Al Amrain Hajj Group

Al Amrain Hajj Group " Welcome to Al Amrain Hajj Group
Your Safe Journey to the Holy Land .''

13/11/2024
আশুরার রোজা: মহররম মাস সম্মানিত হওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হলো এ মাসের দশ তারিখ। এ দশ তারিখকে শরিয়তের পরিভাষায় আশুরা বলা হয়। পব...
14/07/2024

আশুরার রোজা: মহররম মাস সম্মানিত হওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হলো এ মাসের দশ তারিখ। এ দশ তারিখকে শরিয়তের পরিভাষায় আশুরা বলা হয়। পবিত্র আশুরা ইসলামের অন্যতম একটি ফজিলতপূর্ণ দিন। ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই মানুষ এ দিনটিতে রোজা রাখত। তাদের জন্য এ দিনের রোজা ফরজ ছিল। ইসলাম আসার পর রমজানের রোজা ফরজ হলে তা সুন্নত হিসাবে গণ্য হয়। হাদিস শরিফে এমনটিই বর্ণিত হয়েছে। আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, জাহিলি যুগে আশুরার দিন কুরাইশরা ও নবি (সা.) সাওম পালন করতেন। যখন হিজরত করে মদিনায় আগমন করলেন তখন তিনি নিজেও আশুরার সাওম পালন করতেন এবং অন্যকেও তা পালনের নির্দেশ দিতেন।
আশুরার রোজা দুটি: হাদিস শরিফে রাসূল (সা.) আশুরার দুটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার কারণ হলো-ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করা। এক হাদিসে আছে, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখ’। (মুসনাদে আহমদ, ১/২৪১) ।
অন্য হাদিস আছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোজা রাখব। (সহিহ মুসলিম: ১/৩৫৯) ।
আশুরার রোজার ফজিলত: হাদিস শরিফে আশুরার দিন রোজা রাখার বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এমনকি রমজানের পর এ রোজার ফজিলত বেশি বলা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, রমজান মাসের পর সর্বোত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা (আশুরার সাওম) এবং ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হলো রাত্রের সালাত (নাসায়ী, ১৬১৩) ।
অন্য হাদিসে এসেছে, উবায়দুল্লাহ (রা.)-থেকে বর্ণিত ইবনে আব্বাস (রা.)-কে যখন আশুরার সাওম (রোজা) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল তখন তিনি তাকে বলতে শুনেছেন, নবি (সা.) রমজান মাসের ও আশুরার সাওম ব্যতীত অন্য কোনো দিনের সাওমকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। (নাসায়ী, হাদিস নং ২৩৭০) ।

হাতিমে কাবা: হাতিম মূলত কাবাঘরের অংশ। হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন কাবা নির্মাণ করেন, তখন হাতিম সহকারে কাবার সম্পূর্ণ ভীতের উপ...
13/07/2024

হাতিমে কাবা: হাতিম মূলত কাবাঘরের অংশ। হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন কাবা নির্মাণ করেন, তখন হাতিম সহকারে কাবার সম্পূর্ণ ভীতের উপরে কাবাকে নির্মাণ করেন। সুতরাং, তাওয়াফের সময় হাতিমের এই অংশ সহকারে তাওয়াফ করতে হয়।
পরবর্তীতে কুরাইশদের দ্বারা কাবার পুনঃনির্মাণকালে কাবা আয়তক্ষেত্র থেকে বর্গক্ষেত্রে রূপ নেয়। কাবার নির্মাণের সময় কুরাইশদের শুধু হালাল উপার্জন খরচ করার ওয়াদা করে। কাবার নির্মাণকাজের সূচনার পর কাবার এইরূপ বর্গাকার কাঠামোতেই তাদের হালাল অর্থ শেষ হয়ে যায়। ফলে তারা কাবাকে এই বর্গাকার আকৃতিতেই রেখে দেয়। পরবর্তীতেও যতবারই তারা কাবার পুনঃনির্মাণ করে, এই বর্গাকার কাঠামো বজায় রেখেই তারা কাবার পুনঃনির্মাণ করে।
কথিত যে, হিজরে ইসমাইলের এই স্থানে হজরত ইসমাইল (আ.) এবং তার মা হজরত হাজেরা (আ.) এর কবর রয়েছে। তবে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।
রাসূল (সা.) এর ৩৫ বছর বয়সে কুরাইশরা কাবা একবার পুনঃনির্মাণ করে। তখন প্রথমবারের মত কাবার হাতিম অংশটিকে আলাদাভাবে কাঠের কাঠামো দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়। রাসূল (সা.) তার চাচা আব্বাস (রা.) এর সঙ্গে তখন কাবার এই নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, আমি একবার নামাজ আদায়ের জন্য কাবার ভেতরে প্রবেশের জন্য গিয়েছিলাম। রাসূল (সা.) আমাকে ধরে আল-হিজরের (হাতিম) ভেতর ঢুকিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, কাবায় প্রবেশের যদি নিয়ত কর, তবে আল-হিজরের ভেতর নামাজ আদায় কর। কেননা এটিও কাবার অংশ। তোমার গোত্র একে পুনঃনির্মাণের সময় ছোট করে তৈরি করে এবং এই অংশটিকে কাবার বাইরে রেখে দেয়। (সুনানে আবু দাউদ)
হজরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি রাসূল (সা:) কে প্রশ্ন করছেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি কাবা ঘরে প্রবেশ করতে পারবো না? রাসূল (সা.) বলেন, হাতিমে প্রবেশ কর কেননা এটি এই ঘরের অংশ (সুনানে নাসায়ী)
হজরত জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেছেন, রাসূল (সা.) বলেন, যখন কুরাইশরা ইসরা-মিরাজ বিশ্বাস করেনি, আমি তখন আল-হিজরের ভেতর দাঁড়ালাম এবং আল্লাহ আমার সামনে জেরুসালেমকে তুলে ধরলেন। আমি তখন দেখে দেখে তাদের কাছে আমার দেখা বস্তুর বর্ণনা দিলাম (সহীহ বুখারী)
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, যদি তোমার গোত্র খুব সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ না করতো, তবে আমি কাবার সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করতাম এবং কাবার দরজাকে ভূমি বরাবর নিচে নামিয়ে আনতাম এবং হাতিমকে কাবার সঙ্গে এক করে দিতাম (সহীহ মুসলিম)

