আল কোরআনের আলো/ Al Quran R Alo

আল কোরআনের আলো/ Al Quran R Alo আমরা মুসলিম ও এক খোদায় বিশ্বাসী। তাই আমরা ইসলাম ও মুসলিম কে ভালোবাসি ইসলামকে প্রতিষ্ঠা কর। আল্লাহর অনুগত হও। এতেই মঙ্গল।
(1)

11/09/2025
25/06/2025

হাদীস:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্যও সেই একই জিনিস ভালোবাসবে, যা সে নিজের জন্য ভালোবাসে।"
— সহীহ বুখারী: ১৩, সহীহ মুসলিম: ৪৫

ব্যাখ্যা:
এই হাদীসে পরস্পরের প্রতি ভালবাসা, সহানুভূতি ও নিঃস্বার্থতা শেখানো হয়েছে। একজন প্রকৃত মুমিন কখনোই নিজের ভাল চায় আর অন্যের জন্য খারাপ—এমন হতে পারে না।

24/06/2025

১. হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার আত্মত্যাগের ইচ্ছা
হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশে নিজের প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হন। আল্লাহ তাঁর আন্তরিকতা দেখে কোরবানির পরিবর্তে একটি পশু পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনা থেকেই ঈদুল আজহা (কোরবানি ঈদ) এসেছে।

২. হযরত মুসা (আ.) ও ফিরাউনের কাহিনি
হযরত মুসা (আ.) আল্লাহর আদেশে ফেরাউনের জুলুম থেকে বনী ইসরাইল জাতিকে মুক্ত করেন। লাঠির মাধ্যমে সমুদ্র বিভক্ত করে তিনি নিজের জাতিকে পার করে দেন, আর ফেরাউন সেই জলে ডুবে যায়। এটি আল্লাহর কুদরতের একটি বড় নিদর্শন।

৩. হযরত ইউসুফ (আ.) এর ধৈর্য ও ক্ষমা
তাঁকে ভাইয়েরা কূপে ফেলে দেয়, পরে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। অনেক কষ্টের পর তিনি মিশরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হন। শেষে ভাইয়েরা তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন। এই গল্পে ধৈর্য, বিশ্বাস ও ক্ষমার শিক্ষার দৃষ্টান্ত রয়েছে।

৪. পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর হিজরত
মক্কার কোরাইশরা তাঁকে ও সাহাবিদের উপর অত্যাচার চালায়। তিনি আল্লাহর নির্দেশে মদীনায় হিজরত করেন। এ হিজরত ইসলামের ইতিহাসে এক বড় বাঁকবদল — যেখান থেকে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে।

৫. বদর যুদ্ধ (২য় হিজরি)
ইসলামের প্রথম বড় যুদ্ধ। ৩১৩ জন সাহাবি অল্প অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১০০০ কুরাইশের বিরুদ্ধে জয় লাভ করেন। এটি আল্লাহর সহায়তায় মুসলিমদের বিজয়ের দৃষ্টান্ত।

৬. মিরাজের ঘটনা
হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক রাতের মধ্যে মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস হয়ে সাত আসমান অতিক্রম করে আল্লাহর সান্নিধ্যে যান। এটি তাঁর নবুওতের বড় মুজিজা ও নামাজ ফরজ হওয়ার ঘটনা।

৭. আশুরার দিন – হযরত হুসাইন (রাঃ) এর শাহাদাত
কারবালার প্রান্তরে সত্য ও ন্যায়ের জন্য হযরত হুসাইন (রাঃ) এবং তাঁর পরিবার শাহাদাত বরণ করেন। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ইতিহাস।

23/06/2025

🌿 ঘটনা: “তা’ইফের বাগানে রাসূল (সা.) ও দাসের দয়া”

হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কার কোরাইশদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছিলেন, তখন তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য তা’ইফ শহরে যান। কিন্তু তা’ইফবাসীরা তাঁর কথা শোনার পরিবর্তে তাকে অপমান করে, গালাগালি করে, এবং পাথর নিক্ষেপ করে রক্তাক্ত করে দেয়।

তিনি এতটাই আহত হন যে, শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে তাঁর জুতা রক্তে ভিজে যায়। ক্লান্ত, ব্যথিত, দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে তিনি এক বাগানে আশ্রয় নেন। সেই বাগান ছিল উতবা ও শাইবা নামে দুই কোরাইশ নেতার। তারা রাসূলের প্রতি একটু মায়া করে তাদের দাস আদাস-কে কিছু খাবার দিয়ে পাঠায়।

