Hizrat-আল্লাহর পথে

Hizrat-আল্লাহর পথে ইসলামকে সুন্দর, সহজ, ও দলিল ভিত্তিকভাবে প্রচার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

20/08/2026

"আল্লাহর যিকিরকারীদের তালিকায় তোমার নাম যখন ফেরেশতাদের কলমে লেখা হয় — সেই লিখন ধ্বনি যদি তুমি শুনতে পেতে,তাহলে আনন্দে মরে যেতে।”

- ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)

17/08/2026

“দৃষ্টির হিফাযত কেবল নাজায়েজ কিছু থেকে নয়, বরং জায়েজ বস্তু থেকেও করতে হয়”…

চমকে উঠলাম। জায়েয জিনিস থেকেও নজরের হিফাযত?? …

মাগরিবের পর মসজিদে বসা ছিলাম। মিম্বারের পাশে একজন বয়ষ্ক তাবলিগের মুরুব্বী বয়ান করছেন। কিছুটা দুরে থেকে তার বক্তব্যের এই অংশটা কানে আসতেই কান খাড়া হয়ে গেলো। তিনি ব্যাক্ষা দেয়ার জন্য একটু সময় নিয়ে বলতে শুরু করলেন,

দুনিয়াবী বিষয়গুলো নিয়ে যার ভেতর আকর্ষন এবং হীনমন্যতা বেশী কাজ করে, তার জন্য জরুরী এরকম ক্ষেত্রেও দৃষ্টির হিফাযত করা। যার লেটেস্ট মডেলের গাড়ীর প্রতি ফ্যাসিনেশন আছে, এরকম গাড়ি চোখে পড়লেই তার জন্য চোখ সরিয়ে নেয়া জরুরী। সুন্দর বাড়ী বা এপার্টমেন্ট, লেটেস্ট মডেলের মোবাইল ফোন বা আকর্ষণীয় কোন ড্রেস - যেগুলো দেখলে তার নিজের ভেতর আফসোস এবং আকর্ষণ তৈরি হয়, সে যেন এসব কিছু থেকেও দৃষ্টির হিফাযত করে।

আর এটা আমার কথা না। বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তার রাসুলকে এরকম আদেশ দিয়েছেন।

আবার অবাক হওয়ার পালা। এতক্ষন ভাবছিলাম, সাময়িক চিকিৎসা হিসেবে তিনি হয়তো নিজ থেকে এটা বললেন। কিন্তু এটা সরাসরি আল্লাহর আদেশ!! সত্যি!!

মুরুব্বী তিলাওয়াত শুরু করলেন,

وَلَا تَمُدَّنَّ عَیۡنَیۡکَ اِلٰی مَا مَتَّعۡنَا بِہٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡہُمۡ زَہۡرَۃَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۬ۙ لِنَفۡتِنَہُمۡ فِیۡہِ ؕ وَرِزۡقُ رَبِّکَ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی

হে নবী! তুমি পার্থিব জীবনের ওই চাকচিক্যের দিকে তাকিও না, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে সাময়িক উপভোগের জন্য দিয়ে রেখেছি, তা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। বস্তুত তোমার রব্বের রিযক সর্বাপেক্ষা উত্তম ও সর্বাধিক স্থায়ী। - (সুরা ত্বহা, আয়াত ১৩১)

দ্বীনি মজলিসের ফায়দা এটাই। কুরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত হয়েছে বহুবার। কিন্তু নিজের সাথে এভাবে ফিট করার সুযোগ…. আগে হয়নি কখনো!

- Rizwanul Kabir

14/08/2026

"জ্ঞানীর সাথে তর্ক করলে, তা আলোচনায় পরিণত হয়, আর মূর্খের সাথে আলোচনা করলে, তা ঝগড়ায় রূপ নেয়।"

- শায়খ ড. ইয়াসির আল-দোসারী (হাফি.)

ছয় দিন।একটা মা ডলফিন তার মরা বাচ্চাটাকে পিঠে নিয়ে ঘুরছিল ছয়টা দিন। ছেড়ে দিচ্ছিল না। মাঝে মাঝে বাচ্চাটা পানিতে পড়ে য...
06/08/2026

ছয় দিন।

একটা মা ডলফিন তার মরা বাচ্চাটাকে পিঠে নিয়ে ঘুরছিল ছয়টা দিন। ছেড়ে দিচ্ছিল না। মাঝে মাঝে বাচ্চাটা পানিতে পড়ে যাচ্ছিল। মা আবার ডুব দিয়ে তুলে আনছিল। বুকে চেপে ধরছিল। যেন ঘুমিয়ে আছে, যেন এক্ষুনি জেগে উঠবে।

বাচ্চাটার বয়স হয়েছিল মাত্র দুই সপ্তাহ।
আর এই মা এর আগেও বারবার সন্তান হারিয়েছে।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার শান্ত এক মোহনায় ড্রোনে ধরা পড়া এই দৃশ্যটা সারা পৃথিবী দেখেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন — এটা নিছক অভ্যাস নয়। এটা শোক। মায়ের মমতা মৃত্যুর পরও থামে না।

একটা কথা জানেন কি?

