Shammiloni (সম্মিলনী)

Shammiloni (সম্মিলনী) An organization with 76 years of records organizing the main religious festival of Hindu community. A number of members added the glory of this organizations.

SAMMILONI - A name from year 1949, a history of celebrating Durga Puja 72 for years. Sammiloni was founded in the year 1949 for celebrating Durga Puja. Some same minded people from Sutrapur, Forashgonj and adjacent areas gathered under a roof to organize and form an organization for praying and worshiping Goddess Durga Devi. Their inspiration, dedication and hard work made a success and they were able to form this organization Sammiloni. Sammiloni has been praying Durga Devi since 1949 and still our try is going to celebrate our Goddess, our devi Durga. A lot of hurdles faced this organization to sustain the organization. Some times the devastation situation of the country, some times religious turbulence. Some time passing away of the member from the organization sadden also. But we are proudly say that a very few Puja committee are in Bangladesh right now who can hold their dignity and proud like us. From the beginning, Shammiloni was organizing and praying DURGA PUJA and KALI PUJA only. But from last 15 years, Sammiloni is trying to worship Devi BASHANTI also in bengali Chaitra (March - April) month.

কৃষ্ণ মানে কালো।তাহলে সেই কৃষ্ণকেই আমরা নীল দেখি কেন?সংস্কৃতের ‘নীল’ আমাদের আজকের উজ্জ্বল আকাশি নীল নয়, বরং গভীর, ঘন, ন...
05/09/2026

কৃষ্ণ মানে কালো।
তাহলে সেই কৃষ্ণকেই আমরা নীল দেখি কেন?

সংস্কৃতের ‘নীল’ আমাদের আজকের উজ্জ্বল আকাশি নীল নয়, বরং গভীর, ঘন, নীল-কালোর কাছাকাছি একটি রঙ, অনেকটা বর্ষার বাদলের মতো, অনেকটা গভীর রাতের আকাশের মতো। তাই কৃষ্ণের একটি নাম ‘নীলমেঘশ্যাম’, অর্থাৎ নীল মেঘের মতো শ্যামবর্ণ যাঁর।

আকাশ নীল কারণ তার কোনো শেষপ্রান্ত আমাদের চোখে ধরা পড়ে না, সমুদ্র নীল কারণ তার গভীরতা চোখ দিয়ে মাপা যায় না, আর কৃষ্ণও নীল কারণ তাঁকে কোনো একটি পরিচয়, কোনো একটি গুণ কিংবা কোনো একটি গল্পের মধ্যে পুরোপুরি আটকে রাখা যায় না।

‘কৃষ’ শব্দের অর্থ আকর্ষণ করা, টেনে নেওয়া, নিজের দিকে ডেকে নেওয়া, আর সেই ‘কৃষ’ থেকেই ‘কৃষ্ণ’ নামটির একটি ব্যাখ্যা করা হয়, যিনি আকর্ষণ করেন তিনিই কৃষ্ণ। কৃষ্ণ এমন একজন চরিত্র, যাঁকে যতবার নতুন করে দেখি, ততবারই অন্য একটি দিক সামনে আসে। তিনি রাজা নন, তবু রাজাদের রাজনীতি বোঝেন তিনি যোদ্ধা নন, তবু যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেন, তিনি দূত হয়ে শান্তির প্রস্তাব নিয়ে যান, আবার প্রয়োজনে কৌশলের আশ্রয় নেন, তিনি বন্ধুর বাড়িতে বসে সামান্য শাক খান, আবার রাজসভায় বিশ্বরূপ প্রকাশ করেন, অন্যের জীবন বাঁচান, অথচ নিজের বংশের ধ্বংস ঠেকান না, আর শেষ পর্যন্ত যাঁকে আমরা মহাভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্র বলে জানি, তাঁর নিজের মৃত্যুও আসে এক শিকারির ভুল তীরে।

আমরা কৃষ্ণকে সবচেয়ে বেশি জানি গীতার কৃষ্ণ হিসেবে, যেখানে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত অর্জুনকে তিনি কর্তব্য, কর্ম, আত্মা এবং জীবনের অর্থ বোঝাচ্ছেন। কিন্তু মহাভারত এত বড় একটি কাহিনি যে তার মধ্যে কৃষ্ণের চরিত্র কি কেবল সেই রথে বসে থাকা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়? না। তাঁর জীবনের এমন অনেক ছোট ঘটনা ছড়িয়ে আছে, যেখানে তিনি বক্তা নন, সেখানে তিনি বন্ধু, কোথাও তিনি রাজনীতিক, কোথাও সেবক, কোথাও তিনি রক্ষাকর্তা, আবার কোথাও এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের জন্যও নিয়তির বিধান মেনে নেন।

শ্রীকৃষ্ণের জীবন থেকে নেওয়া ১০ টি গল্প বলি। প্রতিটা গল্পই আমাদের জন্য একেকটা নতুন শিক্ষা।

১.

ভারতের সময় হস্তিনাপুর ছিল কৌরবদের রাজধানী, আর দুর্যোধন ছিলেন সেই রাজ্যের যুবরাজ, যিনি নিজের ক্ষমতা ও অধিকার সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন এবং পাণ্ডবদের প্রতি গভীর ঈর্ষাপরায়ণ ছিলেন। অন্যদিকে বিদুর ছিলেন একই রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত একজন জ্ঞানী ও সৎ মন্ত্রী, যাঁর জন্মপরিচয় তাঁকে রাজপরিবারের অন্যদের সমান সামাজিক মর্যাদা দেয়নি, কিন্তু তাঁর প্রজ্ঞা ও ন্যায়বোধের জন্য তিনি হস্তিনাপুরের অন্যতম সম্মানিত পরামর্শদাতা মহামন্ত্রী হয়ে উঠেছিলেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে কৃষ্ণ যখন পাণ্ডবদের পক্ষ থেকে শান্তির প্রস্তাব নিয়ে হস্তিনাপুরে গেলেন, দুর্যোধন তখন তাঁকে নিজের প্রাসাদে নিমন্ত্রণ করলেন এবং রাজকীয় ভোজের ব্যবস্থা করলেন। রাজনীতির দিক থেকে নিমন্ত্রণটির অর্থও ছিল, কৃষ্ণকে নিজের আতিথ্যের মধ্যে নিয়ে আসা, তাঁকে নিজের পক্ষের কাছাকাছি দেখানো এবং সম্ভব হলে তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার করা।

কৃষ্ণ সেই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন না, তিনি চলে গেলেন বিদুরের বাড়িতে। বিদুর তখন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল অত্যন্ত সরল, আর কৃষ্ণের মতো একজন অতিথির জন্য রাজকীয় আয়োজন করার মতো কিছুই তাঁর ঘরে ছিল না। কথিত আছে, তিনি কৃষ্ণকে যে খাবার দিতে পেরেছিলেন, তা ছিল সামান্য শাক। কৃষ্ণ সেটিই এমন আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করলেন যেন এর চেয়ে মূল্যবান কোনো ভোজ তাঁর সামনে কখনো আসেনি।

তিনি মানুষের মন দেখেছিলেন। একজনের কাছে ছিল বিপুল সম্পদ, অন্য জনের কাছে ছিল সামান্য যা ছিল তাই দিয়ে আপ্যায়ন করার আন্তরিকতা, আর কৃষ্ণ বেছে নিয়েছিলেন সেই সৎ ব্যক্তির আন্তরিকতাকে।

এর শিক্ষা হল, মানুষের দেওয়া জিনিসের মূল্য তার পরিমাণে নয়, সে জিনিসের মধ্যে কতটা ভালোবাসা আছে তার ওপর নির্ভর করে।

২.

