হিসনুল মুসলিম

হিসনুল মুসলিম কুরআন ও হাদীসের দোয়ার সংকলন এবং আমলের মাসয়ালা মাসায়েল

01/07/2025

দীনের খিদমত কী জিনিস?
July 01, 2025
⸺ শামসুল আরেফিন শক্তি

ধরেন আমি ডাক্তার। এক হচ্ছে, আমি হালালভাবে ইনকাম করছি, যথাসাধ্য রোগীদের ফ্রী-ডিসকাউন্টে দেখছি, আলিম-উলামার পরামর্শে চলছি, আমলের সাথে দিন কাটাই। নিঃসন্দেহে আমার সওয়াব হচ্ছে, আমি আল্লাহর প্রিয় হচ্ছি। এবং হয়ত আখিরাতে মাফ পেয়েও যেতে পারি। কিন্তু এর দ্বারা দীনের কী ফায়দা হচ্ছে? কেউ যখন জিগ্যেস করে: আমি দীনের খেদমত কীভাবে করতে পারি। তার মানে, সে নিজের আখিরাত গোছানোর বাইরেও 'দীনের খিদমত' করতে চাচ্ছেন। এমন কিছু, যার দ্বারা...

১. দীন শক্তিশালী হবে

২. দীনের উপর আঘাত প্রতিহত হবে

৩. দীন ছড়িয়ে যাবে

৪. দীন প্রতিষ্ঠিত হবে

আলিমগণ বাই ডিফল্ট দীনের খিদমত করেন। তাঁরা মাদরাসার মাধ্যমে দীন টিকিয়ে রাখেন, ওয়াজের দ্বারা দীনকে আমাদের মনে শক্তিশালী করেন, লেখনীর দ্বারা আঘাত প্রতিহত করেন, ময়দানের দ্বারা দীনকে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের দুনিয়াদারিও ঘুরেফিরে দীনের খিদমত হয়ে যায়। কিন্তু আমরা 'লর্ড মেকোলে-র সন্তানরা' উপনিবেশী শিক্ষায় নিজেদের বুদ্ধি-বিবেক-ফিতরাত সব বিগড়ানোর পর 'দীনের খেদমত' কীভাবে করব, এইটা হল প্রশ্ন।

এক হল, আমি কীভাবে জবাবদিহি বাঁচবো? আর দুই হল, দীনের খিদমত কীভাবে করবো? ডাক্তারি ঠিকমত করলাম, আমি জাহান্নাম থেকে বাঁচলাম। দীন কী খেদমত পাইলো? উত্তর দেবার আগে বুঝতে হবে, কী বলছি। মনের আবেগে একটা জবাব ছেড়ে দিলাম, আর হয়ে গেল, মানুষ এখন এতো বোকা নেই।

ব্যক্তিগত আমল, সাফ লেনদেন ইত্যাদির সাথে সামগ্রিক দীনের খিদমতও জরুরি। দীনকে শক্তিশালী করা, দীনের উপর আঘাত প্রতিহত করা, দীন ছড়িয়ে দেয়া, দীন প্রতিষ্ঠা করা কেবল আলিমদের দায়িত্ব নয়। সমান দায়িত্ব আপনারও। যেটা কখনোই আদায় হবে না, যদি আপনি শুধুমাত্র আপনার জীবিকার কাজটাতেই লিপ্ত থাকেন। আমি সারাদিন ডাক্তারি করলে আমার পকেট ভারি হবে। তাতে দীন শক্তিশালী হবে না, আঘাত প্রতিহত হবে না, দীন ছড়াবে না। তাহলে আমরা কীভাবে দীনের খিদমত করবো?

১.

সাধারণ পর্যায়ের দীনী ইলম অর্জন করতে হবে (পূর্ণ আলিম হওয়া জরুরি না)। ইলম আমাকে হক-বাতিল চেনাবে। শত্রু-মিত্র চেনাবে। মোটামুটি ইলম থাকলে আমি আমার খেদমতের জায়গাটা চিনতে পারবো। বিশেষ করে আমার সাবজেক্ট রিলেটেড ইসলাম কী বলে, সেটুকুর ব্যাপারে আমাকে গভীরভাবে জানতে হবে।

২.

নিজ সাবজেক্টে দক্ষ হতে হবে। আমার সাবজেক্টে পশ্চিমা বক্তব্য, তত্ত্বগুলো, সমালোচনা, ফাঁকফোকর সব জানতে হবে।

৩.

