে আমানতদারিতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। )

লোকটি সেখান থেকে ফিরে গেল এবং এই আশায় কঠোর পরিশ্রম করে কুরআন শিখতে শুরু করল যে, কুরআন শেখা শেষ হলে সে আবার উমর (রা.)-এর কাছে যাবে এবং একটি চাকরি পাবে।

কিন্তু যখন সে কুরআন শিখে ফেলল, তখন সে উমর (রা.)-এর কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিল। একদিন হঠাৎ তার সাথে হযরত উমর (রা.)-এর দেখা হলো। তিনি তাকে দেখে বললেন, "তুমি কি আমাদের ছেড়ে দিলে (আমাদের কাছে আসা বন্ধ করে দিলে)?"

সে উত্তর দিল, "হে আমিরুল মুমিনিন! আমি আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো লোক নই; কিন্তু আমি কুরআন শিখেছি আর এই কুরআনই আমাকে উমর এবং উমরের দরজার মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে (অর্থাৎ আল্লাহ আমাকে স্বাবলম্বী করে দিয়েছেন)।"

হযরত উমর (রা.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "কুরআনের কোন আয়াতটি তোমাকে এতটা স্বাবলম্বী ও নিশ্চিন্ত করল?"

লোকটি উত্তর দিল, আল্লাহর এই বাণী:

"যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে), আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে বের হওয়ার) পথ করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা তালাক: ২-৩)

কুরআন কেবল তেলাওয়াতের জন্য নয়, বরং এর প্রতিটি আয়াত মানুষের জীবন দর্শন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মানুষ যখন প্রকৃত অর্থে আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁকে ভয় করে চলে, তখন আল্লাহ দুনিয়াবি সব অভাব দূর করে দেন।

© Salman Farsi
সূত্র: তাফসীরে সা’লাবাী, নাযমুদ দুরার, আস সিরাজুল মুনির

31/01/2026

দুনিয়ার মোহ থেকে হৃদয়কে মুক্ত করে এমন কুরআনের ১০টি আয়াত

---

১. দুনিয়ার চাকচিক্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই আসল লক্ষ্য।

সূরা: আল-কাহফ | আয়াত: ২৮

আরবি:
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا.

বাংলা উচ্চারণ:
ওয়াসবির নাফসাকা মাআল্লাযীনা ইয়াদ'ঊনা রব্বাহুম বিলগাদাতি ওয়াল আ'শিয়্যি ইউরীদূনা ওয়াজহাহু ওয়ালা তা'দু আ'ইনাকা আ'নহুম তুরীদু যীনাতাল হায়াতিদ দুনইয়া।

বাংলা অর্থ:
তুমি নিজেকে ধৈর্যশীল রাখো তাদের সাথে যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের রবকে ডাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। আর তোমার দৃষ্টি যেন তাদের ছেড়ে অন্যদিকে না যায় পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে।

অনুপ্রেরণা:
যারা আল্লাহকে ডাকে, তাদের সাথে থাকো। দুনিয়ার চাকচিক্য দেখে প্রলোভিত হয়ো না। কারণ আসল সৌন্দর্য আল্লাহর সন্তুষ্টিতে, বাহ্যিক জাঁকজমকে নয়।

---

২. দুনিয়া তো আসলে একটা খেলাধুলা মাত্র।

সূরা: আল-হাদীদ | আয়াত: ২০

আরবি:
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ.

বাংলা উচ্চারণ:
ই'লামূ আন্নামাল হায়াতুদ দুনইয়া লা'ইবুও ওয়া লাহউও ওয়া যীনাতুও ওয়া তাফাখুরুম বাইনাকুম ওয়া তাকাসুরুন ফিল আমওয়ালি ওয়াল আওলাদ।

বাংলা অর্থ:
জেনে রাখো, পার্থিব জীবন তো খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, সাজসজ্জা, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছু নয়।

অনুপ্রেরণা:
যে জীবনটা আমরা এত গুরুত্ব দিয়ে দেখি, সেটা আল্লাহর কাছে অস্থায়ী বিনোদন। তাই এর পেছনে হৃদয় হারিয়ে ফেলো না। মূল জীবন আখিরাতে।

---

৩. দুনিয়ার প্রিয় জিনিসগুলো পরীক্ষা মাত্র।

সূরা: আলে ইমরান | আয়াত: ১৪

আরবি:
زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَٰلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا.