যে মানুষটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়ার জন্য কটাক্ষের নাম পেয়েছিলেন। 'রাণছোড়'। তিনিই বুঝেছিলেন যে, কখনো কখনো যুদ্ধ জিততে হলে আগে যুদ্ধের ময়দান ছাড়তে হয়।

মহাভারতের আগে-পরে কৃষ্ণের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের একজন ছিলেন মগধের রাজা জরাসন্ধ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাবান শাসক এবং বহু রাজাকে পরাজিত করে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। কৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষও একবারের ছিল না, কিন্তু সরাসরি সামরিক শক্তির লড়াইয়ে জরাসন্ধকে পরাজিত করা সহজ ছিল না। কৃষ্ণ তাই এমন এক কৌশল নিলেন যা বাইরে থেকে দেখতে পরাজয়ের মতো, কিন্তু ভেতর থেকে ছিল নিজের মানুষদের রক্ষা করার সিদ্ধান্ত। তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে গেলেন, আর সেই কারণেই তাঁর একটি বিখ্যাত উপাধি হয়ে গেল ‘রণছোড়’, অর্থাৎ যিনি রণক্ষেত্র ছেড়ে চলে গেছেন।

মানুষ সাধারণত বিজয়ীর গল্প মনে রাখে, কিন্তু যে মানুষটি কখন যুদ্ধ করতে হবে আর কখন সরে আসতে হবে সেটা বোঝেন, তাঁর গল্প একটু অন্যরকম। কৃষ্ণ জানতেন, একটি যুদ্ধের মধ্যে নিজের বীরত্ব প্রমাণ করার চেয়ে যাদবদের নিরাপদ রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরে যাদবদের মথুরা থেকে সরিয়ে দ্বারকায় নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই কৌশলের ফল দেখা গেল, আর জরাসন্ধের পরিণতিও শেষ পর্যন্ত ভীমের হাতে ঘটল। অর্থাৎ, কৃষ্ণ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছেড়ে দেননি, কেবল যুদ্ধ করার পদ্ধতি বদলে দিয়েছিলেন।

আমাদের জীবনে এমন কত যুদ্ধ আছে, যেগুলো আমরা কেবল লোকের চোখে কাপুরুষ না দেখানোর জন্য লড়ে যাই, যদিও ভিতরে ভিতরে জানি সেই লড়াইয়ের কোনো অর্থ নেই। কৃষ্ণের ‘রণছোড়’ নামটি সেই অহংকারের বিরুদ্ধে বেশ শক্ত একটি শিক্ষা হয়ে থাকে।

এর শিক্ষা হল, সব যুদ্ধ জেতার জন্য লড়তে হয় না, কখনো সরে আসাই জয়ের দিকে যাওয়ার সবচেয়ে বুদ্ধিমান পথ।

৩.

যে মানুষটিকে সবাই সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে বসাতে প্রস্তুত, তিনি নিজেই এমন কাজ বেছে নিলেন যেটিকে সমাজ সাধারণত নিচু কাজ বলে মনে করে।

যুধিষ্ঠির ছিলেন পাঁচ পাণ্ডবের জ্যেষ্ঠ এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে তিনি নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। প্রাচীন ভারতের রাজাদের জন্য রাজসূয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজকীয় অনুষ্ঠান, যেখানে বহু রাজা, ঋষি, পণ্ডিত ও গণ্যমান্য ব্যক্তি একত্রিত হতেন। সেই বিশাল সমাবেশে কৃষ্ণও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত সম্মান পাওয়ার পর কৃষ্ণ এমন কোনো মর্যাদার আসনে বসে থাকলেন না, যেখানে অন্যরা তাঁকে সেবা করবে, বরং তিনি নিজেই অতিথিদের পা ধোয়ার মতো সেবার কাজ গ্রহণ করলেন।

এই ঘটনাটির মধ্যে কৃষ্ণের চরিত্রের একটি দিক খুব পরিষ্কার হয়ে ওঠে, আর সেটি হলো বিনয়। আমরা অনেক সময় মনে করি, বড় হওয়া মানেই 'ছোট কাজ' থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া, যেন নিজের মর্যাদার সঙ্গে কিছু কাজের আর সম্পর্ক নেই। কৃষ্ণ সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো একটি কথা বললেন, যদিও মুখে কোনো বক্তৃতা দিয়ে নয়, নিজের কাজ দিয়ে। তিনি দেখিয়ে দিলেন যে, সেবা করলে মর্যাদা কমে না, বরং নিজের মর্যাদার অহংকারটাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাই মানুষকে বড় করে। এই অনুষ্ঠানেই চেদিরাজ শিশুপাল কৃষ্ণের প্রতি তীব্র অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করতে শুরু করেন এবং কৃষ্ণ দীর্ঘ সময় তা সহ্য করার পর তাঁর সীমা অতিক্রম করলে সুদর্শন চক্র দিয়ে শিশুপালের জীবন শেষ করেন। ফলে একই ঘটনায় কৃষ্ণের দুটি দিক পাশাপাশি দেখা যায়, একদিকে অসাধারণ বিনয়, অন্যদিকে নিজের সীমারেখা সম্পর্কে স্পষ্ট সচেতনতা।

৪.

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাণ্ডবরা জয়ী হলেও সেই জয়ের মূল্য ছিল ভয়াবহ, কারণ দুই পক্ষের অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছিল এবং পাণ্ডবদের পরবর্তী প্রজন্মও প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। অভিমন্যু, যিনি অর্জুনের পুত্র এবং পাণ্ডবদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অন্যতম আশা ছিলেন, তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে নিহত হন। তাঁর স্ত্রী উত্তরা তখন গর্ভবতী ছিলেন এবং তাঁর গর্ভে ছিল অভিমন্যুর সন্তান, অর্থাৎ পাণ্ডব বংশের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও অশ্বত্থামার প্রতিশোধ শেষ হয়নি। দ্রোণাচার্যের পুত্র অশ্বত্থামা পাণ্ডবদের ওপর প্রতিশোধ নিতে ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করেন, যার লক্ষ্য ছিল উত্তরার গর্ভস্থ সন্তান।

সেই অনাগত শিশুকে কৃষ্ণ রক্ষা করেন এবং পরে সেই শিশুই 'পরীক্ষিত' নামে পৃথিবীতে জন্ম নেন। পরীক্ষিতের জন্মের মাধ্যমে পাণ্ডব বংশের ধারাটি টিকে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর পুত্র জনমেজয়ের মাধ্যমে মহাভারতের কাহিনি আবার মানুষের কাছে পৌঁছায়। ফলে একটি শিশুকে রক্ষা করার ঘটনাটি আসলে মাত্র একটি প্রাণ বাঁচানোর ঘটনার উর্ধ্বে ছিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একটি রাজবংশের ভবিষ্যৎ এবং সেই ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মহাভারতের পরবর্তী স্মৃতিও। ইতিহাসের বড় বড় যুদ্ধের মধ্যে এই ধরনের 'ছোট' জীবনগুলোকে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, অথচ অনেক সময় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধারাবাহিকতা টিকে থাকে এমন একজন মানুষের মধ্য দিয়ে, যার জন্মের সময় পৃথিবী জানেই না সে কত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এর শিক্ষা হল, ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে সবসময় বড় যুদ্ধের দরকার হয় না, কখনো একটি জীবন বাঁচিয়ে রাখাই ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার সমান।

৫.

অন্যের ভাগ্য বদলে দিতে পারা কৃষ্ণ নিজের ভাগ্যের সামনে দাঁড়িয়ে কেন নীরব হয়ে গেলেন?