তথ্য: Daily Bangladesh.

***একনজরে মদীনা ইসলামী সংস্কৃতির দর্শনীয় স্থানসমূহ***মসজিদে নববি: সৌদি আরবের আল মুনাওয়ারাহ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর শহর। মদি...
11/07/2024

***একনজরে মদীনা ইসলামী সংস্কৃতির দর্শনীয় স্থানসমূহ***

মসজিদে নববি: সৌদি আরবের আল মুনাওয়ারাহ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর শহর। মদিনার প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে ‘মসজিদে নববি’। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্মাণ করেন। এখানে মাক্ববারাতুন্নাবী (সা:)সহ রয়েছে বাবে জিবরাইল, সবুজ গম্বুজ, আসহাবে সুফফা, দৃষ্টিনন্দন মিম্বার ও রিয়াজুল জান্নাহ।
মাক্ববারাতুন্নাবী (সা:): মসজিদে নববিতে আয়েশা (রা.) এর হুজরায় রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দেহ মোবারক শায়িত আছেন।মসজিদে নববির বাবুস সালাম গেট দিয়ে প্রবেশ করলে মাক্ববারাতুন্নাবী (সা:) অবস্থিত। এখানে পাশাপাশি শায়িত আছেন, ইসলামের প্রথম দুজন সম্মানিত খলিফা হযরত আবু বকর (রা) এবং হযরত উমর (রা)
জান্নাতুল বাকি: মদিনায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কবরস্থান জান্নাতুল বাকি। এটি মসজিদে নববির পূর্ব দিকে অবস্থিত।
মসজিদে কুবা: মসজিদে নববি থেকে প্রায় ৪ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে মসজিদে কুবা অবস্থিত। এটি ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় গিয়ে সর্বপ্রথম এ মসজিদ নির্মাণ করেন।
মসজিদে কিবলাতাইন: মসজিদ আল কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ মদিনায় অবস্থিত। নামাজ চলাকালে আল্লাহর নির্দেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে কিবলা পরিবর্তন করেছিলেন।
উহুদ পাহাড় ও প্রান্তর: মসজিদে নববির প্রায় পাঁচ কি.মি. উত্তরে ওহুদ পাহাড় অবস্থিত। ঐতিহাসিক এ পাহাড়ের পাদদেশে ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই পাহাড়ের পাদদেশে রাসুল (সা) এর চাচা হযরত হামজা (রা) সহকারে শুহাদয়ে উহুদ এর কবর সমূহ অবস্থিত।
মসজিদে জুমা: মসজিদে কুবা থেকে ৯০০ মিটার উত্তরে এবং মসজিদে নববির ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে মসজিদে জুমার অবস্থান। মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এই স্থানে প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন।
মসজিদে দিরার: মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য মদিনার মুনাফিকরা মসজিদে কুবার কাছে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল। ইতিহাসে মসজিদটি “মসজিদে দিরার” নামে পরিচিত।
মসজিদে গামামা: মসজিদে নববির ৫০০ মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এই মসজিদটি অবস্থিত। রাসুল (সা.) ও তার সাহাবিরা এই স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করতেন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে। তাছাড়া সালাতুল ইস্তিসকা তথা বৃষ্টির নামাজও পড়েছিলেন।
মসজিদে আবু বকর: এটি মসজিদে গামামার কাছে অবস্থিত। আবু বকর (রা.)-এর সম্মানে খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) এর শাসনামলে এটি নির্মাণ করা হয়।
