শ্রী শ্রী রাধা-গিরিধারী মন্দির, মাদারীপুর

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • শ্রী শ্রী রাধা-গিরিধারী মন্দির, মাদারীপুর

শ্রী শ্রী রাধা-গিরিধারী মন্দির, মাদারীপুর The Sri Sri Radha Giridhari Mandir in the close area of Pathak kandi,oldBus stand, Madaripur. He has coined the first p

Srila Prabhupada outlined four major phases for the overall preaching movement of Lord Caitanya, to which he gave specific names.

12/12/2025

🔴 জর্জ হ্যারিসন কিভাবে কৃষ্ণভক্তে পরিণত হন! জর্জ হ্যারিসন, ISKCON এবং বাংলাদেশ, ইতিহাস কি বলে?

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জর্জ হ্যারিসন এবং ইস্কনের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জনগণ ব্যাপক মানবিক সংকটের সম্মুখীন হয়। এই সময়ে জর্জ হ্যারিসন মানবিক সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন।

ইস্কন (ISKCON) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের সদস্যরাও বাংলাদেশে সংঘটিত মানবিক সংকটের সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তারা ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং শরণার্থীদের সহায়তা প্রদান করেন। ইস্কনের প্রতিষ্ঠাতা, ভক্তিবেদান্ত স্বামী শ্রীল প্রভুপাদ, মানব সেবাকে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে দেখতেন। তার শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ইস্কনের সদস্যরা শরণার্থী শিবিরগুলোতে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করতেন এবং অদ্যাবধি করেই চলছেন, যা বাংলাদেশ সহ বিশ্বে এযাবতকাল যতবার মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে ততবারই তারা সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্ধশতাধিক বছর পরে এসেও এক অপ্রমাণিত কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ISKCON কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবী জানায়।

যে সংঘের সাথে আধ্যাত্মিকতা চর্চায় যুক্ত ছিলেন জর্জ হ্যারিসনের মতো ব্যক্তিত্ব। জর্জ হ্যারিসন মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন।
যেই ইস্কনের একজন মহান ভগবদ্ভক্ত “জর্জ হ্যারিসন” (George Harrison) যিঁনি ১৯৭১ সালে বব ডিলানের সাথে মিলে বাংলাদেশের জনগণের সহায়তায় “ Concert for Bangladesh” আয়োজন করেন, যা ছিল বিশ্বের প্রথম বৃহৎ দাতব্য কনসার্ট। এটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জনগণের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ এবং বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি এই মানবতার শিক্ষা পেয়েছেন তাঁর প্রাণের সংঘ (ISKCON) থেকে, তার আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীল প্রভুপাদ এর থেকে ।
★ সেই ইস্কনকে কোনোরূপ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ধর্মান্ধের মতো বাংলাদেশে নিষিদ্ধের দাবী জানানো মূর্খামি ও উগ্রতা ছাড়া আর কি?

আপনি জেনে বিস্মিত হবেন ইস্কনের শুরুর সময় হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত “ISKCON Food for Life” প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাব কবলিত এলাকাসহ সর্বত্র সুষম খাদ্য বিতরণ করে থাকেন, যা জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত এবং সভ্য সমাজে ব্যপকভাবে সমাদৃত।

জর্জ হ্যারিসন ইস্কন (ISKCON) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের সাথে পরিচিত হন এবং এটি তার আধ্যাত্মিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

হ্যারিসন ভক্তিবেদান্ত স্বামী শ্রীল প্রভুপাদের লেখা গ্রন্থ সমূহ এবং ভক্তিমূলক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে কৃষ্ণভক্তিতে আকৃষ্ট হন। তিনি ইস্কন আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন মানবিক এবং সাংস্কৃতিক উদ্যোগে সহায়তা করেছিলেন। তার বিখ্যাত গান “My Sweet Lord” পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি তাঁর ভক্তি ও ভালোবাসার প্রতিফলন। এছাড়া তিনি ইস্কনের বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং ভক্তিগীতি “Hare Krishna Mantra” রেকর্ডিং ও জনপ্রিয় করার মাধ্যমে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করেন।

জর্জ হ্যারিসনের সহায়তায় নিজ বাড়িতেই ১৯৭৩ সালে লন্ডনে ইস্কনের বিখ্যাত ভক্তিবেদান্ত ম্যানর (ভক্তি মন্দির) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এখনও কৃষ্ণভক্তি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

⚫ জর্জ হ্যারিসন এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:
জর্জ হ্যারিসন (২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ – ২৯ নভেম্বর ২০০১) ছিলেন বিখ্যাত ইংরেজ সংগীতশিল্পী, গীতিকার, গিটারিস্ট এবং প্রযোজক, যিনি বিটলস্ ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিটলস্ ছিল ২০শ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী রক ব্যান্ড।

জর্জ হ্যারিসন ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে সংগীতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং কিশোর বয়সেই গিটার বাজানো শিখতে শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি জন লেনন এবং পল ম্যাকার্টনির সাথে বিটলসে যোগ দেন, যেখানে রিঙ্গো স্টারও পরবর্তীতে যোগ দেন। বিটলসে হ্যারিসন মূলত প্রধান গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং দলের অন্যান্য সদস্যদের মতো সংগীত রচনা করতেন। তার রচিত বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো "Here Comes the Sun," "Something," এবং "While My Guitar Gently Weeps"। এই গানগুলো তার সংগীত প্রতিভা এবং দার্শনিক ভাবনার পরিচয় বহন করে। জর্জ হ্যারিসন ভারতীয় সংগীত এবং সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। এই আগ্রহের কারণেই তিনি সেতার বাজানো শেখেন এবং রবি শঙ্করের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার এই প্রভাব বিটলসের কিছু গানে যেমন "Within You Without You" এ প্রতিফলিত হয়েছে।

বিটলসের ভাঙনের পর, জর্জ হ্যারিসন একক ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেন। ১৯৭০ সালে তার একক অ্যালবাম All Things Must Pass প্রকাশিত হয়, যা ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। এই অ্যালবামের বিখ্যাত গান "My Sweet Lord" তাকে প্রথম একক ব্রিটিশ শিল্পী হিসেবে মার্কিন চার্টের শীর্ষে স্থান দেয়।

এজগত ত্যাগ করার পরেও তিনি তার সংগীত এবং মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্মরণীয় হয়ে আছেন।
হ্যারিসন ছিলেন একাধারে সংগীতজ্ঞ, দার্শনিক এবং মানবতাবাদী। তার সৃজনশীল কাজ এবং ভারতীয় সংগীত ও আধ্যাত্মিকতার সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি সংগীতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।

।। হরেকৃষ্ণ ।।
উপস্থাপনায়: প্রবীর চৈতন্য চন্দ্র দাস।

12/12/2025

কোন মাংস নেই‼
নৈশভোজে পুতিন যা যা খেল...

ঝোল মোমো
মুরুঙ্গলাই চারু স্যুপ (বা দক্ষিণ ভারতীয় রসম স্যুপ)
গুচি দুন চেতিন (বা আখরোট চাটনি সহ মাশরুমের পুর)
কালো ছোলার শিকমপুরী কাবাব
জাফরানি পনীর রোল
পালং মেথি মটর শাকের তরকারি
তন্দুরি পুর ভরা আলু
আচারি বেগুন
হলুদ ডাল ভাজা (বা মসুর/মুগ ডাল ভাজা)
বাদাম ও জাফরান পোলাও
লাচ্ছা পরোটা
সাতানাজ রুটি
মিসি রুটি
বিস্কুটি রুটি
বাদামের হালুয়া
কেশর-পেস্তা কুলফি
গুড়ের সন্দেশ
মুরুক্কু
ডাল ভাজা
নানান ধরনের আচার

