দাওয়াত ও তাবলীগ

দাওয়াত ও তাবলীগ আসুন নিজে ঈমানের মেহনত করে ঈমান ঠিক করি এবং পুরো উম্মতে মুহাম্মদীর ফিকির করি।

21/11/2025

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّكُمۡ ۚ اِنَّ زَلۡزَلَۃَ السَّاعَۃِ شَیۡءٌ عَظِیۡمٌ ﴿۱﴾ یایها الناس اتقوا ربكم ان زلزلۃ الساعۃ شیء عظیم ﴿۱﴾
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। আল-বায়ান

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, কিয়ামাতের কম্পন এক ভয়ানক জিনিস। তাইসিরুল

হে মানবমন্ডলী! তোমরা ভয় কর তোমাদের রাব্বকে; (জেনে রেখ) কিয়ামাতের প্রকম্পন এক ভয়ানক ব্যাপার। মুজিবুর রহমান

O mankind, fear your Lord. Indeed, the convulsion of the [final] Hour is a terrible thing. Sahih International

১. হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন কর(১); নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ংকর ব্যাপার।(২)
(১) হাদীসে এসেছে, সফর অবস্থায় এই আয়াত নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চঃস্বরে এর তিলাওয়াত শুরু করেন। সফরসঙ্গী সাহাবায়ে কেরাম তার আওয়াজ শুনে এক জায়গায় সমবেত হয়ে গেলেন। তিনি সবাইকে সম্বোধন করে বললেনঃ এই আয়াতে উল্লেখিত কেয়ামতের ভূকম্পন কোন দিন হবে তোমরা জানো কি? সাহাবায়ে কেরাম বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এটা সেই দিনে হবে, যেদিন আল্লাহ্ তা'আলা আদম ‘আলাইহিস সালাম-কে সম্বোধন করে বললেনঃ যারা জাহান্নামে যাবে, তাদেরকে উঠাও। আদম ‘আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করবেনঃ কারা জাহান্নামে যাবে? উত্তর হবে, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বললেনঃ এই সময়েই ত্ৰাস ও ভীতির আধিক্যে বালকরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে, গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাত হয়ে যাবে। সাহাবায়ে কেরাম একথা শুনে ভীত-বিহ্বল হয়ে গেলেন এবং প্রশ্ন করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে কে মুক্তি পেতে পারে? তিনি বললেনঃ তোমরা নিশ্চিন্ত থাক। যারা জাহান্নামে যাবে, তাদের এক হাজার ইয়াজুজ-মাজুজের মধ্য থেকে এবং একজন তোমাদের মধ্য থেকে হবে। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে, সেদিন তোমরা এমন দুই সম্প্রদায়ের সাথে থাকবে যে, তারা যে দলে ভিড়বে, সেই দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে। একটি ইয়াজুজ-মাজুজের সম্প্রদায় ও অপরটি ইবলীস ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ এবং আদম সন্তানদের মধ্যে যারা তোমাদের পূর্বে মারা গেছে, তাদের সম্প্রদায়। [তিরমিযিঃ ৩১৬৯, মুসনাদে আহমাদঃ ৪/৪৩৫, মুস্তাদরাকে হাকিমঃ ১/২৮, সহীহ ইবনে হিব্বানঃ ৭৩৫৪]

(২) আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “এবং শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছে করেন তারা ছাড়া আকাশমণ্ডলী ও যমীনের সবাই মূৰ্ছিত হয়ে পড়বে। তারপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।” [সূরা আয যুমারঃ ৬৮] এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, কেয়ামতের দুটি পর্যায় রয়েছেঃ এক) ইস্রাফিল কর্তৃক প্রথমবার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া। ঐ ফুঁক দেয়া মাত্রই সবকিছু কম্পিত হতে হতে ধ্বংস হয়ে যাবে। সে মহা ধ্বংসের কথা আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন। দুই) ইস্রাফিল কর্তৃক দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া। ঐ ফুঁক দেয়ার সাথে সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর সামনে নীত হবে। তখন হাশরের মাঠে সবাই জমায়েত হবে।

আলোচ্য আয়াতে উল্লেখিত ভূকম্পন কখন হবে অর্থাৎ কেয়ামত শুরু হওয়া এবং মনুষ্যকুলের পুনরুত্থিত হওয়ার পর ভূকম্পন্ন হবে, না এর আগেই হবে এ সম্পর্কে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেনঃ কেয়ামতের পূর্বে এই পৃথিবীতে ভূকম্পন্ন হবে এবং এটা কেয়ামতের প্রাথমিক কাজ হিসেবে গণ্য হবে। সে সময় পৃথিবী পৃষ্ঠে বসতকারীরা যে অবস্থার সম্মুখীন হবে তার চিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে অংকন করা হয়েছে। যেমনঃ “যখন শিংগায় এক ফুঁক দেয়া হবে এবং যমীন ও পাহাড় তুলে এক আঘাতে ভেঙে দেয়া হবে তখন সে বিরাট ঘটনাটি ঘটে যাবে।” [সূরা আল-হাক্কাহ ১৩–১৫]