মসজিদে আলি: এটি মসজিদে আবু বকরের কাছে অবস্থিত। আলি (রা.)-এর স্মরণে খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) এর সময়ে এটি নির্মিত হয়।
মসজিদে বিলাল: বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)-এর স্মরণে নির্মিত এই মসজিদ। মসজিদে নববির কাছে খানিকটা দক্ষিণ-পূর্বে এটি অবস্থিত।
খন্দকের যুদ্ধক্ষেত্র: পঞ্চম হিজরিতে আরবের সম্মিলিত মুশরিক বাহিনীর আক্রমণের প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে মদিনার প্রতিরক্ষায় মদিনার উত্তর সীমান্তের উন্মুক্ত স্থানে খন্দক খনন করেন। বর্তমানে খন্দকের কোনো চিহ্ন না থাকলেও এখানে খন্দক যুদ্ধের স্মৃতিস্বরূপ সাতটি মসজিদ নির্মাণ করে রাখা হয়েছে।
ওয়াদিয়ে জিন: মদিনা থেকে ৩০-৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত একটি ঢালু উপত্যকা। মূলত কিছু অতিলৌকিক কারণে এই স্থানটি ভ্রমণার্থীদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে।
বিরে শিফা: মদিনার একটি দূষিত ও বিষাক্ত পানির কূপ ছিল বিরে শিফা। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে থুথু নিক্ষেপ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে এর পানি সুপেয় হয়ে যায়।
বিরে উসমান: মদিনার অন্যতম সুপেয় পানির উৎস ছিল বিরে উসমান। শুরুতে এই কূপটি মদিনার এক ইহুদির মালিকানাধীন ছিল। পরে উসমান (রা.) এটি কিনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এখানে উমরাযাত্রীরা ভিড় করেন।
বাদশাহ ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স: মদিনা শহরের তাবুক সড়কে বাদশাহ ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স। এখানে প্রতিবছর লাখো কপি কোরআন ছাপা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় পবিত্র কোরআনের অর্থ ও তাফসির মুদ্রণ, ভিডিও, সিডি, ক্যাসেট প্রকাশ করা হয়। এখানে রয়েছে কোরআন গবেষণা কেন্দ্র ও পাঠাগার। প্রতি বছর লাখো কপি কোরআন ছাপা হয়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতরণ করা হয়।
বদর প্রান্তর: মদিনা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে বদর প্রান্তরের অবস্থান। দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে অবিশ্বাসী বাহিনীর সঙ্গে ইসলামের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রথম যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। আর শত্রু বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল ১ হাজার। এতে মুসলমানরা বিজয়ী হয়
বিরে গারস: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অসিয়ত অনুযায়ী এই কূপের পানি দিয়ে ইন্তেকালের পরে গোসল দেওয়া হয়।
সানিয়াতুল ওয়াদা: রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় প্রবেশের সময় এখানে অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্থানটি মসজিদে কুবার পাশে অবস্থিত।
জাবালে বারকান: কিয়ামতের আলামত হিসেবে এই পাহাড়ের ভেতর থেকে আগুন বের হবে। কুখ্যাত ইহুদি কাব বিন আশরাফের আবাসস্থল এটি।
কোরআন মিউজিয়াম: মসজিদে নববির দক্ষিণ পাশের ৫ নম্বর গেট সংলগ্ন ৩ এবং এবং ৪ নম্বর কার পার্কিংয়ের পেছনে কোরআন জাদুঘরের অবস্থান।

***একনজরে মক্কা ইসলামী সংস্কৃতির দর্শনীয় স্থানসমূহ***কাবা শরিফ: কাবাঘর আল্লাহর ঘর। পৃথিবীর প্রথম ঘর। এ ঘরকে কেন্দ্র করে ...
10/07/2024