ফলের ফ্রেশ জুস (যেমন: ডালিম, কমলা, গাজর ও আদার রস)
সূত্র: এনডিটিভি

19/10/2025
06/10/2025

‼️♻️ দামোদর মাস ব্রত ♻️‼️
✨ সনাতন ধর্মে কার্তিক মাস সর্বাধিক পূণ্যপ্রদ ও ভগবান শ্রীশ্রীদামোদরের প্রিয় মাস। এই মাসে পালনীয় ব্রত, উপবাস, দীপদান, তুলসী পূজা, দামোদরাষ্টকম পাঠ ও বৈষ্ণব সেবা জীবনে অশেষ কল্যাণ ও মুক্তিদায়িনী। শাস্ত্রে বলা হয়েছে— কার্তিক মাসে ভগবান শ্রীদামোদরের একবার নাম উচ্চারণও অগণিত জন্মের পাপ নাশ করে।
🪔 ২০২৫ সালে দামোদর (কার্তিক) মাস শুরু হবে ৮ অক্টোবর থেকে এবং শেষ হবে ৫ নভেম্বর। এবং ব্রত শুরু হবে ৭ অক্টোবর থেকে। দীপ দান এই দিন থেকেই করণীয়‌।
এই সময়ে পালনীয় ব্রত-বিধান, গ্রহণীয় ও বর্জনীয় বিষয়, সংকল্প ও অর্ঘ্যমন্ত্র, এবং প্রতিদিনের করণীয় নিচে তুলে ধরা হলো।
💫দামোদর মাসে ব্রত পালনের বিধিসমূহ🔰
কার্তিক মাসে প্রতিদিন ভোরে ব্রাহ্মমুহূর্তে উঠে শুচি হয়ে স্নান করতে হয়। স্নানের সময় হাতে অল্প জল ও তুলসীপাতা নিয়ে সংকল্প মন্ত্র পাঠ করে ভগবান শ্রীদামোদরের উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হয়।
সংকল্প মন্ত্র হলো—
কার্তিকে’হং করিষ্যামি প্রাতঃস্নানং জনার্দন।
প্রীত্যর্থং তব দেবেশ দামোদর ময়া সহ॥
“হে জনার্দন, হে দেবেশ, হে দামোদর, আমি শ্রীরাধিকার সঙ্গে আপনার প্রীতির জন্য কার্তিক মাসে প্রতিদিন প্রাতঃস্নান করব”। তোমার প্রীতি অর্জনের উদ্দেশ্যে রাধিকা সহ আমি এই ব্রতের সংকল্প করছি।
স্নান শেষে পূজামণ্ডপে বা তুলসীমঞ্চে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হয়।
অর্ঘ্য মন্ত্র হলো—
কার্তিকে স্নানমাচরন দামোদর জনার্দন।
অর্ঘ্যং তে প্রতিগৃহ্ণীষ্ব দিত্যেন্দ্রনিসূদন॥
“হে দামোদর, হে দনুজেন্দ্রনিসূদন, আমি কার্তিক মাসে বিধিপূর্বক স্নান করেছি, আমার প্রদত্ত এই অর্ঘ্য গ্রহণ করো”।
এরপর তুলসী, ফুল, ধান, প্রদীপ দিয়ে ভগবানকে পূজা করতে হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তুলসীমঞ্চে বা আকাশদীপ জ্বালানো, দামোদরাষ্টকম পাঠ এবং ভগবানের নামসংকীর্তন করা বিশেষভাবে ফলদায়ক।
👉 এইভাবে প্রতিদিন ভগবান শ্রীদামোদরের সেবায় থাকাই কার্তিক ব্রতের মূল করণীয়।
পদ্মপুরাণে ব্রহ্ম-নারদ সংবাদে বলা হচ্ছে-
❌ দামোদর (কার্তিক) মাসে বর্জনীয়
১. কার্তিক মাসে রাজমাষ (বরবটি) ও শিমসমূহ ভক্ষণ করলে, হে মুনিবর কল্পকাল (১ হাজার চতুর্যুগ) নরকাবাসী হয়।
২. কার্তিক মাসে যে ব্যক্তি কলমী শাক, পটল, বেগুন, আচার (চাটনি) ত্যাগ না করে, তাকে কল্পকাল (১ হাজার চতুর্যুগ) নরকবাসী হতে হয়।
৩. ধর্মাত্মা ব্যক্তি কার্তিক মাসে মৎস্য ও মাংস ভক্ষণ করবেন না।
৪. পরান্ন, পরশয্যা, পরধন, পরস্ত্রী-কার্তিককে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বিশেষভাবে বর্জন করবেন।
৫. কার্তিক মাসে তৈল মর্দন, শয্যা, পরান্ন ও কাসার পাত্রে ভোজন ত্যাগ করলে পরিপূর্ণ ব্রতী হওয়া যায়।
৬. কার্তিক মাস উপস্থিত হলে পরান্ন দর্শন করে যে মানব বর্জন করে, প্রতিদিন কৃচ্ছব্রতের ফল প্রাপ্ত হন।
পদ্মপুরাণে শ্রীরুক্মাঙ্গদ-মোহিনী-সংবাদে বলা হচ্ছে-
৭. কার্তিকে তৈল, মধু, কাসার পাত্র ও পঁচা বাসি অম্ল দ্রব্য, আচার ইত্যাদি বর্জন করবে।
৮. হে সুভ্রু! মৎস্য, কচ্ছপ মাংস ঔষধ হিসেবেও অন্য মাংস ভক্ষণ করবে না। কার্তিকে মাংস ভক্ষণে চণ্ডাল হয়।
🔰 দামোদর মাসের মাহাত্ম্য 🔰
✅ যে কোনও দেশে কার্তিকে স্নান ও দান বিশেষতঃ পূজাতে তা অগ্নিহোত্র সমফল।
✅ কুরুক্ষেত্রে কোটিগুণ ফল, গঙ্গায়ও তৎসম ফল, তার থকে অধিক পুস্করে, হে ভার্গব! দ্বারকায়ও অধিক। কার্তিক মাসে স্নানও শ্রীভগবৎপূজন শ্রীকৃষ্ণসালোক্যপ্রদ।
✅ হে মুনিগণ! মথুরা ব্যতীত, অন্যপুরী সকল তার সমান, যেহেতু মথুরা-মণ্ডলেই শ্রীহরির দামোদর লীলা প্রকট হয়েছিল।
অতএব কার্তিকে মথুরায় শ্রীগোবিন্দের প্রীতিবর্দ্ধন, কার্তিকে মথুরাতেই চরম ফল প্রাপ্তি হয়।
যেমন মাঘে প্রয়াগতীর্থ, বৈশাখে জাহ্নবী, কার্তিকে মথুরা সেবা তা থেকে উৎকর্ষ আর নাই।
কার্তিকে মথুরাতে মানবগণ স্নান করে দামোদরের পূজা করলে তারা কৃষ্ণসারূপ্য প্রাপ্ত জানবেন, এ বিষয়ে বিচার কর্তব্য নয়।
হে বিপ্র! এই জগতে মানবগণের পক্ষে মথুরাতে কার্তিক মাস দুর্লভ। যেখানে পূজিত হয়ে দামোদর নিজরূপ ভক্তগণকে প্রদান করেন।
✅ শ্রীহরি অর্চিত হয়ে অন্যত্র সেবিত ভক্তগণকে ভুক্তি মুক্তি দান করেন, এই শ্রীহরি কিন্ত ভক্তি দান করেন না, যেহেতু শ্রীহরির বশ্যকারী।
✅ কার্তিকে মথুরা-মণ্ডলে একবারও শ্রীদামোদরের পূজা থেকে সেই ভক্তি কিন্তু অনায়াসে মানবগণ শ্রীহরি হতে লাভ করে।
শ্রীদামোদরদেব কার্তিকে মথুরা-মণ্ডলে মন্ত্র-দ্রব-বিহীন পূজাকেও স্বীকার করেন।
যে পাপের মরণান্তেই বিনিষ্কৃতি হয় তার শুদ্ধির জন্য কার্তিক মাসে মথুরাপুরীতে হরিপূজাই সুনিশ্চয়, এই প্রায়শ্চিত্ত শাস্ত্রে উক্ত হয়েছেন।
✅ বালক ধ্রুব কার্তিকে মথুরা-মণ্ডলে শ্রীদামোদরের পূজা ও ধ্যান দ্বারা যোগিগণ দুর্লভ শ্রীভগবানকে শীঘ্র দর্শন প্রাপ্ত হয়েছিলেন। পৃথিবীতে মথুরা সুলভা, সেই রকম প্রতিবছর কার্তিক মাস সুলভ, তথাপি এই জগতে মূঢ় মানবগণ ভবসমুদ্রে জন্ম-মৃত্যু প্রবাহে ভাসছে।
✅ যজ্ঞসমূহের কি প্রয়োজন, তপস্যার কি প্রয়োজন, অন্য তীর্থসমূহের সেবাতে কি প্রয়োজন? যদি কার্তিকে মথুরা-মণ্ডলে শ্রীরাধিকা প্রিয় শ্রীদামোদরের অর্চিত হন।
✅ সকল পবিত্র তীর্থ, নদ-নদী, সরোবর কার্তিক মাসে এই মথুরা-মণ্ডলে সকলেই বাস করেন।
✅ কার্তিকে কেশবদেবের জন্মস্থানে যে মানবগণ একবার প্রবিষ্ট হয়, তারা পরম অব্যয় শ্রীকৃষ্ণকে প্রাপ্ত হন।
✅ কার্তিক মাসে মথুরাতে হরিপূজাকের উপহার উদ্দেশ্যে হরিপূজা দ্বারা দুর্লভ পদ প্রাপ্ত হওয়া যায়, তখন ভক্তিমান হয়ে পূজা করলে যে কি ফল, তার আর কি বলব।
‼️🔰 কার্তিক-কৃত্য-বিধি 🔰‼️
১. আশ্বিন মাসের যে শুক্লা একাদশী হবে বা পূর্ণিমাতে, নিরলসভাবে কার্তিক মাসের ব্রতসমূহ ঐ দিন হতে আরম্ভ করবে।
২. নিত্য শ্রীভগবানকে জাগরণ করাবার জন্য রাত্রির শেষ প্রহরে উঠে শুচি হয়ে শ্রীভগবানকে জাগিয়ে অনন্তর স্তোত্র পাঠসহ প্রভুর আরতি করবে।
৩. বৈষ্ণববৃন্দসহ আনন্দে বৈষ্ণবধর্মসমূহ শ্রবণ করে গীতবাদ্যাদিসহ প্রাতঃকালে প্রভু দামোদরদেবকে আরতি করবে।
৪. নদী আদি জলাশয়ে গিয়ে আচমনপূর্বক সংকল্প করবে। প্রভুকে প্রার্থনা জানিয়ে পরে তাঁকে যথাবিধি অর্ঘ্যদান করবে।
৫. সংকল্পমন্ত্র- হে জনার্দন! হে দেবেশ! হে দামোদর! শ্রীরাধিকাসহ আপনার প্রীতির জন্য কার্তিকে আমি প্রাতঃস্নান করব।
৬. প্রার্থনা মন্ত্র- হে দেবেশ! তোমার ধ্যানসহ এই জলে আমি স্নান করতে উদ্যত, হে দামোদর! তোমার প্রসাদে আমার পাপ বিনাশ যাক।
৭. অর্ঘ্যমন্ত্র-আমি কার্তিক মাসে বিধিবৎ স্নানকারী, হে দামোদর! হে দনুজেন্দ্রনিসূদন আমার প্রদত্ত অর্ঘ্য গ্রহণ কর।
৮. নিজদেহকে তিলকদ্বারা লেপন করে শ্রীকৃষ্ণ নারায়াণাদি নাম উচ্চারণ পূর্বক স্নান করে নিজ বিধিমতে সন্ধ্যা উপাসনা করে গৃহে আগমন করবে।
৯. দেবমন্দির অগ্রে মার্জনা করে স্বস্তিকমণ্ডল রচনা করে প্রভুকে তুলসী, মালতী, পদ্ম, অগস্ত (বক) পষ্পাদি দ্বারা অর্চনা করবে।
১০. নিত্য বৈষ্ণব সঙ্গে ভগবৎ কথা সেবন, অহোরাত্র ঘৃত, দীপ বা তিল দ্বারা অর্চন করবে।
১১. কার্তিক মাসে বিশেষ বিশেষ নৈবেদ্য অর্পন করবে, সেই রকম অষ্টোত্তর শত প্রণাম, যথাশক্তি একবার আহারাদি ব্রত আচরণ করবেন।
পদ্মপুরাণে কার্তিক প্রসঙ্গে
১২. প্রাতঃকালে উত্থান শৌচাদি করে পবিত্র জলাশয়ে গিয়ে বিধিবৎ স্নান, অতপর দামোদর অর্চন কর্তব্য।
১৩. কার্তিক ব্রতধারী মৌন অবলম্বনে ভোজন, ঘৃত দ্বারা বা তিল তৈল দ্বারা দীপাদান কর্তব্য।
১৪. বৈষ্ণববৃন্দসহ কৃষ্ণকথা আলাপ দ্বারা দিন যাপন, কার্তিক মাসে ব্রত সংকল্প পালন।
১৫. আশ্বিনে শুক্লপক্ষের হরিবাসরে আরম্ভ, অথবা পৌর্ণমাসি হতে অথবা তুলারাশি আগমে সংক্রান্তিতে আরম্ভ।
১৬. শ্রীবিষ্ণুর নিকট অখণ্ড দীপদান, দেবালয়ে, তুলসীতে, আকাশে উত্তম দীপ দান করবেন।
১৭. হে ভাবিনি! কার্তিকমাসে কার্তিকব্রত গৃহে করবে না, বিশেষতঃ তীর্থে কার্তিকব্রত সর্বপ্রযত্নে করবে।
⭕ শ্রীরাধাদামোদর-পূজাবিধি ⭕
১. শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তমা, পোপিকাগণ মধ্যে শ্রেষ্ঠা, কার্তিকে শ্রীদামোদর নিকটে শ্রীরাধিকার পূজা করা উচিত।
২. ব্রজবাসী ব্রাহ্মণ এবং তৎপত্নীকে বস্ত্র, অলঙ্কার ও ভোজনাদি দান দ্বারা পূজা করা কর্তব্য।
৩. হে বিপ্রগণ! কার্তিকে শ্রীরাধিকার সন্তোষের জন্য যিনি শ্রীরাধিকা প্রতিমাকে পূজা করে তার প্রতি শ্রীমান্ দামোদর হরি তুষ্ট হন।
৪. কার্তিকে প্রতিদিন ‘দামোদরাষ্টকম্’ নামক স্তোত্র (সত্যব্রত মুনি কথিত) পাঠ করবে, তা দামোদরের অর্চন স্বরূপ ও শ্রীদামোদরের আকর্ষণকারী।
দীপদান’ এবং ‘আকাশ দীপ’ এর মহিমা!
স্কন্দপুরাণে পূর্বকালে দ্রাবিড়দেশে বুদ্ধ নামে এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ছিল খুবই দুষ্টা প্রকৃতির এবং দুরাচার সম্পন্না। ঐ স্ত্রীর সংসর্গে থাকার ফলে ব্রাহ্মণের আয়ু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হলেন। পতির মৃত্যুর পরেও ঐ স্ত্রীলোকটি আরও বিশেষভাবে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো।
এমনকি লোকনিন্দার ভয় না করে সে নির্লজ্জের মতো ব্যবহার করতে লাগল। তার কোনো পুত্র বা ভাই ছিল না। সে সর্বদাই ভিক্ষার অন্ন ভোজন করত। নিজের হাতে প্রস্তুত না করে সর্বদাই ভিক্ষার অন্ন ভোজন করত। নিজের হাতে প্রস্তুত না করে সর্বদাই পরের বাড়ি থেকে ভিক্ষা করে বাসি অন্ন খেত এবং অনেক সময় অপরের বাড়িতে রান্না করতে যেত।
তীর্থযাত্রা আদি থেকে সর্বদাই দুরে থাকত। সে কখনও কোনো ভালো কথায় কর্ণপাত করত না।
একদিন এক বিদ্ধান তীর্থযাত্রী ব্রাহ্মণ তার গৃহে আগমন করল। যার নাম ছিল কুৎস। তাকে (ঐ স্ত্রীকে) ব্যভিচারে আসক্ত দেখে সেই ব্রহ্মর্ষি কুৎস বললেন-
ওরে মুর্খ নারী! মনোযোগে সহকারে আমার কথা শ্রবণ কর। পৃথ্বি আদি পঞ্চভূত দ্বারা তৈরী এই রক্তমাংসের শরীর, যা কেবল দুঃখেরই কারণ, তুই তাকে যত্ন করছিস? এই দেহ জলের বুদবুদের মতো, একদিন যা অবশ্যই বিনষ্ট হবে। এই অনিত্য শরীরকে যদি তুই নিজ বলে মানিস্ তাহলে নিজের বিচার পূর্বক এই মোহ পরিত্যাগ কর।
ভগবান বিষ্ণুকে স্মরণ কর এবং তাঁর লীলাকাহিনী শ্রবণ কর। এখন কার্তিক মাস আগত হবে, তখন ভগবান দামোদরের প্রীতি বিধানের জন্য, স্নান, দান আদি কর্ম করে গৃহে বা মন্দিরে বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে দীপ নিবেদন করে শ্রীবিষ্ণুকে পরিক্রমা করবে এবং তাঁকে প্রণাম করবে। এই ব্রত বিধবা এবং সৌভাগ্যবতী নারী উভয়েরই অবশ্য পালনীয়। যার ফলে সমস্ত প্রকারের পাপের শাস্তি তথা সকল উপদ্রব নষ্ট হয়।
কার্তিক মাসে দীপদান নিশ্চিতরূপে ভগবান বিষ্ণুর প্রীতি বর্ধন করে। এই কথা বলে ব্রাহ্মণ কুৎস অপর একটি গৃহে গমন করলেন। তখন ঐ ব্রাহ্মণী ব্রহ্মর্ষি কুৎসের এই রকম উপদেশ শ্রবণ করে নিজ কর্মের জন্য অনুতাপ করতে লাগল এবং সে স্থির করল যে সে অবশ্যই কার্তিক মাসে এই ব্রত পালন করবে।
তারপর যখন কার্তিক মাস আগত হলো তখন সে পুরো মাস সূর্যোদয়ের সময় প্রাতঃস্নান তথা বিষ্ণুকে দীপদান সহ নিষ্ঠা সহকারে এই ব্রত পালন করল। তারপর কিছুকাল বাদে আয়ু শেষ হলে তার মৃত্যু হলো। তখন সে স্বর্গলোকে গমন করল এবং পরে মুক্তি লাভ করল। সে সমস্ত মানুষ কার্তিক ব্রত পালন ও দীপদান আদি সম্পন্ন করে তারা যদি এই ইতিহাস শ্রবণ করে তাহলে তারাও মোক্ষ লাভ করে।
ব্রহ্মা এরপর বললেন- নারদ! এখন আকাশ দীপের মহিমা শ্রবণ কর। কার্তিক মাস আগত হলে যিনি নিয়মিত ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নান করে আকাশদীপ দান করেন তিনি সমস্ত লোকের প্রভু এবং অন্তে মোক্ষ লাভ করেন। এই জন্য কার্তিক মাসে স্নান, দান আদি কর্ম করার সাথে সাথে ভগবান বিষ্ণুর মন্দিরে এই একমাস দীপদান করা অবশ্য কর্তব্য।
মহারাজ সুনন্দ চন্দ্রশর্মা নাম ব্রাহ্মণের পরামর্শ অনুসারে এই একমাস বিধিপূর্বক ব্রত অনুষ্ঠান করেছিলেন। কার্তিক মাসে প্রতিদিন প্রাতঃস্নান করে পবিত্র হয়ে কোমল তুলসীদল দ্বারা ভগবান বিষ্ণুর পূজা এবং রাত্রিতে আকাশ দীপ দিতেন। দীপ প্রদানের সময় তিনি এই মন্ত্র পাঠ করতেন-
দামোদরায় বিশ্বাস বিশ্বরূপধরায় চ।
নমস্কৃত্যা প্রদাস্যামি ব্যোমদীপং হরিপ্রিয়ম্॥
🙏♻️...হরিবোল....♻️🙏
#