গান্ধারী ছিলেন কৌরবদের মা এবং ধৃতরাষ্ট্রের স্ত্রী। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তাঁর একশ পুত্রই নিহত হয়েছিলেন, ফলে যুদ্ধের শেষে তাঁর শোক ছিল সীমাহীন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কৃষ্ণ চাইলে কৌরব-পাণ্ডবের এই ভয়াবহ সংঘর্ষ থামাতে পারতেন, তাই পুত্রদের মৃত্যুর জন্য তাঁর ক্রোধের একটি অংশ গিয়ে পড়েছিল কৃষ্ণের ওপর। সেই শোক ও ক্রোধের মুহূর্তে গান্ধারী কৃষ্ণকে অভিশাপ দেন যে যেমন কৌরব বংশ ধ্বংস হয়েছে, তেমনই একদিন যাদব বংশও নিজেদের মধ্যে বিবাদ করে ধ্বংস হবে।

কৃষ্ণ সেই অভিশাপ শুনে প্রতিবাদ করেননি। তিনি গান্ধারীকে বলেননি যে তাঁর অভিশাপ অন্যায়, নিজের ঐশ্বরিক ক্ষমতা দিয়ে ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ারও চেষ্টা করেননি। পরবর্তী সময়ে সত্যিই যাদবদের মধ্যে ভয়াবহ বিবাদ শুরু হয় এবং তারা নিজেদের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনাটি কৃষ্ণের চরিত্রের সবচেয়ে অদ্ভুত দিকগুলোর একটি। কারণ, আমরা তাঁকে সাধারণত এমন একজন হিসেবে দেখি যিনি বিপদের মুহূর্তে অন্যের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন, অথচ, নিজের বংশের সামনে আসা ধ্বংসের ব্যাপারে তিনি যেন নিয়তির সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা করে নিলেন। এখানেই তাঁর চরিত্রের আরেকটি গভীরতা আছে, সবকিছু করার ক্ষমতা থাকা আর সবকিছু করতে চাওয়া এক বিষয় নয়।

এই ঘটনার শিক্ষা হল, ক্ষমতা থাকলেই জীবনের প্রতিটি পরিণতি নিজের ইচ্ছামতো বদলে দিতে হয় না, কখনো কখনো মেনে নেওয়াও প্রজ্ঞার লক্ষণ।

৬.

বন্ধু যখন নিজের অভাব মুখে বলতে লজ্জা পায়, তখন সত্যিকারের বন্ধুর কাজ হলো তার মুখের কথার অপেক্ষা না করা।

সুদামা ছিলেন কৃষ্ণের শৈশবের বন্ধু এবং তাঁদের বন্ধুত্বের সূত্র ছিল ঋষি সান্দীপনির আশ্রমে একসঙ্গে শিক্ষালাভের দিনগুলো। পরে দুজনের জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চলে যায়। কৃষ্ণ হয়ে উঠেন দ্বারকার রাজা, আর সুদামা দারিদ্র্যের মধ্যে সংসার চালাতে থাকেন। একসময় সুদামার স্ত্রী তাঁকে কৃষ্ণের কাছে যেতে বলেন, কারণ পুরোনো বন্ধু হয়তো তাঁর কষ্টের দিনে সাহায্য করতে পারেন। সুদামা বন্ধুর কাছে যেতে রাজি হলেও সাহায্য চাইতে তাঁর লজ্জা হয়, তাই সঙ্গে নিয়ে যান সামান্য চিড়া, বন্ধুকে দেওয়ার মতো তাঁর কাছে এর বেশি কিছু ছিল না।

দ্বারকায় পৌঁছানোর পর কৃষ্ণ বন্ধুকে যে ভালোবাসায় গ্রহণ করেন, সেখানে রাজা আর দরিদ্র ব্রাহ্মণের কোনো পার্থক্য থাকে না। সুদামা নিজের অভাবের কথা মুখে বলতে পারেন না, কিন্তু, কৃষ্ণ তাঁর সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করেন যেন বহু বছর আগের সেই আশ্রমের দিনগুলো তাঁর স্মৃতিপট থেকে সেগুলো এক মুহূর্তের জন্যও হারিয়ে যায়নি। তিনি সুদামার আনা চিড়া আনন্দ নিয়ে খান এবং বন্ধুর মুখে চাওয়ার অপেক্ষা না করেই তাঁর অভাব দূর করেন। সুদামা যখন বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁর কুঁড়েঘরের জায়গায় সমৃদ্ধ গৃহ দাঁড়িয়ে আছে, তখন তিনি বুঝতে পারেন বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় দান কখনো কখনো সেই জিনিস, যা চাওয়ার আগেই পাওয়া যায়। গল্পটি যতই অলৌকিক হোক, তার মানবিক অংশটি খুব সহজ, যে মানুষ সত্যিই আপনার বন্ধু, তার কাছে নিজের দুঃখের হিসাব পেশ করতে হয় না। সে হয়তো তার আগেই বুঝে যায়।

শিক্ষাটা কী? সত্যিকারের সম্পর্ক মুখে বলে চাওয়ার অপেক্ষা করে না, নিরবতার মধ্যেও মানুষের প্রয়োজন বুঝতে শেখে। আবার নিশ্চয়ই কখনো কখনো বলতেই হয়। সে গল্পও আছে। সেটা অন্যদিন।

৭.

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে পাণ্ডবরা যখন নিজেদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি করছিলেন, তখন যুদ্ধের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছিল। সেই সময় কৃষ্ণ নিজে পাণ্ডবদের পক্ষ থেকে হস্তিনাপুরে শান্তির দূত হয়ে গেলেন। তিনি জানতেন, যুদ্ধ হলে দুই পক্ষের অসংখ্য মানুষ মারা যাবে, তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনার পথ খোলা রাখাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু দুর্যোধন পাণ্ডবদের কোনো জমি দিতে রাজি ছিলেন না এবং কৃষ্ণের শান্তির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেল যে দুর্যোধন কৃষ্ণকে বন্দী করার পরিকল্পনা করলেন, যেন তাঁকে আটকে রাখলেই পাণ্ডবদের সঙ্গে আলোচনার প্রধান শক্তিটিকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে।

কৃষ্ণ তখন নিজের বিশ্বরূপ প্রকাশ করেন। রাজসভায় উপস্থিত মানুষরা এমন এক রূপ দেখতে পান, যেখানে কৃষ্ণ তখন আর দ্বারকার এক রাজপুরুষ নন, তাঁর মধ্যে যেন সমগ্র সৃষ্টি, দেবতা, শক্তি, সময় ও ধ্বংসের এক বিরাট রূপ প্রকাশিত হয়েছে। কৃষ্ণ সেই শক্তি দেখানোর পরও যুদ্ধ শুরু করেননি, কারণ তাঁর উদ্দেশ্য দুর্যোধনকে পরাজিত করা ছিল না, শেষবারের মতো বোঝানো যে, যুদ্ধ এড়ানোর সুযোগ এখনো আছে। শক্তি থাকা সত্ত্বেও তা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান না করার যে সংযম, এই ঘটনায় তার একটি অসাধারণ উদাহরণ দেখা যায়।

এটার শিক্ষা হল, যার হাতে শক্তি আছে, তার আসল পরীক্ষা শক্তি দেখাতে পারায় নয়, কখন সেই শক্তি ব্যবহার না করতে হবে তা বুঝতে পারা।

৮.

দ্রৌপদী ছিলেন পাঞ্চালের রাজকন্যা এবং পাঁচ পাণ্ডবের স্ত্রী। পাশা খেলায় যুধিষ্ঠির নিজের রাজ্য, সম্পদ, ভাই এবং শেষ পর্যন্ত দ্রৌপদীকেও পণ রাখার পর কৌরবসভায় তাঁকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দুর্যোধনের ভাই দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের চেষ্টা করেন। সভায় ভীষ্ম, দ্রোণ, ধৃতরাষ্ট্র এবং কৌরব-পাণ্ডবদের বহু প্রবীণ ও যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে কেউ কার্যকরভাবে দ্রৌপদীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলেন না। একসময় দ্রৌপদী নিজের শক্তিতে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে করতে শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণের কাছে আর্তনাদ করেন।

মহাভারতের পরবর্তী বর্ণনায় কৃষ্ণ তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দেন এবং দ্রৌপদীর বস্ত্র অসীম হয়ে যায়, ফলে দুঃশাসন তাঁকে বিবস্ত্র করতে পারে না। এই ঘটনাকে ধর্মীয় পরিসরে অলৌকিক কাহিনি হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু তার বাইরের দৃশ্যটিও কম শক্তিশালী না। একজন মানুষ যখন চারপাশের সব অবলম্বন হারিয়ে ফেলে, তখন তার ডাক আর সাজানো থাকে না, সেখানে থাকে কেবল সত্যিকারের অসহায়তা। দ্রৌপদীর সেই ডাকের মধ্যে কোনো যজ্ঞ ছিল না, ছিল না দীর্ঘ কোনো শ্লোক, ছিল শুধু আশ্রয়ের জন্য একটি নাম। আর সেই নামটি ছিল কৃষ্ণ।

এটার শিক্ষা কী? মানুষের নিজের শক্তি শেষ হয়ে গেলেও আশার শেষ হয়ে যায় না, কখনো কখনো শেষ অবলম্বনের ডাকই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠে।

৯.