***একনজরে মক্কা ইসলামী সংস্কৃতির দর্শনীয় স্থানসমূহ***

কাবা শরিফ: কাবাঘর আল্লাহর ঘর। পৃথিবীর প্রথম ঘর। এ ঘরকে কেন্দ্র করে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। হজ-উমরার মূল আকর্ষণ এ ঘর। সর্বপ্রথম ফেরেশতা কর্তৃক এ ঘর নির্মাণ হয়ে আদম (আ.), ইবরাহিম (আ.) ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ঘরের পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার কাজে অংশগ্রহণ করেন।
সাফা-মারওয়া পাহাড়: কাবাঘর থেকে পূর্ব দিকে দুটি উঁচু পাহাড় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। পূর্বদিকে দাঁড়িয়ে কাবার দিকে তাকালে বামের পাহাড়টি সাফা পাহাড় আর ডানের পাহাড়টি মারওয়া পাহাড়।
মাকামে ইবরাহিম: কাবাঘর নির্মাণের সময় উঁচুতে দাঁড়িয়ে দেয়াল তৈরির প্রয়োজন দেখা দিলে ইসমাইল (আ.) একটি পাথর আনেন। এ পাথরে দাঁড়িয়ে ইবরাহিম (আ.) দেয়াল নির্মাণ করেন। এটি কাবাঘরের পাশে আছে।
আরাফা ময়দান: মক্কা থেকে ১৮ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বদিকে অবস্থিত আরাফার বিস্তীর্ণ ময়দান। এ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় হজের মূল কার্যক্রম। পৃথিবীতে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) এর পুনর্মিলনের স্থান এটি।
হাতিমে কাবা: কাবাঘরের পাশে ধনুকের মতো জায়গাটি হাতিমে কাবা। এ জায়গাটুকু কাবাঘরের অংশ ছিল। কুরাইশরা অর্থ সংকটের কারণে এ জায়গাটুকু বাদ দিয়ে কাবাঘর পুনঃনির্মাণ করেছিল ।
হাজরে আসওয়াদ: কাবার কোণে লাগানো জান্নাতি পাথরের নাম ‘আল হাজরুল আসওয়াদ’। বাংলায় বলা হয় কালো পাথর। তাওয়াফের সময় এই পাথরকে স্পর্শ করা ও চুমো দেওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে হাদিসে।
মুজদালিফা: ৯ জিলহজ রাতে মুজদালিফায় অবস্থান করা হাজিদের জন্য আবশ্যক। এখানেই তারা এক আজান ও দুই ইকামতে সেদিনের মাগরিব ও ইশার নামাজ আদায় করেন। এখান থেকেই কুড়িয়ে নেন প্রায় ৭০টি কঙ্কর।
জমজম কূপ: শিশু ইসমাইল (আ.)-এর পায়ের আঘাতে তৈরি হওয়া পানির ফল্গুধারা ধীরে ধীরে জমজম কূপে রূপান্তরিত হয়। এ কূপ কাবাঘরের পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত।
মসজিদে নামিরা: আরাফা ময়দানের পশ্চিম সীমানায় অবস্থিত মসজিদে নামিরা। রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ পালনের সময় এ মসজিদে নামাজের ইমামতি করেন।
মিনা প্রান্তর: মক্কা থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরের খোলা ময়দান হলো মিনা প্রান্তর। এখানে অবস্থানের মাধ্যমে হজের কার্যক্রম শুরু হয়। এখানেই ইবরাহিম (আ.) তার প্রিয়পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির উদ্দেশ্যে মাটিতে শোয়ায়ে দিয়েছিলেন।
জাবালে সাওর: কাবা শরিফ থেকে তিন মাইল দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাহাড় জাবালে সাওর। মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে তিন দিন, তিন রাত কাটিয়েছেন।
জাবালে রহমত: আরাফার ময়দানের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত জাবালে রহমত। এখানে দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফা দিবসের শেষ প্রহর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত মোনাজাতে নিমগ্ন সময় কাটিয়েছেন।
মসজিদে খায়েফ: মসজিদে খায়েফ মিনায় অবস্থিত। এ মসজিদে ৭০ জন নবি নামাজ পড়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের সফরে এখানে নামাজ আদায় করেন।
জাবালে নুর: এ পাহাড় কাবাঘরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। এই পাহাড়ের চূড়ায় একটি গুহা রয়েছে। এই গুহাতেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কোরআন অবতীর্ণ হয়। এ গুহাকে বলা হয় গারে হেরা বা হেরা গুহা।
মসজিদে জিন: ইসলাম আবির্ভাবের প্রথম দিকে জিনদের একটি প্রতিনিধি দল এ জায়গায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ এবং কোরআনের তালিম গ্রহণ করেন।
জান্নাতুল মোয়াল্লা: জান্নাতুল মোয়াল্লা মক্কার ঐতিহাসিক ও প্রাচীন একটি কবরস্থান। এর অবস্থান মসজিদুল হারামের পূর্ব দিকে।
মক্কা জাদুঘর: মক্কার প্রাচীন চিত্র ও অবস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম মক্কা জাদুঘর। হারাম শরিফ থেকে অল্প দূরে আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থা ‘রাবেতায়ে আলমে ইসলামি’র কেন্দ্রীয় অফিসের বিপরীতে এই জাদুঘরটি অবস্থিত।
জামারাত: মিনায় অবস্থিত জামারাত হিসেবে পরিচিত তিনটি পাথরের স্তম্ভ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য নির্দিষ্ট, হজের সময় এখানে পাথর নিক্ষেপ করতে হয়।
মুলতাজাম: হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝখানের অংশটি মুলতাজাম। কেউ কেউ বলেন, খানায়ে কাবার পূর্বপাশের সম্পূর্ণ দেয়ালটিই মুলতাজাম। এটি দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
মক্কা লাইব্রেরি: সাফা-মারওয়া পাহাড়ের সাঈর স্থান থেকে পূর্ব দিকে গেলে হলুদ রঙের দোতলা বাড়িটিই মক্কা লাইব্রেরি। অনেকেই মনে করেন, এ বাড়ির ভিটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)।
মসজিদে আয়েশা বা তানিম: আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে ওঠে।
আবু কুবাইস পাহাড়: সাফা পাহাড়ের পূর্বপাশে অবস্থিত আবু কুবাইস পাহাড়। সুনানে তাবরানির এক বর্ণনা অনুসারে, জান্নাত থেকে হাজরে আসওয়াদ পাথর এনে ৪০ বছর আবু কুবাইস পাহাড়ের ওপর রাখা হয়েছিল।
পুণ্যভূমি তায়েফ: মক্কা নগরী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে তায়েফ। ঐতিহাসিক যুগের সাক্ষী তায়েফের প্রাচীন দুর্গগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