আদাস খ্রিষ্টান ছিল, সে রাসূল (সা.)-এর সাথে কথা বলার সময় অবাক হয়ে যায়, যখন রাসূল (সা.) বলেন যে তিনি নবী ইউনুস (আ.)-কে চেনেন। তখন আদাস বিস্ময়ে বলে, “আপনি কিভাবে তাকে চেনেন? উনি তো আমার দেশের মানুষ!”
রাসূল (সা.) বলেন, “ইউনুসও ছিলেন আল্লাহর নবী, আমিও সেই পথের একজন।”

আদাস তখন রাসূল (সা.)-এর হাতে চুমু খেয়ে মুসলিম হয়ে যায়। 🕋

---

✨ এই গল্প থেকে আমরা কী শিখি?

1. ধৈর্য ও ক্ষমার শক্তি: মানুষ যখন তাকে অপমান করল, তখনও তিনি বদলা নিলেন না।

2. আল্লাহর প্রতি আস্থা: প্রতিটি কষ্টে আল্লাহ যেন আরও ভালো কিছু দিয়ে দেন।

3. মানবিকতা দিয়ে জয় করা যায় মন: দাস আদাসের হৃদয় জয় করেছিলেন শুধু দয়ালু কথা দিয়ে।

30/03/2025

🌙
সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।

“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছিরা। ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসিলা’

ঈদ মোবারক

24/03/2025

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

صَلُّوْا كَمَا رَأَيْتُمُوْنِىْ أُصَلِّىْ

‘তোমরা ছালাত আদায় কর সেভাবে, যেভাবে আমাকে ছালাত আদায় করতে দেখছ’...।[1]

(১) তাকবীরে তাহরীমা : ওযূ করার পর ছালাতের সংকল্প করে ক্বিবলামুখী দাঁড়িয়ে ‘আল্লা-হু আকবর’ বলে দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে তাকবীরে তাহরীমা শেষে বুকে বাঁধবে। এ সময় বাম হাতের উপরে ডান হাত কনুই বরাবর রাখবে অথবা বাম কব্জির উপরে ডান কব্জি রেখে বুকের উপরে হাত বাঁধবে। অতঃপর সিজদার স্থানে দৃষ্টি রেখে বিনম্রচিত্তে নিম্নোক্ত দো‘আর মাধ্যমে মুছল্লী তার সর্বোত্তম ইবাদতের শুভ সূচনা করবে।-

اَللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اَللَّهُمَّ نَقِّنِيْ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اَللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَد-

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা বা-‘এদ বায়নী ওয়া বায়না খাত্বা-ইয়া-ইয়া, কামা বা-‘আদতা বায়নাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিবি। আল্লা-হুম্মা নাকক্বিনী মিনাল খাত্বা-ইয়া, কামা ইউনাকক্বাছ ছাওবুল আব্ইয়াযু মিনাদ দানাসি। আল্লা-হুম্মাগসিল খাত্বা-ইয়া-ইয়া বিল মা-য়ি ওয়াছ ছালজি ওয়াল বারাদি’।

অনুবাদ : হে আল্লাহ! আপনি আমার ও আমার গোনাহ সমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পরিচ্ছন্ন করুন গোনাহ সমূহ হ’তে, যেমন পরিচ্ছন্ন করা হয় সাদা কাপড় ময়লা হ’তে। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহ সমূহকে ধুয়ে ছাফ করে দিন পানি দ্বারা, বরফ দ্বারা ও শিশির দ্বারা’।[2]

একে ‘ছানা’ বা দো‘আয়ে ইস্তেফতাহ বলা হয়। ছানার জন্য অন্য দো‘আও রয়েছে। তবে এই দো‘আটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ।
[1] . বুখারী হা/৬৩১, ৬০০৮, ৭২৪৬; মিশকাত হা/৬৮৩, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-৬।

[2] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮১২ ‘তাকবীরের পর যা পড়তে হয়’ অনুচ্ছেদ-১১।

23/03/2025

দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দো‘আঃ

اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاجْبُرْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াজ্বুরনী ওয়াহদিনী ওয়া ‘আ-ফেনী ওয়ারঝুক্বনী ।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপরে রহম করুন, আমার অবস্থার সংশোধন করুন, আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন ও আমাকে রূযী দান করুন’।

