21/01/2026
সরস্বতী দেবীর উৎপত্তি:
পুরাণ মতে, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার মুখ থেকে সরস্বতী দেবীর আবির্ভাব।
তিনি ব্রহ্মার মানসকন্যা এবং ব্রহ্মার সৃষ্টি কার্য্যে জ্ঞান ও বাকশক্তি প্রদান করেন।
ঋগ্বেদে সরস্বতীকে প্রথমে নদী দেবী হিসেবে বর্ণনা করা হলেও পরবর্তীকালে তিনি জ্ঞানের দেবী হিসেবে পূজিত হন।
সরস্বতী দেবীর বিবরণ
সরস্বতী দেবী হলেন বিদ্যা, জ্ঞান, সঙ্গীত, কলা, বুদ্ধি ও বাকশক্তির দেবী। তিনি হিন্দু ধর্মে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতীক। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, শিল্পী ও জ্ঞানসাধকরা বিশেষভাবে তাঁর পূজা করেন।
সরস্বতী দেবীর আকার ও রূপ
সরস্বতী দেবীর রূপ অত্যন্ত শান্ত ও সৌম্য—
গায়ের রং: শুভ্র (সাদা)
পরিধান: সাদা বস্ত্র (পবিত্রতা ও সত্যের প্রতীক)
আসন: পদ্মফুল
হাতে:
বীণা – সঙ্গীত ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক
পুস্তক – জ্ঞানের প্রতীক
অক্ষসূত্র (জপমালা) – ধ্যান ও সাধনার প্রতীক
কমণ্ডলু – সংযম ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক
বাহন
সরস্বতী দেবীর বাহন হলো হাঁস (রাজহাঁস)।
হাঁসের অর্থ:
হাঁস জল ও দুধ আলাদা করতে পারে—এটি ভাল-মন্দ, সত্য-অসত্য পার্থক্য করার ক্ষমতার প্রতীক।
সরস্বতী পূজার নিয়ম
সরস্বতী পূজা সাধারণত মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে (বসন্ত পঞ্চমী) পালন করা হয়।
পূজার প্রস্তুতি
হলুদ বা সাদা বস্ত্র পরিধান
ঘর ও পূজাস্থান পরিষ্কার
বই, খাতা, কলম দেবীর সামনে রাখা
পূজার উপকরণ
ফুল (বিশেষ করে গাঁদা, বাসন্তী ফুল)
ধূপ, দীপ
ফল, মিষ্টি (খিচুড়ি, পায়েস, লাড্ডু)
অঞ্জলি দেওয়ার জন্য ফুল
পূজার নিয়ম
দেবীর ধ্যান ও আহ্বান
পুষ্প, ধূপ, দীপ নিবেদন
মন্ত্র পাঠ
অঞ্জলি প্রদান
প্রসাদ গ্রহণ
এই দিনে পড়াশোনা না করে বই দেবীর সামনে রেখে পূজা করা হয়।
সরস্বতী দেবীর মন্ত্র
প্রধান মন্ত্র
“ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ”
জ্ঞান, স্মৃতি ও বুদ্ধি বৃদ্ধি করে।
ধ্যান মন্ত্র
শুক্লাং ব্রহ্মবিচারসারপরমাং আধ্যাং জগদ্ব্যাপিনীম্।
বীণাপুস্তকধারিণীমভয়দাং জাড্য়ান্ধকারাপহাম্॥
বিদ্যা লাভের মন্ত্র
সরস্বতী নমস্তুভ্যং বরদে কামরূপিণি।
বিদ্যারম্ভং করিষ্যামি সিদ্ধির্ভবতু মে সদা॥
উপসংহার
সরস্বতী দেবী কেবল বিদ্যার দেবী নন, তিনি মানুষের নৈতিকতা, শুদ্ধ চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতার পথপ্রদর্শক। তাঁর কৃপায় মানুষ অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের আলোতে পৌঁছায়।
পূর্জার তারিখ ২৩-০১-২০২৬ (শুক্রবার)
জয় মা সরস্বতী 🙏 🙏 🙏