শাম্ব ছিলেন কৃষ্ণের পুত্র এবং যাদবদের মধ্যে এক তরুণ রাজপুত্র। একদিন তিনি কয়েকজন ঋষির সঙ্গে কৌতুক করার জন্য নিজেকে গর্ভবতী নারীর বেশে সাজিয়ে তাঁদের সামনে নিয়ে গেলেন এবং জানতে চাইলেন, তাঁর গর্ভে ছেলে হবে না মেয়ে। ঋষিরা এই ঠাট্টায় ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দিলেন যে তাঁর গর্ভ থেকে একটি লোহার মুষল জন্ম নেবে এবং সেই মুষলই যাদবদের ধ্বংসের কারণ হবে। পরে সেই লোহার মুষলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হলেও তার উপাদান থেকে তৈরি হওয়া অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত যাদবদের পারস্পরিক সংঘর্ষে ব্যবহৃত হয় এবং যাদব বংশের পতনের পথ তৈরি হয়।

এই ঘটনাটিকে শুধু একটি অভিশাপের গল্প হিসেবে দেখলে কৃষ্ণের চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চোখ এড়িয়ে যায়। শাম্ব তাঁর নিজের ছেলে, অথচ তাঁর জন্য নিয়তির নিয়ম বদলে দেওয়া হয়নি। কৃষ্ণ নিজের পরিবারের জন্য এমন কোনো বিশেষ ব্যবস্থা করেননি, যার ফলে তাঁর সন্তান অন্য সবার চেয়ে নিরাপদ থাকবে। আমরা সাধারণ জীবনে নিজের মানুষদের জন্য নিয়ম একটু নরম করে ফেলতে অভ্যস্ত, কিন্তু কৃষ্ণের জীবনের এই অধ্যায় যেন বলে, সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠই হোক, তারও ওপরে কিছু নিয়ম কাজ করে, যাকে নিজের সুবিধার জন্য বদলে দেওয়া যায় না।

এটার শিক্ষা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নিজের মানুষ বলে জীবনের নিয়ম আলাদা হয়ে যায় না, নিয়তির সামনে পরিচয়ের গর্বটাও শেষ পর্যন্ত টেকে না। তাই বংশধরদের সেই কথা মাথায় রাখা উচিত।

১০.

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বহু বছর পরে যাদব বংশও ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায় এবং কৃষ্ণের জীবনের শেষ অধ্যায় শুরু হয়। একসময় তিনি এক বনে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। জরা নামের এক শিকারি দূর থেকে কৃষ্ণের পায়ের তলা দেখে সেটিকে হরিণের শরীরের অংশ মনে করে তীর ছুড়ে দেন। কৃষ্ণর পাকে বলা হয় রাতুল চরণ। মানে, লালবর্ণী পা। তীর গিয়ে কৃষ্ণের শরীরে বিদ্ধ হয় এবং কাছে এসে জরা বুঝতে পারেন তিনি কী ভয়াবহ ভুল করেছেন। শিকারি ভয়ে কাঁপতে থাকেন, কিন্তু কৃষ্ণ তাঁর ওপর রাগ করেননি, তাঁকে অভিশাপও দেননি, বরং তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং নিজের মৃত্যুকে গ্রহণ করেছেন।

এই মৃত্যুর দৃশ্যটি কৃষ্ণের চরিত্রকে বোঝার জন্য সম্ভবত সবচেয়ে গভীর দৃশ্যগুলোর একটি। যে মানুষ কুরুক্ষেত্রের মতো এক মহাযুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করেছিলেন, যিনি রাজাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন, যিনি অর্জুনকে গীতা শুনিয়েছেন, যিনি নিজের বিশ্বরূপ দেখিয়েছেন, তাঁর শেষ মুহূর্তে কোনো রাজকীয় মঞ্চ ছিল না, কোনো বিজয়ী সৈন্যদল ছিল না, কোনো মহাবীরের সঙ্গে দ্বন্দ্বও ছিল না। ছিল একটি বন, একজন সাধারণ শিকারি এবং একটি ভুল তীর।

এর শিক্ষা তো সার্বজনীন। ক্ষমতা, জ্ঞান, মর্যাদা কিংবা মহত্ত্ব আমাদের অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু জীবনের শেষ সত্যগুলোর সামনে আমাদের সবাইকেই একইভাবে দাঁড়াতে হয়।

এই দশটি ঘটনা একসঙ্গে দেখকে কৃষ্ণকে আর কেবল গীতার কৃষ্ণ বলে মনে হয় না। তখন তাঁকে দেখা যায় একজন এমন মানুষ হিসেবে, যাঁর চরিত্রের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অনেকগুলো স্রোত একই সঙ্গে বয়ে চলেছে। তিনি রাজপ্রাসাদের ভোজ প্রত্যাখ্যান করে দরিদ্র বন্ধুর বাড়ির শাক খেতে পারেন, আবার সেই মানুষটিই রাজাদের সঙ্গে এমন রাজনীতি করতে পারেন যার ফল গোটা ভারতবর্ষের ইতিহাস বদলে দেয়। তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যেতে পারেন, অথচ প্রয়োজনে যুদ্ধের গতিপথও নিজের কৌশলে ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তিনি অতিথির পা ধুয়ে দিতে পারেন, আবার অপমানের সীমা অতিক্রম করলে শিশুপালের জীবনও শেষ করে দিতে পারেন। তিনি অনাগত শিশুকে রক্ষা করেন, কিন্তু নিজের বংশের ধ্বংস ঠেকাতে কোনো বিশেষ সুবিধা নেন না।

সম্ভবত কৃষ্ণের গভীরতা এখানেই যে তাঁকে একটি মাত্র পরিচয়ে ধরে রাখা যায় না। তিনি কেবল রাজনীতিক নন, কেবল দার্শনিক নন, কেবল বন্ধু নন, কেবল যোদ্ধাও নন। এই কোনো 'কেবল' এর মধ্যেই তিনি নেই। তিনি এই সবকিছুর মধ্যে দিয়ে চলেছেন এবং প্রতিটি ভূমিকায় তাঁর চরিত্রের অন্য একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে। তাই কৃষ্ণকে যতটা দূর থেকে দেখা যায়, তিনি ততটাই সহজ মনে হয়, কিন্তু একটু কাছে গিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, মানুষটিকে এক কথায় ব্যাখ্যা করা যায় না।

হয়তো সেই কারণেই কৃষ্ণ নীল।

আকাশের মতো নীল, যার সীমা চোখে ধরা পড়ে না। সমুদ্রের মতো নীল, যার গভীরতা চোখ দিয়ে মাপা যায় না। কৃষ্ণকেও হয়তো তেমন করেই দেখতে হয়, তাঁকে পুরোপুরি বোঝার জন্য নয়, বরং যতবার দেখা যায় ততবার তাঁর মধ্যে নতুন কোনো অর্থ আবিষ্কার করার জন্য। ‘কৃষ’ মানে আকর্ষণ করা, যিনি আকর্ষণ করেন তিনিই কৃষ্ণ, আর হাজার হাজার বছর পরেও যদি একটি চরিত্র মানুষের কৌতূহল, ভক্তি, বিতর্ক, ভালোবাসা এবং চিন্তাকে নিজের দিকে টেনে রাখতে পারে, তবে সেই নামের অর্থটিও যেন তার জীবনের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়।

কৃষ্ণ একেক রূপে একেক রকম।
সম্ভবত কৃষ্ণের সবচেয়ে বড় রহস্য সেখানেই।

কলম ও ছবি কৃতজ্ঞতা: Rizwan Sheikh

#সম্মিলনী

আজ পবিত্র শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মতিথি। 🙏এই পবিত্র দিনে তাঁর জীবন ও বাণী স্মরণ করলে আমাদের নিজেদের জীবনকেও নতুন...
05/09/2026