“যখন পৃথিবীকে পুরোপুরি প্রকম্পিত করে দেয়া হবে এবং সে তার পেটের বোঝা বের করে ছুড়ে ফেলে দেবে। আর মানুষ বলবে, এর কি হলো?” [সূরা আয-যালযালাহ ১–৩] “যেদিন প্রকম্পনের একটি ঝটিকা একেবারে নাড়িয়ে দেবে এবং এরপর আসবে দ্বিতীয় ঝট্‌কা। সেদিন অন্তর কাঁপতে থাকবে এবং দৃষ্টি ভীতবিহ্বল হবে।” [সূরা আন-নাযিআত ৫–৯] “যে দিন পৃথিবীকে মারাত্মকভাবে ঝাঁকিয়ে দেয়া হবে এবং পাহাড় গুড়ো হয়ে ধূলির মতো উড়তে থাকবে।” [সূরা আল ওয়াকি আহ, ৪–৬] “যদি তোমরা নবীর কথা না মানো, তাহলে কেমন করে রক্ষা পাবে সেদিনের বিপদ থেকে, যা বাচ্চাদেরকে বুড়া করে দেবে এবং যার প্রচণ্ডতায় আকাশ ফেটে চৌচির হয়ে যাবে?” [সূরা আল মুযযাম্মিল, আয়াত ১৭–১৮] এ মতটি বেশ কিছু তাবেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে।

অপর একদল আলেমের মতে, এখানে হাশরের মাঠে যখন একত্রিত করা হবে তখনকার কথা বর্ণনা করা হচ্ছে। আর এ ব্যাপারে বিভিন্ন সহীহ হাদীসে সুস্পষ্ঠভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা আদম ‘আলাইহিস সালাম-কে যখন তার সন্তানদের থেকে জাহান্নামীদেরকে আলাদা করতে বলবেন, তখন এ অবস্থার সৃষ্টি হবে। [বুখারীঃ ৩১৭০, মুসলিমঃ ২২২]

আদম ‘আলাইহিস সালাম-কে সম্বোধন সম্পর্কিত উপরোক্ত হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, ভূকম্পন হাশর-নশর ও পুনরুত্থানের পর হবে। আর আয়াতের তাফসীরে এটাই সবচেয়ে প্রাধান্যপ্ৰাপ্ত মত। তবে কোন কোন সত্যনিষ্ঠ আলেম বলেনঃ উভয় উক্তির মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। কেয়ামতের পূর্বে ভূকম্পন হওয়া কুরআনের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমাণিত এবং হাশর-নশরের পরে হওয়া বহু সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। দু'টিই উদ্দেশ্য হতে পারে; কারণ দুটিই ভয়াবহ ব্যাপার।

26/09/2025

আবূ হুরায়রা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلاَتِ.

সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন, (১) আল্লাহ্‌র সাঙ্গে শরীক করা (২) যাদু (৩) আল্লাহ তা‘আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা (৪) সুদ খাওয়া (৫) ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল স্বভাব সতী-সাধ্বী মু’মিন নারীদের অপবাদ দেয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস ২৭৬৬ (ফুআদ আবদুল বাকী তাহকীককৃত) ২৫৭৮ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)

03/07/2025

প্রশ্ন : পুরুষদের জন্য তাদের দাদী শাশুড়ি বা নানী শাশুড়ির সাথে দেখা করার কী হুকুম? অনেকে মনে করে তাদের সাথে দেখা করার অনুমতি নেই। আসলে শরীয়ত এ ব্যাপারে কী বলে?

উত্তর : দাদী শাশুড়ি ও নানী শাশুড়ির সাথে দেখা সাক্ষাৎ করা জায়েয। তারা মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) এবং তোমাদের স্ত্রীদের মা’দেরকে তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে।-সূরা নিসা : ২৩

সকল মুফাসসির ও ফকীহগণ একমত যে উক্ত বিধানে স্ত্রীর মায়ের মা ও স্ত্রীর পিতার মাও অন্তর্ভুক্ত।

— তাফসীরে মাযহারী ২/২৭০; কিতাবুল আছল ৪/৩৬১; হেদায়া ৮/৪৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২৮;

[সূত্র : মাসিক আল কাউসার
সফর ১৪৩৬ || ডিসেম্বর ২০১৪]

29/04/2025

আমাদের দাওরা সনদের মান এমন যে, সরকারী প্রতিষ্ঠান তো দূরের কথা, কওমী মাদরাসায় খেদমতের জন্য আবেদন করলেও সেখানে তাখাসসুসের সনদ খোঁজা হয়। এর মানে কওমী মাদরাসাতেই শুধু দাওরার সনদের কোনো মান নেই আসলে। থাকবেই বা কী করে? একজন স্বাভাবিক দাওরা পাশ আলেম না ভালো করে আরবি জানেন, না জানেন তারিখ, না পারেন ভালো করে তাফসীর, কোনো ফনেই তার মাহারাত থাকে না। হাদীসের কিতাবগুলো পড়ানো হয় কোনোরকম। নয় মাসের প্যাকেজে সিহাহ সিত্তা পড়ানো হয় নামকাওয়াস্তে। তহারাত, সালাত, সিয়ামের অধ্যায়গুলো ঘুরেফিরে প্রতি বছর পড়ানো হয়। অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোতে শুধু কোনোরকম ইবারত টানা হয়। কারণ সময় নেই তো! প্যাকেজ শেষ করতে হবে। নয় মাসে ছয়টা হাদীসের কিতাব শেষ করে দাওরার সনদ দিয়ে দিতে হবে। মুয়াত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের কথা বাদই দিলাম।

