Duty of Islam

Duty of Islam Through this page we are convicted to convey the true and beautiful message of ISLAM to possibly every human being.

Through this Channel we are convicted to convey the true and beautiful message of ISLAM to possibly every human being.

06/08/2025

প্রথম ‘মানববিধ্বংস’ আঘাত : ৬ আগস্টের নির্মম স্বাক্ষর

৬ আগস্ট — ইতিহাসের কলঙ্কিত এক অধ্যায়। বিশ্ব মানবতার স্বঘোষিত রক্ষক ‘আমেরিকা’ এই দিনেই জাপানের নিরীহ মানুষের ওপর নিক্ষেপ করেছিল জঘন্যতম উপহার “লিটল বয়”। মুহূর্তে নির্বিচারে ঝরে যায় প্রায় ৩ লক্ষ প্রাণ।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান গর্বভরে ঘোষণা দেন — মার্কিন বিমান জাপানের “সামরিক ঘাঁটিতে” একটি বোমা ফেলেছে; যা ২০ হাজার টন TNT-এর সমান শক্তিশালী এবং ব্রিটিশ “গ্র্যান্ড স্ল্যাম”-এর তুলনায় দুশো গুণ বেশি বিধ্বংসী।

ট্রুম্যানের কথায় ফুটে ওঠে তিনটি ভয়াবহ সত্য —
১) ‘সামরিক ঘাঁটি’র তকমা লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ নিরীহ নাগরিক হত্যার বৈধতা ঘোষণা
২) মারণাস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রদর্শনে গর্ব
৩) এত বিপুল ‘হত্যাযজ্ঞেও বিন্দুমাত্র অনুশোচনার অনুপস্থিতি’

যাঁরা বলে থাকেন, জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতেই এই আঘাত প্রয়োজন ছিল — তাদের যুক্তি নস্যাৎ করে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের নিজেরই পাওয়া গোপন বার্তা, যেখানে স্পষ্ট ছিল জাপান আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্ব — কমান্ডার ডোয়াইট আইনসেনহাওয়ার, জেনারেল কার্টিস লেমে, জেনারেল কার্টার ক্লার্ক প্রমুখ — এটিকে স্পষ্টভাবে অপ্রয়োজনীয় হামলা বলে অভিহিত করেছেন।

কেবল এখানেই শেষ নয়। ১৯৪৬-এর পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন দেশে সামরিক আগ্রাসন আর অদৃশ্য যুদ্ধের নামে তারা দুই কোটিরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। সত্য বলতে — মানবতাবাদ ও গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে এ এক ভয়ংকর ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’।

মূলত ১৪৯২ সালেই আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী জন্ম ঘটে স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানদের নির্মূলের মাধ্যমে। প্রায় ৯০% আদিবাসীকে হত্যা করে তারা গড়ে তোলে নতুন উপনিবেশ — যার ভিত্তিই ছিল গণহত্যা।

তাই বলাই যায় —
এই রাষ্ট্রপতিত পতনের মাঝেই লুকিয়ে আছে বিশ্বের নিরীহ মানুষের পরিত্রাণ, মানবতার প্রকৃত মুক্তি। 🇯🇵🕊️

তথ্যসূত্র: চিন্তা অপরাধ (আসিফ আদনান)

#ইতিহাস_পুর্নপাঠ #আমেরিকা #হিরোশিমা #বিশ্বযুদ্ধ
#আসিফ_আদনান #বুকরিভিউ

04/08/2025
30/07/2025

📚 বই রিভিউ: #বিয়ন্ড_ডেমোক্রেসি

লেখক: কারেল বেকম্যান ও ফ্রাঙ্ক কারস্টেন
অনুবাদ: রাকিবুল হাসান

"গণতন্ত্রের সমস্যা হলো, একদিন সবাই বুঝে যাবে—এটা কোনো সমাধান নয়, বরং সমস্যার মূলে ওটাই দাঁড়িয়ে আছে।"