17 ই সেপ্টেম্বর ২০২৫। বিশ্ব হরিনাম দিবস ও ভক্তিচারু স্বামী গুরু মহারাজের আবির্ভাব অনুষ্ঠান 🙏🙏🙏
20/09/2025

17 ই সেপ্টেম্বর ২০২৫। বিশ্ব হরিনাম দিবস ও ভক্তিচারু স্বামী গুরু মহারাজের আবির্ভাব অনুষ্ঠান 🙏🙏🙏

20/09/2025

#তর্পণ কি ? তর্পণ কেন করা হয় ?
পিতৃ তর্পন কি? কখন থেকে শুরু? কেন? কিভাবে পালনীয় বা করণীয়? পিতৃতর্পণের ঐতিহাসিক উৎস ও সূত্রপাত এবং মহালয়া ভোরে তর্পণ করার তাৎপর্য কি

পিতৃ তর্পণ হচ্ছে পূর্বপুরুষদের আত্মার তৃপ্তি ও শান্তির জন্য জল (প্রসাধরভাবে তিল সহযোগে) নিবেদন করার ধর্মীয় রীতি, যা সাধারণত আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষ বা পিতৃপক্ষে পালন করা হয়।

তর্পণ কি?
তর্পণ হলো দেবতা, ঋষি, এবং মৃত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল ও তিল নিবেদন করে তাঁদের সন্তুষ্ট করার বৈদিক পদ্ধতি। 'তর্পণ' শব্দের অর্থই হলো 'তৃপ্তি' — পূর্বপুরুষদের আত্মা যাতে সন্তুষ্ট হয় সেই অভিপ্রায়ে তর্পণ করা হয়।

কখন থেকে শুরু?
পিতৃপক্ষ, অর্থাৎ আশ্বিন মাসের (চান্দ্রপঞ্জিকা) কৃষ্ণপক্ষের প্রথম দিন (পূর্ণিমা/প্রতিপদ) থেকে শুরু হয়ে অমাবস্যা/মহালয়া পর্যন্ত চলে। ২০২৫ সালে পিতৃপক্ষ ৭ সেপ্টেম্বর (পূর্ণিমা/প্রতিপদ) থেকে শুরু অর্থাৎ আজ থেকে শুরু হয়েছে এবং ২১ সেপ্টেম্বর (অমাবস্যা/মহালয়া) পর্যন্ত চলবে।

কেন পালনীয়?
ধারণা করা হয়, এই সময় পূর্বপুরুষদের আত্মা মর্ত্যলোকে আসেন এবং তাঁদের সন্তুষ্টির জন্য তর্পণ, শ্রাদ্ধ, এবং দান কৃত্য অত্যন্ত ফলদায়ক। তর্পণ করলে জীবিতদের উপর পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ বর্তায়, জীবনে শান্তি, সাফল্য, এবং পরিবারের কল্যাণ ঘটে।

কিভাবে পালনীয়?
পুত্র বা যোগ্য পুরুষসন্তান বা প্রয়োজনীয় পূজারী (ব্রাহ্মণ) গঙ্গাজল/পবিত্র জল, কালো তিল, বরই/বার্লি, তুলসী পাতা, এবং নির্দিষ্ট তর্পণ মন্ত্রসহ তর্পণ করেন।

অভিপ্রেত দিন (মৃত্যুতিথি বা সর্বপিতৃ অমাবস্যা) সকালবেলা পূর্ব/দক্ষিণ দিকে মুখ করে তর্পণ করতে হয়।