অথবা কমপক্ষে ২ বার বলবে ‘রব্বিগফিরলী’ (হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর)। [133] অতঃপর ২য় সিজদা করবে ও দো‘আ পড়বে।
[133] . ইবনু মাজাহ হা/৮৯৭; নাসাঈ, দারেমী, মিশকাত হা/৯০১, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘সিজদা ও উহার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-১৪।

16/11/2024

আর রাহীকুল মাখতূম (০৫)

দাদার আশ্রয়ে মুহাম্মাদ

শিশু মুহাম্মাদ-এর বাবার ইন্তেকালের পর রইলেন স্নেহময়ী মা, মায়ের ইন্তেকালের পর রইলেন বৃদ্ধ দাদা। মায়ের মৃত্যুর পর দাদা এতিম নাতিকে নিয়ে এলেন নবুয়ত ও রিসালতের লীলাভূমি পবিত্র মক্কা নগরীতে। প্রিয় পুত্র আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে আব্দুল মুত্তালিব যতটা ব্যথা অনুভৰ করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যথা অনুভব করলেন পুত্রবধূ বিবি আমিনার মৃত্যুতে। কারণ, আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর শিশু মুহাম্মাদ-এর অবলম্বন ছিলেন মা আমিনা। কিন্তু মা আমিনার মৃত্যুর পর তাঁর যে আর কোনো সহায়-ই রইল না। তাই শিশু মুহাম্মাদ-এর দুঃখ শতগুণে বৃদ্ধি পেলো। অন্যদিকে এতিম শিশু মুহাম্মাদ-এর জন্য আব্দুল মুত্তালিবের স্নেহ ভালোবাসাও শতধারায় বর্ষিত হতে লাগল। মনে হতো যেন, তাঁকে আপন সন্তানের চেয়েও অধিক স্নেহ করতেন।

অবশ্য এটাও সত্য যে, পুত্রবধূ আমিনার মৃত্যুর পূর্বেও তিনি শিশু মুহাম্মাদকে প্রাণের চেয়ে অধিক ভালোবাসতেন। শুধু তাই নয়; শিশু মুহাম্মাদকে তিনি সম্মানের দৃষ্টিতেও দেখতেন। ইবনে হিশামের বর্ণনা মতে, কাবাঘরের ছায়ায় আব্দুল মুত্তালিবের জন্য বিশেষ একটি আসন বিছানো থাকত। আব্দুল মুত্তালিব উক্ত আসনে বসতেন এবং তাঁর সন্তানগণ বসতেন সেই আসনের পার্শ্ববর্তী স্থানে। পিতার সম্মানার্থে তাঁর কোনো সন্তান উক্ত আসনে বসতেন না। কিন্তু শিশু মুহাম্মাদ সেখানে আগমন করলে সেই আসনেই বসতেন।

এমন অবস্থায় শিশু মুহাম্মাদ-এর চাচাগণ তাঁকে হাত ধরে সেই আসন থেকে নামিয়ে দিতেন। কিন্তু আব্দুল মুত্তালিবের উপস্থিতিতে শিশু মুহাম্মাদ-কে সেই আসন থেকে কেউ নামাতে চাইলে তিনি বলতেন- 'একে তোমরা এই আসন থেকে নামানোর চেষ্টা করো না, ওকে ছেড়ে দাও। কারণ, আল্লাহর শান কী যে তা তিনিই ভালো জানেন। তবে এই শিশুকে আমার সাধারণ শিশু বলে মনে হয় না। এ হচ্ছে বিশেষ এক শিশু, এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ এক ব্যক্তিত্বময় সত্তা। এর সবকিছুতে অদ্ভুত রকম বেশি রয়েছে।'

অতঃপর শিশু মুহাম্মাদ-কে নিজের কাছে বসিয়ে নিতেন, তাঁর গায়ে হাত বুলিয়ে আদর-সোহাগ করতেন এবং তাঁর হাবভাব ও কাজকর্ম দেখে আনন্দ প্রকাশ করতেন। ১