উইনস্টন চার্চিল গণতন্ত্রকে যতই "অন্তত বাজে ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো" বলে ব্যাখ্যা করে থাকুন না কেন, কারেল বেকম্যান ও ফ্রাঙ্ক কারস্টেন তাদের আলোচিত গ্রন্থ "বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি"–এ এই কথার প্রতিধ্বনি নয়, বরং তার বিপরীতে সগর্ব উচ্চারণ করেছেন: গণতন্ত্র নয় সমাধান, গণতন্ত্র নিজেই সমস্যার মূল।

এই বই যেন এক নবজাগরণী ডাক, যা আমাদের চেতনার জানালায় ধাক্কা দেয় এবং প্রশ্ন করে—আমরা কি সত্যিই শাসকের, নাকি কেবল শাসিত?

🔍 মূল ভাবনা ও বিশ্লেষণ

বইটির প্রথম অধ্যায়েই লেখকগণ গণতন্ত্র সম্পর্কিত ১৩টি প্রচলিত মিথ ভেঙে দিয়েছেন যুক্তি, ইতিহাস ও দার্শনিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিটি মিথ একেকটি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে থাকা এই ব্যবস্থার কাঁপুনি ধরানো ভিত্তি।

১️⃣ “সব ভোট গণণা হয়”—কিন্তু আমার ভোটের মূল্য মাত্র ০.০০০০০০১%!

এখানে লেখক তুলে ধরেছেন গণতন্ত্রের এক ভয়াবহ সত্য—এটি ব্যক্তি চাহিদার প্রতিফলন নয়, বরং সংখ্যার খেলা। আপনি যার জন্য ভোট দেন, সে যদি নীতিগতভাবে আপনার অধিকাংশ মতের বিরুদ্ধে থাকে, তাহলে সেই ভোট আপনার নয়—ব্যবস্থার জয়।

২️⃣ “জনগণ প্রকৃত শাসক”—বাস্তবে শাসন চলে লবিস্ট, কর্পোরেট গোষ্ঠী ও মিডিয়ার ইশারায়।

পরোক্ষ গণতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণ ভোটের দিন পর্যন্ত, বাকিটা চলে রাজনৈতিক নাটকে।

৩️⃣ “অধিকাংশের মতই সত্য”—যেখানে সংখ্যার জোরে অশুভকেও বৈধতা দেওয়া যায়, সেটা সত্যের নয়, বরং ভয়ংকর এক কুসংস্কারের পক্ষে যায়।

🏛️ গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতাগুলো লেখক উন্মোচন করেছেন এইভাবে:

• ❌ রাজনৈতিক স্বাধীনতার নামে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
→ আপনি কী পড়বেন, কী পরবেন, কোথায় যাবেন—সবই নির্ধারিত হয় আইনের মাধ্যমে।

• ❌ অর্থনৈতিক শৃঙ্খল
→ জনগণের অর্থ সরকার ‘উন্নয়ন’-এর নামে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু কত হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানানো যেত সেই প্রশ্ন কেউ তোলে না।

• ❌ সম্পদের সুষম বন্টনের মিথ
→ ধনী আরও ধনী, গরিব আরও গরিব—এটাই বাস্তবতা।

• ❌ শান্তির মোড়কে সংঘাতের বিস্তার
→ গণতন্ত্রে “অধিকার” শব্দটি হয়ে ওঠে অস্ত্র, যা বিভাজন ও সংঘাতের জন্ম দেয়।

🧠 দর্শন ও ইতিহাসের আলোকে বিচার

লেখকগণ এখানে কেবল মত দেয়নি, ইতিহাস টেনে এনেছেন যুক্তির ঘরে। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, এডমন্ড বার্ক, থমাস ম্যাখুলি—সবাই গণতন্ত্রের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা চেয়েছিলেন ব্যক্তির স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নয়।

গণতান্ত্রিক দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি যুদ্ধে জড়িয়েছে—ইরাক, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, চিলি...।

✍️ অনুবাদ ও উপস্থাপনা

রাকিবুল হাসানের অনুবাদে রয়েছে স্পষ্টতা, স্পর্ধা, এবং এক গভীর চেতনার দোলা। ভাষা সহজ, কিন্তু ভাবনার গভীরতা পাঠককে থমকে দেয়। এটি অনুবাদ নয়, যেন এক নতুন স্বর।