অর্থাৎ, যে বিষয়গুলো শেখার জন্য মাদরাসায় পড়া হয়, সেগুলোতেই নামকাওয়াস্তে পড়া হয়। সময় শেষ করা হয় আসলে। এখন উদাহরণ দিবেন হাতেগোণা কিছু ভালো মাদরাসার কথা। এমন মাদরাসা দেশে কয়টা? সিরিয়ালে কতজন থাকবে? আর সিরিয়ালের ছাত্রদের অবস্থাও আমাদের সামনে আছে ভাই। প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষায় সময় সিরিয়ালের ছাত্রদের অবস্থা দেখে কপালে হাত দেয়া ছাড়া কিছুই করার থাকে না আমাদের।

ধরলাম আমাদের ফারেগীনদের সরকারী চাকরি লাগবে না। তারা মাদরাসায় পড়িয়ে ইলমকে জিন্দা রাখবে। তাদের বেতন দেয়া হয় কত? ১০/১২ হাজার। জি, এই যুগেও ৩০ দিন ২৪ ঘণ্টা খাটিয়ে বেতন দেয়া হয় ১০/১২ হাজার। তাও মাসের পর মাস বাকি থাকে। বেতন চাইতে গেলেই যুহদের বয়ান শোনানো হয়। অথচ অনেক মুহতামিম সাহেবদের বেতন ঠিকই ৩০/৪০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে বাসায় চলে যাচ্ছে। উস্তাদ অসুস্থতায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না, কিন্তু বড় হুজুরের বাসায় টেস্টি ট্রিটের বিস্কুট আর কেক ছাড়া নাশতা চলে না। এসব কারণে অনেক মেধাবী ফারেগীন এখন মাদরাসার শিক্ষকতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এ বছর প্রতিষ্ঠিত একটা মাদরাসায় মিশকাত জামাতের জন্য অভিজ্ঞ উস্তাদ পাওয়া যাচ্ছে না! এমন অনেক মাদরাসায় পর্যাপ্ত আবাসিক উস্তাদ নেই। পুরোনো উস্তাদরা চলে যাচ্ছেন।

কেউ পাশাপাশি অন্য কোনো পেশা গ্রহণ করতে চাইলে সেটাও নিষেধ করা হয় অনেক মাদরাসায়। তারমানে তিনি বোবা হয়ে বসে থাকবেন। আর যুহদের বয়ানে পেট ভরে আল্লাহ-আল্লাহ যিকির করবেন। দুনিয়া তার জন্য ক্ষতিকর, শুধু মুহতামিম বা বেশি কা

19/11/2024
27/09/2024

সাহাবীদের সাথে বসাবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ জানালেন যে, এখানে যারা আছেন, তাদের মধ্যে একজন জাহান্নামে যাবে!


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নামের বর্ণনা দিয়ে বললেন, জাহান্নামে যাবার পর তার দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মতো বড়ো!

সাহাবীরা বেশ আতঙ্কিত হলেন।

সাহাবীদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, এসব হাদীস শুনার পর তারা সবসময় নিজের ব্যাপারে ভাবতেন। তারা ভাবতেন, আমাকে যেন আল্লাহ হেফাজত করেন।

এমন না যে তারা খুঁজতেন, কে এমন হতে পারে?

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেদিন গুনে রাখেন ঐ বৈঠকে কারা কারা ছিলো।

তিনি দেখতে পেলেন সবাই ইন্তেকাল করেছে, শুধু জীবিত আছেন তিনি আর আরেকজন সাহাবী।

ঐ সাহাবী কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ করেন, নিয়মিত নামাজ পড়তেন, তাহাজ্জুদ পড়তেন।

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বুঝতে পারলেন, তাদের দুজনের মধ্যে যেকোনো একজন ইসলাম ত্যাগ করবেন। তিনি নিজের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করলে সেই আরেক সাহাবী, যিনি কিনা ইসলামের প্রতি খুব আন্তরিক ছিলেন, তিনি মুসাইলামা কাজ্জাবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলাম ত্যাগ করেন!