বাংলা উচ্চারণ:
যুইয়িনা লিন্নাসি হুব্বুশ শাহাওয়াতি মিনান নিসায়ি ওয়াল বানীনা ওয়াল ক্বানাত্বীরিল মুক্বান্ত্বারাতি মিনায যাহাবি ওয়াল ফিদ্দ্বাতি ওয়াল খাইলিল মুসাওয়ামাতি ওয়াল আন'আমি ওয়াল হারস। যালিকা মাতাউ'ল হায়াতিদ দুনইয়া।

বাংলা অর্থ:
মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির ভালোবাসা। নারী, সন্তান, স্বর্ণ-রৌপ্যের স্তূপীকৃত ভান্ডার, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদিপশু ও শস্যক্ষেত্র। এসব পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু মাত্র।

অনুপ্রেরণা:
এই যে স্বর্ণ, সম্পদ, পরিবার যা আমাদের মুগ্ধ করে, সব কিছুই আল্লাহ সাজিয়ে দিয়েছেন পরীক্ষার জন্য। এগুলোকে উপভোগ করো, কিন্তু এতে হৃদয় বন্দি করো না।

---

৪. প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের গাফেল করে রেখেছে।

সূরা: আত-তাকাসুর | আয়াত: ১-২

আরবি:
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ. حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ.

বাংলা উচ্চারণ:
আলহাকুমুত তাকাসুর। হাত্তা যুরতুমুল মাক্বাবির।

বাংলা অর্থ:
প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে। এমনকি তোমরা কবরে পৌঁছে যাও।

অনুপ্রেরণা:
দুনিয়ায় বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা আমাদের আসল লক্ষ্য ভুলিয়ে দেয়। মৃত্যুর আগে জেগে ওঠো। প্রতিযোগিতা করো নেক আমলে, দুনিয়ার সম্পদে নয়।

---

৫. আখিরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন। পরকালের ঘরই তো আসল ঘর।

সূরা: আল-আনকাবুত | আয়াত: ৬৪

আরবি:
وَمَا هَٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَهْوٌ وَلَعِبٌ وَإِنَّ الدَّارَ الْآخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ.

বাংলা উচ্চারণ:
ওয়া মা হাযিহিল হায়াতুদ দুনইয়া ইল্লা লাহউও ওয়া লা'ইব। ওয়া ইন্নাদ দারাল আখিরাতা লাহিয়াল হাইওয়ান লাও কানূ ইয়া'লামূন।

বাংলা অর্থ:
আর এই পার্থিব জীবন তো শুধু খেলাধুলা ও ক্রীড়া-কৌতুক। আর নিশ্চয়ই আখিরাতের ঘরই প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানতো।

অনুপ্রেরণা:
যে জীবনে আমরা মগ্ন আছি, সেটা আসল জীবনই নয়। প্রকৃত জীবন শুরু হবে মৃত্যুর পরে। তাই দুনিয়াকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বানিও না।

---

৬. দুনিয়া তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছু নয়।

সূরা: আলে ইমরান | আয়াত: ১৮৫

আরবি:
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ.

বাংলা উচ্চারণ:
ওয়া মাল হায়াতুদ দুনইয়া ইল্লা মাতাউ'ল গুরূর।

বাংলা অর্থ:
আর পার্থিব জীবন ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।

অনুপ্রেরণা:
দুনিয়া আমাদের ধোঁকা দেয়, মনে করায় এটাই সব কিছু। কিন্তু সত্য হলো, এটা ক্ষণস্থায়ী। আসল সম্পদ জমা করো আখিরাতে।

---

৭. সম্পদকে কি তুমি অতিরিক্ত ভালোবাসো?

