Al Islah - আল ইসলাহ

Al Islah - আল ইসলাহ 'পরিশুদ্ধ হৃদয়ের অন্বেষায়'

কুরআনের একটি আয়াত কাঁপিয়ে দেয় অন্তরকে। আল্লাহ্ তা'আলা সেখানে বলেন, ‘‘তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করুন?’’ [...
06/01/2021

কুরআনের একটি আয়াত কাঁপিয়ে দেয় অন্তরকে। আল্লাহ্ তা'আলা সেখানে বলেন, ‘‘তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করুন?’’ [সূরাহ আন-নূর, আয়াত: ২২]
এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিলো যে প্রেক্ষিতে, সেটি আমাদের জন্য দারুণ শিক্ষণীয়।
এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সায়্যিদুনা আবু বকর (রা.) অনেক নিঃস্ব ও অসহায় মুসলিমকে সচ্ছলতার পথ দেখিয়েছেন, অনেক গোলামকে কিনে এনে আজাদ করে দিয়েছেন। অনেককে নিজেই দেখাশোনা করেছেন। হযরত মিসতাহ্ (রা.) ছিলেন তাদেরই একজন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন মুহাজির এবং আবু বকরের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। এই দরিদ্র সাহাবিকে আবু বকর (রা.) নিয়মিতই অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন। ইফক (আম্মাজান আয়িশা রা.-এর উপর যিনার অপবাদ)-এর ঘটনায় মুনাফিকদের পাশাপাশি কয়েকজন মুসলিমও আম্মাজান আয়িশা (রা.)-এর ব্যাপারে বিরূপ কথাবার্তা বলেছিলেন। হযরত মিসতাহ্ (রা.) ছিলেন সেই কয়েকজন মুসলিমের একজন। এটা জানার পর আবু বকর (রা.) ভীষণ মর্মাহত হন। এমনকি মনের দুঃখে ও ক্ষোভে তিনি শপথ করে বসেন যে, ভবিষ্যতে আর মিসতাহকে কোনো সাহায্য করবেন না।
আবু বকরের মত মহান সাহাবির এই শপথের ব্যাপারে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা চুপ থাকেননি। তিনি হৃদয়গ্রাহী ভাষায় আয়াত নাযিল করেন—‘‘তোমাদের মধ্যে ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারীরা যেন আত্মীয়দের, নিঃস্বদের এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের দান না করার ব্যাপারে শপথ না করে। তারা যেন ক্ষমা করে এবং (দোষ-ত্রুটি) উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করুন? আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ [সূরা আন নূর, আয়াত: ২২]
তাফসিরে আহসানুল বায়ানে বলা হয়েছে, ‘‘আবু বাকর সিদ্দিক (রা.)-এর এই শপথ যদিও মানব প্রকৃতির অনুকূলই ছিল, তবুও ‘সিদ্দিক’র মর্যাদা এর চেয়ে উচ্চ চরিত্রের দাবিদার ছিল। সুতরাং তা আল্লাহর পছন্দ ছিলো না। যার কারণে তিনি এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন, যাতে অত্যন্ত স্নেহ-বাৎসল্যের সাথে তাঁর তাড়াহুড়াপ্রবণ মানবীয় আচরণের উপর সতর্ক করলেন যে, ‘তোমাদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে। আর তোমরা চাও যে, মহান আল্লাহ তোমাদের সে ভুল-ত্রুটিকে ক্ষমা করে দেন। তাহলে তোমরা অন্যের সাথে ক্ষমা-সুন্দর আচরণ করো না কেন? তোমরা কি চাও না যে, মহান আল্লাহ তোমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন?’ কুরআনের এই বর্ণনা-ভঙ্গি এতই প্রভাবশালী ছিল যে, তা শোনার সাথে সাথে আবু বাকর (রা.)-এর জবান দিয়ে বের হলো, ‘কেন নয়? হে আমাদের রব! আমরা নিশ্চয় চাই যে, তুমি আমাদের ক্ষমা করো।’ এরপর তিনি কসমের কাফফারা দিয়ে পূর্বের ন্যায় মিসতাহকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে শুরু করেন।’ [তাফসিরে ফাতহুল কাদির ও ইবনে কাসীর অবলম্বনে]
আমরা তো কিছু একটা হলেই মানুষকে দূরে ঠেলে দেই; তাকে ক্ষমা করতে পারি না। বিশেষত সে যদি হয় আমাদের অধিনস্থ কেউ, তাহলে তো কথাই নেই। অথচ আল্লাহ্ বলেন, ‘‘যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষকে ক্ষমা করে; বস্তুত আল্লাহ্ সৎকর্মশীলদেরই ভালোবাসেন।’’ [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪]
অতএব, কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কষ্ট দেয়, তবে আমরা যথাসাধ্য সেগুলো ক্ষমা করতে চেষ্টা করবো। তবে, কোনো অহংকারী জালিমকে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করবো। কারণ সে ক্ষমাকে দুর্বলতা মনে করে এবং অন্যদের উপরও জুলুম করার প্রেরণা লাভ করে।
▪কার্টেসি- তাসবীহ।

একটা হাদীস পড়ুন। মন ভাল হয়ে যাবে, চোখে পানি চলে আসবে। সহীহ বুখারীর ৭৫০৭ নং হাদীসে আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা ‘আনহ...
21/12/2020

