17/05/2026
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব ও আমল 🕋
ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে এমন কিছু বিশেষ সময় ও দিন রয়েছে, যেগুলোর মর্যাদা অন্য সাধারণ দিনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যে অন্যতম হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন। অনেকেই মনে করেন রমজান মাসের দিনগুলোই বছরের সেরা, তবে রাসুলুল্লাহ ﷺ জিলহজ মাসের এই দিনগুলোকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এই সময়ের ইবাদতকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।
📜 হাদিস:
হজরত ইবনু ‘আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ‘আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের ‘আমলই উত্তম নয়।"
তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, "জিহাদও কি (উত্তম) নয়?"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।"
— (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৯৬৯)
💡 হাদিসের গভীর শিক্ষা ও বিশ্লেষণ:
আমলের শ্রেষ্ঠ সময়: এই হাদিস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে যেকোনো নেক আমল (যেমন: নফল সালাত, যিকির, দান-সদকা, কুরআন তিলাওয়াত) আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয়।
জিহাদের চেয়েও উত্তম: ইসলামে জিহাদের মর্যাদা অনেক উঁচুতে। অথচ আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন, জিলহজের এই দশ দিনের সাধারণ আমলও সাধারণ সময়ের জিহাদের চেয়ে বেশি সওয়াবের। তবে যে ব্যক্তি জান-মাল নিয়ে গিয়ে শহীদ হয়ে যান, তার কথা ভিন্ন।
কেন এই দিনগুলো এত মর্যাদাপূর্ণ?: হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) বলেছেন, এই দিনগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে ইসলামের সব মৌলিক ইবাদতের সমাবেশ ঘটে। ঈমান, সালাত, সিয়াম (রোজা), সদকা এবং বিশেষ করে 'হজ'—যা বছরের অন্য কোনো সময়ে একসাথে পাওয়া যায় না।
তাকবীর ও যিকিরের গুরুত্ব: এই দিনগুলোতে বেশি বেশি 'আল্লাহু আকবার', 'আলহামদুলিল্লাহ' ও 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা সুন্নাহ।
🌟 আমাদের করণীয়:
জিলহজ মাস আমাদের সামনে চলে আসলে এই মূল্যবান সুযোগটি যেন আমরা হেলায় না হারাই। বিশেষ করে এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা, সম্ভব হলে ১ থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত রোজা রাখা ( আরাফার দিনের রোজা) এবং জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি করা পর্যন্ত নখ-চুল না কাটার সুন্নাহটি মেনে চলার চেষ্টা করা উচিত।