14/10/2019
২১২৪
وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بَيْنَمَا جِبْرِيلُ قَاعِدٌ عِنْدَ النَّبِىِّ ﷺ سَمِعَ نَقِيضًا مِنْ فَوْقِه فَرَفَعَ رَأْسَه فَقَالَ: «هٰذَا بَابٌ مِنَ السَّمَاءِ فُتِحَ الْيَوْمَ لَمْ يُفْتَحْ قَطُّ إِلَّا الْيَوْمَ فَنَزَلَ مِنْهُ مَلَكٌ فَقَالَ هٰذَا مَلَكٌ نَزَلَ إِلَى الْأَرْضِ لَمْ يَنْزِلْ قَطُّ إِلَّا الْيَوْمَ فَسَلَّمَ وَقَالَ أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا لَمْ يُؤْتَهُمَا نَبِىٌّ قَبْلَكَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ وَخَوَاتِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَنْ تَقْرَأَ بِحَرْفٍ مِنْهُمَا إِلَّا أَعْطَيْتُه». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদিন জিবরীল আমীন (আঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসে ছিলেন। এ সময় উপরের দিক হতে দরজা খোলার শব্দ [জিবরীল (আঃ)] শুনলেন। তিনি উপরের দিকে মাথা উঠালেন এবং বললেন, আসমানের এ দরজাটি আজ খোলা হলো। এর আগে আর কখনো তা খোলা হয়নি। (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ) এ দরজা দিয়ে একজন মালাক (ফেরেশতা) নামলেন। তখন জিবরীল (আঃ) বললেন, যে মালাক (আজ) জমিনে নামলেন, আজকে ছাড়া আর কখনো তিনি জমিনে নামেননি। (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,) তিনি সালাম করলেন। তারপর আমাকে বললেন, আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। এটা আপনার আগে আর কোন নাবীকে দেয়া হয়নি। (তাহলো) সূরা আল ফাতিহাহ্ ও সূরা আল বাকারাহ্’র শেষাংশ। আপনি এ দু’টি সূরার যে কোন বাক্যই পাঠ করুন না কেন নিশ্চয়ই আপনাকে তা দেয়া হবে। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৮০৬, নাসায়ী ৯১২, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১২২৫৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৫২, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৫৬।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১২৫
وَعَنْ أَبِىْ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «الْاٰيَتَانِ مِنْ اٰخَرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ مَنْ قَرَأَ بِهِمَا فِىْ لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল বাকারার শেষ দু’টি আয়াত, অর্থাৎ- ‘আ-মানার রসূলু’ হতে শেষ পর্যন্ত পড়ে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৫০৪০, মুসলিম ৮০৭, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৪৩।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১২৬
وَعَنْ أَبِىْ الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: مَنْ حَفِظَ عَشَرَ اٰيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُوْرَةِ الْكَهْفِ عَصَمَ مِنَ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৮০৯, আবূ দাঊদ ৪৩২৩, তিরমিযী ২৮৮৬, আহমাদ ২১৭১২, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৩৩৯১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৯৯৭, রিয়াযুস্ সলিহীন ১০২৮, সহীহাহ্ ৫৮২, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৭২, সহীহ আল জামি‘ ৬২০১।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১২৭
وَعَنْ أَبِىْ الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَيَعْجَزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِىْ لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْاٰنِ؟» قَالُوا: وَكَيْفَ يَقْرَأُ ثُلُثَ الْقُرْاٰنِ؟ قَالَ: ﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾ يَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْاٰنِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কি প্রতি রাতে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন তিলাওয়াতে সক্ষম? সাহাবীগণ বললেন, প্রতি রাতে কি করে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পড়া যাবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৮১১, দারিমী ৩৪৭৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৮০।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১২৮