এবার আমার সাবজেক্ট থেকে আমি ইসলামের দিকে তাকাবো। ইসলাম পূর্ণ জীবনবিধান। প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিষয়কে ইসলাম মানুষের গবেষণার উপর ছেড়ে দিয়েছে। ইসলামের আলাপ হিউম্যান সায়েন্স (হিউম্যানিটিস) এর সাথে বেশি সম্পর্কিত। মানব পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র-বাজার-আইন। (কমেন্টে মওলানা Iftekhar Sifat সাহেবের আলাপটি দ্রষ্টব্য)। সুতরাং আর্টসের ছাত্ররা ইসলামের ভিতর বেশি ভালো দেখতে পাবেন। তুলনামূলক ভাবনাচিন্তার দ্বারা ইসলামী আইন, ইসলামী সমাজ, ইসলামী অর্থব্যবস্থা, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার বয়ানকে শক্তিশালী করুন।

৪.

প্রযুক্তি/প্রকৌশল নিয়ে যারা পড়ছেন, সর্বোচ্চ দক্ষ হোন। যেকোনসময় আল্লাহ কাজে লাগাবেন।

৫.

চিকিৎসাবিদ্যা যারা পড়ছেন, পুঁজিবাদী একচেটিয়া বিগ ফার্মা মনোপলি ভেঙে বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলুন। '৩য় বিশ্বের ডাক্তার', 'মুসলিম ডাক্তার' এই ব্যাপারগুলো '১ম বিশ্বের বস্তুবাদী ডাক্তার' থেকে ভিন্ন। (সামনে এগুলো নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে)। কিউরেটিভ মেডিসিনের চেয়ে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন ও সামগ্রিকভাবে সুস্থতা নিয়ে কাজ করুন। অসুখ হবার পর কী করবো, তার চেয়ে অসুখ হবার আগে নিউট্রিশন ও লাইফস্টাইল ফোকাস করে দুর্বার বিপ্লব গড়ে তুলুন।

৬.

আল্লাহ তাওফিক দিলে প্রচুর অর্থ উপার্জন করুন। ভোগ সীমিত করুন। দীনী প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে প্রচুর দান করুন।

৭. তাবলীগ প্রভৃতি দাওয়াহ-র কাজে সময় দিন।

৮. গ্রামে গ্রামে পাঠাগার গড়ে তুলুন।

৯. মাদরাসা, ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করুন।

১০. এলাকায় এলাকায় কর্জে হাসানা ফান্ড গঠন করে এনজিওর হাত থেকে মুসলিমের ঈমান-আমল বাঁচান।

১১.

ক্যাম্পাসে দাওয়াহর কাজ করে উদাসীন সেক্যুলারিজমে আক্রান্ত ৮০% মুসলিম সন্তানের মনে প্রশ্ন জাগান। চিন্তার মেরুকরণ তৈরি করুন। বিকল্প সমাধান হিসেবে ইসলামের সমাধান ও যৌক্তিকতা তুলে ধরুন।

১২.

জীবন নিয়ে হতাশ সেক্যুলার বন্ধুদের উপর কাজ করুন। তাদেরকে হক্কানী তাসাউফের মেহনতকারী আলিমদের সংস্পর্শে নিয়ে যান। (যেমন: মুফতি দিলওয়ার সাহেব, মওলানা আবদুল মতীন সাহেব, প্রফেসর হামিদুর রহমান সাহেব, মওলানা উমায়ের কোব্বাদি, মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেব প্রমুখ)

১৩.

রোগাক্রান্ত সেক্যুলার বন্ধুদের পাশে সময় দিন। বিপদে যে পাশে থাকে, বিপদ কেটে গেলেও আপনার কথা সে শুনবে। এই সুযোগে তাকে আল্লাহর সাথে জুড়ুন।

১৪.

শিক্ষকতা পেশায় যান ও পরবর্তী প্রজন্মের উপর কাজ করুন। ফিতনার ভিতর দিয়েই দাওয়াহর কাজ চলে। ফিতনার ভয় করা যাবে না। ফিতনার ভিতর দাওয়াহ চলবে। আর ফিতনা থেকে বাঁচতে নিজের খুঁটো বয়স্ক আলিমের কাছে রাখবো, যাতে তিনি টেনে তুলতে পারেন। ফিতনা ছিলো না এমন কোনো যুগ ছিল না।

১৫.