একটা হাদীস পড়ুন। মন ভাল হয়ে যাবে, চোখে পানি চলে আসবে। সহীহ বুখারীর ৭৫০৭ নং হাদীসে আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"এক বান্দা পাপ করে আর তারপর বলে, ‘ইয়া আল্লাহ, আমার অপরাধ মাফ করে দিন।’ তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমার বান্দা গুনাহ করেছে আর এরপর বুঝতে পেরেছে, তার এক রব রয়েছেন যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমা করতে পারেন, আবার শাস্তিও দিতে পারেন। আমার বান্দাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম।'
সে পুনরায় পাপ করে আর বলে, ‘ও আমার রব, আমার গুনাহ মাফ করে দিন।’ এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমার বান্দা অপরাধ করেছে, আর তারপর বুঝতে পেরেছে, তার এক রব রয়েছেন যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমা করতে পারেন, আবার শাস্তিও দিতে পারেন। আমার বান্দাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম।'
সে আবারও গুনাহ করে আর বলে, ‘হে আমার রব, আমার পাপ ক্ষমা করে দিন।’ তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমার বান্দা গুনাহ করেছে আর এরপর বুঝতে পেরেছে, তার এক রব রয়েছেন যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমা করতে পারেন, আবার তার বিচারও করতে পারেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম।"
তবুও আমরা কিসের অপেক্ষা করছি? আমার রব আমাকে ক্ষমা করার জন্য কত উদগ্রীব হয়ে বসে আছেন। একটিবার চোখের পানি ফেলে আমার রবকে ডাকার সময় হয় না? আমার রব তো বলেছেন আমি তার কাছে চাওয়া মাত্রই তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।
- নাবিল হাসান

21/12/2020

সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সুদৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে সায়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে, সে যদি সন্ধ্যা হওয়ার আগে মারা যায় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি সুদৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সন্ধ্যায় সায়্যিদুল ইস্তিগফার পড়ে সে যদি সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

-সহিহ বোখারি: ৬৩০৬

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা। ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতা’তু। আউজু বিকা মিন শাররি মা-সানা’তু। আবুয়ু লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা। ওয়া আবুয়ু লাকা বি জাম্বি। ফাগফিরলী। ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনবা ইল্লা আনতা।

অর্থ : হে আল্লাহ! একমাত্র আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আপনিই আমার স্রষ্টা এবং আমি আপনার দাস। আমি আপনার সঙ্গে কৃত ওয়াদা ও অঙ্গীকারের ওপর সাধ্যানুযায়ী অটল ও অবিচল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের সব অনিষ্ট হতে আপানার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার উওর আপনার দানকৃত সব নেয়ামত স্বীকার করছি। আমি আমার সব গুনাহ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

আল্লাহর পথে ডাকতে গেলে বা সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধ করতে গেলে মানুষের বিরোধিতা, শত্রুতা ও নিন্দার কারণে কখনো ক্রোধ...
19/12/2020

আল্লাহর পথে ডাকতে গেলে বা সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধ করতে গেলে মানুষের বিরোধিতা, শত্রুতা ও নিন্দার কারণে কখনো ক্রোধে কখনো বেদনায় অন্তর সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। এ মনোকষ্ট দূর করার ও প্রকৃত ধৈর্য ও মানসিক স্থিতি অর্জন করার উপায় হলো বেশি বেশি আল্লাহর যিকর, তাসবীহ, তাহমীদ ও সালাত আদায় করা। সাজদায় যেয়ে আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন ও প্রার্থনা করা। এভাবেই আমরা ‘মন্দকে উৎকৃষ্ট দিয়ে প্রতিহত’ করার প্রকৃত গুণ অর্জন করতে পারব। আমরা (Re-active) না হয়ে (Pro-active) হতে পারব। কারো আচরণের প্রতিক্রিয়া আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করবে না। আল্লাহর রেযামন্দীর দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আচরণ করতে পারব। আমরা সত্যিকার অর্থে মহা-সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন।

-- ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ

দ্রুতগতির নামাজী!- রিফাত আহমেদআমরা চোর সম্পর্কে জানি, কৃপণতা সম্পর্কেও আমাদের ধারণা আছে। তবে সবচেয়ে হতভাগা তো সেই ব্যক্...
01/07/2020

দ্রুতগতির নামাজী!
- রিফাত আহমেদ

আমরা চোর সম্পর্কে জানি, কৃপণতা সম্পর্কেও আমাদের ধারণা আছে। তবে সবচেয়ে হতভাগা তো সেই ব্যক্তি যে নামাজ চুরি করে, নামাজে কৃপণতা করে। প্রিয় ভাই ও বোন, নামাজ ছাড়া আখেরাতে নাজাত ও জান্নাতের সুযোগ নেই তবে আফসোস, খামখেয়ালি ও মুনাফিকি নামাজ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

- সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে কুরআন এবং হাদিসে অসংখ্য সতর্কবাণী দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নামাজে আন্তরিকতার কথা, খুশুখুজুর সাথে নামাজ আদায় করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন -

“নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ! যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত। যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।”[সূরা মুমিনুন: ১-৩]

- আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই আছি যারা ঝড়ের বেগে নামাজ আদায় করি, এক দেড় মিনিটে দুই রাকাত নামাজ পড়ে ফেলি, ফলে অনেক সময় নামাজের ফরজ/ওয়াজিব গুলোও ঠিক মত আদায় হয়না। নামাজ দ্রুততার সাথে করা কোনো ইবাদত নয়। কর্মব্যস্ত মানুষদের জন্য বলা হয়েছে নামাজ শেষ করে মসজিদে অবস্থান করো না কর্মস্থলে যাও, এটা বলা হয়নি যে নামাজ ঝড়ের বেগে যেমন খুশি আদায় করো।

- আমাদের একটা বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে যে মুনাফিকেরাও নামাজ পড়ে। কিন্তু মুমিন এবং মুনাফিকের নামাজ কখনো এক হয়না। মুনাফিক যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, অমনোযোগী ও খুব দ্রুত নামাজ পড়ে, নামাজ শেষ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে, এবং নামাজ শেষে দ্রুত মসজিদ থেকে প্রস্থান করে। আর লোক দেখানো নামাজ কস্মিনকালেও আল্লাহর কাছে কবুল যোগ্য নয়। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা করা হয়েছে-

“তারা যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তাদের উদ্দেশ্য লোক দেখানো। এবং তারা অল্প‌ই আল্লাহ কে স্মরণ করে থাকে।”[সূরা নিসা:১৪২]