মুহাম্মাদ-এর বয়স যখন আট বছর দুই মাস দশ দিন, তখন দাদা আব্দুল মুত্তালিবও ইন্তেকাল করলেন। এভাবে মৃত্যু দাদার স্নেহ থেকে শিশু মুহাম্মাদ-কে বঞ্চিত করে! বালক মুহাম্মাদ তখন ভাবতে শিখেছেন মৃত পিতার কথা, ভাবতে শিখেছেন স্নেহ-মমতার মূর্ত প্রতীক গর্ভধারিণী মায়ের কথা, অবর্ণনীয় শোক ও দুঃখ-বেদনার সাথে আবারও তাঁকে ভাবতে হলো মৃত দাদার কথা।

বালক মুহাম্মাদ-এর এই দুঃখ-শোকের মুহূর্তে তা লাঘব করতে এগিয়ে এলেন চাচা আবু তালিব। তিনি খুশি মনে আপন কাঁধে তুলে নিলেন বালক মুহাম্মাদ-এর লালন-পালন ও পরিচালনের সকল দায়-দায়িত্ব। বৃদ্ধ আব্দুল মুত্তালিব মৃত্যুর পূর্বক্ষণে আবু তালিবকে সেই উপদেশই দিয়ে গিয়েছিলেন।

14/11/2024

আর রাহীকুল মাখতূম (০৪)

শিশু মুহাম্মাদ ফিরে এলেন মাতৃক্রোড়ে

বক্ষবিদারণের ঘটনায় ধাত্রীমাতা হালিমা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে শিশু মুহাম্মাদকে তাঁর মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ এভাবে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত ধাত্রীগৃহে লালিত-পালিত হন। ধাত্রীগৃহ থেকে একমাত্র সন্তানকে ফেরত পাওয়ার পর বিবি আমিনা ইয়াসরিব (মদিনার পূর্ব নাম) গিয়ে স্বামীর কবর জিয়ারত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। অতঃপর শ্বশুর আব্দুল মুত্তালিবের ব্যবস্থাপনায় শিশু মুহাম্মাদ এবং পরিচারিকা উম্মে আইমানকে সাথে নিয়ে পাঁচশত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মদিনায় পৌঁছালেন। সেখানে এক মাস অবস্থানের পর মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। সামনে মক্কা অনেক দূরের পথ, পেছনে মদিনা স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত। পথচলার এমনি এক পর্যায়ে বিবি আমিনা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ধীরে ধীরে তাঁর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেতে লাগল। অবশেষে মা আমিনা 'আবওয়া' নামক স্থানে পরলোক গমন করেন।

10/11/2024

আর-রাহিকুল মাখতুম (০৩)

বক্ষবিদারণ

এভাবে দুধপানের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরও শিশু মুহাম্মাদ বনু সা'দ গোত্রে অবস্থান করতে থাকলেন। দ্বিতীয় দফায় বনু সা'দ গোত্রে অবস্থানকালে জন্মের চতুর্থ কিংবা পঞ্চম বছরে তাঁর বক্ষবিদারণের ঘটনাটি ঘটে।১ আনাস থেকে সহিহ মুসলিমে ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ বর্ণিত হয়েছে।

ঘটনাটি হচ্ছে, একদিন শিশু মুহাম্মাদ যখন সঙ্গী-সাথিদের সাথে খেলাধুলা করছিলেন, এমন সময় জিবরাইল সেখানে উপস্থিত হন। অতঃপর শিশু মুহাম্মাদকে একটু দূরে নিয়ে চিত করে শুইয়ে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে হৃৎপিন্ডটি বের করে আনলেন। তারপর হৃৎপিণ্ডের মধ্য থেকে কিছুটা জমাটবাঁধা রক্ত বের করে বললেন-'শয়তানের অংশ-যা তোমার মধ্যে ছিল, তা হচ্ছে এই।'

তারপর হৃৎপিণ্ডটাকে একটি সোনার তন্তরিতে রেখে জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। তারপর পুনরায় তা যথাস্থানে সন্নিবেশিত করে কাটা অংশে জোড়া লাগিয়ে দিলেন। এ সময় তাঁর খেলার সঙ্গী-সাথিগণ দৌড়ে গিয়ে ধাত্রীমাতা বিবি হালিমাকে বলল-মুহাম্মাদ নিহত হয়েছে!