এরকম একজন 'আলেম সাহাবী' মুসাইলামার দলে যোগদান করলে অনেকেই অবাক হয়, মুসাইলামার দল আরো শক্তিশালী হয়।

একসময় যিনি ছিলেন সাহাবী, পরবর্তী যিনি ইসলাম ত্যাগ করেন, তাকে ইয়ামামার যুদ্ধে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভাই যায়িদ ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হত্যা করেন।

তার নাম আর রাজ্জাল ইবনে উনফুয়া।
Credit: আরিফুল ইসলাম

17/04/2024

সাধারণ বোনদের জন্য সমসাময়িক ইসলামী বইয়ের লিস্টঃ

ফিকহ ও জীবনবিধানঃ
মু্হাস্বনাত
আহকামুন নিসা
তোহফাতুল মুসলিমাহ

মোটিভেশন ও পরিশুদ্ধিঃ
তুমি ফিরবে বলে
ফেরা
এবার ভিন্ন কিছু হোক
বেলা ফুরাবার আগে
সালিহাত
ডাক দিয়ে যাই তোমায় হে মুসলিম তরুণী
আকাশে ওপারে আকাশ
মুক্ত বাতাসের খোঁজে
আত্মপরিচয়ের সংকট
ইউনিভার্সিটির ক্যান্টিনে
ফিরে এসো নীড়ে
ইসলামে নারীর ইলমী অবদান
হিজাব আমার পরিচয়
এখন যৌবন যার
মানসাঙ্ক
নারী ও হিজাব ( কালান্তর প্রকাশনী)
ইলাল উখতিল মুসলিমাহ
নারীবাদের আর্তনাদ

জীবনিঃ
উম্মাহাতুল মুমিনীন সিরিজ ( দ্বীন পাবলিকেশন)
নারী সাহাবীদের ঈমানদিপ্ত জীবন
সীরাতে আয়েশা ( সুলাইমান নদভী রহিমাহুল্লাহ)
নারী সাহাবীদের জীবনকথা

বিয়ে ও দাম্পত্যঃ
বিবাহপাঠ
কুররাতু আইন ১, ২
অন্দরমহল
প্রেমময় দাম্পত্য জীবন
আমানি বার্থ
বিয়ের আগে ফ্যান্টাসি নয় হোক বাস্তবিক প্রস্তুতি
দাম্পত্য জীবনের আলোকিত পথ
মাতৃত্ব ( গার্ডিয়ান থেকে প্রকাশিত)
সংসার ভাবনা
বিয়ে ( আকরাম হুসাইন)

প্যারেন্টিংঃ
সন্তান গড়ার সোনালী পাথেয়
ভাল বাবা মার দুষ্ট বাচ্চা
প্যারেন্টিং ( আমির জামান, নাজমা জামান)
শিশুমনে ঈমানের পরিচর্চা
নববী তরবিয়ত
সমকালিনের প্যারিন্টিং সিরিজ

গল্প ও উপন্যাস
এই ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নাম আমি দিতে পারছি না। তবে মুহতারাম আতিকুল্লাহ সাহেব এবং মাহিন মাহমুদ হাফিজাহুম্মাল্লাহ উনাদের বইগুলো পড়া যেতে পারে।

চিন্তা ও মতবাদঃ
ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ২, ৩
আধুনিক প্রাচ্যবাদের কবলে মুসলিম নারী সমাজ
বিহাইন্ড ফেমিনিজম
সিয়ানের নারীবাদ সিরিজ
বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে বিবাহ ও নারীবাদ
নারী স্বাধীনতার স্বরূপ
সংশয়বাদী
অভিশপ্ত রংধনু

ম্যাগাজিনঃ
ত্রৈমাসিক নারী ( আল কাউসার)

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পূরক বইঃ
অবাধ্যতার ইতিহাস
হিউম্যান বিয়িং
চিন্তাপরাধ
প্রোপাগাণ্ডা
জাহিলিয়াতের ইতিবৃত্ত

( এটা বোনদের জন্য বিশেষ একটা লিস্ট। এর বাইরে আকিদা, তাফসির, ইতিহাস, সীরাত ইত্যাদি বিষয়ে ভাই বোন সকলের জন্য একই ধরণের সাজেশন প্রজোয্য)