وَرَوَاهُ البُخَارِىُّ عَنْ أَبِىْ سَعِيْدٍ
ইমাম বুখারী থেকে বর্ণিতঃ
হাদীসটি আবূ সা‘ঈদ হতে বর্ণনা করেছেন।[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৫০১৫।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১২৯
وَعَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ بَعَثَ رَجُلًا عَلٰى سَرِيَّةٍ وَكَانَ يَقْرَأُ لأَصْحَابِه فِىْ صَلَاتِهِمْ فِيَخْتِمُ بِـ ﴿قُلْ هُوَ اللّٰهُ أَحَدٌ﴾. فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذٰلِكَ لِلنَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ: «سَلُوهُ لِأَىِّ شَىْءٍ يَصْنَعُ ذٰلِكَ» فَسَأَلُوهُ فَقَالَ لِأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمٰنِ وَأَنَا أَحَبُّ أَنْ أَقرَأَ هَا. فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ: «أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللهَ يُحِبُّه». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি সেনাদলের সেনাপতি করে পাঠালেন। সে তার সঙ্গীদের সলাত আদায় করাত এবং ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ দিয়ে সলাত শেষ করত। তারা মাদীনায় ফেরার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ কথা উল্লেখ করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে জিজ্ঞেস করো কি কারণে সে তা করে। সে বলল, এর কারণ এতে আল্লাহর গুণাবলীর উল্লেখ রয়েছে। আর আমি আল্লাহর গুণাবলী পড়তে ভালবাসি। তার উত্তর শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তা‘আলাও তাকে ভালবাসেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭৩৭৫, মুসলিম ৮১৩, ইবনু হিববান ৭৯৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৮৩, নাসায়ী ৯৯৩।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১৩০
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ إِنِّىْ أُحِبُّ هٰذِهِ السُّورَةَ: ﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾. قَالَ: إِنَّ حُبَّكَ إِيَّاهَا أَدْخَلَكَ الْجَنَّةَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَرَوَى البُخَارِىُّ مَعْنَاهُ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি এ ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ সূরাকে ভালবাসি। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার এ সূরার প্রতি ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী; এই একই অর্থের একটি হাদীস ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন)[১]
[১] সহীহ : তিরমিযী ২৯০১, দারিমী ৩৪০৫, সহীহ ইবনু হিববান ৭৯২, আহমাদ ১২৪৩২, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৮৪। ইমাম বুখারী (রহঃ) সানাদহীন অবস্থায় তা বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১৩১
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: أَلَمْ تَرَ اٰيَاتٍ أُنْزِلَتِ اللَّيْلَةَ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾. وَ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ﴾. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
উকবাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আজ রাতে এমন কিছু আশ্চর্যজনক আয়াত নাযিল হয়েছে আগে এ রকম কোন আয়াত (নাযিল) হতে দেখা যায়নি। (আর তা হলো) ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক’’ ও ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাবিবন্না-স’’। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৮১৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৮৫, নাসায়ী ৯৫৪, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৯৬৮, তিরমিযী ২৯০২, সহীহ আল জামি‘ ১৪৯৯।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১৩২
وَعَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَوٰى إِلٰى فِرَاشِه كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيْهِمَا ﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾. وَ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾. وَ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ﴾. ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِه يَبْدَأُ بِهِمَا عَلٰى رَأْسِه وَوَجْهِه وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِه يَفْعَلُ ذٰلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ‐ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ). وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ ابْنِ مَسْعُودٍ: لَمَّا أُسْرِىَ بِرَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فِىْ بَابِ الْمِعْرَاج إِن شَآءَ اللهُ تَعَالٰى
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবার সময় দু’ হাতের তালু একত্র করতেন। তারপর এতে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ, কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্না-স’ পড়ে ফুঁ দিতেন। এরপর এ দু’ হাত দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর শরীরের যতটুকু সম্ভব হত মুছে নিতেন। শুরু করতেন মাথা, চেহারা এবং শরীরের সম্মুখ ভাগ হতে। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করতেন। (বুখারী, মুসলিম।)
ইবনু মাস্‘ঊদণ্ডএর হাদীস (لَمَّا أُسْرِىَ بِرَسُولِ اللّٰهِ ﷺ) ‘‘যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে [স্বশরীরে] রাতে সফর করানো হয়েছে’’ আমরা ‘মি‘রাজ’ অধ্যায়ে অচিরেই বর্ণনা করব [ইনশাআল্লাহ]।)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৫০১৭, মুসলিম ২৭১৫, আবূ দাঊদ ৫০৫৬, তিরমিযী ৩৪০২, মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ৫০৭৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৫৪৪, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ৩০, সহীহাহ্ ৩১০৪।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
পরিচ্ছদঃ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৩৩
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَوْفٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: «ثَلَاثَةٌ تَحْتَ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْقُرْاٰنُ يُحَاجُّ الْعِبَادَ لَه ظَهْرٌ وَبَطْنٌ وَالْأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ تُنَادِىْ: أَلَا مَنْ وَصَلَنِىْ وَصَلَهُ اللّٰهُ وَمَنْ قَطَعَنِىْ قَطَعَهُ اللّٰهُ». رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ
আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেনঃ তিনটি জিনিস কিয়ামাতের দিন আল্লাহর ‘আরশের নীচে থাকবে। (১) কুরআন, এ কুরআন বান্দাদের (পক্ষে বিপক্ষে) আর্জি পেশ করবে। এর যাহের ও বাতেন দু’দিক রয়েছে। (২) আমানাত ও (৩) আত্মীয়তার বন্ধন। (এ তিনটি জিনিসের প্রত্যেকে ফরিয়াদ করবে, হে আল্লাহ! যে আমাকে রক্ষা করেছে তুমি [আল্লাহ] তাকে রক্ষা করো। যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আল্লাহ তাকে ছিন্ন করো।) (ইমাম বাগাবী: শারহুস্ সুন্নাহ)[১]
1] য‘ঈফ : য‘ঈফাহ্ ১৩৩৭, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৫৭৭, শারহুস্ সুন্নাহ ৩৪৩৩। কারণ এর সানাদে হাসান ইবনু ‘আবদুর রহমান একজন মাকহূল রাবী, আর কাসীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল ইয়াশকুরী দুর্বল রাবী ।
হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস
২১৩৪
وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْاٰنِ: اِقْرَأْ وَارَتْقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِى الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ اٰخِرِ اٰيَةٍ تَقْرَؤُهَا». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ أَبُوْ دَاوُدَ وَالنَّسَائِىُّ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারীকে কিয়ামাতের দিন বলা হবে, পাঠ করতে থাকো আর উপরে উঠতে থাকো। (অক্ষরে অক্ষরে ও শব্দে শব্দে) সুস্পষ্টভাবে পাঠ করতে থাকো, যেভাবে দুনিয়াতে স্পষ্টভাবে পাঠ করতে। কারণ তোমার স্থান (মর্যাদা) হবে যা তুমি পাঠ করবে শেষ আয়াত পর্যন্ত (আয়াত পাঠের তুলনাগত দিক থেকে)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)[১]
