01/07/2025
কারবালার ১০টি ভুল বোঝাবুঝি –
মিথ (কল্পকাহিনী) বনাম সত্য!
আশুরা এলেই কারবালাকে ঘিরে নানা কথা ও আবেগ দেখা যায়, যার অনেক কিছুই ইতিহাস ও হাদিসের সঙ্গে মেলে না। কারবালার ঘটনা হৃদয়বিদারক হলেও, একে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহু ভুল বোঝাবুঝি। চলুন, ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য জেনে নিই:
মিথ (১): কারবালার ঘটনা সুন্নি-শিয়া দ্বন্দ্ব
সত্য: এটি ছিল জুলুমের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই। হুসাইন (রা.) ছিলেন রাসুল (সা.)-এর নাতি ও সাহাবী, কোনো শিয়া নেতা নন। তিনি ইয়াজিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।
মিথ (২): আশুরার অর্থ শুধুই শোক
সত্য: আশুরা শুধু শোকের দিন নয়। এ দিন আল্লাহ্ তাআলা মূসা (আ.)-কে ফিরাউনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। আর এই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রাসুল (সা.) এ দিনে রোজা রাখতেন এবং বলেছেন যে আশুরার রোজা এক বছরের গুনাহ মাফ করিয়ে দেয়। (সহীহ মুসলিম: ১১৬২)
মিথ (৩): তাজিয়া বা শোক মিছিল ইসলামে আছে
সত্য: না। রাসুল (সা.) বা সাহাবীরা এভাবে শোক পালন করেননি। শরীর আঘাত করা বা উচ্চস্বরে কান্নাকাটি ইসলামে নিষিদ্ধ। (সহীহ বুখারী: ১২৯৪)
মিথ (৪): হুসাইন (রা.) শুধু শিয়াদের নেতা
সত্য: হুসাইন (রা.) সমগ্র উম্মাহর নেতা এবং রাসুল (সা.)-এর প্রিয় নাতি। রাসুল (সা.) বলেছেন, তিনি জান্নাতী যুবকদের সরদার। (সহীহ তিরমিযী: ৩৭৬৮)
মিথ (৫): কারবালায় রাসুল (সা.)-এর পরিবারের সবাই নিহত হয়েছিলেন
সত্য: না। ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর সাথীদের একটি অংশ শাহাদাতবরণ করেছিলেন, সবাই নন।
মিথ (৬): আশুরায় বিশেষ খাবার না রান্না করলে দুর্ভিক্ষ হয়
সত্য: এটি একটি কুসংস্কার। এমন কোনো সহীহ হাদিস নেই। পরিবারের জন্য খরচ করলে বরকত হয় বলা হলেও, আশুরাকে কেন্দ্র করে এটাকে আবশ্যক করা বিদআত।
মিথ (৭): আশুরার রাতে আকাশে রক্তের ছাপ দেখা যায়
সত্য: এটি বিভ্রান্ত কিছু গোষ্ঠী এবং কিছু লোকজ বিশ্বাস। এর কোনো সহীহ ভিত্তি নেই।
মিথ (৮): আশুরার রাতে মোম জ্বালানো, পানি বিতরণ ও কবর জিয়ারত বাধ্যতামূলক
সত্য: এগুলো রাসুল (সা.) বা সাহাবীদের আমল নয়। এসবকে আশুরা উপলক্ষে 'ফরজ বা সুন্নত' মনে করা বিদআত।
মিথ (৯): "ইয়া হুসাইন" বলে আহাজারি করলে গুনাহ দূর হয়
সত্য: দুআ সরাসরি আল্লাহর কাছে করতে হয়। কারও নামে সাহায্য চাওয়া শিরকের পর্যায়ে পড়তে পারে।
মিথ (১০): তাজিয়া মিছিলে অংশ নিলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়
সত্য: ইসলামে এমন বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। এটি একটি বিদআত এবং শিরকের কাছাকাছি ধারণা, যা শরিয়ত অনুমোদন করে না।
আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে বিশুদ্ধ ইসলাম জানার ও মানার তাওফীক দিক।