আজ থেকে শুরু হিজরি নববর্ষ। আপনি কি জানেন হিজরী ক্যালেন্ডার কীভাবে চালু হয়?ইসলাম-পূর্ব আরবের নিজস্ব কোনো ক্যালেন্ডার ছিলো...
08/07/2024

আজ থেকে শুরু হিজরি নববর্ষ।

আপনি কি জানেন হিজরী ক্যালেন্ডার কীভাবে চালু হয়?

ইসলাম-পূর্ব আরবের নিজস্ব কোনো ক্যালেন্ডার ছিলো না। কিন্তু, তারা দিন-মাসের হিশাব রাখতো। দিন-মাসের হিশাব ছিলো চাঁদের সাথে সম্পর্কিত। তারা বছরের হিশাব করতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ একটি বছরের ঘটনার মাধ্যমে।

যেমন, আমাদের বাপ-দাদাদের অনেকের কাছে কারো জন্মসাল জিজ্ঞেস করলে তারা কিন্তু ১৯৬০/১৯৭৩ এরকম কিছু বলেন না। তারা বলেন এভাবে- “সংগ্রামের বছর তার জন্ম/সংগ্রামের ২ বছর পর তার জন্ম/মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ২ বছর ছিলো’’ ইত্যাদি।

অর্থাৎ, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে ধরে তারা সাল গণনা করেন, যে ঘটনা মোটামুটি কমন।

আরবরাও এমনটি করতো। তারা কোনো বড়ো একটি ঘটনাকে ধরে সাধারণত বছর গণনা করতো। যে কারণে সীরাতগ্রন্থে দেখতে পাবেন যে, রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের বছর বলতে বলা হয় ‘হাতির বছর’। অর্থাৎ, যে বছর আবরাহা হাতি নিয়ে কাবা ঘর আক্রমণ করতে এসেছিলো।

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সময়ও আরব তথা মুসলিমদের স্বতন্ত্র কোনো ক্যালেন্ডার ছিলো না। তখন সাল বুঝানো হতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মাধ্যমে। যেমন: নবুওয়্যাতের দ্বিতীয় বছর, নবুওয়্যাতের দশম বছর ইত্যাদি; তবে মাসের গণনা ছিলো।

আরবের কাছে চারটি মাস ছিলো ‘হারাম মাস’। এই চার মাসে যুদ্ধ করা ঐতিহ্যগতভাবে ‘হারাম’ ছিলো। পবিত্র কুরআনে এই সম্পর্কে বলা আছে:

“তারা তোমাকে হারাম মাস সম্পর্কে, তাতে লড়াই করা বিষয়ে জিজ্ঞেস করে...।” [সূরা বাকারা ২:২১৭]

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখন মুসলিম বিশ্বের খলিফা। তাঁর কাছে একটি ডকুমেন্ট আসে, যে ডকুমেন্টে মাস লিখা ছিলো শাবান মাস। উমর (রাদি:) জানতে চাইলেন, এটা কোন শাবান মাস? গতো বছরের? এই বছরের? নাকি আগামী বছরের?

সাহাবীদেরকে নিয়ে তিনি মিটিং-এ বসলেন। একটি ক্যালেন্ডার নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন। কিন্তু, কোন ক্যালেন্ডারের অনুসরণ করবেন? তখনকার সময়ের প্রস্তাবিত ক্যালেন্ডার ছিলো দুটো:

👉 রোমান ক্যালেন্ডার
👉 পারসিয়ান ক্যালেন্ডার

এই দুটো ক্যালেন্ডারের কিছু সমস্যা ছিলো। রোমান ক্যালেন্ডার অনেক বিস্তৃত, সেই জুলকারনাইন থেকে যার সাল গণনা শুরু। আর পারসিয়ান ক্যালেন্ডারটি সম্রাট পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে যায়। সাহাবীরা তখন একটি স্বতন্ত্র ক্যালেন্ডার প্রণয়নের চিন্তা করলেন। [১]

এখন প্রশ্ন হলো কোন বছরকে ‘প্রাইম’ ধরা হবে? সাহাবীগণ উমরকে (রাদি:) চারটি পরামর্শ দেন।

👉 যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছেন।

👉 যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়্যাত পেয়েছেন।

👉 যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরত করেছেন।

👉 যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন।

সাহাবীরা দেখলেন যে, কোন বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছেন, আর কোন বছর তিনি নবুওয়্যাত লাভ করছেন সেটাকে ‘প্রাইম’ ধরে হিসাব করাটা সহজসাধ্য হবে না (সেই ইভেন্টগুলো ছিলো অনেক দূরের)। অন্যদিকে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকালের বছরটি বিষাদের বছর। এরকম বিষাদের বছরকে ধরে ক্যালেন্ডার বানানোর ক্ষেত্রে সবাই একমত নন। থেকে গেলো শুধু রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের বছর।