যত বেশি সংখ্যক মানুষকে সম্ভব ঈমানের তাঁবুর নিচে নিয়ে আসুন। যেভাবে সম্ভব। যেমন করে হোক। শেষ যুগে ঈমান-কুফরের তাঁবু আলাদা হবে (হাদিস)। আপনার তাঁবুতে লোক বাড়াতে হবে। ইমাম সাহেব এসে মুসল্লায় দাঁড়ানোর আগেই।

আলিমগণের স্বতন্ত্র কাজ ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাঁরা তাঁদের মতো করে করছেন। কথায় কথায় 'আলিমরা কী করছেন' 'আলিমরা উদাসীন বলে সব শেষ হয়ে গেল' এসব বাচ্চামো করবেন না ভায়েরা। লক্ষ্য ও ক্ষেত্র নির্বাচন করে নীরবে কাজ করতে থাকুন, অন্যকে কাজ করতে দিন।

01/07/2025

ইসলাম : সামগ্রিক ব্যাখ্যা, প্রসঙ্গকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা

পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিতদের একটা বড় সমস্যা হল, তারা ইসলামকে বুঝতে চেষ্টা করেন কিছু দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে। অল্পকিছু বিশেষ পয়েন্টকে তাদের কেন্দ্রবিন্দু বানান, সেই কেন্দ্রবিন্দু থেকে তারা ইসলামকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। মুশকিল হল, ইসলামের ম্যাক্রো-মাইক্রো ব্যাখ্যা সবসময় এক থাকে না ; অন্তর্নিহিত জটিল সমীকরণের প্রেক্ষিতে ম্যাক্রো স্তরে অনেক কঠোর মনে হলেও মাইক্রো লেভেলে ইসলাম অনেকক্ষেত্রে 'সরল' সিদ্ধান্ত প্রদান করে, যাতে মানুষ প্রতিদিনের জীবনে সমন্বয় করে চলতে সক্ষম হয়।

ইসলাম যদি কেবল দার্শনিক ধর্ম হত, তবে আরবের বাইরে-একশো হিজরির পরে ইসলামের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত।

একটা দৃষ্টান্ত দেই, যেমন 'কোকা-কোলা' বয়কট করতে পারেন, তবে একে সরাসরি হারাম বলা খানিকটা কঠিন। আপনি যদি নিছক দার্শনিক জায়গা থেকে ব্যাখ্যা করেন, তবে আপনি বলবেন, এরচেয়ে বড় হারাম আর হতেই পারে না। যারা পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত, তারা সাধারণত এসব অন্তর্নিহিত ম্যাক্রো-মাইক্রো সমীকরণ-জটিলতাগুলো ধরতে পারেন না। কেন্দ্রীয় পয়েন্ট ধরে ধরো তক্তা মারো পেরেক ধাঁচে মতামত দিতে থাকেন।

আপনি যদি ট্র্যাডিশনাল ধারায় শিক্ষাগ্রহণ না করেন—ট্র্যাডিশনাল কোন আলেমকে অনুসরণ করতে বিব্রতবোধ করেন, আপনার মনে হয়, ট্র্যাডিশনাল আলেমরা কেন ও কীভাবে ম্যাক্রো-মাইক্রো সমীকরণগুলো ডিল করছেন, সমাধান করছেন—এগুলোকে আপনার ডবল স্ট্যান্ডার্ড বলে মনে হয়, তবে নিশ্চিত থাকেন, আপনি আদতে আধুনিকতায় প্রভাবিত।

আমাদের সমাজের একটা বড় সমস্যা হল, লোকজনের মধ্যে এখন আর আগেরমত 'ট্র্যাডিশনাল বোঝাপড়া' কাজ করে না, তারা উর্দু গজল-বেসুরো ওয়াজে প্রভাবিত হয় না। আমাদের দেশে নান্দনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের সংখ্যা অনেক কম, ক্যারিজমেটিক আলেমের প্রসঙ্গ না হয় বাদই দিলাম, কাজেই অনেকের জন্যই এখন 'ট্র্যাডিশনাল সেন্স' খুঁজে পাওয়া খানিকটা কঠিন। ট্র্যাডিশনাল সেন্স ছাড়া আপনি কীভাবে এই জটিল বিষয়গুলো বুঝবেন?