🌌 শেষ কথা

"বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি" কেবল একটি বই নয়—এটি একটি আয়না, যা আমাদের বলে দেয় আমরা কাদের হয়ে কাকে ভোট দিচ্ছি। এটি একটি দ্বার, যা পেরিয়ে গেলে হয়তো আপনি আর আগের মতো “গণতন্ত্র” শুনে হাততালি দিতে পারবেন না। বইটি সাহসী, বেপরোয়া, আর প্রয়োজনীয়—বিশেষ করে এই সময়ে, যখন আমরা ভাবছি আমরা শাসন করছি, অথচ আমাদের উপরেই শাসন চলছে।

গণতন্ত্র নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে। আর যদি ভাবেন, তাহলে এই বই আপনাকে নাড়িয়ে দেবে—অন্তরে, মননে ও বিবেকে।

পড়তে আগ্রহী? এই বইটা আপনার রাজনীতিচিন্তা একবার ঝাঁকিয়ে দেবে—যতটা সাহস আপনি নিতে পারেন, ঠিক ততটাই।
(ছবি:সংগৃহীত)
#বুকরিভিউ #বইকথা #বইয়েরভুবন #সিয়াসত #রাজনীতি
#গণতন্ত্র #খিলাফত #বিয়ন্ড_ডেমোক্রেসি #ইরাক #রাকিবুল_হাসান #ইউরোপ #শাসন #আফগানিস্থান

25/07/2025

মধ্যযুগে স্পেনে ইনকুইযিশান (Inquisition) হয়েছিল। এই সময় চার্চ যাকে ইচ্ছা ‘ডাইনী’ বা ‘জাদুকর’ ঘোষণা করে মেরে ফেলতে পারতো। জীবন্ত মানুষকে জনসম্মুখে পুড়িয়ে মারার মতো ভয়ংকর সব ঘটনা ঘটেছিল ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়ে। আমরা যে 'মধ্যযুগীয় নির্যাতন' (medieval torture) বলি, এই কথাটার জন্ম কিন্তু ইনকুইজিশনের সময়ের সেসব ভয়াবহ অত্যাচার থেকেই।
ইনকুইজিশনের কয়েকটা ধাপ ছিল। প্রথমে সমাজে ডাইনী আর জাদুকরদের নিয়ে খুব ভয় তৈরি করা হতো। এরপর চার্চের মতের সাথে না মিললেই কাউকে ডাইনী বা জাদুকর ঘোষণা করে, তার বিরুদ্ধে ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ কার্যকর করা হতো।
জনসমক্ষে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা আর চরম অত্যাচারের ভয়াবহ কাজের বৈধতা দেওয়া হয়েছিল সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে, আর সমাজকে রক্ষার নামে। ডাইনী আর জাদুকরদের ভয় মানুষকে এতটাই কাবু করে ফেলেছিল যে কেউ কোনো প্রশ্ন করার সাহসও পেত না।
ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে 'জং-ই বাদ দমন’ এর নামে। ডাইনী বা জাদুকরের জায়গায় এসেছে ইসলামপন্থী, শিবির বা জং-ই। চার্চের ভূমিকা নিয়েছে রাষ্ট্র আর মিডিয়া।
যাদেরকেই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী বা সেক্যুলার-প্রগতিশীলরা নিজেদের জন্য 'হুমকি' মনে করেছে, তাদের 'জঙ্গি' তকমা দেওয়া হয়েছে। তাদের ওপর আগ্রাসন চালানোর একটা বৈধতা তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে সমাজে এমন একটা মনোভাব তৈরি হয়েছে, যেখানে এই ধরনের মানুষদের মানবিক অধিকার না থাকাটাই স্বাভাবিক মনে করা হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়াটির কেন্দ্রে ছিল ‘জং-ই’ শব্দটির সামাজিক ক্ষমতা। কাউকে যখন 'জং-ই' বলা হয়, তখন তা তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতাকে বৈধতা দেয়। কাউকে ‘জং-ই’ বলার সঙ্গে সঙ্গে তার জীবন, সম্মান, অধিকার—সবকিছু মূল্যহীন হয়ে পড়ে। সে আইনের সুরক্ষা পায় না, মানবাধিকার সংগঠনের সহানুভূতি পায় না, এমনকি প্রতিবেশীর সহানুভূতিও হারিয়ে ফেলে।
সমাজের চোখে সে তখন এমন একজন মানুষে পরিণত হয় যাকে 'নির্বিচারে দমন করা যায়'।
এর ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ। গুম, ক্রসফায়ার—সবচেয়ে লাগামছাড়া, সবচেয়ে তীব্রভাবে হয়েছে তথাকথিত 'জং-ই-দের' ওপর। রাজনৈতিক কর্মীদের মানবাধিকার নিয়ে কেউ কেউ কথা বললেও, কিন্তু 'জং-ই' তকমা দিয়ে যাদের হত্যা, টর্চার, ও গুম করা হয়েছে—তাদের নিয়ে নীরবতা আজও ভাঙেনি। এই নামে কতজনকে মারা হয়েছে, তার সঠিক হিসেব সম্ভবত কারো কাছেই নেই।
আজো বাংলাদেশে কাউকে 'জং-ই' বলার অর্থ কার্যত তাকে হত্যাযোগ্য করে তোলা।
~মুসলিমবঙ্গ
(আসিফ আদনান)