সাহল ইবনু সা’দ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন:
“লোকেরা বছর গণনায় নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়্যাত প্রাপ্তির দিন থেকে করেনি, তাঁর ইন্তেকালের দিন থেকেও করেনি; বরং তাঁর মদীনায় হিজরত হতে বছর গণনা শুরু করে।” [সহীহ বুখারী: ৩৯৩৪]

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের বছর থেকেই যে সাল গণনা শুরু হবে, এই প্রস্তাবটি দেন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। উমর (রাদি:) আলীর (রাদি:) প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। তাঁর খিলাফতের দ্বিতীয় বছরেই এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়। [২]

ইসলাম-পূর্ব এবং ইসলাম-পরবর্তী মাসের নাম একই ছিলো। অর্থাৎ, উমর (রাদি:) যখন হিজরী সাল প্রবর্তন করেন, তখন মাসের নাম আগেরগুলোই ছিলো। এই মতটি আল-বিরুনী এবং আল-মাস’উদীর। [৩]

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরত করেন সফর-রবিউল আউয়াল মাসে। তবে, ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হিসেবে রাখা হয় মহররম মাসকে। মহররমকে ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস রাখার প্রস্তাব দেন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

রবিউল আউয়ালকে বছরের প্রথম মাস না রেখে মহররমকে কেনো রাখা হলো? ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) সেটার একটি ব্যাখ্যা দেন।
হিজরতের রাস্তা উন্মুক্ত করে আকাবার দ্বিতীয় শপথ। সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো যিলহজ্জ্ব মাসে। যিলহজ্জ্ব মাসের পরবর্তী মাস, অর্থাৎ নতুন মাস হলো মহররম মাস। সেজন্য মহররম মাসকে ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হিসেবে নেওয়া হয়। [৪]

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যালেন্ডারের গণনা করা হয়েছিলো বলে ক্যালেন্ডারটি ‘হিজরী ক্যালেন্ডার’/’হিজরী সাল’ নামে পরিচিত। বর্তমান (২০২৪) হিজরী সাল হলো ১৪৪৬।

রেফারেন্স:
১। Mahd as-Sawab: 1/316.
২। Tareekh Al-Islam, Ad-Dhahabi, page 163.
৩। F.C. De Blois, "TA’RĪKH": I.1.iv. "Pre-Islamic and agricultural calendars of the Arabian peninsula", The Encyclopaedia of Islam, 2nd edition, X:260.
৪। Fath al-Bari: 7/268

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মদিনার প্রবেশ দ্বারসমূহে ফেরেশতারা প্রহর...
07/07/2024

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মদিনার প্রবেশ দ্বারসমূহে ফেরেশতারা প্রহরায় নিযুক্ত আছেন, এতে মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৮০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৭৯]

**মক্কা নগরীর মর্যাদা**মক্কা-মদিনার নাম শোনামাত্র মোমিন-হৃদয়ে আনন্দের হিল্লোল ওঠে। মনের কোণে খেলে যায় এক অপার্থিব শিহরণ।...
07/07/2024

**মক্কা নগরীর মর্যাদা**

মক্কা-মদিনার নাম শোনামাত্র মোমিন-হৃদয়ে আনন্দের হিল্লোল ওঠে। মনের কোণে খেলে যায় এক অপার্থিব শিহরণ। হৃদয়ে সৃষ্টি হয় অনিঃশেষ মধুর আমেজ। এক অদৃশ্য আকর্ষণ যেন ক্রমশ তাড়িয়ে নেয় সুদূর মক্কা-মদিনায়। ইসলামের শুভযাত্রা শুরু হয়েছিল এ নগরী থেকেই। এখানেই জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদ (সা.)। জীবনের মহাগুরুত্বপূর্ণ তেপ্পান্নটি বছর এখানেই কাটান তিনি। এখানেই নবুয়ত লাভ করেন। এ শহরেই অবস্থিত মসজিদুল হারাম। এসব কারণে মক্কাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্রতম নগরী। কোরআনের একাধিক আয়াতে এ পবিত্র নগরীর বর্ণনা এসেছে। সেসব আয়াতে এ নগরীর সম্মান, মর্যাদা, ঐতিহ্য, প্রাচীনত্ব ও গুরুত্ব সবিস্তারে ফুটে উঠেছে। ইতিহাসের পরম্পরায় সর্বযুগেই পৃথিবীর বুকে মানুষ পবিত্র মক্কার বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য অন্তরে পুষে মক্কার প্রতি আলাদা সম্মান প্রদর্শন করে আসছেন।

