03/03/2026
পৃথিবীর ইতিহাসটাই আসলে যুদ্ধের ইতিহাস। সেই সাথে আছে নানা ঘটনার চড়াই উতরাই। যারা নিজের জন্য, পরিবারের জন্য বা জাতির জন্য ভালো কিছু করে তারা এর পাশাপাশি নিজেকে সচল রাখে। কিন্তু আমাদের একটা বড় সংখ্যক লোকের অবস্থা হচ্ছে নতুন উত্তেজক কিছু হলেই তারা নাওয়াখাওয়া ভুলে যায়, আপডেইটের পিছনে ছোটে। তাদের আমল-আখলাকের ওপর, ইবাদাত-ইলম অর্জনের ওপর এই বিষয়গুলো খুবই নেগেটিভ প্রভাব বিস্তার করে। দিনশেষে নিজে কোনো ঘটনার অংশ না হয়েও তারা ঘটনার শিকারে পরিণত হয়। এটা একটা দুঃখজনক বিষয়।
বিশেষ করে আমাদের ইয়াং জেনারেশনের এই বিষয়টা মাথায় রাখা খুবই জরুরি। আমাদের দ্বীন আলহামদুলিল্লাহ প্রোডাক্টিভিটি শেখায়। রাসূলুল্লাহﷺ বলেছেন,
إِنْ قَامَتِ السَّاعَةُ وَفِي يَدِ أَحَدِكُمْ فَسِيلَةٌ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا تَقُومَ حَتَّى يَغْرِسَهَا فَلْيَغْرِسْهَا
"যদি কিয়ামত এসে যায় এবং তখন তোমাদের কারো হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে কিয়ামত হওয়ার আগেই তার পক্ষে সম্ভব হলে যেন চারাটি রোপন করে"।[১]
এই হাদিসে আমাদেরকে প্রোডাক্টিভিটির নির্দেশনা একটা অসাধারণ উপমা দিয়ে দেখানো হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে কিয়ামত কায়েম হলে গাছ রোপন করে তো আসলে কিছু করা যাবে না, দুনিয়াই থাকবে না সেটা আর কোন কাজে আসবে?
এখানে আসলে আমাদের শেখানো হয়েছে যে আমরা যেন আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের সঠিক ব্যবহার করি। কিয়ামতের চরম ভীতিকর মুহূর্তে যদি গাছের চারা রোপনের উৎসাহ দেয়া যায়,তাহলে এর তুলনায় দুনিয়ার বাকি সব বিভীষিকা, বাকি সব উত্তেজনা তো তুচ্ছ, সেখানে কেন আমরা অকেজো হয়ে বসে থাকবো।
সুতরাং আমাদের কাজ হচ্ছে দুনিয়ার ঘটনা প্রবাহের সাথে সাথে হারিয়ে না গিয়ে এগুলো প্রয়োজনে খেয়াল রাখবো, দুআ করব, কিন্তু সেই সাথে নিজেদের ঈমান- আমলের উন্নতির চেষ্টা অব্যাহত রাখবো, ইলম অর্জনে মনোযোগী হব। এমন সব স্কিল অর্জনের সচেষ্ট থাকবো যা দুনিয়া ও আখিরাতে কাজে আসবে, নয় অন্তত আখিরাতের বা অন্তত দুনিয়ার জন্য কাছে আসবে।
[১) ইমাম বুখারী (রাহ.), আল আদাবুল মুফরাদ, হা: ৪৭৯, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে সহীহ]
- Manzurul Karim