[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৬৪, তিরমিযী ২৯১৪, সহীহাহ্ ২২৪০, সহীহ ইবনু হিববান ১৭৯০, সহীহ আত্ তারগীব ১৪২৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২৪২৫।
হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস
২১৩৫
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ الَّذِىْ لَيْسَ فِىْ جَوْفِه شَىْءٌ مِنَ الْقُرْاٰنِ كَالْبَيْتِ الْخَرِبِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ. وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে পেটে কুরআনের কিছু নেই তা শূন্য (ধ্বংসপ্রাপ্ত) ঘরের মতো। (তিরমিযী ও দারিমী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ)[১]
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৯১৩, আহমাদ ১৯৪৭, দারিমী ৩৩৪৯, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৩৭, রিয়াযুস্ সলিহীন ১০০৭, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৭১, য‘ঈফ আল জামি‘ ১৫২৪। কারণ এর সানাদে ত্ববুস ইবনু আবী যব্ইয়ান একজন দুর্বল রাবী।
হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস
২১৩৬
وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «يَقُولُ الرَّبُّ تَبَارَكَ وَتَعَالٰى: مَنْ شَغَلَهُ الْقُرْاٰنُ عَنْ ذِكْرِىْ وَمَسْأَلَتِىْ أَعْطَيْتُه أَفْضَلَ مَا أُعْطِى السَّائِلِينَ. وَفَضْلُ كَلَامِ اللّٰهِ عَلٰى سَائِرِ الْكَلَامِ كَفَضْلِ اللّٰهِ عَلٰى خَلْقِه». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَالْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যাকে আমার জিকির ও আমার কাছে কিছু চাওয়া হতে কুরআন বিরত রেখেছে, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়ে বেশি দান করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কেননা আল্লাহর কালামের শ্রেষ্ঠত্ব অন্য সব কালামের উপর; যেমন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর সৃষ্টির উপর। (তিরমিযী, দারিমী ও বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমানে। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব।)[১]
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৯২৬, য‘ঈফাহ্ ১৩৩৫, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৬০, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬৪৩৫, দারিমী ৩৩৯৯, শু‘আবূল ঈমান ১৮৬০। কারণ এর সানাদে ‘আত্বিয়্যাহ্ আল আওফী একজন দুর্বল রাবী এবং মুহাম্মাদ ইবনু হাসান ইবনু আবী ইয়াযীদ মিথ্যার অপবাদপ্রাপ্ত রাবী। ইবনু মা‘ঈন (রহঃ) তাকে অবিশ্বস্ত বলে অবহিত করেছেন।
হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস
২১৩৭
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللّٰهِ فَلَه بِه حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ: اَلٓمٓ حَرْفٌ. أَلْفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيْبٌ إِسْنَادًا
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের কোন একটি অক্ষরও পাঠ করবে, সে নেকী পাবে। আর নেকী হচ্ছে ‘আমালের দশ গুণ। আমি বলছি না যে, الٓمٓ)) ‘আলিফ লাম মীম’ একটি অক্ষর। বরং ‘আলিফ’ একটি অক্ষর, ‘লাম’ একটি অক্ষর ও ‘মীম’ একটি অক্ষর। (তাই আলিফ, লাম ও মীম বললেই ত্রিশটি নেকী পাবে)। (তিরমিযী, দারিমী। আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। কিন্তু সানাদের দিক দিয়ে গরীব।)[১]
[১] সহীহ : তিরমিযী ২৯১০, সহীহাহ্ ৩৩২৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৪১৬, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৬৯, দারিমী ৩৩১১।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
২১৩৮