প্রথমে আচমন এবং পরিষ্কার কাপড় পরিধান করতে হয়। এরপর জল, তিল, তুলসী সহ বিশেষ মন্ত্র উচ্চারণ করে ভক্তির সাথে নিবেদন করতে হয়।

তর্পণ শেষে ব্রাহ্মণ/গরীবদের দক্ষিণা ও ভোজন, কাক–কুকুরকে খাদ্য দান, পাঠ–জপ–দান ইত্যাদি করা সমাদৃত।

পিতৃতর্পণের ঐতিহাসিক উৎস ও সূত্রপাত :
পিতৃতর্পণের ঐতিহাসিক উৎস প্রাচীন বৈদিক যুগ ও পুরাণসম্মত কাহিনীর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তর্পণ কেবল ধর্মীয় নির্দেশই নয়, পূর্বপুরুষ স্মরণ ও তাঁদের সন্তুষ্টির জন্য মানবসমাজে বিশেষ মর্যাদাস্বরূপ।

বৈদিক ও পুরাণিক উৎস :
তর্পণ শব্দ আসে 'তৃপ' ধাতু থেকে, যার অর্থ 'তৃপ্তি'—এ দ্বারা দেবতা, ঋষি ও পূর্বপুরুষদের প্রশান্তি ও সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা বোঝানো হয়।

বৃহৎ ধর্মপুরাণ, বায়ুপুরাণ, স্কন্দপুরাণ, গয়া মাহাত্ম্য-সহ একাধিক পুরাণ গ্রন্থে তর্পণের গুরুত্ব ও বিধান রয়েছে।

হিন্দু শাস্ত্রে “পিতৃদেবো ভব” উপমা—পিতা ও মাতার দেবতারূপে পূজা ও স্মরণ তর্পণ উৎসের মূল কথা।

ঐতিহাসিক সূত্রপাত — মহাভারত ও রামায়ণ
মহাভারতে কর্ণের গল্পে, তিনি স্বর্গে গিয়েও অন্নজল না পেয়ে ফিরে এসে পিতৃপক্ষে এক পক্ষকাল ধরে পূর্বপুরুষকে অন্নজল দান করেন; এখান থেকেই "পিতৃপক্ষ" ও তর্পণের মূল প্রতিপত্তি।

রামায়ণে, শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কা বিজয়ের পূর্বে দেবী দুর্গার অকালবোধন এবং পূর্বপুরুষদের তর্পণ করেছিলেন—এই দিনের স্মৃতি থেকে ‘মহালয়া’ ও তর্পণ রীতির উৎপত্তি।

সূত্র ও শাস্ত্রীয় বিধান :
সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষের সূচনা এবং পিতৃদেবতা গৃহে আগমন করেন—তখনই তর্পণ পালনের উদ্ভব।

ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ আছে, পিতৃগণ শ্রাদ্ধে তুষ্ট হলে উত্তরপুরুষকে স্বাস্থ্য, ধন, জ্ঞান, দীর্ঘায়ু এবং শেষে স্বর্গ-মোক্ষ প্রদান করেন।

মহালয়া ভোরে তর্পণ করার তাৎপর্য :
মহালয়ার ভোরে তর্পণ করার তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও বিশেষ। এটি পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিন হিসেবে ধরা হয়।

মহালয়ার ভোরে তর্পণ করার তাৎপর্য :
মহালয়া শব্দের অর্থ 'মহান আশ্রম' বা 'মহান আলয়', যেখানে দেবী দুর্গা মহামায়ারূপে আবির্ভুত হন। এই দিনই দুর্গাপুজোর সূচনা হয়।

শাস্ত্র ও পুরাণ মতে, মহালয়ার ভোরে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করলে তাদের আত্মা শান্তি ও মুক্তি লাভ করে এবং তারা জীবিতদের আশীর্বাদ করেন।

মহালয়া হলো পিতৃপক্ষ শেষের দিন; এই দিনে তর্পণে পূর্বপুরুষদের জলদান করা হয়, যারা উপস্থিত না থাকতে পারেন তাদের পক্ষেও।

শাস্ত্রানুসারে, পুরুষ পিতা বা পূর্বপুরুষের মৃত্যুর স্মৃতিতে বা সময়মতো তর্পণ না করতে পারলে মহালয়ার অমাবস্যার ভোরে তর্পণ করাই উপযুক্ত।

মহালয়ার তর্পণে শুধু পূর্বপুরুষ নয়, মানবতা ও জীবদেহের সকল জীবজন্তুর জন্যও মঙ্গল কামনা করা হয়, কারণ মন্ত্রে বলা হয় "তৃপ্যন্তু সর্বমানবা" অর্থাৎ সকল মনুষ্য, প্রাণী তৃপ্ত হোক।

মহালয়ায় তর্পণ করলে পাপমোচন, বাধা কমা এবং সংসারে শান্তি-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় ভাবা হয়।

পুরাণ ও মহাভারতের কাহিনীতে উল্লেখ আছে, মহালয়ার তর্পণের মাধ্যমে কর্ণ যেমন তার পিতৃ পরিচয়ের ভুল সংশোধন করেন, সেভাবে জীবিতরাও এই তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক পুনর্বাসন করেন।

সারাংশ
পিতৃ তর্পণ পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্টি ও আত্মার মুক্তির জন্য আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষে পবিত্র জল–তিল–মন্ত্র সহ বিশেষ নিয়মে পালন করা একটি অনন্য হিন্দু ধর্মীয় আচরণ, যা সংসারের কল্যাণ ও শান্তি-বৃদ্ধির জন্য আবশ্যিক।

13/08/2025

"ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী ২০২৫" ১৬ আগষ্ট ৩০শে শ্রাবণ ১৪৩২, শনিবার শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি তথা জন্মাষ্টমী মহোৎসব ২০২৫।

অষ্টমী শুরু ১৫ই আগষ্ট শুক্রবার রাত ১১ঃ৪৯ মিনিটে।
অষ্টমী শেষ ১৬ই আগষ্ট শনিবার রাত ৯ঃ৩৪ মিনিট। রোহিনী নক্ষত্র: শুরু হবে ১৫ই আগস্ট, বিকাল ৪:৩৫ থেকে, শেষ হবে ১৬ই আগস্ট, বিকাল ৫:৩০ পর্যন্ত।
অর্থাৎ ১৬ আগষ্ট, শনিবার পরমপিতা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী তিথি। কারন এদিনে
রোহিনী নক্ষত্র রয়েছে।

শাস্ত্র নির্নয়: স্কন্দপুরানে বলা হয়েছে
"উদয়ে চাষ্টমী কিঞ্চিন্নবমী সকলা যদি।" অর্থাৎ, সূর্য উদয়ের সময়ে যদি অষ্টমী তিথি যুক্ত থাকে এবং কিঞ্চিত নবমী যুক্ত হয় তাহলে সেই তিথিতেই জন্মাষ্টমী পালন করতে হয়।

পারণঃ পরের দিন রবিবার সকাল ৭;১৫ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময়ানুযায়ী)

জন্মাষ্টমী কি?
""""""""""""""""""""
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম তিথিকে জন্মাষ্টমী বলা হয়। জন্মাষ্টমী উপবাস ১৬ আগস্ট তারিখ শনিবার।

জন্মাষ্টমীর উপবাস কত তারিখ এবং কেন?
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী ব্রতদিন নির্ণয় করতে গিয়ে শাস্ত্রে বলা হয়েছে:

"কৃষ্ণোপাস্যাষ্টমী ভাদ্রে রোহিণ্যাঢ্যা মহাফলা।
নিশীথেহত্রাপি কিঞ্চেন্দৌজ্ঞে বাপি নবমীযুতা"॥

অর্থাৎ, ভাদ্রমাসে কৃষ্ণাষ্টমী উপবাস যোগ্যা। রোহিণী নক্ষত্রযুক্তা হলে আরও অধিক ফলপ্রদা। আর নবমী তিথি সংযুক্তা হলে আরও অধিক ফলপ্রদা হয়।
অর্থাৎ নবমী তিথি যুক্ত জন্মাষ্টমী অধিক শ্রেষ্ঠ। অন্যদিকে পূর্বতিথি সপ্তমী বিদ্ধা জন্মাষ্টমী সর্বদা ত্যজ্য।

পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে:
"পঞ্চগব্যং যথা শুদ্ধং ন গ্রাহ্যং মদ্যসঙযুক্তম্।
রবিবিদ্ধা তথা ত্যজ্যা রোহিণী সহিতা যদি"॥

অনুবাদঃ যদিও পঞ্চগব্য পবিত্র, কিন্তু এতে মদ মিশলে আর তা গ্রহণযোগ্য থাকেনা, তেমনিভাবে রোহিণী নক্ষত্র সংযুক্তা হলেও সপ্তমীবিদ্ধা অষ্টমী গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, সপ্তমী তিথি থাকার দরুন ঐ দিন অষ্টমী হলেও তা জন্মাষ্টমী নয়।

একই কারণে এই বছর ২৩ আগস্ট অষ্টমী তিথির সঙ্গে সপ্তমী তিথি সংযুক্ত থাকায় তা প্রকৃত অর্থে জন্মাষ্টমী নয়। এজন্য ২৪ আগস্ট জন্মাষ্টমী পালন করা কর্তব্য।

কিভাবে জন্মাষ্টমীর উপবাস পালন করব?
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
১) আগের দিন শুক্রবার রাত ১২ টার আগে অন্ন প্রসাদ পাবেন। ঘুমানোর আগে ব্রাশ করে ঘুমাতে হবে।

২) পরের দিন শনিবার সকাল থেকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত উপবাস এবং জাগরণ। উপবাস থেকে হরিনাম জপ, কৃষ্ণ লীলা শ্রবন, ভগবানকে দর্শন, ভক্ত সঙ্গে হরিনাম কীর্তন,, অভিষেক দর্শন করতে হবে এবং ভগবানকে অভিষেক করে একাদশীর দিনের মতো অনুকল্প প্রসাদ সেবন করতে হবে।

৩) আর যাদের উপবাস পালনে সমস্যা, অসুস্থ, তারা অবশ্যই দুপুর ১২ টার পরে, কৃষ্ণের কাছে ক্ষমা চেয়ে, একটু দুধ, বা ফল খেতে পারবেন।

৪) পরের দিন সকালে স্নান করা শেষে ৭টা থেকে ৮ টার মধ্যে কৃষ্ণ প্রসাদ দিয়ে পারন করবেন।