এটা অনেকের জন্যই বড় পরীক্ষা—বিশেষত যারা প্রচণ্ড আবেগ নিয়ে নতুনভাবে ইসলামে ফিরে আসছেন, তাদের ঝুঁকিটা অনেক বড়।
-ইফতেখার জামিল

04/01/2025

সুখী সমৃদ্ধ জীবনের জন্য করণীয়
-মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

আমরা সবাই সুখী হতে চাই, সুখপাখির পেছনে ছুটে ছুটেই তাই আমাদের জীবন কেটে যায়। কিন্তু বেশির ভাগ লোকই সুখপাখির দেখা না পেয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যাই। চলে যাই জীবন থেকে মহাজীবনের যাত্রায়। যে জীবনের কোনো অন্ত নেই।

যে জীবনের কোনো মৃত্যু নেই। মূলত সে জীবনের সফলতার চাবি অর্জনের জন্যই আমাদের দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আমরা দুনিয়ার মিথ্যা সুখপাখির মোহে পড়ে সেই আসল জীবনের কথাই ভুলে যাই। কিন্তু আমরা যদি পবিত্র কোরআন অনুসরণ করতে পারি, তবে উভয় জাহানের শান্তি ও পবিত্র জীবন আমরা অর্জন করতে পারি।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, অবশ্যই আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব। আর অবশ্যই আমি তাদের তারা যা করত তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দেব। (সুরা : নাহাল, আয়াত : ৯৭)

বেশির ভাগ তাফসিরবিদের মতে এখানে ‘হায়াতে তাইয়্যেবা’ বলতে দুনিয়ার পবিত্র ও আনন্দময় জীবন বোঝানো হয়েছে। আলী (রা.) এর (হায়াতে তাইয়্যেবার) অর্থ করেছেন অল্পে তুষ্টি।

দাহহাক বলেন, এখানে ‘হায়াতে তাইয়্যেবা’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, হালাল রিজিক ও দুনিয়াতে ইবাদত করার তাওফিক। কোনো কোনো তাফসিরবিদের মতে এর অর্থ আখিরাতের জীবন। হাসান, মুজাহিদ ও কাতাদা বলেন, জান্নাতে যাওয়া ছাড়া কারোই জীবন স্বাচ্ছন্দ্যময় হতে পারে না। সঠিক কথা হচ্ছে, হায়াতে তাইয়্যেবা এসব অর্থের সবগুলোকেই শামিল করে। (ইবন কাসীর)

অর্থাৎ ‘হায়াতে তাইয়্যেবা’ মানে যেমন ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার শান্তিময় ও ইবাদতপূর্ণ জীবন বোঝানো হয়েছে, তেমনি জান্নাতের স্থায়ী সুখ-শান্তিও বোঝানো হয়েছে।

অনেকের প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে দুনিয়ায় মহান আল্লাহ গুনাহগার কিংবা কাফেরদের এত সম্পদ দেন কেন! এর উত্তর হলো, এখানে পবিত্র জীবনের অর্থ এই নয় যে, সে কখনো অনাহার-উপবাস ও অসুখ-বিসুখের সম্মুখীন হবে না। বরং অর্থ এই যে, মুমিন ব্যক্তি কখনো আর্থিক অভাব-অনটন কিংবা কষ্টে পতিত হলেও দুটি বিষয় তাকে উদ্বিগ্ন হতে দেয় না। এক. অল্পে তুষ্টি এবং অনাড়ম্বর জীবন যাপনের অভ্যাস, যা দারিদ্র্যের মাঝেও কেটে যায়। দুই. তার এ বিশ্বাস যে, এ অভাব-অনটন ও অসুস্থতার বিনিময়ে আখিরাতে সুমহান, চিরস্থায়ী নিয়ামত পাওয়া যাবে। কাফের ও পাপাচারীর অবস্থা এর বিপরীত। সে অভাব-অনটন ও অসুস্থতার সম্মুখীন হলে তার জন্য সান্ত্বনার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
আর যার মধ্যে আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস থাকবে না, কষ্টের উত্তম বিনিময় পাওয়ার আশা থাকবে না, সেই হতাশাগ্রস্ত হবে। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকবে। যা কখনই কোনো মানুষকে সুখী হতে দেয় না। বরং অল্পে তুষ্টি ও আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাসই মানুষকে সুখী করে, যা ঈমান ও নেক আমল তথা ভালো কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এর মাধ্যমে আত্মা প্রশান্ত হয়। যে প্রশান্তি দুনিয়ার জীবন থেকে শুরু করে আখিরাতের অনন্ত জীবনেও স্থায়ী থাকবে। এবং আখিরাতের জীবনে পূর্ণতা লাভ করবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আমরা তো তার শ্রমফল নষ্ট করি না—যে উত্তমরূপে কাজ সম্পাদন করেছে। তারাই এরা, যাদের জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণকঙ্কণে অলংকৃত করা হবে, তারা পরবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র, আর তারা সেখানে থাকবে হেলান দিয়ে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম বিশ্রামস্থল। (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৩০-৩১)
অতএব আমাদের সবার উচিত, দুনিয়া ও আখিরাতের স্থায়ী শান্তির জন্য বেশি বেশি ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করা, ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