দ্রষ্টব্যঃ ব্যক্তিগতভাবে লিস্টটি প্রস্তুতকৃত এবং সংযোজন ও বিয়োজন যোগ্য

27/08/2023

বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন রাক্বির নাম ও যোগাযোগের উপায়ঃ
[লিস্ট দিয়েছি বলেই দৌড় দিয়ে চলে যাবেন না। নিজ দায়িত্বে খোজখবর করে যাবেন। ভাল যদি মনে না করেন যাবেন না।]
১। ঢাকা
নামঃ তাকি ইবনে ইসহাক, আব্দুল্লাহ আলমাহমুদ।
যোগাযোগঃ 01318715735
জামতলার মোড়, সাদ্দাম মার্কেট, মাতুয়াইল, ঢাকা।
পেইজ লিংকঃ https://facebook.com/ibadahbd/
নামঃ আহমাদ আম্মার, আব্দুল্লাহ আফফান।
যোগাযোগঃ 01571-773710
স্থানঃ রায়েরবাজার, ঢাকা।
পেইজ লিংকঃ https://www.facebook.com/omarruqyah
(হোম সার্ভিস দিয়ে থাকেন শর্ত সাপেক্ষে। মেয়েদের জন্য মেয়ে হিজামা থেরাপিস্ট আছেন )
নামঃ তাশফিকুর রহমান
স্থানঃ DIT , নারায়ণগঞ্জ ।
পেইজ লিংকঃ https://facebook.com/hizamaNG
(শুধুমাত্র পুরুষদের হিজামার জন্য)
২। চট্টগ্রাম
নামঃ ফারহাত হোসেন
স্থানঃ রাহাত্তারপুল।
ফোনঃ 01912375299 (সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ৭:৩০ এর মধ্যে ফোন করতে হবে)
পেইজ লিংকঃ
https://www.facebook.com/ruqyahservicebd/
নামঃ মুহাম্মাদ আনোয়ার শাহ
স্থানঃ চাঁন্দগাও, চট্টগ্রাম।
ফোনঃ
পেইজ লিংকঃ https://www.facebook.com/ruqyahcc
৩। রাজশাহী
৪। বরিশাল
নামঃ এফ জেড ইমরান
স্থানঃ বিএম কলেজ রোড।
ফোনঃ01818-423901
পেইজ লিংকঃ https://www.facebook.com/bslruqyah/
৫। সিলেট
নামঃ সাঈদ আমিন মিলাদ
স্থানঃ
ফোনঃ 01731349536
পেইজ লিংকঃ https://www.facebook.com/ruqyahservicesylhet/
৫.১। মৌলভি বাজার
নামঃ আন্ নুর রুকইয়াহ এন্ড দাওয়াহ সেন্টার,
স্থানঃ ১০/১, দক্ষিণ কলিমাবাদ।
বণবীথী রোড,(ওয়াপদা রোড, সাইফুর রহমান ষ্টেডিয়ামে র ৫০ ফুট পুর্বে গিয়ে ভিতরে,) মৌলভীবাজার ।
লালমাঠি,পাঠান টুলা।সিলেট।
ফোনঃ 01310616305
পেইজ লিংকঃ
৫.২। হবিগঞ্জ
নামঃ বিলাল আহমাদ
স্থানঃ হবিগঞ্জ
পেইজঃAssunnah Ruqayyah service
পেইজ লিংকঃ https://www.facebook.com/Assunnah-Ruqayyah-service-110166801145816/
ফোনঃ 01400262945
৬। ময়মনসিংহ
নামঃ মাহমুদ সেলিম
স্থানঃ
ফোনঃ 01723-501455
পেইজ লিংকঃ https://www.facebook.com/ruqyahcentermymensingh/
৭। লক্ষীপুর
নামঃ আয়াত হিজামা সেন্টার
স্থানঃ
ফোনঃ
পেইজ লিংকঃ
https://www.facebook.com/ayaathijama
৮। খুলনা
নামঃ রুকইয়াহ এন্ড হিজামা সার্ভিস-খুলনা
পেইজ লিংকঃ https://www.facebook.com/RHKhulna
ফোনঃ 01757-266226
আরও অনেক আছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আগে একটা ডেমো দেয়া হল। পরে আপডেট হতে পারে।

Ruqyah With Hijama Is An Alternative Treatment Solution For Diseases And Disorders

17/07/2023

একজন নারীর প্রয়োজনীয় শিক্ষা বলতে আর কী কী অন্তর্ভুক্ত করা দরকার মনে করেন।
১.
দীনীয়াত (ফরজ ইলম এবং দীনী সকল শাস্ত্রের প্রাথমিক জ্ঞান)
২.
৩টা ভাষা বুঝা-পড়া-লেখার যোগ্যতা (বাংলা-ইংরেজি-আরবি)
৩.
সাধারণ গণিত (পাটীগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি)
৪.
সাধারণ বিজ্ঞান (পদার্থ, রসায়ন, জীববিদ্যা)। মৌলিক বিষয়গুলো। একজন আর্টপড়ুয়া যতটুকু জানে, তার চেয়ে বেশি।
৬.
সামাজিক বিজ্ঞান (ইতিহাস, পৌরনীতি, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান)-এর সাথে জানাশোনা। একজন সায়েন্সপড়ুয়া যতটুকু জানে, তার চেয়ে বেশি।
৭.
কম্পিউটার দক্ষতা
৮.
রান্নাশিল্প ও এম্ব্রয়ডারি
৯.
শিশু মনোবিজ্ঞান ও শিশুশিক্ষা
১০.
পুষ্টিবিদ্যা
১১.
স্বাস্থ্যশিক্ষা (প্রাথমিক, প্রসূতি, বয়স্ক)
১২.
হোম ম্যানেজমেন্ট
১৩.
আধুনিক ফিতনা ও করণীয়

এই বিষয়গুলো আমরা আমাদের মেয়েদের শেখাতে চাই। হেদায়াতের পর যারা আর জাহেলী পরিবেশে ফিরতে চায় না, যারা পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা না করে তার সহযোগী হতে চায়, আদর্শ মা হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে চায়, তাদের জন্য আমরা কিছু পরিকল্পনা করছি।