বিবি হালিমা ও তাঁর স্বামী এ কথা শুনে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও অস্থির হয়ে পড়লেন। তারপর তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশু মুহাম্মাদের মুখমণ্ডলে মালিন্য ও পেরেশানীর ভাব লক্ষ করলেন। এই অবস্থার মধ্যে তাঁরা শিশু মুহাম্মাদকে ঘরে এনে সেবা-যত্ন করতে লাগলেন।

05/11/2024

আর রাহীকুল মাখতূম ০২

লালন-পালন

সেসময় আরবদের মাঝে সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ প্রথা চালু ছিল। আরবরা মনে করতো সেসময় যেহেতু শহর-নগরের পরিবেশ জনাকীর্ণ এবং রোগ ব্যাধিতে পরিপূর্ণ, তাই শহর থেকে দূরে উন্মুক্ত গ্রামীণ পরিবেশে তাদের লালন-পালন করাই উত্তম। তাই শিশুরা যাতে রোগমুক্ত থাকতে পারে এবং বলিষ্ঠ দেহ ও মজবুত মাংসপেশির অধিকারী হয়, সেইসঙ্গে বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শিখতে পারে, সে উদ্দেশ্যে শিশুদের বেদুইন ধাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো।

সেই নিয়ম অনুযায়ী আব্দুল মুত্তালিব শিশু মুহাম্মাদ-কে দুধ পান করানোর উদ্দেশ্যে ধাত্রী অনুসন্ধান করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি হালিমা বিনতে আবু যুয়ায়েরকে শিশু মুহাম্মাদ-এর ধাত্রী হিসেবে বাছাই করেন। এই মহিলা বনু সা'দ বিন বকর গোত্রের একজন 'খাতুন' ছিলেন। তাঁর স্বামীর নাম ছিল 'হারিস' বিন আব্দুল উজ্জা। আর ডাক নাম ছিল ‘আবু কাবশাহ'। তিনিও বন্ধু সা'দ গোত্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিলেন।

বিবি হালিমা ও হারিস দম্পতির কয়েকটি সন্তান ছিল। তাঁরা রাসূলুল্লাহ-এর দুধ সম্পর্কিত ভাই ও বোনের সম্মান লাভ করেন। তাদের নাম যথাক্রমে আব্দুল্লাহ, আনিসাহ, হোযাফা অথবা জোযামা। হোযাফা 'শায়মা' নামেই অধিকতর পরিচিত ছিলেনকথিত আছে-এই শায়মা-ই রাসূলুল্লাহ-কে লালন-পালনের ব্যাপারে মা হালিমাকে সাহায্য করতেনঅন্যদিকে রাসূল -এর চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান বিন হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিবও বিবি হালিমার সূত্র ধরে দুধ-সম্পর্কিত ভাই ছিলেন।

রাসূলুল্লাহ-এর চাচা হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিবকেও বনু সা'দ গোত্রের এক মহিলা দুধ পান করিয়েছিলেনবিবি হালিমার ঘরে থাকা অবস্থায় উক্ত মহিলাও একদিন রাসূলুল্লাহ-কে দুধ পান করিয়েছিলেনএ কারণে রাসূলুল্লাহ এবং হামজা দুজনে সম্পর্কে দুধভাই হয়ে যান-প্রথম সূত্রে সুওয়ায়বার সম্পর্কের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় সূত্রে বনু সা'দ গোত্রের সেই মহিলার মাধ্যমে।১

দুধপান করানোর সময় বিবি হালিমা শিশু মুহাম্মাদ-এর অলৌকিক গুণের বিভিন্ন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে আশ্চর্য ও হতবাক হয়ে যান। বিবি হালিমার বর্ণনা সূত্রে ইতিহাসবিদ ইবনে ইসহাক বলেছেন, বিবি হালিমা এবং তাঁর স্বামী বনু সা'দ গোত্রের একদল মহিলার সাথে অর্থের বিনিময়ে দুধপান করাবে-এমন শিশুর সন্ধানে মক্কায় আগমন করেন। সেই সময় দুর্ভিক্ষের কারণে আরবে প্রচুর খাদ্য ও অর্থ সংকট চলছিল।