আজ পবিত্র শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মতিথি। 🙏

এই পবিত্র দিনে তাঁর জীবন ও বাণী স্মরণ করলে আমাদের নিজেদের জীবনকেও নতুন করে দেখার সুযোগ আসে।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবন ছিল ত্যাগ, ধৈর্য, সত্য, সংযম ও মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনে যত দুঃখ, বাধা কিংবা অনিশ্চয়তা আসুক, সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে সরে গেলে চলবে না। বিপদের সময় ভেঙে না পড়ে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রেখে নিজের কর্তব্য করে যেতে হয়।

তাঁর জীবন থেকে আমরা কয়েকটি বড় শিক্ষা নিতে পারি—

🌿 ধৈর্য ধরতে হবে — সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না; সময়ের অপেক্ষা করাও জীবনের সাধনা।
🌿 সত্যের পথে থাকতে হবে — পরিস্থিতি কঠিন হলেও সত্যকে আঁকড়ে ধরতে হবে।
🌿 অহংকার ত্যাগ করতে হবে — জ্ঞান, অর্থ বা ক্ষমতা কখনো মানুষকে মানুষের চেয়ে বড় করে না।
🌿 মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে — অসহায়ের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসাই প্রকৃত মানবধর্ম।
🌿 ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে — তবে শুধু প্রার্থনা নয়, নিজের কর্ম ও কর্তব্যও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।
লোকনাথ বাবার জীবন যেন আমাদের শেখায়—
“জীবনে যত ঝড়ই আসুক, বিশ্বাস হারিয়ো না; সত্য ও সৎকর্মের পথ ছেড়ো না।”

আজ তাঁর জন্মতিথিতে আমাদের প্রার্থনা হোক—
“বাবা লোকনাথ, আমাদের অহংকার দূর করো, বিবেক জাগ্রত করো, অন্যায় থেকে দূরে রাখো এবং সত্য, শান্তি ও মানবতার পথে চলার শক্তি দাও।” 🙏🌺

জয় বাবা লোকনাথ। 🕉️🙏

#সম্মিলনী

ঢাকার ঐতিহ্য জন্মাষ্টমীর মিছিল। আজ থেকে ৮০ বছর আগে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৪০ হাজার। অথচ তখনও ঢাকায় যে জন্মাষ্টমী...
04/09/2026

ঢাকার ঐতিহ্য জন্মাষ্টমীর মিছিল।

আজ থেকে ৮০ বছর আগে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৪০ হাজার। অথচ তখনও ঢাকায় যে জন্মাষ্টমীর মিছিল হতো তাতে যোগ দিতো লাখেরও বেশী মানুষ। অথচ ঐ সময়টা ছিল ঢাকায় জন্মাষ্টমীর মিছিলের প্রায় শেষ বছরগুলো। তাহলে জন্মাষ্টমীর মিছিল আগে কতোটা বিস্তৃত ছিল ভাবতেই অবাক লাগে!

ঢাকায় জন্মাষ্টমীর মিছিলের জন্ম হয়েছিলো ঢাকা রাজধানী হওয়ারও ৪৫ বছর আগে অর্থাৎ ১৫৬৫ সালে।

একসময় বাংলা উড়িষ্যা তো বটেই, ভূ-ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিল দেখতে আসতো। যা অনেকটা ছিল তীর্থযাত্রার মতো। তখন এতোটাই ছিল তার জৌলুস।

জন্মাষ্টমীর মিছিল ছিল ঢাকার সার্বজনীন উৎসবের এক অনন্য রূপ। যেখানে যোগ দিতেন মুসলমানেরাও।

তিন বছর আগে সূত্রাপুরের বাসিন্দা সুনন্দা চক্রবর্তী দিদিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সেই জন্মাষ্টমীর মিছিলের কথা বলতে। সুনন্দা দিদির বয়স তখনই ৯৫ বছর। গত বছরের শুরুতে তিনি মারা গেছেন।

তিনি আমাকে বলেছিলেন, 'বিয়ের আগে তো বাবা আর ভাইসহ বাড়ি থেকে আমরা এক দিন দেখতে আসতাম। বিয়ের পর দেখলাম মিছিল বাহির হইতো দুইদি ন। ওই দুইদিন কোর্ট, অফিস সব বন্ধ থাকত। একদিন মিছিল বাইর হতো নবাবপুর থেকে, আরেকদিন ইসলামপুরে। মিছিলে খোলা গরুর গাড়ির উপরে বিশাল চার তলা মঞ্চ আর গায়ে রাধা কৃষ্ণের মূর্তি গড়া। কাঠের গড়নের পাশে আবার নানান দেবদেবী। বিশাল হাতি সামনে তার উপরে সওয়ার একজন।

কাঠ আর বাঁশ দিয়া মঞ্চ করা। চারদিক পিঁপড়ার মতো মানুষ আর মানুষ। মিছিলের সামনের দিকে গাজনের সঙের মতো কয়েকজন ছেলে বুড়া মুখোশ পইরা নাচতো। মিছিলের মধ্যে মানুষের হাতে হাতে দূর্বা- জবা আর কতো রকমের ফুল। সেই ফুল নিচ দিক থেকে মানুষ কৃষ্ণের মূর্তিতে ছুঁড়তো।

সে মিছিলে কতজন যে হারায়ে যেত! আমার ভাইয়ের বয়স তখন ৯ বছর। একবার ও মিছিলে হারায় গেছিল; দুইদিন পর বাড়ি ফেরে। নবাবপুরের ওই মিছিল না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবা না ওই মিছিল কতো বড় আর কতো মানুষ!'

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেন তাঁর অপূর্ব আত্মজীবনী 'জিন্দাবাহারে' এ ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিল নিয়ে একাংশে লিখেছিলেন,
'শ্রাবণের একটি রৌদ্রচুম্বিত বিকেলবেলা। যেদিকেই তাকাই-না কেন রাস্তা-ঘাটে, ছাদে- কার্নিশে, বারান্দায়- রোয়াকে, দরজায়-জানালায়, গাছে- ল্যাম্প-পোস্টে সর্বত্রই কালো কালো বিন্দু। এক কোঠায় কালো বিন্দুর এক মহাসমুদ্র। গোটা ঢাকা শহর এক অস্বাভাবিক উত্তেজনায় আর উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। আজ জন্মাষ্টমীর মিছিল বেরুবে। এমন জাঁকালো, এমন বিশালাকায় এবং অসাধারণ চমৎকারিত্বপূর্ণ একটি ঘটনা, এই উপমহাদেশে আর কোথাও কি দেখা যায়!...সক্রিয় অংশীদাররা হিন্দু হলেও আক্ষরিকভাবে এ-মিছিল সর্বজনীন।'

লেখিকা মনোদা দেবী ছিলেন গান্ধীবাদী সমাজ সেবিকা। স্বামীর মৃত্যুর পর ঢাকায় তিন বছর গান্ধীবাদী সমাজ সেবিকার ব্রত পালন করেছিলেন তিনি। এসময় তিনি দেখেছেন জন্মাষ্টমীর অপরূপ দৃশ্য।

আত্মস্মৃতি 'সেকালের গৃহবধূর ডায়েরি'তে মনোদা দেবী লিখেছেন,
'জন্মাষ্টমীর এই মিছিল দেখিবার জন্য গ্রাম গঞ্জ তো ছিল, কলিকাতা থেকেও আত্মীয়স্বজনেরা আসিয়া বাড়িতে উঠিয়া তাঁহাকে আনন্দ মুখরিত করিয়া তুলিত, তা ছাড়া বুড়ীগঙ্গায় ছোট বড় নৌকা হইতে বাহির হইয়া মিছিল দেখিয়া পুনরায় নৌকায় ফিরিত। ঐ সব আরোহীরা জন্মাষ্টমীর মিছিলের দিন দৈনিক হিসাবে নৌকা ভাড়া করিয়া লইত। কখনও নির্দিষ্ট দিনে মিছল বাহির হইতোনা বৃষ্টির কারণে। কিন্তু তারা ঐ সব তুচ্ছ করিয়াও বহু অর্থ ব্যয়ে জন্মাষ্টমীর মিছিল দেখিবার আনন্দ উপভোগ করিতে ছাড়িত না।'