04/01/2025

হিসনুল মুসলিম

দোআ: দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট হবেন

সাত বার বলবে,

حَسْبِيَ اللّٰهُ لَآ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের রব্ব।

হাসবিয়াল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুয়া, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম

যে ব্যক্তি দো‘আটি সকালবেলা সাতবার এবং বিকালবেলা সাতবার বলবে তার দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট হবেন।

ইবনুস সুন্নী, নং ৭১, মারফূ‘ সনদে; আবূ দাউদ ৪/৩২১; মাওকূফ সনদে, নং ৫০৮১ আর শাইখ শু‘আইব ও আব্দুল কাদের আরনাঊত এর সনদকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, যাদুল মা‘আদ ২/৩৭৬।

15/06/2024
26/05/2024

দ্বীনের ওপর চলতে হলে, পুরো ফ্যামিলিটা দ্বীনদার না হলে দ্বীনদারির ওপর টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন, অত্যন্ত কঠিন। প্রায় অসম্ভবের মত হয়ে যায়....

— শায়খ আহমাদুল্লাহ (হাফি.)

30/01/2024

মৃত্যু নিয়ে এক ভাইয়ের কথা..

বই : এপিটাফ
26/01/2024

বই : এপিটাফ

25/01/2024

"মৃত্যু আমাদের যা শেখায়"
[মূল: হারুন ইয়াহিয়া/ ভাষান্তর: আলিমুল হক]

একেকটি মূহুর্ত কাটে, আর আমাদের জীবনের মেয়াদ কমে। একেকটি দিন কাটে, মানুষ চলে যায় মৃত্যুর আরো খানিকটা কাছাকাছি। মৃত্যু কাছে চলে আসছে–এ-কথা যেমন অন্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি প্রযোজ্য আপনার জন্যও। আপনি এ-ব্যাপারে সচেতন আছেন কি?

কুরআন বলছে: ‘প্রত্যেক জীব-ই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করিবে। অবশেষে তোমাদের সবাইকে আমাদের নিকট ফিরাইয়া আনা হইবে।’–(সুরা আল আনকাবুত, আয়াত: ৫৭)। অতীতে যারা-ই এ-দুনিয়াতে এসেছিলেন, তাঁদের সবার জন্য নির্ধারিত ছিল মৃত্যুর দিনক্ষণ। কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া-ই, তাদের সবাইকে মরতে হয়েছে। যারা চলে গেছেন, আজ তাঁদের মধ্যে খুব কম লোকেরই চিহ্ন খুজে পাই আমরা। আর যারা বেঁচে আছেন, এবং ভবিষ্যতে যারা বাঁচবেন–তাদের সবাইকে নির্ধারিত সময়ে মরতে হবে। অথচ মানুষের হাব-ভাব দেখলে মনে হয়, তাঁরা মনেই করে না যে, তাদের একদিন মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে।

ভাবুন সে-শিশুর কথা, যে এইমাত্র পৃথিবীর আলোয় চোখ মেলে তাকিয়েছে। ভাবুন তাঁর কথাও, যে শেষবারের মতো এ-পৃথিবীর বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। নিজেদের জন্ম ও মৃত্যুর ওপর এদের দুজনের কোনোভাবেই কোনো হাত নেই। একমাত্র আল্লাহই জীবন দিতে পারেন এবং জীবন নিতেও পারেন। এ-ব্যাপারে তিনিই একক ক্ষমতার অধিকারী।

সব মানুষই একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকবে এবং তারপর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। অবধারিত
এ-মৃত্যুর প্রতি মানুষের মনোভাব কী? কুরআনের বক্তব্য থেকে মেলে প্রশ্নটির উত্তর:“ বল (হে মুহাম্মাদ!),‘ তোমরা যে-মৃত্যু হইতে পলায়ন কর, সে-মৃত্যুর সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাৎ হইবে-ই। অতপর তোমাদের ফিরাইয়া আনা হইবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট এবং তোমাদের জানাইয়া দেওয়া হইবে যাহা তোমরা করিতেছিলে’।”–(সুরা আল জুমুয়া, আয়াত: ৮)।