বিবি হালিমা বলেন-'আমি একটি সাদা মাদি গাধার পিঠে চড়ে পথ চলছিলাম। আমার সাথে উস্ত্রীও ছিল। কিন্তু উষ্ট্রীর ওলান থেকে একবিন্দুও দুধ বের হচ্ছিল না। আমার বুকেও দুধ ছিল না। এদিকে ক্ষুধার তাড়নায় শিশুরা এতই ছটফট করছিল যে, সারাটা রাত আমরা ঘুমাতে পারিনি। এমতাবস্থায় আমরা বৃষ্টি ও সচ্ছলতার আশা নিয়ে প্রহর গুণছিলাম। কিন্তু অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে আমরা পুনরায় পথ চলা শুরু করলামআমি মাদি গাধাটির ওপর সওয়ার হয়ে পথ চলতে থাকলাম। গাধাটি ছিল খুবই দুর্বল। গাধাটি দুর্বলতা ও শক্তিহীনতার কারণে এতই ধীরে চলতে থাকে যে, এতে কাফেলার অন্য সাথিরা অত্যন্ত বিরক্তবোধ করতে শুরু করে।

যা-ই এমনই এক অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা মক্কায় উপস্থিত হই। অতঃপর আমাদের দলে এমন কোনো মহিলা ছিল না-যার কাছে শিশু নবী মুহাম্মাদ-কে দুধ পান করানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। কিন্তু যখনই জানতে পারল শিশু মুহাম্মাদ এতিম, তখনই আর কেউ তাঁকে গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখাল না। কারণ, দুধদানের বিনিময়ে শিশুর পিতার থেকে আশানুরূপ বিনিময় লাভের প্রত্যাশা সকলেরই ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেইমা বিধবা, দাদা বৃদ্ধ, এই শিশুকে লালন-পালন করে বিনিময়ে আর কীই-বা পাওয়ার আশা করা যায়! সুতরাং এসব সাত-পাঁচ ভেবে কাফেলার কেউই তাঁকে নেওয়ার আগ্রহ দেখাল না।'

বিবি হালিমা আরও বলেন-'এদিকে দলের অন্যান্য মহিলা-যারা আমার সাথে গিয়েছিল, তারা সকলেই একজন করে শিশু নিল। অবশিষ্ট রইলাম শুধু আমি। আমার পক্ষে কোনো শিশু সংগ্রহ করা সম্ভব হলো না। যতই ফিরে আসার সময় ঘনিয়ে আসতে লাগল, আমার মনটা যেন ততই ভারাক্রান্ত হয়ে উঠতে লাগল। অবশেষে আমি স্বামীকে বললাম-আমার সাথিরা সকলেই দুধপানের জন্য শিশু নিয়ে ফিরছে, আর আমাকে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। শূন্য হাতে ফিরে যাওয়ার চেয়ে বরং আমি সেই এতিম শিশুটাকেই নিয়ে যাই-এতে যা করেন আল্লাহ।'

স্বামী বললেন-'আচ্ছা ঠিক আছে, কোনো অসুবিধা নেই। তুমি গিয়ে তাকে নিয়ে এসো। এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ হয়তো এর মধ্যেই আমাদের জন্য বরকত রেখেছেন।'

বিবি হালিমা বলেন- 'এমন এক অবস্থায় আমি শিশু মুহাম্মাদ-কে দুধপানের জন্য গ্রহণ করলাম।' বিবি হালিমা আরও বলেন-'আমি যখন শিশু মুহাম্মাদ-কে নিয়ে মক্কায় আমাদের অস্থায়ী বাসগৃহে ফিরে এলাম এবং তাঁকে কোলে নিলাম, তখন তিনি দুই সিনা আমার বুকের সাথে মিলিত করে পূর্ণ পরিতৃপ্তি নিয়ে দুধ পান করলেনতাঁর দুধভাই অর্থাৎ আমার গর্ভজাত সন্তানও পূর্ণ তৃপ্তিসহ দুধ পান করলএরপর দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ল। অন্যদিকে আমার স্বামী উষ্ট্রী দোহন করতে গিয়ে দেখেন, ওলান দুধে পরিপূর্ণতিনি এত বেশি পরিমাণে দুধ দোহন করলেন যে, আমরা উভয়েই তৃপ্তির সাথে পান করলাম এবং শান্তিতে রাতীযাপন করলাম। পরিতৃপ্তির সাথে রাতীযাপন শেষে যখন সকাল হলো তখন আমার স্বামী বললেন-“হালিমা, আল্লাহর শপথ! তুমি এক মহাভাগ্যবান সন্তান লাভ করেছউত্তরে বললাম, “ভাব-সাব ও অবস্থাদৃষ্টে আমারও তা-ই মনে হচ্ছে।”