গবেষণা বলছে, ডলফিন কুড়ি বছর পরও একজন পুরোনো সঙ্গীর ডাক চিনে ফেলতে পারে। তার মানে এই মা তার হারানো বাচ্চাটার কথা কোনোদিন ভুলবে না। বছরের পর বছর মনে রাখবে।

ভাবতে পারেন? একটা প্রাণী, যার কোনো ভাষা নেই, কোনো নামাজ নেই, কোনো আখিরাতের হিসাব নেই — তার বুকেও আল্লাহ এত গভীর মমতা রেখে দিয়েছেন।
এই মমতাটা কোত্থেকে এলো?

মা ডলফিন নিজে বানায়নি। নিজে শেখেনি। এটা তার ভেতরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যিনি বসিয়েছেন, তিনি আর-রাহমান — পরম দয়াময়। সাগরের একটা প্রাণীর বুকে যিনি এত মায়া দিতে পারেন, তাঁর নিজের মায়াটা তাহলে কত গভীর?

এবার একটা হাদিস শুনুন। বুকে গেঁথে যাওয়ার মতো।

একবার কিছু যুদ্ধবন্দিকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে আনা হলো। তাদের মধ্যে এক মা ছিলেন, যিনি নিজের হারানো সন্তানকে খুঁজছিলেন। বুক দুধে ভরে উঠছিল। তিনি বন্দিদের ভেতর যে শিশুকেই পাচ্ছিলেন, বুকে চেপে ধরে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। তারপর তিনি নিজের হারানো সন্তানকে খুঁজে পেলেন। জড়িয়ে ধরলেন বুকের সাথে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন — "তোমরা কি মনে করো, এই মা তার সন্তানকে আগুনে ছুঁড়ে ফেলতে পারবে?"
সাহাবিরা বললেন — "না, কখনোই না। যদি ঠেকানোর সামান্যতম ক্ষমতাও তার থাকে।"
তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন —
"আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি এই মায়ের চেয়েও বেশি দয়ালু।"
(সহিহ বুখারি)

যে মা সন্তানকে আগুন থেকে বাঁচাতে নিজের জীবন দিয়ে দেবে — আল্লাহ আপনার প্রতি তার চেয়েও বেশি দয়ালু।
ডলফিন মা ছয় দিন মরা বাচ্চাকে ছাড়েনি। মানুষ মা সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে না। এগুলো তো আল্লাহর দয়ার একটা ছোট্ট প্রতিফলন মাত্র।

মূল উৎসটা তাহলে কত বিশাল?

আমরা ভাবি আল্লাহ বুঝি রাগ করে বসে আছেন। ভুল করলেই বুঝি শাস্তি। অথচ তিনি নিজেই লিখে রেখেছেন "নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়েছে"।
(সহিহ বুখারি)

আপনি যতবার ফিরে আসবেন, আর-রহমান ততবার বুকে টেনে নেবেন। একটা মা যেমন হারানো সন্তানকে খুঁজে পেয়ে আর ছাড়ে না — ঠিক তেমনি, তার চেয়েও গভীরভাবে।

গুনাহের বোঝা নিয়ে যে ভাবছেন "আমাকে দিয়ে আর হবে না" — একবার শুধু ফিরে দেখুন। যিনি ডলফিনের বুকে এত মমতা রেখেছেন, তিনি আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছেন। আল্লাহ সূরা আয-যুমারের ৫৩ নাম্বার আয়াতে বলেন,
"যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

আল্লাহ আমাদের তাঁর সেই অসীম দয়ার ছায়ায় জায়গা দিন। আর তাঁর রহমত থেকে কখনো নিরাশ না হওয়ার তাওফিক দিন।

আমীন।

লেখাঃ Abu MuHammad Rafiuzzaman

22/07/2026

‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন, 'আমি অমুককে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো।

তখন জিবরীল (আ.) তাঁকে ভালোবাসেন এবং আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন। ফলে আসমানের অধিবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। এরপর পৃথিবীতেও তার জন্য মানুষের অন্তরে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়।’

(সহীহ বুখারী: ৩২০৯, সহীহ মুসলিম: ২৬৩৭)

18/02/2026

জাস্ট একটা বিষয়ের ওপর আমল করেন, ইন শা আল্লাহ একটা ফলদায়ক ও আমলপূর্ণ রামদ্বান কাটাতে পারবেন। সেটা হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় যাবতীয় কাজ বর্জন করেন। কেবল দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকর কাজেই সময় ব্যয় করুন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ

❝ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় কাজ বর্জন করা।❞

[ ইমাম ইবনু মাজাহ (রাহ.), আস সুনান, হা: ৩৯৭৬, শাইখ আলবানীর রাহ. মতে সহীহ]

- শায়খ মনজুরুল করীম

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hizrat-আল্লাহর পথে posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Hizrat-আল্লাহর পথে:

Shortcuts

Share