সূরা: আল-ফজর | আয়াত: ২০

আরবি:
وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّا.

বাংলা উচ্চারণ:
ওয়া তুহিব্বূনাল মালা হুব্বান জাম্মা।

বাংলা অর্থ:
আর তোমরা সম্পদকে ভালোবাসো অতিরিক্ত ভালোবাসায়।

অনুপ্রেরণা:
মানুষের স্বভাব হলো সম্পদকে বেশি ভালোবাসা। কিন্তু আল্লাহ এটা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন। সম্পদ রাখো, কিন্তু হৃদয় রাখো আল্লাহতে।

---

৮. তোমাদের সম্পদ ও সন্তান শুধুই পরীক্ষা মাত্র।

সূরা: আত-তাগাবুন | আয়াত: ১৫

আরবি:
إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللَّهُ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ.

বাংলা উচ্চারণ:
ইন্নামা আমওয়ালুকুম ওয়া আওলাদুকুম ফিতনাহ। ওয়াল্লাহু ইনদাহু আজরুন আযীম।

বাংলা অর্থ:
তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষা। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহা পুরস্কার।

অনুপ্রেরণা:
যা কিছু আমরা ভালোবাসি, সেসবই পরীক্ষা। আল্লাহ দেখতে চান আমরা কি তাঁকে বেশি ভালোবাসি নাকি এগুলোকে। আসল পুরস্কার আল্লাহর কাছে।

---

৯. সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে।

সূরা: আল-মুনাফিকুন | আয়াত: ৯

আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ.

বাংলা উচ্চারণ:
ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানূ লা তুলহিকুম আমওয়ালুকুম ওয়ালা আওলাদুকুম আন যিকরিল্লাহ। ওয়া মাইঁ ইয়াফআ'ল যালিকা ফাউলায়িকা হুমুল খাসিরূন।

বাংলা অর্থ:
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। আর যারা এরূপ করবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

অনুপ্রেরণা:
সম্পদ আর সন্তান নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে যেও না যে আল্লাহকে ভুলে যাও। কারণ যে আল্লাহকে ভুলে গেল সেই আসল ক্ষতিগ্রস্ত, যত সম্পদই থাকুক না কেন।

---

১০. যে সম্পদ জমা করে আর গুণে গুণে রাখে সে ধ্বংস হবে।

সূরা: আল-হুমাযাহ | আয়াত: ১-৩

আরবি:
وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ. الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ. يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ.

বাংলা উচ্চারণ:
ওয়াইলুল লিকুল্লি হুমাযাতিল লুমাযাহ। আল্লাযী জামাআ'মালাও ওয়া আ'দ্দাদাহ। ইয়াহসাবু আন্না মালাহু আখলাদাহ।

বাংলা অর্থ:
ধ্বংস প্রতিটি পশ্চাতে নিন্দাকারী ও সম্মুখে নিন্দাকারীর জন্য। যে সম্পদ জমা করে এবং তা বারবার গণনা করে। সে মনে করে যে তার সম্পদ তাকে চিরস্থায়ী করবে।

অনুপ্রেরণা:
সম্পদ জমিয়ে রাখা আর বারবার হিসাব করা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কারণ সে ভাবে সম্পদই তাকে রক্ষা করবে। কিন্তু আসল রক্ষাকর্তা আল্লাহ।

---

আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়ার মোহ থেকে হৃদয়কে মুক্ত রেখে আখিরাতমুখী জীবন যাপনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

বি: দ্র: এই পোস্টে যে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে তা শুধুমাত্র সাধারণ পাঠকদের বুঝার সুবিধার্থে। বাংলা উচ্চারণ কখনোই আরবি উচ্চারণের বিকল্প নয়, এটি শুধুমাত্র একটি সাহায্যকারী মাধ্যম।