ঢাকার ঐতিহাসিক কোন বিষয় থাকলে সেটি ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিলই।
কিন্তু গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জন্মাষ্টমীর মিছিল। মূলত ত্রিশের দশকে সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের অবনতি এবং আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে ঢাকার ধনাঢ্য হিন্দুরা ঢাকা ত্যাগ করে কলকাতায় যাওয়া শুরু করলে ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিলের জৌলুস কমতে থাকে। কারণ এই ধনাঢ্য হিন্দুরাই ছিলেন জন্মাষ্টমীর মিছিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

১৯৫০'র দশকে পাকাপাকিভাবে বন্ধ হওয়ার পূর্বের ৪০০ বছরে মাত্র চারবার জন্মাষ্টমীর মিছিল বের হয়নি। প্রথমবারে বর্গীয় হাঙ্গামা বা বাংলায় মারাঠা হামলার ভয়ে। দ্বিতীয়বার বৃন্দাবন দেওয়ান রাজদ্রোহী হয়ে যেবার ঢাকা লুট করেছিল। তৃতীয়বার প্রথম ইঙ্গ-বর্মা যুদ্ধের সময়ে এবং চতুর্থবার সামাজিক দলাদলির কারণে।

পঞ্চাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার বংশালের নিকটবর্তী পিরু মুনশীর পুকুরের পাশে এক সাধু বাস করতেন। ১৫৫৫ সালের ভাদ্র মাসে রাধাষ্টমী উপলক্ষে বালক ভক্তদের হলুদ পোশাক পরিয়ে তিনি মিছিল বের করেছিলেন।

তারও দশ বছর পর সেই সাধু ও বালকদের উৎসাহে রাধাষ্টমীর কীর্তনের পরিবর্তে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব উপলক্ষে একটি মিছিল বের করা হয়। সেই মিছিলের মাধ্যমেই ১৫৬৫ সালে পত্তন হয়েছিলো ঢাকায় জন্মাষ্টমীর মিছিলের।

পরবর্তীতে জন্মাষ্টমীর মিছিলের কর্তৃত্ব অর্পিত হয়েছিলো নবাবপুরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী কৃষ্ণদাস বসাকের উপর। জন্মাষ্টমীর মিছিলের ইতিহাস নিয়ে লেখা এই ভুবনমোহন বসাক ছিলেন নবাবপুরের বসাক পরিবারের সদস্য। ১০৪৫ বঙ্গাব্দ তথা ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কৃষ্ণদাস বসাকের মৃত্যুর পর নবাবপুরের বেশ কয়েকজন ধনাঢ্য ব্যক্তি নিজ নিজ উদ্যোগে জন্মাষ্টমীর মিছিল বের করতেন। এরই একজন ছিলেন উর্দু বাজারের গঙ্গারাম ঠাকুর। তিনি নবাবপুরের বসাকদের অনুকরণে যে জন্মাষ্টমীর মিছিল বের করতেন সেই মিছিল উর্দু রোড থেকে নবাবপুর পর্যন্ত আসতো। তবে গঙ্গারাম ঠাকুরের মিছিল বেশীদিন চলেনি। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যান্য মিছিলগুলি সাধারণত নবাবপুর থেকে রওয়ানা দিয়ে বাংলাবাজার হয়ে ঘুরে ফের নবাবপুরেই এসে পৌঁছাতো। এক শতাব্দীর মধ্যেই জন্মাষ্টমীর অন্য মিছিলগুলো সমন্বিত হয়ে একটি মিছিলে রূপ নিয়েছিলো। যা পরিচিত হয়েছিলো নবাবপুরের মিছিল নামে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে পুরান ঢাকার পান্নিটোলার গদাধর ও বলাইচাঁদ বসাক ছিলেন অত্যন্ত প্রতিপত্তিশালী। নবাবপুরের জন্মাষ্টমীর মিছিল দেখে তাদেরও এমন মিছিল বের করার বাসনা জাগে। সে অনুযায়ী ১৭২৫ সালে তারা নিজ এলাকা ইসলামপুর থেকে জন্মাষ্টমীর মিছিল চালু করেন।

১৮৫৩ সালে নবাবপুর এবং ইসলামপুর দুই জায়গা থেকেই মিছিল বের হয়েছিলো। মিছিলের একপর্যায়ে রায় সাহেব বাজারের কাছে জন্মাষ্টমীর মিছিল বের করা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের খবর পৌঁছেছিলো বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার সিসিল বিডনের কানেও। তখন সিসিল বিডন নিজে এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে বলেছিলেন একেক দল একেক সময়ে মিছিল বের করবে।

উনিশ শতকেই ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিলের খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। তখন কলকাতা, ত্রিপুরা, আসাম নিবাসীরাও জন্মাষ্টমীর মিছিল দেখতে ঢাকায় আসতেন। জন্মাষ্টমী উৎসব এবং জন্মাষ্টমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ঢাকা পরিণত হতো মিছিল আর উৎসবের নগরীতে।

শুভ জন্মাষ্টমী। সবার আগামী দিনগুলো ভালো কাটুক। 💞

কলমে ও ছবি কৃতজ্ঞতায়: জনাব আহমাদ ইশতিয়াক

🦚 পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী 🦚ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব। ...
04/09/2026

🦚 পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী 🦚
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব। এই পবিত্র দিনে ভক্তরা উপবাস, নামজপ, কীর্তন ও পূজার মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন।
📅 পঞ্জিকা অনুযায়ী
অষ্টমী লাগবে: ১৬ ভাদ্র, ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার, রাত ২:১৪ মিনিটে
অষ্টমী ছাড়বে: ১৭ ভাদ্র, ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, রাত ১২:৩০ মিনিটে
রোহিণী নক্ষত্র: ৪ সেপ্টেম্বর, রাত ১২:৩০ মিনিট পর্যন্ত
পারণ: ১৮ ভাদ্র, ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার, সকাল ১০:০১ মিনিটের মধ্যে
🌸 স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে শ্রীকৃষ্ণের সামনে ব্রতসংকল্প করুন। এরপর—
“ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়”
—মন্ত্র জপ করে ধূপ, দীপ, ফুল, তুলসী ও নৈবেদ্য অর্পণ করুন।
জন্মমুহূর্তে বালগোপালের পঞ্চামৃত অভিষেক করে নতুন বস্ত্র, চন্দন, ফুল ও তুলসী অর্পণ করা যায়। এরপর আরতি ও কৃষ্ণনাম সংকীর্তন করুন।
কৃষ্ণ মহামন্ত্র:
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে॥
🙏 হে নন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ,
আমাদের হৃদয় থেকে অন্ধকার ও অশান্তি দূর করে
ভক্তি, প্রেম, সত্য ও ধর্মের পথে পরিচালিত করুন।
সকলের জীবনে শান্তি ও মঙ্গল দান করুন।
জয় শ্রীকৃষ্ণ 🙏🦚

“অন্ধকার যত গভীর হোক,মায়ের প্রতি বিশ্বাসটা অটুট থাকুক—কারণ মা দুর্গা আছেন আমাদের ভক্তিতে,এ বিশ্বাসই একদিন আলো হয়ে পথ দেখ...
29/08/2026

“অন্ধকার যত গভীর হোক,
মায়ের প্রতি বিশ্বাসটা অটুট থাকুক—
কারণ মা দুর্গা আছেন আমাদের ভক্তিতে,
এ বিশ্বাসই একদিন আলো হয়ে পথ দেখাবে। 🙏❤️”

জয় মা🙏🔱🙏

#সম্মিলনী

মধ্যযুগ থেকে আজও পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামে জন্ম নেয়া কবি বিজয় গুপ্ত’র অম...
18/08/2026