17/07/2025

িভিউ:
বই: ওয়াহাবি আন্দোলন ও উলামায়ে দেওবন্দের মূল্যায়ন
লেখক: মাওলানা মনযূর নুমানি (রহ.)

#মুহাম্মদ_ইবনে_আবদুল_ওয়াহাব – ইতিহাসের এক বহুচর্চিত ও বিতর্কিত নাম। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও দাওয়াত নিয়ে যুগে যুগে নানা মত-পথের জন্ম হয়েছে। উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম যেমন মাওলানা সাহারানপুরি (রহ.) ও মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য ও ফাতওয়া প্রদান করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই মন্তব্যসমূহ কেন প্রত্যাহার করা হয়, সেই প্রেক্ষাপট ও দলিলসমূহ মাওলানা মনযূর নুমানি (রহ.) অত্যন্ত শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে এই গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছেন।

গ্রন্থটিতে লেখক মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব (রহ.) এবং উপমহাদেশের বিশিষ্ট মুজাহিদ ও মুরব্বি শাহ ইসমাইল শহীদ (রহ.) এর দাওয়াতি সাদৃশ্য সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে তিনি কেবল প্রশংসায় সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং দেওবন্দী আকাবিরদের সঙ্গে মুহাম্মদ ইবনে ওয়াহাবের আংশিক মতভেদও অকপটে তুলে ধরেছেন, যা লেখকের ন্যায়পরায়ণতা ও গবেষণাসুলভ দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ।

প্রাসঙ্গিকভাবে গ্রন্থটিতে আহমদ রেজা খান বেরেলভি কর্তৃক দেওবন্দী ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং মক্কার শরীফ হুসাইনের বিশ্বাসঘাতকতা ও তুর্কি খেলাফতের প্রতি তাঁর অবস্থান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। এছাড়াও, ফায়যুল বারী-তে মুহাম্মদ ইবনে ওয়াহাব সম্পর্কে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্য আসলে হাকীমুল উম্মত আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.)-এর কিনা, তা নিয়েও লেখক এক গবেষণালব্ধ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পেশ করেছেন।

সবশেষে, লেখক রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সুচিন্তিত মতামতের আলোকে স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন যে, দেওবন্দী আকাবিরগণ আদতে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব (রহ.)-এর সমালোচক নন।

১৯৭৮ সালে রচিত এই মূল্যবান গ্রন্থটি আজকের বাংলাদেশেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কওমী ও আহলে হাদীসদের মধ্যকার বহুদিনের ভুল বোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি গঠনে এই বই হতে পারে একটি বাস্তবসম্মত পথপ্রদর্শক।