২০২৫ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কত তম জন্মাষ্টমী?
**************************************
২০২৫ ইং সালের জন্মাষ্টমী পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫১ তম শুভ জন্মাষ্টমী। কারণ, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর প্রকট লীলাবিলাস করেন। ১২৫ বছর ধরাধামে অবস্থান করে গোলকে গমন করেন। মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ইহধাম ত্যাগ করে অন্তর্ধান করেন। সেই দিনই কলি প্রবেশ করেছে, সেই দিন ছিল শুক্রবার। খ্রীষ্টপূর্ব ৩১০১ এ কলিযুগ আরম্ভ হয়। বর্তমান ২০২৫ খ্রীষ্টাব্দ, তাহলে কলির বয়স ৩১০১+২০২৫ = ৫১২৬ বছর। শ্রীকৃষ্ণের অর্ন্তধানের দিন কলির আবির্ভাব। শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর প্রকট লীলা করেছেন। তাহলে শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব ৫১২৬+১২৫ = ৫২৫১ বছর পূর্বে হয়েছিল। অর্থাৎ ২০২৫ ইংরেজি সালের মাঘী পূর্ণিমা থেকে ৫২৫১ বছর পূর্বে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়।

শাস্ত্রে আছে কেউ যদি একবার শ্রীকৃষ্ণের এই জন্মাষ্টমীর উপবাস পালন করে তা হলে তাকে আর এই জড় জগতে জন্ম, মৃত্যু, জড়া, ব্যাধি, ভোগ করতে হয় না, ও পূর্নজন্ম গ্রহন করতে হয় না। তাই সকলে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫১ তম জন্মাষ্টমী পালন করে মানব জীবনটাকে পুন্যময় করে তুলুন।।

লীলা পুরুষোত্তম পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫১ তম শুভ আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী মহোৎসব ২০২৫ সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ এবং শান্তি এই প্রার্থনা পরম পিতা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রী চরণ কমলে করছি। সকলের জীবন হোক কৃষ্ণময়।

শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বসৃষ্টির প্রয়োজনে ব্রহ্মা (রজোগুণ), বিষ্ণু (সত্ত্বগুণ) ও শিবের (তমোগুণ) দ্বারা যথাক্রমে বিশ্ব সৃষ্টি, পালন ও ধ্বংস করেন। জড়া প্রকৃতির তিনটি গুণ সৃষ্টি করেও ভগবান জড়া প্রকৃতির অতীত।

হে 'গোবিন্দ', হে লীলা পুরুষোত্তম পরম-পিতা পরমেশ্বর ভগবান 'শ্রীকৃষ্ণ', সুখ দিলে ঠিক ততটাই দিও যাতে মনে অহংকার জন্ম না নেয়, আর দুঃখ দিলেও ঠিক ততটাই দিও যেন তোমার উপর থেকে বিশ্বাস চলে না যায়।

মানুষ কেন "শ্রীকৃষ্ণই" যে ভগবান, সেটা বুঝতে পারে না? সেই সম্বন্ধে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীভগবান বলেছেন-

"অজেহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানীমীম্বরোহপি সন্।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।"
(চতুর্দশ-অধ্যায়-গুণত্রয়-বিভাগ-যোগ-৪/৬।।)

অনুবাদঃ যদিও আমি জন্মরহিত এবং আমার চিন্ময় দেহ অব্যয় এবং যদিও আমি সর্বভূতের ঈশ্বর, তবুও আমার অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে আমি আমার আদি চিন্ময় রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।

"যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মনং সৃজামহ্যম্।।"
(চতুর্দশ-অধ্যায়-গুণত্রয়-বিভাগ-যোগ-৪/৭।।)

অনুবাদঃ হে ভারত! যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই।

"পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।"
(চতুর্দশ-অধ্যায়-গুণত্রয়-বিভাগ-যোগ-৪/৮।।)

অনুবাদঃ সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃত কারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।

"জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন।।"
(চতুর্দশ-অধ্যায়-গুণত্রয়-বিভাগ-যোগ-৪/৯।।)

অনুবাদঃ হে অর্জুন! ‍যিনি আমার এই প্রকার দিব্য জন্ম ও কর্ম যথাযথভাবে জানেন, তাঁকে আর দেহত্যাগ করার পর পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয় না, তিনি আমার নিত্য ধাম লাভ করেন।

"যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।"
(চতুর্দশ-অধ্যায়-গুণত্রয়-বিভাগ-যোগ-৪/১১।।)

অনুবাদঃ যারা যেভাবে আমার প্রতি আত্মসমর্পণ করে, আমি তাদেরকে সেভাবেই পুরস্কৃত করি। হে পার্থ! সকলেই সর্বতোভাবে আমার পথ অনুসরণ করে।

"ভোক্তারং যজ্ঞতপসাং সর্বলোকমহেশ্বরম্।
সুহৃদং সর্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি।।"
(পঞ্চদশ-অধ্যায়-পুরুষোত্তম-যোগ- ৫/২৯।।)

অনুবাদঃ আমাকে সমস্ত যজ্ঞ ও তপস্যার পরম ভোক্তা, সর্বলোকের মহেশ্বর এবং সমস্ত জীবের সুহৃদরূপে জেনে যোগীরা জড় জগতের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি লাভ করেন।

"মনুষ্যাণাং সহস্রেষু কশ্চিদ্ যততি সিদ্ধয়ে।
মততামপি সিদ্ধানাং কশ্চিন্মাং বেত্তি তত্ত্বতঃ।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-৭/৩)

অনুবাদঃ হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কদাচিৎ কোন একজন সিদ্ধি লাভের জন্য যত্ন করেন, আর সেই প্রকার যত্নশীল সিদ্ধদের মধ্যে কদাচিৎ একজন আমাকে অর্থাৎ আমার ভগবৎ-স্বরূপকে তত্ত্বত অবগত হন।

"এতদযোনীনি ভূতানি সর্বাণীত্যুপধারয়।
অহং কৃৎস্নস্য জগতঃ প্রভবঃ প্রলয়স্তথা।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-৭/৬।।)

অনুবাদঃ আমার এই উভয় প্রকৃতি থেকে জড় ও চেতন সব কিছু উৎপন্ন হয়েছে। অতএব নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো যে, আমিই সমস্ত জগতের উৎপত্তি ও প্রলয়ের মূল কারণ।

"মত্তঃ পরতরং নান্যৎ কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয়।
ময়ি সর্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-৭/৭।।)

অনুবাদঃ হে ধনঞ্জয়! আমার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। সূত্রে যেমন মণিসমূহ গাঁথা থাকে, তেমনই সমস্ত বিশ্বই আমাতে ওতঃপ্রোতভাবে অবস্থান করে।

"ন মাং দুষ্কৃতিনো মূঢ়াঃ প্রপদ্যন্তে নরাধমাঃ।
মায়য়াপহৃতজ্ঞানা আসুরং ভাবমাশ্রিতাঃ।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-৭/১৫)

অনুবাদঃ মূঢ়, নরাধম, মায়ার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে এবং যারা আসুরিক ভাবসম্পন্ন, সেই সমস্ত দুস্কৃতকারীরা কখনও আমার শরণাগত হয় না।

"বহুনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্মং প্রপদ্যতে।
বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-৭/১৯)

অনুবাদঃ বহু জন্মের পর তত্ত্বজ্ঞানী ব্যক্তি আমাকে সর্ব কারণের পরম কারণ রূপে জেনে আমার শরণাগত হন। সেইরূপ মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ।

"যো যো যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি।
তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-৭/২১।।)

অনুবাদঃ পরমাত্মরূপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। যখনই কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে, তখনই আমি সেই সেই ভক্তের তাতেই অচলা শ্রদ্ধা বিধান করি।

"নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য যোগমায়াসমাবৃতঃ।
মূঢ়োহয়ং নাভিজানাতি লোকো মামজমব্যয়ম্।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-৭/২৫)

অনুবাদঃ আমি মূঢ় ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তিদের কাছে কখনও প্রকাশিত হই না। তাদের কাছে আমি আমার অন্তরঙ্গা শক্তি যোগমায়ার দ্বারা আবৃত থাকি। তাই, তাঁরা আমার অজ ও অব্যয় স্বরূপকে জানতে পারে না।

"অন্তকালে চ মামেব স্মরন্মুক্তা কলেবরম্।
যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ।।"
(অষ্টম অধ্যায়-অক্ষরব্রহ্ম-যোগ-৮/৫।।)

অনুবাদঃ মৃত্যুর সময়ে যিনি আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি তৎক্ষণাৎ আমার ভাবই প্রাপ্ত হন। এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

"যং যং বাপি স্মরন্ ভাবং ত্যজত্যন্তে কলেবরম্।
তং তমেবৈতি কৌন্তেয় সদা তদ্ভাবভাবিতঃ।।"
(অষ্টম অধ্যায়-অক্ষরব্রহ্ম-যোগ-৮/৬।।)

অনুবাদঃ অন্তিমকালে যিনি যে ভাব স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি সেই ভাবে ভাবিত তত্ত্বকেই লাভ করেন।

"আব্রহ্মভুবনাল্লোকাঃ পুনরাবর্তিনোহর্জুন।
মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।।"
(অষ্টম অধ্যায়-অক্ষরব্রহ্ম-যোগ-৮/১৬।।)

অনুুবাদঃ হে অর্জুন! এই ভুবন থেকে ব্রহ্মলোক পর্যন্ত সমস্ত লোকই পুনরাবর্তনশীল অর্থাৎ পুনর্জন্ম হয়। কিন্তু হে কৌন্তেয়! আমাকে প্রাপ্ত হলে আর পুনর্জন্ম হয় না।

"অহং হি সর্বযজ্ঞানাং ভোক্তা চ প্রভুরেব চ।
ন তু মামভিজানন্তি তত্ত্বেনাতশ্চ্যবন্তি তে।।"
(নবম অধ্যায়-রাজগুহ্য-যোগ-৯/২৪।।)

অনুবাদঃ আমিই সমস্ত যজ্ঞের ভোক্তা ও প্রভু। কিন্তু যারা আমার চিন্ময় স্বরূপ জানে না, তারা আবার সংসার সমুদ্রে অধঃপতিত হয়।

"অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ।
অহমাদিশ্চ মধ্যং চ ভূতানামন্ত এব চ।।"
(দশম অধ্যায়-বিভূতি-যোগ১০/২০।।)

অনুবাদঃ হে গুড়াকেশ! আমিই সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থিত পরমাত্মা। আমিই সর্বভূতের আদি, মধ্য ও অন্ত।