বিবি হালিমা বলেন-'এরপর আমাদের দল মক্কা থেকে নিজ নিজ গৃহে ফেরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলশিশু মুহাম্মাদ-কে বুকে নিয়ে সেই দুর্বল ও নিস্তেজ মাদি গাধার ওপর সওয়ার হয়ে আমিও যাত্রা শুরু করলাম। কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমার সেই দুর্বল গাধাটাই সকলকে পেছনে ফেলে দ্রুতবেগে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকল। কাফেলার আর কোনো গাধা-ই তার সাথে তাল মিলিয়ে পথ চলতে পারছিল না। এমনকি অন্য সঙ্গিনীরা বলতে লাগল, “ওগো আবু যুয়ায়েরের কন্যা! ব্যাপারটা কি হলো বলো তো? আমাদের প্রতি একটু অনুগ্রহ করো। এটা কি সেই গাধাটা নয়-যার ওপর সওয়ার হয়ে তুমি এসেছিলে?”

আমি বললাম-"হ্যাঁ হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! এটা সেই গাধাই-যেটার ওপর সওয়ার হয়ে মক্কায় এসেছিলাম।"

তারা বলল-“নিশ্চয় এর মধ্যে বিশেষ রহস্যজনক কোনো ঘটনা ঘটেছে।” তারা জাল রহস্যাবৃত অবস্থার মধ্য দিয়ে

আমার জানা ছিল না যে, আল্লাহর এ জমিনে আমাদের অঞ্চলের মানুষের চেয়ে অন্য কোনো অঞ্চলের মানুষ অধিকতর অভাবগ্রস্ত থাকতে পারে। কিন্তু আনুষঙ্গিক বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে আমার সে ভুল ধারণা ভেঙে গেল।

মক্কা থেকে ফিরে আসার পরবর্তী সময়ে আমাদের বকরিগুলো চারণভূমি থেকে ঘাস খেয়ে পরিতৃপ্ত হারো বাড়িতে ফিরে আসত। ইতঃপূর্বে দুগ্ধবতী বকরিগুলো দোহন করে আমরা পরিতৃপ্তির সাথে দুধ পান করতাম। অথচ অন্য লোকেরা এক ফোঁটা দুধও পেতো না। তাদের পশুগুলোর ওলানে কোনো দুধই থাকত না। এমন অবস্থার কারণে অন্য পশুপালের মালিকরা তাদের রাখালদের বলত, 'হতভাগারা! বনু যুওয়ায়েরের কন্যার রাখাল পশুপাল নিয়ে যেখানে যায়, তোমরা কি পশুপাল নিয়ে সেই চারণভূমিতে যেতে পারো না?'

ফলে আমাদের রাখাল যে চারণভূমিতে পশুপাল নিয়ে যেত, অন্যান্য রাখালরাও সেই ভূমিতে যেত। কিন্তু এ সত্ত্বেও তাদের পশুগুলো ঘাসের অভাবে ক্ষুধার্ত ও অভুক্ত অবস্থায় গৃহে ফিরে আসত। সেসব পশুর ওলানে দুধও থাকত নাঅথচ আমাদের বকরিগুলো ঘাস খেয়ে পরিতৃপ্ত এবং ওলানে পূর্ণমাত্রায় দুধ সহকারে ঘরে ফিরে আসতআমরা প্রত্যেকটি কাজকর্মে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে বরকত লাভ করতে থাকলাম।

এভাবে শিশু মুহাম্মাদ-এর পুরো দুটো বছর অতিবাহিত হয়ে গেলতারপর আমি তাঁর স্তন পান বন্ধ করে দিলাম। অন্যান্য শিশুদের তুলনায় শিশু মুহাম্মাদ এমন সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে থাকলেন যে, দুই বছর পুরো হতে না হতেই তাঁর দেহ বেশ শক্ত ও সুঠাম হয়ে গড়ে উঠল।

লালন-পালনের মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হওয়ায় আমরা শিশু মুহাম্মাদকে তাঁর মায়ের কাছে দিতে গেলাম।

কিন্তু তাঁকে নিয়ে আসার পর থেকে আমাদের সংসারে যে সচ্ছলতা ও বরকতের সুফল ভোগ করে আসছিলাম, সে কারণে মনে মনে আশা করছিলাম, তিনি যেন আরও কিছুদিন আমাদের কাছে থাকেন।