রাব্বুল আলামীন আমাকে এবং আমাদেরকে এই মুনাফিকি বৈশিষ্ট্য থেকে হেফাজত করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন-

“তারা যখনই নামাজে আসে অবসাদগ্রস্থের মতো আসে এবং যখনই আল্লাহর পথে খরচ করে অনিচ্ছাকৃতভাবে করে।”[সূরা তাওবাহ : ৫৪]

- প্রিয় ভাই ও বোন খুব খেয়াল রাখত হবে। আমরা যেন খুব সুন্দর ভাবে, ধীরস্থির ভাবে নামাজ আদায় করি। বলা হয়েছে, নামাজে এমন ভাবে দাঁড়াও মনে করো এটাই তোমার জীবনের শেষ নামাজ‌। নামাজে তাড়াহুড়ো করা যাবে না, কেরাত ও রুকু সিজদাহর তাসবিহ গুলো ধীরে ধীরে ইখলাসের সাথে পাঠ করার চেষ্টা করতে হবে। নামাজে চুরি করা যাবে না, যেমন খুশি তেমন ভাবে নামাজ আদায় করলাম এমনটা যেন না হয়, কোনরকম আদায় করে নামাজে চুরি যেন না হয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন -

“মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় চোর ওই ব্যক্তি যে তার নামাজ চুরি করে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে কিভাবে নামাজ চুরি করে? তিনি বলেন, সে নামাজে রুকু ও সিজদা পূর্ণ করে না।”(মুসনাদে আহামাদ, হাদিস : ২২৬৯৫)

- নামাজ যেখানে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত সেখানে নামাজের ব্যাপারে অলস ও উদাসীন হ‌ওয়ার দুঃসাহস দেখানো আমাদের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের মুহূর্তে তাঁর শেষ কথা ছিল নামাজের কথা। আমাদের মধ্যে যদি উপরোক্ত খারাপ অভ্যাস গুলো থাকে,চলুন আমরা এখন‌ই এর থেকে বেড়িয়ে আসি তাওবা করি। আর নামাজে মনোযোগী হ‌ওয়ার অন্যতম কার্যকরী উপায় হচ্ছে আমরা নামাজে যা পাঠ করি, যে তাসবিহ গুলো পাঠ করি তার অর্থ জানা। এ ব্যাপারে অবশ্য আমরা শুনেছি তবে জোর দিতে হবে আমলে। ওয়ামা তাওফিক্বি ইল্লা-বিল্লাহ্।

জুমু'আর দিনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নেক আমল:❏ দু'আ করা:রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “জুমু'আর দিনে এমন...
18/06/2020

জুমু'আর দিনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নেক আমল:
❏ দু'আ করা:
রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “জুমু'আর দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যেখানে এমন কোন মুসলিম নাই যে, সে যদি তখন আল্লাহর নিকট কিছু চায়, আল্লাহ তাকে দিবেন না। আর তোমরা আসরের পরে (মাগরিবের আগের) শেষ ঘণ্টায় সে সময়টা তালাশ করো।”
(আবু দাউদে বর্ণিত এই হাদিসটি সহিহ)
❏ সূরা আল-কাহফ পাঠ:
রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“যে ব্যক্তি জুমু'আর দিনে সূরা আল-কাহাফ (কুরআনের ১৮ নং সূরা) পাঠ করবে, তার জন্য পরবর্তী জুমু'আ পর্যন্ত আলোকময় হবে।

[সহিহ আত-তারগিব: ৭৩৬ হাসান (সহিহ) হাদিস]
উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (জুমু'আর রাত) থেকে শুরু করে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত যে কোন সময় (এক বৈঠকে অথবা একাধিক বৈঠকে) সূরা আল-কাহফ পুরোটা পড়ে শেষ করতে হবে। তাহলে উক্ত মর্যাদা লাভ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।
❏ অধিক পরিমানে দরুদ পাঠ:
রাসূলুল্লাহ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমু'আর দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে, এই দিনে সিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং মহা বিপর্যয়ও (ক্বিয়ামত) ঘটবে এই দিনেই। তাই এই দিনে তোমরা বেশি বেশি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে; কেননা তোমাদের দরুদ আমার উপর পেশ করা হয় জুমু'আর দিনে।

সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কবরে গলে শেষ হওয়ার পরেও কীভাবে আপনার উপর দরুদ পেশ করা হয়? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবিদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।”

(সহিহ আত-তারগিব, আবু দাউদ)

আসরের নামাজের পর কুরআন তিলাওয়াত করছিল রাইয়ান। সেদিন সকাল থেকেই মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছিল, মেঘাচ্ছন্ন আকাশে রোদের দেখা ন...
08/06/2020

আসরের নামাজের পর কুরআন তিলাওয়াত করছিল রাইয়ান। সেদিন সকাল থেকেই মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছিল, মেঘাচ্ছন্ন আকাশে রোদের দেখা নেই। চারদিকে একটা অন্ধকার অন্ধকার ভাব বিরাজ করছিল।

• রাইয়ান অর্থসহ কুরআন পড়ে। এটাই তো উচিত, সে মনে করে কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি এর অর্থ জানাও খুব জরুরি। সূরা ওয়াক্বিয়াহ তিলাওয়াতের সময় হঠাৎ করে একটি আয়াতে এসে থেমে যায় রাইয়ান,

"তোমরা যে পানি পান করো সে ব্যাপারে আমাকে বলো। বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি তা বর্ষণ করো, না আমি বৃষ্টি বর্ষণকারী?"[ সূরা ওয়াক্বিয়াহ:৬৮,৬৯]

• এদিকে বৃষ্টি হচ্ছিল আর রাইয়ান এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলো। জানালার বাইরে বৃষ্টির দিকে তার চোখ কিভাবে না তাকিয়ে পারে! মহান রাব্বুল আলামীনের অসংখ্য নেয়ামতের মাঝে বৃষ্টি একটি। কি সুন্দর, শৃঙ্খল একেকটি ফোঁটা। এভাবে কোটি কোটি বৃষ্টি ফোঁটা যেন সারিবদ্ধভাবে নিয়ম মেনে ঝড়ে পরছে। নিয়ম মেনেই তো, সুদূর মেঘমালা থেকে এভাবে বৃষ্টি বর্ষণকারী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ছাড়া তো আর কারো সাধ্য নেই এমনটা ঘটানোর। এর পরবর্তী আয়াত রাইয়ানের চোখের পানি আটকে রাখতে পারল না...