সুসংগত ভাষা, ইতিহাসনির্ভর বিশ্লেষণ ও দলিলভিত্তিক উপস্থাপনার কারণে এই গ্রন্থটি যে কোনো জ্ঞানপিপাসু পাঠকের জন্য একটি অনন্য দলিল। মতবিরোধের জটিল গুলঞ্জল ছিন্ন করে ঐক্যের ভাষা নির্মাণে মাওলানা মনযূর নুমানি (রহ.)-এর এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

#দেওবন্দ #আকাবীর #ওয়াহাবী #সালাফী #ইংরেজ
#আদর্শেরকাফেলা #চেতনাবাঁচুক #ইতিহাসেরআলোরপথ
#কওমী #আহলে_হাদিস #তুর্কী #মতভেদ #বুকরিভিউ #মনযূর_নোমানি #গাঙ্গুহী #রেশমীরুমাল #বইকথা

14/07/2025

🕌 বালাকোটের কাফেলা: এক অপ্রতিরোধ্য জিহাদের মহাকাব্য

ভূমিকা

বালাকোটের যুদ্ধ—এ যেন উপমহাদেশের ইতিহাসে লেখা এক আগুনঝরা অধ্যায়। ৬ মে ১৮৩১, বিপ্লবের সেই ঐতিহাসিক প্রহর; যেখানে সাইয়েদ আহমদ বেরেলভী (রহ.) এর নেতৃত্বে এক কাফেলা স্বপ্ন দেখেছিল ধর্ম, স্বাধীনতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের। তিনি শহীদ হলেন, কিন্তু থেমে গেল না কাফেলা। বরং তার রক্তে সিঞ্চিত ভূমি জন্ম দিলো এমন এক আন্দোলনের, যার প্রতিধ্বনি শোনা যায় প্রায় শতাব্দীজুড়ে—সিত্তানার পাহাড় থেকে পাটনার অভিজাত দরবার অবধি।

👑 মাওলানা বিলায়াত আলি

লখনৌর বাতাসে তিনি শপথ নিয়েছিলেন এক আদর্শের। বাইয়াত করেছিলেন সাইয়েদ আহমদের হাতে—ভবিষ্যতের এক সগর্ব লড়াইয়ের। হৃদয়ে জেগে ওঠা সে দীপ্তি তাঁকে নিয়ে যায় রায়বেরেলিতে, যেখানে তিনি জ্ঞান, তরিকত ও জিহাদের পাঠ নেন। যদিও বালাকোটের সমরভূমিতে তাঁর পদচারণ হয়নি, তবে তাঁর দাওয়াতি মিশন ছড়িয়ে পড়ে হায়দ্রাবাদের অলিতে গলিতে।

পাটনার সাদেকপুরে শুরু করেন দারস, উদ্বুদ্ধ করেন হাজারো তরুণ মন। সিত্তানা থেকে ডাক এলে, প্রিয় ভাই এনায়েত আলিকে পাঠান সেখানে। এনায়েত আলির ইসলামগড় বিজয়ের পর, বিলায়াত আলিও যোগ দেন ইসলামগড়ের ঘাঁটিতে। তিনি ছিলেন সেই বাতাস, যা নিভু নিভু জ্বলন্ত শিখাকে শিখরে পৌঁছে দেয়। তবে, সময় ছিল কঠিন; বাধা আসে একের পর এক। সোয়াতের পথে যাত্রা ভঙ্গ হয়, তিনি পাটনায় ফেরত আসেন। নজরবন্দি অবস্থার পর দিল্লির আসমানে তাঁর খ্যাতির তারকা আবার উদিত হয়। ১৮৫১ সালে তিনি সিত্তানায় ফেরেন, শুরু করেন ইলম ও তাসাউফের পাঠ। ১৮৫২—তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন, রেখে যান এক অমর কাফেলার বীজ।

👑 মাওলানা এনায়েত আলি

ভ্রাতৃপ্রেম আর বিশ্বাসের এক মহাকাব্যিক নাম—এনায়েত আলি। সাইয়েদ আহমদের হাতে বাইয়াত নেওয়া এই ব্যক্তিত্ব বাংলার মাটিতে দাওয়াতি কাজ করলেও, ভাইয়ের আহ্বানে সবকিছু ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন সংগ্রামে। বিলায়াত আলির মৃত্যুর পর তিনিই দায়িত্ব নেন কাফেলার, সেই অগ্নিপথে একাকী নেতার দায়িত্ব।