প্রতিটি ফিল্ডে অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে কোর্স ডিজাইন করা হচ্ছে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে, কারিকুলাম নিয়ে, কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে কোনো ন্যূনতম মুসলিমই সন্তুষ্ট থাকার কথা না। না নিজ ছেলের জন্য, আর না মেয়ের জন্য। সমস্যা দেখালে বলবেন বিকল্প কই। বিকল্প তৈরির চেষ্টা করলে বলবেন : ব্যবসা করতে আইছে, মার্কেটিং করে। আজীব আপনারা ফেসবুকবাসী।

আপনাদের জন্য না৷ আপনাদের বোন-বউয়েরা ভার্সিটিতেই পড়ুক। ইডেনে, নর্থসাউথে, জাহাঙ্গীরনগরে, ঢাবিতে পড়ুক। বেগম রোকেয়া, এলজিটিভি, বিবর্তনবাদ পড়ুক। ঠেসে পড়ুক আমরা আর আশা রাখি না। যা হচ্ছে ক্যাম্পাসগুলোতে, এনাফ। আশ্চর্য বিষয় সোকল্ড ইসলামী রাজনীতি করে, এমন অনেকেও সেক্যুলার, বাম, রাম, ফেমিনিস্টদের সাথে একইসুরে আমাদেরকে গালিগালাজ করলেন।

ইনশাআল্লাহ আমাদের মেয়েরা আপনাদের মেয়েদের থেকে কম শিখবে না। একপাতা ইংরেজি লেখা দেখলেই হয়ত তুলনা করতে পারবেন। ১০ মিনিট কথা শুনলে হয়তো বুঝতে পারবেন। আপনাদের মেয়েরা অপ্রয়োজনীয় জিনিস শিখে সময় নষ্ট করবে, হয়ত চরিত্রও এবং 'রুচি'ও। আমাদের মেয়েরা কোনোটাই নষ্ট করবে না। রুচিও হবে একজন আত্মসম্মানবোধওয়ালা মুসলিমের রুচি। একটা অকেজো ডিগ্রি হয়ত আপনাদের মেয়ের ড্রয়ারে পড়ে থাকবে, আমাদের মেয়ের শিক্ষা তার প্রতিদিন কাজে লাগবে।

সহবাসে অক্ষম করার যাদু এবং এর প্রতিকারপ্রথমেই আমরা জেনে নিবো এই যাদুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণসমূহ। এই যাদুতে আক্রান্ত হলে ...
02/05/2023

সহবাসে অক্ষম করার যাদু এবং এর প্রতিকার

প্রথমেই আমরা জেনে নিবো এই যাদুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণসমূহ। এই যাদুতে আক্রান্ত হলে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের মাঝে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।

[ক] স্বামীর ক্ষেত্রে লক্ষণসমুহ
১. বিয়ের পূর্বে সুস্থ ছিল কিন্তু বিয়ের পর ক্রমশ সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
২. সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্থতা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী’রসাথে সহবাসে হঠাৎ অক্ষম হয়ে পড়েন।
৩. স্ত্রীর সাথে এমনিতে স্বাভাবিক থাকলেও একান্ত সময়ে অনুভূতি না থাকা/অনুভূতি চলে যাওয়া এবং নিজেকে শারিরিকভাবে দুর্বল লাগা।

[খ] স্ত্রী’র ক্ষেত্রে লক্ষণসমুহ
১. কুমারী মেয়েকে বিয়ের পর অকুমারী মনে হয়। এতে স্বামির মনে সন্দেহের সৃষ্টি …
২. স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে আসতে অনিচ্ছা নিয়ে বাধা দেয়।
৩. সহবাসের সময় বা এর কিছুক্ষণ পূর্বে বা পরে অনুভূতি হারিয়ে ফেলে জড় পদার্থের মতো হয়ে যায়।
৪. স্বামী কাছে আসতে চাইলে অনিচ্ছায় দুই উরু একত্রিত করে ফেলে।
৫. কেবল সহবাসের সময় জরায়ু থেকে রক্ত বের হয় অন্য সময় স্বাভাবিক থাকে।

সহবাসে অক্ষম করার যাদুতে সেলফ রুকইয়াহ বা চিকিৎসাপদ্ধতি

১. দুই সপ্তাহের জন্য যে পরিমাণ পানি লাগে সেটা বোতলে নিবেন। এরপর সেই পানিতে নিচের আয়াত/সূরাগুলা পড়ে ফুঁ দিয়ে রেডি করবেনঃ
* ফাতিহা ----- ৩ বার
* আয়াতুল কুরসি ----- ৩ বার
* আরাফ (১১৭ থেকে ১২২ আয়াত পর্যন্ত) ----- ৩ বার
* ইউনুস (৮১ এবং ৮২ নং আয়াত) ----- ৩ বার
* ত্বহা (৬৯ নং আয়াত) ----- ৩ বার
* ফুরক্বান (২৩ নং আয়াত) ----- ৩ বার
* ইনশিরাহ (আলাম নাশরাহ) ----- ৭ বার
* ইখলাস ----- ৭ বার
* ফালাক্ব ----- ৭ বার
* নাস ----- ৭ বার