"সর্বস্য চাহং হৃদি সন্নিবিষ্টো
মত্তঃ স্মৃতির্জ্ঞানমপোহনং চ।
বেদৈশ্চ সর্বৈরহমেব বেদ্যো
বেদান্তকৃদ্ বেদবিদেব চাহম্।।"
(পঞ্চদশ-অধ্যায়-পুরুষোত্তম-যোগ-১৫/১৫।।)

অনুবাদঃ আমি সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থিত এবং আমর থেকেই স্মৃতি, জ্ঞান ও বিলোপ হয়। আমিই সমস্ত বেদের জ্ঞাতব্য এবং আমিই বেদান্তকর্তা ও বেদবিৎ।

"দ্বাবিমৌ পুরুষৌ লোকে ক্ষরশ্চাক্ষর এব চ।
ক্ষরঃ সর্বাণি ভূতানি কূটস্থোহক্ষর উচ্যতে।।"
(পঞ্চদশ-অধ্যায়-পুরুষোত্তম-যোগ-১৫/১৬।।)

অনুবাদঃ ক্ষর ও অক্ষর দুই প্রকার জীব রয়েছে। এই জড় জগতের সমস্ত জীবকে ক্ষর এবং চিৎ-জগতের সমস্ত জীবকে অক্ষর বলা হয়।

"অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং চ সংশ্রিতাঃ।
মামাত্মপরদেহেষু প্রদ্বিষন্তোহভ্যসূয়কাঃ।।"
(ষোড়শ-অধ্যায়-দৈবাসুর-সম্পদ-বিভাগযোগ-১৬/১৮।)

অনুবাদঃ অহঙ্কার, বল, দর্প, কাম ও ক্রোধকে আশ্রয় করে অসুরেরা স্বীয় দেহে ও পরদেহে অবস্থিত পরমেশ্বর স্বরূপ আমাকে দ্বেষ করে এবং সাধুদের গুণেতে দোষারোপ করে।

"আসুরীং যোনিমাপন্না মূঢ়া জন্মনি জন্মনি।
মামপ্রাপ্যৈব কৌন্তেয় ততো যান্ত্যধমাং গতিম্।।"
(ষোড়শ-অধ্যায়-দৈবাসুর-সম্পদ-বিভাগযোগ-১৬/২০।)

অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! জন্মে জন্মে অসুরযোনি প্রাপ্ত হয়ে, সেই মূঢ় ব্যক্তিরা আমাকে লাভ করতে অক্ষম হয়ে তার থেকেও অধম গতি প্রাপ্ত হয়।

"শ্রীভগবানুবাচ
ত্রিবিধা ভবতি শ্রদ্ধা দেহিনাং সা স্বভাবজা।
সাত্ত্বিকী রাজসী চৈব তামসী চেতি তাং শৃণু।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-১৭/২।।)

অনুবাদঃ শ্রীভগবান বললেন-দেহীদের স্বভাব-জনিত শ্রদ্ধা তিন প্রকার- সাত্ত্বিকী, রাজসী ও তামসী। এখন সেই সম্বন্ধে শ্রবণ কর।

"যজন্তে সাত্ত্বিকা দেবান্ যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ।
প্রেতান্ ভূতগণাংশ্চান্যে যজন্তে তামসা জনাঃ।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-১৭/৪।।)

অনুবাদঃ সাত্ত্বিক ব্যক্তিরা দেবতাদের পূজা করে, সাজসিক ব্যক্তিরা যক্ষ ও রাক্ষসদের পূজা করে এবং তামসিক ব্যক্তিরা ভূত ও প্রেতাত্মাদের পূজা করে।

"অশ্রদ্ধয়া হুতং দত্তং তপস্তপ্তং কৃতং চ যৎ।
অসদিত্যুচ্যতে পার্থ ন চ তৎ প্রেত্য নো ইহ।।"
(সপ্তদশ-অধ্যায়-শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগ-যোগ-১৭/২৮।।)

অনুবাদঃ হে পার্থ! অশ্রদ্ধা সহকারে হোম, দান বা তপস্যা যা কিছু অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বলা হয় ‘অসৎ’। সেই সমস্ত ক্রিয়া ইহলোকে ও পরলোকে ফলদায়ক হয় না।

"মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদযাজী মাং নমস্কুরু।
মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্রিয়োহসি মে।।"
(অষ্টাদশ অধ্যায়-মোক্ষযোগ-১৮/৬৫।।)

অনুবাদঃ তুমি আমাতে চিত্ত অর্পণ কর, আমর ভক্ত হও, আমার পূজা কর এবং আমাকে নমস্কার কর। তাহলে তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয় হবে।

"সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।।"
(অষ্টাদশ অধ্যায়-মোক্ষযোগ১৮/৬৬।।)

অনুবাদঃ সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব। তুমি শোক করো না।

"যেখানে ব্রহ্মাজী, পরম বৈষ্ণব শিরোমণি মহাদেব বলছেন কৃষ্ণের আরাধনা করতে!"

"ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্।।"
(ব্রহ্মসংহিতা-৫/১)

অনুবাদঃ শ্রীকৃষ্ণ, যিনি গোবিন্দ নামেও পরিচিত, তিনি হচ্ছেন পরম ঈশ্বর। তাঁর রূপ সচ্চিদানন্দময় (নিত্য, জ্ঞানময় ও আনন্দময়)। তিনি হচ্ছেন সব কিছুর পরম উৎস। তাঁর কোন উৎস নেই, কেন না তিনি হচ্ছেন সমস্ত কারণের পরম কারণ ।

ভগবান নিজেও সর্বধর্ম পরিত্যাগ করে তাঁর শরণ নিতে বলছেন ১৮ অধ্যায়ের ৬৬ নাম্বার শ্লোকে।। আর আমরা সেই ভগবানকেই চিনতে পারছি না!!!

জন্মাষ্টমী ব্রত বা উপবাস পালন করার ফল, যা প্রত্যেকের জানা উচিত, এই বিষয় নিয়ে শাস্ত্রে অত্যন্ত মহিমান্বিত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে -

১. পাপমোচন ও মুক্তি লাভঃ
“জন্মাষ্টমীর উপবাসে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সন্দেহ নেই, ভক্ত বিষ্ণুলোকে গমন করেন।।”
— ভবিষ্যোত্তর পুরাণ, উত্তরখণ্ড, ১৪৪.২৪

জন্মাষ্টমীতে উপবাস করলে জীবনের সকল পাপ দূর হয় এবং ভগবান বিষ্ণুর চিরধামে স্থান লাভ হয়।।

২. জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন মুক্তিঃ
“যে ভক্ত জন্মাষ্টমীর দিনে ব্রত পালন করে, তার সমস্ত পাপ নাশ হয়। ভগবানের কৃপায় সে আর পুনর্জন্ম লাভ করে না।”
— স্কন্দ পুরাণ, বৈষ্ণবখণ্ড

এই ব্রত ভক্তকে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি দিয়ে চিরশান্তি প্রদান করে।।

৩. ইচ্ছাপূরণ ও সৌভাগ্য লাভঃ
“যে ভক্তি সহকারে জন্মাষ্টমীর ব্রত পালন করে, ভগবান বিষ্ণু তার সমস্ত কামনা পূর্ণ করেন।।”
— পদ্ম পুরাণ, উত্তরখণ্ড

এই ব্রত জীবনের সব শুভ ইচ্ছা পূর্ণ করে এবং অটল সৌভাগ্য প্রদান করে।।

৪. ভগবৎপ্রেম বৃদ্ধি ও অন্তরের পবিত্রতাঃ
“উপবাসে জন্মানো পুণ্য হৃদয়কে শুদ্ধ করে এবং কৃষ্ণভক্তি বৃদ্ধি করে।।”
— নারদ পুরাণ, পূর্বখণ্ড

এই উপবাসে অন্তরের অপবিত্রতা দূর হয়, ভগবৎপ্রেম বৃদ্ধি পায় এবং কৃষ্ণস্মরণ সহজ হয়।।

৫.পরিবারের কল্যাণ ও রক্ষাকবচঃ
“যে ব্যক্তি জন্মাষ্টমীর ব্রত যথাযথভাবে পালন করে, সে নিজের এবং তার পরিবারের মঙ্গল নিশ্চিত করে এবং ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভ করে।।”
—গরুড় পুরাণ

এই ব্রত পালনকারী শুধু নিজের নয়, পূর্বপুরুষ ও পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করেন এবং সংসারের অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করে।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলা কাহিনীঃ
ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন যে তাঁর জন্ম, কর্ম ইত্যাদি সবই দিব্য, এবং কেউ যখন তত্ত্বগতভাবে তা জানতে পারে, তখন তিনি ভগবদ্ধামে প্রবেশ করবার যোগ্যতা অর্জন করেন।

ভগবানের জন্ম একজন সাধারণ মানুষের মতো নয়। সাধারণ মানুষের জন্ম হয় কর্মফলের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে। কর্মের ফলস্বরূপ সে এক দেহ থেকে অন্য আরেক দেহে দেহান্তরিত হয়। ভগবানের জন্মের কথা বিশ্লেষণ করে ভগবদগীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে, তিনি তাঁর নিজের ইচ্ছার প্রভাবে আবির্ভূত হন। গ্রহ নক্ষত্রের শুভ স্থানে অবস্থান। যখন ভগবানের আবির্ভাবের সময় হল, তখন কাল সর্বগুণ সমন্বিত হয়ে পরম সুন্দর হয়ে উঠল। তখন পৃথিবী আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল। তিথি, যোগ এবং নক্ষত্র তখন সর্বমঙ্গলময় এবং সর্বসুলক্ষণ যুক্ত হয়ে উঠল। সর্বসুলক্ষণযুক্তা রোহিণী নক্ষত্র তখন তুঙ্গে প্রকাশিত হল।

ব্রহ্মা স্বয়ং এই রোহিণী নক্ষত্রের পর্যবেক্ষণ করেন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, নক্ষত্রের অবস্থান ছাড়াও বিভিন্ন গ্রহের অবস্থান ও প্রভাবের ফলে শুভ এবং অশুভ তিথি ও যোগ বিচার করা হয়। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সময় সমস্ত গ্রহগুলি সব সময় মঙ্গলময় অবস্থা এবং সব সময় শুভ ইঙ্গিত প্রদর্শন করে বিরাজ করতে লাগল।

তখন দশদিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠল। শুভ নক্ষত্রগুলি নভোমন্ডলে শোভা পেতে লাগল। নগর, গ্রাম, গোচারণভূমি এবং সকলের হৃদয়ে সব রকমের শুভ ইঙ্গিত দেখা যেতে লাগল। জলে পূর্ণ হয়ে নদনদী প্রবাহিত হতে লাগল, সরোবরগুলি বিকশিত পদ্মে পূর্ণ হয়ে শোভা পেতে লাগল।