তবে ইতিহাস ছিল নির্মম। ১৮৫৭-র বিদ্রোহের পর ইংরেজ নজরদারির জাল আরও আঁটসাঁট হয়ে ওঠে। অভাব, অনাহার, অস্ত্রের সংকট—সব কিছু মিলিয়ে তিনি যেন এক চলমান ধ্যানমগ্ন ত্যাগের প্রতিমূর্তি হয়ে ওঠেন। শেষমেশ ১৮৫৮ সালে, না খেতে পেয়ে, অসুস্থতায়—এই সংগ্রামী পরাজিত হন না, বরং আত্মত্যাগের সিংহাসনে আরোহণ করেন। আর ঠিক তখনই সিত্তানার দুর্গও ধ্বংস হয় ব্রিটিশ কামানের গোলায়।

👑 মাওলানা আবদুল্লাহ

বিলায়াত আলির রক্তের উত্তরাধিকার—মাওলানা আবদুল্লাহ। তিনি শুধু পিতার উত্তরসূরি নন, বরং চেতনার এক জীবন্ত মূর্তি। সিত্তানার পাশে মালকার পাহাড়ি গ্রামে গড়ে তোলেন নতুন ঘাঁটি। বাংলার শত শত তরুণ, ঢাকার তরতাজা প্রাণ এসে যোগ দেন তাঁর কাতারে। কিন্তু ব্রিটিশ কামান আবারও নেমে আসে আগুন হয়ে। যুদ্ধ, মৃত্যু, শহীদদের রক্তমাখা শস্যক্ষেত—তবুও তিনি বেঁচে থাকেন।

১৮৮৮ ও ১৮৯১ সালের লড়াইও কাফেলাকে বিজয় এনে দিতে পারেনি। অবশেষে ১৯০৬ সালে তিনিও চলে যান নীরবতার ওপারে।

👑 মাওলানা আবদুর করিম

আবদুল্লাহর সহোদর, মাওলানা আবদুর করিম—শেষ প্রহরের মুজাহিদদের মধ্যে অন্যতম এক দীপ্ত মশাল। তিনিও অংশ নেন একাধিক সংগ্রামে। সময় এগোয়, কাফেলা ছোট হতে থাকে। আর ১৯১৫ সালের সেই বিষণ্ন দিনে—একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

🔍 পর্যালোচনা

সাইয়েদ আহমদ শহীদের ত্যাগ ও বিশ্বাসের বীজ থেকে জন্ম নিয়েছিল এই কাফেলা। প্রায় ৯০ বছর ধরে তারা লড়েছে—স্রোতের বিপরীতে, সংখ্যার সীমাবদ্ধতায়, প্রিয়জন হারানোর বিষাদে।

তবে ইতিহাসে পরাজয়ের দায় শুধু শত্রুর নয়—কখনো তা হয় আপনজনের অবহেলায়। সীমান্ত অঞ্চলের সরদাররা যেমন ছিলেন কখনো বন্ধু, তেমনি আশঙ্কার মুহূর্তে হয়ে উঠতেন বিশ্বাসঘাতক। তাদের দ্বিচারিতা গেরিলা কাফেলাকে করে তোলে অসহায়, সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ।

গোলাম রসুল মেহের তাঁর ‘সারগুজাতে মুজাহিদিন’-এ লিখেছেন:

“সীমান্তের সর্দাররা ছিলেন অদ্ভুত চরিত্রের অধিকারী। বিপদের সম্ভাবনা দেখলে তারা মাওলানাকে ছেড়ে দিত, আবার নিরাপদ মনে করলেই পাশে থাকত।”

১৮৫৭-র পর মুসলমানদের এক অংশ অস্ত্র ছেড়ে ধরেন কলম। গড়ে ওঠে দেওবন্দ ও আলিগড়ের মতো বিদ্যাপীঠ, শুরু হয় চিন্তার নবজাগরণ। কংগ্রেসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুসলিম সমাজ প্রবেশ করে আধুনিক রাজনৈতিক চর্চায়। আর মুজাহিদরা? তারা বুঝে ফেলেন—এই নতুন ভারতবর্ষে তাদের স্থান নেই, তাদের স্বপ্ন এক ‘পেছনে ফেলা’ সময়ের স্মৃতি।