"ইচ্ছা করলে আমি তা লবনাক্ত করে দিতে পারি, তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হওনা?" [ সূরা ওয়াক্বিয়াহ:৭০]

• রাইয়ান কাঁদছে। রবের প্রতি আন্তরিকতা আর কৃতজ্ঞতা থেকেই হয়তো অশ্রু দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। আল্লাহ চাইলেই পারতেন বৃষ্টি বন্ধ করে দিতে, আল্লাহ চাইলেই পারতেন বৃষ্টির পানিকে লবণাক্ত করে দিতে, ভূগর্ভস্থ পানি তিনি চাইলে শেষ করে দিতে পারেন অথচ তিনি তা দেননি। বান্দার প্রতি তার দয়া অনুগ্রহ অসীম কিন্তু আমরা তো নাফরমান,আমরা জুলুমকারী, আল্লাহর অবাধ্য বান্দা। এতো এতো অবাধ্যতার পরেও তিনি আমাদের তাঁর রহমত থেকে বঞ্চিত করেন নি। কতটুকুই বা কৃতজ্ঞ হতে পেরেছি আমরা?

• বৃষ্টির মতো অসীম এই নেয়ামত নিয়ে আমরা কখনো ভাবিনা। আমরা বৃষ্টি নিয়ে গান বানাই, প্রেমের কবিতা লিখি (নাউ'যুবিল্লাহ)। অথচ বৃষ্টির মূহুর্ত যে দোয়া কবুলের অন্যতম সময় অনেক‌ই তা জানিনা।

• সূরা ওয়াক্বিয়াহ তিলাওয়াত শেষে রাইয়ান জানালার বাইরে হাত বাড়িয়ে আঙ্গুল গুলো ভেজাচ্ছিল আর দোয়া করছিল। একটু পরেই আম্মুর ডাক,গরম গরম বেগুনী ভাজা খাওয়ার জন্য। এটা শুনে রাইয়ানের ক্ষুধা যেন বেড়ে গেল....

পূর্বাহ্নের সূর্যকিরণ।//সিয়াম ভূঁইয়া//কুরআনে আমার পঠিত সবচে' অনুপ্রেরণাদায়ক সূরাহ হল 'সূরা আদ-দুহা'। রাব্বুল ইজ্জাত ওয়া ...
07/06/2020

পূর্বাহ্নের সূর্যকিরণ।
//সিয়াম ভূঁইয়া//

কুরআনে আমার পঠিত সবচে' অনুপ্রেরণাদায়ক সূরাহ হল 'সূরা আদ-দুহা'। রাব্বুল ইজ্জাত ওয়া জালাল ছোট ছোট মোট ১১টি আয়াতে চমৎকার বার্তা দিয়েছেন। প্রতিটি আয়াতের ভাঁজে ভাঁজে আপনি খুঁজে পাবেন অনুপ্রেরণা। আসলে কুরআন যে পৃথিবীর সব থেকে প্রাচীন এবং সুন্দর মোটিভেশনাল বই আমরা তা ভুলে গিয়েছি। আমরা ঘেটে দেখি না, মহান রব্ব আমাদের কি কি নির্দেশ দিয়েছেন।
সূরাহ আদ-দুহা হল একটি পূর্ণাঙ্গ অনুপ্রেরণাদায়ক দিকনির্দেশক। এক বসাতে সূরাটির তাফসীর নয় শুধু বঙ্গানুবাদ পড়লেই আপনি ফিরে পাবেন এক অদম্য শক্তি (ইন শা আল্লাহ)। সূরাটি নাযিল হবার পূর্বকথা কিংবা শানে নুযূলও খুব উৎসাহ মূলক বার্তা বহন করে। এতে ভগ্ন হৃদয়ের বান্দাদের জন্য আশার বাণী দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল।
একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থ হয়ে পড়েন। বেশকিছুদিন ওঁনার কাছে ওহী আসা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তিনি নতুন কোন বাণী ইসলাম গ্রহণ করা সাহাবে কিরামদের (রাদিআল্লাহু আনহুম) শুনাতে পারছিলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে তৎকালীন মুশরিকরা বলাবলি করতে শুরু করলো, 'তোমার রব্ব তোমাকে পরিত্যাগ করেছে'।
এক মহিলা তো রাসূলুল্লাহকে কষ্ট দিতে বলে দিল, 'তোমার কাছে যে শয়তানটা আসতো সে বুঝি তোমাকে ভুলে গিয়েছে?' (নাউজুবিল্লাহ)। চতুর্মুখী আক্রমণে রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হৃদয় ভেঙে যায়, তিনি কষ্ট পান। তখন কাফের, মুশরিকদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ জিব্রাইল (আলাইহিস সালম) এর মাধ্যমে আয়াত নাযিল করেন।
সূরাহ আদ-দুহা এর প্রথম তিন আয়াত। আয়াতগুলো..
وَ الضُّحٰی ۙ﴿۱﴾
১. কসম পূর্বা‎‎হ্নের,

وَ الَّیۡلِ اِذَا سَجٰی ۙ﴿۲﴾
২. কসম রাতের যখন তা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়।