বনভূমি নানা রকম সুন্দর সুন্দর পাখি ও ময়ুরপূর্ণ হয়ে উঠল। পাখিরা সুমধুর স্বরে গান গাইতে লাগল এবং সেই গানের ছন্দে ময়ুরেরা ময়ুরীদের সঙ্গে নাচতে শুরু করল। সুমধুর গন্ধ বহন করে বায়ু বইতে লাগল এবং শরীরের স্পর্শানুভূতি অত্যন্ত সুখকর বলে বোধ হতে লাগল।

ব্রাহ্মণেরা অনুভব করল যে, তাদের গৃহের পরিবেশ যজ্ঞানুষ্ঠানের অনুকুল হয়ে উঠেছে। আসুরিক রাজাদের অত্যাচারে যজ্ঞ অনুষ্ঠান তথন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যজ্ঞের আগুন প্রায় নিভে গিয়েছিল, কিন্তু এখন তারা আবার প্রশান্ত চিত্তে আগুন জ্বালাতে সক্ষম হল।

যজ্ঞ অনুষ্ঠান করা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলে ব্রাহ্মণেরা অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে পড়েছিল, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের সময় তাদের চিত্ত প্রসন্ন হয়ে উঠল, কেননা তারা নভোমন্ডলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবসূচক দিব্য শব্দতরঙ্গ শুনতে পেল।

গন্ধর্ব এবং কিন্নরেরা সুমধুর সুরে গান গাইতে লাগল এবং সিদ্ধ ও চারণেরা ভগবানের গুণকীর্তন করে তাঁর স্তব করতে লাগল। স্বর্গলোকে দেবতারা তাঁদের সহচরী এবং অস্পরাদের সঙ্গে সুললিত ছন্দে নৃত্য করতে লাগলেন। দেবতারা এবং মুনিঋষিরা পুষ্পবর্ষণ করতে লাগলেন। সমুদ্রের উপকূলে তরঙ্গের মৃদু মৃদু শব্দ হতে লাগল এবং সমুদ্রের উপরে সুমধুর মেঘগর্জন হতে লাগল।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চতুর্ভুজ রূপে আবির্ভাব। তখন ভগবান বিষ্ণু, যিনি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করেন, তিনি রাতের গভীর অন্ধকারে পরমেশ্বর ভগবানরূপে দেবকীর সম্মুকে আবির্ভূত হলেন। পূর্ণচন্দ্র যেভাবে পূর্বদিগন্তে উদিত হয়, ঠিক তেমন ভাবেই পরমেশ্বর ভগবান আবির্ভূত হলেন।

কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল তা হলে পূর্ণচন্দ্রের উদয় হল কি করে? এর অর্থ উত্তরে বলা হয়েছে যে, শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্রবংশে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাই চন্দ্র সেই রাত্রে অপূর্ণ থাকলেও সেই বংশে ভগবানের আবির্ভাবের জন্য আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে সেদিন পূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন।

খমাণিক্য নামক জ্যোতিষ শাস্ত্রগ্রন্থে ভগবানের আবির্ভাব সময়কালীন গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান খুব সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে প্রমাণ করা হয়েছে যে, এই শুভ মুহূর্তে যে শিশুটির জন্ম হল, তিনি হচ্ছেন পরম-ব্রহ্ম।

বসুদেব দেখলেন যে, সেই অদ্ভুত শিশুটি চতুর্ভুজ। তিনি তাঁর চার হাতে শঙ্খ, চক্র, গদা এবং পদ্ম ধারণ করে আছেন। বক্ষে তাঁর শ্রীবৎস চিহ্ন, কন্ঠে তাঁর কৌস্তভ শোভিত কন্ঠহার, পরনে তাঁর পীতবসন, উজ্জ্বল মেঘের মতো তাঁর গায়ের রঙ, বৈদুর্য মণিভূষিত কিরীট তাঁর মস্তকে শোভা পাচ্ছে, নানা রকম মহামূল্য মণি-রত্ন শোভিত সমস্ত অলঙ্কার তাঁর দিব্য দেহে শোভা পাচ্ছে, তাঁর মাথা ভর্তি কুঞ্চিত কালো কেশরাশি।

এই অদ্ভুত শিশুটিকে দেখে বসুদেব অত্যন্ত আশ্চর্য হলেন। তিনি ভাবলেন কিভাবে একটি নবজাত শিশু এই রকম সমস্ত অলঙ্কারে ভূষিত হল? তাই তিনি বুঝতে পারলেনম যে, শ্রীকৃষ্ণই তাঁর পুত্ররূপে আবির্ভূত হয়েছেন।

তিনি তখন অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন। বসুদেব তখন ভাবতে লাগলেন, যদিও তিনি একজন সাধারণ মানুষ এবং বাহ্যিক দিক দিয়ে কংসের কারাগারে আবদ্ধ, তবুও পরমেশ্বর ভগবান বিষ্ণু তাঁর স্বরূপ ধারণ করে তাঁর সন্তানরূপে আবির্ভুত হয়েছেন।

কোনও মনুষ্যশিশু এইভাবে চতুর্ভুজ রূপ নিয়ে অলঙ্কার এবং সব রকম দিব্য সাজে সজ্জিত হয়ে এবং পরমেশ্বর ভগবানের সমস্ত লক্ষণগুলি যুক্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করে না।

বসুদেব বারবার সেই শিশু সন্তানটির দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলেন এবং ভাবতে লাগলেন কিভাবে তাঁর এই পরম সৌভাগ্যের মুহুর্তটি তিনি উদযাপন করবেন। তিনি ভাবলেন, “সাধারণত যখন পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, মানুষ তখন মহোৎসব করে, আর পরমেশ্বর ভগবান আজ আমার গৃহে আমার সন্তানরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। কত মহা আড়ম্বরে আমার এই উৎসব পালন করা উচিত।”

বসুদেব, যাঁর আরেক নাম আনকদুন্দুভি, যখন তাঁর নবজাত শিশুটির দিকে তাখিয়ে দেখলেন, তখন তাঁর হৃদয়ে আনন্দে এত উৎফুল্ল হয়ে উঠল যে, তিনি তখন নানা অলঙ্কারে ভূষিত হাজার হাজার গাভী ব্রাহ্মণদের দান করতে ইচ্ছা করলেন।

বৈদিক প্রথা অনুসারে যখন ক্ষত্রিয় রাজার প্রসাদে কোন শুভ অনুষ্ঠান হয়, রাজা তখন নানা রকম সম্পদ দান করেন। বিশেষ করে ব্রাহ্মণ এবং মুনি-ঋষিদের তাঁরা স্বর্ণালঙ্কারে ভূষিত গাভী দান করেন।

শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উদযাপন করতে বসুদেবও দান করতে ইচ্ছা করলেন। কিন্তু যেহেতু তিনি কংসের কারাগারে শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিলেন, তাই তাঁর পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। তাই মনে মনে তিনি ব্রাহ্মণদের হাজার হাজার গাভী দান করলেন।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে বসুদেবের প্রার্থনাঃ
বসুদেবের মনে আর যখন কোন সংশয় রইল না যে, এই নবজাত শিশুটিই হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, তখন তিনি করজোড়ে প্রণিপাত করে তাঁর বন্দনা করতে শুরু করলেন। বসুদেব তখন চিন্ময় স্তরে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে কংসের ভয় থেকে মুক্ত হলেন। সেই শিশুটির অঙ্গকান্তিতে সেই ঘর উদ্ভাসিত হয়ে উঠল।

বসুদেব তখন প্রার্থনা করতে লাগলেন, “হে প্রিয় প্রভু, আমি জানি আপনি কে। আপনিই হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, সমস্ত জীবের পরমাত্মা এবং সত্য। আপনি আপনার নিত্য স্বরূপ নিয়ে আবির্ভুত হয়েছেন, যা আমি এখন সরাসরিভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারছি।

আমি বুঝতে পারছি যে, যেহেতু আমি কংসের ভয়ে ভীত, তাই সেই ভয় থেকে আমাকে উদ্ধার করার জন্য আপনি আবির্ভূত হয়েছেন। আপনি এই প্রকৃতির অতীত; আপনিই হচ্ছেন সেই পরম পুরুষ, যিনি মায়ার প্রতি দৃষ্টিপাত করে এই জড় জগৎকে প্রকাশিত করেন।

কেউ তর্ক করতে পারে যে, পরমেশ্বর ভগবান, যিনি কেবলমাত্র দৃষ্টিপাত করার মাধ্যমে সমস্ত জড় সৃষ্টিকে প্রকাশিত করেন, তাঁর পক্ষে বসুদেবের পত্মী দেবকীর গর্ভে আবির্ভূত হওয়া কি করে সম্ভব! সেই সন্দেহ দূর করার জন্য বসুদেব বললেন, “হে প্রিয় ভগবান, আপনি যে দেবকীর গর্ভে আবির্ভূত হয়েছেন এটা তেমন কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়। কেননা এই জড় সৃষ্টিও অনেকটা সেই ভাবেই প্রকাশিত হয়েছে।

আপনি মহাবিষ্ণুরূপে কারণসমুদ্রে শয়ন করে আছেন এবং আপনার নিঃশ্বাসের প্রভাবে অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ড প্রকাশিত হচ্ছে। তারপর গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণরূপে আপনি প্রতিটি ব্রহ্মান্ডে প্রবিষ্ট হয়েছেন।

তারপর আবার আপনি নিজেকে ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণুরূপে প্রকাশ করে সমস্ত জীবের হৃদয়ে প্রবেশ করছেন, এমন কি প্রতিটি পরমাণুর মধ্যেও আপনি নিজেকে প্রকাশ করছেন, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই। যদিও মনে হচ্ছে যে, আপনি দেবকীর গর্ভে প্রবেশ করছেন, কিন্তু তা হলেও আপনি সর্বব্যাপ্ত।

জড় দৃষ্টান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আপনার প্রবেশ এবং সর্বব্যাপ্তি উপলব্ধি করতে পারি না। ১৬টি উপাদানে বিভক্ত হওয়ার পরেও জড়া প্রকৃতি অবিকৃতই থেকে যায়। জড় শরীর মাটি, জল, আগুন, বায়ু ও আকাশ-এই পঞ্চ মহাভূতের সমন্বয় মাত্র।