তাঁর মায়ের কাছে আমাদের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করে বললাম-তাঁকে আরও কিছু সময় আমাদের সাথে থাকতে দিন-যাতে সে সুস্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহের অধিকারী হয়ে উঠতে পারেসেইসঙ্গে মক্কায় মহামারির ব্যাপারেও আমরা কিছুটা ভয় করছিআমাদের বারংবার অনুরোধ ও আন্তরিকতায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি শিশু মুহাম্মাদ-কে পুনরায় আমাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মতি প্রদান করলেন।

04/11/2024

আর রাহীকুল মাখতূম (০১)

জন্ম ও নবুয়তি জীবনের চল্লিশ বছর

জন্ম: রাসূলুল্লাহ ( স:)

মক্কার বিখ্যাত বনু হাশিম গোত্রে ৯ রবিউল আওয়াল (ফিলের বছর) সোমবার সুবহে সাদিকে জন্মগ্রহণ করেন। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে তারিখটি ছিল ৫৭১ ইসায়ি সালের ২০ অথবা ২২ এপ্রিল। সেই বছরটি ছিল বাদশাহ নওশেরওয়ার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার চল্লিশতম বছর। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুহাম্মাদ সালমান মানসুরপুরী রাহমাতুল্লাহ আলাইহি এবং মাহমুদ পাশা ফালকির অনুসন্ধানলব্ধ অভিমত হচ্ছে এটাই।১

ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-'যখন আমার জন্ম হয়েছিল, তখন আমার শরীর থেকে এক বিশেষ আলো বের হয়েছিল-যাতে শামদেশের অট্টালিকাসমূহ আলোকিত হয়েছিল।' ইমাম আহমদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরবায বিন সারিয়াও একই বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।২

রাসূলুল্লাহ-এর জন্মের সময় বেশ কিছু ঘটনা নবুয়তের পূর্বাভাস হিসেবে প্রকাশিত হয়। যেমন: কিসরার প্রাসাদের সৌধ চূড়াগুলো ভেঙে পড়ে যায়। প্রাচীন পারসিক যাজকমণ্ডলীর উপাসনাগারগুলোতে যুগ যুগ ধরে প্রজ্জ্বলিত হয়ে আসা অগ্নিকুণ্ডগুলো নিভে যায়। বোহায়রা পাদরিদের সরগরম গির্জাগুলো নিস্তেজ ও নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে এবং তাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিনষ্ট হয়ে যায়। কাবাঘরের ৩৬০টি মূর্তি মাটিতে পড়ে যায়। এই বর্ণনা হচ্ছে ইমাম বাইহাকি (রহ)-এর।৩ কিন্তু মুহাম্মাদ গাজ্জালি এসব বর্ণনাকে সঠিক বলে স্বীকার করেননি।৪

ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই বিবি আমিনা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে নিজ পুত্রের জন্মগ্রহণের শুভ সংবাদ পৌঁছান। এই সংবাদ শোনামাত্রই তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে নবজাতককে কোলে তুলে নিয়ে কাবাগৃহে উপস্থিত হন। তারপর তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে থাকেন এবং তাঁর সার্বিক কল্যাণের জন্য দুআ করতে থাকেন। সেই আনন্দ-মধুর মুহূর্তেই তিনি এটাও স্থির করে

ফেলেন যে, তাঁর নাম রাখা হবে 'মুহাম্মাদ'।

আরববাসীর নামের তালিকায় এটি ছিল একটি 'অভিনব' নাম। অতঃপর আরবের প্রচলিত প্রথানুযায়ী সপ্তম দিনে তাঁর খতনা করা হয়।"

তাঁর মাতার পর রাসূলুল্লাহ-কে সর্বপ্রথম দুধ পান করিয়েছিলেন, আবু লাহাবের দাসী 'সুওয়াইবা'। সেই সময় সুওয়াইবার কোলে যে সন্তান ছিল, তার নাম ছিল 'মাসরুহ'। রাসূলুল্লাহ -এর পূর্বে সুওয়াইবা হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিবকে এবং পরে আবু সালমা বিন আব্দুল আসাদ মাখযুমিকেও দুধ পান করিয়েছিলেন।

Address

Facebook
Dhaka
FACEBOOK

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আল কোরআনের আলো/ Al Quran R Alo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share