উপসংহার

বালাকোটের কাফেলা ছিল এক আত্মত্যাগের মহাকাব্য—যেখানে প্রতিটি শহীদের রক্তে লেখা ছিল ঈমান, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ আদর্শের ছাপ।

তারা সংখ্যায় কম ছিলেন, কিন্তু মনোবলে অদম্য। তারা পরাজিত হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া আদর্শ ছড়িয়ে পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের চেতনায়।

যখন আলিগড় ও দেওবন্দের বিদ্যাপীঠে গড়ে উঠছে চিন্তার নয়া দিগন্ত, কংগ্রেসের সভায় উচ্চারিত হচ্ছে রাজনৈতিক অধিকারের ভাষা—তখন সেই কাফেলার রক্তই যেন হয়ে উঠেছে এক প্রেরণার বাতিঘর।

তারা ছিল সময়ের আগে চলা পথিক। ইতিহাস হয়তো তাদের বিজয় দেয়নি, কিন্তু দিয়েছে অনুপ্রেরণার অমরত্ব। আর তাই, বালাকোটের কাফেলা কেবল একটি আন্দোলন নয়—এ এক চেতনার নাম, এক অনন্ত জিহাদের প্রতীক।

তথ্যসূত্র:
ভাইসরয়ের খুন~ইমরান রায়হান
#বালাকোটেরকাফেলা #ইতিহাসেরআলোরপথ
#জিহাদেরমহাকাব্য #সাইয়েদআহমদশহীদ
#মুজাহিদিন #ইসলামিকআন্দোলন #ইংরেজ
#উপমহাদেশেরইতিহাস #আত্মত্যাগেরগৌরব
#সিত্তানারপ্রতিরোধ #বাংলারগর্ব #ইমরান_রায়হান
#ঐতিহাসিকপ্রেরণা #বিলায়াতআলি #বইকথা
#এনায়েতআলি #আদর্শেরকাফেলা #বুকরিভিউ
#মুজাহিদেরচেতনা #ইমানেরজ্যোতি
#তরুণপ্রজন্মেরচেতনা #আত্মদানেরইতিহাস
#ইসলামীপ্রতিরোধ #চেতনাবাঁচুক

12/07/2025

বই রিভিউ: "আদম বোমা"
লেখক: সলিমুল্লাহ খান

এ এক বিস্ফোরণ, কাগজের পাতায় নয়—বোধের ভেতর।
সলিমুল্লাহ খানের আদম বোমা কেবল একটি গ্রন্থ নয়, বরং আধুনিক সভ্যতার মুখোশ খুলে দেখিয়ে দেয় এক বিস্মৃত ইতিহাস, বিকৃত ন্যায়বোধ, এবং ‘সভ্যতার’ নামে পরিচালিত চরম অসভ্যতার নগ্ন নগরচিত্র।

লেখকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন ভাষা একত্রে ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, গুয়ান্তানামো, মেলোস কিংবা মভি ডিক-এর উত্তাল সমুদ্রে পাঠককে টেনে নেয়। আদম বোমা বলতে কেবল পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং একেকটি মানুষ, যারা বিস্ফোরিত হয় জ্ঞানের মাধ্যমে, চিন্তার মাধ্যমে—যুদ্ধ ও ন্যায়বোধের প্রচলিত সংজ্ঞাগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সলিমুল্লাহ খান এখানে ইতিহাসকে ব্যবহার করেন অস্ত্র হিসেবে, দার্শনিককে নিয়ে আসেন সাক্ষী হিসেবে। থুকাইডাইডিসের পলোপনেশিয়ান যুদ্ধ থেকে শুরু করে গান্ধীর ব্রিটিশভক্তি, নাইপলের প্রাচ্যবিদ দৃষ্টিভঙ্গি, সাইদের প্রাচ্যবাদের বিশ্লেষণ—সব মিলিয়ে এই গ্রন্থ হয়ে ওঠে এক বৌদ্ধিক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে অস্ত্র নয়, শব্দের ধ্বনি দিয়ে ফাটিয়ে তোলা হয় আত্মতুষ্টির মিথ।