مَا وَدَّعَکَ رَبُّکَ وَ مَا قَلٰی ؕ﴿۳﴾

৩. তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি।
সূরাটির প্রথম আয়াতের সাথে মিল রেখে নামকরণ করা হয়েছে 'আদ-দুহা' মানে পূর্বাহ্নের সূর্যকিরণ। পবিত্র কুরআনে মহান রব্ব অনেক বিষয়ের কসম করেছেন। কিন্তু প্রতিক্ষেত্রে এই কসম কিংবা শপথ করার পেছনের কারণটা হচ্ছে, তিনি যদি কোন বিষয়ের উপর অধিক গুরুত্বারোপ করতে চান তবেই শপথের কথা উল্লেখ করেন। আমরা সাধারণত কোন বিষয় বা বস্তুর উপর কসম বা শপথ নিতে পারি না। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পারেন, তিনি স্রষ্টা। তাঁর সৃষ্টিকূলের যেকোন বিষয়ের উপর তিনি শপথ করতে পারেন। এটাই রব্বানীয়্যাত।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একটা সময়কে বেছে নিলেন শপথের জন্য, সেটা সূর্যোদয়ের সময়। আল্লাহ হয়তো তার রাসূলকে আশার আলোর নিদর্শন দিতে প্রথমে পশ্চিমাকাশে সূর্যের উদয়কে বুঝিয়েছেন।
দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ রাতের কসম করেছেন। দিন-রাত সবকিছু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা'র নির্দেশেই হয়ে থাকে। তিনি বলেন,
“(তিনি) প্রভাত উদ্ভাসক। তিনি বানিয়েছেন রাতকে প্রশান্তি এবং সূর্য ও চন্দ্রকে সময় নিরূপক। এটা সর্বজ্ঞ পরাক্রমশালীর নির্ধারণ।” (সূরাহ আল-আন'আম : ৯৬)
প্রথম ও দ্বিতীয় আয়াতে দয়াময় আল্লাহ তাঁর অগণিত সৃষ্টির কিছু নির্দশন বলেছেন। অতপর তিনি তাদের (কাফের, মুশরিকদের) প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
আপনার রব্ব আপনাকে ভুলে যায়নি, আপনাকে পরিত্যাগও করেনি। তার মানে এই আয়াতে আল্লাহ, রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভরসা দিচ্ছেন। আপনি তাদের কথায় মন খারাপ করবেন না, ব্যথিত হবেন না, কষ্টও পাবেন না।
পৃথিবী আপনার স্থায়ী ঠিকানা নাঃ
وَ لَلۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لَّکَ مِنَ الۡاُوۡلٰی ؕ﴿۴﴾

৪. আর অবশ্যই তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন একটা উদ্দ্যেশে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনোই দুনিয়ার জীবনকে আপন করে নেননি। ওঁনার জীবদ্দশায় তিনি খেজুরের চাটাইয়ে ঘুমিয়েছিলেন, একটি খাট কিংবা বিছানার প্রত্যাশা করেনি। এই আয়তে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এই দুনিয়াতে তুমি সুখ তালাশ করো না। এখানে সুখ পাওয়া যাবে না, সুখের ঠিকানা জান্নাত! সুতরাং, দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে আপনাকে তিরষ্কার সইতে হবে, বিনিময়ে জান্নাতে অপার নিয়ামত অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।
নিয়ামতের প্রতিশ্রুতিঃ
وَ لَسَوۡفَ یُعۡطِیۡکَ رَبُّکَ فَتَرۡضٰی ؕ﴿۵﴾

৫. আর অচিরেই তোমার রব তোমাকে দান করবেন, ফলে তুমি সন্তুষ্ট হবে।

এই আয়াতে রাব্বুল আলামীন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে খুশি করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তিনি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে আখেরাতে আপনাকে হাউজে কাওসার দান করা হবে। আপনার গোনাহগার অগণিত উম্মতকে শাফা'আত করার সুযোগ দেয়া হবে। যাদের বেশিরভাগকে আপনি না দেখে ভালোবাসেন, তারাও আপনাকে না দেখেই ভালোবাসে। আপনি ওগুলো মনে করুন। কষ্ট পাবেন না। দুনিয়ার জীবনের কষ্টের বিনিময়ে মহান রব্ব আপনাকে অনেক বেশি নিয়ামত দান করেন।
কিছু স্মরণিকাঃ
اَلَمۡ یَجِدۡکَ یَتِیۡمًا فَاٰوٰی ۪﴿۶﴾

৬. তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম অবস্থায় পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।
وَ وَجَدَکَ ضَآلًّا فَہَدٰی ۪﴿۷﴾