অধিকাংশ মানুষ-ই মৃত্যু-ভাবনা এড়িয়ে চলেন। দৈনন্দিন জীবনে মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন সব বিষয়াদির মাঝে নিজেদের ব্যাপৃত রাখে। কোন কলেজে ভর্তি হতে হবে, কোন কোম্পানিতে চাকুরি নিতে হবে, আগামীকাল সকালে কোন রং-এর পোশাক পরিধান করতে হবে, দুপুরের জন্য কোন খাবার তৈরী করতে হবে–এ-ধরনের বিভিন্ন বিষয়ই তাঁর চিন্তার রাজ্যে পায় অগ্রাধিকার। তাঁর কাছে এ-রকম ছোটো-খাটো বিষয়গুলোর সমষ্টি-ই হচ্ছে জীবন। মৃত্যু-ভাবনা কখনো তাঁকে তাড়িত করে না। কদাচিৎ মৃত্যু প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে, সে সবসময় অন্যের দ্বারা হয় নিরুৎসাহিত। কারণ, তাঁরা মৃত্যুর কথা শুনতে সহজবোধ করেন না। বুড়ো হয়ে গেলেই কেবল মৃত্যু আসবে–এটা ধরে নিয়েই মানুষ মৃত্যুর মতো ‘অপ্রিয়’ বিষয়ের সঙ্গে নিজেকে এখনই জড়াতে চায় না। অথচ বয়স যা-ই হোক, একজন মানুষ আগামী এক ঘন্টা বেঁচে থাকবে–এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। প্রতিদিন সে অন্যের মৃত্যু দেখে, কিন্তু সেদিনের কথা খুব কমই ভাবে যেদিন অন্যরা তাঁর মৃত্যু প্রত্যক্ষ করবে। তেমন এক অবধারিত পরিণতির কথা সে যেন ভাবতেই পারে না!

বাস্তবতা হচ্ছে, যখন মৃত্যু এসে দুয়ারে দাঁড়ায়, তখন জীবনের আর সব ‘বাস্তবতা’ হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়। ভাবুন তো এ-মূহুর্তে আপনি কী কী করতে পারেন: আপনি চোখ মেলে তাকাতে পারেন, শরীর নাড়াতে পারেন, কথা বলতে ও হাসতে পারেন। এ-সবই আপনার শরীরের কাজ। এখন ভাবুন আপনার শরীরের সে-সময়ের আকৃতি ও অবস্থার কথা, যখন আপনার শরীরে প্রাণ থাকবে না অর্থাৎ আপনি মারা যাবেন।

শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পরমূহুর্ত থেকেই আপনি একতাল মাংসপিন্ড বৈ আর কিছু নন। আপনার নীরব ও নিথর দেহটিকে শেষবারের মতো গোসল দেয়া হবে। তারপর সাদা কাফনে জড়িয়ে এবং লাশবাহী খাটিয়ায় শুইয়ে সেটিকে নিয়ে যাওয়া হবে কবরস্থানে, কবরে নামিয়ে ঢেকে দেয়া হবে মাটি দিয়ে। আপনার জীবন-কাহিনীর এখানেই ঘটবে সমাপ্তি। আপনি এখন শুধুই স্মৃতি।

প্রথম কয়েক মাস বা কয়েক বছর আপনার কবর জিয়ারত করা হবে ঘন ঘন। সময় যত গড়িয়ে যাবে, আপনার কবর জিয়ারতকারীদের সংখ্যাও তত কমতে থাকবে। কয়েক দশক পরে, সে-সংখ্যা এসে দাঁড়াবে শুন্যের কোঠায়।

এদিকে আপনার মৃত্যুতে আপনার পরিবারের সদস্যদের অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আপনার ঘর ও বিছানা খালি করা হবে। শেষকৃত্যের পর আপনার ফেলে-যাওয়া জিনিষপত্রের খুব কমই ঘরে রাখা হবে। আপনার কাপড়-চোপড়, জুতো, ইত্যাদি গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হবে। প্রথম কয়েক বছর কেউ কেউ আপনার জন্য কাঁদবে। কিন্তু সময় আপনার ফেলে-যাওয়া স্মৃতিকে ক্রমশই ম্লান করে দেবে। চার বা পাঁচ দশক পর আপনাকে স্মরণ করার জন্য খুব কম মানুষ রয়ে যাবে। আরো পরে নতুন নতুন প্রজন্ম পৃথিবীতে আসবে এবং আপনার প্রজন্মের কেউ আর বেঁচে থাকবে না। আপনাকে কেউ মনে রাখলো কি রাখলো না–তা আপনার জন্য হয়ে যাবে মূল্যহীন।