২. টানা ২ সপ্তাহ দিনে দুই বেলা করে উপরের আয়াত পড়া পানি খাবেন এক গ্লাস করে। আর গোসলের পানিতে এক গ্লাস পানি মিশিয়ে গোসল দিবেন।

৩. তিন ক্বুলের রুকইয়াহ (৭ নং অডিও) শুনবেন ১বার। সাধারণ রুকইয়াহ অডিও (১১ থেকে ২২ নং এর মধ্যে যেকোন একটা) শুনবেন ১ বার। অডিও পাবেন এই লিংকেঃ www.ruqyahbd.org/download

৪. সূরা ত্বারিক শুনবেন অন্তত ১ বার। বেশি শুনতে পারলে আরো ভালো।

৫. এই যাদু নষ্টের নিয়াত করে বরই পাতার গোসল দিবেন ৫ দিন। লিংকে পাবেন নিয়মঃ https://www.facebook.com/groups/ruqyahbd/permalink/1105666429620675/

৬. হিফাযতের মাসনুন আমল করবেন গুরুত্বের সাথে আজীবন। লিংকে পাবেন বিস্তারিতঃ https://www.facebook.com/groups/ruqyahbd/permalink/940739892779997/

[নোটঃ অনেক সময় জ্বিনের সাহয্য নিয়ে এই যাদু করা হয়। সেক্ষেত্রে সাজেশন হচ্ছে সরাসরি রুকইয়াহ করে জ্বিনকে বিদায় করা পাশাপাশি উপরের সাজেশন ফলো করা]