মক্কার মর্যাদা আল্লাহ প্রদত্ত

এ শহর অন্যান্য শহরের মতো নয় যে, সেখানে যা ইচ্ছে করা যাবে। এর রয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা। আল্লাহতায়ালা যেদিন জমিন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকেই মক্কাভূমিকে বিশেষ মর্যাদাদানে ভূষিত করেছেন। কোরআনে এসেছে, ‘আমি তো আদিষ্ট হয়েছি এ নগরীর মালিকের ইবাদত করতে, যিনি একে সম্মানিত করেছেন।’ (সুরা নামল : ৯১)। অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কাবাকে সম্মানিত ঘর এবং মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত করেছেন।’ (সুরা মায়িদা : ৯৭)। একই কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে রাসুল (সা.)-এর মুখেও। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহতায়ালা এ শহরকে হারাম করে দিয়েছেন, যখন থেকে তিনি আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ হারাম করার দ্বারা এ নগরী কেয়ামত পর্যন্ত হারাম থাকবে। আমার আগে কারও জন্য এখানে যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না, আমার জন্যও বৈধ নয়। তবে দিনের কিছু সময় বৈধতা দেয়া হয়েছিল। এখন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত তা হারাম হিসেবে থাকবে।’ (মুসলিম : ১/৪৩৭)। এ হাদিসে হারাম অর্থ সম্মান, অর্থাৎ মক্কা শরিফ হারামের সীমানা সৃষ্টির প্রথম থেকে সম্মানিত। তাতে কোনো ধরনের পাপের কাজ করা যাবে না।

মক্কা সব নগরীর মা

মক্কা নগরী ইসলাম ধর্মের প্রধানতম পবিত্র স্থান। বিশ্বের সব মুসলমান মক্কার কাবা শরিফের দিকে মুখ করেই দৈনিক অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। তা ছাড়া সমগ্র আরব উপদ্বীপেরও অন্যতম শহর হিসেবে মক্কাকে বিবেচনা করা হয়। মুসলিম জাতির কাছে এটিই পৃথিবীর পবিত্রতম ভূখণ্ড। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.) এ ভূখণ্ড থেকেই ইসলামের বাণী প্রচারের সূচনা করেন। মহানবী (সা.)-এর আগেও এ ভূমি ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাঈল (আ.)-এর পদধূলিতে ধন্য হয়। পবিত্র কোরআনে মক্কা নগরীকে একাধিক নামে সম্বোধন করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ‘উম্মুল কোরা’ বা ‘জনপদের মা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করেছি আরবি ভাষায়, যাতে আপনি সতর্ক করতে পারেন নগরগুলোর মা মক্কা ও তার চতুর্দিকের লোকজনকে।’ (সুরা শূরা : ৭)। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ মক্কাকে ‘উম্মুল কোরা’ আখ্যায়িত করে মহানবী (সা.)-কে সম্মোধন করে বলেছেন, ‘এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যতা প্রমাণকারী হিসেবে এবং যাতে আপনি উম্মুল কোরা বা মক্কাবাসী ও পার্শ্ববর্তীদের সতর্ক করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে, তারা এর প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তারা স্বীয় নামাজ সংরক্ষণ করে।’ (সুরা আনআম : ৯২)।

নিরাপদ নগরী মক্কা

কোনো কিছুতে আল্লাহর শপথ করা তার সম্মানের প্রমাণ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ মক্কার কসম খেয়েছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কসম তিন ও জাইতুনের, কসম সিনাই পর্বতের এবং কসম এ নিরাপদ শহরের।’ (সুরা তিন : ১-৩)। এ আয়াতে ‘এ নিরাপদ শহর’ বলে মক্কা নগরীকে বোঝানো হয়েছে। আরেক আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি কসম করছি এ শহরের। আর আপনি এ শহরের অধিবাসী।’ (সুরা বালাদ : ১-২)। এমনকি এ শহরে প্রবেশকারীর জন্য রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা দান। অর্থাৎ পবিত্র এ নগরীতে যে-ই প্রবেশ করবে, সে নিরাপত্তা লাভ করবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে কেউ সেখানে (মক্কায়) প্রবেশ করে, সে-ই নিরাপদ।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)।

সম্মান রক্ষায় নবীজির হুঁশিয়ারি

বিশ্ব মুসলমানের সম্মিলন স্থল পবিত্র নগরী মক্কা। আল্লাহতায়ালার ঘর কাবা সব মুসলমানের হৃদয়ের স্পন্দন। যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজ-ওমরা ও পরিদর্শনে এ পবিত্র নগরীতে প্রবেশ করবে, তাদের উচিত এ নগরীর পবিত্রতা, আদব ও সম্মান রক্ষা করা। এ পবিত্র নগরী মক্কা ও কাবার আদব এবং সম্মানের ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। সুতরাং হজ-ওমরা ও জেয়ারত উপলক্ষে যারা পবিত্র নগরী মক্কা ও বাইতুল্লায় আগমন করবে, তারা সুন্নত আদায়ে গোসল করে এ নগরীতে প্রবেশ করবে। যদি কেউ এ পবিত্র নগরী ও বাইতুল্লাহর সম্মানে মক্কায় প্রবেশের আগে গোসল করে রওনা দেয়, তবে তার সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। মহানবী (সা.) পবিত্র মক্কা নগরীর সম্মান রক্ষার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘আমার উম্মত ততদিন পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে, যতদিন তারা মক্কার যথার্থ সম্মান করবে। যখন তারা এর বিপরীত করবে, তখন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১১০)।