وَعَنِ الْحَارِثِ الْأَعْوَرِ قَالَ: مَرَرْتُ فِى الْمَسْجِدِ فَإِذَا النَّاسُ يَخُوضُونَ فِى الْأَحَادِيثِ فَدَخَلْتُ عَلٰى عَلِىِّ فَأَخْبَرْتُه قَالَ: أَوَقَدْ فَعَلُوهَا؟ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ: أما إِنِّىْ قَدْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُول: «أَلا إِنَّهَا سَتَكُوْنُ فِتْنَةٌ». قُلتُ : مَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ قَالَ: «كِتَابُ اللهِ فِيْهِ نَبَأُ مَا كَانَ قَبْلَكُمْ وَخَبْرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنكُمْ وَهُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ مَنْ تَرَكَه مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللّٰهُ وَمَنِ ابْتَغَى الْهُدٰى فِىْ غَيْرِه أَضَلَّهُ اللّٰهُ وَهُوَ حَبْلُ اللّٰهِ الْمَتِينُ وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ الَّذِىْ لَا تَزِيغُ بِهِ الْأَهْوَاءُ وَلَا تَلْتَبِسُ بِهِ الْأَلْسِنَةُ وَلَا يَشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ وَلَا يَخْلِقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلَا يَنْقَضِىْ عَجَائِبُه هُوَ الَّذِىْ لَمْ تَنْتَهِ الْجِنُّ إِذْ سَمِعَتْهُ حَتّٰى قَالُوا (إِنَّا سَمِعْنَا قُرْاٰنًا عَجَبًا يَهْدِىْ إِلَى الرُّشْدِ فَاٰمَنا بِه). مَنْ قَالَ بِه صَدَقَ وَمَنْ عَمِلَ بِه أُجِرَ وَمَنْ حَكَمَ بِه عَدَلَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِىَ إِلٰى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُه مَجْهُولٌ وَفِى الْحَارِثِ مَقَالٌ
হারিস আ‘ওয়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
বলেন, আমি (একদিন কূফার) মাসজিদে বসা লোকজনের কাছে গেলাম। দেখলাম, লোকেরা আজে-বাজে কথায় ব্যস্ত। এরপর আমি ‘আলী (রাঃ) এর কাছে গিয়ে এ খবর বললাম। তিনি বললেন, তারা এমন করছে? আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, (তবে) শুনো, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাবধান! শীঘ্রই পৃথিবীতে কলহ-ফাসাদ আরম্ভ হবে। আমি [‘আলী] বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এ থেকে বাঁচার উপায় কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কিতাব, এতে তোমাদের আগের ও পরের খবর রয়েছে। তোমাদের ভিতরে বিতর্কের মীমাংসার পদ্ধতিও রয়েছে। সত্য মিথ্যার পার্থক্যও আছে। এটা কোন অর্থহীন কিতাব নয়। যে অহংকারী ব্যক্তি এ কুরআন ত্যাগ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি এর বাইরে হিদায়াত সন্ধান করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এ কুরআন হলো আল্লাহর মজবুত রশি। জিকির ও সত্য সরল পথ।
কুরআন অবলম্বন করে কোন প্রবৃত্তি বিপথগামী হয় না। এর দ্বারা যবানের কষ্ট হয় না। এর দ্বারা প্রজ্ঞাবানগণ বিতৃষ্ণ হয় না। এ কুরআন বার বার পাঠ করায় পুরাতন হয় না। এ কুরআনের বিস্ময়কর তথ্য অশেষ। কুরআন শুনে স্থির থাকতে পারেনি জিনেরা। এমনকি তারা এ কুরআন শুনে বলে উঠেছিল, ‘‘শুনেছি আমরা এমন এক বিস্ময়কর কুরআন। যা সন্ধান দেয় সত্য পথের। অতএব ঈমান এনেছি আমরা এর উপর।’’ যে ব্যক্তি কুরআনের কথা সত্য বলে, যে এর উপর ‘আমাল করে, সে পুরস্কার পাবে। যে এর দ্বারা বিচার-ফায়সালা করে, ন্যায়বিচার করে, যে (মানুষকে) এর দিকে ডাকে, সে সত্য সরল পথের দিকেই ডাকে। (তাই এরূপ কুরআন ছেড়ে তারা কেন অন্য আলোচনায় বিভোর হচ্ছে?)। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসের সানাদ মাজহূল [অপরিচিত]। আর হারিস আল আ‘ওয়ার-এর ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে।)[১]
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৯০৬, য‘ঈফাহ্ ৬৩৯৩। কারণ এর সানাদে হারিস আল আ‘ওয়ার একজন মাজহূল রাবী।
হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস
২১৩৯
وَعَن معَاذ الْجُهَنِىِّ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: «مَنْ قَرَأَ الْقُرْاٰنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ أُلْبِسَ وَالِدَاهُ تَاجًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْءُه أَحْسَنُ مِنْ ضَوْءِ الشَّمْسِ فِىْ بُيُوتِ الدُّنْيَا لَوْ كَانَتْ فِيكُمْ فَمَا ظَنُّكُمْ بِالَّذِىْ عَمِلَ بِهٰذَا؟». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُوْ دَاوُدَ