৭. আর তিনি তোমাকে পেয়েছেন পথ না জানা অবস্থায়। অতঃপর তিনি পথনির্দেশ দিয়েছেন।

وَ وَجَدَکَ عَآئِلًا فَاَغۡنٰی ؕ﴿۸﴾

৮. তিনি তোমাকে পেয়েছেন নিঃস্ব। অতঃপর তিনি সমৃদ্ধ করেছেন।

এই তিনটি আয়াতে আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দুনিয়াতে দেয়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি ছিলেন ইয়াতীম, শৈশবেই বাবা-মা হারিয়েছিলেন। বাবা-মা বিহীন তাদের স্নেহ বিহীন শৈশবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সঙ্গী করে দিয়ে ছিলেন তার স্বীয় দাদা আব্দুল মুত্তালিবকে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বয়স যখন আট তখন ওঁনার দাদাও বিদায় হলেন, তখন ওঁনাকে সঙ্গী করে দিয়ে ছিলেন চাচা আবু তালেবকে। এভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর হাবীবের একাকীত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন।
এরপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে নবুয়ত দান করার মাধ্যমে পথ দেখালেন। আম্মাজান খাদিজাতুল কুবরা (রাদিআল্লাহু আনহা) কে জীবন সঙ্গী হিসেবে দান করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করেছিলেন।
এভাবে কষ্টে নিমজ্জিত, ভগ্ন হৃদয়ের রাসূলকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা খুশি করে দিলেন।
আল্লাহ'র অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতার দারসঃ
فَاَمَّا الۡیَتِیۡمَ فَلَا تَقۡہَرۡ ؕ﴿۹﴾
৯. সুতরাং তুমি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হয়ো না।
وَ اَمَّا السَّآئِلَ فَلَا تَنۡہَرۡ ﴿ؕ۱۰﴾
১০. আর ভিক্ষুককে তুমি ধমক দিওনা।
وَ اَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ ﴿٪۱۱﴾
১০. আর তোমার রবের অনুগ্রহ তুমি বর্ণনা কর।
স্বীয় জীবনে প্রিয় নবী (সাল্লল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন ইয়াতীম। সূরার এই অংশে এসে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে শিক্ষা দিচ্ছেন, আপনিও ইয়াতীম ছিলেন সুতরাং ইয়াতীমদের সাথে নরম আচরণ করুন।
একটা সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচুর অভাবে ছিলেন, অনাহারে পেটে ভারী পাথর বেঁধে রাখতেন। তিনি জানেন, অভাব, ক্ষুধার যন্ত্রণা কী! আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন অভাবী, ভিক্ষুকদের সাথে আপনি ধমকের সুরে কথা বলবেন না। তাদের সাথে নম্র আচরণ প্রদর্শণ করুন।
সর্বশেষ, এতএত অনুগ্রহের কথা তিনি যেন স্মরণ রাখেন, সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করেন। মূলত শেষের তিনটি আয়াত আল্লাহ আগের অনুগ্রহ কিংবা নিয়ামতের কথা স্মরণ করাতেই নাযিল করেছেন।
সূরাহ আদ-দুহা সবার পড়া উচিত। তা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। জীবনের বাঁকে বাঁকে সুখ-দুঃখ লুকায়িত! আমাদের দুঃখের সময় সুখগুলো মনে করে আল্লাহ'র শুকরিয়া আদায় করা এবং সুখের সময় দুঃখের কথা মনে করে আল্লাহ'র শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
Centre theme of this Surah is 'Never lose your hope'
সূরাহ আদ-দুহার কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়, কখনো আশাহত হওয়া যাবে না।
রেফারেন্সঃ
তাফসীরে ইবনে কাসীর।

07/06/2020
|| বর্ণ বৈষম্য |||| আধুনিক সভ্যতা বনাম ইসলাম ||-সিয়াম ভূঁইয়াআমরা সবাই বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) এর নাম শুনেছি। রাসূল (সাল...
05/06/2020

|| বর্ণ বৈষম্য ||
|| আধুনিক সভ্যতা বনাম ইসলাম ||
-সিয়াম ভূঁইয়া

আমরা সবাই বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) এর নাম শুনেছি। রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর খুবই প্রিয় এবং ঘনিষ্ঠ সাহাবী ছিলেন তিনি। বেলাল (রাদিআল্লাহু' আনহু) এর পুরো নাম 'বেলাল ইবনে রাবাহ'। বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) ছিলেন হাবাশী বা আবিসিনিয় বংশদ্ভূত। বর্তমানে যেটা 'ইথিওপিয়া' নামে পরিচিত। সহজ বাংলায় বললে কালো, লম্বা গড়নের মানুষ। বিভিন্ন বিশুদ্ধ গ্রন্থে বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) এর বাহ্যিক বর্ণনা এইরকমেরই। অর্থাৎ তিনি ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ জাতি।

ইসলাম গ্রহণের আগে বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) ছিলেন মক্কার কুরাইশ নেতা উমাইয়া ইবনে খালফ-এর ক্রীতদাস। আল্লাহ'র অনুগ্রহে বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) এর কাছে যখন ইসলাম এর বাণী পৌঁছাতে শুরু করে, তিনি মনোযোগ দিয়ে কুরআনের আয়াতগুলো শুনতেন। ধীরে ধীরে ওনার অন্তর বিগলিত হতে থাকে। বিষয়টি যখন, ওনার মনিবের নজরে আসে তখনই শুধু হয় অত্যাচারের স্টিমরোলার। কিন্তু বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) ছিলেন অনড়।

পরবর্তীতে আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে মুক্ত করেন। ইসলাম গ্রহণের পর বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) সর্বপ্রথম মদিনার 'রাষ্ট্রীয় কোষাগার' -এ দায়িত্ব পান। বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) ছিলেন তৎকালীন চিফ কোষাধ্যক্ষ। তিনি 'বায়তুল মাল' থেকে মদিনার অসহায়, বিধবা, ইয়াতিম, মুসাফির, দরিদ্রদের সহায়তা করতেন।

তারপর বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) এর মাধ্যমে রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশে আযানের প্রচলন চালু হয়। উল্লেখ বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) এর কণ্ঠ সুমধুর ছিল। তিনি হলেন, প্রথম মুয়াজ্জিন।

তাছাড়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবদ্দশায় বিভিন্ন অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু)। তিনি বদর, উহুদ, খন্দকসহ মক্কা বিজয়ের যুদ্ধও করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ।
...

একজন কালো মানুষ, ছিলেন ক্রীতদাস। বংশ পরিচয় তেমন ছিল না তার। ইসলাম গ্রহণ করার পর সেই মানুষটি ক্রীতদাস থেকে বনে গেলেন রাষ্ট্রীয় কোষাধ্যক্ষ! শুধু কি তাই?

পরবর্তীতে সেই লোকটিই হয়ে যায় একজন মুয়াজ্জিন! যে কিনা আযানের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করতেন। পরবর্তীতে ১৫ শ' বছর ধরে গোটা বিশ্বে সেই একই সুরে আযান চালু আছে। বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) এর হাত ধরে এই আযান এখনো প্রতিটি মুমিনের হৃদয়কে প্রশান্ত করে, হাজার ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও সালাতের গুরুত্ব বুঝিয়ে দেয়।

একটি কিংবা দুটি নয় বেশ কয়েকটি যুদ্ধে যে লোকটি অংশগ্রহণ করে ইসলামকে বিজয়ী করেছিলেন। এখানেও বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) একজন যোদ্ধা। একজন মুজাহিদ। যার সম্মান ইসলামে অকল্পনীয়।
...