রুকইয়াহ অডিও ডাউনলোড - Ruqyah Support BD

30/04/2023

সিজদায় দোয়া
সিজদায় গিয়ে আমি আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করি। সিজদা করাবস্থায় আমার আকুতি, আমার মিনতি, আমার দোয়া আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি মকবুল হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। তাই নিজের দুঃসময়ে, নিজের কষ্ট-সংকটে সিজদায় গিয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে চাইব, আল্লাহ তাআলার শিখিয়ে দেয়া দোয়া দিয়ে,
১: আমার আমল কবুল করার জন্য আবেদন করবো,
رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّاۤۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِیعُ ٱلۡعَلِیمُ
বাকারা: ১২৭।
২: হক থেকে বিচ্যুতির আশংকা থাকলে পড়ব,
رَبَّنَا لَا تُزِغۡ قُلُوبَنَا بَعۡدَ إِذۡ هَدَیۡتَنَا وَهَبۡ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحۡمَةًۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡوَهَّابُ
আলে ইমরান: ৮।
৩: হকপথের ওপর অটল রাখার জন্য, দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করার জন্য পড়ব,
ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَ ٰ⁠طَ ٱلۡمُسۡتَقِیمَ
সুরা ফাতিহা।
৪: দুঃখ-দুশ্চিন্তা, দুর্দশায় পড়বো,
حَسۡبِیَ ٱللَّهُ لَاۤ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَۖ عَلَیۡهِ تَوَكَّلۡتُۖ وَهُوَ رَبُّ ٱلۡعَرۡشِ ٱلۡعَظِیمِ
তাওবা: ১২৯।
৫: জীবনে ভালো কিছু হচ্ছে না? যেটাই করি, সুফল তুলে আনতে পারছি না? চাকরিবাকরি হচ্ছে না? ব্যবসায় লাভ উঠে আসছে না? পড়বো,
وَمَا تَوۡفِیقِیۤ إِلَّا بِٱللَّهِۚ عَلَیۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَیۡهِ أُنِیبُ
হুদ: ৮৮।
৬: নিজের দ্বীন-ঈমান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে? পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রভাবে ঈমান দুর্বল হয়ে গেছে? পড়বো,
رَبَّنَاۤ ءَامَنَّا بِمَاۤ أَنزَلۡتَ وَٱتَّبَعۡنَا ٱلرَّسُولَ فَٱكۡتُبۡنَا مَعَ ٱلشَّـٰهِدِینَ
আলে ইমরান: ৫৩।
رَبَّنَاۤ ءَامَنَّا فَٱكۡتُبۡنَا مَعَ ٱلشَّـٰهِدِینَ
মায়েদা: ৮৩।
৭: মন অস্থির হয়ে আছে? কোনো কাজে মন বসছে না? একটু ধৈর্য-সবর নেই? সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
رَبَّنَاۤ أَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا صَبۡرࣰا وَتَوَفَّنَا مُسۡلِمِینَ
আরাফ: ১২৬।
رَبَّنَاۤ أَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا صَبۡرࣰا وَثَبِّتۡ أَقۡدَامَنَا وَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَـٰفِرِینَ
বাকারা: ২৫০।
৮: মনটা ভীষণ খারাপ? মনটা বিষন্ন? সিজদায় লুটিয়ে গিয়ে পড়বো,
إِنَّمَاۤ أَشۡكُوا۟ بَثِّی وَحُزۡنِیۤ إِلَى ٱللَّهِ
ইউসুফ: ৮৬।
৯: নেকসন্তান দরকার? সন্তানকে নামাজি বানানোর ইচ্ছা? সিজদায় লুটিয়ে গিয়ে পড়বো,
رَبِّ ٱجۡعَلۡنِی مُقِیمَ ٱلصَّلَوٰةِ وَمِن ذُرِّیَّتِیۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلۡ دُعَاۤءِ
ইবরাহিম: ৪০।
১০: মনটা সংকুচিত হয়ে আছে? মনে কোনো আনন্দ খুঁজে পাচ্ছি না? সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
قَالَ رَبِّ ٱشۡرَحۡ لِی صَدۡرِی وَیَسِّرۡ لِیۤ أَمۡرِی
তোয়াহা: ২৫-২৬।
১১: জানাশোনা কম? লেখাপড়া কম পারি? বুঝিশুনি কম? সিজদায় লুটিয়ে বারবার পড়তে থাকবো,
رَّبِّ زِدۡنِی عِلۡمࣰا
তোয়াহা: ১১৪।
১২: নফস ও শয়তানের দৌরাত্ম্যে জীবন অতিষ্ঠ? শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে, শয়তানকে তাড়াতে সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنۡ هَمَزَ ٰ⁠تِ ٱلشَّیَـٰطِینِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن یَحۡضُرُونِ
মুমিনুন: ৯৭-৯৮।
১৩: দুরারোগ্য ব্যাধিতে জীবন জর্জরিত? রোগাবালাইয়ে জীবন ছারখার হয়ে যাচ্ছে? সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
أَنِّی مَسَّنِیَ ٱلضُّرُّ وَأَنتَ أَرۡحَمُ ٱلرَّ ٰ⁠حِمِینَ
আম্বিয়া: ৮৩।
১৪: জাহান্নামের আযাবের ভয় লাগছে? জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচতে সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
رَبَّنَا ٱصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا
ফুরকান: ৬৫।
১৫: নেককার সন্তান ও বিবি দরকার? বিবি ও সন্তান নেককার হয়নি? সিজদায় লুটিয়ে নিয়মিত বারবার পড়বো
رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ أَزۡوَ ٰ⁠جِنَا وَذُرِّیَّـٰتِنَا قُرَّةَ أَعۡیُنࣲ وَٱجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِینَ إِمَامًا
ফুরকান: ৭৪।
১৬: দুনিয়া ও আখেরাতে সব ধরণের কল্যাণ লাভের জন্য সিজদায় লুটিয়ে বারবার পড়বো,
رَبَّنَاۤ ءَاتِنَا فِی ٱلدُّنۡیَا حَسَنَةࣰ وَفِی ٱلۡـَٔاخِرَةِ حَسَنَةࣰ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ
বাকারা: ২০১।
১৭: মা-বাবার জন্য নিয়মিত সিজদায় লুটিয়ে পড়বো,
رَّبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّیَانِی صَغِیرࣰا
ইসরা: ২৪।
১৮: সমস্ত মুমিনের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করব,
رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لِی وَلِوَ ٰ⁠لِدَیَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِینَ یَوۡمَ یَقُومُ ٱلۡحِسَابُ
ইবরাহিম: ৪১।
১: কুরআন কারীমে আরো দোয়া আছে। উপরোক্ত দোয়াগুলো নিয়মিত পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে পারলে, বাকি দোয়াগুলোও আস্তে আস্তে পড়ার অভ্যেস তৈরি হয়ে যাবে।
২: কুরআন কারীমের দোয়াগুলো মোটাদাগে প্রায় সবারই মুখস্থ থাকে। কিন্তু সমস্যা হল মুনাজাতের সময় দুয়েকটার বেশি মনে আসে না। এমনটা হওয়ার কারণ দোয়াগুলো পড়ার অভ্যেস না থাকা। নিয়মিত সচেতনভাবে চেষ্টা করলে, কাজ হবে।
৩: এজন্য সহজ হল, যেসব দোয়া পারি, সেগুলোর সাথে একটা একটা করে দোয়া বাড়াতে থাকা। নতুন দোয়াটি কয়েকদিন পড়ার পর, আরেকটি দোয়া মুনাজাতের তালিকায় যোগ করা। এভাবে মেহনত চালিয়ে গেলে, দুয়েক মাসের মধ্যেই কুরআন কারিমের সমস্ত দোয়া অনায়াসেই মুনাজাতে উঠে চলে আসবে। ইন শা আল্লাহ।
৪: আরো ভালো হয়, প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট নির্ধারণ করে, কুরআন কারীমের সবগুলো দোয়া একসাথে পড়া। পড়ার সময় খেয়াল রাখা, কোন কোন দোয়া মুনাজাতের সময় আমার মুখে উঠে আসে না। সেগুলোর দিকে বাড়তি মনোযোগ দেয়া। এভাবে মেহনত করলে, একমাসও লাগবে না, সমস্ত কুরআনি দোয়া আমার যবানে গেঁথে যাবে। মনেও ইনশা আল্লাহ।
রাব্বে কারিম তাওফিক দান করুন। আমিন।

Address

Tongi Joydebpur
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দাওয়াত ও তাবলীগ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to দাওয়াত ও তাবলীগ:

Share