জড় শরীর দেখলেই মনে হয় যেন এই উপাদানগুলি নতুন সৃষ্টি করা হয়েছে, কিন্তু সেউ উপাদনগুলি দেহের বাইরে সব সময়েই রয়েছে। তেমনই, যদিও আপনি একটি শিশুরূপে দেবকীর গর্ভে আবির্ভূত হয়েছেন, তবুও আপনি বাইরেও বিরাজ করছেন। আপনি সব সময়ই আপনার ধামে বিরাজ করতে পারেন।

“গভীর বুদ্ধিমত্তা সহকারে আপনার আবির্ভাবের তত্ত্ব উপলব্ধি করতে হয়, কেননা জড়া প্রকৃতিও আপনার থেকেই উদ্ভুত হয়েছে। সূর্য যেমন সূর্যকিরণের উৎস, আপনিও তেমনই জড়া প্রকৃতির আদি উৎস। সুর্যকিরণ কখনও সূর্যমন্ডলকে আচ্ছাদিত করতে পারে না।

ঠিক তেমনই আপনার থেকে উদ্ভুত হওয়ার ফলে জড়া প্রকৃতি কখনও আপনাকে আবৃত্ত করতে পারে না। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যেন আপনি জড়া প্রকৃতির তিনটি গুণের দ্বারা প্রভাবিত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জড়া প্রকৃতির গুণ কখনই আপনাকে প্রভাবিত করতে পারে না।

গভীর বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন দার্শনিকেরা তা বুঝতে পারেন। পক্ষান্তরে বলা যায় যে, যদিও মনে হয় যে, আপনি এই জড়া প্রকৃতিতে রয়েছেন, তবুও আপনি কখনও তার দ্বারা আচ্ছাদিত হন না।”

বৈদিক শাস্ত্র থেকে আমরা জানতে পরি যে, পরমব্রক্ষের দেহ-নির্গত রশ্মিচ্ছটার প্রভাবে সব কিছু প্রকাশিত হয়। ব্রহ্মসংহিতা থেকে আমরা জানতে পারি যে, ব্রহ্মজ্যোতি হচ্ছে ভগবানের দেহ-নির্গত রশ্মিচ্ছটা, এবং ব্রহ্মজ্যোতি থেকে সব কিছুর সৃষ্টি হয়। ভগবদগীতাতে আরও বলা হয়েছে যে, পরমেশ্বর ভগবানই হচ্ছেন ব্রহ্মজ্যোতির উৎস। প্রকৃতপক্ষে তিনিই হচ্ছেন সব কিছুর মূল কারণ। কিন্তু অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা মনে করে যে, পরমেশ্বর ভগবান যখন এই জড় জগতে আবির্ভূত হন, তখন তিনি জড় গুণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন। এই ধরনের সিদ্ধান্ত যারা করে, তারা অত্যন্ত মুর্খ, ভগবান সম্বন্ধে তাদের কোন জ্ঞানই নেই।

পরমেশ্বর ভগবান প্রত্যক্ষভাবে এবং পরোক্ষভাবে সর্বত্রই বিরাজ করেন। তিনি কেবল গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণুরূপেই এই জড় সৃষ্টির অন্তরেও বিরাজ করেন তা নয়, তিনি প্রতিটি পরমাণুর মধ্যেও বিরাজ করছেন। তিনি আছেন বলেই সব কিছুর অস্তিত্ব আছে। তাঁকে ছাড়া কোন কিছুরই অস্তিত্ব থাকতে পারে না। বৈদিক শাস্ত্রে আমরা দেখতে পাই যে, পরমাত্মা থেকে স্বতন্ত্র হয়ে কোন কিছুরই অস্তিত্ব নেই। তাই এই জড়া প্রকৃতিও তাঁরই শক্তির প্রকাশ। জড় পদার্থ এবং চিন্ময় আত্মা উভয়েই তাঁর থেকে উদ্ভত হয়েছে। মূর্খ লোকেরাই কেবল মনে করে যে, পরমেশ্বর ভগবান যখন আবির্ভূত হন, তখন তিনি জড়া প্রকৃতির দ্বারা প্রভাবিত হন।

তিনি একটি জড় শরীর গ্রহণ করছেন বলে মনে হলেও তিনি কখনই জড়া প্রকৃতির অধীন হন না। শ্রীকৃষ্ণ তাই আবির্ভূত হয়ে পরমেশ্বর ভগবানের আবির্ভাব এবং অপ্রকট সম্বন্ধীয় সব কটি ভ্রান্ত মতবাদকে পরাস্ত করলেন।

“হে প্রভু, আপনার আবির্ভাব, অবস্থান এবং অপ্রকট লীলা জড় জগতের সব কটি গুণের সমস্ত প্রভাবের অতীত, যেহেতু আপনিই হচ্ছেন সব কিছুর নিয়ন্তা এবং পরমব্রহ্মের আশ্রয়, তাই আপনার পক্ষে অসম্ভব কিছুই নয় এবং কিছুই আপনাতে বিসদৃশ নয়। একজন সরকারী কর্মচারী যেমন রাষ্ট্রপ্রধানের অধীন কাজ করেন, জড়া প্রকৃতিও ঠিক তেমনই আপনার তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। তাই আপনার পক্ষে কারো অধীনস্থ হওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না, পরব্রহ্ম এবং সব কিছুই আপনাকে আশ্রয় করে আছে এবং জড়া প্রকৃতির সমস্ত কার্যকলাপ আপনার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

“আপনাকে ‘শুক্লম্’ বলে সম্বোধন করা হয়। ‘শুক্লম্’ বা সাদা হচ্ছেন পরমেশ্বর সত্যস্বরূপ আপনার এক প্রতীক মাত্র। কেননা আপনি জড়জাগতিক গুণের দ্বারা প্রভবিত হন না। ব্রহ্মাকে ‘রক্ত’ বলা হয়, কেননা তিনি সৃজনাত্মকরূপে রজোগুণের অধিকারী, আর তমোগুণ শিবের অধীন, কেননা তিনিই সমস্ত সৃষ্টির সংহার করেন। সৃষ্টি, স্থিতি এবং প্রলয় আপনার দ্বারাই সম্পাদিত হয়, কিন্তু তবুও আপনি সেই সমস্ত গুণের অতীত।” বেদে বিহিত হয়েছে, “হরির্হিনির্গুণসাক্ষাৎ”- পরমেশ্বর ভগবান সর্বদাই জড়জাগতিক গুণের অতীত। সেখানে আরও বলা হয়েছে যে, পরমেশ্বর ভগবানে তমো ও রজোগুণের কোন রকম অস্তিত্ব নেই।

“হে প্রভু! আপনিই হচ্ছেন পরম নিয়ন্তা পরমেশ্বর ভগবান পরম ব্রহ্ম। আপনিই সমস্ত সৃষ্টি পরিচালনা করেন। পরম নিয়ন্তা হওয়া সত্ত্বেও আপনি কৃপা করে আমার গৃহে অবতরণ করেছেন এবং আপনার অবতরণের কারণ হচ্ছে সেই সমস্ত অসুরদের সংহার করা, যারা রাজবেশ ধারণ করে পৃথিবীর উপর রাজত্ব করছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা হচ্ছে অসুর। আপনি যে তাদের এবং তাদের সমস্ত অনুচরদের সংহার করবেন, সেই সম্বন্ধে আমার কোন সন্দেহ নেই।

“আমি জানি যে, বর্বর কংস ও তার দুরাচারী সঙ্গীদের সংহার করবার জন্য আপনি অবতরণ করেছেন। কিন্তু আপনি যে তাকে এবং তার অনুচরদের সংহার করাবার জন্য অবতরণ করবেন, সেই কথা জানতে পেরে কংস আপনার পূর্বজাত বড় ভাইদের হত্যা করেছে। এখন সে কেবল আপনার জন্ম সংবাদের প্রতীক্ষা করছে। যখনই সেই সংবাদ সে পাবে, তখনই সে আপনাকে হত্যার জন্য সশস্ত্র উপস্থিত হবে।”

মাতা দেবকীর শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনাঃ
বসুদেবের এই প্রার্থনার পর, শ্রীকৃষ্ণের মাতা দেবকী প্রার্থনা করতে শুরু করলেন। তাঁর ভাই কংসের অত্যাচারে তিনি অত্যন্ত ভীত ছিলেন। দেবকী বললেন, “প্রিয় প্রভু! নারায়ণ, রাম, শেষ, বরাহ, নৃসিংহ, বামন; বলদেব এবং এই রকম কোটি কোটি অবতারের বর্ণনা বৈদিক শাস্ত্রে রয়েছে। আপনিই হচ্ছেন আদি পুরুষ, কেননা আপনার সমস্ত অবতারেরাই এই জড় জগতের অতীত। এই সৃষ্টির পূর্বেও আপনি ছিলেন। আপনার রূপ নিত্য এবং সর্বব্যাপ্ত। তা জ্যোতির্ময়, অপরিবর্তনশীল এবং জড় গুণের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আপনার এই সমস্ত নিত্য স্বরূপ চিন্ময় এবং আনন্দময়। তারা সকলেই শুদ্ধসত্ত্বে অধিষ্ঠিত এবং সর্বদাই বিভিন্ন লীলায় রত। কোনও বিশেষ রূপের দ্বারা আপনি সীমিত নন। এই সব ক’টি নিত্য ও দিব্যরূপই স্বয়ং সম্পূর্ণ। আমি জানি যে, আপনিই হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান শ্রীবিষ্ণু।

কোটি কোটি বছরের পর, যখন ব্রহ্মার জীবনের অন্তিম সময় আসে, তখন প্রলয় হয়। সেই সময় ভূমি, জল, অগ্নি, বায়ু এবং আকাশ এই পঞ্চ মহাভূত মহত্তত্ত্বে লীন হয়ে যায়। কালের প্রভাবে তারপর মহত্তত্ত্ব অব্যক্ত প্রকৃতিতে প্রবেশ করে। প্রকৃতি প্রধানে প্রবেশ করে এবং প্রধান আপনাতে প্রবিষ্ট হয়। তাই প্রলয়ের পর কেবল আপনিই আপনার দিব্য নাম, রূপ, গুণ এবং পরিকরসহ বর্তমান থাকেন।

“হে প্রভু, শ্রদ্ধাবনত চিত্তে আমি আপনাকে প্রণতি জানাই। কেননা আপনিই হচ্ছেন অব্যক্ত প্রকৃতির পরিচালক এবং জড়া প্রকৃতির পর

Address

Pathak Kandi, Near Old Bustand, Madaripur
Dhaka
7900

Telephone

+8801911137779

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী রাধা-গিরিধারী মন্দির, মাদারীপুর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share