ইসলাম কখনোই 'বর্ণবাদ' কে সমর্থন করে না। বরং বর্ণবাদী ধারণাকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছিল ইসলাম। তা-না হলে, একজন কালো মানুষ তাও ক্রীতদাস কি করে একটি রাষ্ট্রের কোষাধ্যক্ষ হয়? কি করে সে যুদ্ধে রাসূল (সাল্লাল্লাহু' আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে এক দলে যুদ্ধ করে?

মদিনাতে এত ফর্সা সাহাবী থাকতে বেলাল (রাদিআল্লাহু আনহু) ই বা কেন আযান দিয়েছিলেন? তাকেই কেন আযান দিতে বলা হল?

প্রশ্নগুলোর একটাই জবাব, ইসলাম কালো-সাদায় পার্থক্য করে না। বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে না। ইসলাম বলে, 'নো রেসিজম'!

সম্প্রতি, অ্যামেরিকাতে কৃষ্ণাঙ্গ এক লোককে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যা করেছে পুলিশ। বিষয়টা নিয়ে তুমুল আন্দোলন হচ্ছে। শহরে-শহরে বিক্ষোভ, প্রতিবাদে ফেঁটে পড়ছে সবাই। ভাঙচুর, আগুন, লুটপাট আর হানাহানি চিত্রই দেখছি আমরা। পুরো দুনিয়ার কাছে অ্যামেরিকার আর্দশ হওয়ার মেকি রূপ দিনের আলোয় ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাদের সভ্যতা আর সমতার মিথ্যে স্লোগান আজ প্রকাশিত।

পৃথিবীর কোন তন্ত্র-মন্ত্র আমাদের (মুসলিমদের) মানবতা শেখাতে আসলে আমরা তদের আমাদের ইতিহাস দেখিয়ে দেবো। অতিআধুনিক মনা মানুষগুলো আমাদের কোন মুখে সেকেলে বলে গালি দিবে এখন? তাদের আর্দশের বালতি নিচ দিয়ে ফেঁটে গিয়েছে। সব এখন খোলামেলা। অন্যদিকে ইসলাম আমাকে শেখায়,

“হে লোক সকল শুনো, তোমাদের প্রতিপালক এক, তোমাদের পিতা এক। শোনো, আরবের উপর অনারবের এবং অনারবের উপর আরবের, কৃষ্ণকায়ের উপর শ্বেতকায়ের এবং শ্বেতকায়ের উপর কৃষ্ণকায়ের কোন শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নেই। শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা আছে তো কেবল তাক্বওয়ার কারণেই।” (ইমাম আহমাদ, আল মুসনাদ : ২৩৪৮৯)

আমরা কি পারবো মহাপরাক্রমশালী ক্ষমতাধর মুনিবের পাকড়াও থেকে বাঁচতে? আমাদের নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডের জবাব কি পারবো দিতে?
05/06/2020

আমরা কি পারবো মহাপরাক্রমশালী ক্ষমতাধর মুনিবের পাকড়াও থেকে বাঁচতে?

আমাদের নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডের জবাব কি পারবো দিতে?

আমরা সেই দলের লোক যারা বলি ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এর অর্থ কী? যদিও আমরা এর অর্থ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা...
05/06/2020

আমরা সেই দলের লোক যারা বলি ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এর অর্থ কী? যদিও আমরা এর অর্থ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করতে পারি, প্রকৃতপক্ষে এর মূল অর্থ দুটি। আলহামদুলিল্লাহ এর দুটি অংশ রয়েছে। প্রথমটি হলো – আপনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ (আল্লাহকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন), কৃতজ্ঞতা (শুধুমাত্র) আল্লাহর জন্য। আর দ্বিতীয় অংশ হলো – প্রশংসা; প্রশংসা আল্লাহর জন্য। কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা দুটি আলাদা বিষয়।

একদিকে প্রশংসা আর অন্যদিকে কৃতজ্ঞতা, দুটি দিক। এখন চলুন প্রথমে আমরা এই দুটি বিষয়ের পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করি।

আপনি একটি সুন্দর বাড়ি দেখলেন, এবং প্রশংসা করলেন, কিন্তু আপনি বাড়িটিকে ধন্যবাদ দিবেন না। আপনি একজন অসাধারণ খেলোয়াড় দেখলেন, যিনি ফুটবল খেলেন, তিনি একটি অসাধারণ গোল করলেন। আপনি ঐ খেলোয়াড়ের প্রশংসা করবেন, কিন্তু আপনি ঐ খেলোয়াড়কে ধন্যবাদ দিবেন না, আপনি ঐ খেলোয়াড়ের প্রতি কৃতজ্ঞ হবেন না।

আপনি একটি অসম্ভব সুন্দর গাড়ি দেখলেন। আপনি গাড়িটির প্রশংসা করবেন, কিন্তু গাড়িটির প্রতি কৃতজ্ঞ হবেন না। আবার মাঝে মাঝে উল্টোটাও ঘটে। কিছু মানুষের প্রতি আপনি কৃতজ্ঞ থাকেন যদিও আপনি কখনো তাদের প্রশংসা করবেন না।

এমন ঘটে। এর উদাহরণ হচ্ছে ‒ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একজন মুসলিমকে সকল অবস্থাতেই তার বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে বলেন, এমনকি তার বাবা-মা মুশরিক হলেও়! আপনাকে অবশ্যই আপনার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। এমনকি যদিও তারা আপনাকে শিরক করার জন্য জোর করেন। তারা চান আপনি ঈমান পরিত্যাগ করেন, তারপরও আপনাকে উনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। আপনি তাদের শিরক এর প্রশংসা করবেন না , কিন্তু তারপর ও আপনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবেন।

অতএব জীবনের কোনো কোনো সময় আপনি প্রশংসা পাবেন কৃতজ্ঞতা ছাড়া, আবার কখনো কখনো কৃতজ্ঞতা দেখবেন প্রশংসা ছাড়া।

আমি আপনাদের নিকট আরো একটি উদাহরণ পেশ করব, যার মধ্যে কৃতজ্ঞতা আছে কিন্তু প্রশংসা নেই, যেন বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। আপনারা ফিরাউনের বিষয়টি জানেন। ফিরাউন পছন্দ করুক আর নাই করুক সে মুসা (আ) কে তার প্রাসাদে বড় করেছে। এবং মুসা (আ) ফিরাউনের কাছে অনেক অনেক বছর পর ফিরে আসেন। এরপর ফিরাউন প্রকৃতপক্ষেই মুসা (আ) কে মনে করিয়ে দিয়ে বলেছিল যে, তুমি কি এখানে অনেক বছর থাকোনি?