মধ্যযুগ থেকে আজও পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামে জন্ম নেয়া কবি বিজয় গুপ্ত’র অমর সৃষ্টি “মনসা মঙ্গঁল” কাব্যর রচয়িতা ও প্রতিষ্ঠিত “মনসাকুন্ড” নামে খ্যাত গৈলা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ৫’শ ২৭বছর বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠিত মনসা মন্দিরে দেবী মনসা মায়ের বাৎসরিক পূঁজা ১৮ই আগস্ট মঙ্গলবার
“ধর্ম যার যার উৎসব সবার”-এ বাক্য ধারন করে বিজয় গুপ্ত’র প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে বাৎসরিক পূঁজায় আপনাদের আমন্ত্রণ জানানো হলো।
বরিশাল জেলা প্রশাসন জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকার শীর্ষে রেখেছে ঐতিহাসিক বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দিরের নাম। দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের পর্যটনের উল্লেখযোগ্য স্থান হিসেবে রয়েছে এ মন্দিরের স্বীকৃতি।

মা- মনসা বাড়ী গৈলা

সংগ্রহীত

#সম্মিলনী

সনাতন ধর্মের পুরাণ ও বাংলার লোকঐতিহ্যে মা মনসা নাগদেবী, বিষহরী ও সিদ্ধিদাত্রী দেবী হিসেবে পূজিতা। তাঁর জন্মকথা নিয়ে বিভ...
18/08/2026

সনাতন ধর্মের পুরাণ ও বাংলার লোকঐতিহ্যে মা মনসা নাগদেবী, বিষহরী ও সিদ্ধিদাত্রী দেবী হিসেবে পূজিতা। তাঁর জন্মকথা নিয়ে বিভিন্ন শাস্ত্র ও আঞ্চলিক পরম্পরায় ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের পরম্পরায় তাঁকে ঋষি কশ্যপের মানসকন্যা বলা হয়; আর বাংলার শৈব লোকপরম্পরায় তিনি ভগবান শিবের কন্যা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। কঠোর তপস্যা ও সাধনার মাধ্যমে তিনি দেবীত্ব লাভ করেন এবং সর্প ও বিষের অধিষ্ঠাত্রী বিষহরী মা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

মা মনসার সঙ্গে নাগলোক ও প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলায় মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সদাগর, বেহুলা ও লখিন্দরের কাহিনি তাঁর পূজার মাহাত্ম্যকে মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়। চাঁদ সদাগরের অহংকার, বেহুলার অটুট বিশ্বাস এবং শেষ পর্যন্ত দেবীর মাহাত্ম্য—এই কাহিনির মূল শিক্ষা হলো অহংকারের পরাজয় ও ভক্তির জয়।

ভক্তরা মা মনসার পূজা করেন সর্পভয় ও বিষের বিপদ থেকে রক্ষা, সন্তান ও পরিবারের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অশুভ শক্তি থেকে রক্ষার প্রার্থনায়। তবে পূজার মূল শিক্ষা শুধু পার্থিব ফললাভ নয়—প্রকৃতি, সর্প ও সকল জীবের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অহংকার ত্যাগ করাও মনসা উপাসনার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

📖 সূত্র: ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, দেবীভাগবত পুরাণ, পদ্মপুরাণ এবং বাংলার মনসামঙ্গল কাব্য।

🐍 জয় মা মনসা 🙏

বিষহরী মা সকলের জীবন থেকে ভয়, বিষাদ ও অমঙ্গল দূর করুন।

🪷🐍..."নাগসম্রাজ্ঞী"...🐍🪷

প্রতিমা নির্মাণে - R Aj and Su Deep
সমগ্র ভাবনা এবং শৃঙ্গরে - Debashis Sarkar
চিত্ররূপায়নে - Niladri Mandal
চালির কলকা নির্মাণে - কুমার সমাদৃত
সমগ্র ভাবনার চিত্রাঙ্কনে - রনিত মন্ডল

সংগ্রহীত

#সম্মিলনী

🕉️ পবিত্র শ্রাবণ মাস, সোমবার ব্রত ও মহাদেবের কৃপাপঞ্চম ও শেষ খণ্ড🌺 শিবভক্তির সমাপনী সাধনা, ব্রত-সমাপন, প্রার্থনা ও শাস্ত...
17/08/2026

