21/05/2026
১৯৯৪ সাল, আফগানিস্তানে তখন বসন্ত চলছে। প্রতিবেশীরা মোল্লা মোহাম্মাদ ওমর এর কাছে এসে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা শোনাল যা আফগানিস্তানের দীর্ঘ ১৮ বছরের গৃহযু-দ্ধের নির্মম বাস্তবতার মাঝেও ছিল শিউরে ওঠার মতো।
মোল্লা ওমরের গ্রাম সিঙ্গেসার এর দুই কিশোরী মেয়েকে এক সশস্ত্র গোষ্ঠী অ-পহ-রণ করেছিল। সে সময় এসব সশস্ত্র যোদ্ধারা আফগান গ্রামাঞ্চলের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। এসব যোদ্ধারা মেয়ে দুটির মাথা ন্যাড়া করে দেয়। তাদেরকে নিয়ে যায় গ্রামের বাইরে একটি চেকপোস্টে। সেখানে তাদের ওপর চালানো হয় পাশ-বিক নি-র্যা-তন এবং ধ-র্ষ-ণ করা হয় বেশ কয়েকবার।
তখন মোল্লা ওমর ছিলেন অখ্যাত একজন মানুষ, সোভিয়েত দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যু-দ্ধ করা এক সাবেক গে-রি-লা কমান্ডার, যিনি পরে আফগানিস্তানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছড়িয়ে দেওয়া নৈ-রাজ্য, লুট-পাট ও স-ন্ত্রা-সে বিরক্ত ও হতাশ হয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছিলেন। তিনি তখন একজন তালিব বা ধর্মীয় ছাত্র হিসেবে একটি কাদামাটির দেয়ালঘেরা মাদ্রাসায় জীবন কাটাচ্ছিলেন, যেখানে দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় হতো কোরআন শিক্ষা ও হিফয করায়।
কিন্তু সেই দুই মেয়ের অসহায় আর্তনাদ তাকে নীরব থাকতে দেয়নি। তিনি ৩০ জন সাবেক গেরিলা যোদ্ধাকে একত্র করলেন। সবার কাছে মিলিয়ে ছিল মাত্র ১৬টি কালাশনিকভ রাইফেল। সেই সামান্য অস্ত্র নিয়েই তিনি ঐ চেকপোস্টে আ-ক্র-মণ চালান, মেয়ে দুটিকে উদ্ধার করেন এবং চেকপোস্ট কমান্ডারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে একটি পুরোনো সোভিয়েত ট্যাংকের কামানের নলের সঙ্গে বেঁধে দেন। চারপাশে তখন “আল্লাহু আকবার” ধ্বনি উঠছিল। মোল্লা ওমর নির্দেশ দেন ট্যাংকের কামানের নল ওপরে তুলতে, যেন ঝু-ল-ন্ত দেহটি হয়ে ওঠে অন্যায় ও বর্বরতার বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর সতর্কবার্তা।
সিঙ্গেসারের সেই ঘটনা আজ আফগান লোককাহিনির অংশ হয়ে গেছে। অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার মাত্র আড়াই বছরের মধ্যেই মোল্লা ওমর আফগানিস্তানের অধিকাংশ অঞ্চলের সর্বময় শাসকে পরিণত হন। ডান চোখ হারানো, ভারী গড়নের এই ৩৮ বছর বয়সী নেতাকে তার অনুসারীরা “আমিরুল মুমিনিন” নামে সম্বোধন করত।
তিনি তা-লি-বান নামের এক ইসলামি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। যা অল্পসময়ের মধ্যেই ১৯৯৬ সালে দখল করে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের মসনদ।
— Muslim Bongo