জ্ঞান ও ঈমানের আঁতুড়ঘর

পবিত্র মক্কা জ্ঞানের শহর। এটি এমন এক বরকতময় শহর, যেখান থেকে ইসলামের আলো প্রজ্বলিত হয়েছিল এবং এখানেই এসে শেষ হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘স্বল্পসংখ্যক ও অপরিচিত অবস্থায় ইসলামের সূচনা হয়েছিল, অচিরেই তা আবার সূচনার মতো গরিব অবস্থায় ফিরে আসবে এবং তা উভয় মসজিদের (মক্কা ও মদিনার) মধ্যবর্তী এলাকায় গুটিয়ে আসবে, যেমন সাপ তার গর্তের দিকে গুটিয়ে আসে।’ (মুসলিম : ১/১৩৩)। আরেক হাদিসে ঈমান মদিনার দিকে ফিরে আসবে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় (কেয়ামতের পূর্বক্ষণে) ঈমান মদিনার দিকে এমনভাবে ফিরে আসবে, যেমন সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে।’ (বোখারি : ১৮৭৬)।

মক্কার জন্য জাতির পিতার প্রার্থনা

মক্কা নগরী মর্যাদাবানই নয়, এ নগরীতে যারা বাস করবেন, তাদের জন্য আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আ.) অনেক গুরুত্বপূর্ণ দোয়া করেছেন। মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.) মক্কাকে হারাম হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর আল্লাহর নির্দেশে তিনি আল্লাহর ঘর কাবা নির্মাণ করেন এবং একে পবিত্র ঘোষণা করেন। এর পর মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি হজের ঘোষণা দেন এবং মক্কা নগরীর জন্য দোয়া করেন। যেই দোয়ার কল্যাণে মক্কা আজ বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তির স্থান। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘স্মরণ করুন যখন ইবরাহিম বলেছিল, হে আমার রব! এ শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার পুত্রদের মূর্তি পূজা হতে দূরে রাখুন।’ (সুরা ইবরাহিম : ৩৫)। মক্কা নগরীর অধিবাসীদের জীবন-জীবিকার প্রাচুর্যের জন্য ইবরাহিম (আ.) দোয়ায় বলেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! একে আপনি নিরাপদ নগরী করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান আনে, তাদের ফলমূল থেকে জীবিকা দান করুন।’ (সুরা বাকারা : ১২৬)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় ইবরাহিম (আ.) মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেন এবং শহরটির জন্য দোয়া করেন।’ (বোখারি : ১৮৮৩, মুসলিম : ১৩৮৩)।

আল্লাহপ্রেমীদের তীর্থভূমি

যুগ যুগ ধরে মক্কা আল্লাহপ্রেমীদের তীর্থভূমি। এ জন্য আল্লাহতায়ালা ইবরাহিম (আ.) ও তার ছেলে ইসমাঈল (আ.)-কে ইবাদতকারীদের জন্য এ নগরকে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা দুইজন পবিত্র কর আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকুণ্ডসেজদাকারীদের জন্য।’ (সুরা বাকারা : ১২৫)। এ ছাড়া মক্কা নগরী আল্লাহতায়ালার নানা নিদর্শনে ভরপুর। বিশেষভাবে রয়েছে জমজম কূপ, জান্নাত থেকে প্রেরিত দুটি পাথর- হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহিম। এরশাদ হয়েছে, ‘তাতে (মক্কায়) অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে। (যেমন) মাকামে ইবরাহিম।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)। কাতাদা ও মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘প্রকাশ্য নিদর্শনগুলোর একটি হলো, মাকামে ইবরাহিম।’ (তাফসিরে তাবারি : ৪/৮)।

মক্কায় দাজ্জাল ঢুকতে পারবে না

কেয়ামতের আগে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে দাজ্জাল সদম্ভ বিচরণ করবে। শুধু মক্কা-মদিনায় এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ঢুকতে পারবে না। তার নৈরাজ্য ও অরাজকতা থেকে মক্কা নগরী নিরাপদ থাকবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এমন কোনো ভূখণ্ড নেই, যা দাজ্জালের পদভারে মথিত হবে না। তবে মক্কা-মদিনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না।

সেখানকার প্রতিটি গলিতে ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত থাকবে। এর পর মদিনা তার অধিবাসীসহ তিনটি ঝাঁকুনি দেবে। যার ফলে আল্লাহ (মদিনা থেকে) সব কাফের ও মোনাফেককে বের করে দেবেন।’ (বোখারি : ১৮৮১, মুসলিম : ২৯৪৩)।

মিনহাজুল আরিফীন

Address

Dhaka
1230

Telephone

+8801889977510

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al Amrain Hajj Group posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Al Amrain Hajj Group:

Share