মাটির ওপরে যখন ঘটবে ওসব ঘটনা, তখন মাটির নীচে আপনার দেহটি দ্রুত ক্ষয়ে যেতে থাকবে। কবরে আপনাকে শুইয়ে দেয়ার পরপরই অক্সিজেনের অভাবের সুযোগে লাশের মধ্যকার ব্যাকটেরিয়া ও কীটগুলো সক্রিয় হবে। এরা যে-গ্যাস রিলিজ করবে তা লাশকে ফুলিয়ে দেবে এবং এর আকৃতি ও চেহারা দেবে পাল্টে। গ্যাসের চাপে মুখ ও নাখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে রক্তময় ফেনাসদৃশ পদার্থ। শরীরের চুল, নখ, করতল ইত্যাদি খসে পড়বে। বাইরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যেমন- ফুসফুস, হার্ট, যকৃত ইত্যাদিও ধ্বংস হবে। এরই মধ্যে ঘটবে সবচে কুৎসিত ব্যাপারটি: পেটের ভেতরে জমতে থাকা গ্যাসের চাপ সহ্য করতে না-পেরে পেটের চামড়া যাবে ফেটে এবং পেট থেকে বেরিয়ে আসবে দূর্গন্ধময় তরল পদার্থ। শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে মাংসপেশী খুলে খুলে পড়বে এবং মগজ পচে গিয়ে কাদার মতো হয়ে যাবে। এভাবে ধীরে ধীরে দেহের কংকালটি ছাড়া গোটা শরীরটাই মাটিতে যাবে মিশে ।

এখন পুরোনো জীবনে ফিরে যাবার কোনো সুযোগ আর নেই। খাবার টেবিলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেতে বসা, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা, বা একটি সম্মানজনক চাকুরী পাওয়া–ইত্যাদি কোনো কিছুই আর সম্ভব নয়। সংক্ষেপে বললে, মাংস ও হাড়ে গড়া আপনার যে-শরীরটাকে সমাজ একটা পরিচিতি দিয়েছে, সেটির একটা বাজে পরিণতি ঘটবে। অন্যদিকে, আপনি বা আপনার আত্মা ওই শরীরটা ত্যাগ করবেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পরমূহুর্তেই। আত্মাহীন আপনার প্রিয় শরীর বা আপনার ‘বাকি অংশ’ হয়ে যাবে মাটির অংশ।

এ-সবই ঘটবে। কিন্তু কেন ঘটবে?

আল্লাহ চাইলে মরদেহের অমন করুণ পরিণতি ঘটতো না। অথচ আপনার মৃত্যুর পর এমনটি ঘটবে এবং সব মানুষের ক্ষেত্রে তা-ই ঘটে; কারণ, এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সবার কাছে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ বা বার্তা পৌঁছে দিতে চান। তিনি চান মানুষের বোধোদয় ঘটুক; মানুষ উপলব্ধি করুক যে, বাইরের শরীরটা-ই সে নয়। বরং সে আসলে একটি আত্মা, শরীরটা যাকে ধারণ করে আছে। অন্যভাবে বললে, শরীরের বাইরেও তাঁর একটি অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ চান না মানুষ তাঁর শরীরের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি সম্পর্কে উদাসীন থাকুক। তাঁর প্রিয় শরীরটি যে হঠাৎ করেই একদিন নিথর হয়ে যাবে, পরিণত হবে কীট-পতঙ্গের খাদ্যে–এ-কঠিন সত্যটি মানুষ ভুলে থাকুক তা মহান স্রষ্টা চান না। তিনি চান মানুষ সে-দিনটির জন্য মনে মনে সদাপ্রস্তুত থাকুক, যে-দিনটি হয়তো খুব কাছেই চলে এসেছে।