এই গ্রন্থে আত্মহুতিকারীদের নিয়ে বিতর্কও তুলে ধরা হয় নিঃসংকোচে। লেখক জিজ্ঞাসা করেন—যদি ইসা আ. কিংবা স্যামসন আত্মত্যাগ করে ‘বীর’ হন, তবে একজন ফিলিস্তিনি আত্মঘাতী কেন ‘সন্ত্রাসী’? এই প্রশ্ন স্রেফ আবেগের নয়, বরং এটি ন্যায়বোধের দার্শনিক কাঠামোকে পুনর্নির্মাণের আহ্বান।

এখানে ইতিহাস নিছক ‘যা ঘটেছিল’ তা নয়, বরং ‘কেন ঘটেছিল, এবং কে ঘটিয়েছিল’—তার আত্ম-অনুসন্ধান। লেখকের কলমে ধরা পড়ে আফগানিস্তানে আমেরিকার হামলা, ৯/১১’র পেছনের ভিন্ন রাজনীতি, তালেবানবিরোধী বয়ানের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা সৌদি রাজনীতির ছায়া। আবার ইতিহাসের পাতায় ফিরে গিয়ে মেলোসের ধ্বংসের অনুরণন শুনিয়ে দেন আফগান ভূমিতে আমেরিকার পরাজয়ের পূর্বাভাস।

গান্ধীর ‘নৈতিকতা’ এখানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, হয়তো আংশিক অবমানিতও। পাঠকের অভ্যস্ত ইতিহাসচর্চাকে লেখক চ্যালেঞ্জ করেন, কখনো বিস্ময়ে, কখনো রাগে, কখনোবা এক চিমটে বিদ্রুপে।

সলিমুল্লাহ খানের গদ্য তির্যক, প্রগাঢ় এবং এক অর্থে নাট্যবিচিত্র। পাঠের সময় মনে হয়, আপনি ইতিহাসের ক্যানভাসে হাঁটছেন, আর কেউ একজন আপনার কানে কানে বলছে, "দেখো, যা শিখেছিলে—সব সত্য নয়!"

এই বইকে বলা যায় প্রতিরোধের অভিধান—যেখানে বুদ্ধি দিয়ে প্রশ্ন করা হয়, ন্যায়ের নামে সংঘটিত অন্যায়কে। সভ্যতার মুখোশ ছিঁড়ে ফেলে দেখানো হয়—আসলে কতখানি অসভ্য আমরা, যখন ন্যায়ের সংজ্ঞাকে পশ্চিমা কোটে ফিট করে বিচার করি।

আদম বোমা শুধুই একটি বই নয়; এটি একটি মননবিস্ফোরক যাত্রা। ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি এবং সাহসিক প্রশ্নবোধ মিলিয়ে তৈরি এক অনন্য গ্রন্থ, যা পাঠকের ভিত নাড়িয়ে দেয়। সাহিত্যের গদ্যে, ইতিহাসের দলিলে, রাজনৈতিক জিজ্ঞাসায় এই বই দীর্ঘদিন অনুরণিত হতে বাধ্য।

পড়ুন, নাড়ুন, এবং নতুন করে ভাবুন—কীভাবে লেখা হয় ইতিহাস, এবং কাদের জন্য?

(ছবি~ সংগৃহীত)
#বুকরিভিউ #বইকথা #আজকের_রিভিউ #বইছবি
#সলিমুল্লাহ_খান #ইতিহাস #পুর্নপাঠ #দর্শন #রাজনীতি
#ফিলিস্থিন #আফগানিস্থান #তালেবান #গান্ধি
#বইআড্ডা #বইকথক #চেপে_রাখা_ইতিহাস #সন্ত্রাস
োমা #পারমানবিক #দুর্লভ_ইতিহাস

Address

Dhaka
1214

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Duty of Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Duty of Islam:

Share