05/03/2026
মুফতি সাহেব দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। উনার জেলে থাকা অবস্থায় সাংবাদিক ইলিয়াস তাকে নিয়ে সর্বোচ্চ কথা বলেছেন। কিন্তু বাইরে এসে উনি কি সেই ব্যক্তিদের নিয়ে কথা বলেছেন, যারা তাকে ফাঁসিয়েছে অথবা যারা তাকে জেলে পাঠিয়েছে? তাদের নামে কি কোনো মামলা করেছেন?
উনি বড় বড় ফতোয়া দেন, আর বিভিন্ন কথার ছলে অহংকারের সহিত বলেন যে উনার পরিবার অনেক বড়, খানদানি ইত্যাদি। জনাব, এসব বলা ছাড়া কি কখনো জাতির জন্য কোনো উপকার করে ফেলেছেন?
স্বৈরাচার পালানোর পর উনি জামায়াতের বিরোধিতা ছাড়া আর কি কোনো মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন? উনিও জানেন, জামায়াতের বিরোধিতা করলে বাতিল ও ইসলামবিদ্বেষীরা উনাদের বাহবা দেবে—সেই খায়েশ তো আছেই।
উনি পুরো জাতিকে নিয়ে ইসলাম কায়েম করে ফেলবেন! আশ্চর্যের বিষয় হলো, জাতিকে নিয়ে ইসলাম কায়েমের দৃশ্যমান ভূমিকা আজ পর্যন্ত কী—সেটা দেখান তো? আমরাও আপনার পিছনে থাকতে চাই, কারণ আপনি অনেক জ্ঞানী মানুষ এবং বড় পরিবারের খানদানি মানুষ।
আপনি জামায়াতের বিরোধিতা ছাড়া আর কী যোগ্যতা রাখেন, মুহতারাম মুফতি ইজহার ভাই?
জামায়াতের বিরুদ্ধে রাম-বাম, ভারত, পশ্চিমা শক্তি, আমলা, বিএনপি, শাহবাগী, শফি সাহেব ও বায়তুল মোকাররমের খতিবসহ সবাই একজোট হয়েছেন। অর্থাৎ, আপনারা সবাই একদিকে আর জামায়াত অন্যদিকে।
তাহলে জামায়াত ঠেকাতে রাম-বামের জোটে থাকতে পারেন এবং জামায়াতবিরোধী জোটে ভোট দিতে বলেন—তখন আপনাদের আকিদাগত সমস্যা হয় না? যেখানে রাম-বাম নাস্তিকরাও ভোট দিতে বলে।
রাম-বাম নাস্তিক, পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষী ও ভারত যেখানে ভোট দিতে বলে, সেখানে আপনি এবং আপনার সমগোত্রীয়রা ভোট দিতে বলেন—তখন আকিদার সমস্যা হয় না?
জনাব, এখন ঐ দল ক্ষমতায়। তাদের সকল অপকর্মের ভাগিদার যেন আল্লাহ আপনাদেরও বানান, কারণ তাদের প্রতি আপনারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন।
আপনি পুরো জাতিকে নিয়ে দেশে ইসলাম কায়েম করবেন—তখন কি আপনাকে রাম-বাম নাস্তিক, বিএনপি, ভারত ও ইসলামবিদ্বেষীরা সাপোর্ট করবে? যদি না করে, তাহলে এখন কেন তাদের দলে আপনাদের ভোট দেওয়ার হুকুম গেল? কোন স্বার্থে? কার স্বার্থে?
আপনি কথায় কথায় বলেন, আপনার বিরুদ্ধে জামায়াত কী কী লিখেছে! আপনি কি জামায়াতের কোনো নেতাকে দেখাতে পারবেন, যে আপনার বিরুদ্ধে লিখেছে? পারবেন?
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত আইডি থেকে লিখে আপনাকে প্রশ্ন করে, সেটা আপনার ইগোতে লাগে, আর সেটাকে নিয়ে পুরো জামায়াতকে প্রশ্ন করেন—এটা তো ইনসাফ নয়। অথচ আপনি কথায় কথায় ইনসাফের কথা বলেন।
আপনি শুধু জামায়াতকে ইনসাফের খোঁটা দেন। অথচ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আপনার ভূমিকা কী? জাতি কী উপকার পেয়েছে? জামায়াতের বিরুদ্ধে ইনসাফের প্রশ্ন ছাড়া আর কিছুই তো বলতে পারেন না।
আমরা আপনার দৃশ্যমান খেলাফত কায়েমের প্র্যাকটিক্যাল ভূমিকা দেখতে চাই। আর সেটা যদি না দেখাতে পারেন, তাহলে আমরা ধরে নেব আপনি যে পুরো জাতিকে নিয়ে খেলাফত কায়েম করবেন বলেন—সেটা ফাঁকা আওয়াজ।
মুহতারাম, আপনার বিরোধিতা করা আমাদের কাজ নয়। কিন্তু আপনার অতিরিক্ত জামায়াতবিরোধী বেইনসাফি কথার বিরুদ্ধে লেখা দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়, তাই কিছু লিখলাম। নতুবা আপনার বিরুদ্ধে লেখার এত হ্যাডেক আমাদের নেই।
আপনাকে প্রশ্ন:
১. আপনাদের ফতোয়া জামায়াতবিরোধী হয়ে কোনো ইসলামপন্থীদের উপকার হয়েছে?
২. রাম-বাম ও প্রকাশ্য ইসলামবিদ্বেষীরা ভোট আসলে কেন আপনাদের প্রতি খুশি হয়ে যায়? প্রশ্ন হচ্ছে, সেই খুশি কি জামায়াতবিদ্বেষী হওয়ার জন্য? আর যদি সেটা হয়, তাহলে রাম-বামরা কাদেরকে তাদের থ্রেট মনে করে?
৩. আপনার ইসলাম কায়েমের ফর্মুলা জানতে চায় আমাদের মন। কিন্তু কী সেই ফর্মুলা? জাতি কেন জানে না? কোন পথে সেটা করবেন? শুধু জামায়াতের বিরোধিতা—সেই পথ?