🕉️ পবিত্র শ্রাবণ মাস, সোমবার ব্রত ও মহাদেবের কৃপা

পঞ্চম ও শেষ খণ্ড

🌺 শিবভক্তির সমাপনী সাধনা, ব্রত-সমাপন, প্রার্থনা ও শাস্ত্রীয় শিক্ষা

॥ ওঁ নমঃ শিবায় ॥
॥ হর হর মহাদেব ॥

🌿 শ্রাবণ মাসের সোমবার ব্রত কেবল একটি উপবাস বা পূজার আচার নয়। এটি নিজের অন্তরকে শুদ্ধ করা, অহংকার ত্যাগ করা, ভগবানের প্রতি বিশ্বাস বাড়ানো এবং জীবনের প্রতিটি কাজে ধর্ম ও সত্যকে ধারণ করার একটি সাধনা।
ব্রতের শুরুতে আমরা মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করি—
“আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করুন।”
আর ব্রতের শেষে আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত—
“হে মহাদেব, আমার জন্য যা সত্যিই কল্যাণকর, সেটিই আমাকে দান করুন।”
এই আত্মসমর্পণই শিবভক্তির অন্যতম সুন্দর শিক্ষা।
📿 ১. প্রতিদিনের শিবনাম
শ্রাবণ মাসে প্রতিদিন যতটা সম্ভব শিবনাম স্মরণ করুন।
🕉️ পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র
ওঁ নমঃ শিবায়।
এই মন্ত্রটি শৈব সাধনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামর্থ্য অনুযায়ী—
১১ বার / ২১ বার / ১০৮ বার
জপ করতে পারেন।
জপের সময় মনকে শান্ত রাখুন এবং ধীরে ধীরে শ্বাস নিন।
🔱 ২. মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে
সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।
উর্বারুকমিব বন্ধনান্
মৃত্যোর্মুক্শীয় মামৃতাৎ॥
সহজ অর্থ
হে ত্রিনয়ন মহাদেব, আপনি আমাদের জীবনকে পুষ্ট ও কল্যাণময় করুন। যেমন পাকা ফল সহজে তার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়, তেমনই আমাদের ভয়, দুঃখ ও অশুভ বন্ধন থেকে মুক্ত করুন।
১১ বা ২১ বার পাঠ করা যেতে পারে।
🌺 ৩. শিবের কাছে দৈনিক প্রার্থনা
হে নীলকণ্ঠ মহাদেব,
আমার শরীরকে সুস্থ,
মনকে শান্ত,
বুদ্ধিকে নির্মল
এবং কর্মকে সৎ করুন।
আমার পরিবারকে রক্ষা করুন।
দুঃখে ধৈর্য দিন,
বিপদে সাহস দিন,
সাফল্যে অহংকার থেকে রক্ষা করুন।
আমার যে ইচ্ছা আপনার ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ,
সেই ইচ্ছা পূর্ণ করুন।
আর যা আমার জন্য অকল্যাণকর,
তা থেকে আমাকে রক্ষা করুন।
ওঁ নমঃ শিবায়।
👨‍👩‍👧 ৪. সন্তান কামনায় বিশেষ প্রার্থনা
স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে শিব-পার্বতীর সামনে বসে এই প্রার্থনা করতে পারেন—
হে উমা-মহেশ্বর,
হে জগজ্জননী মা পার্বতী,
আমাদের সংসারে শান্তি ও ভালোবাসা দান করুন।
আমাদের জীবনের সকল বাধা দূর করুন।
যদি আমাদের জন্য কল্যাণকর হয়,
তবে আপনাদের কৃপায় আমাদের কোল একটি সুস্থ,
সৎ, ধর্মপরায়ণ ও দীর্ঘায়ু সন্তান দিয়ে পূর্ণ করুন।
আমাদের ধৈর্য দিন,
বিশ্বাস দিন,
সঠিক পথ চিনতে বুদ্ধি দিন
এবং প্রতিকূল সময়ে একে অপরের পাশে থাকার শক্তি দিন।
আপনাদের ইচ্ছাই যেন আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ মঙ্গল হয়।
ওঁ নমঃ শিবায়।
🌿 ৫. পাঁচ সোমবারের সমাপনী ভাবনা
যাঁরা শ্রাবণ মাসের পাঁচ সোমবার পালন করছেন, তাঁরা প্রতিটি সোমবারকে একটি করে আধ্যাত্মিক সংকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।
🌸 প্রথম সোমবার — আত্মশুদ্ধি
“হে মহাদেব, আমার অন্তরের অশান্তি ও অশুভ চিন্তা দূর করুন।”
🌸 দ্বিতীয় সোমবার — সংসারের শান্তি
“আমাদের পরিবারে ভালোবাসা, ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখুন।”
🌸 তৃতীয় সোমবার — সন্তান ও ভবিষ্যৎ
“আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মঙ্গল ও কল্যাণ দান করুন।”
🌸 চতুর্থ সোমবার — বাধা ও দুঃখ অতিক্রম
“বিপদের সময় আমাদের শক্তি ও ধৈর্য দিন।”
🌸 পঞ্চম সোমবার — কৃতজ্ঞতা
“যা দিয়েছেন তার জন্য আপনাকে প্রণাম। যা দেননি, তার মধ্যেও আপনার কোনো মঙ্গলময় ইচ্ছা আছে—এই বিশ্বাস রাখার শক্তি দিন।”
🔱 ৬. ১৬ সোমবার ব্রতের ক্ষেত্রে
যাঁরা পাঁচ সোমবারের পরিবর্তে ১৬ সোমবারের ব্রত পালন করেন, তাঁরা একইভাবে প্রতিটি সোমবার শিবপূজা, জপ, প্রার্থনা ও সংযম পালন করতে পারেন।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—
১৬ সোমবার ব্রতের বর্তমান প্রচলিত রূপকে সরাসরি মহাশিবপুরাণের একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের বিধান বলে দাবি করা ঠিক নয়। এটি পরবর্তী ব্রত-পরম্পরা ও শৈব লোকাচারে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে।
তাই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—
ভক্তি + সংকল্প + সংযম + শিবস্মরণ।
🌺 ৭. ব্রত সমাপনের সাধারণ পদ্ধতি
শেষ সোমবারে স্বাভাবিক নিয়মে শিবপূজা করুন।
পূজার ক্রম
১. গণেশ স্মরণ
২. সংকল্প স্মরণ
৩. শিবলিঙ্গে জলাভিষেক
৪. সামর্থ্য অনুযায়ী দুধ নিবেদন
৫. বিল্বপত্র ও ফুল নিবেদন
৬. ধূপ ও প্রদীপ
৭. ওঁ নমঃ শিবায় জপ
৮. মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ
৯. শিব-পার্বতীর কাছে প্রার্থনা
১০. আরতি
১১. প্রসাদ বিতরণ
🍚 ৮. দান ও সেবা
ব্রতের শেষে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী—
অভাবী মানুষকে খাবার দিতে পারেন।
শিশুদের ফল বা খাবার দিতে পারেন।
গরু বা অন্যান্য প্রাণীকে খাদ্য দিতে পারেন।
মন্দিরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করতে পারেন।
দান কখনো নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে করা উচিত নয়।
শিবভক্তির জন্য ঋণ করে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন করার প্রয়োজন নেই।
🌿 ৯. উপবাস সম্পর্কে
উপবাসের উদ্দেশ্য শরীরকে কষ্ট দেওয়া নয়; বরং ইন্দ্রিয়সংযম ও ঈশ্বরস্মরণ।
শারীরিকভাবে সক্ষম হলে ফলাহার বা নির্দিষ্ট উপবাস করতে পারেন।
কিন্তু অসুস্থতা, দুর্বলতা বা চিকিৎসাগত কারণে উপবাস করা সম্ভব না হলে—
জল পান করে, হালকা সাত্ত্বিক/নিরামিষ আহার গ্রহণ করে শিবস্মরণ করাও শ্রেয়।
ভক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কঠোরতা শিবসাধনার উদ্দেশ্য নয়।
🌸 ১০. ঋতুকাল সম্পর্কে
ঋতুকাল নিয়ে বিভিন্ন পরিবার ও সম্প্রদায়ের আচার ভিন্ন।
মহাশিবপুরাণে এমন স্পষ্ট সর্বজনীন বিধান নেই যে ঋতুকালে পড়া সোমবার অবশ্যই বাতিল হবে এবং পরে আবার অতিরিক্ত সোমবার পালন করতেই হবে।
যে পরিবারে ঋতুকালে শিবলিঙ্গ স্পর্শ বা পূজা না করার প্রথা আছে, সেখানে নারী সেদিন—
মানসিকভাবে শিবস্মরণ,
নামজপ,
প্রার্থনা
করতে পারেন।
পরবর্তী সোমবার থেকে স্বাভাবিক পূজা চালিয়ে যাওয়া যায়।
অতিরিক্ত সোমবার পালন করা হবে কি না—এটি গুরু, পরিবার বা নিজস্ব ব্রত-পরম্পরার নিয়ম অনুযায়ী হতে পারে; এটিকে মহাশিবপুরাণের সর্বজনীন বাধ্যতামূলক বিধান বলা ঠিক নয়।
🙏 ১১. পূজার ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা
পূজা শেষে বলুন—
“হে মহাদেব, জেনে বা না জেনে আমার পূজায় যে ভুল-ত্রুটি হয়েছে, তা ক্ষমা করুন। আমার মন্ত্রে, আচারে বা উপচারে কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে আপনার করুণায় তা পূর্ণতা লাভ করুক।”
তারপর—
ওঁ নমঃ শিবায়।
🌺 ১২. সর্বজনীন মঙ্গল প্রার্থনা
নিজের মনোবাঞ্ছা পূরণের পাশাপাশি সকলের জন্য প্রার্থনা করুন—
সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।
সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তু
মা কশ্চিদ্ দুঃখভাগ্ ভবেত্॥
অর্থ:
সকলেই সুখী হোক, সকলেই সুস্থ থাকুক, সকলেই মঙ্গল দেখুক এবং কেউ যেন দুঃখের ভাগী না হয়।
🕉️ শেষ কথা — শিবভক্তির আসল শিক্ষা
শিবের কাছে যাওয়ার জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই।
এক ঘটি জল,
একটি বিল্বপত্র,
একটি প্রদীপ
আর একটি নির্মল হৃদয়—
এইটুকুই যথেষ্ট ভক্তির সূচনা করার জন্য।
মহাদেব আমাদের শেখান—
অহংকার নয়—বিনয়।
হিংসা নয়—করুণা।
অশান্তি নয়—ধ্যান।
অন্যায় নয়—ধর্ম।
ভয় নয়—বিশ্বাস।
তাই শ্রাবণ মাসে শুধু শিবলিঙ্গে জল ঢালব না—
নিজের অন্তরের আগুনও শিবের চরণে সমর্পণ করব।
শুধু “আমার” জন্য প্রার্থনা করব না—
সকলের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করব।
আর শুধু মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য নয়—
নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মহাদেবের আশীর্বাদ চাইব।
🌺 সমাপনী প্রার্থনা
হে আশুতোষ মহাদেব,
আমাদের হৃদয়কে পবিত্র করুন।
আমাদের সংসারে শান্তি দিন,
কর্মে সততা দিন,
মনে ধৈর্য দিন,
বিপদে সাহস দিন।
যা আমাদের জন্য কল্যাণকর, তা দান করুন।
যা অকল্যাণকর, তা থেকে রক্ষা করুন।
আমাদের অহংকার দূর করুন,
ভক্তি বৃদ্ধি করুন
এবং সর্বদা সত্য ও ধর্মের পথে চলার শক্তি দিন।
সকল প্রাণীর মঙ্গল হোক।
সকলের দুঃখ দূর হোক।
পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক।

ওঁ নমঃ শিবায়।
🕉️ হর হর মহাদেব 🙏
🌿 ওঁ নমঃ শিবায় 🌿
🔱 জয় উমা-মহেশ্বর 🔱

Address

27 B. K. Das Road, Behari Laal Jew Mondir & Akhra, Forashgonj
Dhaka
1100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shammiloni (সম্মিলনী) posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Shammiloni (সম্মিলনী):

Shortcuts

Share