তুমি কি এখানে অনেক বছর পার করোনি? আমরা কি তোমাকে শিশুকাল থেকে বড় করিনি এই বাড়িতে? ফিরাউন তার দয়ার কথা মুসা (আ) কে মনে করিয়ে দিচ্ছিল এবং স্বাভাবিকভাবেই কেউ যখন আপনার উপকার করে, আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকেন। তাই মুসা (আ) ও এই উপকারের কথা স্বীকার করেন। এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি (মুসা ) বলেন- হ্যা তুমি আমার প্রতি দয়া করেছিলে।

যখন আপনি কারো উপকারের কথা স্বীকার করেন, তখন আপনি তাকে ধন্যবাদ দেন। এমনকি মুসা (আ) ফিরাউনকে ধন্যবাদ দেন। যদিও তিনি কখনই তার প্রশংসা করবেন না। তাই আপনি কাউকে ধন্যবাদ দিতে পারেন প্রশংসা ছাড়া আর কাউকে প্রশংসা করতে পারেন কৃতজ্ঞতা ছাড়া।

যখন আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলি – এর মানে আমরা বলি যে আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি তিনি যা কিছু করেন তার জন্য। উনি যা কিছু করেন তার সবকিছুই অসাধারণ, মহান। এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। নিখুঁত, কোনো অভিযোগ নেই। এবং ওনার প্রশংসা করার পর আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি যে উনি তা করেছেন এই জন্য।

আজ কিছু মানুষ বাইরে বসে আছেন। আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যার জন্য এয়ার কন্ডিশন যথেষ্ট নয়, বলে ফেললেন- উফ যা গরম। কিন্তু মুসলিম হিসেবে আপনার মনে প্রথমে যা আসা উচিত সেটি হলো ‒ আলহামদুলিল্লাহ আজ বেশ গরম, আলহামদুলিল্লাহ। এর মানে কি আপনি জানেন ? আল্লাহকে ধন্যবাদ গরমের জন্য, এবং আমি আল্লাহর প্রশংসা করি গরমের জন্য। এটি ভিন্ন ধারার চিন্তা। এটি অন্যদের মত নয়।

কিছু মানুষ আছে যারা ঈশ্বর এ বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করুন আমি জানি। সব ধর্মের মানুষের সাথে আমার দেখা হয়। কিছু মানুষ আছে যারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে, কিন্তু তাদের যেটা নেই, প্রথমত তাদের যেটা নেই সেটা হলো আলহামদুলিল্লাহ।

আর কিছু মুসলিম আছে যারা আলহামদুলিল্লাহ বুঝে না। তাই মাঝে মধ্যে তারা বলে –”আমি বেতন বেশি পাই না, তবে যাই হোক, আলহামদুলিল্লাহ!” আপনি প্রকৃতপক্ষে আলহামদুলিল্লাহ বলছেন না। আপনি অভিযোগ করছেন আলহামদুলিল্লাহ বলার মধ্য দিয়ে। ”পরিবারের সবাই কেমন আছে”, ”এই আছে আরকি, আলহামদুলিল্লাহ।” এই আলহামদুলিল্লাহ বলা কিন্তু সত্যিকারের আলহামদুলিল্লাহ না। আলহামদুলিল্লাহ হচ্ছে আপনার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনি কৃতজ্ঞ। যা কিছু ভুল ঘটছে, তার মাঝেও আপনি সেখানে ভালো কিছু খুঁজে পাবেন।

আপনি যদি গরম অনুভব করেন, অন্তত আপনি অসুস্থ তো্ বোধ করছেন না। আপনার আরো কিছু খারাপ হতে পারত। আপনি জানেন যদি আপনার গাড়ির ট্রান্সমিশন সমস্যা থাকে, অন্তত গাড়ির ইঞ্জিনে তো কোন সমস্যা নেই । আপনার অনেক কিছইু ঠিক মত চলছে।

আমরা সেই দলের মানুষ যারা আলহামদুলিল্লাহ বলি। জানেন এর মানে কি? আমরা সবসময় কৃতজ্ঞ , আমরা সবসময় ইতিবাচক। আমরা যদি আলহামদুলিল্লাহ বুঝতাম, আমরা কখনো হতাশ হতাম না, একজন মুসলিম কখনো হতাশ হতে পারে না।

ইদানিং আপনি উম্মার মধ্যে দেখতে পাবেন যে, কিছু মানুষ মুসলিমদের অবস্থার জন্য অভিযোগ করছে। যেমন ধরুন আমরা মুসলিমদের অজ্ঞতার জন্য অভিযোগ করি অথবা মুসলিমদের মাঝে দুর্নীতির ব্যাপারে অভিযোগ করি। আমরা অভিযোগ করি, অভিযোগ করি, আর অভিযোগ করি। আমি আপনাদের বলছি তিনি আল্লাহ, যিনি আমাদের অবস্থার পরিবর্তন করেন। আমাদের যা করতে হবে তা হলো, আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে আলহামদুলিল্লাহ বলে। আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে, ইতিবাচক দলের মানুষ হতে হবে।

© NAK Bangla

Address

Polton
Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al Islah - আল ইসলাহ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share