22/05/2026
শিশু নির্যাতন ও সামাজিক অবক্ষয়: সাময়িক ক্ষোভ নয়, চাই আমূল পরিবর্তন।
আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিবেকবান প্রতিটি মানুষ স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ ও চরমভাবে শঙ্কিত। সাত বছরের শিশু রামিসা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অবোধ শিশুর ওপর যে পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, তা কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। এই পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে আজ দেশজুড়ে যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তার সাথে আমরা সম্পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।
কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন আজ আমাদের নিজেদের বিবেকের কাছে করা দরকার—কেবল একটি ঘটনার পর সাময়িক বিক্ষোভ বা মিছিল কি এই ব্যাধির স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে?
বাস্তবতা হলো, রামিসা হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের কোথাও না কোথাও আরেকটি শিশু একই নির্মমতার শিকার হচ্ছে। বিগত মাত্র কয়েক মাসেই শত শত কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছে অনেকে। অতীতেও তনু বা নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সময় পুরো দেশ এভাবে ফুঁসে উঠেছিল, কিন্তু আজ অপরাধের গ্রাফ কমেনি, বরং জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
তাহলে গলদটা আসলে কোথায়?
অনেকে এই জাতীয় অপরাধকে কেবল ‘কোনো মাদকাসক্ত বা বিকৃত মস্তিষ্কের ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন কাজ’ বলে এড়িয়ে যেতে চান। কিন্তু সমাজজুড়ে ঘরে ঘরে কেন এত মাদকাসক্ত তৈরি হচ্ছে? কেন পারিবারিক বন্ধন আজ ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে? কেন আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থা এবং সামাজিক কাঠামো ক্ষমতার দাপট আর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?
এর ওপর যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার লাগামহীন অপব্যবহার। সুস্থ বিনোদন বা যোগাযোগের পরিবর্তে আজ সস্তা ভিউ আর অর্থ উপার্জনের জন্য অশ্লীল ও বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার নৈতিকতার মেরুদণ্ড ধসিয়ে দিচ্ছে।
মানুষের মন থেকে লোকলজ্জা, ভব্যতা ও খোদাভীতি বিলুপ্তির পথে। এমন এক চরম নৈতিক ধসের যুগে আজ ধর্মও যেন কেবল বাহ্যিক লেবাস, আনুষ্ঠানিকতা আর লোকদেখানো ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। মসজিদগুলো লোকে লোকারণ্য হচ্ছে, ওয়াজ-মাহফিল হচ্ছে, অথচ সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার, ঘুষ, দুর্নীতি আর পৈশাচিকতা দূর হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি অবিকল আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সেই বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বাণীর কথাই মনে করিয়ে দেয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন—এমন এক সময় আসবে যখন ইসলামের শুধু নাম থাকবে, কোরআনের শুধু অক্ষর থাকবে, মসজিদগুলো জমকালো হবে কিন্তু সেখানে হেদায়েত বা প্রকৃত আলো থাকবে না।
ইতিহাস সাক্ষী, প্রাক-ইসলামী আরবের জাহেলি সমাজে যখন কোনো মানুষের তৈরি সংবিধান বা রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল না, মানুষ যখন কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দিত এবং বর্বরতায় লিপ্ত ছিল, তখন মহান আল্লাহর দেওয়া সত্য জীবনবিধান তথা 'দীনুল হক' কায়েমের ফলেই সেই সমাজ পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে শান্তিময় ও অনুকরণীয় সমাজে পরিণত হয়েছিল।
আজ আমরা তথাকথিত আধুনিক যুগে বাস করেও কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। এর একমাত্র কারণ—আমরা আল্লাহর দেওয়া চিরন্তন ও শাশ্বত জীবনবিধান বাদ দিয়ে মানুষের তৈরি ত্রুটিপূর্ণ ও ব্যর্থ ব্যবস্থার পেছনে ছুটছি। এই মানবসৃষ্ট ব্যর্থ সিস্টেম বা আইন দিয়ে সাময়িক জোড়াতালি দেওয়া সম্ভব, কিন্তু মানুষের হৃদয়ের পরিবর্তন বা সমাজের আমূল সংস্কার সম্ভব নয়। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি, অন্যায়, অবিচার এবং পাশবিকতা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো—মানবসৃষ্ট স্বার্থান্বেষী ব্যবস্থার চর্চা ত্যাগ করে সকলে মিলে আল্লাহর দেওয়া সত্য জীবনবিধান তথা ‘দীনুল হক’ কায়েম করা।
এই আদর্শিক লক্ষ্য এবং সমাজ থেকে সমস্ত প্রকার অন্যায়-অবিচার, জুলুম ও শোষণ নির্মূল করতেই হেযবুত তওহীদ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিরলস ও নিঃস্বার্থভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। হেযবুত তওহীদ বিশ্বাস করে, কেবল আইন প্রয়োগ করে বা রাস্তায় নেমে সাময়িক ক্ষোভ প্রকাশ করে সমাজে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শিক পরিবর্তন ঘটে। ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবজাতির কল্যাণ এবং সমাজে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য হেযবুত তওহীদ কাজ করে যাচ্ছে। আসুন, কেবল সাময়িক হুজুগে গা না ভাসিয়ে, সমাজের এই পচনশীল ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে আল্লাহর দেওয়া সত্য আদর্শের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হই। তবেই সুরক্ষিত থাকবে আমাদের সন্তান, তবেই শান্তিময় হবে আমাদের সমাজ।
#শিশু_নির্যাতন_বন্ধ_হোক।
#সামাজিক_অবক্ষয়
#স্থায়ী_সমাধান।
#হেযবুত_তওহীদ।