28/01/2026

সিজদায় ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) পাঠ করার ফজিলত অত্যন্ত বেশি। সিজদা হলো নামাজের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অংশ, কারণ এ সময় বান্দা তার প্রভুর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। হাদিসে এসেছে:

বান্দা যখন সিজদায় থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থায় থাকে। সুতরাং তোমরা সিজদায় দোয়া বেশি করো। (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২-৪৮৩)।

সিজদায় ইস্তিগফার পড়া সুন্নাহ এবং এর মাধ্যমে গুনাহ মাফের জন্য বিশেষ দরখাস্ত করা যায়। নিচে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সিজদায় ইস্তিগফারের সুন্নাহ দোয়া
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় বিভিন্ন দোয়া পড়তেন, যার মধ্যে ইস্তিগফার অন্যতম।

✅ সবচেয়ে সহজ ও প্রসিদ্ধ দোয়া:

رَبِّ اغْفِرْ لِيْ
(উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলী)
অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দিন।

হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝখানে বসে বলতেন:

رَبِّ اغْفِرْ لِيْ رَبِّ اغْفِرْ لِيْ
(রাব্বিগফিরলী, রাব্বিগফিরলী)
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৭৭২; মিশকাত, হাদিস: ৯৮৯)

এটি সিজদার মধ্যে বা দুই সিজদার মাঝে পড়ার জন্য সুন্নাহ।

✅ আরেকটি বিস্তারিত দোয়া সিজদায়:
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় বলতেন:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ
(উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলী যানবী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু ওয়া আলানিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু।)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিন— ছোট-বড়, প্রথম-শেষ, প্রকাশ্য-গোপন সব।
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৩)

২. সিজদায় ইস্তিগফার পড়ার ফজিলত

✅ সিজদা দোয়া কবুলের সবচেয়ে উত্তম সময়। সিজদায় ইস্তিগফার পড়লে গুনাহ মাফের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

✅ নামাজের প্রতি রাকাতে দু'বার সিজদা করা হয়, ফলে প্রতি নামাজে কমপক্ষে দু'বার (বা আরও বেশি) ইস্তিগফারের সুযোগ পাওয়া যায়।

✅ এটি নিয়মিত করলে গুনাহ থেকে পবিত্রতা অর্জন হয় এবং আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।

✅ ইস্তিগফার সাধারণভাবে (সিজদার বাইরেও) অসংখ্য ফজিলতের অধিকারী। যেমন: দুশ্চিন্তা দূর করা, রিযিক বৃদ্ধি, সংকট থেকে মুক্তি ইত্যাদি (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২২৩৪— সহীহ)। সিজদায় পড়লে এ ফজিলত আরও বেড়ে যায়।

৩. কুরআনের আলোকে ইস্তিগফারের গুরুত্ব

কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বারবার ইস্তিগফারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর ফজিলত বর্ণনা করেছেন:

✅ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
(সূরা বাকারা: ১৯৯) — আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।

✅ فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ
(সূরা হুদ: ৩) — তাঁর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো।

✅ নবী-রাসূলগণও (যেমন নূহ, ইবরাহীম, মূসা আ.) ইস্তিগফার করতেন এবং উম্মতকে শেখাতেন।

৪. সারসংক্ষেপ (প্র্যাকটিক্যাল পরামর্শ)
প্রতি সিজদায় অন্তত রাব্বিগফিরলী বলুন (১-৩ বার)।
সময় থাকলে উপরের বিস্তারিত দোয়া পড়ুন।
নামাজে সিজদা দীর্ঘ করুন এবং ইস্তিগফার বেশি করুন— এটি নবীজীর সুন্নাহ।

এভাবে নিয়মিত করলে গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সিজদায় ইস্তিগফার করার তাওফিক দান করুন এবং গুনাহ থেকে ক্ষমা করুন। আমীন।

Address

নরসিংদী, ঢাকা, বাংলাদেশ
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তাদাব্বুরে ইলম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share