অথচ অধিকাংশ মানুষ-ই মৃত্যুকে ভুলে থাকে, এড়িয়ে চলে মৃত্যু-ভাবনাকে। আসলে মানুষের প্রকৃতিই এমন যে, সে যা পছন্দ করে না তা এড়িয়ে চলতে চায়। এমনকি কখনো কখনো সে তাঁর অপছন্দনীয় জিনিষের অস্তিত্বই অস্বীকার করে বসে। মানুষ মরতে চায় না। তাই মৃত্যুকে, মৃত্যু-চিন্তাকে সে এড়িয়ে চলতে চায়। কোনো আপনজন মারা গেলে তাঁর মনে পড়ে মৃত্যুর কথা। কিন্তু তা খুব বেশী সময়ের জন্য নয়। সে আবার বেখেয়াল হয়ে পড়ে। প্রায় সব মানুষ-ই মনে করে যে, মৃত্যু তাঁর কাছ থেকে অনেক দূরে রয়েছে। সে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় মানুষ মরার খবর পায়, শোনে ঘুমের মধ্যে অন্যের মৃত্যুর কথা; কিন্তু কখনোই ভাবে না যে, হঠাৎ একদিন তাঁর অবস্থাও অমন হতে পারে। প্রত্যেকেই ভাবে যে, তাঁর মৃত্যুর এখনো সময় হয়নি এবং সে আরো অনেক দিন বাঁচবে।

স্কুলে যাবার পথে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং-এ যাবার সময় হঠাৎ করেই যে-মানুষগুলো মারা গিয়েছে, তাঁরা-ও ওই একই কথা ভেবেছিল। সম্ভবত তাঁরা কখনোই ভাবেনি যে, পরের দিনের সংবাদপত্রে তাঁদের মৃত্যুর খবর ছাপা হবে। এটা খুবই সম্ভব যে, আপনি যখন এ-নিবন্ধটি পড়ছেন, তখন নিজের মৃত্যুকে সন্নিকট ভাবছেন না। সম্ভবত আপনি ভাবছেন যে, আপনার এখনো মরার সময় হয়নি এবং আপনাকে সামনে অনেক কাজ করতে হবে। আপনি কি–অবচেতন মনে হলেও–মৃত্যুকে এড়িয়ে চলতে চাচ্ছেন এবং মৃত্যুর কাছ থেকে পালিয়ে বাঁচবার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন? অথচ কুরআন বলছে:
“বল, ‘তোমাদের কোনো লাভ হইবে না যদি তোমরা মুত্যু বা হত্যার ভয়ে ভীত হইয়া পালাইয়া বেড়ানোর চেষ্টা কর; (যদি তোমরা পালাইতে সক্ষম-ও হও তাহা হইবে স্বল্প সময়ের জন্য) এবং তোমাদের খুব সামান্যই ভোগ করিতে দেওয়া হইবে’।”–( সুরা আল-আহঝাব, আয়াত: ১৬)।

মানুষকে একা করে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাঁর উপলব্ধি করা উচিত যে, তাঁকে একা অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। তা না, সে প্রায় গোটা জীবনটাই কাটিয়ে দেয় দুনিয়ার ধন-সম্পদের নেশায় বুঁদ হয়ে। তাঁর জীবনের একটাই লক্ষ্য: কী করে আরো সহায়-সম্পত্তির মালিক হওয়া যায়। এ-লক্ষ্য পূরণের জন্য সে অন্যায়-অপরাধ করতেও পিছপা হয় না। যদিও কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে, কেউ ধন-সম্পদ নিয়ে কবরে যেতে পারে না। তাঁকে কাফনের যে একপ্রস্থ কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে কবরে শোয়ানো হবে– তা-ও স্বল্পমূল্যের-ই হবার কথা। মৃত্যু হঠাৎ করেই উদয় হয়ে তাঁকে করে দেবে একা ও নিঃস্ব। অথচ মৃত্যুর কথা ভুলে না-গিয়ে যদি কেউ আল্লাহর দেয়া জীবনবিধান অনুসারে পৃথিবীতে জীবনযাপন করে, তবেই কেবল মৃত্যু তাঁকে নিঃস্ব ও অপ্রস্তুত অবস্থায় পাবে না। সে সর্বদাই তাঁর ঈমান ও আমল নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে যেতে প্রস্তুত। বস্তুত, ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি নয়, মৃত্যুর পর কেবল ঈমান ও আমল-ই মানুষের সঙ্গে থাকে বা থাকতে পারে। প্রতিজন মানুষের মৃত্যু আমাদের বারবার এ-শিক্ষাই দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কতজন সে-শিক্ষা গ্রহণ করে?■

https://youtu.be/CnkgYSV5MSs
25/01/2024

https://youtu.be/CnkgYSV5MSs

ইবনুল জাওযী রহ. কর্তৃক উল্লেখিত অসাধারণ একটি আত্ন উপলব্ধি মুলক বিবরণ। ভাবতেই অবাক লাগে উনাদের যুগের ঈমানের সাথে .....

Address

Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হিসনুল মুসলিম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share